পাইন
গাছের গুঁড়িতে ঠেস দিয়ে কুমার ঘোষ মশাই আয়েশে চোখ ঝিমুচ্ছিলেন ।তাঁকে ঘিরে
টিনা-মীনা-করণ সহ এক ঝাঁক তরুণ-তরুণীর ভিড় ।ষাট ছুঁই ছুঁই কুমার নিয়মিত জিম
পরিচর্চিত,পার্লার লালিত সুগঠিত দেহভঙ্গিমায় এখনো টান টান লেডিকিলার
।শ্মশ্রুগুঁম্ফহীন মুখমণ্ডল, ব্যাকব্রাশ চুল , কানের দুপাশের জুলপিতে সামান্য
সাদার ছোঁয়া, নীল জিনসের সঙ্গে কালো টি সার্ট । কুমার বিখ্যাত ঠিকাদার। তার থেকেও
বিখ্যাত তাঁর বদান্যতা ,উদার চিত্ত, পরোপকারী ব্যক্তিত্ব। উষ্ণ স্নেহ বিতরণে তাঁর
জুড়ি নেই । টাকা ছড়ান ফুলঝুরির মতো। তাঁর হৃদয় আকাশের মতো উদার ,দৃষ্টি সমুদ্রের
মতো গভীর , স্নেহ অগাধ, অপার ।এই স্নেহে যে একবার ডুবেছে , সে আর পার পায়নি।
মধুস্নেহ ও ঘৃতস্নেহ যুগপৎ দুই স্নেহের অপার ভাণ্ডার তাঁর। তবে যত্রতত্র স্নেহের
প্রদর্শনীও তাঁর পছন্দ নয়। নদী যখন অগাধ জলধির কাছে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য ব্যাকুল
ভাবে ছুটে আসে,তখনই দাতা কর্ণ কুমার স্যার পরম আশ্লেষে করুণ-কাতর হয়ে উঠেন। তখন
তিনি বিপদভঞ্জন ও বটে । পরদুঃখে কাতর কুমার মশায় গোটা জীবনই দান করেছেন আর্তসেবায়।
