পূবালী রাণা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পূবালী রাণা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৮

পূবালী রাণা


এপিটাফ

পুবালী রাণা 

তোর অগোছালো ড্রয়িংরুমের মধ্যে যে গোপন দীর্ঘশ্বাস ছিল, বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলাম ঘরের এককোণে ধুলোপড়া ম্যাক্সিম গোর্কিকে দেখে। অজস্র জন্মের তৃষ্ণা বুকে নিয়ে তোর সঙ্গম সমুদ্রে ডুব দিয়ে আমি যখন ভালবাসার ঝিনুক কুড়োতাম, তোর ঘামে ভেজা কলারের থেকে চুঁয়িয়ে পড়ত মধ্যবিত্ত সোহাগ। সেখানে যে ঝাঁজালো কামুকতা ছিল বুঝতে পারি নি। হঠাৎই একদিন দেখলাম তোর বিছানায় সারিবদ্ধ পলাশের শব। শামুক ঘুমে আচ্ছন্ন আমি বুঝতে পারি নি বুনো কুড়চির চেয়ে আতরের গন্ধ তোর বেশি প্রিয় ছিল।
দেখতে দেখতে কখন যে পৌঁছে গেছি ভাঙনের নতুন দ্রাঘিমার শেষ সীমানায়!
আজ বুঝেছি কমন্ডুলের জ্যোৎস্না চেরা জল সারিয়ে দিতে পারে না পুরনো ক্ষত। এপিটাফে জেগে ওঠে প্রাচীন সময়--
ধ্বনিহীন জলের অস্তিত্বের মতো।
নিষিদ্ধ অন্ধকার আরো বড় হয়। ভালোবাসার ব্যাকরণ পুড়িয়ে দিয়ে আমি একটু একটু করে এগিয়ে যাই সীমানার দুর্ভেদ্য ব্যারাকে।

প

শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০১৭

পূবালী রাণা,



একটি নতুন দিন,যা অপার বিস্ময় নিয়ে ধরা দেবে...!


 আমার প্রতিটি দিন আরেকটা দিনের মতোই বার বার ধরা দেয় আমার দিনলিপিতে। প্রতিটি সকাল প্রতিটি সকালের মতোই। অথচ রাত শেষ করে ভোরের আলো ফোটবার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ভাবি, আজকের সকাল হয়তো বা আমার জন্য কোনো বিস্ময় নিয়ে আসবে...!  কোনো অজানা বিষ্ময়! কিন্তু তেমনটি আর হয়ে ওঠে না।  শুধু কাজ করে যাই সারবত্তাহীন, উদ্বেগপূর্ণ কাজ... অলস সকালেও নিরলস কাজের আহ্বান, যেখানে মনের কোনো সায় থাকে না, না থাকে কোনো পরিকল্পনা, না থাকে কোনো উৎসাহ,  উজ্জীবন....! থাকে শুধু প্রবল অতৃপ্তি আর প্রাণহীন স্তব্ধতা।

জীবনকে আমি খুঁজে পাই না। পাঁকের মধ্যে অনবরত পাক খাচ্ছি। আমার অস্তিত্বকে, আমার ইচ্ছেগুলোকে আমি যেন সমর্পণ করে দিয়েছি এক অদৃশ্য শক্তির হাতে। আমার বোধ ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি যন্ত্রের মতো প্রতিনিয়ত অসার কাজগুলো করে যাচ্ছি। শুধু একটা ছোট্ট সবুজ বাগান আমাকে একদন্ড শান্তি দেয়। যদিও কৃত্রিমতার ছোঁয়া তার মধ্যেও।
জানলার বাইরে মাঝেমাঝে তাকালে দেখি পরিপাটী করে সাজানো একটি বাগান --- সেখানেও পাখি আসে, ভ্রমর বসে ফুলের ওপর -- প্রাণহীনতার মধ্যেও একটু প্রানের ছোঁয়া, একটু প্রানের স্পন্দন---  যেন মরুভূমির
তৃষ্ণার্ত পথিকের এক আঁজলা  জলের সন্ধান প্রাপ্তি।

আমি শুধু সময়ের অপেক্ষায় থাকি, সেই বিষ্ময়টাকে লালন করি আত্মার ভেতর,  তখন সেই বোধটা আবার জেগে ওঠে ----
আমি অন্ধকার আর আঁধারের তফাৎ বুঝতে পারি।  সেই আঁধারের মধ্যে যখন আমি আলোর উপাসনায় মগ্ন হয়ে পড়ি, তখন আবার সেই সময়হীনতা আমায় গ্রাস করে। আমি শুনতে পাই এক ভয়ংকর একাকীত্ব..., এক অন্তঃহীন নিঃসঙ্গতার আলোড়ন। সেখানে আমার থাকা না থাকা সমার্থক।

যা আমার সাধনা, যাকে আমি আমার সমস্ত কিছু সমর্পণ করেছি,  তাকে আমি  খুঁজে পাচ্ছি না.... এই হল আমার চির অসফলতা..! আমার নিয়তি..!

 কোনো নামহীন কবি যখন তার সৃষ্টিকে ' আপন মনের মাধুরী মিশায়ে' গড়ে তোলে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে তার মন যখন আকাশ ছুঁতে চায়,পরমুহূর্তেই যখন প্রকাশকের নিষ্ঠুর থাবা তার সৃষ্টিকে দলিত মর্দিত করে, আঘাতে, অপমানে সে তখন ডুকরে কেঁদে ওঠে। আমি বার বার  সেই নামহীন কবির স্থানে নিজেকে আবিষ্কার করি। এক নিদারুণ সময়হীনতার জগতে নিজেকে হারিয়ে ফেলি।

কিন্ত সেই বিস্ময়কে আমি একেবারে হারিয়ে যেতে দিই না। আগামী সূর্যের রশ্মিতে আবার আমার বোধটিকে জাগ্রত করি আমার আত্মপ্রত্যয়ের স্বরলিপি লেখার জন্য।




মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৭

পূবালী রাণা

"যে পায়,সে পেয়ে যায়,সকলে পায় না"

পূবালী রাণা

কদিন আগেও জীবনটাকে বড় সুন্দর মনে হয়েছিল। সবকিছুই ছবির মতো লাগছিল। .... ইচ্ছেগুলো সুন্দর স্বপ্নের মতো আছড়ে পড়ত বুকের পরতে পরতে....সূর্যের রক্তিম আভা আমার মনের প্রতিটি আনাচ কানাচ আলোকিত করেছিল....আমিতে 'আমি' সম্পূর্ণ - পরিতৃপ্ত। আকাশ ছোঁয়ার খেলায় আমি মেতে উঠেছিলাম...সে আনন্দ সীমাহীন... সে সুখ বিস্তৃত... অফুরান জীবনশক্তিতে ভরপুর.. আমার বুকে তখন সবুজের সমারোহ....শীতেও শরতের আলো..অকাল শিউলির গন্ধ....! সেই অঙ্কুরিত মুকুল আমার চেতনাপ্রবাহে আমার শিরায় শিরায় বয়ে যাচ্ছিল... মূহুর্তগুলো প্রান হয়ে জেগে উঠছিল। আমি বাঁধভাঙা আনন্দে উচ্ছ্বসিত... রোমাঞ্চিত হয়ে উঠেছিলাম। নিজেকে মনে হয়েচ্ছিল বিশ্বসম্রাজ্ঞী। 
কিন্তু কি ভয়ানক এই ছন্দপতন... মূহুর্তের সেই প্রান... এক প্রাণহীনতার জন্ম দিল... আমার লেখনীর ছন্দপতন ঘটল। বাস্তব কঠিন ও নিঠুর..
দুদিন ধরে অবিশ্রান্ত বৃষ্টি.... মাঝরাতে বিকট শব্দ... কোথাও কিছু ভেঙে পড়ার শব্দ....
দূর থেকে কারো অস্ফুট আর্ত চিৎকার শোনা যাচ্ছে না? বাঁধ ভাঙার শব্দ..? নাকি কারো বুকের পাঁজর ভাঙার শব্দ? 
সেই আবহমানের বানী... "সুখ সকলের সয় না, সয় না, সয় না ! 


ছবি : গুগুল