তৈমুর খান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
তৈমুর খান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

তৈমুর খান

ব্যাখ্যা
______________

মৃত্যুকে দেখতে দেখতে রাস্তা ফুরিয়ে আসছে আমাদের
হলুদ পাখিদের ঠোঁটে ঝুলে আছে বিকেলের রোদ
চৈতন্য ঘেরা বাড়িতে কারা বসবাস করে?
রেলিং এর ফাঁকে ফাঁকে দেখা যায় বোধ

রাস্তায় ধর্ষণ চিৎকার করে
পুলিশ ছুটে যায়
মর্গের উদ্বোধনে নতুন যুবতী
চকচকে অস্ত্রগুলি হাসে

মানুষ যদিও মানুষের ব্যাখ্যা করে
আর মৃত্যুরও ব্যাখ্যা হয়
ব্যাখ্যা শুনতে শুনতে বেলা পড়ে আসে
হলুদ পাখিরা উড়ে যায় কোন্ অন্ধকার বনে!

                🐦
আমার মৃতদেহ
_____________________________

ঝাঁক ঝাঁক পিঁপড়েরা আমার রক্তমাংস খুঁটে নিয়ে যাচ্ছে
আমি বাধা দিচ্ছি না
আমার তর্জনী আর কলম ধরতে পারছে না
আমার বোধের শব্দ ও অক্ষরগুলি ঝরে পড়ছে
কে লিখবে তাদের?

সময়ের কবরের নিচে শুয়ে আছি
কে খুঁড়বে সময়?

উপর দিয়ে সাপ চলে যাচ্ছে
বিস্ফোরক বোঝাই গাড়িও
ন্যাংটো মানুষের দল
আর রাতের সঙ্গম

আমার পাথরচোখ দেখতে দেখতে অন্ধ হয়ে যাচ্ছে

  🐦 
নিজের ছায়ায় 

 এখনো চলার পথ কত বাকি আছে?
 নিবেদন ফুরিয়ে গেছে
 এখন একাকী নিজের ছায়ায় নিজে
স্মৃতির আমলকি গাছের বাতাসে 
জিরিয়ে নিতে থাকি

 দূরের শাদা ডানা হাঁস উড়ে গেলে
 আমার 'দেখা' ক্রিয়াটিও শূন্যে দোল খায়
 কোথাও ঘর নেই যদিও থাকার জায়গা আছে
 যদিও চায়ের কাপে এখনো উষ্ণতা
 এখনো গ্রামবাংলায় পৌষ মাস আসে
 পিতৃ-পুরুষের লন্ঠনটি এখনো দেওয়ালে ঝোলে
 কেউ আর জ্বালায় না ওকে 
 মৃত বাউলের মতো সে শুধু  অতীত জ্বরে জ্বলে

 ভাঙা আয়নার কাছে  দাঁড়াই
 ইচ্ছে করে না নিজেকে দেখি
 আয়ুরেখা দিগন্তের সীমানায় কাঁপে
 ইচ্ছে করে না আর কুয়াশাকে বলি সরে যেতে!

          🐦     

 যদি ছুঁতে পারো

 আমি দৈর্ঘে নেই ,প্রস্থে নেই, শূন্য অবতলে কোথাও নেই
 অথচ আমার ভাষা ব্যাপ্ত চরাচরে শব্দ ও স্বপ্নের তালিকায়
 বাঁচা ও মরার নির্বাহী ক্রিয়ায় ছলকে ওঠে গন্ধে ধূপে

 তুমি এসে ছুঁয়ে যাও যদি ছুঁতে পারো
 যদি  এ নিঃসঙ্গতার বেড়া থেকে আমাকে বের করে দাও!
 ইহজাগতিক পথে  জয়ঘোষণার কাছে কারা কারা গেল ?

 আমি শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে যাব ওই তো জবা গাছ,
 কত জবা ফুল ফুটে আছে সবাই ডাকছে আমাকে 
 তুমি ছোঁও , একটিবার অন্তত ছুঁয়ে যাও!


তৈমুর খান 

শনিবার, ২২ জুন, ২০১৯

তৈমুর খান




________________
১
এক একটা জীব
_______________

যার যা নাম সেটাই তার প্রকৃত পরিচয় নাকি?
তা হলে অভ্যাসেরা কোথায় যায়?
ব্যবহারেরা কোথায় যায়?

সব ৠতুগুলিই বৈশিষ্ট্যে সমন্বিত
ক্রিয়া ও বিশেষণে নারীর মহিমা
শুধু উপমায় লাগে চাঁদ
জ্যোৎস্নারা কে জানে চাঁদের কান্না কিনা!

মেঘ যদি মেঘদূত হয়
কেউ তবে ভোরেরও ভৈরবী
মানুষের ভেতরে মানুষ
মানুষের ভেতরে দেবতা
মানুষের ভেতরে হিংস্রতা
আলো-অন্ধকার প্রান্তরে
অনন্ত আদিম এক একটা জীব
এক একটা নাম নিয়ে উঠে আসে
আবার ডুবে যায়
কাপড় পরে, অথবা পরে না।


২
সস্তা
_______

পরম একাকী হয়ে শুয়ে আছি শীতে
খড়ের বিছানা রোজ আগুনকে ডাকে
এখানে আগুন সব নেতাদের হাতে
আগুনের মার্বেল খেলে আর বিড়ি ফোঁকে

আমাদের কাঁথা নেই, নিরাপত্তা আসে না
ঠক ঠক জ্বরে কাঁপা মুখে গল্প শোনাই
দূরের আকাশ আর নীরব কল্পনা
সান্ধ্য শকুন হয়ে নেমে আসে ভয়

চুপচাপ চোখ বুজে ঈশ্বরের নাম
খদ্দেররা বুঝে গেছে আমাদের দাম!

৩
সময়ের থাবার নীচে
_______________

বেঁচে থাকাই একটা অপমানের মতো
একটা একটা কাঁটা তুলে রাস্তা হাঁটি
আর রাস্তায় সব ভ্রু ভঙ্গি

কোথায় শুকোবো ক্ষত?
ক্ষত শুকোবার দিন চলে গেছে
আজ সব ক্ষতচিহ্ন দংশনের দাগ

সময়ের থাবার নীচে আত্মগোপনের প্রয়াস
শুধুই গর্জন তার প্রগলভ ঝড়
হন্তারক হয়ে নামে রাক্ষুসী আঁধার

সম্ভ্রমের সব পাতা ঝরে গেলে গ্রীষ্মের গাছ
নিঃসঙ্গ চৈত্রের বাতাসে লেখে হাহাকার


সময়ের শূন্য নদীতে ভাসে জ্যোৎস্নার হাড়।

সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮

তৈমুর খান





১
খবর
_____

খবর আসছে , সব মৃত্যুর খবর
কসাইখানা হয়ে যাওয়া পৃথিবী এখন
মৃত্যুর দোকান

আমরা বিক্রি হয়ে যাচ্ছি
বাস ট্রেন রিকশায় ঘরে বাইরে —
যে কোনও মুহূর্তে মৃত্যুযন্ত্র গর্জে উঠবে
আর আমরা কতল হব
উট ও গোরুর মতো , ছাগল ও মুরগির মতো

প্রতিদিন মৃত্যুর জন্মদিন
অশ্রুফুল বেদনামন্ত্র আর উদাসীন ঘুম
আমরা সমর্পণ করে দিই

হে মনীষীলোকের বাতাস
হে প্রেমসুরভি পাখি
হে স্বপ্নমুকুলের মহীরুহ
তোমরা বসন্ত ঘোষণা করো
আর আলোছায়ায় মনভুলানিয়া গাও
আমরা ভালোবাসা খুঁজতে খুঁজতে রক্তে ভিজে যাই
সারারাত হিমের মতন রক্ত ঝরে....
২
বন্ধু
_____

কত চুমু ছড়িয়ে আছে
কুড়িয়ে নিচ্ছি   ।
রোদ আর বৃষ্টি পেলে
নষ্ট হবে   ।
দ্রুত ট্রাক পিসে যাচ্ছে
জুতোর আওয়াজ এগিয়ে আসছে  ।

এপাশ ওপাশ চুমুর বাগান
ঠোঁটের পাপড়ি , পাপড়ির গান
শুনতে শুনতে এই এতদূর
হেঁটে এলাম মুগ্ধপুর
বেলা গেল পথে পথে
ফিরব একা 
ভুলেছি সব

রাত হলে কারা বাজনা বাজায় ?
কাদের পুজো রোজ রাতে  ?
বিহ্বল শুধু ঘুরতে থাকে
আমার সাথে
বন্ধু আমার....

       ৩
অনধিকার
_________

ভয় দেখাচ্ছে
ধমক দিচ্ছে
শাসন করছে
আবার আমি থমকে গেছি

কত দূরে তুমি থাকো   ?
একটা টেবিল
দুটো টেবিল
রঙিন রাত
আলো জ্বলছে  ।
যার যা পিয়াস
পান করছে   ।
হাতের কাছে ঝিকিমিকি
শরীরে শরীর দুলছে   ।
হাওয়ায় উড়ছে বিকিনি  ।

চিতার সামনে দাঁড়িয়ে আছি
সবাই দেখি পুতুল নাচছে
কেউ ডাকে না —
একটা টেবিল, দুটো টেবিল
রঙিন তরল এই শহরে..
                       







শনিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৮

তৈমুর খান,

  
রাস্তা

রাস্তা যেমনই হোক লক্ষ্য শুধু হাঁটা
একটি পৃথিবী থেকে অন্য এক পৃথিবীর দিকে
আমাদের ভাষার ভিতরে অন্য এক ভাষা আছে
আমাদের বাঁচার ভিতরে অন্য এক বাঁচা

রাস্তা খুঁজে খুঁজে বনভোজনের মাঠে
একটি শুধু মৃত প্রেম বয়ে নিয়ে গেছি
আমরাই নক্ষত্রের সাইকেলে

 
     সবিনয় নিবেদন

তারপর সোনালি হাঁস, স্বপ্নদিঘি, চাবিগুচ্ছ
স্বপ্নের তীর ধরে সোজা হেঁটে গেছি
মৃত বিশ্বাসকে বাঁচিয়ে তুলেছি
তারপর সবিনয় নিবেদন
একে একে আকাশে বাতাসে চিঠি লিখে গেছি


   চরিত্র

সারাটা দিন অন্নহীন
শোনো, তবু কখনো চোর ছিলাম না
খড় বিছিয়ে রাত্রিযাপন
শোনো, তবু রাতে যাইনি কারও কাছে
আগুন ছিল, উত্তাপে পুড়ে পুড়ে ছাই হয়েছি
এ ছাই কেউ নেয়নি হাতে তুলে

শনিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৮

তৈমুর খান

তুমি তো জলের মতো
                      

তুমি তো জলের মতো
তোমার সন্দিগ্ধ স্রোতে নামতে ইচ্ছা হয়
এতদিন তীরে তীরে তীর্থ খুঁজে ফিরি
তীর্থে তুমি নেই
শুধু গাছেরা ঝরায় পাতা
উন্মুখ আকাশ চেয়ে থাকে জলে

তুমি তো জলের মতো বহমান স্রোতে
যুগতরী ভাসিয়ে নিয়ে যাও
কারা সব তরীতে যায় ? আমি শুধু ভ্রম
সুদূরের নীরব মরীচিকা

উড়ন্ত ছায়ার ভাষা আমাকে ভেজায়
অথবা ভেজায় না যদিও
কিছুটা প্রলাপ পাই , কিছুটা কুয়াশা
হাওয়া বয়ে যায় দেখি, হাওয়ায় হাওয়ায় গূঢ় পরকীয়া....