পারমিতা চক্রবর্ত্তী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পারমিতা চক্রবর্ত্তী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১

শুভাশিষ সিংহ ,পারমিতা চক্রবর্ত্তী

                                                      



লকডাউন ডায়েরী-১


ইদানিং 

খিদের ভিতরে দলা পাকিয়ে আছে প্রতিবেশীর  মুখ 


যে ভাবে  দিন বিরক্তি  উপহার পাঠায় 

অ্যাম্বুলেন্সের  তীক্ষ্ণ  রিংটোনে

তার থেকে অনেক বেশি  আরামদায়ক  

নগর কীর্তনে মাখামাখি জনপদ 


এখন এই হলদে  বিকেল ক্ষতচিহ্ন হীন 

প্লাটফর্মে আছড়ে পড়ে  না  ক্লান্তির জলপ্রপাত 


 তোমাকে যে  ছুঁয়ে দেখবো নিঃশ্বাস

এই সাহসিকতাকেও  ভয় দেখাচ্ছে কেউ 

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

পারমিতা চক্রবর্ত্তী





স্বীকৃতিহীন অজিতকুমার 



" অজিতের অকাল মৃত্যুতে সাহিত্যের ক্ষতি হবে ৷তার গুণ ছিল - সে সম্পূর্ণ নির্ভীকভাবে সকল পক্ষের বিরুদ্ধে নিজের মত প্রকাশ করতে পারত ৷ঠিক বর্তমানে সে রকম আর কোন বাংলা লেখক ত মনে পড়ছে না l " এমন কথা বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ৷ কিন্তু কার সম্পর্কে ৷ মনে হতেই পারে কে এই অজিত ৷কিই বা তার পরিচয় ৷ এই কথাটি রবীন্দ্রনাথ ১৯১৯ সালে ১ জানুয়ারি জগদীশ চন্দ্র বসুকে বলেছিলেন ৷ অজিত বলতে রবীন্দ্রনাথ অজিত কুমার চক্রবর্ত্তীর কথা বলেছেন  ৷ শান্তিনিকেতনের শিক্ষক ছিলেন তিনি ৷ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ তার  লেখার অনুবাদের ভার দিয়েছিলেন তার উপর  ৷ শান্তিনিকেতনে বিদ্যালয়ের প্রথম পর্বে তিনি শিক্ষার দায়িত্বে ছিলেন  ৷ গুরুদেব প্রসন্ন হন তাঁর একাগ্রতায় , নিষ্ঠায় ৷ ধীরে ধীরে গুরুদেবের কাছের লোক হয়ে ওঠেন ৷ শিক্ষকতার পাশাপাশি অনুবাদক , সঙ্কলক ও সম্পাদক হিসেবেও স্বীকৃতি লাভ করেন ৷ কবি নিজেএকাধিক রচনা তাঁর হাতে অনুবাদের জন্য দিয়েছিলেন ৷ শান্তিনিকেতন ও রবীন্দ্রনাথের কাজ ও কথা বিলেতবাসীর কাছে পৌছে দিয়েছিলেন স্বয়ং  অজিত কুমার চক্রবর্তী ১৯১০ সালে ।বিলেতের পত্রিকায় সেই খবর প্রথম প্রকাশ হয় ১৯১০ , ১ অক্টোবর ৷ রুদ্রপ্রসাদ চক্রবর্তী " অজিতকুমার " গ্রন্থে জানিয়েছেন ও দেশে থাকার সময়  রবীন্দ্রনাথের ''কাবুলিওয়ালা " গ্রন্থের অনুবাদ করে বিদগ্ধ মানুষকে শুনিয়েছেন , তাঁদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সংযোগ ঘটিয়েছেন ৷সেই অজিতকুমার যখন শান্তিনিকেতন ছাড়তে হল , তখন তাঁর যন্ত্রণা অনুমেয় ৷তবে ম্যানচেস্টার কলেজে পড়াশুনার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ররীন্দ্রনাথ ৷ ১৯১০ ,সেপ্টম্বর বিলেত যাত্রা করেন অজিতকুমার ৷ কেন বিলেত যাত্রা করতেন তিনি ৷ তার জীবন ঘিরে এত কেন লুকিয়ে আছে যার উত্তর পাওয়াটা মুশকিল ! গুরুদেব কি তাকে সরিয়ে দিয়েছিলেন এখান থেকে ৷ এক সময় তাঁর লেখার অনুবাদের দায়িত্ব তার হাতে দিয়েছিলেন ৷ হঠাৎ যেন সেই জায়গাটা নড়ে গেল ৷ অজিতকুমারের করা অনুবাদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখা নিয়ে তা যে পাঠক সমাজে বেশ সোরগোল ফেলেছিল বেশ বোঝা যায় ৷কিন্তু তার উপযুক্ত সমাদর অজিতকুমার পাননি ৷

ররীন্দ্রনাথের  একটা সময় পর  তাদের সম্পর্কের চিড় ধরে ৷ ঠাকুর পরিবারে সাথে যোগাযোগ বাড়ে অনেক কবি ,লেখকদের ৷ তাদের মধ্যে কেউ কেউ শান্তিনিকেতনে আসতেন I তাদের মধ্যে অনেকেই অজিতকুমারকে সহ্য করতে পারতেন না এমন শোনা যায় ৷গুরুদেব একটি চিঠিতে অমল হোমকে লিখেছেন ," তার (অজিত) যৌবনের শ্রেষ্ঠ দিনগুলি সে দিয়েছে আমাকে ঘিরে ।ইদানিং সে একটু দূরে সরে গিয়েছিল ,সেটা একদিক থেকে ভালই হয়েছিল তার স্বাতন্ত্র্যবিকাশে ৷' কেন বলেছিলেন একথা গুরুদেব ? আসলে তীব্র স্নেহ করতেন অজিতকুমারকে ৷ সে থেকেই হয়ত একটা আকর্ষণ ছিল অজিতকুমারের প্রতি ৷সে সময় প্রায় অনেকেই রবীন্দ্রনাথের লেখা ও জীবনধারাকে অনুসরণ করে চলেতেন ৷   তেমনটা ছিলেন না অজিতকুমার ৷ বরং তিনি তাঁর প্রতিটি কাজের মধ্যে নিজস্ব ছাপ রেখে চলতেন l তিনি রবীন্দ্রনাথকে পাশ্চাত্য সমাজে পরিচিত করে ছিলেন এমন দাবী করতেন বলে শোনা যায় ৷ কিন্তু তারই সঙ্গে গুরুদেবের প্রতি তার ছিল অপার শ্রদ্ধা ৷ তিনি কখনই সেই শ্রদ্ধার জায়গা থেকে সরে দাঁড়াননি ৷ তাই যদি হত তিনি তাঁর স্ত্রী লাবণ্যলেখাকে লিখতেন না " গুরুদেবের কাছে আদপে যাই না ৷ কারণ তাঁর সঙ্গে বেশী মিশলে  হিংসার উদ্রেক হয় এবং তাছাড়া আমি মনেই ভেবেছি যে আমি তাঁর সঙ্গে কাজের সম্বন্ধ ছাড়া কোন সম্বন্ধ বাহিরে রক্ষা করব না ৷ ভিতরে যা কিছু আছে তা ভিতরেই থাক ৷" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে কাজের বাইরে একটা সু সম্পর্ক ছিল ৷ যেটা কখনই প্রকাশের বাইরে আসেনি ৷ সে সময় এক ঝাঁক নক্ষত্রের মাঝ থেকে যেন চাপা পড়ে গিয়েছিলেন ৷

 তিনি লিখেছেন ," আসল কথা হচ্ছে গুরুদেবেরই মোটে আমার উপর স্নেহ নেই -স্নেহ সামান্য থাকলেও শ্রদ্ধা ও আশা কিছুই নেই I সেই জন্য আমাকে আঘাত করা যার তার পক্ষে সহজ ৷এন্ডুরুজ যে  গুরুদেবকে বলতে সাহস পেল যে আমি বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে কাজের নই - এটা গুরুদেব বরদাস্ত করলেন তো ?তিনি যদি সামান্য প্রতিবাদটুকু করতেন তবেই এসব সমালোচনা কবে নিরস্ত হয়ে যেত ৷" 
রবীন্দ্রনাথ কি তবে তাঁকে ভুল বুঝেছিলেন ?নাকি ভুল ছিলেন অজিত কুমার ? অনেকে বলেছেন যন্ত্রণা নিয়ে শান্তিনিকেতন ছাড়েন তিনি ৷ কেন ছাড়লেন আশ্রম? আশ্রমের পরিবেশ কি তাকে বাধ্য করেছিল ? কিছু প্রশ্ন থেকেই যায় ৷


প্রশান্ত কুমার পাল ' রবিজীবনী' তে লিখেছিলেন আর্থিক ও অন্যান্য কারণে বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠছিল ৷ বিদ্যালয় ছেড়ে মহর্ষির জীবনী রচনার জন্য বৃত্তি নিয়ে চলে যেতে হয়েছিল কলকাতায় ৷তখন ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটে অজিতকুমার I কিন্তু আশ্রমের প্রতি টান আর গুরুদেবের প্রতি শ্রদ্ধা অটুট ছিল তাঁর  ৷ আশ্রমে ফেরার অনুরোধ জানিয়ে সম্ভবত রবীন্দ্রনাথকে একটি চিঠিও দেন তিনি ৷ ১৯১৮ র ২৮ অক্টোবর লেখা রবীন্দ্রনাথের চিঠি তার প্রমাণ ৷ 'শান্তিনিকেতনে  তোমার আসা সম্বন্ধে এখনো কিছুই স্থির করিনি ৷.... এখানে স্থায়ী বন্দোবস্তের জন্য একটা কোন উপায় বোধ হয় শীঘ্র করা যেতে পারবে ৷' 


তা আর করার দরকার পড়েনি ৷ চলে গেলেন অজিতকুমার I ১৯০৪ গ্রীষ্কাবকাশের পর শান্তিনিকেতনের আশ্রমে তিনি যোগ দিয়েছিলেন ৷ এই কাজটি তিনি হৃদয় থেকে করতেন ৷ তাই সেখান থেকে চলে আসাটাকে তিনি মন থেকে মানতে পারেন নি ৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোথাও যেন ভুল বুঝেছিলেন তাকে I বত্রিশ বছরের জীবনে মহর্ষি ,রামমোহন ছাড়াও জিশুর জীবনী তিনি লিখেছিলেন  ৷ পত্রপত্রিকায় ছড়ানো রচনা , অনুবাদ ছাড়াও আছে তাঁর লেখা বারোটি বই ৷ ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী ' সম্পাদক ৷ বিদেশে 'সোনার তরী ' কিছু অনুবাদ করেন ৷ রবীন্দ্রনাথের অনুমোদন সত্ত্বেও তা প্রকাশ পায়নি ৷ কোথাও  যেন তাঁর কৃতিত্বকে চেপে দেওয়া হয়েছিল ৷ এমন ভাবে জৌলুসহীন ভাবেই ছিলেন তিনি ৷ গত ২৯ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু শতবর্ষ হল ৷ 

এমন অনেক মানুষ ছিলেন রবীন্দ্রনাথের আশেপাশে যারা অনেক প্রতিভাসম্পন্ন হয়ে ও পরিচিতি লাভ করেননি ৷ অজিত কুমার তার মধ্যে অন্যতম ৷
 




শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৮

শুভাশিস , পারমিতা

হিলস্টেশনের ঘুম
১)
 খিদের সামনে বসে 
নরম একটা সংকোচ 
হাত রাখলেই গলে যেতে পারে 
২)
একদিন ফিরতে হলে 
ঠোঁটের পরোয়া করবো না 
অরণ্যের শোকমিছিলে সামিল হব
পাতা সরিয়ে দেখে নেব 
"বিসর্জনঘটিত তার গলি ও গন্তব্য"
৩)
একটা অতিক্রমযোগ্য ভুলের পর 
শীত রাম অবতারে 
শুধরে নিতে চাইলে 
তিন পেগ মগ্নতাই যথেষ্ট 
৪)
কেউ হিসাব রাখেনি 
কতটা স্তব্ধতা ভাঙলে - তিস্তার পাথর গলে 
মেজাজ বদলাচ্ছে অনিকেত 
শরীরের এবং ঠোঁটের

এখন টেবিলজোড়া নিবন্ত সিগারেটে চেয়ে  হিলস্টেশনের ঘুম 

মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

পারমিতা চক্রবর্ত্তী

প্রাচীন যুগে রূপকথা 
_____________________


সৌন্দর্যের সংজ্ঞা যুগে যুগে বদলাচ্ছে তা আমরা আশেপাশের পরিস্থিতি দেখে বুঝতে পারি I আজকের দিনে সবাই যেখানে ‘স্লিম ফিগার’-এর দিকে ঝুঁকছে, সেখানে অতীত হাতড়ালে আমরা দেখতে পাই চীনে ট্যাং বা তাং রাজবংশের শাসনকালে ব্যাপারটা ছিল ঠিক উল্টো। তখন স্থূলকায়, গোলগাল মুখ, লম্বা গাল এবং প্রশস্ত কপালের মেয়েদেরই সুন্দর বলে বিবেচনা করা হত। সুন্দর বা সুন্দরী কাকে বলব, মানে সৌন্দর্যের ভিত্তিটা কি ? বাহ্যিক সৌন্দর্য বলতে আমরা বুঝি ত্বক , চুল , দাঁত , নখ ইত্যাদি , ইত্যাদি ৷

চুল সৌন্দর্যের বড় একটি বিষয় ৷ মধ্যযুগের বিভিন্ন চিত্রকর্মে মহিলাদের যেসব ছবি আমরা দেখি, তার সঙ্গে আমাদের বর্তমান সমাজের মেয়েদের সাজসজ্জার বেশ বড় একটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। প্রকৃতপক্ষে তখনকার সময়ে নিজের কপালকে স্বাভাবিকের চেয়ে আরো বড় এবং কিছুটা বাঁকানো রূপে দেখানোই ছিল সৌন্দর্যের পরিচায়ক। সেজন্য তাদের অনেকেই সামনের দিকের কিছু চুল কাটা কিংবা তুলে ফেলার মতো কাজটি করত। পরবর্তীকালে চুলবাঁধাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নানা কলাকৌশল ৷ পুরানো এক প্রবাদবাক্য আছে মেয়েদের কেশেতেই বেশ । বিভিন্ন ধরণের খোপা তাতে ফুলের ব্যবহার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে বারবার ৷


বড় নখ নারীদের প্রাচুর্যের প্রতীক ৷ নেইল আর্ট যুগ-যুগ ধরে চলে আসছে ৷ এককালে চীনের লোকদের হাতের নখ বড় রাখার চল ছিল। কিং রাজবংশের সময়কালে তাদের নারী-পুরুষদের হাতের নখ কখনো কখনো ৮-১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা দেখা যেত। কোনো কোনো নারীকে নখ ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে সোনার তৈরি নেইল-গার্ড ব্যবহার করতেও দেখা গিয়েছে। নখ বড় রাখার বিচিত্র এ চর্চা দেখা যেত মূলত ধনী সমাজের মাঝেই। তারা নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি দেখাতে নখের পরিচর্যা করত ৷ তারা এটা বোঝানোর চেষ্টা করত যে, এত টাকা-পয়সা তাদের আছে যে নিজ হাতে কাজ না করলেও দাস-দাসীদের দ্বারা দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পন্ন হবে ৷ দাস-দাসী দিয়েই জামা-কাপড় পরা ও খাওয়া-দাওয়ার কাজটা সেরে নিত তারা।

মধ্যযুগে এবং রেনেসাঁর সময়ে ইউরোপের নারীদের সাজসজ্জা শুধু মাথার চুল তুলে কপাল বড় করার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না। চোখের পাতার লোমকে তখন অতিরিক্ত যৌনাবেদনময়তার প্রতীক হিসেবে দেখা হত। তাই অনেক নারীই তাদের সেই লোমগুলো একেবারে তুলে ফেলতেন। এছাড়াও প্রাচীন গ্রিসে জোড়া লাগা ভ্রু ছিল নারীদের পবিত্রতা এবং বুদ্ধিমত্তার প্রতীক। এটা না থাকলে অনেকেই চোখের সুরমা ব্যবহার করে সেই ঘাটতিটা পূরণ করত।

জাপানি নারীদের প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস একেবারেই ছিল না ৷ আমাদের মাঝে গড়ে ওঠে সেই ছোটবেলা থেকে দাঁতের সুরক্ষা রক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দাঁতকে ঝকঝকে সাদা দেখানোও নিয়মিত এই ব্রাশ করার অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে জাপানি নারীদের মাঝে প্রচলিত সৌন্দর্য চেতনা ছিল এর ঠিক উল্টো। হাজার বছর ধরে জাপানি নারীরা তাদের দাঁতকে কালো রঙে রাঙিয়ে নিত। উনিশ শতক পর্যন্তও তাদের মাঝে এ চর্চা দেখা গেছে। সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি বিয়ের অঙ্গীকার রক্ষার একটা প্রতীকী রূপও ছিল কালো দাঁত।

আবার প্রাচীন ধনী রোমান সম্প্রদায়, আরো ভালো করে বলতে গেলে ধনী রোমান নারীরা তাদের দাঁতকে ঝকঝকে সাদা করার জন্য বেছে নিয়েছিল মানবমূত্রকে। সেই মূত্র দিয়ে ধুয়েই দাঁত পরিষ্কারের কাজটি তারা করত। তবে যেনতেন মানুষের মূত্রের উপর ভরসা করতে পারত না তারা। দাঁত পরিষ্কারের জন্য তারা শুধুমাত্র পর্তুগিজদের মূত্রই ব্যবহার করত। এজন্য জাহাজ ভর্তি করে জার পূর্ণ পর্তুগিজ মূত্র আসত রোমান নারীদের জন্য। মূত্রে থাকা অ্যামোনিয়া জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করত। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও সত্য যে, আঠারো শতক পর্যন্ত মাউথওয়াশ হিসেবে মূত্র ব্যবহৃত হয়েছে।

আঠারো শতকে এসে ইউরোপীয় নারীদের সৌন্দর্য চর্চায় পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। আগেকার সময়ের হালকা সাজসজ্জার বদলে তখন তারা বেশ ভারি সাজসজ্জার দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। এরই একটা অংশ ছিল বিভিন্ন ধরনের বিউটি প্যাঁচ। চাঁদ, তারা, বর্গ, বৃত্ত ইত্যাদি নানা আকৃতির বিউটি প্যাঁচ পাওয়া যেত তখন। ছোট ছোট সেই ফেব্রিকগুলো মুখের বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হতো। আর একেক জায়গায় লাগানোর অর্থ ছিল একেক রকম। যেমন- যদি কোনো নারী এমন বিউটি প্যাঁচ তার ডান গালে পরত তবে তার অর্থ হত যে, সে বিবাহিতা।


প্রাচীনকালের চীনের রূপচর্চায় ঢু মারলে দেখা যাবে তৎকালীন নারীরা তাদের ভ্রুকে কালো, নীল কিংবা সবুজ গ্রিজ দিয়ে রাঙাতে খুব পছন্দ করত। সেই সঙ্গে তখনকার ফ্যাশন অনুযায়ী ভ্রুকে দিত নানা আকৃতি। হান রাজবংশের সময়ে কোনো দিক নির্দেশ করা ভ্রু’র স্টাইল বেশ জনপ্রিয় ছিল। আবার এককালে ‘দুঃখের ভ্রু’ নামক একপ্রকার স্টাইল বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এই স্টাইল অনুসারে কারো ভ্রুকে মাঝখানের জায়গায় বাঁকিয়ে কিছুটা উপরের দিকে তুলে দেওয়া হত।

প্রাচীনকালের নারীরা ভিন্ন উপায়ে নিজেদের রঙিন রাখার চেষ্টা করত ৷ তবে সর্বতোভাবে রূপের আড়ালে লুকিয়ে থাকে সজীব মন ৷ তার পরিচর্যাই হল রূপচর্চার আসল চাবিকাঠি ৷ রূপ নিয়ে পুরুষ কিংবা নারীর উন্মাদনা চিরকালই ছিল বেশী ৷ তাই সেই রূপকে নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই । 


--------------------

"সৃজন" নিবেদন 

পারমিতা চক্রবর্ত্তী

মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০১৭

পারমিতা চক্রবর্ত্তী



২৫ শে বৈশাখের "সৃজন" স্বল্প প্রয়াস : 
~~~~~~~~~~~~ ~~~~~

"জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে ..." 


জীবনে বা মরণে সমস্ত ক্ষেত্রে রবিঠাকুর ভীষণ ভাবে বিদ্যমান ৷ জীবনের কোন পর্যায় থেকে তাঁকে অনুসরণ করা শুরু ঠিক বলতে পারব না, তবে চিন্তাশক্তির উন্মেষ যখন হয়েছে তবে থেকে তাঁর প্রতিটি শব্দে , প্রতিটি চরণে নিজেকে উপলব্ধি করেছি । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শনে ঈশ্বর এক গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অধিকারী। ঈশ্বরের মূল অর্থ নিহিত রয়েছে মানব সংসারের মধ্যেই। তিনি দেববিগ্রহের পরিবর্তে মানুষ অর্থাৎ কর্মী ঈশ্বরকে পূজার কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন বা বলতেন ৷ সংগীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন ।

দূর থেকে যাকে দেখি সে আমার 
অন্তিম ...

রবীন্দ্র রচনাবলীর পাতাগুলো আরও একবার ওলটাতে মনের সরণীতে ধরা দিল – 

." রবির কিরণে হাসি ছড়াইয়া দিব রে পরান ঢালি ৷

শিখর হইতে শিখরে ছুটিব ,
ভূধর হইতে ভূধরে লুটিব ,
হেসে খলখল গেয়ে কলকল তালে তালে দিব তালি"

শৈশবের উচ্চাকাঙ্ক্ষার পাহাড়ে রবির কিরণ মূলত স্রোতস্বিনী নদীর মতো ৷ মনোরাজ্যে রাণী হয়ে ভূস্বর্গ থেকে মর্ত্যলোক জয়ের আনন্দে বিভোর হয়ে থাকত অবচেতন মন ...

যাপনের নিশ্চুপ গুহা থেকে যখন কৈশোরের আবর্তে ঢুকলাম চারিপাশে প্রাত্যহিকতার মাকড়শার জাল একটু একটু করে জড়িয়ে পড়তে লাগল I প্রভাত পাখির গান বেসুরা লাগত ৷ যাপনের বেড়া পেরিয়ে গতানুগতিক গড্ডালিকা প্রবাহমান হওয়াটাই ট্রাজিক l
" কতবার আমি ভেবেছিনু ' উঠি উঠি ,
আলস ত্যাজিয়া পথে বাহিরাই ছুটি I " 

মুক্তির স্বাদ তখন থেকে একটু একটু করে গ্রাস করছিল অতৃপ্ত মন l সংসারের বাঁধাধরা গণ্ডিতে থেকে পঙ্কজ হয়ে চায়নি এ হৃদয়ের উপাখ্যান l মুক্তিসুখের উল্লাসে মৌচাকে প্রবেশ করে হুল খেতে প্রস্তুত ছিল উৎশৃঙ্খল মন ৷ নিতান্ত সাধারণ একটি মেয়ে অসাধারণ হবার স্বপ্ন দেখত কেন ! এই প্রশ্ন কেউ করেনি ৷ কেউ তার জন্য বিনিদ্র রজনী যাপন করুক ; কবিতার নেত্রী হোক এই চেয়েছিল নিসঙ্গ মন l

" নিজের কথা বলি ৷

বয়স আমার অল্প l
একজনের মন ছুঁয়েছিল
আমার এই কাঁচা বয়সের মায়া ৷
তাই জেনে পুলক লাগত আমার দেহে – 
ভুলে গিয়েছিলাম অত্যন্ত সাধারণ মেয়ে আমি ,
আমার মত এমন আছে হাজার হাজার মেয়ে ,
অল্প বয়সের মন্ত্র তাদের যৌবনে ৷৷ "

গুপ্ত প্রেম অব্যক্ত থেকে যায় ৷ মনের ক্ষিদের সাথে চোখের ক্ষিদের সামঞ্জস্যতা শূন্য ব্যবধানে মেশে ৷ তবু যেন মনের দোড়গোড়ায় কে যেন ছোবল বসায় I

"মনে গোপনে থাকে প্রেম , যায় না দেখা ,

কুসুম দেয় তাই দেবতায় l
দাঁড়ায়ে থাকি দ্বারে , চাহিয়া দেখি তারে,
কী বলে আপনারে দিব তায় ? 

গুরুর লেখার অনুসরণে আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস বর্ষায় প্রেম : 

বাদল দিনে 
__________________

এমন বাদল দিনে তারে ভোলা যায় 
গগনে মেঘরাশি চমকায় 
আঁখিতে অশ্রুরাশি ,
মিশিছে চারিধার ।

হৃদয় রাঙিছে বনছায় ,
কুসুম কাননে কে যেন গড়িছে ফুলহার৷ 
যে লয়ে এসেছে মোরে ,
একি তারি লাগি উপহার ?
এমনি দিনে তারে বলা যায় 
ব্যাকুল বেগে প্রেম বাহিছে চারিধার ,
হৃদয় মিলেমিশে একাকার I 
সে কথা আজি যেন বলা যায় ,
তোমারে ভালবাসি শতবার ৷ 

জীবনের চড়াই উত্‍ড়াই পেরিয়ে বসন্তের শেষ বেলায় দাঁড়িয়ে মনে হয় পুরো বসন্তই ঝরা পাতা I অসামর্থের ঘুণ অস্থিমজ্জা শিরা উপশিরার মধ্যে প্রবেশ করে রক্তকে দূষিত করে I বসন্তের রঙ বড় ফ্যাকাশে মনে হয় ৷

" যদি বসন্তের শেষে শ্রান্তমনে ম্লান হেসে 

কাতরে খুঁজিতে হয় বিদায়ের ছল ?
আছি যেন সোনার খাঁচায়
একখানি পোষ-মানা প্রাণ I
এও কি বুঝাতে হয় _ প্রেম যদি নাহি রয় 
হাসিয়ে সোহাগ করা শুধু অপমান ?

মনে আছে , সেই একদিন 
প্রথম প্রণয় সে তখন l "

অনেক ছবির মাঝে নিজের ক্যানভাসটি তুলিশূন্য হয় ৷ ভেবেছিলাম তুমি আর আমি মিলে সিন্ধু পারাপার হব ৷ অনেক মেঘের মাঝে রাখাল বালক হারিয়ে যায় অলীক স্বপ্নে ৷

" কথা ছিল এক তরীতে কেবল তুমি আমি 

যাব অকারণে ভেসে কেবল ভেসে ,
ত্রিভুবনে জানাবে না কেউ আমরা তীর্থগামী 
কোথায় যেতেছি কোন দেশে সে কোন দেশে 
আপনার থেকে যা পেয়েছি
তা এ জীবনের শত 
দাসত্বেত্ত ঘুচবে না l "

আপনার তরীতে সব কিছুই তুচ্ছ মনে হয় |

হঠাৎ দেখা 

পশ্চিম আকাশ থেকে এক ফালি রোদ ভেসে আসে ৷ ট্রেনের কামরায় বসে রবীন্দ্রনাথ পড়তে পড়তে পেরিয়ে যায় স্টেশন ৷ দমকা হাওয়ায় এলোমেলো চুল বলে , কত কিছু বলার ছিল , কতটা দেওয়ার ছিল ; যদি সবটুকু উড়াড় করে দিতে পারতাম বেশ হত ৷ 

আমার পোড়া বালিশ আর ডায়েরীর পাতায় শুধু অবিন্যস্ত শব্দ হেঁটে বেড়ায় ৷ কখনও মনে হয় এই অবয়ব থেকে বেরিয়ে যদি নদী হতে পারতাম বেশ হত ৷ আমার প্রজাপতির রঙ হতে ভীষণ ইচ্ছা করে৷

বোলপুর আমার বড় প্রিয় ৷ কেন জানি না মনে হয় আমার সর্বনাশ ওখানে লেখা আছে I কোপাই নদী আমার অনেক কিছু কেড়ে নিলেও দিয়েছে অনেক কিছু ...

দিয়েছে তোমায় ! শুধু আমি অার আমার মেয়েবেলা ৷ 

একান্ত বসন্ত তোমায় দিলাম

আজ ২৫ শে বৈশাখে " সৃজন " সকল পাঠককে জানায় শুভেচ্ছা ৷ 

 
২৫ শে বৈশাখ


ছবি কৃতজ্ঞতা স্বীকার : রুমা অধিকারী