গৌতম দত্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গৌতম দত্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

গৌতম দত্ত



কাছে এলে দূরে যাওয়া যায় –


কাছে এলে দূরে যাওয়া যায় –
দূরে গেলে কাছে।
সব রঙ মিশে গেলে নেই-রঙ আর !
সাদা বালিয়াড়ি বড় মিহি।

পরাগ ফোটে ছড়ায় ওড়ে
সব রাগ ও-
কতো রূপ কতো বর্ণ কত গন্ধ।
সময়ের সীমানায় সব যায় মিলেমিশে।
পড়ে থাকে শুধু মন।
একান্ত আপন শুধু-
ফুলে ফুলে জমা করা মধু’র মতন
অপেক্ষায় –
একরাশ আশা—আর
একবুক ভালোবাসায়।
প্রজাপতি আসে সকালবেলায়।
ফুল-মন নিয়ে উড়ে যায়
নতুন আশায়।


#####

বড় রুক্ষ হ’য়ে গেছে চারিপাশ।

বড় রুক্ষ হ’য়ে গেছে চারিপাশ।
ফনিমনসা’র কাঁটা, আলো করে আছে –
সারাটা শহর। তাও ছিল ভালো,
ভাদ্রে’র রাতে যদি ফুল দেখা যেত !
সব কিছু শেষ নাকি ?
অগষ্ট্‌ ছ’য় কিম্বা আট-এর মতো ?
শিমা—সাকি তবু পোড়াতে পারেনি –
মন- স্বপ্ন- আশা- আলো।

এখন যে ভাইরাল জ্বরে সব পুড়ে যায়।
হে মহান,
হে অনির্বান শক্তি,
সব কিছু নিয়ে নাও তুমি-।
শুধু একটুকু ভালোবাসা রেখে দিও প্লিজ্‌
বুভুক্ষু হৃদয়ে আমার !

একটুকু। এ্যাটমের মতো !
আবার গড়ে দেবো এক পৃথিবী আকাশ, নদী, পাহাড় আর
নতুন মানুষ-
যারা শুধু ভালোবাসা ছাড়া আর কিছু
বুঝবেই না।

শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০১৭

গৌতম দত্ত

এসেছে আষাঢ় মাস—

(এক)

বৃষ্টি অঝোর – তোমার শরীর ছুঁয়ে
প্রথম সকাল নতুন কোনো দিন।
মোম রঙটার সবুজ নীলে হাত
তোমার কাছে অষ্টপ্রহর ঋণ।
বেড়েই চলে তালের সারি’র ছবি
তোমার পিঠে জলফোঁটা উজ্জ্বল
আমার তালু পদ্মপাতায় খোঁজে
ভোরের শিশির – সেইটুকু সম্বল।

(দুই)

সকাল সকাল ডাক দিলে এম. জি. রোডের মোড়ে –
ছাতার তলায় খুঁজতে থাকি মুখ।
সবুজ সবুজ কাঁচা ডাবের
থোকায় থোকায় ভীড়
সবুজ রঙা ছাতার নীচে ডাবপানা সেই আলো
মনের কোনে বৃষ্টি-ভেজা
    আখতারীবাঈ মীড়।

(তিন)

এক হাঁটু জল ঠনঠনিয়া’য় তুমি আমি
পায়ে জলের শিরশিরানি সরিয়ে দুজন
হাঁটছি যখন ট্রামলাইনে তখন তুমি
হোঁচট খেয়েই লাগামছাড়া খামচে ধরো
আমার কোমর ঠিক তখনই একখানা
বাস জল কাটিয়ে ঢেঊ ছড়িয়ে এলোমেলো
করেই তোমায় আমার কাছে পৌঁছে দিয়েই
চলতে থাকে আমি তখন তোমায় নিয়েই
প্রথম আলো বুকের ভেতর বৃষ্টি নামে

অনুভবে সে যেন এক নতুন জীবন 
আষাঢ় ঘ্রাণে।


বুধবার, ১৪ জুন, ২০১৭

গৌতম দত্ত


দৃষ্টি -

(১)
চোখের তারায় ফুটে ওঠে ঠিক
কতখানি চাওয়া চাইতে পারো !
বুঝে নিতে হয় এক লহমায়-
ভালবাসা কতো কাছাকাছি আরো।

(২)
মুখ ফেরালেই
আমি বুঝি ঠিক
দৃষ্টি কুয়াশা
নোনতা জলেই-
তবুও তোমার
উজাড় চাহনি
গলে গলে পড়ে
আমার গালেই !

            (৩)
একমুঠো ভালবাসা ছুঁড়ে দিয়ে তুমি
পালাবে কোথায় আমি তো জানি
সাগরের ঢেউ ঠিক ফিরে আসে
ফেরাবেই জানি সে চাওয়াখানি।

            (৪)
চোখের পাতায় বৃষ্টি দেখেছি
কদমফুলের মতো ভিজে –
হাল্কা সুবাসে’র গন্ধ লেখে থাকা সেই দৃষ্টি
এখনো যুদ্ধ থামাতে পারে।
আর সেই চোখে যদি কাজলের টান লেগে থাকে –
তাহলে তো ঈশ্বর দু-দুবার ভাববেন
বাংলার পুকুরপাড়ে দুপুরের ছায়া
ঠিক কোনখানে ফেলবেন !

            (৫)
বিগত কবি’রা মুঠো মুঠো পংক্তি কালি দিয়ে মেখেছেন
নিজের শরীরে - ।
তোমাদের দৃষ্টিগুলো – ছেনি আর হাতুড়ি’র ঘায়ে
এখনো মর্মর –
খাজুরাহে, কোনার্কে।
ফতেপুরসিক্রির লাল চাতাল অপেক্ষা করে আছে
তুমি তাকাবে বলে।
একটু আড়চোখো দৃষ্টি’র জন্য কতোকাল আমি
অপেক্ষা করে আছি -
তোমায় পাশ থেকে একবার দেখবো বলে
সারা রেড রোড ধরে আমি হেঁটে যাবো বারংবার।
গঙ্গা’র দিকে যেন বেশী তাকিও না তুমি –
কলকাতা ভেসে যেতে পারে গঙ্গার জলে।