চয়ন ভৌমিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চয়ন ভৌমিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

চ য় ন ভৌ মি ক

গো অ্যাজ ইউ লাইক -


তাহলে সম্মান দেওয়া যাক এসো। পুরস্কারে ভরিয়ে দেওয়া যাক কর ও কোঁচড়। লাইন করে দাঁড়াও এবার সব আশ্রমিকগণ। পরপর এসো নাম ডাকা হলে। তোমরাই আমাদের দলের সম্পদ, সভাসদ ও শাসনযন্ত্র। আমাদের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, আর সমন্বয় সংঘর্ষ। আঘাত ছুটে এলে, দলবদ্ধ হয়ে তোমরাই দাঁড়াবে জানি সামনে দেওয়াল হয়ে। রোবটের মতো নির্দেশ গ্রহন করে, প্রতিহত করে দেবে সমস্ত উল্কাপাত। পাল্টা মারে ভেঙে দেবে বিপক্ষের সমস্ত চাল ও ছক। তারপর ফিরে এসে হাডল করবে সবাই মিলে। দলীয় মতবাদ পালন করার জন্য সাধুবাদ দিয়ে শুরু হবে উল্লাস ও সুরাপান আমাদের মধ্যে। তোমাদের দেখে জ্বলতে জ্বলতে খসে পড়বে সাত আকাশের নক্ষত্র। চোখ টাটাবে জমিদার ও জনান্তিকের। কিন্তু তোমরা মন্ত্রপুত সেনানী আমাদের। বিশ্বাসভাজন ক্লু-ক্ল্যাক্স-ক্ল্যাং। তোমাদের মঞ্চ দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ আমাদের সনদ। হাতে হাতে তোমরা তুলে ধরেছ করোটি আঁকা কালো পতাকা। জলদস্যুদের কৃষ্টি বহন করে এগিয়ে চলেছ, যুগ যুগ ধরে। কী লিখে রেখে যাচ্ছ, তার দিকে ফিরে তাকাচ্ছ না।।

মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

চয়ন ভৌমিক

ঘূর্ণিঝড় ও আগুনকথা

চয়ন ভৌমিক
 

পোটেমকিনের যুদ্ধজাহাজ থেকে নেমে এল বসন্তসেনার দল। তাদের রুশি ঘোড়াদের নাক দিয়ে তখন বেরিয়ে আসছে রক্তপোড়া গরম নিশ্বাস। শরীরে তাদের তুন্দ্রা পশমের স্থুল আচ্ছাদন। ওই তো ওদের মালিকেরা বরফ সমুদ্রের উপর দিয়ে স্লেজ ছুটিয়ে চলেছে তাদের প্রিয় নারীদের স্তনাগ্রে। ঘামের গন্ধে মিশে যাচ্ছে তৃষ্ণার নিবারণ যন্ত্রণা। দেখো দেখো দূরে পড়ে আছে স্বৈরাচারী নায়কদের ছিন্নভিন্ন লাশ। ওরা যখন উল্লাসে পাঁউরুটি খাচ্ছে রুমাল উড়িয়ে, ঠিক সেই মুহুর্তেই ভার্খোয়ানস্কের ফার বনে বাতাস বইল শন্‌শন্‌ ক্রায়োজেনিক আঁচে। আর সে চটুল, জরা-মিশ্রিত ছোঁয়াচে তির-কামান এক বল্গাহরিণ শিকারীর ধনুক থেকে নিক্ষিপ্ত হল অজানা লক্ষ্যে। ভল্গা, গোবি, আরো কত জল, স্থল, পাহাড়, জঙ্গল তুচ্ছ করে সেই তির বিদ্ধ করলো এক ত্রিভঙ্গমুরারি দেশের মৃত্তিকাকে। সে দেশের নুয়ে পড়া কাঁধগুলোকে করে দিল ঋজু ও সটান। যারা নতমস্তকে সঙ্গম করে এসেছে এযাবৎ, তারাই বিজয়ধ্বজা কাঁধে নিয়ে নিল সহসা উন্নত কশেরুকায়। মেসোপটেমিয়ার অস্ত্র তাদের যুদ্ধসজ্জা হল, সিন্ধুসভ্যতার কবিতা হল আবাদি। সিপাহীদের দো-নলা বন্দুকের টোটা গঙ্গা-অববাহিকা বরাবর আবার তৈরী করল এক দামাল হাওয়া। সে হাওয়া এরপর ঘুরে যাবে অন্য কোনোদিকে। লোনা, সোঁদা গন্ধ নিয়ে ভেসে যাবে আরো দূরবর্তী কোনো সাভনায়। যেখানকার শুকনো ঘাসে আগুন লেগে গেছে। যেখানে বনময়ূরীর পেখমে, রামধনু-রঙা বৃষ্টির জিয়ন-স্পর্শ চাইছে দগ্ধ-ঠোঁট।