শম্পা মাহাতো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শম্পা মাহাতো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

শম্পা মাহাতো

 






স্বপ্ন


আলোকবর্ষ অতিক্রম করেও আলো আসে।

ছুঁয়ে থাকে। কখনওবা মায়ের আদর হয়ে স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না। জড়িয়ে ধরে। 


দুঃখভাবনার গায়ে লতানো গুল্মের মত লেপ্টে থাকা ভয় থেকে কোনওমতে পাশ কাটিয়ে এগোতে গিয়ে মুখোমুখি হই স্বপ্নের।


আমার বন্ধুর নাম স্পর্শ। ধর্ম অস্পৃশ্যতা। আমি হাত বাড়ালেই স্পর্ধা চোখ রাঙাচ্ছে। দেখো ভুল। দেখো ভুল করছি বারবার আর ভালোবাসা প্রতিশোধ নিচ্ছে। ফুরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত যতটুকু জ্বালানি। নিজস্ব। তার ওপারের আগুন নিয়ে খেলা করছে। হাসাহাসি করছে সময়।


বর্ষা বাড়ন্ত হলে লেখার ওপর ঝরে পড়ছে মায়ের চোখের জল। যার নিকট নেই। দূর নেই। সবটাই শুধু আছে। সূর্যের মত চিরসত্য হয়ে।


তবু অন্ধকার

লুট করছে আমায়।

----------


ধন্যবাদ


 



শনিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৮

শম্পা মাহাতো,

আরাম
----------

সব ব্যথা কথা হয় না
অনুচ্চারিত শব্দ সিদ্ধান্ত বদলে যায় যতিচিহ্নে।

আমাদের কথা
কে শুনবে বলো! দেশ দশ কেউই তো ভালো নেই,

আর আমাদের বাস্তুভিটে, বাবা

তুমি মানেও যে বাবা
সে কথা কেউ না বললেও বুঝি, আজ।


যতিচিহ্ন
-----------

আমাদের শেষ কথার পরও নিস্তব্ধতা না নামা
মনে করে ইচ্ছাকৃত চুপ থাকি

তোমার কথা তোমায় না বলা কথা তোমাকেই বলব

যেভাবে মৃত্যুদিন ঘুরেফিরে আসে
যদি তুমি আসো কোনওদিন

যাবতীয় যতিচিহ্ন পার করে তোমার থেকেই
চেয়ে নেব সমস্ত আরাম

শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

শম্পা মাহাতো

বসন্ত বাতাসে
-----------------
না আমি তোমাকে আগুন শেখাতে পেরেছি
না তুমি আমাকে শীতের তপস্যা
তবুতো আঁকড়ে থাকি থাকো

যে নামে ব্যস্ত বাগান ফুল ফোটায়
যে নামে মারণ রোগ
আমাদের কুসুম কল্পনার কাছে
তার আকাশও ছোট হয়ে আসে

আবার করে নতুন নামে ডাকি ডাকো

আমি বারবার ফুলদানি হই বারবার সুর
অবুঝ ঝংকার
আর তুমি কথা সুগন্ধ
শুধু অলঙ্করণ বুঝি আর বসন্ত বোঝো না।

সীমানা
--------------
দুপুরের জানলায় নদী হয়ে যায় রোদ
দু দিকের জনপদ জুড়ে বালিকা বেলার
এলাটিং বেলাটিং সই লো

সত্যি বলছি সন্ধ্যে নামত না
যদি না নদীটিই পরজন্ম, চাইত
মেঘ হয়ে লুকিয়ে পড়তে
আকাশের সিন্দুকে।

সীমানা পেরিয়ে নারকেল গাছ, কারখানার চিমনি
সবদিকে কালো ধোঁয়া, কানামাছি….
যাকে পাবি তাকে…..

বন্ধু নদীর সাথে দেখা হলে বলিস

এক একটা না পাওয়াও আস্ত জীবন।

শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৮

শম্পা মাহাতো

এই তো সেদিন
-------------------
ক্ষমা ক্ষয়ে আসে
শব্দের কাছে ভিক্ষাপাত্র নিয়ে দাঁড়াই
সন্তাপ উজাড় হচ্ছে
খোল করতাল ঢাল তলোয়ার
আমাদের সাদা পায়রার খোপ
তুমি দেখতে পাচ্ছ মা
কীভাবে শান্তির জল ছিটিয়ে ছিটিয়ে
একটু স্বস্তি কামনা করছে সংসার
অথচ এই তো সেদিন তোমার আঁচল
তোমার আগল তোমার আলতা পা
তোমার আলতো আদর
তোমার শেখানো ভাগ করে নেওয়া
মা, সবকিছু বদলে যাচ্ছে
এমনকী শব্দার্থ পর্যন্ত….
কোথাও যেন আস্ত হয়ে উঠছে ভাঙন
আর বায়না গর্জে উঠছে উঠোনের
আজও কি তুমি 'খিদে নেই'র মতো বলে উঠবে
‘আমি জানতাম না’।

চিত্রঋণ : পাব

রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭

শম্পা মাহাতো,

অন্তর্দ্বন্দ্ব
------------
আমি পলক ফেলেছি শুধু
এখন রোজ রোজ প্রদর্শনী
কোনও প্রবেশমূল্য লাগছে না
শুনছ
আরও কিন্তু অনেক কাজ বাকি
আজ বাকি কাল বাকি পরশু বাকি।
যতবার হাওয়া দিচ্ছে ততবার রেগে যাচ্ছি
এবার মাধুকরী করে দাও সাহচর্য
অথবা
অবাধ্যতায় স্মিত হাসি দাও,
নিশ্চিত পরাজয়ে গ্ল্যাডিওলাস,
না ফেরার নীলাকাশ দাও আদিগন্ত...
আদর চাই না
দূরত্বের উৎসাহ দাও প্রতিটি আলিঙ্গনে
একবার অন্তত ভিতর বাহির ইচ্ছাধীন
হোক স্বেচ্ছায়
আর আমরা একসাথে অন্য কিছু নিয়ে ভাবি।
সূচক
-----------
সুদূরে সীমাবদ্ধতা ছিল, পরীক্ষায় সমাধি,
আমি সাজগোজ শেষ করে
রাস্তা পার হতে গিয়ে দেখে ফেলি হাইড্রেন
যেখানে বীভৎস মায়া নিয়ে বসে আছে অদ্ভুত ভাবাবেগ।
যেমন চূড়ান্ত দৃশ্য, অকপট, উলঙ্গ
আর তার চেয়েও বেশী উলঙ্গ সভ্যতা পুরে রাখা
মাদুলীতাবিচমন্ত্রগুরুসাধুসন্ন্যাসী
তেমনই লিঙ্গ লিঙ্গ হাহাকার ছুটে আসে নিশ্চিন্তপুর থেকে
পেরেক পোঁতা সভ্যতায়
কুঁচকে যায় সৃষ্টি বারবার।
ইউরেকা
------------
সব জেনেও ওরা ভালোবেসেছিল
নগ্নতায় আহুতি দিয়েছিল মনপ্রাণ
দ্বিধার কাছে দ্বিধাহীন সমর্পণ
আস্তানা চুঁইয়ে পড়ে জেনেও অপেক্ষা
যদিও প্রসবকালীন ইউরেকা বলা হয়নি
এবং আইনত দন্ডনীয় অপরাধ থেকে
পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল হাওয়ায়।
আমি ঠিক করলাম পাহাড়ে ঘুরতে যাব
অসাবধনতার আগামীকে
বরফ চেনানো দরকার।
বরফ তুমি তুখোড় হও
জরুরি উষ্ণতা খুঁজে নাও জ্বলন্ত কাঠে
শুষ্কতায় সামিল করো চোখ
এখানে অমৃত কোনও সাধনার নাম নয়
বিষই একমাত্র জীবনধারণ।

মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

শম্পা মাহাতো


মেহফিল
---------------

মেহফিল থেকে ছিঁড়ে গেছে সুতো
জমছে না ভাঙা গ্লাস চুমুক ঠোঁট
আর্দ্রতা জমে জমে
বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে যোগাযোগ
নির্জনতা আর কত নিষ্ঠুর হবে....
দিন ঝুলে আছে দেওয়ালে
ঘন্টা মিনিট সেকেন্ড ঝুলে আছে সব
বৃথা ঝুল ঝেড়ে
অসহ্য হচ্ছে আশ, নিঃশ্বাস
সমুদ্র গর্জন গুলিয়ে যাচ্ছে।
ফিরে এসো উৎসবের দিন
যতক্ষণ না যথেষ্ট হচ্ছে বেঁচে নেওয়া
রেখে দাও আলিঙ্গনে
জীবনের অভিধানে ছড়িয়ে যাক
মাটির ঘ্রাণ শিউলী শিশির।
**********************************
প্রার্থনা
---------
গতি নেই। যেটা আছে সেটা গতিজাড্য।
তুমি ভেবে যার কাছে ছুটে গেছি, দেখলাম সে অন্যকেউ।
অভিশপ্ত নিউরোন, আঙুলে জড়িয়ে রেখো আঙুল
এই বিশাল পৃথিবীতে কঞ্জুষ রেশনের মত কতিপয় মানুষ বরাদ্দ কোরো আমার জন্য।
যে অপারগতা নিয়ে বন্যা'কে ভালোবাসিনি অথচ বৃষ্টি চেয়েছি রোজ,তাকে স্পর্শের অধিকার দিও।
বিনিময় যদি চাও, ইঁটের গাঁথুনী দিও দরজায়
আমি নিশিদিন খোলা রাখব মনের সবকটা জানলা
সুর্যোদয় থেকে সূর্যের গলে পড়া অব্ধি রামধনু আঁকব নিজেরই মেঘলা মনে
শুধু এই গুটিকয়েক মানুষ আমায় ভালোবেসো খুব।
**********************************
আল‌ো
-----------
য‌েটুকু আস্কারা ছ‌িল সবুজ রঙ‌ের
সব ন‌িয়ে গেছ‌ে সে,
আম‌ি পাশ ফ‌িরে শুই।
দ‌েওয়াল জুড়‌ে গোলাপী আভা
ইঁট‌ের খাঁজ‌ে জমাট স‌িমেন্ট। রক্ত!!
ঠান্ডা হাওয়া আসছ‌ে জানালা দ‌িয়ে
বৃষ্ট‌ি হয়‌েছ‌ে কী? বাইর‌ে! ভিতর‌ে!
এ প্রশ্ন‌ের উত্তর‌ে
কে য‌েন আর‌েকটা প্রশ্ন ছুড়ল
নীরবতা কী না-বাচক?
আকাশ ভ‌েঙে বৃষ্ট‌ি আসেনি
জঠ‌োর থ‌েকে ব‌েরিয়‌ে এসেছ‌ে গর্ভজল
উত্তরপত্র
ভূম‌িষ্ট হওয়ার আগ‌েই
ক‌িছু শুষ্কতা শ‌েখা ভাল‌ো।





 মেহফিল
---------------
শম্পা
মেহফিল থেকে ছিঁড়ে গেছে সুতো
জমছে না ভাঙা গ্লাস চুমুক ঠোঁট
আর্দ্রতা জমে জমে
বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে যোগাযোগ
নির্জনতা আর কত নিষ্ঠুর হবে....
দিন ঝুলে আছে দেওয়ালে
ঘন্টা মিনিট সেকেন্ড ঝুলে আছে সব
বৃথা ঝুল ঝেড়ে
অসহ্য হচ্ছে আশ, নিঃশ্বাস
সমুদ্র গর্জন গুলিয়ে যাচ্ছে।
ফিরে এসো উৎসবের দিন
যতক্ষণ না যথেষ্ট হচ্ছে বেঁচে নেওয়া
রেখে দাও আলিঙ্গনে
জীবনের অভিধানে ছড়িয়ে যাক
মাটির ঘ্রাণ শিউলী শিশির।

প্রার্থনা
---------
গতি নেই। যেটা আছে সেটা গতিজাড্য।
তুমি ভেবে যার কাছে ছুটে গেছি, দেখলাম সে অন্যকেউ।
অভিশপ্ত নিউরোন, আঙুলে জড়িয়ে রেখো আঙুল
এই বিশাল পৃথিবীতে কঞ্জুষ রেশনের মত কতিপয় মানুষ বরাদ্দ কোরো আমার জন্য।
যে অপারগতা নিয়ে বন্যা'কে ভালোবাসিনি অথচ বৃষ্টি চেয়েছি রোজ,তাকে স্পর্শের অধিকার দিও।
বিনিময় যদি চাও, ইঁটের গাঁথুনী দিও দরজায়
আমি নিশিদিন খোলা রাখব মনের সবকটা জানলা
সুর্যোদয় থেকে সূর্যের গলে পড়া অব্ধি রামধনু আঁকব নিজেরই মেঘলা মনে
শুধু এই গুটিকয়েক মানুষ আমায় ভালোবেসো খুব।