দীপাঞ্জন মাইতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দীপাঞ্জন মাইতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

দীপাঞ্জন মাইতি

                     





পট্টি 




ক্ষতের ওপর কোনোমতে ধূলো, মাটি, ঝরা পাতা দিয়ে ঢেকে রেখেছি। চলতি কথায় যাকে পট্টি বলি আমরা। কেউ বাইরে থেকে যেন কিচ্ছু বুঝতে না পারে... এভাবেই সমস্ত বিরোধিতা, ক্ষোভ চাপা দিয়ে রাখাটাই আমাদের অভ্যেস। 


যাতে রাগ ছড়িয়ে না পড়ে তাই বসত অঞ্চল ভেঙে ফেলা হয়েছে বিভিন্ন পট্টিতে। যাতে রোগের কথা ছড়িয়ে না পড়ে ক্ষতস্থল ঢেকে রাখা হয়েছে পট্টিতে। তবু সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে লিঙ্গ রাজনীতি, ধর্মীয় বিভেদ, বর্ণ বৈষম্য ইত্যাদি বিভিন্ন রোগ। তবু শরীরের অনেকটা গভীরে মন বলে একটা বিষয় থাকে। থাকে বলেই ফুল ফোটে... ঋতু বদলায়... স্বাদ-গন্ধের সাথে ভালোলাগা জড়িয়ে যায়। 


রোগের সাথে নাতিদীর্ঘ সহবাসে - আমরা যত অসুখেতে সুখ খুঁজে নিতে শিখে নিই, ক্রমশ ততটাই শরীরের গভীরে শিকড় ছড়িয়ে ফেলে সমস্ত সকল অসুখগুলো। মনে বিষ ঢুকে যায়। আমরা ক্ষতের ওপর ধূলো, মাটি, পাতার পুরু আস্তরণ পেতে রাখি যাতে কেউ বাইরে থেকে কিচ্ছু বুঝতে না পারে। অধিকারবোধ এভাবেই আয়ত্ত ভুলে বৃত্ত পেরোয়, আগ্রাসী হয়ে ওঠে আরো আরো আরোর চাহিদায়। আমার মনে হয় যখন একজনের অধিকারবোধ আয়ত্ত হারালে আরেকজন অধিকার খোয়াতে বাধ্য। 


অধিকার খোয়ালে ঠিক মাথা নাড়া দিয়ে ওঠে প্রত্যয়‌। আর ক্ষতের ওপর কোনোমতে ধূলো, মাটি, ঝরা পাতা দিয়ে ঢেকে দিই আমরা। খাদ্যের অধিকারে ভিক্ষে, স্বাস্থ্যের অধিকারে সুরা, শিক্ষার অধিকারে মনোরঞ্জন, বিপ্লবের অধিকারে অনির্দিষ্টকালের বিচারাধীনতা, স্বাধীনতার অধিকারে মৃত্যু...  কেউ বাইরে থেকে যেন কিচ্ছু বুঝতে না পারে... এভাবেই সমস্ত বিরোধিতা, ক্ষোভ চাপা দিয়ে রাখাটাই আমাদের অভ্যেস। যাতে রোগের কথা ছড়িয়ে না পড়ে ক্ষত ঢেকে রাখা হয় পট্টিতে। যাতে রাগ ছড়িয়ে না পড়ে তাই বসত অঞ্চল ভেঙে ফেলা হয় বিভিন্ন পট্টিতে।

শনিবার, ২২ জুন, ২০১৯

দীপাঞ্জন মাইতি




কথক কথা
-

অভ‍্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মন্দ নয়।
তবু আজন্ম মৃত‍্যুর অপেক্ষার থেকে
নিহিত নিহতের কথায় আশঙ্কার চিহ্নকে
পৃথক করতে পারি না বলেই
আমায় কবি হিসেবে গ্রাহ‍্য করি না আমি।
মরণোত্তর পদোন্নতির তেমন কোনো আশাও দেখতে পাই না;
তবে! এর দায় কার? যে লড়তে লড়তে মরে গেল?
না কি যে মরার ভয়ে...
আমার তো নিজের কোনো গল্প নেই।
মৃত কবির প্রতি মাফিনামা
- 

মেরুদন্ড বড় বিষম বস্তু.. সবার তা থাকে না,
উত্তরাধিকার সূত্রে যারা রোদ জল ভালোবাসা পেয়ে বেড়ে ওঠে -
তারা সবাই ব‍্যাটন তুলে নিতে পারে না;
ফলে মৃত‍্যু হয়। মৃত‍্যু হয় প্রজন্মের, মৃত‍্যু হয় প্রজন্ম কবির।
তোমার পদচিহ্নের গভীরে গাহন পূণ‍্যস্নানসম; তার কিনারে দাঁড়ালে
আমার প্রায়শই নিজেকে হন্তারক মনে হয়.. আর্তনাদ চিরে দেয় হৃদয়,
"
ক্ষমা করো হে কালশ্রেষ্ঠ তোমার মৃত‍্যু আসলে হত‍্যা, 
তোমার মৃত‍্যু মোদের স্বভাবে.. তোমার মৃত‍্যু স্বাভাবিক নয়।"


সোমবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৮

দীপাঞ্জন মাইতি

অসৎযাপন ও সন্ধিকথা
অপরিচিত মুখের তুলনায় পরিচিত মুখোশের সাথে
ভাবের আদান প্রদানে আমরা বেশী স্বচ্ছন্দ।
আসলে তেমন করে সত্যি শুনতে আমরা কেউই চাই না,
আসলে তেমন মত সৎ আমরা কেউই নই;
আদর্শ এবং নিরাদর্শের মধ্যে উচ্চতার ফারাক অনুভূতি গ্রাহ্য বিষয়,
প্রতিটি সত‍্যি কোন না কোন পূর্ব নির্ধারিত ম‍্যানিফেস্টোর অংশ..
যা একসময় গ্রহণযোগ্য ছিল না; ব্যস এটুকুই বাস্তব।
একথা যতটা ভরসার ঠিক ততটাই ভয়ের,
ধর্ম, ভাষা, শ্রেণীসত্ত্বা.. ইত‍্যাদি সকল গোয়াল ঘরে,
বেড়ে উঠছি আমরা.. অজ্ঞতার সুযোগে মুছে ফেলা হচ্ছে অস্তিত্ব;
ইতিহাসের পাতায় দেখো - কাল আর মধ্যবিত্তকে খুঁজে পাবে না।
শেষমেশ লাশকাটা ঘরে যখন অচেনা মুখের ভিড়ে কোনও একজন তুমি
দেখো পরিচিত মুখোশেরা দালালী বুঝে নিচ্ছে তোমার কবরের
তবে তাতে কি !
আসলে তেমন মত সৎ তো আমরা কেউই নই,
তেমন করে সত‍্যি শুনতেও আমরা কেউই চাই না,
অপরিচিত মুখের তুলনায় পরিচিত মুখোশের সাথে
ভাবের আদান প্রদানে আমরা বেশী স্বচ্ছন্দ।

সুখ অসুখ তত্ত্বকথন
আমি তত সত‍্যি মিথ‍্যে বুঝি না,
আমি তেমন অংক ভূগোল জানি না,
ইতিহাসের পৃষ্ঠায় নেরোর গল্প লেখা হয়
যখন সুরবাহারের মূর্ছনাতে চাপা পড়ে
জ্বলন্ত শহরের আর্তনাদ -
আমি পাতা উল্টে দায় দায়িত্ব পালাই।
ধর্ষিতা যে মেয়েটার গায়ে দুশ্চরিত্রের ট‍্যাটু এঁকে দিয়েছে দুষ্টু ছেলেরা -
সে আমার আত্মীয় নয়,
তাই আমি আবার ঘুমিয়ে পড়ি - স্বপ্ন গড়ি রাজার মহল বাঁধার।
অবাক হলে! কেনো? নষ্ট মেয়ের ভালো থাকতে মানা বুঝি?
আমার কোন আর্জি তো সেদিন কোন ডাকহরকরা বয়ে নিয়ে যায় নি,
মাঝ আকাশে গুলি করে মেরেছিলে আমার কবুতরগুলোকে -
বলেছিল নষ্টদের আর্তনাদ বলে কিছু হয় না সবটাই শিৎকার।
আমিও তাই আর কালবৈশাখী খুঁজি না,
প্রেম কারবারে সবাই মিঠি সুপারী খোঁজে...
কেউ কেউ মনে ধরে গেলে দিন কতক মরার কথা মনে হয় না,
সে ফিরে এলে মাঝরাতে আমায় চৈত্র দুপুরের কাঁচা পাকা বুকের ছায়া জড়িয়ে ধরে,
সুখ... শরীর ছুঁলে বড় অবাধ‍্য সংক্রমণ.. চোখ বুজে আসে আমার সুখে
আমি সুখী হব...আমি সুখী.. আমি.. আমি..
হঠাৎ মোহভঙ্গ হয় পাওনা গন্ডা হিসেবে;
মনে পড়ে যায় আমি নষ্ট মেয়ে - আমার অসুখ বেচাই কাজ,
তাই আবার ঘুমিয়ে পড়ি - স্বপ্ন গড়ি রাজার মহল বাঁধার।


শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

দীপাঞ্জন মাইতি

চিরন্তনের ভাষা
-----------------------
               

শীতের শেষ.. গলে যাচ্ছে বরফ,
বরফ গলা জল বয়ে যাচ্ছে পাথর থেকে পাথরে,
ছড়িয়ে... ছিটিয়ে যাচ্ছে গাছের পাতায়,
পাতার ডগা থেকে জলের ফোঁটা ঝরে পড়ছে মাটিতে,
ঝর্ণার জল পেরিয়ে যাচ্ছে ঝিঁ ঝিঁ ডাকা জঙ্গলের পাশ দিয়ে,
অনেক উঁচু থেকে আছড়ে পড়ছে পাথরের বুকে,
ফেনা কাটছে জলে, শব্দ হচ্ছে.. ভীষণ শব্দ হচ্ছে,
কথা বলছে পাহাড় - জলপ্রপাতের ধাপে ধাপে বিন‍্যস্ত পাথরগুলোর সাথে।
ঝর্ণার জল নদী হয়ে বয়ে আসছে অনেক দূরে ঐ পাহাড়টা থেকে,
আমার এখানে নদী শান্ত - আমি বসে থাকি নদীর পাড়ে,
যখন জোয়ার লাগে - নদীটা আমার সাথে কথা বলতে এগিয়ে আসে,
পাড়ে ছলাৎ ছল আওয়াজ হয়, আমরা গল্প করি।
এখন সন্ধ‍্যে নেমেছে, আমি বাড়ি ফিরছি,
নদীটা সমুদ্রের দিকে চলে গেছে;
অনেকটা পথ... ওর রোজ দেরী হয় বাড়ি ফিরতে,
সমুদ্র রেগে যায় রোজ, খুব রেগে যায়, খুব বকে.. অনেক তির্যক কথা বলে..
অভিমানে ঘর ছাড়া নদী একদিন মেঘ হয়ে যায়,
আকাশ তাকে ফিরে যেতে বলে ঘরে,
খুব তর্ক হয় অনেক কথা হয় অনেক কথা..
হেরে গিয়ে নদী বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে চেনা পৃথিবীর বুকে,
পাথুরে ঝর্ণা, গাছের পাতা, শুকনো চর বেয়ে ছড়িয়ে পড়ে ফুটিফাটা মাটির বুকে,
মেয়ে ঘরে ফিরেছে.... ওরা সবাই আনন্দ করে..
জনে জনে বয়ে দেয় বাতাস সে আনন্দ বার্তা,
সবুজ ধানের ক্ষেত বেয়ে বয়ে যায় ওরা উৎসব করে,
ভিজে হাওয়া লাগে মরুভূমির গায়ে -
ওরা শুনতে চায় সুখবর ওরা শুনতে চায় জঙ্গলে ডাকা ঝিঁ ঝিঁ র শব্দ;
আকাশ সাগর বাতাস পাহাড় গাছ পাতা নদী বালি সবাই কথা বলে নিজের ভাষায়।
তখনও বলত যখন তুমি আমি ছিলাম না..
আজও বলে, কালও বলবে যখন আমরা নির্বাক হয়ে যাব।
যেদিন নিস্তব্ধ হয়ে যাবে প্রতিটি সংগ্রাম অপভ্রংশ অস্তিত্বের লজ্জায়,
সমাজ সেদিন এক মালিকের মুঠোয় -
তার অট্টহাস‍্য নিশ্চিত করবে বিজয় গর্বের অতিপৃক্ততা;
সবার অলক্ষ‍্যে অনেক দূরে কোন জঙ্গলে তখন ছোট কোন বস্তিতে মেঘের তালে বাজবে মাদল -
মাথা তুলে দাঁড়াবে বছর নয়েকের ওহিউল্লাহ,
শুরু হবে সংগ্রাম আবার অধিকারের, মাতৃভাষার অধিকারের;
একটা একটা করে আমাদের ভাষা একদিন.. হারিয়ে যাবে,
হয়ত সব সংগ্রামের শেষে হেরে যাবে সবাই,
অবশিষ্ট বিজয়ী রয়ে যাবে একা, থাকবে না কোন বার্তা, থাকবে না কোন শ্রোতা;
সেদিন নিষ্প্রয়োজন হবে পরিচিত অপরিচিত অক্ষর বর্ণ বর্ণমালা,
মরে যাবে আমার তোমার সবার ভাষা,
রয়ে যাবে শহীদের নাম আকাশ সাগর বাতাস পাহাড় গাছ পাতা নদী বালির কথায় রূপকথায়।

শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৮

দীপাঞ্জন মাইতি

এবং ব্রাত্য
-
আজকালবড়অসহিষ্ণুহয়েপড়েছি - নাগ্রীষ্ম, নাশীত, নাবর্ষাকিছুইপছন্দহয় না;
কিছু বিচ্ছিন্নসময়ে ভেবে দেখেছি - বিষয়টিঠিকঋতুভিত্তিকনয়।
এক অনিশ্চিত আগামীর অভিক্ষিপ্ত উপলব্ধিতে উন্মত্ত আমার অসহায় বর্তমানকে,
নির্লিপ্তথাকারঅভিনয়ক্রমাগতপরশ্রীকাতরকরেতুলেছেআমায়।
লোমকূপেপ্রতিযোগিতারবীজপুঁতেফেলেছিঅজান্তে,
রোদরক্তেভেজানোনতামাটিতেআগাছারমতছড়িয়েগেছেহিংসা;
কেউদুখীতাইআমিমহাদুখী, কেউবড়তাইআমিআরোবড়হব -
আমারঅজস্রসত্তাএমনিঅসংখ‍্যসমান্তরালপ্রতিযোগিতায়সামিল,
ক্ষণস্হায়ীজয়পরাজয়েরআয়তেদূষিতআমারসমগ্রঅস্তিত্ব।
মিছেহাসিচোখেবসতপায়না.. আজোমি
থ্যেবলতেচায়নাআয়না,
তবেসত্যিটাওবলেনা...
বলেনা '
মৃতকবিত্ব তোমার;যাও - বিসর্জনদাওমিছেঅহং, সমর্পণকরোনিজেকে
সৃষ্টিরকাছে...খুঁজেদেখোপুরনোবালিশেরগায়ে লেগে থাকাশতবিনিদ্ররাত,
একদিনতুমিওকবিতালিখতে
।'
গলার কাছে জমাট বেঁধে আসে আশঙ্কা - একদিন ব্রাত্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা;
আবার কলম ঘষি প্রতিযোগিতা জেতার তাগিদে.. সম্মানের লোভে -
শুধুমাঝেমাঝে
মনেহয়আজকালকেনযেনবড়অসহিষ্ণুহয়েপড়েছি..

নববর্ষ
-দীপাঞ্জন মাইতি
সবসূচনাএকনয়,
একনয়সবশূন্য,
ভেঙেগড়েনদীচরে
ধুয়েযায়পাপপূণ্য।
তবুশুরুহয়..
শুরুহয়, ঠিকশুরুরথেকে,
স্বপ্নতোয়াসিক্তআঁখি,
রিক্তহৃদয়সঙ্গেরেখে।
মন্দভালোযোজনখানেক,
পথেরধারেসরাইখানা,
বন্ধুতুমিসঙ্গেছিলে –
সঙ্গছাড়াতোমারমানা;
বছরঘোরেবসন্তযায়,
আমরাকেবলবৃদ্ধহই,
এবারএসোবন্ধুবরং –
আমরাকেবলঋদ্ধহই।


হ্যামলিন
-দীপাঞ্জন মাইতি
দু'হাতদূরেরাস্তাশেষ..
পাএপাএতবুএগিয়েযাচ্ছে,
ঐপাশেকিছুআছেকি! 
নেইবোধহয়, তাইওরাসবাইহারিয়েযায় -
ওরাসবাইহারাচ্ছে।
কেডেকেনিয়েযায়ওদের?
স্বপ্ন?  মরিচীকানাগন্তব্য!
আলোআঁধারীভাঙাচোরাধাপবেয়ে -
ওরাপ্রশ্নউত্তরটপকে, এড়িয়েযায় -
যাবতীয়নিষ্প্রয়োজনমন্তব্য।
ওরাকারা! কিকরেওরাপারে?জানিনা;
শুধুজানিওদেরশিরদাঁড়াখাড়া, 
একরোখাবাঁশি,
ওদেরমিশকালোশরীর, চোখেমিঠেহাসি।
ওরাকরা! কোথায়যায়ওরা?জানিনা;
কেবলদেখেছিওরাশিষদিতেদিতেযায়যখন-
আলোকেওদেরপিছুনিতে,
দেখেছিকুয়াশাসরেগিয়েপথপাএপাএদীর্ঘহতে‌...



বুধবার, ১৪ জুন, ২০১৭

দীপাঞ্জন মাইতি


দৃষ্টি
    

ভোরের গায়ে গভীর আঁচড়..
             উষার রং এ মেশে,
রোজ ঠকে যায় জুঁই শিউলি মিথ্যে ভালোবেসে,
ফুল কুড়িয়ে ক্ষান্তি নেই কুঁড়ির শিকারি রাত,
দশ বারো নয় আকাশ এখানে মাত্র
              রোজের দু’হাত।
শিশিরের গায়ে সোঁদা ঘাসের
             আঁশটে গন্ধে বিষাদ,
মুঠোয় আবদ্ধ শীৎকার চেরে প্রচণ্ড আর্তনাদ;
মৃত শহরে মৃত মানুষের ভিড় –
যাবৎকালের গল্প,
এই আছে এই নেই জীবনের দৈর্ঘ্য বড্ড অল্প।
যে আঁচে পোড়ে নি নিজের ঘর
প্রাণে বরাবর দুর্বল তার স্মৃতি,
শিরায় শিরায় ছড়িয়েছে কোনো আজানা বিশেষ ভিতী...
শাস্তি! শাস্তি কিসের? শাস্তি কেমন? অপরাধ বনভোজন?
প্রশ্ন করার ইচ্ছে থাকলে.. ঝালিয়ে নেবেন ওজন।
মুছিয়ে দেবে সব যন্ত্রণা.. বহু যুগ বাকি..
হয় নি তেমন বৃষ্টি,

নির্জন দেখ বৃথা তবু ঐ সাক্ষী  - আর্ত শূন্য দৃষ্টি...