শনিবার, ৩০ জুন, ২০১৮

অমিতাভ দাস

লালফুলের গাছ ।। অমিতাভ দাস 
---------------
তোমাকে একটা লালফুলের গাছ
দিয়ে যাবো যাবার আগে ।
তোমাকে দেবো প্রিয় লেখক
রাসকিন বন্ডের লেখা বই ।
গাছটা জানালার ধারেই পুঁতে দিও ।
বইটা রেখো হাতের কাছে ।
#
যদি না থাকি তখন ,
পর্দা উড়বে জানালার ।
বেলফুলগুলো থেকে যাবে
তোমার বারান্দায় ।
তুমি তো শেষবার দেখতেও
পাবে না আমায় ।
অনেকটাই দূরে চলে যাচ্ছি ।
অনেকটাই আনীল আকাশের দিকে
আমাদের সবটুকু রাতের কথা,
রেখে যাচ্ছি আমাদের 
সবটুকু গোপনতা...
#
তুমি শুধু গাছটা পুঁতে দিও 
উত্তরের জানালার দিকে ।
তুমি যত্নে কুড়িয়ে রেখো
আমার লাল রিবনের মায়া...

####
পরম ।। অমিতাভ দাস ।
----------------
ভোরেই এই স্বচ্ছ শীতল বাতাস ।
 পর্দায় উড়তে থাকা শরত্ গন্ধ...
আঁকতে বসেছি আজ অনেক দিন পর ।
আঁকতে গিয়ে কান্না পেল
কান্না পেল কাগজের গা ছুঁতেই ,
ঐ যে আমার পরম
ঐ যে আমার বেদনার নদী
যে সারারাত বয়ে গেছে বুকের ওপর...
ঐ যে বালিমাটি ।কী রঙে যে আঁকি ?
যেদিকে তাকাই আলতার ছোপ ,
মুখ ভর্তি লেপ্টে থাকা সিঁদুর...
এসব কীভাবে যে আঁকি !
কাগজ হাতে নিয়ে কেবলি
কান্না পায় । আর চুপ করে থাকা
আমার পরম ,বলে:
বাজো --আরো বাজো...
খুব করে বেজে ওঠো...
আমাকে বাজাও...
######
কারুবাসনার দিনে ।।


 কারুবাসনার দিনে আমি বৃষ্টিবিহীন ।পথ চলে গেছে অকারণ করুণাঘন চোখের চাহুনী থেকে অকাল বসন্ত-রোদনের দিকে ।তুমি একদিন ঠিক জেনে নেবে কৃষ্ণগহ্বর থেকে তুলসীমঞ্চে কীভাবে যাওয়া যায় ।ততদিনে কৃষিকথা দূরে রেখে মুখ রাখো বই-এর সমুদ্র গহীনে । এখন কাঁটা থাক । জল থাক ।আগুনের গনগনে লাভা । ফিরতে ফিরতে একযুগ দেখে নেবে তুমি আরেক ঔরঙ্গজেব ।যেদিন নিজেকে ছাপিয়ে অহং এর কণা ধুলো হয়ে যাবে ।দ্যাখো ,এইসব ভূতকুল কীভাবে ,কী উল্লাসে মেতেছে সঙ্গম পিপাসায় ।আর তুমি পাখি এক ,পিঞ্জর বদ্ধ ,শুকিয়ে যাচ্ছে দ্যাখো তোমার স্তনে লেগে থাকা চাঁদের সবটুকু আলো ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন