শুভশ্রী সাহা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শুভশ্রী সাহা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

শুভশ্রী সাহা

বাদামি খাম 

ফোন টা এক টানা বেজেই যাচ্ছে,  বিলায়েত খানের দরবারী কানাড়া। আর দরদর করে ঘামছে মানালী। শিঁরদাড়া থেকে নামছে শীতল স্রোত। একেই কি বলে ভয়! মানালি জানেনা। আজ ছয়মাস ধরে সে প্রচন্ড মানসিক উৎকন্ঠায় আছে। এক অজানা ফোন আসছে ক্রমাগত তার আর অনিন্দ্যর সম্পর্ক, সুশান্তকে বলে দেবে শাসিয়ে। তার কাছে কিছু ছবি কিছু চিঠি কিছু ঘটনাও জানা আছে সে বুঝেছে। অনিন্দ্য তার বিয়ের আগের সম্পর্ক। পরে ডাঃ  সুশান্ত দত্তর সাথে বাপি দেখে শুনে বিয়ে দিয়েছেন। সুশান্ত জানতে পারলে কি হবে সে জানেনা, তার স্বামী উচ্চশিক্ষিত শুধু না, বিনয়ী সুভদ্র এবং সংসারী। মানালিকে মাথায় করে রেখেছে। মানালিদের পারিবার অভিজাত, তাদের কয়েক পুরুষের জুয়েলারি ব্যবসা। বাপির মানসম্মান আর অনিন্দ্যের খামখেয়ালী পনার জন্যে সে অনিন্দ্যকে ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। অনিন্দ্য আজ তার ই শোধ তুলছে মনে হয়। নইলে তাদের ঘনিষ্ঠ মুহুর্তের কথা---- এই চিঠি পত্র তাদের দুজনের কাছেই আছে শুধু-- ভ্যাগিস বাপি আর তার জয়েন্ট একাউন্ট টা ছিল, নইলে তিনমাস ধরে অত টাকার জোগান কি করে দিত সে!! 

ফোন টা না ধরেও কোন উপায় নেই। বিভিন্ন একাউন্ট খুলে ফেসবুকে বিরক্ত করে যাচ্ছে। আসলে ব্যাকমেলার জানে তার কত টাই আজ হাত পা বাঁধা,  কিছু স্টেপই  সে নিতে পারবে না কারণ এবার শুধু বাপি নয় সুশান্তর ও প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন। এই মানুষ  টাই তাকে স্থির করে সংসারে। এই মানালি,আর বিয়ের আগের মানালির অনেক তফাৎ।  কি বলবে সে সুশান্তকে!  এবার মোটা রকম চাইল, একেবারে তিন লাখ। অন লাইনে কি ভাবে দিতে হবে জানাবে সে। আকাউন্টের খোঁজ খবর করলে সব শেষ করে দেবে।

--+ ও  বউমা, তোমার শ্বশুরের ছোট বেলার ছবি টা নিয়ে এসো তো! দাদার  সঙ্গে তো আমরাও আচি!  এবার বাঁধাতে দেব। 
---- ও পিসিমা, কোথায় রেখেছ, জানিনা তো!
--+ বউমা  কোথায় খুঁজছো! আমার ঘরে তোমার শাশুড়ির কাঠের আলমারিতে, দেখো!
--- অনেক খোঁজাখুঁজির পর, পুরোনো শাড়ির ভাঁজে পাওয়া গেল সেই ছবি! সাথে  ঝপ করে পড়ে গেল একটা বাদামি খাম!
মানালি নিচু হয়ে তুলতে যেতেই ঝপ ঝপ করে বেরোতে লাগল মানালি আর অনিন্দ্যর চিঠির ফটোকপি আর ওদের ঘনিষ্ঠ  মুহুর্তের কিছু ছবি! মানালি স্তম্ভিত হয়ে গেল!!! মনে হলো চোখের সামনে শুধুই অন্ধকার!!

তাই তো! ডায়গোনোস্টিক চেম্বার করার ইচ্ছা সুশান্তর বহুদিনের, তাই বেছে নিতে হলো বড়লোক শ্বশুরের থেকে টাকা নেবার এই কদর্য পথ---  মুখোশের আড়ালে-----এক শিক্ষিত ব্ল্যাকমেলার!!

মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

শুভশ্রী সাহা



পিকনিক--

ইউক্যালিপ্টাস গেট, বটলব্রাশ হাসি,  আর  জ্যাকরান্ডার আভা  নিয়ে আদুরে বাগান বাড়ি টা আজ  পিকনিক রোদে মাখামাখি।। পুট্টুস ঝোপের পাশে বসেছে মস্ত উনুন। হাজারীবাগের লাল ধুলো আর পর্ণমোচী পাতা পেরিয়ে চার চাকা অভিজাত আম্বাসাডার ভারী পায়ে ঢুকে এলো  বাংলোর হাতায়।

-- কিহে,  আমার সুন্দরী শ্যালিকাটি কই ! জরি পাড় লুটোনো ধুতি আর তসরের খসখস ভাঁজের খৈয়াম পাঞ্জাবি! লপেটা ভাজের চোখ!  গুণগুনে আখতারি গজল
অমল কান্তি চোখ তুলে দেখলো  মাইকা কিং  সমরেন্দ্র নাথ সিংহ কে। অমলের পরমা সুন্দরী স্ত্রী  মঞ্জুলিকার জামাই বাবু।
-- আসলে আমি তো এদিক টায় ব্যস্ত বলে আর--
--বেনারসী পানের তবতবে জরির  খিলি মুখে পুরলো সিংহি মশাই,
--ওহে, শুধু ভাব জগতে বিচরণ করলেই হবে! বউ এর খবর সবরও রাকো! মঞ্জুলিকে না সামলাতে পারলে তো   আমাকেই দায় নিতে হয়!   হে হে হে! কচি শালী বলে কতা!  কি বলো!

-- অমল কান্তি চোখ নামিয়ে নিলো! ছি! ছি! রুপ বা অর্থ  থাকলেই কি রুচি হয়! সে এখন বুঝে গেছে মঞ্জুলিকা তার পাত্রের পানীয় নয়।  গেটের দিকে ফিরলো সে , অভ্যাগত রা আসা শুরু করেছেন একে একে! আজ রাঁচী আর হাজারীবাগের তাবত লোকজন অভ্র খনির গুলির একছত্র মালিক সমরেন্দ্র সিংহের অতিথি!

--শোনো ভাই, কাল যে শিকার করে বগারি গুনো মারলুম, সেগুনো কি কচ্চ শুনি! দাও, একটু স্কচ ফচ হোক! বুইলে ভায়রা,আজ রাতে গান শোনাতে যে আসবে না! আহা!  যমুনা রাই শেখাবত! কি চ্যায়রা মাইরি! নাজুক! অশ্লীল ভাবে চোখ মারল মাইকা কিং!
 আরেরর! কেয়া বাত! মহেন্দর সিং জী! আপ আ গয়ে, মেরা লাইফ ই বন গয়ে জনাব!!  এগিয়ে গেলো সমরেন্দ্র  হাজারীবাগের এস পির দিকে!

---- আহ! বগারি  পাখির বুক টা কি নরম! যখন মঞ্জুলিকা নবোঢা ছিল এমন ই ছিল তার কবুতরী বুক! সে সব তো কবেকার জ্যোৎস্না ময়  দিন--,শ্বাস ফেলল অমলকান্তি!

বারান্দা পেরিয়ে  সে রান্নার জায়গায় এলো। কেজি কেজি মাংস, শোন নদীর মাছ,  ফুলকপি, রাঁচির ক্ষীরের মিষ্টি, খান্দেলাল  চিৎকার করে বকছে,
-----  -----আরে ক্যা রে শালে লোগ! সোমর সিন বাবুয়া কা পিকনিক! থোড়িসি তো আলগ হোনা চাহিয়ে কি নহি রে!

আজ দিনটাই অন্য রকম!  ভোরের ভৈরবীর মত সাধন মার্গের। শীতের শুকনো খসখসে ভাব পেরিয়ে পিলুর মতো দরদিয়া কোমল নিষাদের বিস্তার। ঘুমিয়ে থাকা শৈশবের গায়ে এস্রাজের ছড়ের টান পড়ছে তার! মা বাবা কাকারা ফুল পিসি,  নায়েব কাকু,    বড় পাহারিয়া ঝোরার নিচের সেই সাদা কালো পিকনিক, পিসতুতো বোন  দীপাঞ্জলিকে  নিষিদ্ধ চুমু! 
 কি দরকার ছিল দীপাকে তার বোন হয়ে জন্মানোর!   পিসি বুঝতে পেরেছিলেন আর পিসেমশাই দিয়েছিলেন শাস্তি। বিয়ে দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন দীপাকে দূর বহু দূর! সামান্য এক মুহূর্তের দুর্বলতার জন্য দীপা ভেসে গেছিল!  আর অমলকান্তি জীবনভর  থিতু হতেও পারেনি কোথাও। পিকনিকের এই  বিষাদের  সিপিয়া এফেক্ট সারা জীবন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে!
 অমলকান্তি যে রোদ্দুর হতে চেয়েছিল তার স্পর্শে।

আজ ও সেই আলোই! যে যাই বলুক,আবার এমন দিনেই যে রিক্ত নি:স্ব হতে হতে পূর্ণতা আসে! অমলকান্তিরা হাত পাতে দীপাঞ্জলিদের কাছে!  ক্ষমা করে দিতে ইচ্ছা  করে সবাই কে। এমন কি মঞ্জুলিকাকেও!!

হাওয়াতে ভাসছে  ঘি আর গরম মশলার বাস! চার্চের দিক থেকে আসছে ক্যারলের ওয়েলকাম সং

সময় পালটে যায় নিয়মেই। তবু প্রত্যেক শীতেই  ফেরে বনভোজন, বোরোলিন দিন বুকে নিয়ে।


ছবি জয়ন্ত চক্রবর্তী 

বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯

শুভশ্রী সাহা





দাঁতাল

বড় একা লাগে এই জঙ্গলে, আলো আঁধারিতে  সবুজের গভীরতায় ময়াল সাপের মত পেঁচিয়ে যায় হাতের রেখার মত চেনা বন ঝোরার ওপারের খসখস শব্দে বুঝি অজগর শিকার ধরেরছে বড়সড় অনেক দূরের ক্যানেস্তারা পেটানোর একটানা আওয়াজ! আজ হাতি বেরিয়েছে এদিকের জঙ্গলে তছনছ করে চলে যাবে খোড়ো বাড়ি আখ ক্ষেত কলা বন চাপড়ামারীর দামাল হাতিটা কাল একজন কে আছড়ে মেরেছে রাস্তায় পড়েছিল মৃতদেহ বেনাম আদিবাসী মরলে কেস দেওয়া মানা বিট অফিসারদের দেশে বাঘ হাতি সংরক্ষিত মানুষের সংখ্যা বেশি অতএব তারা মরূক ঋতবান জানে, এই গভীর রাতে এরা চোরা শিকার করতে এসে নিজেরাই শিকার হয়ে ফেরে এদের ধরা মানা আছে তাই বন্য জন্তুকে দিয়ে দাও ভাগ করে খাবে জোরসে চেঁচাচ্ছে আলুওয়ালার কুকুর দুটো, ওদের কপি ক্ষেতে শুয়োর ঢুকেছে নির্ঘাত কুকুর দুটো কম নয় নিমেষের মধ্যে  পেট টি পুরো ফালা ফালা করে দিতে পারে আপন মনে হাসল বিট অফিসার  ---
এদের বন্যতা তুচ্ছ মানুষের বন্যতার কাছে মাত্র মাস আগে কেওন গড়ের জঙ্গলে সে এক পাল কে এল জঙ্গী কে পুড়িয়ে মেরেছিল রাতের অন্ধকারে উপর ওলার নির্দেশে তারপর প্রমোশন নিয়ে একেবারে ডুয়ার্সে সব একদম ঠিক ঠাক আছে এখন কোই বাত নহি! শুধু মাঝে মাঝেই চামড়া পোড়ার গন্ধ পায় সে আজকাল খেতে বসলেই!!!

সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮

শুভশ্রী সাহা


মরমিয়া

মনেরে নিয়ন্ত্রণ করা কি অত সহজ
বাউল মন যখন যেমন
এ যে বেজে যায় নিজের মত করে
স্তব্ধতায় মগ্ন থেকে

সাড়া নেই  কোনো গভীর তৃপ্তিতে পুলকে
থেকে থেকে জেগে ওঠে
তবু ছুঁতে গেলেই শূন্য যেন
জানিনা এর কি কারণ

ভাবনারা মেলে দেয় ডানা
নীল আকাশ নেই ছোঁবার মানা
তবু দু পায়ে কিসের বাঁধা
জানি না কি কারণ
অকারণ পুলকে আপ্লুত আমি
ভেসে আছি মগ্নতায়
সব আছে চারপাশে
শুধু আমি নেই আমার মাঝে

জানি না কি কারন, জানিনা কি কারন


২)

মৃত সঞ্জিবনী দিও দেবী আরবার
তোমার চরণ প্রান্তে চুমি একবার
এ কলম তোমার প্রসাদ ধন্য অনুক্ষন
ভক্ত আমি রিক্ত কবি অক্ষরেই দেবী দর্শন।

৩)

ছেঁড়া বিকেল-

বৃষ্টি  স্নাত  বিকেল, গোখেল রোডের গোল মন্দির
ছপে ছপে জলে  নন্দন  ভেজে একলা গম্ভীর

আজ কুছ  আজীব হো যায়ে, অচল ট্রাফিক
দিল মাঙ্গে মোর, অটোতে দেখা পুরোনো প্রেমিক

সোমবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৮

শুভশ্রী সাহা




নির্জনতার কাছে---

বহুদিন পর অনিরুদ্ধ এলো এই জায়গাটায়। সিমলিপালের পাহাড় এখান থেকে কিছুটা দুরেই।  কোর জঙ্গল, ভেতরে পোচার্ডের ভয়ে ওড়িশা গভার্মেন্ট রেস্ট্রিক্টেড করে দিয়েছে জঙ্গলে ঢোকার রাস্তা।   বেশ কিছু প্ল্যান্টেশন এর কাজ চলছে বারিপদায়। অনিরুদ্ধ সেই সব কাজ নিয়েই এসেছে হরিপুরে। এই স্বেচ্ছানির্বাসন এই নির্জনতা অনির একার ই।  মুম্বাই বায়োটেক্সের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে সে আজ এখানে। যার জন্যে এসেছিল সেই লহরী আজ আসছে দেখা করতে। অনিরুদ্ধ জীপ থেকে নেমে এক বিশাল পাথরের পৈঠার উপর বসল। তার পায়ের নিচে ছিপছিপে সালান্ডী নদী শাড়ির আচঁলের মত ছড়ানো। সে দিকে তাকিয়ে মনে পড়ে গেল লহরীর কথা। লহরী বিবাহিত জেনেই জড়িয়ে গেছিল অনি তার সাথে। লহরী পাগলের মত ভালবাসত তাকে। তার বদ্ধ ঘরে একমাত্র অক্সিজেন ছিল অনি। শান্তুনুদা তার মাসতুতো দাদা, লহরী বউদি।  লহরী নি:সন্তান শুধু একটি দিন দাবী করেছিল অনির কাছে সন্তানের জন্যে। পারেনি দিতে, চোরের মত সে এখানে চলে আসে, কেন জানেনা, সেকি তবে কাপুরুষ!!  লহরী তাকে চায় যে ভাবে, সে কেন চাইতে পারেনা লহরীকে এ ভাবে!!!! কিন্তু ভালোবাসে সেও তো ------
আজ ও লহরী হয়ত এই নির্জনে মিলিত হতে চাইবে! কি করবে সে! এই জঙ্গল, নিঝুম প্রান্তরাজি, এই অসীম নির্জনতা ছাড়া সে যে কারুর কাছেই নগ্ন হতে পারেনা ! যদি তার পৌরষত্ব জাগ্রত না হয়! কি বলবে সে লহরীকে! তার থেকে ও ফিরে যাক বরাবরের মত আশা নিয়েই নতুন করে, আর নির্জনতাকে নিয়ে থাক অনিরুদ্ধ , তার মত--- জিপে ফিরে গেল সে এবারও--( 

শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৮

শুভশ্রী সাহা



নিবন্ধ
আচার্য পদ ও সমাবর্তন উৎসবের যোগসূত্র 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল যে কোন মতবাদ মুক্ত। জীবনকেন্দ্রিক বিষয়ের সেখানে প্রাধান্য ছিল। শুধুই তাত্ত্বিক বা কেতাবী জ্ঞান নয়, কর্মমুখী শিক্ষার ও সংযোজন ছিল।সবচেয়ে গুরুত্ব দিতেন শিক্ষক নিয়োগে।  প্রাচীন ভারতের গুরুকুল ছিল তাঁর আদর্শ, তপোবন তাঁর শ্রেষ্ট শ্রেণী কক্ষ ও জ্ঞানেই ছিল তাঁর মতে শ্রেষ্ট আনন্দ, আর প্রাণহীন জ্ঞানের কোন মানে নেই। যারা শিক্ষকতাকে ব্রত হিসেবে নিতেন তাদের ই তিনি শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করতেন। এই ব্যাপারে তিনি ছিলেন আপসহীন। তাঁর মতে শিক্ষক পাওয়া যায় সহজে, গুরু পাওয়া যায় না। আর একমাত্র গুরু ই ব্রত হিসেবে শিক্ষাদান কে গ্রহন করতে পারেন। তিনি প্রাচীন ভারতের গুরুকুলের যে ধ্যান ধারনা ছিল তিনি তাকেই আদর্শ করতে চেয়েছিলেন। তার কাছে আচার্য কথার অর্থ ছিল গুরুদেব।
সমাবর্তন উৎসব সংঘটিত হয় প্রত্যেক বছর বিশ্বভারতীর  প্রতিষ্ঠা দিবসে ৮ই পৌষ। গুরুদেবের কাছে  স্নাতক ডিগ্রীলাভ এর সাথে মনে করিয়ে দেওয়া হয় ছাত্রদের ভবিষ্যৎ এর আবশ্যিক কর্ম। এই দিন রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথায় রেড লেটার ডে। ওই দিন আচার্যের হাত থেকে সপ্তপর্ণী পত্র নেন সদ্য স্নাতকগন। ১৯৫১ সালের পর  বিশ্বভারতী প্রথম কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পান এবং জওহরলাল নেহেরু হলেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী - আচার্য। সেই সময় শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন মৌলানা আজাদ। জওহরলাল নেহেরু রবীন্দ্র মনস্ক ছিলেন তাই বিশ্বভারতীতে তার অবদান কম ছিল না, অর্থ সাহায্য ছাড়াও তিনি সমস্ত কাজ বাদ দিয়ে বিশ্বভারতীতে ছুটে আসতেন। রাজনৈতিক পরিচ্ছদ বাদ দিয়েই তিনি আচার্য পদের যোগ্যতা রাখবার চেষ্টা করতেন। সমস্ত রকমসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কলাভবনের চিত্রকলা প্রদর্শনী,  ছোটদের সাথেই খেলতেন ইত্যাদি। পরবর্তী কালে,  ইন্দিরাগান্ধী ও রাজীব গান্ধী এক ই পথ অনুসরণ করেছেন। মোরারজী দেশাই মাত্র একবছর আচার্য পদে ছিলেন। পরে তিনি নিজেই শিক্ষাবিদ উমা শঙ্কর যোশীকে  তার স্থলাভিষিক্ত করেন। এই সিদ্ধান্ত কেবল মাত্র পদাধিকার বলে প্রধান মন্ত্রী ই নিতে পারেন।  ড: মনমোহন সিং প্রধান মন্ত্রী থাকার সময় মাত্র ২০০৮ সালে একবার ই সমাবর্তন উৎসবে এসেছিলেন। ব্যাতিক্রম ছিলেন আই কে গুজরাল, তিনি বলেছিলেন আমার কাছে প্রধানমন্ত্রীত্বর থেকে অনেক বেশি গুরুত্ব পূর্ন আচার্য পদ। তাইতিনি প্রধান মন্ত্রীর পদ চলে যাবার পর ও আচার্য পদে বেশ কিছুদিন থেকে যান বিশ্বভারতীর অনুমোদন ক্রমেই। প্রধান মন্ত্রী পদ টি রাজনৈতিক  কিন্তু আচার্য পদ টি শিক্ষাব্রতীর, তিনি শিক্ষকদের শিক্ষক ছাত্রদের গুরুদেব। সমাবর্তন উৎসব বিশ্বভারতীর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠান এবং তার কেন্দ্রবিন্দু হলেন আচার্য এবং তার ছাত্র/ ছাত্রী বৃন্দ। এই অনুষ্ঠান টির একটি ভিন্ন রুচি ও পবিত্রতা ও আদর্শ আছে। উপাচার্য তার আশীর্বানী তে বলেন,  মাতৃদেবো ভব, পিতৃ দেবো ভব,  আচার্যদেবো ভব,  এই আচার্য হলেন শিক্ষা গুরু। এই মঞ্চেই পরম্পরার প্রতিষ্ঠা হয় গুরু শিষ্যের মধ্যে। সঙ্গত ভাবেই বিশ্বভারতী চায় আচার্য  যেন ওই দিন নিজে উপস্থিত হয়ে এই পরম্পরার যোগসূত্র হতে পারেন। গুরুদেবের এই আদর্শ ও শিক্ষা ভাবনা যেন কোন ভাবেই বিচ্যুত না হয়, এবং বিশ্বভারতীর সমাবর্তন উৎসব যেন গুরুদেবের ধার্য করা দিনেই হয়।সেই সমস্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিই আচার্য হওয়া উচিত, যারা রবীন্দ্র ভাবনা অনুসারী  ও রবীন্দ্র মনস্ক। এই অনুষ্ঠানের গৌরব রক্ষার প্রতি নিবেদিত। নতুবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা ভাবনার আদর্শ ও আচার্য পদের মর্যাদা লঙ্ঘিত হতে বাধ্য।

শনিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৮

শুভশ্রী সাহা


সম্পর্ক

হয়তো তোমার জন্যে কেউ অপেক্ষায় ছিল,
আমার থেকে অনেক বেশি সুযোগ্য
তাই পেরিয়েছো অক্লেশে চেনা গন্ডি
ফেলে রেখে তোমার সাজানো ঘর
তোমার জমি একলা  পুরোনো বর
এখনো বারান্দার রেলিঙে ভিজে শাড়ির দাগ
তোমার রাখা টবের চারার তোলা মুখ
হয়ত মানাতে পারিনি মানতে পারনি তুমিও
একলা ঘরে তুমিই পারমিতা এখনো
মনে পড়ে দুপুর রোদে কাটাকুটি খেলা
পায়ের দাগে আলতো চুমু নরম বেলা
এখনো কি হাসতে গেলে নাকের পাটা ফোলে
ঘেমে নেয়ে রান্না ঘরে বড় কাহিল হতে
শ্রান্ত আমি ভীষন এখন,  পালটে গেছি আমি
গভীর রাতে শুধু ভাবি কবে ফিরবে তুমি--

শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

শুভশ্রী সাহা,



অক্ষর

তোমার সিঁড়িতে পা রাখতেই নরম আলোর ভোর
কারুর হাতে হাতে খড়ি এলোমেলো অক্ষর
অনেক আগেই মাতৃগর্ভে তোমার নাম ডাক
নুপুর পরা আলতা পায়ে তোমার জলছাপ
শেলেট নিয়ে আঁকিবুঁকি, সকালবেলার উঠোন
একচালাতেই প্রথম পড়া, সহজ পাঠে মন
সেই তো প্রথম ভালোলাগা ভালোবাসার সুর
একতারাতে এপার ওপার অক্ষরের গুন
ভাষার কোনো হয়না বিভেদ, বাংলা আমার চোখ
ভাষার কাছে ভেসে যায় শহিদ হবার শোক----

শুভশ্রী সাহা, সিলভিয়া ঘোষ

প্রেমে অপ্রেমে 

  

কলিংবেলটা  বাজাতেই  সাউন্ড অফ মিউজিকের শব্দ ভেসে এলো  পার্থর কানে। মনে মনে ও বলে উঠল বাহ সত্যি দারুণ রুচি তো। এসব এলাকায় এমনটাই আশাকরা যায়। দরজা খুলতেই বের হয়ে এলো বছর সতেরোর শ্যাম বর্ণের একটি মেয়ে। ঠোঁট ফাঁক করে জিজ্ঞাসা করল 'কাকে চাই?' দোহারা চেহারার,  চোখে মুখে দারিদ্র্যতা থাকা সত্ত্বেও একটা বুদ্ধিদীপ্ত  ভঙ্গীমা কাজ করে। পার্থ গলাটা একটু ঝাড়া দিয়ে বলল ঃ  ' মিসেস দেব বাড়ি আছেন? আমাকে এই সময় আসতে বলা হয়েছিলো! ' মেয়েটি চোখের ইশারায় ভিতরে ঢুকে হাত দেখিয়ে সোফায় বসতে বলল।  নরম সোফায় বসার পর সেন্ট্রাল এসির ঠাণ্ডায় পার্থের চোখটা  একটু  লেগে এসেছিলো  প্রায়, তার মিনিট তিনেক পর মিস্টার দেব এসে বললেন 'হ্যালো ইয়ং ম্যান হাউ আর ইউ? আসলে তোমাকে ডেকেছি আমি, মিসেস দেবের জন্য।' পার্থ খুব মন দিয়ে মিস্টার দেবের কথা গুলো শুনছে। কেমন যেনো রাজা  রাজরার মতোন  চালচলন ভদ্র লোকের ।কথার মাঝেই পার্থ বলে ওঠে ঃ ' হ্যা, বলুন তো আসল অসুবিধাটা কি মিসেস দেবের!' 

প্রায় এক সপ্তাহ এ বাড়িতে আসছে পার্থ। এই চৈত্রের দুপুরে তেতে পুড়ে বাইক চালিয়ে কামালগাছি থেকে বালিগঞ্জ প্লেসের এই বাড়িতে আসতে জীবনটা বের হয়ে যাবার জোগাড়। আজকাল  এখানে এসেই মিনিট পাঁচেক বসে যতক্ষণ না পিউ (কাজের  মেয়েটি) এসে এক গ্লাস ঠাণ্ডা সরবত না দেয়। পিউ এর সাথে চোখাচোখি হতেই আজ কেমন যেনো  ও রহস্যের হাসি হসলো চোখ দিয়ে  সেটা খেয়াল করল পার্থ। সরবতটা শেষ করতে করতে ও ভাবলো গত পরশু ফিজিওথেরাপির জন্য না কি অন্য কিছুর জন্য  সর্বাঙ্গ প্যারালাইজড এবং আংশিক  জিভের আড়ষ্টতা নিয়ে মিসেস দেব যে কথাটা বলেছিলেন,  প্রথম তিনবার বুঝতেই পারেনি ও ,পরে অবশ্য ওনার  মুখের কাছে  মুখ নিয়ে শুনতে পেয়ে  পঞ্চাশোর্ধ  অসম্ভব সুন্দরী নারীর সামনে কান লাল হয়ে  দাঁড়িয়ে থেকেছে মিনিট পাঁচেক। পার্থর পঁচিশ  বছরের জীবনে অনেক অভিজ্ঞতাই জমেছে। 

পিজিতে ট্রেনিং নেবার সময় স্যর অজয় পণ্ডিত  বলেছিলেন,  'তোমাদের কাছে এমন অনেক  পেশেন্টই আসতে পারেন যারা সেক্সচুয়াল অ্যাটাচমেন্ট আশা করেন বা বলতে পারো তাই চান। তখন কিভাবে তাকে হ্যান্ডেল করবে তাও জানতে হবে তোমাদের। এটাও শিক্ষার একটা অঙ্গ।' বছর বিশেক এক অঙ্গ প্যারালাইজড মিসেস  ঋক্তা দেবের  চেহারার গ্ল্যামার দেখে পার্থ ফিদা। তবুও ওমন প্রস্তাবে কেমন যেনো গুঁটিয়ে নিয়েছে দু দিন। 

শরীরের চাহিদা বড় অসহায় করে তোলে মানুষ কে। পার্থর জীবনে কী তার প্রভাব কম!  বছর পনেরো আগের কথা মনেহয়  পার্থর। মাঝ রাতে ছোটক্কু কে দেখতে পেয়েছিল বড় মামনির ঘরে যেতে,তখন মামনির বয়স প্রায় ৫৫। জ্যা এর সাথে  মামনির কোনদিন তেমন অন্তরঙ্গ মুহূর্ত  পার্থর মনে নেই। জ্যা মারা গেলেন তাও বছর দশেক হবে। আর ছোটক্কু ম্যানেনজাইটিস এ মারা  গেলো বছর চারেক আগে,  ওর  মুখাগ্নি  পার্থকেই করতে হলো, গত বছর মামনি মারা যেতে মা বলল 'এখানেও মুখাগ্নি  তোকেই করতে হবে ধরা পরতে হবিষ্যান্ন রান্না করে খেতে হবে বড়দার সাথে।' বড়দা কথা বলেনা তেমন পার্থের সাথে, যবে থেকে ছোটক্কু তার ভাগের সম্পত্তি পার্থের নামে দিয়ে গেছে...  
আজ পার্থ প্রস্তুত হয়ে এসেছে দরকারে যা যা করণীয় তাই তাই করবে...  শুধু  শুধু  লোভ সম্ভরণ করে কী লাভ! 

দরজা দিয়ে ঢুকতেই পরিচিত রুম ফ্রেশনারের গন্ধ নাকে এল পার্থর, বিশাল বেডরুম এর মাঝখানের একদম রোজউড কালারের খাট। এ ঘরের সব কিছুই ভিক্টোরিয়ান স্টাইল এর আগেই দেখেছে সে ,হয়ত মিসেস দেব কিছুটা পুরোনো দিনকে যেন মনে রাখতে চান। সম্বিত ফিরতেই পার্থ দেখল মিসেস দেব তার দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে, চোখের কোণে কিছু কি চিকচিক করছে!! দূর এমন সেক্সি আইজ এ যৌনতার আমন্ত্রণ ছাড়া আর কিই বা হতে পারে... 

অস্থির লাগছে পার্থর নিজের, অসহ্য ছটফটানি ।কেউ জানবে না  বলে  মিস্টার দেব কথা দিয়েছেন, কিন্তু তার বিবেক আছে তো, তৃণা কে কি বলতে  পারবে সে কোনদিন  একথা !! তৃণা লড়াকু মেয়ে, মরালিষ্ট সে কখনো মেনে নেবে না। কিন্তু পার্থর এখন টাকার দরকার...নিজের পায়ে তাকে দাঁড়াতেই হবে,  যতই ছোটক্কুর দেওয়া  পয়সা কড়ি থাকুক না কেন , তৃণা নিজের পায়ে  না দাঁড়ালে  বিয়ে তো দূরের কথা বাড়িতেও জানাবে না বলেছে!! ওর মনে এখন দোলাচল, পজেটিভ নেগেটিভ কারেন্ট! সে বুঝতে পারছে, প্রতিটি মুহূর্ত সে শকড...

ক্রমে গোঙানির শব্দ বেড়ে যাচ্ছে, মিসেস দেব কি যেন বলতে চাইছেন, পার্থ এগিয়ে আসতেই যে দিক টি একটু সবল হয়েছে সেই হাত দিয়ে নিজের বুকটাকে স্পর্শ করাতে  চাইছেন যেন, ঈঙ্গিত টা স্পষ্ট।  পার্থ কেঁপে উঠল-- পাতলা নাইটির ভেতর দিয়ে করমচার মত লাল স্তন টি সুস্পষ্ট তার বৃন্ত আর সেটি উদ্ধত, পার্থ র সেদিকে চোখ পড়তেই নিজেকে শক্ত অনুভব করল সে-- একি হচ্ছে এমন তো সে চায় নি-- গরীবের ছেলে সৎভাবে রোজগার করতে চেয়েছিল। মিসেস দেব ক্রমশ উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন,  উত্তেজনা তার জন্যে একদম নিষেধ...পার্থ ছুটে গেল কাত হয়ে যাওয়া মাথা বালিশে তুলেদিল। ঋক্তা তাকে আঁকড়ে ধরে কি যেন বলতে চাইল -- গোঙানিটা হঠাৎ আস্তে হয়ে যেতেই মনে হল সে যেন শুনল জয়'-- চমকে উঠল সে, এবার ঋক্তার দিকে তাকাতেই দেখল হ্যাঁ তিনি কাঁদছেন -- হাঁপাচ্ছেন পালস বিট বেড়ে গেছে অনেক বেশি।ছুটে গিয়ে বন্ধ দরজায় ধাক্কা দিতেই মিস্টার দেব নিজেই বাইরে থেকে খুলে দিলেন।
ভেতরে ঢুকে নিজেই গিয়ে মিসেস দেবের হাত ধরলেন আর বলতে লাগলেন, ঋক্তা,  ঋক্তা স্থির হও-- আমি বলছি, আমি বলছি ওকে....
ঘরের আলমারীর ড্রয়ার খুলে একখানি বাক্স নিয়ে এলেন, হাতির দাঁতের কাজ করা। তার মধ্যে থেকে একটি সাদা কালো ছবি বার করে সোজা করে ধরতেই পার্থ চমকে উঠল। তার ছবির মতন লাগছে। সে জানে এই ছবি জয়প্রভ বসুর-- তার  ছোটক্কুর...

মিস্টার অশিন দেব তার পর তাকে এক গল্প শুনিয়েছিলেন-- সিনেমার মত হলেও তার জীবনের চরম বাস্তব। জয়প্রভ আর ঋক্তার কলেজ জীবন থেকেই ভালোবাসা, জয়প্রভ আর্ট কলেজের কৃতি ছাত্র হলেও খ্যাপা আধ পাগলা, খ্যাপামী দিয়ে তো জীবন চলে না, আর আজ থেকে বত্রিশ বছর আগে আর্টে পেট ও চলত না। চা বাগানের মালিক দেবদত্ত রায় মানেন নি, আর জয়প্রভ যেন আগে থেকেই হেরে বসে ছিল। বিয়ে হল ধনীর পুত্র সুবিখ্যাত ব্যবসায়ী দেব পরিবারের ছেলে অশিনের সাথে। অশিন প্রাণ দিয়ে ভালোবেসে ফেলেছিল ঋক্তাকে, ঋক্তা পারেনি একদিন ও। বেড়াতে গিয়ে লোকে জানত দুর্ঘটনা কিন্তু আসলে , ঋক্তা পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে মরতে চেয়েছিল, কোনক্রমে পয়সার জোরে প্রান বাঁচলেও তার সাড় চলে যায় চিরতরে।  স্বামীকে তিনি বিয়ের রাতেই বলে দিয়ে মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন-- অশিন চেষ্টা করব ভেবে নিয়ে জেদ ধরে ছিলেন, ঋক্তা নিজে মুক্ত হতে চেয়ে বন্দী হয়ে গেলেন বিছানায়-- তার একটাই আবদার ছিল স্বামীর কাছে 'জয়প্রভ' -- একটি বার আসবেন তার বুকে মাথা রাখবেন। অনেক চেষ্টা চরিত্র করে অশিন ঠিকানা জোগাড় করে জানতে পারেন জয়প্রভ মৃত। ঋক্তাকে বলতে পারেন নি। বদলে পার্থ কে এনে দিলেন ঋক্তার কাছে। পার্থ র চেহারার সাথে প্রচুর মিল জয়প্রভর। নতুবা পার্থর মতন অল্প বয়েসী ফিজিওথেরাপিস্ট  তারা নেবেন কেন!!

পার্থ চুপ হয়ে গেল হঠাৎ। মিস্টার দেবের সামনে দিয়ে উঠে গিয়ে জড়তা হীন ভাবে আলতো করে বালিশ থেকে মাথা ঊঠিয়ে নিয়ে জড়িয়ে ধরলেন ঋক্তাকে-- আজ যেন চোখের সামনে  ভেসে উঠল তার  জন্মদাত্রী মায়ের  মৃত্যু শয্যার চেহারাটা । পরিষ্কার গলায় ডাকলো-- মামনি--
কুল ছাপিয়ে জল কি এমন ই ভাবে আসে!! ঋক্তা বত্রিশ বছরে এমন ডুকরে কেঁদে উঠলেন প্রথম। নির্বাক দুটি পুরুষের সামনে। পার্থ জোড়হাত করল মিস্টার অশিন দেব কে।  "আর কোন দিন ডাকলে আসতে পারব না কিন্তু, মামনি কে দেখবেন" এই কথা বলে -- পার্থ বেরিয়ে এসেছিল...
 ছমাস বাদে তাদের কামালগাছির বাড়িতে চিঠি এসেছিল ঋক্তার মৃত্যু সংবাদের।যাবার আগে,  বেশ কিছু টাকা আর পাইক পাড়ার একটি বাড়ী তার পুত্র সম পার্থ বসুর নামে উইল করে দিয়ে যান।পার্থ বসু এখন পাইক পাড়ায়,' ঋক্তা ফাউন্ডেশন এ নিয়মিত চেম্বার করেন।'

শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৮

শুভশ্রী সাহা , সিলভিয়া ঘোষ


 বার্ডস হাব
------------------


সম্পর্ক টা দুলছে ফুলছাপ পর্দার গায়ে
সেই আকাঙ্ক্ষিত পর্দা ,যা একসময় আমাদের  অবিন্যস্ত জীবনের আড়াল করতো বারেবারে
:
ভেতরে   সোনালী ফ্রেমে সুখী মুখের শিশু
যার দুচোখ ঠিক তোমার মতোন,  ভাসা ভাসা
:
একরত্তি বারান্দার চারদিকে বাগান করেছো তুমি
টবে সাজিয়েছো   চন্দ্রমল্লিকা বেগুনী  রাঙা বোগান ভেলিয়া , লাল গোলাপ 
:
আরো একটু দূরে ,টবেই রেখেছো আমার প্রিয় বন তুলসী, 
শুধু আমি নেই কোথায় এতোটুকু---
:
এমন কি কথা ছিল অংশুমান
বেলাভূমি পেরোনোর সময় ধরেছিলে তো হাত
বলেছিলে, হারিয়ে যেতে দেবে না আর ...
:
খোলা নীলাকাশের নীচে তারা খসা দেখেছি দুজনে কতবার,
 গোপন ইচ্ছাদের জানতে চেয়েছি বারবার, মনেপড়ে তোমার? 
:
উপত্যকার গভীরে যেতে যেতেও তৃষ্ণার্ত তুমি
শুনিয়েছো সলিটারি রিপারের গান--
:
জ্যোৎস্না রাতে রূপালী ক্যানোপীতে গাইতাম আমি,  তোমার অনুরোধের গান 
'আরও  দূরে চলো যাই'
:
ঘরের মধ্যে ঘর সেই ছিল তোমার পর
চৈত্রের আগুনে একমুঠো শ্রাবণ নামিয়েছে কতবার
:
শ্রাবণ নামিয়েছে  প্লাবন বুকের ভিতর  বহুবার 
শুধু,  সম্পর্কটা আজও এলোমেলো... দুজনের অলীক অঙ্গীকার
:
পলাশ করোঞ্জ পেরিয়ে নিমতলা বার্ডস হাব
ছুঁয়ে থাকা ধূপছায়াতে স্বপ্ন দেখেছি সুখী গৃহকোণের অসংখ্য বার... 
:
শুধু বলতে শক্ত করে---- তৃনা আমায় ধর
হারতে চাই  তোমার কাছে আরো একবার...



 

রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭

শুভশ্রী সাহা


সেল্ফিতে---
কত কথা কত ব্যথা দায় অঙ্গীকার হার মানা মানি
ভাগাভাগি অপত্য
  সুখ
ভালোবাসা কাঁচের দেওয়াল সহজেই দাগ পড়ে যায়
যখন সেল্ফিতে অন্য নারী মুখ----
বিষাদ ক্ণা
বাড়িয়েছি হাত- রেখেছ কি হাতে সেই
বিষাদ দানা এক এক করে--
অমৃতের পাত্রে পড়ে আছে গরল
তাই সই-- ভালোবাসার নাম গরল---
হৈমন্তিকা
অঘ্রানের বৃষ্টিতে  ভিজে উঠোনে
মনখারাপের সেই আলো--
কিছুই যায় না বৃথা থেকে যায়
জীবনের সব টুকু রাখা ভালো


বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৭

শুভশ্রী সাহা





 ফেসবুকের পেজ / কবিতার কবি/ লেখক ও তাদের সার্বজনীন  গ্রহণ যোগ্যতা---- 
আজ আমরা এমন এক সন্ধিক্ষনে এসে পৌছেছি যেখানে মিডিয়া ও অনলাইনের ভূমিকা সর্বোত্তম হয়ত। আগে পূজা বার্ষিকী বা বইমেলায় পাব্লিশ হওয়া কবি / লেখক ছাড়া আমরা কাদের কথাই বা জানতে পারতাম। সেই সময় কি লেখা হত না না কবির সংখ্যা কম ছিল তা নয়-- তখন প্রচার বা কবিরাও হয়ত প্রচারবিমুখ ছিলেন। ৯১/ ৯২এর বই মেলায় প্রচুর তরুন কবি এবং লিটিল ম্যাগ পেতাম যারা কোন স্টল পেতেন না সবুজ মাঠে বসে বই বিছিয়ে বই বিক্রি করতেন। ব্যক্তিগত যে সব কবিতার বই বিক্রি হত তা একান্ত ভাবেই নিজেদের করতে হত রোদে জলে ঘাম ফেলে-- তাদের লেখার মান কি খারাপ ছিল--- বহু পরবর্তী কবি উঠে এসেছেন। হর্ষ দত্ত আবুল বাশার গৌতম ঘোষদস্তিদার এমন অনেকে এসেছেন। 
সে তুলনায় এই মুহুর্তে অন লাইন এবং ফেবুকের সুবাদে আমরা সবাই কবির দলের সংখ্যা অনেক বেশি। এরা প্রত্যেকেই প্রচারের সুযোগ পান বা পাচ্ছেন নিজস্ব বা অন্য কোন পেজের অনলাইন পত্রিকার সদস্য হয়ে-- এক্ষেত্রে নিজের টাইম লাইনের বন্ধু এবং পেজের বহু সংখ্যক সদস্যের সন্মিলিত লাইকিং এবং কমেন্টের জোরে তারা খুব সহজেই কবির আসনে চলে যান। কবি তো কবি ই-- স্বঘোষিত হন বা পাঠক ঘোষিত হন--- তাদের লেখা কতটা সর্বজনগ্রাহ্য হল তাও কে দেখে বা বোঝে-- বহু জন ই তো সখের কবি--- কবিত্ব তাদের অংশত আসলেও আপত্তি কি! তাই কে পড়ল কতজনের কাছে পৌছল সেটা নগন্য--- কবি শিরোনামধারী হলেই হোল-- আগে যেমন অঘোষিত নিয়ম ছিল যে কোন কুলীন কাগজে  লেখা বের হলে তবেই তুমি কবি বা লেখক। দেশের ঘরে জন্ম নেওয়া কবি ই সুনীল শক্তি নীরেন্দ্র বা সমরেন্দ্র শরৎ  পুর্নেন্দু এনারা--- তার আগেও ছিল অমৃতবাজার শ্যামল,  বুদ্ধদেব বরেন প্রফুল্ল এনারা ছিলেন অগ্রগন্য-- এখনকার কবিরা এই সব থেকে বহু  দূরে থাকেন তাদের জুতো ছিঁড়ে কবি হবার দায় কই! তারা আগেই এলিট কবি / সম্পাদক হয়ে বসে থাকেন পেজে পেজে নিজের টাইম লাইন আলো করে এবং কবি তৈরী করেন বা চাটুকার দের দল যারা নিরন্তর আহা রে! বাহা রে! করে যায়। কোন কাগজে লেখেন কথাটি এখন ব্রাত্য- বরং প্রশ্ন রাখবেন-- আপনার কটা বই বেরোল-- -- প্রত্যেক বছর বইমেলার সুবাদে অসংখ্য বই এখন পাব্লিশ হয় তার কাটতি কেমন জানতে চাইবেন না----- কাটতি নিয়ে এখন কবিদের তো সংসার চালাতে হয় না আর!! তাই কবির কোনো দায় পাঠিকদের কাঁধে নিতে হয়না -- প্রিয়কবি,  প্রিয় লেখক তাদের বই কেনা এমন কি বহু সদস্যের চালানো একটি পেজ যখন পত্রিকার আকারে বের হয় তার একটি কপি কেনার ও ব্যক্তিগত দায়  কোন সদস্যের থাকে না। সব দায় দায়িত্ব নেয় সম্পাদক মশাই----
তাহলে কি সত্যিই কোন কবি উঠে আসছেন না--- ফেসবুকের বা ই ম্যাগাজিন বা লিটিল ম্যাগাজিন
  থেকে-- আসছে নিশ্চয় তাদের সংখ্যা নগন্য -- তারা খাটিয়ে তারা তরুন-- তারা কবিতার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কিন্তু যে সহজ পথে পাঠক মন প্রবেশ করে সেই নরম মাঠের ঘাসের গালচে ত্যাগ করেনা। শিক্ষা সাহিত্য  নিয়ে অনর্থক জ্ঞান বিতরন বা কচাকচি কোনটাই নেই----- শুধুই কবিতা আছে-----আছে কবিতার প্রতি ভালোলাগানোর আকর্ষণ --- এরাই কবির পাঠক তৈরী করছে দায় বহন করছে কবিতার-- জমিতে নেমে--- বাকি রা বেশির ভাগ নিজের কবিতা কবি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যস্ত---- কারা থাকবেন কারা যাবেন--- সময় এবং পাঠক কুল ঠিক করবেন--- বছরে একটি দুটি ম্যাগাজিন নিজের সম্পাদনায়  প্রকাশ করা বা নিজের বই বের করলে ফেসবুকে ফ্যান ফলোয়িং বাড়লেও  বৃহত্তর পাঠক কে সংযুক্তিকরণ  করানো যায় না।



ছবি কৃতজ্ঞতা স্বীকার: Cesar Legaspi