জয়তী রায় ( মুনিয়া) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জয়তী রায় ( মুনিয়া) লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                 




আঁধার


    ট্রেন এসে দাঁড়ালো যখন রাত দশটা বেজে গেছে। কুন্দতলীস্টেশনে রাত দশটা মানে, মনে হবে মাঝরাত। 

তারপরে,সেই রাত যদি মাঘ মাসের এমন হাড় কাঁপানো শীতের রাত হয়! আসলে,

সারা দুনিয়ার ভোল বদলে যাবে,কিন্তু কুন্দতলী রয়ে যাবে সেই নবাব সিরাজদৌল্লার আমলেই।  মুর্শিদাবাদ জেলার এই জায়গাটা নবাব আমলে বিখ্যাত ছিল। ঘসেটি বেগমের প্রিয় জায়গা এটি। নিজের পছন্দ মতো মহল বানিয়ে, খানা পিনা, মৌজ মস্তি করতেন প্রচুর। সে এক সুন্দর সময় ছিল বটে কুন্দতলীর!  লোকের মুখে মুখে এখনো সেই সমস্ত গল্প ঘুরে বেড়ায়। তবে  এখন সে জায়গার হতশ্রী দশা।  নদী মজে গিয়ে  মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। ঘসেটি বেগমের সাধের বিলাস মহল এখন ভূতনী মহল বলা যায়। চারিদিকে আগাছা। বড় বড় তেঁতুল বট এই সব গাছ। রাস্তা ঘাট ভাঙাচোরা। মাঝে মাঝে দু এক দল টুরিস্ট আসে। তবে খুব কম। মুর্শিদাবাদে কী কম জায়গা আছে যে লোক মরতে কুন্দতলী আসবে? গাঁ এখন দরিদ্র। হতশ্রী দশা। তবু, দু এক ঘর হিন্দু মুসলমান যে আছে, পরস্পর মিলে মিশে ভাৱভালোবাসা করেই আছে। সুখে দুখে, শীতে গ্রীষ্মে একে অন্যের ভরসা হয়ে বেঁচে আছে।

       এই যেমন আজকের কথাই যদি ধরি।  শীতের মাস।  কুন্দতলী থেকে ট্রেনে বাসে চেপে কেউ যাবে  সেই কলকাতা থেকে ওষুধ আনতে? আসতে তো রাত হবেই জানা কথা।। পরিশ্রমের ক্লান্তি আর পয়সা খরচের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম।  কিন্তু, কুন্দতলীর মানুষেরা আলাদা। এক জন আরেক জনের জন্য জান কবুল করে দেবে। 

      গাঁয়ের মাথা ছিদামখুড়ো যখন, নিজামুদ্দিন কে ডেকে বললেন," বাবা। তুমি ছাড়া তো কাউরে দেহিনা।  গাঁয়ে ওই তো সরকারী বেকার হাসপাতাল। সেখানে আজ দুদিন হলো, আনাথা মেয়েটা ভর্তি। বাপ নাই ।মা নাই। শ্বশুর বাড়ী থেকে ফাইল্যা দিয়া গেছে। বলে কিনা কুষ্ঠ। বাবা নিজাম। ডাক্তার টা খারাপ না। ওষুধ নাই, তো কী করে বেচারা। বাবা। গাঁয়ে তুমি হাড্ডাগাদ্দা জোয়ান। তোমারে ছাড়া আর কারেই বা কই?" 

  তা  নিজামুদ্দিন আপত্তি করার ছেলেই নয়।  সেই একমাত্র যে এক আধবার কলকাতা যায়। সেও অবিশ্যি  কদাচিৎ।। তাদের এই কয় ঘরের , গাঁয়েই মরণ ,গাঁয়েই জনম-- দরকার কী কলকাতা যাবার? তবে কিনা ,ফুলমণি গাঁয়ের মেয়ে আর ছোটবেলাতেই বাপ মা মারা যায়। ওলাওঠায় মরণ ! তাকে ঠেকানোর সাধ্য কার? একরত্তি মেয়ে ফুলমণিকে বুকে করে আপন করে নিলো গাঁয়ের লোক।  চোখের মণি হয়ে বড় হয়েছে। একটু এদিক ওদিক হলেই ফুলুর ঠোঁট ফুলে যাবে। আর যত জ্যেঠু, চাচা, ফুফা, পিসী সব ঝাঁপিয়ে পড়বে। কুন্দতলী এমনই প্রেমময় এক গাঁ।

       নদী শুকনো তো কী আছে? বিজলী বাতি নেই তো কী আছে? ভাঙা রাস্তা তো কী আছে? দুঃখ দারিদ্র আছে তো কী আছে? কুন্দতলীর এই দশঘর হিন্দু মুসলমানের মধ্যে যে আপন ভাব যে ভালোবাসা আছে, তার জোরে তারা টিঁকে নেই ,বেঁচে আছে। হাসি আনন্দে ভরে আছে। 

 *

নিজের মনে এই সব ভাবতে ভাবতে সাবধানে পথ চলছিল নিজাম। না ভেবে তো উপায় নেই।  ইস্টিশন থেকে গাঁ পর্যন্ত হেঁটে অনেক খানি যেতে হবে।  আলো নেই। শীত পড়েছে খুব আজকে। সময় কাটানোর সবচেয়ে ভালো কায়দা হলো নিজের সঙ্গে গল্প করা। ওষুধ টা ঝোলার মধ্যে রাখা। ফুলির ওষুধ। আহা! ডাক্তার বললো কুষ্ঠ নাকি হয়নি ফুলির ? ওর বর খারাপ চরিত্রের। বরের থেকে খারাপ রোগ হয়েছে ফুলির। এত করে ছেলে দেখে ভালোঘর দেখে  ভিন গাঁয়ে বিয়ে হলো ফুলির। সে ছেলের ভেতরে ভেতরে যে এই রোগ , কী করে জানবে মানুষ? রক্ত গরম হয়ে যায় নিজামের। সেও তো ভাই ফুলির? হিন্দু মুসলমান বিভেদ তারা মানেনি কোনোদিন । মানবেও না।  আহা! অষুধ টা পড়লে যন্ত্রণা টা যদি কমে একটু ফুলির। 

*

উফ! জব্বর শীত পড়েছে আজ। অন্ধকার রাত,  গাঢ় কুয়াশায় আরো যেন ভয়ঙ্কর লাগে। চেনা রাস্তা। চোখে সাতপুরু কাপড় বেঁধে দিলেও চলে যাবে নিজাম। তবু কেমন ভয় ভয় করে তার। মরা নদীর উপর থেকে ঠান্ডা বাতাসের ঘূর্ণী ঘুরে বেড়ায় একটা।  মুখে চোখে ছুরির মতো বেঁধে তা। নিজাম জোরে ঠোক্কর খায় একটা। সামলে ধরে ওষুধের ঝোলা।  সাবধানে পার হতে হবে সামনের মাঠটা।  বড়ো খোলা মাঠ।  গাঁয়ের গরু চরে বেড়ায়। বল নিয়ে খেলে বেড়ায় ছেলেরা। শিশির ভেজা মাঠ। পায়ের কমদামী চটি ভিজে ওঠে। টর্চের বালাই নেই। চোখ টাকেই তীব্র করে চলে নিজাম। সবুজ মাঠ, শীতের কুয়াশায় কালো চাদরে মোড়া মনে হয়।  দূর পর্যন্ত কেমন অদ্ভুত রহস্যময়তা। নিজামুদ্দিন কেমন ঘাবড়ে যায় হঠাৎ। তার শরীরে একটা অস্বস্তি জাগতে থাকে। কেউ কী আছে তার পেছনে? ধুর। সে কী ভূতের ভয় পাচ্ছে নাকি? ধুর। মনের জোর বাড়িয়ে জোর কদমে হাঁটে। ছিদাম খুড়ো গাঁয়ের মাথা।  তিনি তার উপরে ভরসা করেছেন। এর পরে আর কোনো কথা হবে না। আর যাকে মানা করুক , ছিদাম খুড়োকে মানা করবে না, নিজাম। করতেই পারবে না। দুদিন পরে এই খুড়োকে -- -- নিজের মনে একটু মিচকে হাসলো সে। 

*

মাথার উপরে প্রচন্ড জোরে লাঠির বাড়িটাতে ছিটকে ঘাষের উপরে মুখ থুবড়ে পড়লো নিজাম।। পরপর আরো জোর বাড়ী। নিষ্প্রাণ দেহটাকে ,পা দিয়ে ঠেলে হিস হিস করে উঠলো ছিদাম খুড়ো," বামন হয়ে চাঁদে হাত? শালা সুমুন্দির পো। তোদের সাথে মিশি বলে, আমার মেয়ের সঙ্গে প্রেম করবি? এতবার সাবধান করেছি। শুনলি না। মর এখন।" থু থু করে থুতু ফেলে, ঝোলা থেকে ওষুধ বার করে,অন্ধকারে মিলিয়ে গেল ছিদাম।। গাঁয়ে বললেই হবে,ওষুধ তাকে পৌঁছে দিয়ে নিজাম মাঠের দিকে চলে গিয়েছিল। তারপর তিনি আর কিছু জানেন না। গাঁয়ের মাথা তিনি। সমাজ রক্ষার দায়িত্ব তো তাকেই নিতে হবে। 

     

          কুন্দতলী ঘসেটি বেগমের প্রিয় জায়গা ছিল। তিনি ভালোবাসতেন জগৎশেঠ কে। এই খানে গড়েছিলেন তাঁর প্রিয় এক প্রেমের মহল। শায়েরী লিখতেন সুন্দরী বেগম। সিরাজ জানতে পেরে গুঁড়িয়ে দেয় সেই মহল। দীর্ঘশ্বাস আর চোখের জলে কুন্দতলীকে বিদায় জানিয়ে মুর্শিদাবাদে ফিরে যায় ঘসেটি।

      অন্ধকার আর ইতিহাস এক রকমই থাকে। বদলে যায় শুধু তারিখ।


রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                       





বেঁচে থাকা একটা সাধনা 

&&&&&&&&&&&&&&&&

     

      দিনের শেষে আমরা কি চাই? 

বাড়ি গাড়ি অর্থ না কি একটু শান্তি?

এক একসময় মনে হয়, সমস্ত কিছুর বিনিময়ে যদি শান্তি পাওয়া যেত! যদি, বালিশে মাথা দেওয়া মাত্র ঘুম এসে যেত! 

কখনো কখনো মনে হয়, চারিদিক অন্ধকার, সন্তান স্বামী অথবা অসুস্থ পরিজন নিয়ে পেরে ওঠা যায় না, একদিক সামলে উঠলে অন্যদিক ঝামেলায় পড়ে, সেজেগুজে ছবি তুলে আরো কত কী করে দেখাতে তো চাই, ভালো আছি, কিন্তু নকল হাসির বন্ধ দরজা ভেদ করে আলো আর ঢোকে না কিছুতেই। জীবনের শুরুতে যে পথ মনে হয়েছিল সহজ সরল, চলতে চলতে দেখতে পাই কত কাঁটা, ছোট ছোট কাঁটা কিন্তু ধারালো, আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ সমস্যা, কিন্তু আঘাত তীব্র, কর্কশ, ছিন্ন ভিন্ন করে দেয় সাজানো জীবন, বলা যায় না, সহন করা যায় না, অভিনয় করে যেতে হয় তবু, সাজানো সুখের অভিনয়!

************ 


কেন হয় এমন? ত্রুটি করা হয় নি কোনো কাজেই, আকুল হয়ে ভাবতে থাকে মন, কোথায় হয়েছিল সমস্যা, কোথায় ছিল ঠিক সময়ে ঠিক কাজ না করার ভুল, নিজেকে দোষারোপ করতে করতে, অপরের থেকে দোষারোপ শুনতে শুনতে ইচ্ছে করে আত্মহত্যা করে সব জ্বালা জুড়িয়ে দিতে, প্রাণ না থাকলে, থাকবে না ঝামেলা! 

এইভাবে দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে আত্মহত্যার প্রবণতা। পরিসংখ্যান বলছে-- গোটা পৃথিবী জুড়ে গড় আত্মহত্যার সংখ্যা যেখানে ৮ লাখ , সেখানে শুধু ভারতেই প্রায় ১ লাখের উপর। ভারতে জন সংখ্যা বেশি হলেও, জাতীয় ক্রাইম ব্যুরো রেকর্ড বলছে-- ভারতীয়রা আত্মহত্যা করছে বেশি, সমস্ত রকম শ্রেণীর মানুষ আছে সেখানে, উচ্চবিত্ত, সেলিব্রেটি, ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে। সবচেয়ে বেশি, তামিলনাড়ু, কেরালা,পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রে। নারী পুরুষ নির্বিশেষে, সুইসাইড করার বয়স গড়ে পনেরো থেকে চুয়াল্লিশ এর মধ্যে। মনের ডাক্তার বলে-- মানসিক চাপ ও হতাশার মোকাবিলা করার শক্তি যখন হারিয়ে যায়, মানুষ তখন জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজতে আয়ু কমিয়ে দেওয়ার 

পরিকল্পনা করতে থাকে, একসময় সফল হয়। 

***********

রামতনু বাবু আত্মহত্যা করেন কারণ,ছেলে পরীক্ষায় অকৃতকার্য, শীলা সহ্য করতে পারেনি, শ্বশুরবাড়ির কথার আঘাত, এমন আরো কত...! যৌনতা সম্পর্কিত সমস্যা, রোগে জর্জর হয়ে যাওয়া, প্রিয় ব্যক্তির মৃত্যু, প্রিয় পোষ্যের মৃত্যু, সামাজিক খ্যাতি পড়ে যাওয়া-- তালিকা বাড়িয়ে লাভ নেই-- আশি পার্সেন্ট শিক্ষিত লোক বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। 

************

শিক্ষিত লোক  উদাহরণ দেওয়ার পিছনে কারণ হল, আত্মহত্যাই সমাধানের পথ, এমন যারা ভাবতে বাধ্য হন, শিক্ষা তাদের কী কাজে লাগল!

অনেকেই তর্ক করবেন, যুক্তি দেবেন, সুশান্ত সিং রাজ্পুতের মর্মান্তিক ঘটনাকে অনেকেই বলেছেন, খাদের কিনারায় এসে গেলে আর উপায় থাকে না, সুইসাইড অনিবার্য। আমিও তর্ক করেই উত্তর দেব, সুইসাইড করতে যাওয়ার আগে ঘুরে দাঁড়ানোর যে শিক্ষা, যেটা ছোট থেকে শেখানো উচিৎ, তথাকথিত শিক্ষিত মানুষজন সেই কৌশল শেখে না, তবে কি শেখে? কি করে সেরা হয়ে উঠতে হয়, কি করে সমাজের মাথা হয়ে উঠতে হয়, কি করে নিজের প্রিয় বন্ধুকে সরিয়ে জায়গা করে নিতে হয়, মায়ের টেলিফোন কথোপকথন, বাবার মদ্যপান বিজনেস মিটিং-- সমস্ত সময় আলোচনা-- চারপাশ জুড়ে আছে কেবল খারাপ মানুষ! সকলে বিশ্বাসঘাতক, সকলে ফালতু, সকলে স্বার্থপর। 

এইরকম অবিশ্বাসের কথা শুনতে শুনতে বড় হয়ে ওঠা সন্তান, একদিন নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারেনা, বিশ্বাস না থাকলে বেঁচে থাকার মত পুষ্টি কি করে পাবে মানুষ? 

**********

মনের ডাক্তারের কাছে যেতে হয় কখন? যখন আর উপায় থাকে না। শরীরের ডাক্তারের কাছেও তো যেতেই হয় শেষপর্যন্ত, কেন যেতে হয়? শরীরের যত্ন নেওয়া হয় না ঠিক মত, নিয়মিত চেকআপ যাওয়া হয় নি, হঠাৎ ধরা পড়ল ভিতরে ভিতরে বড়  একটা অসুখ বাসা বাঁধছে, তখন আর কোনো উপায় থাকে না। 

মনের চেক আপ করে নিয়মিত করা জরুরি বলে কেউ মনেই করে না। যেহেতু, মনের জীর্ণ দশা চোখে দেখা যায় না, অথবা, তাত্ক্ষণিকভাবে  খুশিতে থেকে, বেড়িয়ে এসে কেনাকাটা করে, ব্যাঙ্কে সম্পত্তির হিসাব মিলিয়ে খ্যাতির লিস্টি মিলিয়ে সুখী ভাবতে চাওয়ার মধ্যে থাকে মস্ত ফাঁকি। পরিসংখ্যান বলছে-- মোট আত্মহত্যার বেশির ভাগ পারিবারিক অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে নিজেকে শেষ করে দেয়। আর এই মুহুর্তে অতিমারি একটা বিরাট কারণ। 

বোঝা যাচ্ছে, মনের জমিতে ফাটল ধরছে ক্রমাগত, সেই ফাটল মেরামত করতে হবে, ছোট  থেকেই গড়ে তুলতে হবে সুস্থ মন। সতর্ক থাকতে হবে, কোথাও টোল খেলো কি না! মানুষ ছাড়া জীবন কিসের? মানুষকে অবিশ্বাস করে ঠকে যাচ্ছেন না কি মানুষকে সব বিলিয়ে দিয়ে আশা করে আছেন? বাঁচতে হবে নিজের শর্তে, মানুষ পাশে থাকলে ভালো আর না থাকলে? আরো ভালো। প্রয়োজন নেই। নিজের শর্তে বাঁচতে হবে। সাফল্য নিতে পারব, পার্টি দেব আর ব্যর্থতা মানতে পারব  না? তখন গলায় দড়ি দেব? 

**********

জীবন একটা যুদ্ধ তো বটেই, ওঠা  পড়া  থাকবে, অপমান থাকবে, তবে শেষপর্যন্ত দেখতে হবে, হেরে যাই তো ঠিক আছে, আগের থেকে হার মানলে চলবে না। 

  মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ, অমুক ওই করেছে, তমুক তাই করেছে, এগুলি না ভেবে দেখতে হবে আমি কি করেছি, সেটাই প্রয়োজন, সেটাই জরুরি। বাকি আর সব তুচ্ছ। 

   বেঁচে থাকা একটা সাধনা, প্রাণ আছে তো সমস্ত কিছু আছে। প্রাণের সাধনা করতে হবে প্রতিদিন। 

   চেষ্টা করি আসুন, সাধনা সফল হোক।

রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                             


     

রিভার্স

     তোর গল্প পরপর প্রিন্ট ম্যাগাজিন নিচ্ছে! গন্ধ পাচ্ছি যেন? 

শিউলি অবাক। কিসের গন্ধ! 

: একে যুবতী। তায় সুন্দরী। দেখিস বাবা। 

হাসির হররা উঠল কফিহাউসের টেবিলে।

 রাগে দুঃখে শিউরে উঠল শিউলি। এরা বন্ধু?  তার লেখাটা দেখে এইই মনে হল? বুকের কাছে চেপে ধরল সদ্য প্রকাশিত কবিতার বই।যেন প্রতিবাদের হাতিয়ার। প্রমাণ করতেই হবে। করতেই হবে। নিজেকে। যেভাবেই হোক। 

***

বিখ্যাত লেখিকা এবং সম্পাদিকা শিউলি সাহার চেম্বার থেকে  টলতে টলতে বেরিয়ে এলো কিশোরকবি সুপম। মিষ্টি ঝলমল হাসিমুখে কে যেন অপমানের কালি ঢেলে দিয়েছে।  কিশোরের অমলিন পৃথিবীর আকাশে আজো দেখা যায় রামধনু। আজো প্রতিদিন মায়ের বুকে খুঁজে পায় শৈশবের ঘ্রাণ। আজো মিলির ব্যালকনির নিচে থেকে যেতে যেতে উপরে তাকিয়ে অকারণ হর্ণ মারে বাইকে! সেখানে কোত্থাও ছিল না এমন অভিজ্ঞতা!

 *

 ঘটনা শুনে ধমকে ওঠে বিরাজদা। 

: সতীপনা করে কিস্যু লাভ নেই। সবার কপালে শিকে ছেঁড়ে?  একটু সঙ্গ টঙ্গ দিবি। টপাস করে লেখা ছাপা হবে।

: বিরজদা! 

: আরে ধুর। মনে কর সেবা করছিস। বয়স্কা একলা মহিলা, সময়কালে বিয়ে না হলে, ওমন একটু আধটু ... বুঝলি না?

: দাদা গো। গ্রামের ছেলে আমি। বড় আশা করে কবিতা লিখছি। এমন হবে... 

  চোখ ছলছল করে ওঠে সুপমের। 

: ধুর। নাকে কান্না ছাড়। বড় আশা করে ওই শিউলিও একদিন লেখা নিয়ে ঘুরত দরজায় দরজায়। তখন নিয়েছে সুযোগ অনেকে। আজ উনি সুযোগ নেন। রিভার্স গেম। 

চোখ বিস্ফারিত সুপমের। রিভার্স গেম! জীবন মানে কি তাই? 

বিরাজ দা, বক বক করেই চলেছেন: লেগে পড়। লেগে পড়। দেখবি, কালকেই কাগজে তোর নাম ছেপে বেরুবে। 

কবিতার খাতা হাতে উঠে দাঁড়ায় সুপম--

:পারব না বিরাজদা। শিউলি ম্যাডামের মুখটা ঠিক আমার মায়ের মত। মায়ের সঙ্গে আদান - প্রদানের খেলা ঠিক জমবে না গো!

রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                      




 মণিযুক্ত সর্প এবং ছদ্মবেশী বন্ধু / ট্রমা সৃষ্টির কারণ

💕💕💕💕💕💕

 

   কেউ অথবা ফেউ ... নিবন্ধে অনেকেই সমাধান জানতে চেয়েছেন অনেকে ইনবক্স করে জানিয়েছেন ফেউদের আক্রমণে জীবন কতখানি দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। 

 তাদের জানাই, এমন ছোট পরিসরে সমাধান জানানো মুশকিল। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও , সমস্যার শিকড় ছড়িয়ে  থাকে অনেক ভিতরে। সবচেয়ে আগে জানা প্রয়োজন সমস্যা ঠিক কোথায় তারপর সমাধানের কথা আসতে পারে। 

🎉🎉🎉🎉🎉🎉

ফেউ প্রসঙ্গে যেটা প্রথমে মনে হয় কাছের মানুষ পিছনে লাগছে। রোজ রোজ হামলা করছে। কথা দিয়ে, চ্যাট দিয়ে, টেলিফোন করে ... শেষ করে দিচ্ছে জীবন। নষ্ট করছে মন। মাঝে মাঝে শারীরিক হামলা যে হচ্ছে না তাও নয়। এককথায় একসময় যে ছিল সঙ্গী আজ তার আক্রমণে প্রাণ ওষ্ঠাগত। 

🦋🦋🦋🦋🦋🦋🦋🦋

 এমন কেন হয়? রক্তের সম্পর্ক অথবা বৈবাহিক সম্পর্ক নিজের হাতে না থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু, বন্ধু? আর এখন সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে বন্ধু অনায়াস। বাইরের চাকচিক্য সুন্দর প্রোফাইল দেখে বন্ধু করে ফেলি চট করে। দ্রুত কাছের মানুষ হয়ে যায় তারা। তারপর দেখা যায়, যাহাই চকচক করে তাহাই সোনা নয়। শুধু স্যোসাল মিডিয়া কেন, বন্ধু বৃত্তের যে কেউ হঠাৎ বদল করতে পারে রঙ। যে হৃদয় টলমল করে উঠত ভালোবাসার গঙ্গাজলে, সেখানে ছড়িয়ে পড়বে ঈর্ষার সবুজরঙ। 

💕💕💕💕💕💕💕💕

  বন্ধু , শব্দ শুনতে সহজ চট জলদি বানিয়ে ফেলা সহজ কিন্তু শব্দের ভার খুব কঠিন। দুটো ফোন করলাম একসঙ্গে কফি খেলাম তুমুল আড্ডা দিলাম, সেলফি তুললাম, নাহ্। এটাকে বলে টাইম পাস। দরকার আছে বইকি। সুন্দর আড্ডা। 

কারণ, বিশেষ একটা বয়সে বন্ধুর প্রভাব মুক্ত থাকা খুব মুশকিল। 

 কারণ, বন্ধুহীন জীবন মরুভূমির মত। জন্মগত ভাবেই মানুষ সঙ্গপ্রিয়। সঙ্গীর কামনা মানুষের চিরন্তন প্রবৃত্তি।   বন্ধুর সঙ্গে নিছক আড্ডা, প্রাণ খুলে আনন্দ হই হই ... অনেকখানি সময় মন করে তোলে নির্ভার। এমনও হয়, বাড়ি ছেড়ে বন্ধুর বাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, বন্ধুর একটি কথা তখন বেদবাক্য হয়ে ওঠে। পরিবার একদিকে বন্ধু অন্যদিকে। এগুলো স্বাভাবিক সত্য। বন্ধু সঙ্গে না থাকলে সৃষ্টি হয় না, লেখাপড়া হয় না অ্যাডভেঞ্চার হয় না। স্বয়ং ঈশ্বরকে ও বন্ধু নামে সম্বোধন করা হয়। 

🎇🎇🎇🎇🎇🎇🎇🎇

   বন্ধুত্ব গভীর হ'ল। আদান প্রদান হ'ল গোপন কথার। সমস্ত দুর্বলতা সমস্ত আকাঙ্খা জেনে গেল সে। কারণ, হল বিশ্বাস। অলিখিত এক চুক্তিপত্র থাকেই বন্ধুত্বে সেটা হল বিশ্বাস। ওটাই বলা যায় ভিত। তারপর একদিন বিশ্বাসের দেওয়াল ভেঙ্গে বেরিয়ে পড়ে আসল মুখ। নিজের সমস্ত গোপন কথা বাজারে বিক্রি হয়ে যায়। স্ক্রিন শট/ ছবি ঘুরতে থাকে এদিক ওদিক। যা ছিল নিজের তা আজ বাজারের। শুধু তাই নয়, এমন হয়, নেট দুনিয়ার চট জলদি বন্ধুত্বের পরে জানা যায় ভিতরের চরিত্র কতখানি নোংরা। ততক্ষণ জড়িয়ে গেছেন অনেকটাই। লোকে ভাবতে শুরু করেছে, এমন মানুষের এত ঘনিষ্ঠ বন্ধু যখন তখন সে আর কত ভালো হবে? এইধরণের সঙ্গ, ব্যক্তিত্ব প্রতিভা সুনাম এমনকি সাফল্যকে ধ্বংস করে। A man known by the company he keeps.  নেট দুনিয়ার বন্ধু প্রভাব বিস্তার করে জীবনে। অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে তার সঙ্গে কথা বলা। হঠাৎ একদিন ফোন বন্ধ। কারণ ছাড়া। ব্যাস! দুনিয়া বিস্বাদ। খাওয়ায় অরুচি। সংসারে অরুচি।

  আবার, কোনো বন্ধু কিছুদিন পরে বিরক্তি উৎপাদন করছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে,  আলাপ হওয়ার পরে। বোঝা যাচ্ছে, এর কাছ থেকে পাওয়ার কিছু নেই। মোটা দাগের স্থূল বুদ্ধির মানুষ। কিন্তু, সে তখন ছাড়বে না।  ক্রমাগত ন্যাগিং আর ঘণ্টাভ'র  অবান্তর কথা ... ফোনে নাম দেখলেই ভয় করে।  মন জর্জরিত। ক্লান্ত। আতঙ্কিত। 

অবসাদ গ্রাস করতে থাকে। ভালো লাগে না কিছুই আর ভালো লাগে না। 

💕💕💕💕💕💕💕

  এবার কেউ প্রশ্ন করবে, তাহলে তো ঠগ বাছতে গ্রাম উজাড়। এত বেছে জীবন চলে না কি! 

  প্রশ্ন কিন্তু জীবন নিয়ে। তখন সতর্ক হতে হবে বইকি। কতগুলি নিয়ম মানতেই হবে সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে। টাইম পাস বা নিছক আড্ডার কথা বলছি না, সেটা চলতেই পারে। বলছি, যদি কেউ বিশেষ স্থান নিতে চলে তবে কি হয়? বন্ধু কি করে? এনার্জির সঞ্চার করে।  আনন্দ ফুর্তি সঞ্চার করে এনার্জির, সেই এনার্জির অপর নাম ঈশ্বর। কারণ, এনার্জি হ'ল জ্বালানী। আমাদের সমস্ত কাজ, সৌন্দর্য , শরীরের যাবতীয় গোপন অসুখ, সম্পর্কের ওঠা পড়া এমনকি কঠিন সময়কেও আমরা সহজে অতিক্রম করে যাব যদি মনের ভিতর এনার্জি থাকে। এই এনার্জির একটি উৎস অথবা বলা যায় নব্বই ভাগ উৎস হল বন্ধু। সময় কাটাও কিন্তু নিজেকে বাঁচিয়ে। নিজের মনের গভীরে যে সুন্দর  আমি র অবস্থান... সে যেন কখনো ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। 

 নিজেই বোঝা যায়, কার সঙ্গ আমায় উন্নত করছে আমার চেতনা প্রসারিত করছে। কার ফোন রেখে দেবার পরে মনে হয়, পাহাড়ে ঘুরে এলাম। ফ্রেশ লাগে নিজেকে। মিথ্যা প্রবঞ্চকের চাটুকারিতা ক্লান্ত করে তোলে। এনার্জি নষ্ট করে। কাজেই সাবধান হতে হবে বইকি। 

🦋🦋🦋🦋🦋🦋

ট্রমা বা অবসাদ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। কাজেই, তুচ্ছ করলে চলবে না। অবসাদ সৃষ্টি করে এমন বন্ধু থেকে দূরে থাকতেই হবে। যদি কিছু ভুল হয়ে গিয়েও থাকে, ভয় পাওয়ার কারণ নেই। নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন এনার্জি নিয়ে বেঁচে উঠতে হবে। অনেকেই বলে, বন্ধু ভাগ্য খারাপ। তাই কি? তাৎক্ষণিক মোহে বন্ধু নির্বাচন কিন্তু আমরাই করে থাকি। তারপর হাহাকার আর নিরন্তর দোষারোপ। লাভ কী! পরশমণি দুর্লভ হলেও থাকে বইকি। ভালো বন্ধুর স্পর্শে জীবন সোনা হয় বইকি। এনার্জি লেভেল বৃদ্ধি পায়, এমন সঙ্গী থাকুক। বাঁচতে হবে সুন্দর করে। অবসাদহীন ঝকঝক জীবনের অধিকারী হয়ে।।

শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                                   



 মনের হদিশ/ কিছু কথা

_______________________

   প্যারাসাইকোলজি ব্যাপারটা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। যেহেতু সার্টিফিকেট মেলেনি বিজ্ঞানের কাছ থেকে।কূটতর্কে একদিন হয়ত যাব। কোনো মঞ্চে অথবা দূরদর্শনের পর্দায়। আজ লিখতে হচ্ছে তাদের জন্য, যারা আমার কাছে ক্লাস করতে চায়।

  প্রথমেই বলে রাখি , প্রথাগত কাউন্সিলিং আমি করি না। কিছুটা অতীন্দ্রিয় ব্যাপার থাকে। এটা কোনো বড় ব্যাপার নয়। অনুমান করার ক্ষমতা , কুকুর থেকে পিঁপড়ে প্রত্যেকের কম বেশি থাকে। বিপদের গন্ধ পাওয়ার ইন্দ্রিয় আদিম যুগে মানুষের মধ্যে ছিল। যন্ত্র যতদিন কব্জা না করে ফেলেছে, মানুষের অনুমান ক্ষমতা ছিল প্রখর। পশু ইন্দ্রিয় আজো সজাগ। কারণ ? তাদের যন্ত্র নেই। মানুষের ইন্দ্রিয় লুপ্ত হয়নি। শুধু ক্ষমতা কমে গেছে। 

   আমার থেরাপির মূল কথা হল , নষ্ট হয়ে যাওয়া ইতিবাচক অনুভূতি ফিরিয়ে নিয়ে আনা। এটা সময় সাপেক্ষ। অনেকেই সেটা বুঝতে চায় না। চটজলদি সমাধান চায়। বিনাওষুধে , শুধুমাত্র নিজের সাহায্যে নিজেকে ভালো রাখতে পারার নিয়ম জেনে গেলে জীবন আসে ম্যাজিক। দুঃখ কব্জা করে ফেলতে পারলে দুঃখ হয়ে পড়ে অক্ষম। এটা এখন অনেকেই বুঝে গেছেন। অনেকেই ভালো আছেন। তাদের শুভেচ্ছা নিরন্তর ঝরে পড়ছে , এ আমার পরম সৌভাগ্য। 

 এই যে অনুমান করার ক্ষমতা( মোটেই বিরল নয়) অথবা কাউকে দেখে কিছু আঁচ করার, এমনকি তার বিপদ আসছে না সৌভাগ্য সেটাও বুঝে যাওয়া... এগুলো শেখানো মুশকিল। কেউ কেউ ভাবেন বুঝি, মন্ত্র তন্ত্র অং বং টং করতে হয়। কেন এমন ভাবনা আসে? মন্ত্র শক্তির ক্ষমতা আলাদা। সে ছাড়াও ত হয়। উদাহরণ দিয়ে বলছি, যেমন দৌড়তে সকলে পারে, কিন্তু দৌড় বীর হতে গেলে অভ্যাস জরুরি। অভ্যাস যোগ। ।প্রতিদিন বাড়িয়ে তুলতে হবে নিজের এনার্জি। এনার্জি বাড়ানো কি মুখের কথা? শারীরিক ফিটনেস তৈরি করতে প্রচুর পরিশ্রম। তেমনি , মন যাতে তীক্ষ্ণ হয়, বোধ যাতে সঠিক হয়, শান্ত থাকতে হয় তার জন্য। মৌন থাকতে হয়। সঙ্গী নির্বাচন ঠিক মত করতে হয়। সঙ্গী যেন বিরক্ত না করে। অযথা সময় নষ্ট না করে। আর যদি করেও, যদি সঙ্গী তেমন হয়েই যায়, খুব বেশি সময় তাকে না দেওয়াই ভালো। ভুল সঙ্গ দুঃখ তৈরির বড় কারণ। 

 নিয়মিত দর্শন আলোচনা করতে হয়। গভীরে পৌঁছতে হয় প্রতিদিন। প্রতিদিন। একদিন ও ফাঁকি দিলে চলবে না। দর্শন হল আলো। প্রথম প্রথম কঠিন মনে হয়, ধীরে ধীরে আত্মস্থ হয়ে যায়। কত কি ই তো আলোচনা করি কিন্তু হারিয়ে যাওয়া কিছু বোধ নিয়ে আলোচনা করি না। কেন? কেউ কেউ আবার দর্শন বলতে কিছু সংস্কৃত শ্লোক আউড়ে দেন 😀 আউড়ে দেন মানে নিজেই বোঝেন না। আমি বলি, কথামৃত পড়ো। সব আলো লুকিয়ে আছে ওখানে।❤️

     কাউন্সিলিং শেখানো যায়। কিন্তু অতীন্দ্রিয় বোধ শেখানোর বিষয় নয়। কেউ কেউ ভাবে😀 এইতো জয়তী দির মত ফোনে ভালো ভালো কথা বললেই তো হয়ে গেল। ওটাই তো জয়তীদি করে। 

ভালো শব্দের কোনো বিকল্প নেই, একথা সত্যি। বাতাবরণে ম্যাজিক তৈরি করতে জানে শব্দ। রাজনৈতিক নেতা কি করে? ধর্ম গুরু কি করে? শব্দের খেলাই তো করেন। কিন্তু, শব্দ দিয়ে মনের পরিস্থিতি বদল করতে চাইলে তার মধ্যে কিছু বস্তু থাকতে হবে। টেলিফোনে কথা বললেও মন পড়ে নিতে হবে। বুঝে নিতে হবে, অপর প্রান্তের মানুষের না বলা উদ্বেগ। আপাত স্বাভাবিক কথার মধ্যে হয়ত লুকিয়ে আছে বড় কোনো অসুখের ইঙ্গিত। ধরে ফেলতে হবে। এটা নিরলস চর্চার কাজ। অসুবিধার কি আছে?😀 কঠিন তো নয়। যদি রান্না করতে পারি যদি রূপচর্চা করতে পারি তবে নিজেকে নিয়ে বসতেও পারি। 

  মূল কথা হল, সময় সকলের জন্য আছে কেবল নিজের জন্য নেই! একটা দিন অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা। আঠারো ঘণ্টা এনার্জি দিচ্ছি, অন্য লোক প্রশংসা করল না নিন্দে... এই ভেবে। 

 নিন্দে যে করার সে করবেই। সোনারথালায় খেতে দিয়ে,নিজেকে নিঃশেষ করে দিলেও তারিফ জুটবে না। তারচেয়ে একটু তাকাই আমার দিকে। ক্ষয়ে যাওয়া মনের দিকে। লুকিয়ে থাকা শক্তি বাড়িয়ে তুলি। তবে, হয়ে উঠব নিজের ভরসা সেইসঙ্গে অপরের বন্ধু। মনের বন্ধু।

রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                             




ঘরোয়া খাদ্যে অমৃত পুষ্টি




  করোনা থাবা ঘরের দরোজা।  নিস্তার মিলবে কি না কেউ জানি না। প্রতিটিদিন মূল্যবান। এখন বোঝা গেছে, কেন বলা হয়, একটি সুস্থ দিন আশীর্বাদের মত। 

  কাল কিসনে দেখা... মহা মূল্যবান এই বাণী। কালকে কি অপেক্ষা করে আছে জানি না। আজ জানি। আজকের লড়াই জানি। নিজেদের কর্মফলের দিকে এগিয়ে চলেছি সেটাও জানি। কর্মফল কোনো আধি ভৌতিক ব্যাপার নয়। যে কাজ করছি তার ফল ভুগছি। সঙ্গে আরো দশজনকে টেনে নিচ্ছি।

পৃথিবীর অন্য দেশ পারছে আমরা পারছি না? মৃত্যুকে বরণ করে নিয়ে আসছি। লক ডাউন জরুরি। হচ্ছে না।

 তবু, কুর্নিশ তাদের যারা একটা অসহায় অবস্থায় লড়াই করে যাচ্ছেন। সেই আমাদের ডাক্তার ভগবানের দল। উপর থেকে কেউ নেমে আসেন না। ডাক্তার আসেন। নিজে নিরাপদ থাকবেন না হয়ত, জেনেও আসেন। 

  ***

আমরা লড়াই করছি। প্রতিদিন নিজের মত করে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি ভাইরাসের প্রবল কামড়। রোজ মেপে চলেছি অক্সিজেন। 

 সত্য যতই নির্মম হোক জারি থাক লড়াই। মন ভালো রাখুন ... বললেই তো মন ভালো হয় না। সেটাও যেমন সত্যি, তেমনি ভয় কিন্তু সৃষ্টি করে ক্ষতিকর হরমোন। তার ফলে লড়াই করার ক্ষমতা কমে যেতে থাকে। ফুসফুসের বাতাস কম হতে থাকে। 

এনার্জি ক্ষয় হয় বেশি কথা বললেও। এইসময় মনের মধ্যে সৃষ্টি হয় ত্রাস। ত্রাসের আক্রমণে মাথা ঠাণ্ডা রাখা খুব মুশকিল। বাড়ির লোকের সঙ্গে অশান্তি হয়ে চলে। মুখ ভার। ভিতরের ক্ষয় বৃদ্ধি পায়। অতীতের কথা মনে পড়ে। করোনা আগের পরিস্থিতি কত ভালো ছিল! মৃত্যু হচ্ছে কাছের মানুষের। ভয়ঙ্কর রকমের শূন্যতার সৃষ্টি হয়। অতল খাদের মধ্যে ডুবে যেতে ইচ্ছে করে। এনার্জি আর অবশিষ্ট থাকে না। 

   এনার্জি হল জ্বালানি।  বাঁচিয়ে রাখতে হলে ধ্যান জরুরি। ধ্যান না হোক, নিজেকে নিয়ে একটু বসতেই হবে। বিশেষ করে দুপুরবেলার সময়। ওই সময় সবচেয়ে ক্লান্ত থাকে মন। 

ভাইরাস এসে গেছে। অস্বীকার করার উপায় নেই। এই সময় নিজেকে চাঙ্গা রাখতে হবে। দুঃখ বোধ আক্রান্ত করবে। এটাও কিন্তু , মহামারীর প্রক্রিয়া। মানুষকে ভিতর হতে বিপর্যস্ত না করে দিতে পারলে, আক্রমণের কামড় সহজ হবে না। 

 দুঃখ বোধ থাকুক। তাকে নিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বাজারে যেতে হবে। কাজ করতে হবে। মনের এনার্জি লেভেলের দিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে। বিপদের সময় কাজে লাগবে এই মন। এমনকি বিপদের পরেও কাজে লাগবে। অনর্থক কথায় ভারাক্রান্ত হয়ে কি লাভ? 

****

নিজের রুটিন ঠিক করে নিন। এখনো লকডাউন হয় নি। অফিস যেতে হচ্ছে। ভয় নয়। যেতে হচ্ছে যখন যেতে হবে। 

সব রকম সতর্কতা সেই সঙ্গে নিজেকে উৎসাহ দেওয়া। পারব। আমি ই পারব। পারতেই হবে। 

  

  ব্যায়াম করা জরুরি। মহামারীর জন্য নয়। এমনিতেই প্রয়োজন। ব্যায়াম কথাটা শুনলেই আমাদের মত মধ্যবয়সী মহিলা পুরুষের কপাল কুঁচকে যায়। আমি বলি, চলতে ফিরতে ব্যায়াম করা যাক। 

১. দুই হাতে যেন ধরে আছি দুটো বালতি , এই ভাবে বালতি দুটো শ্বাস নিয়ে উপরে তুলে, নামিয়ে কোমরের কাছে রেখে , নিচে শ্বাস ছেড়ে নামাতে হবে। পাঁচ বার। শ্বাস নিয়ে উপরে। কোমরে ধরে রাখা। নিচে ছেড়ে দেওয়া। রান্না করতে করতে, অফিসে কাজ করতে করতে করাই যায়। 

২. পিছন দিকে হাঁটা। দশ পা গুণে গুণে। পাঁচ বার। 

৩. লিখতে লিখতে , একটু থেমে, মুখ দিয়ে বাতাস টেনে, মুখ ফুলিয়ে দম বন্ধ করে বাতাস ছেড়ে দেওয়া। যতবার খুশি। 

নিজেই  বুঝবে কতখানি আরাম পাচ্ছে ফুসফুস। 

*****

 বলো তো, কোন ইন্দ্রিয় মানুষের একাধারে বন্ধু ও শত্রু? সে হল জিভ। জিহ্বা। 

স্বাদবস্তু এখানেই অবস্থান করে। আজ ফাস্টফুডের এত রমরমা, সে কিন্তু আমাদের এই ইন্দ্রিয়ের কারণে। 

  মাঝে মাঝে পান্তাভাত খাই। 

লালচাল ভিজিয়ে রাখি। করোনা কাল চলছে। তার উপর গরম। প্রয়োজনীয় সমস্ত উপাদান যেমন পটাশিয়াম ক্যালসিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে। পান্তাভাত থেকে ভিটামিন সি ভিটামিন বি ১২ পাওয়া যায়। দ্রুত যোগায় শক্তি। অনেকক্ষণ কাজ করা যায়। 

পান্তাভাতের জল/ তিন পুরুষের বল।।

 ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। তৈরি হয় ফাইটিক অ্যাসিড। ল্যাকটিক অ্যাসিড। আয়রন ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম এত বেশি যে , এই সময় শরীরকে লড়াকু করে তুলতে সাহায্য করে। 

*****

মানুষ চেষ্টা করে যায়। পরিস্থিতি প্রতিকূল। এমন ভয়াবহ মহামারীর কবল থেকে বাঁচার উপায় আমাদের খুঁজতে হবে। হঠাৎ ছোবল মারবে এই ভাইরাস। পরিচিত ডাক্তারের ফোন নম্বর থাক। অক্সিজেন মাপার মেশিন থাক। উপুড় হয়ে শুয়ে পড়া থাক। শরীরে জোর থাক। সেইসঙ্গে মনের জোর থাক।

  যুদ্ধক্ষেত্রে এইগুলি সম্বল করে নেমেছি। তারপর? 

  কাল কিসনে দেখা?

শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১

জয়তী রায় মুনিয়া

                       




মনের হদিশ/ কিছু কথা

_______________________

   প্যারাসাইকোলজি ব্যাপারটা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। যেহেতু সার্টিফিকেট মেলেনি বিজ্ঞানের কাছ থেকে।কূটতর্কে একদিন হয়ত যাব। কোনো মঞ্চে অথবা দূরদর্শনের পর্দায়। আজ লিখতে হচ্ছে তাদের জন্য, যারা আমার কাছে ক্লাস করতে চায়।

  প্রথমেই বলে রাখি , প্রথাগত কাউন্সিলিং আমি করি না। কিছুটা অতীন্দ্রিয় ব্যাপার থাকে। এটা কোনো বড় ব্যাপার নয়। অনুমান করার ক্ষমতা , কুকুর থেকে পিঁপড়ে প্রত্যেকের কম বেশি থাকে। বিপদের গন্ধ পাওয়ার ইন্দ্রিয় আদিম যুগে মানুষের মধ্যে ছিল। যন্ত্র যতদিন কব্জা না করে ফেলেছে, মানুষের অনুমান ক্ষমতা ছিল প্রখর। পশু ইন্দ্রিয় আজো সজাগ। কারণ ? তাদের যন্ত্র নেই। মানুষের ইন্দ্রিয় লুপ্ত হয়নি। শুধু ক্ষমতা কমে গেছে। 

   আমার থেরাপির মূল কথা হল , নষ্ট হয়ে যাওয়া ইতিবাচক অনুভূতি ফিরিয়ে নিয়ে আনা। এটা সময় সাপেক্ষ। অনেকেই সেটা বুঝতে চায় না। চটজলদি সমাধান চায়। বিনাওষুধে , শুধুমাত্র নিজের সাহায্যে নিজেকে ভালো রাখতে পারার নিয়ম জেনে গেলে জীবন আসে ম্যাজিক। দুঃখ কব্জা করে ফেলতে পারলে দুঃখ হয়ে পড়ে অক্ষম। এটা এখন অনেকেই বুঝে গেছেন। অনেকেই ভালো আছেন। তাদের শুভেচ্ছা নিরন্তর ঝরে পড়ছে , এ আমার পরম সৌভাগ্য। 

 এই যে অনুমান করার ক্ষমতা( মোটেই বিরল নয়) অথবা কাউকে দেখে কিছু আঁচ করার, এমনকি তার বিপদ আসছে না সৌভাগ্য সেটাও বুঝে যাওয়া... এগুলো শেখানো মুশকিল। কেউ কেউ ভাবেন বুঝি, মন্ত্র তন্ত্র অং বং টং করতে হয়। কেন এমন ভাবনা আসে? মন্ত্র শক্তির ক্ষমতা আলাদা। সে ছাড়াও ত হয়। উদাহরণ দিয়ে বলছি, যেমন দৌড়তে সকলে পারে, কিন্তু দৌড় বীর হতে গেলে অভ্যাস জরুরি। অভ্যাস যোগ। ।প্রতিদিন বাড়িয়ে তুলতে হবে নিজের এনার্জি। এনার্জি বাড়ানো কি মুখের কথা? শারীরিক ফিটনেস তৈরি করতে প্রচুর পরিশ্রম। তেমনি , মন যাতে তীক্ষ্ণ হয়, বোধ যাতে সঠিক হয়, শান্ত থাকতে হয় তার জন্য। মৌন থাকতে হয়। সঙ্গী নির্বাচন ঠিক মত করতে হয়। সঙ্গী যেন বিরক্ত না করে। অযথা সময় নষ্ট না করে। আর যদি করেও, যদি সঙ্গী তেমন হয়েই যায়, খুব বেশি সময় তাকে না দেওয়াই ভালো। ভুল সঙ্গ দুঃখ তৈরির বড় কারণ। 

 নিয়মিত দর্শন আলোচনা করতে হয়। গভীরে পৌঁছতে হয় প্রতিদিন। প্রতিদিন। একদিন ও ফাঁকি দিলে চলবে না। দর্শন হল আলো। প্রথম প্রথম কঠিন মনে হয়, ধীরে ধীরে আত্মস্থ হয়ে যায়। কত কি ই তো আলোচনা করি কিন্তু হারিয়ে যাওয়া কিছু বোধ নিয়ে আলোচনা করি না। কেন? কেউ কেউ আবার দর্শন বলতে কিছু সংস্কৃত শ্লোক আউড়ে দেন 😀 আউড়ে দেন মানে নিজেই বোঝেন না। আমি বলি, কথামৃত পড়ো। সব আলো লুকিয়ে আছে ওখানে।❤️

     কাউন্সিলিং শেখানো যায়। কিন্তু অতীন্দ্রিয় বোধ শেখানোর বিষয় নয়। কেউ কেউ ভাবে😀 এইতো জয়তী দির মত ফোনে ভালো ভালো কথা বললেই তো হয়ে গেল। ওটাই তো জয়তীদি করে। 

ভালো শব্দের কোনো বিকল্প নেই, একথা সত্যি। বাতাবরণে ম্যাজিক তৈরি করতে জানে শব্দ। রাজনৈতিক নেতা কি করে? ধর্ম গুরু কি করে? শব্দের খেলাই তো করেন। কিন্তু, শব্দ দিয়ে মনের পরিস্থিতি বদল করতে চাইলে তার মধ্যে কিছু বস্তু থাকতে হবে। টেলিফোনে কথা বললেও মন পড়ে নিতে হবে। বুঝে নিতে হবে, অপর প্রান্তের মানুষের না বলা উদ্বেগ। আপাত স্বাভাবিক কথার মধ্যে হয়ত লুকিয়ে আছে বড় কোনো অসুখের ইঙ্গিত। ধরে ফেলতে হবে। এটা নিরলস চর্চার কাজ। অসুবিধার কি আছে?😀 কঠিন তো নয়। যদি রান্না করতে পারি যদি রূপচর্চা করতে পারি তবে নিজেকে নিয়ে বসতেও পারি। 

  মূল কথা হল, সময় সকলের জন্য আছে কেবল নিজের জন্য নেই! একটা দিন অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা। আঠারো ঘণ্টা এনার্জি দিচ্ছি, অন্য লোক প্রশংসা করল না নিন্দে... এই ভেবে। 

 নিন্দে যে করার সে করবেই। সোনারথালায় খেতে দিয়ে,নিজেকে নিঃশেষ করে দিলেও তারিফ জুটবে না। তারচেয়ে একটু তাকাই আমার দিকে। ক্ষয়ে যাওয়া মনের দিকে। লুকিয়ে থাকা শক্তি বাড়িয়ে তুলি। তবে, হয়ে উঠব নিজের ভরসা সেইসঙ্গে অপরের বন্ধু। মনের বন্ধু।

চিত্রঋণ - মলয় দত্ত

শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১

জয়তী রায় (মুনিয়া)

                                                               




   আজকের আলোচনা করব মানবমন নিয়ে। এখন ২০২১ সাল। চলছে মহামারির তাণ্ডব। কি হবে তার মধ্যে এই মনের কচকচি কেন? 

প্রয়োজন বইকি! মন ঠিক না থাকলে শরীর নিয়ে লড়াই করা মুশকিল। মরণাপন্ন রুগী উঠে দাঁড়াতে পারে  মনের জোর থাকলে। আর শুধু রোগের কথা ই বা কেন? প্রতিদিনের জীবন চর্যায়  মনের ভুমিকা স্বীকার করতেই হবে। বিবাহিত জীবনে মন বড় ভুমিকা পালন করে। দাম্পত্য পুরনো হয়ে গেলেই পরকীয়া এসে হানা দেয়। কেন? মন কেন চায় অখণ্ড স্বাধীনতা? এটা কোনো দোষ নয়। ধর্ষণ বিদেশে এত বেশি হয় না। কারণ, মনের কোন জায়গা থেকে এইরকম ভযঙ্কর ইচ্ছের উত্পত্তি সে সম্বন্ধে ছোট থেকে বাচ্চাদের সচেতন করে দেওয়া হয়। এই দেশে বাচ্চারা যত মায়ের বেবি হয়ে থাকবে ততই ভারতীয় মা খুশি। শিশু কোনো অবোধ প্রাণী নয়। মাত্র তিন মাস থেকে যৌন আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে তার শরীরে। অথচ, মায়েরা ভাবে, শিশু অবোধ। আধো আলো  আধো অন্ধকারে থাকতে থাকতে একমাত্র sex  নিয়ে সারাজীবন কৌতূহলী থেকে যায়। 

মন খারাপে ভোগে। লেখাপড়া, সম্পর্ক সবকিছুতে ছাপ পড়ে। 

********



জন্ম নিয়েই কেঁদে ওঠে শিশু। 

  আগামী দিনের লড়াইয়ের কথা ভেবে হয়ত মন খারাপ হয়। পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হতে গিয়ে না জানি কত  লড়াই করতে হবে? শুধু  বাইরের জগতের সঙ্গে তো নয়, কঠিন লড়াই হল নিজের সঙ্গে। ভিতরের আমি আর বাইরের আমি র নিরন্তর সংগ্রাম শুরু হয়ে যায়।   তাই কেঁদে ওঠে শিশু। পারবে তো টিঁকে থাকতে? না কি , পরাজিত হতে হবে নিজের কাছে? নিজের অ- দেখা প্রবৃত্তির কাছে? 

    

***

  প্রবৃত্তি( Instinct) জন্মলগ্ন থেকে বহন করে আনতে বাধ্য হয় মানুষ। এই ব্যপারে তার কোনো  পছন্দ- অপছন্দ কাজ করেনা। বিষয়টিতে প্রথম আলোক পাত করেন বিখ্যাত মনো বিজ্ঞানী  সিগম্যানট ফ্রয়েড। এ একেবারে ধামকাধার আবিষ্কার। উপর দেখে নয় বিচার করতে হবে ভিতর দেখে! ভিতর মন। সেখান থেকে আরো আরো খুঁড়ে খুঁড়ে একেবারে শেষ পর্যন্ত। সেই শেষের ঘরে লুকিয়ে আছে যে মন,সে নাকি পশুর মত। কিম্বা তার চাইতেও আগ্রাসী। হিংস্র। লালসা পূর্ণ। 

ফ্রয়েড স্যারের এমন চমকপ্রদ আবিষ্কারের কথা ভালো করে জেনে চোখ কপালে উঠে গেল। মানুষ জন্ম হতেই হিংস্র? তবে সমাজ চলছে কি করে? 

   একটু গুছিয়ে বলা যাক। 

ফ্রয়েড স্যার বললেন যে, যাবতীয় মানসিক চিন্তা ভাবনা তিনটি পথ ধরে এগিয়ে চলে। ইড, ইগো , সুপার - ইগো। 

*****

ইড , মানুষের অচেতন মন। শিশুর মত, পশুর মত...উচিত অনুচিত বোধ থাকে না। খিদে পেলে খাবার, রমণ ইচ্ছে জাগল তো রমণ...আনন্দ চাই।  যেভাবে হোক। চাই। চাই আর চাই। ইড হল মানব মনের মৌলিক স্তর। যেখানে মানব মনের সকল শক্তি নিহিত থাকে।  ইড মূলত মানুষের জৈবিক দিক। মানব মনের স্বভাবজ চাহিদা পূরণ করে ইড। মন যা চায় তাই করো। এর কোনো মানবিক দিক নেই। পুরোটাই লোভ লালসা কাম চিন্তায় ভরপুর। ইড এমন তীব্র ভাবে মানুষকে প্ররোচিত  করে যে, সে প্ররোচনায়  মানুষ যে কোনো অসামাজিক অপরাধ থেকে শুরু করে খুন ধর্ষণ অবধি করতে দ্বিধা বোধ করে না। এক কথায় ইড হচ্ছে আমাদের ভিতরের সুপ্ত পশু। ফ্রয়েড স্যার বলেছেন যে, এই প্রবৃত্তি দখল করে আছে মানব চরিত্রের বেশির ভাগ জায়গা। 

      পাশবিক প্রবৃত্তির ভূমিকা মানুষের জীবনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ সেটা বোঝা গেল। 

   সুপার ইগোর কথায় আসি একটু।  এ হল আধা অচেতন বা অবচেতন মন।  সুপার ইগো হল মানুষের বিবেক। ইড যখন জৈবিক কামনা পূরণ করতে উদ্দীপ্ত হয়, সুপার ইগো একে বাধা দেয়। সুপার ইগো মানুষ কে সব সময় মানবিক দুর্বলতার উর্ধে উঠে ভালো কাজ করার জন্য মানুষকে উদ্দীপ্ত করে। অর্থাৎ, পশু প্রবৃত্তির সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে এর অবস্থান। একজন অতি খারাপ তো অপরজন অতি ভালো। এই দুই অতি অবস্থার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে ইগো বা চেতন মন। কি রকম?

যেমন, ইড বলবে পর্নোমুভি দেখো। দারুণ লাগবে। 

সুপার ইগো ওমনি  লাঠি উঁচিয়ে বলবে, খবর্দার। এটা নৈতিকতা বিরোধী। অতএব দেখা যাবে না। 

ইগো বলবে, পর্ণমুভি দেখো। তবে লুকিয়ে। কেউ যেন জানতে না পারে। 

ইগোর কাজের আরো একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন, ফাঁকা রাস্তা আর বাইক সহ কিশোর। এক্ষেত্রে, ইড প্রবৃত্তি উস্কানি দিয়ে বলবে তীব্র বেগে চালিয়ে যাও। যা হয় দেখা যাবে। হেসে নাও দুদিন বই তো নয়।  ফুর্তি করো। মজা লোটো। বাতাসের বেগে বাইক চলাও। সঙ্গে সঙ্গে তার অবচেতন মন বা সুপার ইগো বাধা দেবে। বহু অনিষ্ট হতে পারে সেটা বলবে। এই দোলাচলের মাঝে এসে পড়বে ইগো অর্থাৎ সচেতন সামাজিক মন।  মাঝামাঝি স্পিডে চালাতে নির্দেশ দেবে। 

*****

   আমাদের যখন তিনবছর বয়স তখন থেকে উচিত- অনুচিত বোধ তৈরি হয়। শিখে যাই অনুভূতি চেপে রাখার কৌশল। মন আর মুখ আলাদা করে ফেলতে পারি অনায়াসে। রেসের মাঠে গেলে লোকের নিন্দে, তবে লুকিয়ে যাওয়া যায়। পরকীয়া করা উচিৎ নয়। গোপনে করলে কে জানবে? ইগো সর্বক্ষণ এই ভূমিকা  পালন করে যাচ্ছে। মানুষের আদিম প্রবৃত্তির সঙ্গে সামাজিক প্রবৃত্তির এমন একটা সহাবস্থান কাজ করছে। চেতন মন লুকিয়ে লুকিয়ে সেই কাজটাই করছে, যেটা গোপন মন করতে চায়। প্রকাশ্যে না হলে, চিন্তায় করছে। স্বপ্নের মধ্যে আসছে। অচেতন মন ঘুমের মধ্যেও জাগ্রত থাকে। তাই, সারাদিন যেমন যেমন চিন্তা করি ,অচেতন মনের মধ্যে জমা হতে থাকে সব। স্বপ্নে বহুসময় প্রতিফলিত হয় সেগুলো।

  *****

     কথায় বলে, প্রবৃত্তির হাতে অসহায় মানুষ। নির্মম সত্য। আজকের সভ্য মানুষ সৃষ্ট হয়েছে সমাজের প্রয়োজনে। প্রকৃতপক্ষে সে তো অরণ্যচারী স্বাধীন। জবাবদিহির কোনো প্রয়োজন ছিল না তার। শরীরের ক্ষুধা উদরের ক্ষুধা মেটানো ছিল জন্মগত অধিকার। নারী -পুরুষ জীবনে একজন হতে হবে, এমন মাথার দিব্যি ছিল না। অথবা আইনগত সম্পর্কের বাঁধনে মোটেই  বাঁধা ছিল না সে। যুগের সঙ্গে পরিবর্তন হল পৃথিবীর। পরিবর্তন হল না মানুষের গোপন মনের। সেখানে সে রয়ে গেল স্বেচ্ছাচারী  আদিম।   স্বপ্নদোষ  দেখা যায় বেশিরভাগ মানুষের। নিরীহ ভালমানুষ ব্যক্তি বহন করে চলে অবদমিত কাম। পতিব্রতা বৌটি  মনে মনে পরকীয়া করে। নিষ্ঠাবতী বিধবা  কান পেতে শোনে রসের গল্প। ধর্ষণের ভিডিও বিশেষ করে শিশু ধর্ষণের ভিডিও তারিয়ে তারিয়ে দেখে অনেকেই। আহা উহু করার মধ্যে দিয়ে সুখানুভূতি  চলকে পড়ে। খুন জখম দাঙ্গার খবর অনেক বেশি আগ্রহ জাগায় সাধারণ খবরের চাইতে। সরাসরি অপরাধ করছে না কিন্তু অপরাধ ঈর্ষা হিংসার ঘটনা শুনে তীব্র  আনন্দ পাওয়া নিজের পাশবিক প্রবৃত্তির  কাছে আত্মসমর্পণ ছাড়া  আর কিছু নয়। 

   

  ****

   ফ্রয়েড স্যার অনেক উপকার করে দিয়েছেন আমাদের। তার কাছে  কৃতজ্ঞ থেকেও বলতে পারি এই পাশবিক মনের আক্রমণ সম্বন্ধে প্রাচীন শাস্ত্র ভালরকম চর্চা করে নানান উপদেশ দিয়ে গেছে। মন চাইছে অথচ পাচ্ছে না...চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যের ব্যবধান থেকে মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় হতাশার।  দিনের পর দিন নিজেকে দোষ দিতে দিতে একসময় আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। পীড়িত মন দুর্বল মন বহনকারী মানুষকে আত্মহনন থেকে সরে এসে আত্মোপলব্ধি করার পথ দেখিয়েছেনভারতীয় ঋষি -মুনিগণ। 

   মানব চরিত্র সম্পর্কে প্রাচীন যুগের ঋষিকুল মানব চরিত্রের নাড়ি  গলি খুঁজে  ভালো রকম পর্যালোচনা করেছিলেন। প্রবৃত্তির হাতে বন্দী মানব মুক্তি কি করে পাবে? সুপার ইগো ( সুপার ego) অর্থাৎ মনের যে অংশে নীতিবোধ, মানবিকবোধ, নৈতিক চেতনা সুপ্ত থাকে--তাকে জাগিয়ে তুলতে হবে।

ভিতর হতে ইচ্ছে জেগে না উঠলে  পশুপ্রবৃত্তি রোধ করা যাবে না। নৈতিক বোধ জাগরণের জন্য নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই জরুরি। প্রকৃষ্টতম  উদাহরণ মহর্ষি বাল্মিকী। দস্যু রত্নাকর থেকে বাল্মিকী। রাম নাম করে একমনে তপস্যা বস্তুত এক্ধরণের কাউনসিলিং।   রত্নাকর অবস্থায় কিন্তু মানুষ হত্যা করতে হাত কাঁপেনি। অনুশোচনা হয় নি। স্বাভাবিক ভাবেই  নিয়েছিলেন দস্যুজীবন। তপস্যা শেষে ভিতর ঘরে জ্বলে উঠল আলো। স্পষ্ট অনুভব করলেন প্রাণ কত মহিমাময়। সামান্য পাখি হত্যা দেখে ঝরে পড়ল অশ্রু। উচ্চারিত হল কবিতা। এখানে সম্পূর্ণ ভাবে পরাজিত ইড প্রবৃত্তি। নিজের মনের সঙ্গে বসে ধ্যান করে ধীরে ধীরে উপলব্ধি করা যায় মানব জীবনের  উদ্দেশ্য রিপু বা প্রবৃত্তির হাতে হারিয়ে যাওয়া নয়। বরং, রিপুকে মহৎ কাজে নিয়োজিত করে জীবন সুন্দর করে তোলা। 

*****

  মানব মনের, অন্ধকার পাশবিক দিক অনেক বেশি শক্তিশালী। তার  অভিঘাত প্রবল প্রচন্ড। সুনামির মত। ভাবনার কথা এই যে, কতখানি পশু আমরা হয়ে উঠতে পারি, সে সম্বন্ধে নিজেরাই জানি না। এমন শক্তিশালী পিশাচের সঙ্গে লড়াই সহজ নয়। নৈতিক বোধ দ্বারা পিশাচ কে হত্যা করতে হলে, কঠিন জীবনচর্যা প্রয়োজন। নিজের আয়নায় নিজেকে দেখে ধুলো ময়লা সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। 

পিশাচ মনের কাজ হল তাৎক্ষণিক খুশির দিকে মনকে চালিত করা। সাধারণ মানুষের ভালো লাগে সেটাই। মদ্যপান, অকারণ হুল্লোড়,ঈর্ষা , আড্ডা , পরনিন্দা, ধর্ষণ, ইভ টিজিং উলঙ্গ শরীর দেখা ...আরো নানা কাজে পিশাচমন উৎসাহ দিতে থাকে। তাৎক্ষণিক খুশির জাল রঙিন সুন্দর। 

ইড ধীরে ধীরে অধিকার করে নেয় মানবমন। প্রবৃত্তির দাস বানিয়ে হরণ করে শান্তি। ভুরি ভুরি ঘটনা আছে উদাহরণ হিসেবে। 

এই পিশাচ মনের ভিতর নিহিত আছে প্রচন্ড শক্তি। ভেঙে যেমন ফেলতে পারে, গড়েও তুলতে পারে। রত্নাকর থেকে বাল্মিকী হতে গেলে অলৌকিক উপায় নয়, চাই নিরলস সাধনা। তবে, সেই প্রবৃত্তি ঘুরে যাবে সুন্দর দিকে, সৃষ্টি  করবে অতুলনীয় জীবন। আমাদের ভিতর ঘরের মন যেন উত্তাল নদী। বাঁধ দিয়ে উৎপদিত হবে বিদ্যুত। দূর করবে অন্ধকার। না হলে? ভাসিয়ে নিয়ে যাবে মৃত্যুর দিকে। মৃত্যু অর্থ শারীরিক কেবল নয়। মানসিক সুস্থতা  না থাকাও মৃত্যুর সমান। 

******

গভীর অজানা মন লাগাম ছাড়া  ঘোড়ার মত। তাকে  লাগাম পরিয়ে সঠিক পথে চালিত করে ফেলতে হবে। তাৎক্ষণিক সুখের জন্য বহু ক্ষতি করে দিতে পারে বেয়াড়া মন। বহু সমস্যা, দুশ্চিন্তা দুঃ স্বপ্ন ক্রমাগত বাড়তে থাকে। শরীর খারাপ হতে থাকে। অচেতন মন সাংঘাতিক শক্তিশালী একথা জেনেছি। এই শক্তি বা এনার্জি কিন্তু নেতিবাচক। ক্রমাগত নেতিবাচক ইঙ্গিত করে পথ চ্যুতি  ঘটতে থাকে। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ কালে অর্জুনের অচেতন মনে এইরকম নেতিবাচক চিন্তার ঝড় উঠেছিল। ধৈর্য ধরে বুঝিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। ইতিবাচক মনোভাব  অর্জন করতে হলে  শ্রীমদ্ভগবত গীতা পড়া জরুরি।  নিরন্তর চর্চার দ্বারা এই নেতিবাচক মন যদি ইতিবাচক দিকে পরিণত হয়, তবে মানুষ হয়ে উঠবে ঈশ্বর। বহুগুণ বেড়ে যাবে জীবনী শক্তি।

*****

মানুষ ভালো - মন্দের ফারাক করতে পারবে। 

অচেতন মন( Id) সচেতন মন( ego) অবচেতন মন( super ego) --তিনটি এক সুতোয় গেঁথে ফেলে মানুষ হয়ে উঠুক নিজভূমে  রাজা। 







      

রবিবার, ৩০ মে, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                                                    




অতীত, একটু কম কথা বলো।



        মুডসুইং নিয়ে কথা বলছিলাম। মুড অথবা আবেগের ওঠা পড়া অনেকটা নির্ভর করে অতীত চারণার মধ্যে। অতীতের সুখময় দিন অথবা দুঃখের স্মৃতি মানুষকে নিঃস্ব করে তোলে। কত সুখে ছিলাম অথবা কত দুঃখে ছিলাম... এই বোধ থেকে আসে হতাশা। মন খারাপ। কিটকিট। ভালো না লাগার প্রকোপ বাড়তে থাকে। 

 আজকের আলোচনার বিষয় 

  অতীত। 

     ❤️অতীত নিয়ে আমার বাবা খুব  সতর্ক ছিলেন। মানসিক ভোগান্তির একটা মূল কারণ পিছন ফিরে দেখা সে বিষয়ে বারবার বলতেন। তখন আমার দশ / এগার বছর বয়স। বাবা একদিন নিয়ে গেলেন বাগানে। মাটিতে দুটো  গর্ত খুঁড়ে , একটিতে রাখলেন  ছোলাবীজ অপরটিতে তরকারির খোসা ডিমের খোলা ইত্যাদি। দিনচারেক পরে বললেন: চল, অতীতের ফলাফল দেখে আসি। যে গর্তে বীজ ছিল, তার উপরে ছোট ছোট সবুজ পাতা আর যেখানে আবর্জনা ছিল সেখানে দুর্গন্ধ। অমূল্য একটা শিক্ষা। অতীত থাকবে। কিন্তু, দুর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে এমন কিছু পরিহার করাই ভালো। আজকে বহুমানুষ অতীতের করাল থাবার শিকার। অদ্ভুত ভাবে, মানুষ সুন্দরের চাইতে মনে রাখে খারাপ স্মৃতিগুলি।   যার ফলে মন খারাপ হয়। বরং, খারাপ স্মৃতি গুলি থেকে কিছু শিখে নেওয়া ভালো। সৃষ্টির সবুজ পাতা দুলবে। মেঘলা দুপুরে অতীত নিয়ে ভেবে কষ্ট না পেয়ে একটা বর্তমানের গান শুনে নিও। 

🔥🔥🔥বাবার শিক্ষা কতভাবে জীবনে কাজে লেগেছে, বলার মত না। মহিলা পুরুষ উভয়ের বিবাহের আগে এবং পরের জীবন সম্পূর্ন আলাদা। একেবারে অন্যরকম। সবদিক দিয়ে। নানা রকম ঝামেলা দায় দায়িত্ব ঘিরে ধরে চারিদিক থেকে। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরো ভয়ানক হয়েছিল বিদেশ চলে যাওয়ায়। এমন কিছু মানুষের সঙ্গে থাকতেই হত, যারা ভারতীয় কিন্তু বাঙালী বিদ্বেষী। আমি ছিলাম একমাত্র বঙ্গললনা। এ যেন ক্ষুধার্ত নেকড়ের সামনে সুস্বাদু খরগোশ। তাদের টাইম পাস ছিলাম আমি। এমন ব্যবস্থা তারা করেছিল, যাতে আমি ব্যাংকক ছেড়ে যেতে বাধ্য হই। বিজনবাবু সারাক্ষণ ট্রাভেল করছেন। সেইসুযোগে  দিনরাত্রি অপমান। বাচ্চাগুলোকে নানা ভাবে উৎপীড়ন। সেই সময় মনের কানে ভেসে এলো বাবার উপদেশ: রাস্তার নোংরা ঘরে আনবি না। রাস্তার ধাক্কা ওখানেই ফেলে রেখে, ঘরে বসে আরাম কর। তুই পরম সুখী। রোজ নিজেকে ভালোবেসে যা। 

ছোট্ট কথা। বাইরের পরিস্থিতি যেন কোনো ভাবেই মনের স্থিতি নষ্ট না করে। অদ্ভুত ম্যাজিক ঘটল এর পরে। যত অপমান করে ততো আমি উজ্জ্বল হই। বাচ্চারা দারুণ রেজাল্ট করে। আমার ঝকঝক চুল। চকচক ত্বক। স্বামী স্ত্রী বেড়াতে যাই। ওরা হার মেনে গেল। 

  বাবা বলতেন: আমার মৃত্যুতে শোক করবে না। চেষ্টা করবে যে কাজে আমি খুশি হই, তাই করতে। 

সে কাজ হল, নিজের মনকে লাঠি বানাও। অবলম্বন করো। বাইরের আঘাতের সাধ্য কি, তোমাকে কষ্ট দেবে? 

এটাও অতীত চারণা বইকি! কিন্তু , সৃষ্টির সবুজপাতা দুলে ওঠে এতে। 

   অচেতনমন অনেক বেশি শক্তিশালী। অনেক বেশি জমিয়ে রাখতে পারে। অবচেতন মনে কোনো আইডিয়া ঢুকে গেলে , তা আমাদের সচেতন চিন্তাকে প্রভাবিত করে। অতীত বহু সময় ভয় দেখায়। আত্ম বিশ্বাস নষ্ট করতে উদ্যত হয়। 

সেজন্যে , অতীত থাকুক। কিন্তু তাকে বহন করতে হবে না। বর্জন নয়। বহন নয়। অতীত হোক একটা ঘটনা মাত্র। ক্যালেন্ডারের পুরনো পাতার মত। দরকার না হলে ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া যেতেই পারে। 

 জীবন হল নৌকা। মন হল মাঝি। বিপদ সঙ্কুল নদীতে জীবন নৌকা সুন্দর করে বাইতে পারে দক্ষ মাঝি। যতই ঝড় আসুক, তুফান আসুক নাও নিয়ে মাঝি লড়ে যাবে শেষ পযর্ন্ত। কিন্তু অনভিজ্ঞ মাঝি? সে পারবে তীরে পৌঁছতে? লক্ষ্য স্থানে পৌঁছে যেতে ? পারবে না। তখন দোষ দিতে থাকবে পারিপার্শ্বিক খারাপ আবহাওয়ার। মন মাঝি  নিজেই দুর্বল, তৈরি হয়ে হাল ধরতে হয়, সে কথা মনে থাকে না। 

  আজ বাবার কথা মনে করছি। তিনি যে দর্শনের কথা  বলতেন, এখন বুঝি, সেগুলি নতুন কিছু না। আমরা সবাই সব জানি। শুধু মেনে চলি না। 

ধনী কে? এক সুন্দর মনের অধিকারী হল প্রকৃত ধনী।



রবিবার, ২৩ মে, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                                                      





 আজকের আলোচনা করব মানবমন নিয়ে। এখন 2021 সাল। চলছে মহামারির তাণ্ডব। কি হবে তার মধ্যে এই মনের কচকচি কেন? 

প্রয়োজন বইকি! মন ঠিক না থাকলে শরীর নিয়ে লড়াই করা মুশকিল। মরণাপন্ন রুগী উঠে দাঁড়াতে পারে  মনের জোর থাকলে। আর শুধু রোগের কথা ই বা কেন? প্রতিদিনের জীবন চর্যায়  মনের ভুমিকা স্বীকার করতেই হবে। বিবাহিত জীবনে মন বড় ভুমিকা পালন করে। দাম্পত্য পুরনো হয়ে গেলেই পরকীয়া এসে হানা দেয়। কেন? মন কেন চায় অখণ্ড স্বাধীনতা? এটা কোনো দোষ নয়। ধর্ষণ বিদেশে এত বেশি হয় না। কারণ, মনের কোন জায়গা থেকে এইরকম ভযঙ্কর ইচ্ছের উত্পত্তি সে সম্বন্ধে ছোট থেকে বাচ্চাদের সচেতন করে দেওয়া হয়। এই দেশে বাচ্চারা যত মায়ের বেবি হয়ে থাকবে ততই ভারতীয় মা খুশি। শিশু কোনো অবোধ প্রাণী নয়। মাত্র তিন মাস থেকে যৌন আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে তার শরীরে। অথচ, মায়েরা ভাবে, শিশু অবোধ। আধো আলো  আধো অন্ধকারে থাকতে থাকতে একমাত্র sex  নিয়ে সারাজীবন কৌতূহলী থেকে যায়। 

মন খারাপে ভোগে। লেখাপড়া, সম্পর্ক সবকিছুতে ছাপ পড়ে। 

****



জন্ম নিয়েই কেঁদে ওঠে শিশু। 

  আগামী দিনের লড়াইয়ের কথা ভেবে হয়ত মন খারাপ হয়। পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হতে গিয়ে না জানি কত  লড়াই করতে হবে? শুধু  বাইরের জগতের সঙ্গে তো নয়, কঠিন লড়াই হল নিজের সঙ্গে। ভিতরের আমি আর বাইরের আমি র নিরন্তর সংগ্রাম শুরু হয়ে যায়।   তাই কেঁদে ওঠে শিশু। পারবে তো টিঁকে থাকতে? না কি , পরাজিত হতে হবে নিজের কাছে? নিজের অ- দেখা প্রবৃত্তির কাছে? 

    

*

  প্রবৃত্তি( Instinct) জন্মলগ্ন থেকে বহন করে আনতে বাধ্য হয় মানুষ। এই ব্যপারে তার কোনো  পছন্দ- অপছন্দ কাজ করেনা। বিষয়টিতে প্রথম আলোক পাত করেন বিখ্যাত মনো বিজ্ঞানী  সিগম্যানট ফ্রয়েড। এ একেবারে ধামকাধার আবিষ্কার। উপর দেখে নয় বিচার করতে হবে ভিতর দেখে! ভিতর মন। সেখান থেকে আরো আরো খুঁড়ে খুঁড়ে একেবারে শেষ পর্যন্ত। সেই শেষের ঘরে লুকিয়ে আছে যে মন,সে নাকি পশুর মত। কিম্বা তার চাইতেও আগ্রাসী। হিংস্র। লালসা পূর্ণ। 

ফ্রয়েড স্যারের এমন চমকপ্রদ আবিষ্কারের কথা ভালো করে জেনে চোখ কপালে উঠে গেল। মানুষ জন্ম হতেই হিংস্র? তবে সমাজ চলছে কি করে? 

   একটু গুছিয়ে বলা যাক। 

ফ্রয়েড স্যার বললেন যে, যাবতীয় মানসিক চিন্তা ভাবনা তিনটি পথ ধরে এগিয়ে চলে। ইড, ইগো , সুপার - ইগো। 

***

ইড , মানুষের অচেতন মন। শিশুর মত, পশুর মত...উচিত অনুচিত বোধ থাকে না। খিদে পেলে খাবার, রমণ ইচ্ছে জাগল তো রমণ...আনন্দ চাই।  যেভাবে হোক। চাই। চাই আর চাই। ইড হল মানব মনের মৌলিক স্তর। যেখানে মানব মনের সকল শক্তি নিহিত থাকে।  ইড মূলত মানুষের জৈবিক দিক। মানব মনের স্বভাবজ চাহিদা পূরণ করে ইড। মন যা চায় তাই করো। এর কোনো মানবিক দিক নেই। পুরোটাই লোভ লালসা কাম চিন্তায় ভরপুর। ইড এমন তীব্র ভাবে মানুষকে প্ররোচিত  করে যে, সে প্ররোচনায়  মানুষ যে কোনো অসামাজিক অপরাধ থেকে শুরু করে খুন ধর্ষণ অবধি করতে দ্বিধা বোধ করে না। এক কথায় ইড হচ্ছে আমাদের ভিতরের সুপ্ত পশু। ফ্রয়েড স্যার বলেছেন যে, এই প্রবৃত্তি দখল করে আছে মানব চরিত্রের বেশির ভাগ জায়গা। 

      পাশবিক প্রবৃত্তির ভূমিকা মানুষের জীবনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ সেটা বোঝা গেল। 

   সুপার ইগোর কথায় আসি একটু।  এ হল আধা অচেতন বা অবচেতন মন।  সুপার ইগো হল মানুষের বিবেক। ইড যখন জৈবিক কামনা পূরণ করতে উদ্দীপ্ত হয়, সুপার ইগো একে বাধা দেয়। সুপার ইগো মানুষ কে সব সময় মানবিক দুর্বলতার উর্ধে উঠে ভালো কাজ করার জন্য মানুষকে উদ্দীপ্ত করে। অর্থাৎ, পশু প্রবৃত্তির সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে এর অবস্থান। একজন অতি খারাপ তো অপরজন অতি ভালো। এই দুই অতি অবস্থার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে ইগো বা চেতন মন। কি রকম?

যেমন, ইড বলবে পর্নোমুভি দেখো। দারুণ লাগবে। 

সুপার ইগো ওমনি  লাঠি উঁচিয়ে বলবে, খবর্দার। এটা নৈতিকতা বিরোধী। অতএব দেখা যাবে না। 

ইগো বলবে, পর্ণমুভি দেখো। তবে লুকিয়ে। কেউ যেন জানতে না পারে। 

ইগোর কাজের আরো একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন, ফাঁকা রাস্তা আর বাইক সহ কিশোর। এক্ষেত্রে, ইড প্রবৃত্তি উস্কানি দিয়ে বলবে তীব্র বেগে চালিয়ে যাও। যা হয় দেখা যাবে। হেসে নাও দুদিন বই তো নয়।  ফুর্তি করো। মজা লোটো। বাতাসের বেগে বাইক চলাও। সঙ্গে সঙ্গে তার অবচেতন মন বা সুপার ইগো বাধা দেবে। বহু অনিষ্ট হতে পারে সেটা বলবে। এই দোলাচলের মাঝে এসে পড়বে ইগো অর্থাৎ সচেতন সামাজিক মন।  মাঝামাঝি স্পিডে চালাতে নির্দেশ দেবে। 

***

   আমাদের যখন তিনবছর বয়স তখন থেকে উচিত- অনুচিত বোধ তৈরি হয়। শিখে যাই অনুভূতি চেপে রাখার কৌশল। মন আর মুখ আলাদা করে ফেলতে পারি অনায়াসে। রেসের মাঠে গেলে লোকের নিন্দে, তবে লুকিয়ে যাওয়া যায়। পরকীয়া করা উচিৎ নয়। গোপনে করলে কে জানবে? ইগো সর্বক্ষণ এই ভূমিকা  পালন করে যাচ্ছে। মানুষের আদিম প্রবৃত্তির সঙ্গে সামাজিক প্রবৃত্তির এমন একটা সহাবস্থান কাজ করছে। চেতন মন লুকিয়ে লুকিয়ে সেই কাজটাই করছে, যেটা গোপন মন করতে চায়। প্রকাশ্যে না হলে, চিন্তায় করছে। স্বপ্নের মধ্যে আসছে। অচেতন মন ঘুমের মধ্যেও জাগ্রত থাকে। তাই, সারাদিন যেমন যেমন চিন্তা করি ,অচেতন মনের মধ্যে জমা হতে থাকে সব। স্বপ্নে বহুসময় প্রতিফলিত হয় সেগুলো।

  ***

     কথায় বলে, প্রবৃত্তির হাতে অসহায় মানুষ। নির্মম সত্য। আজকের সভ্য মানুষ সৃষ্ট হয়েছে সমাজের প্রয়োজনে। প্রকৃতপক্ষে সে তো অরণ্যচারী স্বাধীন। জবাবদিহির কোনো প্রয়োজন ছিল না তার। শরীরের ক্ষুধা উদরের ক্ষুধা মেটানো ছিল জন্মগত অধিকার। নারী -পুরুষ জীবনে একজন হতে হবে, এমন মাথার দিব্যি ছিল না। অথবা আইনগত সম্পর্কের বাঁধনে মোটেই  বাঁধা ছিল না সে। যুগের সঙ্গে পরিবর্তন হল পৃথিবীর। পরিবর্তন হল না মানুষের গোপন মনের। সেখানে সে রয়ে গেল স্বেচ্ছাচারী  আদিম।   স্বপ্নদোষ  দেখা যায় বেশিরভাগ মানুষের। নিরীহ ভালমানুষ ব্যক্তি বহন করে চলে অবদমিত কাম। পতিব্রতা বৌটি  মনে মনে পরকীয়া করে। নিষ্ঠাবতী বিধবা  কান পেতে শোনে রসের গল্প। ধর্ষণের ভিডিও বিশেষ করে শিশু ধর্ষণের ভিডিও তারিয়ে তারিয়ে দেখে অনেকেই। আহা উহু করার মধ্যে দিয়ে সুখানুভূতি  চলকে পড়ে। খুন জখম দাঙ্গার খবর অনেক বেশি আগ্রহ জাগায় সাধারণ খবরের চাইতে। সরাসরি অপরাধ করছে না কিন্তু অপরাধ ঈর্ষা হিংসার ঘটনা শুনে তীব্র  আনন্দ পাওয়া নিজের পাশবিক প্রবৃত্তির  কাছে আত্মসমর্পণ ছাড়া  আর কিছু নয়। 

   

  **

   ফ্রয়েড স্যার অনেক উপকার করে দিয়েছেন আমাদের। তার কাছে  কৃতজ্ঞ থেকেও বলতে পারি এই পাশবিক মনের আক্রমণ সম্বন্ধে প্রাচীন শাস্ত্র ভালরকম চর্চা করে নানান উপদেশ দিয়ে গেছে। মন চাইছে অথচ পাচ্ছে না...চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যের ব্যবধান থেকে মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় হতাশার।  দিনের পর দিন নিজেকে দোষ দিতে দিতে একসময় আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। পীড়িত মন দুর্বল মন বহনকারী মানুষকে আত্মহনন থেকে সরে এসে আত্মোপলব্ধি করার পথ দেখিয়েছেনভারতীয় ঋষি -মুনিগণ। 

   মানব চরিত্র সম্পর্কে প্রাচীন যুগের ঋষিকুল মানব চরিত্রের নাড়ি  গলি খুঁজে  ভালো রকম পর্যালোচনা করেছিলেন। প্রবৃত্তির হাতে বন্দী মানব মুক্তি কি করে পাবে? সুপার ইগো ( সুপার ego) অর্থাৎ মনের যে অংশে নীতিবোধ, মানবিকবোধ, নৈতিক চেতনা সুপ্ত থাকে--তাকে জাগিয়ে তুলতে হবে।

ভিতর হতে ইচ্ছে জেগে না উঠলে  পশুপ্রবৃত্তি রোধ করা যাবে না। নৈতিক বোধ জাগরণের জন্য নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই জরুরি। প্রকৃষ্টতম  উদাহরণ মহর্ষি বাল্মিকী। দস্যু রত্নাকর থেকে বাল্মিকী। রাম নাম করে একমনে তপস্যা বস্তুত এক্ধরণের কাউনসিলিং।   রত্নাকর অবস্থায় কিন্তু মানুষ হত্যা করতে হাত কাঁপেনি। অনুশোচনা হয় নি। স্বাভাবিক ভাবেই  নিয়েছিলেন দস্যুজীবন। তপস্যা শেষে ভিতর ঘরে জ্বলে উঠল আলো। স্পষ্ট অনুভব করলেন প্রাণ কত মহিমাময়। সামান্য পাখি হত্যা দেখে ঝরে পড়ল অশ্রু। উচ্চারিত হল কবিতা। এখানে সম্পূর্ণ ভাবে পরাজিত ইড প্রবৃত্তি। নিজের মনের সঙ্গে বসে ধ্যান করে ধীরে ধীরে উপলব্ধি করা যায় মানব জীবনের  উদ্দেশ্য রিপু বা প্রবৃত্তির হাতে হারিয়ে যাওয়া নয়। বরং, রিপুকে মহৎ কাজে নিয়োজিত করে জীবন সুন্দর করে তোলা। 





***

  মানব মনের, অন্ধকার পাশবিক দিক অনেক বেশি শক্তিশালী। তার  অভিঘাত প্রবল প্রচন্ড। সুনামির মত। ভাবনার কথা এই যে, কতখানি পশু আমরা হয়ে উঠতে পারি, সে সম্বন্ধে নিজেরাই জানি না। এমন শক্তিশালী পিশাচের সঙ্গে লড়াই সহজ নয়। নৈতিক বোধ দ্বারা পিশাচ কে হত্যা করতে হলে, কঠিন জীবনচর্যা প্রয়োজন। নিজের আয়নায় নিজেকে দেখে ধুলো ময়লা সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। 

পিশাচ মনের কাজ হল তাৎক্ষণিক খুশির দিকে মনকে চালিত করা। সাধারণ মানুষের ভালো লাগে সেটাই। মদ্যপান, অকারণ হুল্লোড়,ঈর্ষা , আড্ডা , পরনিন্দা, ধর্ষণ, ইভ টিজিং উলঙ্গ শরীর দেখা ...আরো নানা কাজে পিশাচমন উৎসাহ দিতে থাকে। তাৎক্ষণিক খুশির জাল রঙিন সুন্দর। 

ইড ধীরে ধীরে অধিকার করে নেয় মানবমন। প্রবৃত্তির দাস বানিয়ে হরণ করে শান্তি। ভুরি ভুরি ঘটনা আছে উদাহরণ হিসেবে। 

এই পিশাচ মনের ভিতর নিহিত আছে প্রচন্ড শক্তি। ভেঙে যেমন ফেলতে পারে, গড়েও তুলতে পারে। রত্নাকর থেকে বাল্মিকী হতে গেলে অলৌকিক উপায় নয়, চাই নিরলস সাধনা। তবে, সেই প্রবৃত্তি ঘুরে যাবে সুন্দর দিকে, সৃষ্টি  করবে অতুলনীয় জীবন। আমাদের ভিতর ঘরের মন যেন উত্তাল নদী। বাঁধ দিয়ে উৎপদিত হবে বিদ্যুত। দূর করবে অন্ধকার। না হলে? ভাসিয়ে নিয়ে যাবে মৃত্যুর দিকে। মৃত্যু অর্থ শারীরিক কেবল নয়। মানসিক সুস্থতা  না থাকাও মৃত্যুর সমান। 

**

গভীর অজানা মন লাগাম ছাড়া  ঘোড়ার মত। তাকে  লাগাম পরিয়ে সঠিক পথে চালিত করে ফেলতে হবে। তাৎক্ষণিক সুখের জন্য বহু ক্ষতি করে দিতে পারে বেয়াড়া মন। বহু সমস্যা, দুশ্চিন্তা দুঃ স্বপ্ন ক্রমাগত বাড়তে থাকে। শরীর খারাপ হতে থাকে। অচেতন মন সাংঘাতিক শক্তিশালী একথা জেনেছি। এই শক্তি বা এনার্জি কিন্তু নেতিবাচক। ক্রমাগত নেতিবাচক ইঙ্গিত করে পথ চ্যুতি  ঘটতে থাকে। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ কালে অর্জুনের অচেতন মনে এইরকম নেতিবাচক চিন্তার ঝড় উঠেছিল। ধৈর্য ধরে বুঝিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। ইতিবাচক মনোভাব  অর্জন করতে হলে  শ্রীমদ্ভগবত গীতা পড়া জরুরি।  নিরন্তর চর্চার দ্বারা এই নেতিবাচক মন যদি ইতিবাচক দিকে পরিণত হয়, তবে মানুষ হয়ে উঠবে ঈশ্বর। বহুগুণ বেড়ে যাবে জীবনী শক্তি।

***

মানুষ ভালো - মন্দের ফারাক করতে পারবে। 

অচেতন মন( Id) সচেতন মন( ego) অবচেতন মন( super ego) --তিনটি এক সুতোয় গেঁথে ফেলে মানুষ হয়ে উঠুক নিজভূমে  রাজা। 



রবিবার, ১৬ মে, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                                                          




 শূণ্য এবং আমি

*******

 



   কোভিড সময় সৃষ্টি হচ্ছে শূণ্যতা। Emptiness। জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দিয়ে এই ভাব কমানোর চেষ্টা না করাই ভালো। এই বোধ বাস্তব পরিস্থিতি থেকে সৃষ্ট। 

The experience could have many causes, including shifting hormonal levels, losing a job, or the required physical distancing that comes with a pandemic. 


    কিচ্ছু ভালো লাগছে না। 

 এখন এই কথা খুব স্বাভাবিক। পরিস্থিতি খুব জটিল। চোখের সামনে প্রিয়জনের মৃত্যু, আর কিছু করতে না পারার কারণে এমন শূণ্যতার বোধ গ্রাস করে। সেইসঙ্গে যেটা মারাত্মক ভাবে হয়, সেটা হল নিজের সঙ্গে নিজের যোগাযোগ ক্ষুন্ন হয়।

 এই আমি নই আমি। আমি এমন ছিলাম না। এমন আনস্মার্ট এমন ভীতু ... ছিলাম না। এখন পাল্টে গেছি বদলে গেছি। পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। এমন কিছু নেই যা উৎসাহিত করতে পারে। 

 **

  ভালোথাকা আমাদের হাতে আর নেই। কিন্তু যতক্ষণ নিরাপদ আছি ততক্ষন চেষ্টা করে যেতে হবে। 

১. খুব ছোট্ট করে হলেও একটু এক্সারসাইজ। 

২. কথা বলা ভালো। কিন্তু সারাদিন নেগেটিভ কথা নয়। 

 এইসময় প্রবলভাবে আক্রান্ত হতে হবে নেগেটিভ চিন্তা দিয়ে। আর সেটা খুব স্বাভাবিক। তাহলে কি করব? 

 ওই নেগেটিভ কথা ঘুরিয়ে চেষ্টা করতে হবে কি করলে ভালো থাকা যায়, সে আলোচনা করা। লোক ভালোও হয়ে উঠছে... তাদের সংখ্যা নেহাৎ কম নয়। সেই পজিটিভ দিকগুলো উঠে আসুক আলোচনায়। কোভিড প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে সত্য, কিন্তু বেঁচে থাকতে হবে এটাও সত্য। অন্ধকার গ্রাস করে ফেললে কিন্তু, বেঁচে থেকেও মৃতই থাকব। 

*

     প্রিয়জন হারিয়ে ফেলা, চাকরি নেই। শরীরে ফ্যাট জন্মে যাচ্ছে। ঝগড়া হচ্ছে। 

বাচ্চা বিদেশে কিন্তু যাওয়া যাচ্ছে না। 

হাজার কারণ আছে। 

কি মনে হয় এইসময়? কি হবে বেঁচে থেকে? কি লাভ? কার কাছে মূল্য আছে আমার? কেউ নেই। কেউ নেই। 

  It is not darkness 😭 in my heart ❤️, just emptiness waiting for the sun. 

 আদিগন্ত বিপুল শুণ্যতা নিয়ে বাস করে মানুষ। 

****

 

  মনে রাখতে হবে এবং প্রতিদিন মনে রাখতে হবে, আমি নামক এই ব্যক্তি খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ কেউ নই। পৃথিবীর রাজাও চলে গেলে কিছুই আসে যায় না। চলে যাওয়াটা এমন সত্য যে, মানুষ দুদিন পরেই নিজের কাজ করতে বাধ্য হয়। একদম কাছের মানুষ চলে গেলেও বাজারে যেতে হয়। রান্না করতে হয়। সমস্ত যখন করতেই হবে , বেঁচে যখন থাকতেই হবে তখন বিষাদ সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে দেখতে কি দোষ? যেমন জল খেতে হবে , বাথরুম যেতে হবে তেমনি বেরিয়ে আসতে হবে নেই বোধ থেকে। কে নেই? কি নেই? প্রাণ যতক্ষণ আছে ততক্ষণ সৃষ্টি আছে। শূণ্যবোধ ক্লান্ত করে তুলবে। জীবন সম্পর্কে নিরুৎসাহ করে তুলবে। নিজের জন্য না হোক, সঙ্গে যারা আছে তাদের জন্য নিজেকে ফিরিয়ে আনতেই হবে। 

দূরে থাকা বাচ্চাদের কাছে কান্নাকাটি করে লাভ নেই। বরং ভিডিওতে হাসি মুখ থাক। ❤️❤️❤️❤️❤️

 শরীর লড়াই করতে পারবে কি না, সেটা অনেকটা নির্ভর করে মনের উপর। আর একটা কথা, প্রার্থনার শক্তি নিয়ে সন্দেহ না রাখাই ভালো। প্রতিদিন প্রার্থনা করুন। নিজের জন্য এবং অপরের জন্য। নিঃস্বার্থ হয়ে ছোট্ট সেবা করলেও নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। শুধু কোভিড সময়ে নয়, সংসারের ক্ষেত্রেও এমন মনোভাব নিজের জন্য ভালো। তার মানে এই নয় যে , মুখ বুজে জুতো লাঠি খেতে হবে। তবে, প্রতিবাদ আর অপমান এক নয়। প্রার্থনা অপরের জন্য করলে নিজের ভিতর আনন্দ তৈরি হয়, যা আমাদের ভিতর এনার্জি তৈরি করে। কিন্তু, অন্যকে অপমান করলে সাময়িক তৃপ্তি পেলেও পরে ক্লান্ত বোধ হয়। শুনতে কেতাবী মনে হলেও, মিথ্যা না বলা, অন্যকে ছোট না করা ইত্যাদি কাজ দিনের শেষে আনন্দ দেয়। যেটা খুব জরুরি। 

****

 " যতটুকু দেখো, ততটুকু আছি ভালো

কে দেখে বুকের ভিতর, কতটা অগোছালো।"

   _ সাদাত হোসাইন। 

*****

 মনে করা যাক ,  একটা গভীর খাদ উপরে একটা ঝুলন্ত সেতু। দড়ি ধরে পার হতে গেলে অনেক সমস্যা। কিন্তু পার হতেই হবে। 

এখন গভীর খাদের উপর ঝুলন্ত সেতুর দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে আছি। কি করব? পারব? ওইপারে যেতে? জীবনের কাছে পৌঁছতে?

আমরা কেউ দুর্বল নই, কেবল ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। জীবনের নানান দিকের অত্যাচার ক্লান্ত করে তুলছে। এবার ফিরে আসতে হবে। শক্ত পায়ে পার হয়ে যেতে হবে অতল খাদের অন্ধকার। কারণ, দিনের শেষে আমার সঙ্গে থাকব কেবল মাত্র আমি। তাকে সুখী রাখাই আমার কর্তব্য। ❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️

রবিবার, ৯ মে, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                      



 মুড সুইং/  সুগন্ধিবিষ  / কোভিড। 


  জ্ঞানচক্ষু মেলে পরিচিত হয়েছি ধূপকাঠির সঙ্গে। বাড়িতে পুজো আর রাশি রাশি ধূপ কাঠি জ্বালানো হচ্ছে। প্রতিদিন। প্রতি সন্ধ্যা। 
ধূপকাঠির সুগন্ধ মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। সুগন্ধি রঙিন মোম জ্বালিয়ে চোখ তৃপ্তি পায়। মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে পুজো মানেই ধূপের সুগন্ধি ছাড়া চলে না। 
   
    কেউ ই অবশ্য ঈশ্বরকে কখনো জিজ্ঞেস করিনি কিভাবে ডাকলে আপনার ভালো লাগবে? আদৌ এই সব উপকরণ লাগবে কি না? নাহ্। করিনি। অন্ধের মত প্রথা মেনে চলেছি। স্বীকার করতে বাধা নেই, আমিও তাই করেছি। প্রচুর পুজো করি। প্রচুর কষ্ট করি। প্রচুর ধূপ জ্বালাই। মোমবাতি জ্বালাই। বিদেশের গির্জা , মসজিদ খুঁজে খুঁজে জ্বালিয়ে রেখে আসি ধূপ। আজ বুঝি , কত ক্ষতি করেছি নিজের এবং পরিবেশের। শুধু, একটি নমস্কারে পূর্ণ হয় না প্রার্থণা? হয় বইকি! যেটা হয়না, সেটা হল নিজের তৃপ্তি হয়না। ঈশ্বর ঠিক কি চান? সেটা কখনো জিজ্ঞেস করিনি! 
*******
কেউ সিগারেট খেলে কত বকুনি দিতে থাকি, কিন্তু ধূপের ধোঁয়া তার চেয়েও ক্ষতিকর বেশি।  এখানে থাকে কিছু রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য যা, জিনের( D NA) উপাদানে পরিবর্তন আনতে সক্ষম। সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হচ্ছে, পুজোর সঙ্গে জুড়ে যাওয়ায় আমরা উদাসীন থাকি ক্ষতিকর দিক থেকে। কেউ সিগারেট খেলে খুব বিরক্ত হই, কিন্তু ধূপকাঠি? 
মন ভালো করে। বাড়িতে একটা পজিটিভ চিন্তা আনে।
ধূপের স্নিগ্ধ গন্ধের সঙ্গে মুড ভালো করার ইচ্ছে কাজ করে। পবিত্রতা আর প্রশান্তি জড়িয়ে আছে ধূপের সঙ্গে।      

      কথাগুলি সত্য। কিন্তু,
  শ্বাসের সঙ্গে ওই ক্ষতিকর পদার্থ গ্রহণ করেছি। ফুসফুসে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। ধোঁয়ার মধ্যে আছে এমন টক্সিক পদার্থ ,যা ডেকে আনে ক্যান্সার। শ্বাস জনিত সমস্যা দেখা দেয় এখান থেকে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, তিন ধরণের বিষ থাকে ধূপ কাঠির মধ্যে
  মিউটাজেনিক , জিনোটক্সিক সাইটোটক্সিক... যেগুলো প্রতিদিন ক্ষতি করছে আমাদের। 
****
এই প্রসঙ্গে বলি, পুরোহিতের কথা। 
দিনের পর দিন ধূপের ধোঁয়া সৃষ্টি  করছে সিওপিডি ( ক্রনিক অব স্ট্রাকটিভ পালমোনারিডিজিজ) 
সি ও পি ডি- কে বুঝতে হলে, আমাদের জানতে হবে, ফুসফুস কিভাবে কাজ করে। নিশ্বাস নিলে বাতাস আমাদের শ্বাসনালী  দিয়ে ছোট ছোট নালী ব্রঙ্কিওলস এ যায়। এই নলগুলোর শেষে আবার নানা  ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র থলি a l v e o l i  থাকে। এই থলিগুলি থেকেই আমাদের রক্ত প্রযোজনীয় অক্সিজেন সংগ্রহ করে। সি ও পি ডি  র ফলে এই থলি গুলিতে কম বাতাস যায়।    
****
     নানা কারণ থাকতে পারে ফুসফুস জখম হ ওয়া র, ধূপকাঠি জ্বালানো তার মধ্যে একটি। 
ধূপের বক্স এ সিগারেটের মত সতর্কীকরণ থাকা ভালো। কারণ, ঘুপচি মন্দিরে ধূপকাঠির ধোঁয়া 500 সিগারেট খাওয়ার সমান। 
এখন, পরিবারের সকলে বাড়িতে আছে। একসঙ্গে। সুতরাং, ধূপকাঠি আরো মারাত্মক। 
এখন বরং, একটি নমস্কারে কাজ চলুক। উপোস বন্ধ থাকুক। কর্পূর জ্বালানো যেতে পারে। সবই কম কম। ধোঁয়া সৃষ্টি করে এমন কিছু না জ্বালানো ভালো।



                                                             

জয়তী রায় ( মুনিয়া),

                                                             


মুড সুইং/  সুগন্ধিবিষ  / কোভিড। 


  জ্ঞানচক্ষু মেলে পরিচিত হয়েছি ধূপকাঠির সঙ্গে। বাড়িতে পুজো আর রাশি রাশি ধূপ কাঠি জ্বালানো হচ্ছে। প্রতিদিন। প্রতি সন্ধ্যা। 
ধূপকাঠির সুগন্ধ মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। সুগন্ধি রঙিন মোম জ্বালিয়ে চোখ তৃপ্তি পায়। মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে পুজো মানেই ধূপের সুগন্ধি ছাড়া চলে না। 
   
    কেউ ই অবশ্য ঈশ্বরকে কখনো জিজ্ঞেস করিনি কিভাবে ডাকলে আপনার ভালো লাগবে? আদৌ এই সব উপকরণ লাগবে কি না? নাহ্। করিনি। অন্ধের মত প্রথা মেনে চলেছি। স্বীকার করতে বাধা নেই, আমিও তাই করেছি। প্রচুর পুজো করি। প্রচুর কষ্ট করি। প্রচুর ধূপ জ্বালাই। মোমবাতি জ্বালাই। বিদেশের গির্জা , মসজিদ খুঁজে খুঁজে জ্বালিয়ে রেখে আসি ধূপ। আজ বুঝি , কত ক্ষতি করেছি নিজের এবং পরিবেশের। শুধু, একটি নমস্কারে পূর্ণ হয় না প্রার্থণা? হয় বইকি! যেটা হয়না, সেটা হল নিজের তৃপ্তি হয়না। ঈশ্বর ঠিক কি চান? সেটা কখনো জিজ্ঞেস করিনি! 
*******
কেউ সিগারেট খেলে কত বকুনি দিতে থাকি, কিন্তু ধূপের ধোঁয়া তার চেয়েও ক্ষতিকর বেশি।  এখানে থাকে কিছু রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য যা, জিনের( D NA) উপাদানে পরিবর্তন আনতে সক্ষম। সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হচ্ছে, পুজোর সঙ্গে জুড়ে যাওয়ায় আমরা উদাসীন থাকি ক্ষতিকর দিক থেকে। কেউ সিগারেট খেলে খুব বিরক্ত হই, কিন্তু ধূপকাঠি? 
মন ভালো করে। বাড়িতে একটা পজিটিভ চিন্তা আনে।
ধূপের স্নিগ্ধ গন্ধের সঙ্গে মুড ভালো করার ইচ্ছে কাজ করে। পবিত্রতা আর প্রশান্তি জড়িয়ে আছে ধূপের সঙ্গে।      

      কথাগুলি সত্য। কিন্তু,
  শ্বাসের সঙ্গে ওই ক্ষতিকর পদার্থ গ্রহণ করেছি। ফুসফুসে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। ধোঁয়ার মধ্যে আছে এমন টক্সিক পদার্থ ,যা ডেকে আনে ক্যান্সার। শ্বাস জনিত সমস্যা দেখা দেয় এখান থেকে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, তিন ধরণের বিষ থাকে ধূপ কাঠির মধ্যে
  মিউটাজেনিক , জিনোটক্সিক সাইটোটক্সিক... যেগুলো প্রতিদিন ক্ষতি করছে আমাদের। 
****
এই প্রসঙ্গে বলি, পুরোহিতের কথা। 
দিনের পর দিন ধূপের ধোঁয়া সৃষ্টি  করছে সিওপিডি ( ক্রনিক অব স্ট্রাকটিভ পালমোনারিডিজিজ) 
সি ও পি ডি- কে বুঝতে হলে, আমাদের জানতে হবে, ফুসফুস কিভাবে কাজ করে। নিশ্বাস নিলে বাতাস আমাদের শ্বাসনালী  দিয়ে ছোট ছোট নালী ব্রঙ্কিওলস এ যায়। এই নলগুলোর শেষে আবার নানা  ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র থলি a l v e o l i  থাকে। এই থলিগুলি থেকেই আমাদের রক্ত প্রযোজনীয় অক্সিজেন সংগ্রহ করে। সি ও পি ডি  র ফলে এই থলি গুলিতে কম বাতাস যায়।    
****
     নানা কারণ থাকতে পারে ফুসফুস জখম হ ওয়া র, ধূপকাঠি জ্বালানো তার মধ্যে একটি। 
ধূপের বক্স এ সিগারেটের মত সতর্কীকরণ থাকা ভালো। কারণ, ঘুপচি মন্দিরে ধূপকাঠির ধোঁয়া 500 সিগারেট খাওয়ার সমান। 
এখন, পরিবারের সকলে বাড়িতে আছে। একসঙ্গে। সুতরাং, ধূপকাঠি আরো মারাত্মক। 
এখন বরং, একটি নমস্কারে কাজ চলুক। উপোস বন্ধ থাকুক। কর্পূর জ্বালানো যেতে পারে। সবই কম কম। ধোঁয়া সৃষ্টি করে এমন কিছু না জ্বালানো ভালো।


                           



রবিবার, ২ মে, ২০২১

জয়তী রায়(মুনিয়া)

                                       



 মধ্যবয়স/ মুড সুইং/ আধ্যাত্মিক দিক।


  আধ্যাত্মিকতা কথাটা খটোমটো। ইংলিশ সহজ। স্পিরিচুয়ালটি। spirituality.এর সঙ্গে ধর্মের কোনো সংযোগ নেই। অর্থাৎ ধার্মিক লোক স্পিরিচুয়াল হতে পারে কিন্তু স্পিরিচুয়াল ব্যক্তিকে ধার্মিক হতে হবে না। 

  মধ্য বয়স আলোচনা করতে গিয়ে আধ্যাত্মিকতা কেন এলো , সেটা বোঝাতে গেলে, বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। 

ধৃ + মন = ধর্ম। ধৃ মানে হল ধারণ বা গ্রহণ করা আর মন হল অন্তর , আত্মা পরমাত্মা। তাহলে, ধর্মের অর্থ হল , মন যাহাকে গ্রহণ করে শান্তি লাভ করে। 

এখন ধর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্প্রদায় কেন্দ্রিক। বৃহৎ অর্থ হারিয়ে গেছে। মধ্যবয়সে পৌঁছে মানুষের মন টাল মাটাল হতে থাকে। শরীর এবং মন উভয় দিকেই পরিবর্তন আসতে থাকে। পুরনো দিনের কথা বড় বেশি করে গ্রাস করে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, লেখক লেখিকা মধ্যবয়সে পৌঁছে অতীত চারণ করেন বেশি। পুরানো সেই দিনের কথা... আক্রান্ত করে। কলেজ লাইফের দুরন্ত জীবন...খুব মনে পড়ে। এইরকম একটা সময়ে বেশ অনেকেই ধর্ম করতে ছোটেন। এমনও বলতে শোনা যায়: বুড়ো হতে চলেছি। ধর্ম কর্ম নিয়ে থাকি এইবার। 

অতঃপর আশ্রম এবং বাবাজীর খপ্পরে পড়তে বেশি দেরি হয় না। 

 তাহলে? ঈশ্বর সাধনা করতে হবে না?  দান ধ্যান পুজো কিছুই লাগবে না? 

কিছু পুজো বাড়ির পরম্পরা। সেগুলি রক্ষা করতে হয়। কিন্তু, মধ্য বয়সে হঠাৎ করে ধর্মে আসক্তি হলে সমস্যা হয় এটাই, ভীষন ভাবে আচার সর্বস্ব হয় মন। অর্থাৎ, এই বারে এই খাব না। অমুক সময় ঘরে থাকব। আরো হাজার কিছু। কেউ কেউ প্রচন্ড রকম শুচি বাই হয়ে পড়েন। মহিলাদের ক্ষেত্রে বেড়ে চলে বাতিক। সুস্থ শরীর কে ব্যস্ত করে তোলার নানা প্রক্রিয়া চলে। মধ্য বয়সে মনের জানালা আপনা থেকেই সঙ্কুচিত হতে থাকে। ধর্ম যদি সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহার করা হয়, তবে জানালা বন্ধ হয়ে যায় পুরোপুরি। মন নষ্ট হতে থাকে। বিকার গ্রস্থ হতে থাকে।

 ***********

এখানেই প্রয়োজন spirituality. ধর্মকে ঠিক মত ব্যবহার করা যায়, যদি মানুষটা আধ্যাত্মিক হয়। অর্থাৎ পরিণত হয়। কোনো কিছুই অন্ধের মত বিশ্বাস করে আঁকড়ে ধরলে বিপদ হতে পারে। বয়সের তেজ যত ঢলে যেতে থাকে, লাঠির প্রয়োজন তত বেশি। মন সর্বদাই ভাবতে থাকে: অমুক এলে কি ভালো হয়। অথবা, আগে কত লোক আসত, এখন কেউ আসে না। আনন্দের উৎস, যদি ব্যক্তি বিশেষ অথবা বস্তু বিশেষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন  অনুগ্রহের পাত্র হয়ে দাঁড়াতে হয়। সবচেয়ে খারাপ লাগে, যখন বোঝা যায়, কেউ উপেক্ষা করছে। বিরক্তিতে ভুরু কুঁচকে আছে। খারাপ লাগলেও, সঙ্গ ছেড়ে দেবার মত মনের জোর পাওয়া যায় না। একা কি করে ভালো থাকা যায়?

********

 আধ্যাত্মকিতা কিভাবে সাহায্য করে: 

 আবারও বলছি, ধর্ম বা আচারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। তাহলে? দরকার কি? এটা একটা থেরাপি। মনের অবস্থা উন্নত করার থেরাপি। যেমন, মানুষের শোচনীয় অবস্থার জন্য দায়ী জীবন সম্পর্কে তাদের গভীর ভ্রান্ত ধারণা। অনেক মধ্য বয়েসী মনে করেন, দুঃখিত হয়ে কিছু পাওয়া যায়। কষ্টের আগুনে নিজেকে পুড়িয়ে ফেলে লোকের কাছে সহানুভূতির আশা করে। 

 *** 

আধ্যাত্মিকতার অর্থ হল, অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপলব্ধি করা। আমার আনন্দের উৎস আমি নিজে... এই সত্য হৃদয়ে আত্মস্থ করা। মধ্যেবয়সে এসে আমরা অনুভব করি, পার্থিব অনেক কিছু আছে। যেটা নেই সেটা হল আনন্দ। শান্তি। কারণ, জীবন কাটিয়ে দেওয়া হয়েছে বৈষয়িক উপার্জনে। শান্তি আনন্দ এগুলি যে উপার্জনের বিষয়, সেকথা কখনো ভাবার অবসর ছিল না। 

******

আধ্যাত্মিকতা কিভাবে সাহায্য করে। 


  There is something greater than myself, something more to being human than sensory experience, and that the greater whole of which we are part is coshmic or divine in nature. 

   খুব কটমট কথা। আসলে, এটা খুব সরল এক উপায়। মনের জমিতে নিয়মিত আলো, জল, সার ইত্যাদি দিয়ে তাকে উর্বর করে রাখা। তাহলে, আবেগের উপর সংযম আসবে। শরীর মন আবেগ শক্তি এগুলির সঠিক পরিচর্যা করলে,ধীরে ধীরে ভিতরে এক শক্তির জন্ম হয়। বিচার বুদ্ধি সতর্ক হয়। বোধ পরিণত হয়। জীবন তখন আলাদা মাত্রায় ধরা দেয়। 

**********

  মানুষকে নিজের অভিজ্ঞতার বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে হয়। নিজের গন্ডীর বাইরে গিয়ে তাকালে তবে বৃহতের অনুভূতি হয়। পার্থিব ছাড়তে শিখতে হয়। জলে দুধে মিশে থাকবে, দুধটুকু তুলে খেতে হবে। সংসার সর্বস্ব হতে নেই। তাহলে, সংসারের অবহেলা মনে ধাক্কা দেয় না। এই অভ্যাসটা হল আধ্যাত্মিকতা। জীবনের শিক্ষা মাত্র। যার জন্য আমরা আনন্দে থাকতে পারি। 

********

 বোঝা গেল, নিজের মনের গভীরে প্রবেশ করতে জানা হল এই প্রক্রিয়ার উৎস। যেমন, সাঁতার জানি, রান্না জানি, যৌনতা জানি তেমনি এটাও জানতে হয়, কিভাবে নিজের ভিতর হতে আনন্দের উৎস খুঁজে পেতে হয়। এই জানার অপর নাম spirituality. মধ্যবয়সে সবচেয়ে বেশি কাজের হল এই অভ্যাস।

         




                                       

রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                                                   


 



মস্তিষ্কের ভুল ভুলাইয়া / মানব জীবনের অভিশাপ

************

   দ্বিতীয় ভাগ


___________________

 দ্বিতীয় ভাগে আলোচ্য বিষয় হবে, কিছু ঘরোয়া টিপস। প্রাচীন সনাতনী বিলুপ্ত প্রায় কিছু অভ্যেস। যেগুলি সাহায্য করবে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে। 

*************

ঋষি বলতেন: যে কোনো অভ্যাস ছোট থেকেই তৈরি করো। শরীর এবং মনের বিদ্যায় অভিজ্ঞ ঋষিদের কাছে বালক বয়স থেকেই ধ্যান ছিল জরুরি।  বালক যখন বয়ঃপ্রাপ্ত হবে, অভিভাবকের বেড়া সরে যাবে, তখন যেন সাফল্য আর ব্যর্থতা দুটোই বহন করার মত শক্তি ধারণ করতে পারে। ধ্যানের মধ্যে দিয়ে উজ্জীবিত হতে থাকে মস্তিষ্কের কোষকলা।

  বিজ্ঞান বলে, ভুলে যাওয়া  মস্তিষ্কের রোগ। তার  কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া। মস্তিষ্ক ক্ষমতা উন্নত করার প্রক্রিয়া ত্রিকালজ্ঞ ঋষিরা বলে গিয়েছেন। মানব জীবন সুন্দর করার জন্য নিরন্তর গবেষণা করতেন তাঁরা। হয়ত কালের প্রভাবে বিলুপ্তির পথে চলে গেছে সে সমস্ত উপায়। তবু, কিছু এখনো আছে। তার আগে , আরো একবার বলি, স্মৃতিভ্রংশ হল নিঃশব্দ হত্যাকারী। খুব ধীরে ধীরে আসে। কাজেই প্রতিদিন নিজেকে একবার করে দেখতে হবে।  হ্যাঁ বন্ধু! নিজেকে আগে বাঁচিয়ে তারপর অন্যের জন্য ভাবতে হবে। 

লক্ষ্য রাখতে হবে:

 :একদিনে কতটা মনে রাখতে পারছি। কিছুক্ষণ আগের কথা ভুলে যাচ্ছি কি না?

: রান্নার রেসিপি, টেলিফোন নম্বর , ব্যাংক কার্ডের তথ্য ভুলে যাচ্ছি কি না? 

: ফোন নম্বর ভুলে যাওয়া অথবা নাম মনে করতে না পারা। 

: সকালের ওষুধ খাওয়া হল কি না? কিছুতেই মনে পড়ছে না। 

: কথা বলার সময় সঠিক শব্দ খুঁজে পাওয়া যায় না। 


    অবহেলা একেবারে নয়। যৌবন মানে হল ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা। তাকে ঠিক মত কাজে লাগাতে হবে। যৌবনে অনেক কিছু করার ক্ষমতা থাকে। সেটাকে কাজে লাগিয়ে বৃদ্ধ বয়সে লড়াই করার ক্ষমতা অর্জন করতে হয়।

***********

  তাহলে উপায়:

****************

১. জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়া হোক অ উ ম শব্দটি। ওম। ধর্মের সঙ্গে যোগসূত্র খোঁজার প্রয়োজন নেই। সকালে পাঁচ বার করে সঠিক উপায়ে করলে নিজেই নিজের পরিবর্তন টের পাওয়া যাবে। 

________

২. সঠিক সঙ্গ

     নানা ধরণের লোকের সঙ্গে মিশতে হবেই। কিন্তু কেউ একজন থাক, যে এনার্জি সঞ্চারিত করতে পারে। সে যে কেউ হতে পারে। বাড়ির কাজের লোক হওয়া বিচিত্র নয়। তেমন লোক যেন সঙ্গে থাকে। একজন চরম সফল মানুষকে এখন জানি, যিনি ঘরের মেঝেতে হামাগুড়ি দিয়ে চলেন। সমস্ত ভুলে গেছেন। জীবন শুধু সাফল্য দিয়ে মাপলে চলবে না। সুখী হতে হবে আগে। এই ব্যালেন্স না জানলে নিজের খিদের মুখে নিজেকেই আহুতি দিতে হবে এক সময়। 

____________

৩. সঠিক ব্যায়াম

     ব্যাংককে দেখতাম, বিকেল হলেই ছেলে বুড়ো পিল পিল করে বেরিয়ে পড়ছে খেলতে। সেখানে কলকাতায় চলছে ফোন কালচার। আর অবান্তর গসিপ। রাজনীতি ইত্যাদি। খেলার মাঠ বন্ধ করে গড়ে উঠছে মস্তবড় বিল্ডিং। কোথায় খেলবে বাচ্চাগুলো? মা বাবা বিকেলে হাঁটবে কোথায়?

শরীরের ব্যায়ামের সঙ্গে সঙ্গে মনের ব্যায়াম জরুরি। নিয়মিত গান কেউ শুনছে না। আগে আড্ডা হত। সেমিনার হত। মস্তিষ্কের চর্চা হত। এখন সাহিত্যসভা হয়। একটা করে গল্প কবিতা পাঠ করে চলে যায় লোক। সেগুলো যদি একটু অন্যভাবে ব্যবহার করা যায়। আলোচনা সভা মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়। সঙ্গীত নাচ ছবি আঁকা ... ঢিমে তালে চলা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে তুলতে পারে। 

__________

৪. সূর্য ডুবে যাওয়ার পরের নোটবই। 

**********

 নিজের সারাদিনের কাজ। ছোট্ট করে লিখে ফেলা।  স্মৃতিশক্তি বাড়বে। আত্মবিশ্বাস বাড়বে। একটা নোট বুক থাকুক। টুক করে লিখে ফেললেই হয়। সুন্দর যৌন জীবন সাহায্য করে ভালো থাকতে। যৌনতা কিন্তু টনিক।

৫. ধ্যান করা

***********

 ধ্যান নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা রকম জটিলতা কাজ করে। যেন ওটা একটা বিশেষ কাজ। কঠিন কাজ। বুড়ো বয়সের কাজ। অনেকে আবার লজ্জারও কাজ  ভাবেন। 

দিনের যে কোনো সময় যে কোনো অবস্থায় করে ফেলা যায় ধ্যান। যেমন পিপাসা পেলে জল খায় লোক। তেমনি সমস্যা হলে একটু নিজের ভিতর তাকাতে হয়। উত্তর ভিতরেই আছে। অমুক করব না তমুক? যাব কি যাব না? 

ছোট্ট ছোট্ট ডিসিশন। উত্তর পাওয়া যায় নিজের কাছ হতে।

 জাদু আঙ্গুল

*************

. হাতের আঙ্গুলের সঠিক ব্যবহার। 

সারাক্ষণ মোবাইল বাটন টিপে চলা ছাড়াও আঙ্গুলের কাজ আছে। চোখ মন মস্তিষ্ক আঙ্গুলের সঠিক মুদ্রায় সাড়া দেয়। 

তর্জনী ও বুড়ো আঙ্গুল লক করুন মাঝে মাঝে। অজস্র স্নায়ুর অন্তিম অংশ এখানে থাকে। আমরা খেয়াল করিনা। আমাদের নিজস্ব শক্তি বাইরে বেরিয়ে। যাচ্ছে। এই লক সিস্টেম আবার শক্তিকে নিজের মধ্যে ফিরিয়ে আনে। প্রাণিক সার্কিট তৈরি করতে সাহায্য করে। এ নিয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা করব। 

 আর একটা সহজ মুদ্রার কথা বলে আজকের আলোচনা শেষ করব। 

 :জ্ঞানমুদ্রা

 তর্জনী ও বুড়ো আঙ্গুলের মাথা দুটি যুক্ত করুন। দুই হাতের। বৃত্ত তৈরি করুন। অন্য আঙ্গুলগুলি সোজা রেখে , দুই হাত দুটি হাঁটুর উপর রেখে মনে মনে পাঁচবার অ উ ম ভেঙ্গে ভেঙ্গে উচ্চারণ করুন। 

 এই মুদ্রা স্মরণশক্তি ও একাগ্রতা  বাড়িয়ে দেবে। ধৈর্য বাড়িয়ে দেয়। বালকবয়স থেকে এই মুদ্রা করলে খুব ভালো কাজ হবে। 

হাতের আঙ্গুলের অসীম শক্তি নিয়ে আলাদা লেখা লিখব। এখন , লক আর জ্ঞানমুদ্রা এই দুটোই নিয়মিত করলে ফল লাভ হবে। 

***********

ভারতবর্ষের আছে অসীম রত্নভান্ডার। খাদ্য তালিকায় ফাস্ট ফুডের দখল দারি কমিয়ে নিয়ে আসা যাক ব্রাহ্মীশাক। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলায় প্রভূত পরিমাণে উৎপন্ন হয় অমৃত শাক ব্রাহ্মী। এই শাকে উপস্থিত আছে। ব্যাকো সাইড নামে এক ধরনের রাসায়নিক জৈববস্তু। এটি ব্রেন টিসুর ক্ষত সারিয়ে তাদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। মনে আছে, আমার এক পিসি, আমার মাকে ঠাট্টা করে বলেছিল: ঘাস পাতা খায় গরু। অর্থাৎ মা এত ঘাস পাতা খান! তিনি গরু। অপমান করল আর কি! আমার মা ৯২ বছর বয়সে সজ্ঞানে একদিনের মধ্যে মৃত্যু বরণ করেন। স্মৃতিশক্তি ঈর্ষণীয় ছিল। মায়ের রেগুলার ডায়েট ছিল এই শাক। যেদিন মারা গেছেন, লাঞ্চ খেতে পারেন নি। সেদিন ও মেনুতে ছিল ব্রাহ্মীশাক।  

এখানে উপস্থিত অনেক ধরণের কার্যকরী উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র হিপোকমপাস অংশটির ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। ব্রেনের hippocampus অংশটির কি ক্ষমতা গুগল করে জেনে নাও বন্ধুরা। আমাদের মা বাবাদের গুগল ছিল না। ছিল পরম্পরা জ্ঞান। যা এখন নষ্ট হতে চলেছে। 


ভুলে যাওয়া সমস্যা ক্রবর্ধমান।আগে প্রবীণদের রোগ ভাবা হত, এখন সব বয়সীদের হয়। সাবধান হতেই হবে। এখন থেকেই।

রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১

জয়তী রায়( মুনিয়া)

                                                





 মস্তিষ্কের  ভুলভুলাইয়া/ মানব জীবনের অভিশাপ। 

_________________________

  :নামটা কিছুতেই মনে করতে পারছি না! 

: কাল যেন কোথায় যেতে হবে? ফোনে সেভ করা আছে। দেখে নিচ্ছি। 

: ফোন নম্বর। দূর। ওতো সব সেভ করা। 

: বারবার জিনিস হারিয়ে ফেলা। 

  হাল্কা সুরে বলা কথাগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে একটা ভয়ংকর অসুখের। আলঝাইমার।

   মধ্য বয়স নিয়ে লেখা এই পর্বে এসে বলব, নিজেকে অবহেলা করার চূড়ান্ত ফল কি হতে পারে! 

 আজকাল সবাই সব জানে। একটা বোতাম টিপলে হাজির হচ্ছে তথ্য। আলাদিনের দৈত্য কাহিনীর আধুনিক রূপ হল স্মার্টফোন।  শুধু জানে না, ২৪ ঘণ্টা সময় ঈশ্বর আমাদের দিয়েছেন, তার মধ্যে লুকিয়ে আছে সুখে থাকা অথবা অসুখে থাকার উপায়। 

  কিছু অসুখ ঘটে যায়।  আমাদের হাতে থাকে না। আবার কিছু অসুখ আমাদের ভুল জীবন শৈলীর ফল হতে সৃষ্টি। যার মধ্যে একটি হল আয়ালজাইমার। অথবা ভুলে যাওয়ার অসুখ। সম্প্রতি Alzheimer's Association International conference 2020 এর একটি গবেষণায় উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পড়াশুনো এবং খারাপ জীবন যাপনের ধরণের জন্যই মানুষ পরবর্তী জীবনে মানুষ অ্যালজাইমারের মত রোগের শিকার হতে পারে। 

  মধ্য বয়স বলছি বটে, তবে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা অল্প বয়স থেকেও শুরু হতে পারে।

 যে যে রোগের ক্ষেত্রে জিন ঘটিত কারণ উল্লেখ  করা হয়, ভুলে যাওয়া তার মধ্যে একটি।

এছাড়া, স্ট্রোক হলে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস হলে মস্তিষ্ক দুর্বল হয়ে যেতে পারে। 

   আমি সেটার মধ্যে যাচ্ছি না। আজকের আলোচনায় থাকবে, পরিবেশ ও জীবন শৈলী র ভুল পদক্ষেপ কিভাবে মানুষকে ধীরে ধীরে অন্ধকারে ঠেলে দিতে থাকে। 

**********

  একদিনে ২৪ ঘণ্টা। কম নয়। ঘুমিয়ে থাকার সময়েও আমাদের মস্তিষ্কের চিন্তা শক্তি সচল থাকে। এই চিন্তা মানুষের জীবনের একটা বড় অস্ত্র। এর অপপ্রয়োগ বহু সময় ডেকে আনতে পারে বিপর্যয়। চিন্তাঅশ্বের লাগাম ছোট থেকে কষে ধরে রাখতে হবে। মন এবং মেজাজ বিক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে তাকে শান্ত ভাবে বুঝিয়ে ফেলা প্রয়োজন। মন আশকারা পেলে মাথায় চড়ে বসে। তুচ্ছ কারণেও বিক্ষিপ্ত হয়ে উঠতে পারে বারবার। তখন সে পারিপার্শিক সব ভুলে যেতে চায়। বা , ইচ্ছে করে মনে রাখতে চায় না। ক্রমাগত করতে করতে এটা অভ্যাসে পরিণত হয়। সুতরাং, দিনের উল্টোপাল্টা চিন্তায় লাগাম  পরিয়ে দিতে হবে। 

: সময়ের সঠিক ব্যবহার না করতে পারলে মেজাজ খারাপ হয়। স্কুলে পড়াকালীন অভ্যাস তৈরি করে দিতে হয়। বহু সময়, স্কুলে খাতা বই ফেলে রেখে আসা অথবা বাড়িতে টিফিন ভুলে যাওয়ার প্রবণতাকে কেউ তেমন গুরুত্ব দেয় না। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস পরিণত হয় স্বভাবে। বড় হয়েও ভুল হতে থাকে রোজ। ঢাবির গোছা, অফিসের ফাইল আরো নানান কিছু। রোজ ঠিক মত সময় জিনিস পত্র গুছিয়ে রাখতে পারলে, আপনা হতেই মস্তিষ্ক ইঙ্গিত দেবে। মনে করিয়ে দেবে। 

: নিজের চিন্তা শক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে মানুষ রাগী স্বভাবের হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যদি হতাশা আসে। চাওয়া আর পাওয়ার মাঝখানে থাকে যদি অনেক ব্যবধান , মনো সামাজিক জগতে তখন প্রবল আলোড়ন ওঠে। সমস্ত কিছুতেই অবসাদ। প্রাপ্য ছিল অথচ পাওয়া হল না... নিরন্তর এই চিন্তা মস্তিষ্কের বায়োলজিক্যাল ক্লকের কাজ ব্যাহত করে। এই সময় লম্বা শ্বাস খুব কাজে লাগে। লম্বা করে শ্বাস নিয়ে ধরে রাখতে হয়। সেই সঙ্গে নিরন্তর  নিজেকে বোঝাতে হবে। জীবনের চাইতে মূল্যবান আর কিছুই নেই। 

: অসম্ভব প্রতিশ্রুতি কাউকে দেওয়া যাবে না। সকলকে খুশি রাখতে গিয়ে নিজের দিকে সবথেকে কম সময় দেয় মানুষ। দিনের শেষে বাড়তে থাকে উদ্বেগ। সব কিছু তালগোল পাকিয়ে যায়। রোজকার অত্যধিক ভাবনা চিন্তা থেকে ভুলে যাওয়ার সিনড্রোম তৈরি হয়। সুতরাং, সকালে উঠেই নিজেকে শুনিয়ে দিন, বাঁচতে হবে নিজের জন্য। 

: ইনফরমেশন ওভার লোড __স্মৃতি ভ্রংশের একটা কারণ।

অনেক কিছু একসঙ্গে মনে রাখতে গিয়ে কিছুই  মনে থাকছে না। এ ক্ষেত্রে ফোনে নয়, কাগজে  টুকে রাখুন কাজ গুলি। আঙুল  আর পেন্সিলের যুগল বন্দী মস্তিষ্কের কোষ উজ্জীবিত করে। 

: অ্যালঝাইমার বিপদ ঘণ্টা বেজে উঠতে পারে যে কোনো বয়স থেকে। অযথা  হোয়াটস অ্যাপ দেখা বন্ধ করতে হবে। গ্রুপ চ্যাট দরকারি না হলে একেবারেই না। মনসংযোগ নষ্ট করে, এমন কাজ না করায় মঙ্গল। যে কোনো একটা বাদ্য যন্ত্র বাজান। না হলে, হারমোনিয়ামের রিড চেপে রাখুন। 

: স্মার্ট ফোন দিনের অনেকগুলি ঘণ্টা কেড়ে নিয়ে এলোমেলো করে দেয় রুটিন। প্রয়োজন না হলে দরকার নেই। তার চেয়ে গান চালিয়ে নেচে নিতে পারেন একটু। 


     অশনি সংকেত হল কাল বৈশাখী নেমে আসার সূচনা। নিজের দিকে তাকান। শরীরের উপরের অংশে বস্ত্র আছে। নিচের দিকে? হয় বইকি। ভুলে যেতে যেতে এই পর্যায় পৌঁছে যায় মানুষ। 

   পরিশেষে বলি, ২৪ ঘণ্টা কাজে লাগাতে হবে। রাতে শুতে যাবার আগেও, এমন একটা বই পড়ে শুয়ে পড়ুন, যা চিন্তা সুন্দর করতে সাহায্য করবে। 

 ভুলে যাওয়া রোগ মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। একে অপরকে সাহায্য করুন। দেখা হলে প্রশ্ন করুন, দুদিন আগে কি কি রান্না হয়েছিল? নানা রকম খেলা চলত আগে। সেই খেলা গুলো নিয়ে আসুন। এই খেলা একটা থেরাপি। আড্ডা য় গসিপ না করে এই সমস্ত খেলা খেলুন। 

  ভুলে যাওয়া নয়/ মনে রেখে এগিয়ে চলি। 

হাতে হাত রেখে / এক সাথে পথ চলি।

***********

 দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

: পরিবারে অ্যালঝাইমার থাকলে এখন থেকেই সাবধান হতে হবে। কারণ, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে প্রবণতা ফুটে উঠবে। সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। 

: ব্রেন অ্যাকটিভ রাখুন। মস্তিষ্ককে সবসময় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রাখুন। মাইন্ড কুলনেস থেরাপি অথবা টক থেরাপি কাজ দেয় খুব  বেশি। 


     সতর্ক থাকতে হবে/ নিজেকে রক্ষা করতে হবে।।



                                   



রবিবার, ২৮ মার্চ, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                                        



                মধ্যবয়স/ সাফল্যের সুনামি আগ্রাসন।


    আলোচিত বিষয় হল, মধ্যবয়স। মানব জীবনের সবচেয়ে জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়। 

    যুগ এখন অন্যরকমের। সাফল্য আগেও চাইত মানুষ কিন্তু এখন খিদে বেড়ে গেছে তীব্রভাবে। এই চাওয়া সর্বস্ব মানুষের মধ্যে যেটার অভাব সবচেয়ে বেশি, সেটা হল সুকুমার বৃত্তির। ছোট ছোট কোমল ভাব বিনষ্ট হচ্ছে। সাফল্য এলো তো আরো চাই। 

লাগাতার এমন দৌড়ে হাঁফিয়ে যায় জীবন। জীবনের মালিক সেটা বোঝে না। সে কষে ধরে থাকে লাগাম চালায় চাবুক। একদিন হঠাৎ ফুরিয়ে আসে এনার্জি। তখন গ্রাস করে একাকীত্ব। 

****

ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য অর্থ শেষ কথা নয়। সফলতা শেষ কথা নয়। দেখতে হবে, কাজের পিছনে যতটুকু সময় দিচ্ছি নিজের জন্যে ততখানি দিচ্ছি কি না? 

অনেকেই ভাবেন, কাজটাই তার জীবন। কাজ করতে পারলে তিনি ভালো থাকবেন। খুব ভালো কথা। কিন্তু,  হিসেব  অনুযায়ী যদি না হয়? কোনো কারণে চলে যায় কাজের ক্ষমতা? তখন ? অবসাদের কালো মেঘ ঘিরে ধরবে আপনাকে। 

*******

 কাজ করুন। সাফল্যের স্বাদ নিন। সেই সঙ্গে বন্ধু বা বান্ধবীর সঙ্গে সম্পূর্ন অন্য স্বাদের কথা বলুন। মনে রাখতে হবে, হঠাৎ করে কেউ মানসিক রোগী হয় না। দুশ্চিন্তা ধীরে ধীরে জন্ম দেয় মানসিক অবসাদের। যা আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের উপর কু প্রভাব ফেলে। মধ্যবয়সে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বেশি। কারণ শরীর এই সময় দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। ব্যক্তিগত স্তরে সম্পর্ক নিয়ে চলে টানাপোড়েন। এইজন্য মনে রাখতে হবে, সাফল্য যেন সুনামি না হয়। প্রাণঘাতি না হয়। 

 মনে রাখতে হবে, সাফল্য বা ব্যর্থতা কোনোটাই জীবনের চাইতে মূল্যবান নয়। আবেগকে গুরুত্ব দিন। গল্প করুন। সিনেমা যান। মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থের ব্যালান্স এমন হোক যেন ব্যর্থতা এলে সহজে নিতে পারেন। খ্যাতি আজ আছে কাল নেই। কিন্তু আনন্দ? চিরস্থায়ী হোক। 

   নিয়মিত নিজেকে লক্ষ্য করুন।  কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে নেতিবাচক সিগন্যাল এলে সরে আসুন। নিজের ঘরের লোক হলে, সমস্যা একটু জটিল হয় তখন সাইকো থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলুন। মনের জোর বাড়িয়ে তুলুন। ওষুধ কাজ করে রাসায়নিক পদার্থ বা নিউরোট্রান্সমিটারের ওপর। কাউন্সিলিং কাজ করে জ্ঞানীয় বিকাশ , আচরণ ও মনের গড়নের ওপর। 

*******

  মনোযোগ দিয়ে কাজ করলে সফলতা আসবে। তার সঙ্গে মন উন্নত করতে বাধা কোথায়? উন্নত শক্তিশালী ঝকঝক মন সাহায্য করে ভালো কাজ করতে। 

 সুন্দর থাকুন। মন সুস্থ রাখুন।       


                   


রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

 




মধ্যবয়স/ মুড সুইং/ আধ্যাত্মিক দিক।


  আধ্যাত্মিকতা কথাটা খটোমটো। ইংলিশ সহজ। স্পিরিচুয়ালটি। spirituality.এর সঙ্গে ধর্মের কোনো সংযোগ নেই। অর্থাৎ ধার্মিক লোক স্পিরিচুয়াল হতে পারে কিন্তু স্পিরিচুয়াল ব্যক্তিকে ধার্মিক হতে হবে না। 

  মধ্য বয়স আলোচনা করতে গিয়ে আধ্যাত্মিকতা কেন এলো , সেটা বোঝাতে গেলে, বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। 

ধৃ + মন = ধর্ম। ধৃ মানে হল ধারণ বা গ্রহণ করা আর মন হল অন্তর , আত্মা পরমাত্মা। তাহলে, ধর্মের অর্থ হল , মন যাহাকে গ্রহণ করে শান্তি লাভ করে। 

এখন ধর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্প্রদায় কেন্দ্রিক। বৃহৎ অর্থ হারিয়ে গেছে। মধ্যবয়সে পৌঁছে মানুষের মন টাল মাটাল হতে থাকে। শরীর এবং মন উভয় দিকেই পরিবর্তন আসতে থাকে। পুরনো দিনের কথা বড় বেশি করে গ্রাস করে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, লেখক লেখিকা মধ্যবয়সে পৌঁছে অতীত চারণ করেন বেশি। পুরানো সেই দিনের কথা... আক্রান্ত করে। কলেজ লাইফের দুরন্ত জীবন...খুব মনে পড়ে। এইরকম একটা সময়ে বেশ অনেকেই ধর্ম করতে ছোটেন। এমনও বলতে শোনা যায়: বুড়ো হতে চলেছি। ধর্ম কর্ম নিয়ে থাকি এইবার। 

অতঃপর আশ্রম এবং বাবাজীর খপ্পরে পড়তে বেশি দেরি হয় না। 

 তাহলে? ঈশ্বর সাধনা করতে হবে না?  দান ধ্যান পুজো কিছুই লাগবে না? 

কিছু পুজো বাড়ির পরম্পরা। সেগুলি রক্ষা করতে হয়। কিন্তু, মধ্য বয়সে হঠাৎ করে ধর্মে আসক্তি হলে সমস্যা হয় এটাই, ভীষন ভাবে আচার সর্বস্ব হয় মন। অর্থাৎ, এই বারে এই খাব না। অমুক সময় ঘরে থাকব। আরো হাজার কিছু। কেউ কেউ প্রচন্ড রকম শুচি বাই হয়ে পড়েন। মহিলাদের ক্ষেত্রে বেড়ে চলে বাতিক। সুস্থ শরীর কে ব্যস্ত করে তোলার নানা প্রক্রিয়া চলে। মধ্য বয়সে মনের জানালা আপনা থেকেই সঙ্কুচিত হতে থাকে। ধর্ম যদি সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহার করা হয়, তবে জানালা বন্ধ হয়ে যায় পুরোপুরি। মন নষ্ট হতে থাকে। বিকার গ্রস্থ হতে থাকে।

 ***********

এখানেই প্রয়োজন spirituality. ধর্মকে ঠিক মত ব্যবহার করা যায়, যদি মানুষটা আধ্যাত্মিক হয়। অর্থাৎ পরিণত হয়। কোনো কিছুই অন্ধের মত বিশ্বাস করে আঁকড়ে ধরলে বিপদ হতে পারে। বয়সের তেজ যত ঢলে যেতে থাকে, লাঠির প্রয়োজন তত বেশি। মন সর্বদাই ভাবতে থাকে: অমুক এলে কি ভালো হয়। অথবা, আগে কত লোক আসত, এখন কেউ আসে না। আনন্দের উৎস, যদি ব্যক্তি বিশেষ অথবা বস্তু বিশেষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন  অনুগ্রহের পাত্র হয়ে দাঁড়াতে হয়। সবচেয়ে খারাপ লাগে, যখন বোঝা যায়, কেউ উপেক্ষা করছে। বিরক্তিতে ভুরু কুঁচকে আছে। খারাপ লাগলেও, সঙ্গ ছেড়ে দেবার মত মনের জোর পাওয়া যায় না। একা কি করে ভালো থাকা যায়?

********

 আধ্যাত্ম কিতা কিভাবে সাহায্য করে: 

 আবারও বলছি, ধর্ম বা আচারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। তাহলে? দরকার কি? এটা একটা থেরাপি। মনের অবস্থা উন্নত করার থেরাপি। যেমন, মানুষের শোচনীয় অবস্থার জন্য দায়ী জীবন সম্পর্কে তাদের গভীর ভ্রান্ত ধারণা। অনেক মধ্য বয়েসী মনে করেন, দুঃখিত হয়ে কিছু পাওয়া যায়। কষ্টের আগুনে নিজেকে পুড়িয়ে ফেলে লোকের কাছে সহানুভূতির আশা করে। 

 *** 

আধ্যাত্মিকতার অর্থ হল, অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপলব্ধি করা। আমার আনন্দের উৎস আমি নিজে... এই সত্য হৃদয়ে আত্মস্থ করা। মধ্যেবয়সে এসে আমরা অনুভব করি, পার্থিব অনেক কিছু আছে। যেটা নেই সেটা হল আনন্দ। শান্তি। কারণ, জীবন কাটিয়ে দেওয়া হয়েছে বৈষয়িক উপার্জনে। শান্তি আনন্দ এগুলি যে উপার্জনের বিষয়, সেকথা কখনো ভাবার অবসর ছিল না। 

******

আধ্যাত্মিকতা কিভাবে সাহায্য করে। 

&&&&&&&&&&&&&&&&

  There is something greater than myself, something more to being human than sensory experience, and that the greater whole of which we are part is coshmic or divine in nature. 

   খুব কটমট কথা। আসলে, এটা খুব সরল এক উপায়। মনের জমিতে নিয়মিত আলো, জল, সার ইত্যাদি দিয়ে তাকে উর্বর করে রাখা। তাহলে, আবেগের উপর সংযম আসবে। শরীর মন আবেগ শক্তি এগুলির সঠিক পরিচর্যা করলে,ধীরে ধীরে ভিতরে এক শক্তির জন্ম হয়। বিচার বুদ্ধি সতর্ক হয়। বোধ পরিণত হয়। জীবন তখন আলাদা মাত্রায় ধরা দেয়। 

**********

  মানুষকে নিজের অভিজ্ঞতার বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে হয়। নিজের গন্ডীর বাইরে গিয়ে তাকালে তবে বৃহতের অনুভূতি হয়। পার্থিব ছাড়তে শিখতে হয়। জলে দুধে মিশে থাকবে, দুধটুকু তুলে খেতে হবে। সংসার সর্বস্ব হতে নেই। তাহলে, সংসারের অবহেলা মনে ধাক্কা দেয় না। এই অভ্যাসটা হল আধ্যাত্মিকতা। জীবনের শিক্ষা মাত্র। যার জন্য আমরা আনন্দে থাকতে পারি। 

********

 বোঝা গেল, নিজের মনের গভীরে প্রবেশ করতে জানা হল এই প্রক্রিয়ার উৎস। যেমন, সাঁতার জানি, রান্না জানি, যৌনতা জানি তেমনি এটাও জানতে হয়, কিভাবে নিজের ভিতর হতে আনন্দের উৎস খুঁজে পেতে হয়। এই জানার অপর নাম spirituality. মধ্যবয়সে সবচেয়ে বেশি কাজের হল এই অভ্যাস।