ঝুমা চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঝুমা চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

ঝুমা চৌধুরী




#অন্ধকারে মুক্তি

জানলার ওপারটা বড্ড অন্ধকার।
অস্তমিত পশ্চিমি সূর্যের সাথে ডুবে গেলো কতো কি!
বিশ্বস্ত বিশ্বাস ভেঙ্গে যাচ্ছে চোখের সামনে।
আমি আমার জন্মলগ্ন দেখতে পাচ্ছি!
সেই ভোরটা।
প্রচন্ড চিৎকার করে কাঁদছি আমি,
কি ভীষণ প্রসব যন্ত্রনার বিনিময়ে
 আমার পৃথিবীর মাটি ছোঁয়া,
আমি ভুলি কি করে!!!

হাত পা ছুঁড়ে আমার "শিশু আমি" স্বীকৃতি চাইছে
হামা দিচ্ছে,আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াচ্ছে
তারপর এক পা এক পা করে হেঁটে চলেছে।
প্রতি বছর একটা করে জন্মদিন পার করে
ছুঁয়ে দিচ্ছে মৃত্যুর মুহূর্তকে।
খুঁজে চলেছে শৈশবের পুতুলের বিয়ে,
কৈশোরের চোখ ছোঁয়া প্রেম,
যৌবনের শুরুতেই সানাই এর সুর।
কতো আমির অপমৃত্যুতে
 এই "আমার আমিকে" খুঁজে পাওয়া
আমি ভুলি কি করে!!!

বিরাট ভীড়ে প্রথম পা ফেলা আমার।
ভয়ে জড়োসড়ো,
নিরাপত্তার বেড়াটা ভেঙ্গেচুরে 
লোভের বুকে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে,
সূর্যের তাপ আমায় ছুঁয়ে দিচ্ছে!
বাতাস আমার চুল ওড়াচ্ছে!
খোলা আকাশ টা আমি দেখতে পাচ্ছি!
চৌকাঠের বাইরে পা আমার!
সম্পর্কের মুঠো গুলো আলগা ক্রমশ,
আমি ধরে রাখতে পারিনি।
কেউ ভালোবাসে না,কেউ ভালোবাসেনি।
সেই ভোর থেকে আজও "একা আমি,"
আমি ভুলি কি করে!!!



মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

ঝুমা চৌধুরী

#বৃষ্টি যখন (অনুভবে)

কি ভীষন শীত করছে।চোখ জ্বলছে খুব।বাইরে অবিরাম ঝমঝম।হ্যাংলা উঠান ভিজে যাচ্ছে।ভিজে যাচ্ছে কলতলার এক পাশে উল্টে রাখা বালতি টা।আর এক কোণে একা একা পড়ে থাকা তুলসী মঞ্চ।
আজ সন্ধ্যায় ওখানে প্রদীপ পড়েনি,শাখ বাজেনি।দুটো হাত বারান্দার গ্রিল ধরে উঠানের ধৈর্য মাপছে।জলের ফোঁটা তীরের মতো হাতে বিঁধছে।শরীরের তাপমাত্রা আরো কয়েক ডিগ্রি বাড়লো বুঝি!!!
ক্যালপলের পাতাটা নিয়ে নাড়াচাড়া করে যাচ্ছে হাত।নাঃ,নো মেডিসিন।বাড়তে থাকুক,আরো বাড়তে থাকুক।জ্বোরো গায়ের বেশ একটা আদুরে গন্ধ থাকে,মনে একটা ঘোর থাকে।আবোলতাবোল কথা জিভ ছুঁয়ে ফেলতে পারে সহজেই।
     মাঝে মাঝে একটা জলজ্যান্ত অসুখ খোঁজে মন।এমন অসুখ যেখান থেকে আর সুখি মানুষদের ছোঁয়া যাবে না।কতো মানুষের বাড়তি ভালোবাসার দাম দিতে হবে না!অধিকার হারানো অভিমান গুলো আর হারাবার ভয় পাবে না।অবজ্ঞা ছুঁতে পারবে না।উপেক্ষা মনবল ভাঙ্গতে পারবে না।হঠাৎ করে সামনে আসা ভয়ঙ্কর মানুষগুলো একগাদা অপমানের কালি ছিটিয়ে দিতে পারবে না।প্রতিদিন ঋণ শোধ করে যেতে হবে না কোনো এক ভোর ওঠা প্রসব যন্ত্রনার।এক ধাক্কায় দরজার ওপারে ছুঁড়ে ফেলা হাত গুলো আর  চেনা চেনা লাগবে না।লোভে মাখামাখি চাহিদার কাছে ওরা হেরে গেছে হয়তো!!তাতে কি?কোনো এক বাঁকে এসে স্রোতে হারিয়েছে খুচরো কিছু প্রেম,পরিত্যক্ত হয়েছে মান অপমানের নিত্তি মেপে। তাতে কি?তাই বলে কি বাঁচতে নেই!!তাই বলে কি খুশি থাকতে নেই!!তাই বলে কি ঠোঁটকে কেটে ছিঁড়ে রক্তাক্ত করে হাসি টুকু কেড়ে নিতেই হবে!!
জলের সাথে মিলে গলা দিয়ে নেমে চলেছে ট্যাবলেট।নরমাল টেম্পারেচার আর কিছুক্ষণের মধ্যেইইই।আবার একটা কবিতা নেবে আসবে আঙ্গুল বেয়ে,আবার একটা সেল্ফি আমার পিঠ চাপড়ে বলবে আমিইইই পারি।আমার বোকামো গাল টিপে দিয়ে বলবে "যার এক ফোঁটা রক্ত এতটাই মূল্যবান যে মাটি ছুঁলেই শরীর রক্তশূন্য হয়ে যায় তাকে বাঁচার জন্য অন্য কোনো হাত, অন্য কোনো বর্ণ,অন্য কোনো শব্দ খুঁজতে হয় নাকি!!"

ঠান্ডা হয়ে যাওয়া শরীরটা আবার আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।চোখের কোল ঘেঁসে কালি।তাতে কি!!!এখনো লালচে একটা ভালোবাসা আমার মন জুড়ে।শুধু অনুভুতিটুকু থাক!!

শব্দ গুলো নাইবা করুক দেখা,
বুকের ভিতর জমতে থাকুক ভীষণ ভালোবাসা.........

শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৮

ঝুমা চৌধুরী


#স্বার্থান্বেষী 

তোমার যন্ত্রনা খুঁড়েই ভালো থাকার মন্ত্র পাঠ করি আমি
তোমার শূন্যতায় অহংকার দাপিয়ে বেড়ায় আমার।
অপূর্নতা তোমায় আমৃত্যু সঙ্গ দিক
তুমি ভালোবেসে জীবন দাও আমায়
আমি জীবনের লোভে অভিশাপ রাখি

ঈশ্বর আমার সাধনা
তুষ্ট দেবতার কাছে 
তোমার দুরারোগ্য অ-সুখ বর চাই আমি
.
.
যে বুক চাষ করে রোজ আর কারো ঘুম
সে বুকে জমুক শোক
কান্না নামুক, 
আর তোমার আমার বন্ধন দৃঢ় হোক!

             

মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১৮

ঝুমা চৌধুরী


প্রেমের ইতিকথা

যেখানে অবহেলা খোদাই করে আকাশ,সেখানেই খুঁটেখুঁটে পুরনো হয়ে যাওয়া আবেগ খোঁজে নদী

একে তো আষাঢ়!বারবার ভিজিয়ে দেয় আঁচল চাপা হৃদয় , নাভি ছুঁয়ে কদম চোঁয়া জল যখন সঙ্গম চায় ,প্রেমিক তখন তার নাম দেয় যৌনতা

অথচ শুধু একটা চুমুই তো  চেয়েছিলো জল চুপ চুপে পায়ের পাতা ,দেখতে চেয়েছিলো কতোটা ঝুঁকতে পারে ও দেশের অত্যাচারী রাজা একটা ছেঁড়াখোড়া শরীরের ফ্যাকাসে মন কে স্বীকৃতি দেবার তাগিদে

কিন্তু সব সংযম হারিয়ে শুধুমাত্র মৎস্য কন্যার আঁশটে শরীরী গন্ধেই মুগ্ধতা রাখলো এ কোন সন্ন্যাসী!!
.
.
উপসংহারে এসে ,
একদিন সব বিশ্বামিত্রের ধ্যান ভাঙে
তারপর রক্তস্রোতের আগুন নিভিয়ে মেনকাকে গর্ভবতী করে আবার ধ্যানমগ্ন হয় তারা

               #

শনিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৮

ঝুমা চৌধুরী


#পরকীয়া

মৃন্ময়, 
বাঁকা চাঁদের আলো এখন আবিরের চাদর গায়ে দিয়ে আছে
জানো না এখন তো বসন্তকাল !
শিশির পড়ছে টুপটুপ করে

আগের বসন্তে কি হয়েছিলো তুমি জানো না বুঝি!!

শিশির এসে ভাব জমালো
নিশিরাত তারাদের দিলো জ্বালিয়ে
চাঁদ বসলো শিশির কণার গা ঘেঁষে
গল্পে গল্পে আদর
আদরে আদরে উষ্ণতা
বসন্ত  উঠলো ঘেমে!
"চাঁদের বুকে দাগ" লাগলো
চাঁদ তার নাম দিলো "ভালোবাসা" 

মৃন্ময় জানো, তখন রোজ লজ্জা ভাঙতো চাঁদের!
রোজ ইচ্ছা করে উড়িয়ে দিতো বুকের আঁচল
শিশির গড়িয়ে পড়তো কপাল থেকে গাল গাল থেকে ঠোঁট
ঠোঁট থেকে গলা বুক পেট নাভি....
জানো মৃণ্ময় একদিন কি হলো!!

ভোর হলো,বেলা বাড়লো
ঝলমলে রোদ
কই শিশির!!!
রদ্দুরের হাত ধরে সে আকাশেরই বুকে অন্য কোথাও!
ওরা এক পর্দার আড়ালে!
এক দরজার পেছনে!
এক চাদরে!
ওরা সহবাসে!

তার পর থেকে বসন্ত এলেই চাঁদ আবিরের চাদর মাখে।
মৃন্ময়, তুমি জানো না আগের বসন্তে কি হয়েছিলো!!
সবাই বলেছিলো "চাঁদ শিশিরের পরকীয়া"
অথচ চাঁদ ভালোবেসে "সহমরণ' চেয়েছিলো।

                     ঝমা চৌধুরী


#একটা অন্য গল্প

মরে যাওয়া নদীটার গা ঘেসে 
হেঁটে যাচ্ছিলো কালো প্রেমিকাটি
তার চোখের গভীরতা মাপতে গিয়ে একদিন
ডুবে গিয়েছিলো ভবঘুরে প্রেমিকটিও
ওর কালো গালে চুমু লেপে দিয়েছিলো
ঠোঁটে আঙুল রেখে বলেছিলো,"হোক না কালো
তবুও ও মেয়ে তুই ভালো"

তারপর কোনো একদিন নির্জন দুপুরে বৃষ্টি ভিজলো দুজন
এক ভারাক্রান্ত বিকেলে একসাথে সূর্যাস্ত দেখলো
মুড়ি চপে একটা সোহাগী সন্ধ্যা বাঁচলো
আর গভীর রাতে খসে যাওয়া তারা দেখে আনন্দে আত্মহারা হলো
মেয়েটি আহ্লাদী সুরে বললো,"এমন করেই জীবন জুড়ে সোহাগী রঙ ঢালো
ও ছেলে তুইও বেশ ভালো।"

এরপর কোনো এক ফাল্গুনে লজ্জা ভাঙল খিল
মনের অলিগলি পার করে মুঠো খোলা সুখ
উড়িয়ে দিলো বুকের আঁচল!
মনের ভাঁজ খুলে ডুবকি লাগালো শরীরী উপত্যকায়
গোপনীয়তা বেড়া জালে লাগলো আগুন
কালো প্রেমিকা ছড়িয়ে পরলো
দুপুরের চিলেকোঠায়,অন্ধকার সিঁড়ির ঘরে,পোড়ো বাড়ির থামের আড়ালে

বাকী টুকু ইতিহাস লিখলো অবজ্ঞার নীলচে খোলসে

"ব্যাকরণ না মানা প্রেম গনগনে আগুনের শিখা তাই
না ছুঁলে তিরতিরে জ্বালা
ছুঁয়ে দিলেই ছাই...."

                        ঝুমা চৌধুরী----

#স্বপ্ন বাড়ি

ষড়ঋতু জড়িয়ে,অলস দুপুর আর নির্জন রাতের গায়ে পিঠ ঠেকিয়ে
তোমার আমার অসমাপ্ত উপন্যাস

তোমার ছুঁড়ে দেওয়া শব্দ খুঁটে খুঁটে তুলে রাখি আমি,
তোমার আলগা অভিমানে বুলিয়ে দিই ভালোবাসার লালচে তুলি
কিছু ঝগড়া পুষি সোহাগী সংলাপের রেশ ধরে

আড়াল টপকে যেটুকু আদর
আমার মনের গলির মুখে পৌঁছে দাও তুমি
সদর দরজা খুলে তাকে তুলে আনি।
মনের আড়াল ভেঙে মিশিয়ে দিই শরীরী ঘামে

ঠান্ডা গরম ভাত নেই,কয়েনের ঝনঝন নেই
পুষে রাখা সম্পর্কে অহংকারের ঝাঁঝ নেই
দিন শেষে ঘেটে ফেলা বিছানায়
অধিকারের আঁশটে গন্ধ নেই

শুধু আছে,
আদরে সোহাগে অভিমানে অনুযোগে
অনুভবের আঙুল ছুঁয়ে স্বপ্ন পাড়ায়
তোমার আমার অন্য একটা বাড়ি "ভালো বাসা"...
                  

রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঝুমা চৌধুরী



#ক্যানভাস 

 লাল রঙ খুঁজতে গেলেই আমার কৃষ্ণচূড়ার কথা মনে পড়ে
কৃষ্ণচূড়া মনে এলেই আমি বসন্ত হাতড়াই
বসন্ত ছুঁলেই আমি অতি সহজে মেপে ফেলি
তোমার প্রেমের গভীরতা
তাই তো লাল আমার খুব প্রিয়!

তুমি নীলচে আকাশ ভালোবাসো
সমুদ্রের নীলে ঢেউ ভাঙো তুমি
মন্থিত সমুদ্রের অমৃত টুকু অবলীলায় ভাসিয়ে দিয়ে
বিষভান্ড বয়ে বেড়াও
নীল বুঝি তোমার ভীষণ প্রিয়!

তুমি হাত পাতো
তোমায় দিই এক তুলি লালচে কৃষ্ণচূড়া বসন্ত
আর আমি ভাগ করে নিই বিষাক্ত চুম্বন শেষে
নীলচে আলিঙ্গন অনন্ত!

                     
শুধু স্বপ্নে!!

যে কথা গুলো বলার পর কবিতা হয়ে যায়
সেরকম কিছু কথা গোপনীয়তা ভাঙে তোমার কাছে এসে
যে আদর গুলো ফোরানোর আগেই গল্প হয়ে যায়
এমন কিছু আদর ধরা পড়তে চায় লজ্জা ছুঁড়ে ফেলে
তারই মাঝে রেশারেশি চলে "কে প্রথম" খুঁজে দেখেছির বোকা সংলাপের
সময় মাপে অভিমান 
কৈফিয়ত চায় অভিমান
ঝগড়া ছোঁড়ে অভিমান
ভালোবাসা এসে বলে "আমি আছি তো!"

সময়ের এই স্রোতের তোড়ে আমরা যে বড়ো অসহায়!
যে প্রেম প্রশয় পাবার অধিকার রাখেনা
তাকে হাত ধরে পৌঁছে দিয়ে আসি স্বপ্নের বাড়ি
অথচ,
তুমিও জানো, আমিও বুঝি
"আমাদের" ঘর বাঁধার জন্য পৃথিবীতে কোনো জমি খালি নেই...

জীবন চক্র

তখন কারোরই ফেরার কথা ছিলো না
তবু ওরা ফিরে এসেছিলো পচা ডোবার ধার ঘেঁষে
তার কিছুটা দূরে ওই যে ভাঙা বাড়িটা!!
ওর বড়ো বড়ো থামের পেছনে কতো প্রেম নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো
নগ্ন শরীরের খাঁজেখাঁজে জ্বলে পুড়ে
আর একটু এগিয়ে বছর পুরোন বটের ঝুড়ি ধরে
দোল খেয়েছিলো যে শৈশব
মাঠেঘাটে পুকুরে জঙ্গলে অবশিষ্ট সরলতা টুকি রেখে
ওরা এখন সংসারী 
আজ কাল ওরা প্রতিদিন জীবন থেকে খুঁটেখুঁটে
মৃত্যু জমিয়ে রাখে
স্নান খাওয়া, রান্নাবাড়া প্রাত্যহিক কর্মের মতো
মধ্যরাতে ওদের বিছানায় যৌনতা নামে
ওরা আর কেউ নয়
ওরা "মানব জীবন"
ওরা "নারী পুরুষ"
ওরা ভালোবাসাহীন অভ্যাসের  সংগমে জন্ম নেয়
আর চাতকের মতো অতৃপ্তি নিয়ে ছাই হয়ে যায়
জীবনের শ্মশানে, সংসারের চিতায় জ্বলতে জ্বলতে.....



মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

ঝুমা চৌধুরী


চিরন্তন

তুমি বদলে গেছো!
যে ভাবে দুনিয়া রঙ বদলায়!
যেভাবে ভোর থেকে দুপুর, দুপুর থেকে বিকেল
বিকেল থেকে সন্ধ্যা আর সন্ধ্যে থেকে রাত
রঙ বদল করে,
যে ভাবে আকাশের সাথে তাল মিলিয়ে
সাগর রঙ বদলায়,
যেভাবে সরকার রঙ বদলায়,
খুব স্বাভাবিক নিয়মে
খুব স্বাভাবিক কারনে
তুমিও বদলে গেছো!

আফসোস নেই কোনো।
এমনি তো হয়!

সে বার ও পাড়ার ছটফটে অহল্যা বদলে গিয়েছিলো, 
নববধূ তে!
পাশের বাড়ির রমার বর বদলে গিয়েছিলো, 
অবৈধ প্রনয়ে! 
ছোটোবেলার কাবাডি খেলার সঙ্গীটিও বদলে গিয়েছিলো
ত্রিকোণ প্রেমের লড়াই এ!
রকবাজ সনাতনও বদলেছিলো জানো
কুখ্যাত পেটো বাজিতে!
জনদরদী ছাত্র নেতাটিও  বদলে ছিলো
হঠাৎ পাওয়া নেতৃত্বে!
আমার বাড়ির বিশ্বাসী কাজের মেয়েটি কি অদ্ভুত ভাবে বদলেছিলো 
এক মুঠো জিরে তে!

তুমিও বদলে গেছো তেমন।
তো কি!!!
আমিও তো বদলে গেছি অনেক খানি।

এই যেমন ধরো,
এই গত শ্রাবণ, আমায় তুমি খুঁজেছিলে।
আমি ছিলাম বেপরোয়া নিজের মতোন,
এ শ্রাবনে তোমায় আমি হাতড়ে চলি
তুমি থাকো উদাসিন তোমার মতোন!
খুব স্বাভাবিক,
এটাই নিয়ম!

তবুও,

চলকে পড়া খুশির পাশে "দগদগে ঘা" স্পষ্ট
চোখের তলার বাড়তি কালি "এডিটিং-এ নষ্ট"।