সুমন কুণ্ডু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সুমন কুণ্ডু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

সুমন কুণ্ডু


    ' ঢেউ নিয়ে লেখা ' 

          চার । 

এভাবে শব্দের গুটিয়ে থাকা 
  আসলে ঘিলুর কুদাম্পত্য, 
 প্রতিরোধহীন, অস্পষ্ট দিন চলে যায় 

         পাঁচ । 

সন্ধে একধরনের পরজীবি 
 সংক্রমণ ধীরে ধীরে গলা বেয়ে  ফুসফুস 
  আর গরম জলের ছড়িয়ে দেওয়া বিরোধ 
    ভাষাহীনতার গায়ে 
       তীব্র এক  চপেটাঘাত 

         ছয় । 

স্থানু সময়, দূরত্ব বড় নির্বাক 
 নিঃস্বতা নিয়ে ভাবতে বসে দেখতে পাই 
দু-মুঠো  চালের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছে হরিণ 
লক্ষ্মীর ঝাঁপি খুঁজতে খুঁজতে ঢুকে পড়েছে গহীন এক অরণ্যে 
বিশাল এক বটবৃক্ষের নিচে বিড়বিড় করছিলেন অক্ষর সন্ন্যাসী 
 কী তার দীপ্তি, কী তার মন্ত্রের আওয়াজ 
 নিমেষে জং উড়িয়ে দিচ্ছে সৌরতেজ 
ক্ষুধা শান্ত হল খুব 
এমন বাৎসল্য , এমন নির্ভার 
  এত নির্মোহ না হলে 
কী করে হতো এমন নিরিবিলি সোহাগ ! 

শনিবার, ২২ জুন, ২০১৯

সুমন কুণ্ডু



 উইক এন্ডের কবিতা ' 

             ১- 

উদ্বাস্তু শিবিরে শুয়ে যোগ-বিয়োগ দেখেছি 
যোগের ক্ষত সামলে নিয়েছ বলে 
 তোমাকে মহম্মদ বলছিল সব 

খবর মিথ্যা ছিল, আন্দাজের ঢিল মাতাল 
 আগত সময়ের কাছে 
    জানতাম না 
দম্ভের ভেতর এত কারুকাজ 

হাইকু কবিতার টুকরো টাকরা কথা কম দামি 
 কালো রং- এর উস্কানিতে মগজে কুটকুট হচ্ছিল 
    মন বারণ করেছিল, 
                       কাগজ শোনে নি 

সময় ফেরত দিচ্ছিল শ্রদ্ধার মূল্য 
 ওইসব ছবির অনুমোদন নেই 
যার মধ্যে লেপটে আছে মানসিক অসুখ 
ভাবনার গোড়ায় কেরোসিন তেল ছড়িয়ে পড়ছে 
   মে মাস, ভরা গ্রীষ্ম 

দেশলাই আর ধরিয়ো না ... প্লিজ 

            ২ - 

৩৬০ ডিগ্রি হলে বৃত্ত সম্পূর্ণ হয় 
ওপরদিকে কালো- রং নিজেকে মেলছিল 
ঘটিগরম কবিতা লিখতে বলল, বসেছিলাম লিখতে 
ব্রোকার দাঁড়িয়ে, ওদের মন বড়বাজারে বিক্রি হবে বলে 

            ৩ - 

উঁচু কলার, সাদা শার্ট, উৎসব এবং চশমার কাঁচ 
নাঃ , জানে না পীড়িত চোখের ভেতর টা 
জল ভরে ছলছল করে 
 জল যেমন হয় 
  জলের কোন পদবী নেই !  

সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮

সুমন কুণ্ডু

' দূরবীন, তারাখসা ও একটি নস্টালজিয়া ' 

ছোটবেলায় বাবার কাছে আবদার করে মেলা থেকে একটা দূরবীন কিনেছিলাম, প্রতিদিন পড়াশোনার পর ছাদে মাদুর পেতে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে দূরবীনটা চারিদিক ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তারা দেখতাম, অচেনা তারার একটা নাম দিতাম আর বইতে এসে খুঁজতাম । কয়েকদিন পর পর কিছু তারা হারিয়ে যেত, আবার ফিরে আসতো নিজ অবস্থানে কিছুদিন পর ! কখনও চোখে পড়ে যেত তারাখসা-- একটা উজ্জল আলোর ফুলকি তারার বুক থেকে ছুটে বেরিয়ে এসে কোথায় ভ্যানিশ হয়ে যেত ! 

মা বলতো, তারারা এভাবে স্থান পরিবর্তন করে । তারাখসা দেখলে নাকি সাত টি ফুল, সাত টি ফল আর সাতজন মুনি-ঋষির নাম উচ্চারণ করতে হয় মনে মনে ! আমিও করতাম । আচ্ছা, এভাবে তারাদের বুক থেকে একটুকরো বেরিয়ে আসলে- ওদের কী কষ্ট হত না ... বলো ! 

শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৮

সুমন কুণ্ডু


' বর্ষার কবিতা ' 

ভালোবেসে 
মানুষ প্রিয়জনের চোখের ভূগোলে 
সারাদিন নিজেকে খুঁজে বেড়ায় 

বসন্তের পাদদেশে মসৃণ চুম্বনের উষ্ণতা 
সংসার দৃশ্য, কাঠগোলাপ ইত্যাদি 
দেখতে চেয়ে দক্ষিণের জানলায় 
চোখ রাখে 

গ্রীষ্মের বোতামখোলা অপেক্ষার পর 
এক প্রেমিক হাওয়া এসে 
কাতুকুতু মেঘ জড় করে বর্ষার , 
পৃথিবীর সমস্ত বন্ধ্যাত্ব ঘুচিয়ে 
ফাঁকফোকরে জল ভরে আসলে 
বলো 
ভালোবেসে, না ভালোবেসে এবার তুমি 
পালাবে কোথায়

শনিবার, ৩০ জুন, ২০১৮

সুমন কুণ্ডু

 ১ - 

' মধ্যরাতে '

মসৃণ পিচ দেখে
আপনি হাসবেনই তো, হাসুন
চতুর্থ দিনে
কিছু বিবৃতি আপনাকেও ভেঙে দিতে পারে
আপনার ভালোবাসা, বিশ্বাস যা কিছু
একটু ভরসা পেলেই মানুষ কত জোরে জোরে হাসে
তারপর সেই সেতু ধরে হাঁটতে হাঁটতে
সেতু পার করতে না পেরে
লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদে !

      ২- 
      ' কবি '

ভাষার ভেতর ঘুরপাক খেতে খেতে লেখা কিছুতেই আসছে না
বিছানায় মশারি টাঙানো
শুয়ে শুয়ে ফুরাচ্ছে না রাত
অন্য কোন স্রোতের ভেতর
এপাশ ওপাশ করে দিক বদলে
একটা জাল শব্দ ধরার
অথচ জালের থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে কেউ
অন্ধকার গলে
দেরি হয়ে যাচ্ছে জেনেও
ঘুম আসে না, শুধু পিছলে যাওয়া শব্দটি
জাপটে ধরবে বলে

শনিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৮

সুমন কুণ্ডু

   ১। 
 ' নীরবতায় ' 

একদম নীরব হয়ে গেলে ভেবো
আরও নিবিড়ভাবে ভালবাসছি ।
তখন পাশ ঘেঁষে বোসো চুপটি করে
নীরবতা আরও বাড়লে 
শুনো , ব্যক্তিগত কিছু -
শুনো , বুকের আওয়াজ কত সহজে শোনা যায়
শত চিৎকারেও যা শুনতে পাওনি তুমি ...!

               ২। 
 ' একটি চিঠি যা করতে পারে '

অনেকদিন হল আমার ডাকবাক্স শূন্য 
কোন চিঠি আসে নি , 
অনেকদিন হয়ে গেলে ভেতরটা খুব আনচান হয় 
নিভে আসা প্রদীপের মতন !

একটা চিঠি কী করতে পারে ? 
সারাদিন এমন প্রশ্নের মুখোমুখি উত্তর খুঁজতে 
পুরনো চিঠি নিয়ে উবু হয়ে বসি, দেখি উঠোনে তুই - 
শান্তির তুলসীমঞ্চ, পাশে প্রিয় শিউলির ঘ্রাণ !

হাতে নিয়ে বসলে মনে হয় 
পাশেই আছিস আমার হাতটা ধরে শক্ত করে , 
তুই তো জাদু জানিস 
তোর প্রজাপতি অক্ষর , ফুলে ফুলে ঘোরে !

অবসেশন আলেয়ার মতো মনে হলে আমার জ্বর হয় 
মুক্তি'ও তো তোর কাছেই , 
অনেক ভালবাসলে অভিমান আসে 
অনেক অভিমান আসলেও ভালবাসতে হয় নিশ্চয়ই ...! 

            ৩।
 ' কেউ পায় না কখনো '

তেমন কিছু নয় কিছুটা সরে গেছি শুধু 
তোমার অভিযোগের থেকে
তোমার থেকে নই , 
এখন কেউ কাউকে কোন ডিস্টার্ব করি না 
শুধু চোখে চোখ পড়ে গেলে 
পুড়তে থাকি ভেতর ভেতর দুজনেই !

আঁচ ওঠে ধোঁয়ায় 
আমার থেকে - তোমার থেকে , 
মনের তাপ বাড়লে 
কার কী ভুল ঝাপসা হয়ে আসে  
বিষণ্ণ দুটি চোখে !

শুধু বুকের কাছে যে অস্থিরতা থাকে 
কতটা গভীরতা 
কতটা ওজন তার- জানো ? 
একেকটা আশীর্বাদের মতো করে ভেবে দেখো  
কেউ পায় , কেউ পায় না কখনো ...!