কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

শীলা বিশ্বাস

 


 বর্ষা যেমন লেখায়

      

১

এই যে সারাদিন তুমি ঝরছ কবিতায়

আমার কি দোষ বলো

যদি প্রেম পায়

 

প্রেমের আয়ু নিয়ে ভাবি না

মুহূর্তটুকু ধরি

 

 

২

এই রিম ঝিমে

রেট্রো করে ভাইরাল আমরা

অমিতাভ মৌসুমী

 

বয়স কে মনে রাখে!

 

 

৩

গাছে কদম ফুটে থাকলে

আড়ালে কেউ বাঁশি বাজায়

কেন যে হঠাৎ পড়ে গিয়ে

 

থেতলে যায় প্রেম!

 

 

 

৪

রাস্তার জমা জলে

স্কুল বেলা ফিরে আসে

 

আগে পিছে দেখে নিয়ে

একবার ছিটিয়ে দিই

 

আশির দশক ঢুকে আসে জলপথে

 

৫

কথা না শুনলে

বজ্র হুমকি দেয়

কাকে!

আমাকে নয় তোমাকে নয়

 

পৃথিবীকে

 

 

৬

 

 সাদা কালো হট সিনে বিদ্যুৎ চমকাতো খুব

 সেই থেকে বিদ্যুতে নাবালক ভয়

 

৭

দূরের গ্রামে বৃষ্টি হয়েছে

ঝরনা ফুলে উঠছে

তোমাকে দ্বীপ বানিয়ে ঘিরে ধরতে পারে

 

কিছু রূপ দূর থেকে সুন্দর




সমিধ গঙ্গোপাধ্যায়

 


 



হিং টিং ছট



মগ্ন রাঙাছুটি

ছাতায় ঢাকা যাত্রাপালা, চোর

মশালঝাড়ু কণাদে উষ্ণীষ

***
তেইশে এলো রাক্ষসের পলি

ডিম্বাণুর স্তনে বর্ষাকাল

শেষনাগের ধ্যান ঝুলছে সিলিং পাখা ধরে

বিষাদ গৃহী

পারঙ্গম নয়

***
রসালো জেদ

একান্তই আমার ভীমরুল

ধাই নাচাও চিতল জ্যোৎস্নায়

***
স্থান তোমার রেশম গুটিয়েছি

বিসংগত আখর হয়ে ফাটো

***
মশকপ্রায় বিকেল চটকানি

সোনারঙের বাছবিচার পটলচেরা খেই

প্রেমিক আজও নিতল প্রস্তাবের শাহরুখ 

গার্গী সেনগুপ্ত

 


বৃষ্টি হোক



বৃষ্টি একা হোক  তবুও দেখা হোক
চাওয়া তো এইটুক

অস্ত যায় যাক কিছুটা রেশ থাক
সে ভালোবাসা হোক

ইচ্ছে থাকে থাক গভীর ফিরে পাক
অথই মন ভার

এইতো শূণ্যতা মেঘের মনে ব্যথা
হয় তো হোক না

রঙ তো ধূপছায়া  তারার বুকে মায়া
স্পর্শ ধুয়ে যাক

হাওয়ায় স্মৃতি থাক শ্যাওলা ফিরে পাক
পুরনো বাথটব

বৃষ্টি উপশম  মেঘের বুকে ওম
গন্ধ রেখে যায়

স্পষ্ট অভিমান ম্যাজিক জলস্নান
ঝাপসা করে দেয়।

অস্ত যায় যাক, কিছুটা রেশ থাক
সে ভালোবাসা হোক

বৃষ্টি একা হোক  তবুও দেখা হোক
শ্রাবণ অপরাধ

ইচ্ছে থাকে থাক গভীর ফিরে পাক
অযথা মন ভার।
-----------------------------------

জয়শ্রী দাস মন্ডল

        





তুমুল_বৃষ্টি



মেঘ করেছে আকাশ জুড়ে 
বৃষ্টি চাই, তুমুল বৃষ্টি...
এসে ভিজিয়ে দিক সব কিছু।
তপ্ত রুক্ষ মাটি ভিজে গিয়ে সেখান থেকে বের হোক সোঁদা গন্ধ।
গাছের পাতারা ভিজে দূর করুক ওদের মলিনতা।
গাঢ় সবুজে চারিদিক ঝকঝকে হয়ে উঠুক আর‌ও।
রোদের তাপদাহে ধুঁকতে থাকা কুকুরটা একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিক।
স্বজনহারা ক্লান্ত পাখিটি দুদণ্ড বিশ্রাম নিক কোন‌ও গাছের শীতল ছায়ায়।

বৃষ্টি চাই, তুমুল বৃষ্টি..
এক পশলা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিক আমার চোখ মুখ।
আমি আড়াল করে রাখা কান্নাগুলোকে বিলিয়ে দেব এক নিমেষে।
আমার সমস্ত অপারগতা, আমার সমস্ত অসহায়তা, আমার মনখারাপের মুহূর্তগুলো 
সব... সবটুকু উজাড় করে দেব বৃষ্টির জলে।
এতটাই ভিজতে চাই, যেন কেউ বুঝতে না পারে তুমুল বৃষ্টির জলে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে ছিল কিছু নোনা জলের ধারা।

আমি বৃষ্টি চাই, তুমুল বৃষ্টি.....

সুবিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

          


ভাসান 
 

প্রতিটি বর্ষাই প্লাবন সম্ভবা... 

যত বার ভিজে গেছি 
হাবুডুবু,হাবুডুবু
জল থেমেছে ঠিক নাকের নীচটিতে এসে।

প্রতিটি বর্ষাই বড় বেশি প্লাবন সম্ভবা।

করতলে গন্ডুষ করেছি জল।
আচমনে পরমান্ন আঘ্রাণ, তবু
হাবুডুবু,হাবুডুবু... প্রাণ!

শ্বাস বায়ু গেল বুঝি ভেসে... 
ওষ্ঠাধর প্লাবিত নিরুদ্দেশে।

শঙ্খ মিত্র

 


 দোলাচল



বাঁশপাতার ফাঁকে ফাঁকে যেভাবে গলে পড়ে চাঁদ
সম্পর্কের ভেতরে ঝরছে (বিষ ও শ্বাস) বিশ্বাস
পেছনে ছাড়া পড়ে গেল যে ঐশ্বর্য
তা আসলে সালঙ্কারা অপরাধবোধ
এখানে মুহুর্মুহু বদলে যায় হাওয়ার অভিমুখ
পথ চলি সন্ত্রাস গুনে গুনে

যে পানকৌড়ি বসে আছে শান্ত জলের পাশে
তার ডানায় ডানায় খোদিত জিজীবিষা
সে জানে সময়ের আবহমান স্রোতে গা ভাসানোর কৌশল
অথচ মানুষই কী অদ্ভুত
শরীরের গলিপথ জুড়ে সর্বস্ব দোলাচল
শোক বিহ্বল জরা
একটা পবিত্র নদীর আশায় বসে থাকতে থাকতে
অযুত বৈপরীত্য নিয়ে পার হয়ে যায় কালানুক্রমিক সেতু






সুরজিৎ বেরা

 


• চিহ্ন 
 


'বন্ধু' শব্দটি খুবই সহজ-সরল ও শান্ত।
গ্রামের জলভরা মাঠে 
নিবিড় আবেগপ্রবণ গতি তার চর্চা
ভীতুরোমাঞ্চিত অনিশ্চিয়তা তার ডুব
অমরত্বের টলমল মঙ্গলগান তার প্রতিরক্ষা

সান্নিধ্যের স্পর্শকাতরতা, তাকে
অসমাপ্ত ফুলের মালায় অনুগত করে

শুধু, মাঝে মাঝে 
দগ্ধ কিছু শব্দের দৈত্যশালী আক্রমণ
চিহ্নের পরাক্রমী রূপময়তাকে বন্দি বানায়


চয়ন ভৌমিক






 যে ভাবে সংলাপ নিভে যায় 



 ক্রমশ কথা কমে আসে। 

সময়ের রাস্তা মিশতে চায় না
আশ্চর্য নির্লিপ্তিতে। 

যে মুখর জনপদ, উন্মুখ ছিল
হাটের প্রতিটি পসরায় - 
সে-ই আজ স্তব্ধ হয়ে আছে বিসম্বাদে... 

আসলে, এই বিচ্ছেদ অনিবার্য 

যে ভাবে ট্রেনে চড়ে দূরত্ব বাড়ায়
বিষণ্ণ ধ্রুবতারাটি, নির্মোহ বটগাছ

সে ভাবেই মরীচিকা হয়ে যায় একদিন সব মরুদ্যান। 

পরিত্যক্ত ভূমিতে পড়ে থাকে 
কিছু বিক্ষোভ ও অস্পষ্ট চাকার দাগ।।

সুবীর ঘোষ

           



বর্ষা এলেই


 

 

বুঝতে পারিনি বিকেলের শেষে ফর্সা আকাশ জাগবে,

সকালের সেই কান্না-চোখ যে পাল্টাবে ভাবা যায়নি।

আমার তো ছিল বান্ধবদের মহলা যাবার দায় ---

কিছুই হল না , শুধু একা ঘরে নগ্ন নিজের নাচ।

 

বর্ষা হলেই মনের ভেতর আকাশ ভাঙার পাট,

প্রহরে প্রহরে জর্জর করে সুখশরীরের যোগিনী।

সেই তো একদা শিখিয়ে দিয়েছে নীললালরংবাহারে ---

বৃষ্টির জল ঘরে ডেকে এনে শয্যাপ্রচার খেলতে।






নন্দিতা দাস বসু

     


এলোমেলো কথারা...


মনখারাপের অলিখিত সুরে
বেজে ওঠে হঠাৎ ভৈরবী,
ইমনকল‍্যাণ কবেই নিয়েছে ছুটি
মল্লারের অস্থায়ী জলছবি;

আকাশে এখন বসন্তরাগ ভেসে
যদিও অবকাশে কালবৈশাখী আসে,
গন্ধরাজের পাগলপারা মন
স্নিগ্ধ জুঁইয়ের মাতাল আবেশে:

একটা দুটো এলোমেলো কথা
বুনতে চায় মস্ত উপন‍্যাস,
কথার পিঠে কেবল কথকতা
দাম্পত্যের নির্মেদ সহবাস;

নাগরদোলার হুল্লোড়ে আব্দার
রাখতে চাইছে মেলার আগুন্তুক-
তবুও আসে রংবেরঙের ইচ্ছে
বাউলকবি যেমন খুশী সাজুক;

কিছু স্বপ্নে অলীক ভাবনা মেশে
কোনটায় বা আগামীর অপেক্ষা ,
হয়তো বা আছে অজ্ঞাত ঈশারা
গোল্লাছুটে পেতেও পারো রক্ষা ;

সম্পর্কের গোলকধাঁধায় শুন‍্য
বদলায় শুধু তোমার আমার স্বপ্ন,
এক পলকেই সবটুকু অগোছালো
বেঁচে থাকুক স্বার্থহীন যত্ন.. 

ধৃতিরূপা দাস

 


 




সংখ্যা মাত্র 

তুমি তো বিনীত 
কিছুই পারিনা
অথচ বলয়ে থাকছ, খাচ্ছ
কোদালে মেঘের উদার আকাশ দেখছ কিন্তু 
পার না তো ফলে কোদাল টাননি 
ফলত কোদাল আমাকে নিয়েছে
আমি তো সংখ্যা মাত্র! 
কবে যে নিয়েছে!
সে তবে থেকে এ উদার আকাশ কুপিয়ে 
কী জেদে বর্ষা এনেছি — ভেপসে পোড়াব।

পুড়লে মাংসে যে স্বাদ —
লালার আদিম স্মৃতিতে উথলে উঠলে 
কী হবে তোমার কে জানে!
সকলই কোদাল এবং খোদার ইচ্ছা…
আমি তো সংখ্যা মাত্র!
বিনয় শিখেছি তোমার কাছেই 

সায়ন্ন্যা দাশদত্ত

 


সংগীত


যে অন্ধ মেয়েটি শিখেছে গান। সারে গা অথবা মা তে থমকে দাঁড়িয়ে রইল বিকেল। চিঠি আসতে পারে। আকাশে মেঘ। আর তিনটে চব্বিশ বাস। হর্ন বাজলো। মেয়েটির নাম রেণুরানী আদক। ইস্কুলে নাম নেই। দুপুর গড়ালে ঝিঁঝিঁ চাদর খোলে। কালভার্টে দাঁড়িয়ে পড়া যুবক। গোঁফ উঠেছে। গোপনে সেদিন বুকে পেড়েছে হাত। ঘোরানো হাত। সঠিক পুরুষ নয়। সদ্য ওঠা গোঁফের মতো নরম। রেণুবালা কি গান রেখেছো বুকে??
স্তন নেই,
আদিঅনন্ত আনন্দলীলা বাজে। সংসার নেই। রেণুবালারা অন্ধ যেমন মানুষ। এসেছে লীলায় বাঁধন তেমন নয়। বাজো সংগীত। অন্ধ এ বুকে বাজো।

শম্পা মাহাতো

 






স্বপ্ন


আলোকবর্ষ অতিক্রম করেও আলো আসে।

ছুঁয়ে থাকে। কখনওবা মায়ের আদর হয়ে স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না। জড়িয়ে ধরে। 


দুঃখভাবনার গায়ে লতানো গুল্মের মত লেপ্টে থাকা ভয় থেকে কোনওমতে পাশ কাটিয়ে এগোতে গিয়ে মুখোমুখি হই স্বপ্নের।


আমার বন্ধুর নাম স্পর্শ। ধর্ম অস্পৃশ্যতা। আমি হাত বাড়ালেই স্পর্ধা চোখ রাঙাচ্ছে। দেখো ভুল। দেখো ভুল করছি বারবার আর ভালোবাসা প্রতিশোধ নিচ্ছে। ফুরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত যতটুকু জ্বালানি। নিজস্ব। তার ওপারের আগুন নিয়ে খেলা করছে। হাসাহাসি করছে সময়।


বর্ষা বাড়ন্ত হলে লেখার ওপর ঝরে পড়ছে মায়ের চোখের জল। যার নিকট নেই। দূর নেই। সবটাই শুধু আছে। সূর্যের মত চিরসত্য হয়ে।


তবু অন্ধকার

লুট করছে আমায়।

----------


ধন্যবাদ


 



সব্যসাচী মজুমদার


 


হঠাৎ সবই শীতের মতো এল 

 


হঠাৎ সবই শীতের মতো এল ।
পাহাড় থেকে দেখতে পেলাম খাঁই,
কুয়াশাহীন তেন ও ত্যক্তেন…
আমার তুমুল পশুপাখির চাই ?

খাচ্ছে ওরা ! চাটছে ওরা স্বাদ ?
ওদের ছায়া অবশ্য উদ্বায়ু ।
স্পষ্ট আলোর জন্যেও সংঘাত 
বাড়ছে বলে সতর্ক হয় স্নায়ু…

তারপরে ঢেউ পাল্টে দিতে এল 
ভূতের মতো অসংখ্য হাত-ঘড়ি…
এইখানে তোর বহুত্বে উদ্বেলও
বুঝতে পারে সমস্ত মঞ্জরী !




বৈদূর্য্য সরকার

 


অপ্রচলিত 





কার সাথে হয় ভাব কাকে ছোঁড়ো ঢিল
সব জানতে পারলে জীবন অন্যরকম হতো,
'বৃষ্টি আসলে ঠিক নদীতে ভাসাবো সাধের নৌকা...'
এতো পর্যন্ত লিখলে কেউ বলবে এসকেপিস্ট ;
কত কাজ পড়ে আছে, হয়নি যা কথা হয়েছিল
ব্যর্থতা পাহাড় জমে হারিয়ে গেছে বাঁচার পথ ।
কার সাথে বৃষ্টি সন্ধে কতদূর একসাথে হেঁটে 
বহু ঠেক ঘুরে অনেক ঘাটের জল; সংসার সফরে
থমথমে মেঘ আর রিমঝিমে পেগ বললেই
কেমন যেন একটা অন্তঃমিল, 'লিরিক প্রবণ
হওয়ার বয়স কি আছে' বৃষ্টিদিনে প্রশ্ন ছিল, 
প্রশ্ন ছিল অনেকরকম যৌবনে মনকেমন 
প্রতিদিন আশায় থাকা তোমার ; যুগ পার করে
উত্তরের অবকাশ হয় না কারোর আজকাল। 
চিৎপুর সন্ধে ট্রাম ফিরিয়ে আনে কি মন্ত্রবলে
রয়্যাল থেকে যেই আমরা চাঁব খেয়ে বেরিয়েছি
বৃষ্টি নেমে পড়ে, আতর অতীতে হলুদ ট্যাক্সি ভরসা
কথা ফুরিয়ে এলে দেখেছি কোথায় হারায় মায়া। 
বৃষ্টিদিনে রবিঠাকুর খিচুড়ি ছাতার বাহার
সব গিয়ে প্যাচপ্যাচে কাদা জুতো প্যান্টে মাখামাখি, 
বুঝতে পারি বৃষ্টি হাঁটার দিন ফুরোলে এমন 
বিরক্তিকর লাগে নিজেকে, ক্যাসুয়াল লিভ কিংবা
ঘরে বসে বৃষ্টি দেখার ইচ্ছেরা ক্যাপসুল গিলে
নিত্যদিন নিম্নচাপে খরচা করে গোপন কথা,
নিরপেক্ষতা আসলে একটা বিরাট বড় ঢপ
বুঝে ফেলার পরেও প্রতিটি মন্বন্তরের শেষে
বৃষ্টিদিনে কতবার তার কাছে পেতেছি দু'হাত,
তারপরে প্রতিটি মানুষ অনর্গল তর্ক করে । 

শর্মিলা ঘোষ

 




সম্পর্কের উষ্ণায়ন


বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো বাড়ছে সম্পর্কের তাপমাত্রা ,
শৈশবের নিরেট নির্ভেজাল সম্পর্ক কাঁচের ঘরের মতো ভেঙে গেছে,
হ্যাঙারে টাঙানো ব্যথা আমরা ঝেড়ে পুছে গুছিয়ে রাখছি মনের আলমারিতে,
আমাদের ভেতরের রক্ত ক্ষরণ লুকিয়ে রাখছি গ্ল্যামারাস প্রোফাইল পিকচারের চমকে,
প্রকৃতির গভীর অসুখের মতো দূরত্বের অসুখ পিছনে ফেলে লং ড্রাইভে ছুটে চলেছি.......
এর শেষ কোথায় আধুনিক বিশ্ব জানেনা,
সুখের ওপর জি এস টি বসিয়ে মূল্যায়ন করছি সময়ের।
মায়া শব্দটা ডিকশনারি থেকে মুছে দেবার চেষ্টায় একে অপরকে অতিক্রম করে চলেছি .........

শ্রীলেখা মুখার্জ্জী

 



আফসোস

উদযাপনের তেমন কিছুই নাই
হাতের মুঠোয় প্রাত্যহিকীর ভোর
পেলব ঘাসে আরাম খোঁজাটাই
আগল খুলে উদোম হাওয়ার জোর

পূরবৈয়াঁয় জুঁইলতাটির দোল
থমকে গেছে দিন পেরিয়ে রাত
ফুল ঝরিয়ে বিষাদমগ্ন কোল
নিমগ্নতায় গভীর গিরিখাত

বর্ষা ছিল নিবিড় ব্রীড়া স্নান
বর্ষাতিতে মুখচোরা সেই তাপ
ছিল মুখর বাদল দিনের গান
মিইয়ে যেত ক্যাপুচিনোর কাপ

এখন কেবল রাত মোহনায় দিন
ঋতুরা সব রেলিং ছুঁয়ে চুপ
মেঘ যে এখন গল্প কথা হীন
ঝরার নেশায় জলফোঁটা টুপটুপ

বারান্দাতে অস্তগামী রোদ
দীঘল ছায়ার মর্মে পিছুটান
কী জানি কোন ধার হলো না শোধ
সব খুইয়ে বৃথাই মাপি ধান

অর্ঘ্য নাথ


 বৃষ্টিহীন সেই ছেলেটি 



লড়াইটা কেউ দ্যাখেনা
দ্যাখে দৃশ্যমান সুখ,
রক্তটা কেউ দ্যাখেনা
দ্যাখে লক্ষ্মীঝাঁপি মুখ।
কীভাবে একটা ছেলে বৃষ্টিহীন
একা বড় হয়,
ভেজা চোখে গোসাপের গর্ত দেখে
পেরিয়ে যায় মেঘলা কাদা মাঠ,
একটা জগৎ তৈরি হয়
নিজেদের একটা বকুল গাছ -
কেউ সেটুকু দ্যাখেনা।
শুধু আগুন আরো আগুনে মরে
অসভ্য গ্রীষ্মে ফুলে ফুলে ওঠে -
কোন ম্যাজিকে ছেলেটা
বড় গাছে ফুল ধরায় 
স্বরবৃত্তে বৃষ্টির দেশ !

পৌলমী ভট্টাচার্য

 


সূক্ষ্ম দ্বীপ, আমি এবং নান্দনিক ভূগোল



আদবকায়দা মেনে ঘর বাঁধা যায় না ... 

এমনটাই স্বপ্ন জড়ানো দ্বীপে গচ্ছিত থাকে বিস্তর নুড়ি সংলাপ ।

'ভালবাসা বলে কিছু নেই?'

প্রশ্নহীন সাম্রাজ্যে অজানা চিহ্ন নিষিদ্ধ ; -- বক্তব্য আত্মিক যুবরাজের।

তার পকেট ভর্তি উদভ্রান্ত বর্ষা,
চুলে চুলে হাঁটে পদাতিক সন্ন্যাস।
বালিকা-বেভুল বেশে মেঠোচারিণীর কুসুম কুসুম প্রলাপ যেন সারং ঘরানায় দৈবাৎ আলোর বিপর্যয়;
তবু, অশিক্ষিত এবং উড়নচণ্ডী নুনের ভিড়ে মিশে যায় কবি পরিচিতি ।
এখানে তেমন কানপাতা দায় হয় নি আজও অথচ মৌমাছিদের সংসারে সাজানো আছে সবুজ বনবিবি।
বাহানায় তুমি দূরে যাচ্ছ সমুদ্দুর...
নির্জনতায় হাসে সূক্ষ্ম দ্বীপ ,
                                  আমি এবং
                           নান্দনিক ভূগোল।

স্বাধীন চেতনার বশে ভালোবেসো না যেখানে নাক দুল হাতিয়ে নেবে শ্মশান-বিভূতি।




রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২

কৌশিক চক্রবর্তী

                   



সম্মতিসূচক




অজ্ঞাত শরীরে আমি মাথা নেড়ে বললাম 'হ্যাঁ'

তুমি পিছিয়ে গেলে আমারও নিজেকে বাসাহীন মৌমাছি মনে হয়

মোম সংগ্রহে গিয়ে শ্রেণীবদ্ধ ঘাম খুঁটে আনি

আমার মুখের দিকে যতবার আলো দিয়ে রাত এঁকেছ তুমি

আমি সম্মতি জানিয়েছি। বলেছি 'হ্যাঁ'।


বুকের সামনে দাঁড় করিয়েছি রঙিন আয়না

প্রতিচ্ছবিকে বুঝিয়েছি তোমার প্রয়োজনীয়তার কথা

যতবার মুখ তুলে আমার চোখে চোখ রাখতে চেয়েছে সে

আমি ঘাড় নেড়ে বলেছি 'হ্যাঁ, 'হ্যাঁ'


পঞ্চ ইন্দ্রিয় ঘিরে স্থায়ী হয়েছে কৌতুহল

উল্লম্ব কাচ বরাবর যতগুলো ভালোবাসার চিহ্ন উড়িয়েছ তুমি

সবগুলো শুষে নিয়েছে সেইসব দৃষ্টিহীন আয়নারা

সমস্ত আদর চিহ্ন এঁকে কাচটা ভেঙে পড়বার সময়ও আমি সম্মতি জানিয়েছি

বলেছি 'হ্যাঁ'


তুমি কি শুনতে পেয়েছ সেই প্রশস্তিসূচক?