চৈতালী ভৌমিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চৈতালী ভৌমিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

চৈতালী ভৌমিক

                                                         



প্রেম ঝরে অনিবার
চৈতালী ভৌমিক

স্কোরপিয়ো গাড়ির একিধারের দুটি দরজাই খোলা। গাড়ির মধ্যে বসে আছেন পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। গাড়ির মধ্যে বেজে চলেছে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার গাওয়া ' এমনো দিনে তারে বলা যায় '।  সুরার গ্লাস হাতেই ধরা, অপর হাতে নিঃশেষ হচ্ছে সিগারেট। তন্ময় হয়ে বৃষ্টি দেখছে কুনাল সান্যাল। বিশ্বচরাচর জুড়ে শুধু বৃষ্টির শব্দ। বিদ্যুৎ ঝিলিকেই একমাত্র বোঝা যাচ্ছে কুনালের চোখের নোনা পানির ধারা ভিজিয়ে দিচ্ছে বুক। 
  দোর্দণ্ড প্রতাপ কুনাল স্যারের চোখেও জল আছে ! ভেবে অবাক হয় নতুন ড্রাইভার বিরাজ। একবার ভাবলো স্যারকে ডাকবে কিনা,তারপরেই কি ভেবে চুপ করে গেলো। গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে চাঁদুর চরে, সামনে দিয়ে বয়ে চলেছে দ্বারকেশ্বর। ওপাশের চড়ের সবুজ বনানী উথাল-পাতাল হয়ে যেনো মিলিত হতে চায় দ্বারকেশ্বরের সাথে। নদীর আকাশে কালো মেঘের ঘূর্ণি হুহু করে বয়ে যাচ্ছে এধার থেকে ওধার, যেনো কোনো বন্য পাগল হাতি উদ্দামতার সাথে ছুটে চলেছে সংগীনীর দিকে। বৃষ্টির ফোঁটা ফোঁটা জল নদীর বুকে সহস্র বৃত্ত রচনা করে চলেছে।তার দিকে একমনে তাকিয়ে কুনাল ভাবে, তার জীবনের বৃত্ত কি  পূর্ণতা পাবে কখনো?  নাকি এভাবেই শুধু ছন্নছাড়া হয়ে নিঃশব্দে বয়েই যাবে ভালোবাসার ফল্গুধারায়।
  হঠাৎ গান থেমে যেতেই, বিরাজ চালিয়ে দেয় তার প্রিয় কিশোরের  গান ' রিমঝিম গিরে শাওন '। ছন্দ পতন হতেই চমকে ওঠে কুনাল। বিরক্তি হতে গিয়েও হাতের গ্লাস টা শেষ করে, আরো দু পেগ খেয়ে নেয়। তারপর বিরাজ কে বলে আবার সেই রবীন্দ্র সংগীতটাই চালিয়ে দিয়ে, গাড়ি এগিয়ে সামনের এক সরকারী বাগান বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে। বাগান বাড়ির কেয়ার টেকার কুনালের চেনা। তাই কুনালের পছন্দের একটি ঘর খুলে দেয় সে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে কুনাল  এগিয়ে যায় সামনের পুকুরটার দিকে।পা টা কি অল্প টাল খেলো! ভেবেই কুনাল পুকুরের দুপাশে বসার জায়গায় বাঁধানো ঘাটের একটি তে বসে ঝুপুস হয়ে ভিজতে থাকে। কানের মধ্যে, বুকের মধ্যে বাজতে থাকে একটিই গান  ”এমনো দিনে তারে বলা যায় 

 সে কথা শুনিবে না কেহ আর,

নিভৃত নির্জন চারি ধার।

দুজনে মুখোমুখি         গভীর দুখে দুখি,

আকাশে জল ঝরে অনিবার –

জগতে কেহ যেন নাহি আর॥"
কোথায় পিহু, আর কোথায় সে। কিছুতেই পিহুকে ভুলতে পারেনা কুনাল। আজকের এই দোর্দণ্ড পুলিশ কেন যে তখন বলতে পারেনি পিহুকে তার মনের সকল কথা সাহস করে! আজ তাহলে হয়তো তার পাশে, তার সাথে থাকতো পিহু। 
   তখন সদ্য কলেজ পাশ করে, বেকার কুনাল কিছু টিউশনি জুটিয়ে নিয়েছিলো হাত খরচের জন্য। সাথে চলছিলো পুলিশে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পড়াশোনা ও শরীর চর্চা। প্রথম দেখাতেই পিহুকে পছন্দ হয়ে যায়। কিন্তু শিক্ষক হয়ে সদ্য ঢুকেছে, এখনি প্রেম নিবেদন ঠিক নয় ভেবে, নিবেদিত প্রান হয়ে পিহুকে পড়াতো কুনাল। সময়ের অপেক্ষা করছিলো শুধু। ভেবেছিলো পিহুর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরেই তার মনের কথা জানিয়ে দেবে। কিন্তু এদিকে ভিতর ভিতর পিহুও যে কুনালের প্রতি আকৃষ্ট বুঝেও বোঝেনি পিহুর স্বার্থে। এদিকে পিহুর পরীক্ষা চলা কালীন কুনাল পাশ করে পুলিশের পরীক্ষায়। পিহুর সাথে ঠিক মতো দেখা করার ও সুযোগ পায় না, চলে যেতে হয় ট্রেনিং এ। ট্রেনিং শেষে বাড়ি ফিরে শোনে পিহুর বিয়ের সব ঠিক। সেই সময় হঠাৎ একদিন পিহু চলে আসে কুনালের কাছে। বলে তার আকাংখিত মনের সেই কথাটি। কিন্তু সদ্য চাকরি পাওয়া কুনাল সাহস পায় না দুঃসাহসিক কিছু করে ওঠার। ফিরে যায় পিহু।
  কিছুদিন আগে কোচবিহারে একটি কাজে গিয়ে হঠাৎ দেখা পিহুর সাথে। কোনো এন জিওর সাথে যুক্ত সে। বিয়ে ভেংগে গেছে বিয়ের পরপরেই। ফিরিয়ে আনতে চায় এখন সে পিহুকে নিজের জীবনে। কিন্তু পিহু কঠিন বর্মে ঢেকে নিয়েছে নিজেকে।
   কথা হয় ফোনে, তবে সে শুধুই কথা। মনের কথা বলার সাহস আজও পায়না। ভয় পায় কুনাল, যদি পিহু ফিরে আসতে না চায়।
  বাগান বাড়ির রুমে ফিরে যায় বৃষ্টি স্নাতো কুনাল। ফ্রেশ শাওয়ার নিয়ে টাওয়াল জড়িয়ে আবার বসে বোতল আর গ্লাস নিয়ে। সামনের জানালা দিয়ে হালকা ছাঁট আসছে বৃষ্টির।  পুকুরের চারপাশে তালগাছের সারি। তার ছাওয়া পরে পুকুরের চারপাশ  অপূর্ব এক ছবি এঁকেছে যেনো।  আজ যেন প্রকৃতি চাইছে কুনাল দুঃসাহসিক কিছু করুক। হাতে ফোন টা তুলে ডায়ল করলো 9433544142. 
- হ্যালো, স্যার 
- পিহু
- হ্যাঁ আমি বলছি
 কুনাল কানে ফোন চেপে ধরে আছে, শুনতে পাচ্ছে ওধারে গান চলছে ' এমনো দিনে তারে বলা যায় '
- পিহু, আজ আর স্যার নয়। আজ কুনাল সান্যাল ফোন করেছে তোমায়।
খানিক চুপ থেকে, পিহু শুনছে কুনালের ঘরেও গান চলছে ' এমনো দিনে তারে বলা যায় '...
 
  



মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

চৈতালী ভৌমিক


লোভ

তিল তিল করে জমানো মোহর গুলো নিয়ে আজ হিসাবে বসেছে কিপটে চাঁদু পাল।একটা মোহর বিক্রি করে বাড়ি বানাবেন।একটা বিক্রি করে ঘোড়ার গাড়ি আর বাগান কিনবেন।একটা বিক্রি করে মেয়ের বিয়ে দেবেন - এমনি করে লিখে রাখছিলেন।কিন্তু সব কিছু ইচ্ছা মিটে যাওয়ার পরেও তার প্রায় কয়েক ঘড়া মোহর থেকে যাবে।কি করবে কিছুই আর মাথায় আসছে না। বউ আবদার করলো, কিছু মোহর দিয়ে তাকে এবং মেয়ের গহনা বানিয়ে দিতে।তাও না হয় হলো।কিন্তু তারপর!নবাবের সাথে পরামর্শ করে একটা কালী মন্দির ও প্রতিষ্ঠা করলেন।তাও সম্পদ কমলো না তেমন।
চাঁদু পালের একটিই মেয়ে।তার মোটে ইচ্ছা নেই মেয়ের বিয়ে দিয়ে ঘরজামাই পুষে সমস্ত সম্পত্তি পরের ছেলের হাতে তুলে দেওয়া।আর তিনি হচ্ছেন মুর্শিদাবাদ এর নবাবের খাস লোক।যতদিন থাকবেন, না জানি আরো কত মোহর পাবেন।ভাবতে ভাবতে তিনি ঠিক করলেন একটি বজরা কিনবেন।তাতে বউ কে নিয়ে মাঝেমাঝে ঘুরতে বেড়াবেন।ভাবনার সাথে সাথে, কিনেও ফেললেন একটি বজরা।প্রথম প্রথম বউ মেয়ে সাথে যেতো।কিন্তু গিন্নীর বাতের ব্যাথার জন্য সেইভাবে আর বেরোতে চান না সাথে।গঙ্গার বাতাসে ব্যাথা নাকি বাড়ে।
  একদিন বজরায় হাওয়া খেতে একলাই বেড়িয়ে পড়লেন।ভাসতে ভাসতে দেখা পেলেন এক জেলে মাঝিকে।তার সাথে  নানান গল্প করতে করতে চাঁদূর মনে এক ফন্দী আসলো।বাড়ি ফেরার পর থেকে সে কেমন যেনো পালটে যেতে লাগলো।একদম আলাদা একটা মানুষ।হাড়কিপটে মানুষটা বেশ দিল খোলা হয়ে যেতে লাগলো।পাড়া,প্রতিবেশী আত্মীয় পরিজনের বাচ্চাদের থেকে যিনি দূরে থাকতেন তিনি তাদের সাথে খেলা করতে,গল্প করতে শুরু করেছেন।সময় পেলেই ওদের সাথে হইচই।ওরাও চাঁদু দাদু বলতে অজ্ঞান।বাজারে গিয়ে প্রতিবেশী, দোকানীদের সাথে গল্প আড্ডা দিতে লাগলেন।
  একদিন দাদু ঠিক করলেন বাচ্চাদের বজরায় করে ঘুরতে নিয়ে যাবেন।সবাই খুব খুশী।মোট বারো টা বাচ্চা নিয়ে তিনি রওনা হলেন। তারমধ্যে একটি নিজের দাদার ছেলের নাতি।ছেলে টি দাদুর অন্ধ ভক্ত।বজরা করে ঘুরে ফিরে এলেন নিজেদের গ্রামেই।দুপুর বেলা ছেলেদের নিয়ে জংগলে চড়ুইভাতি করে, ছেলেদের বললেন " এখন বাড়ি না ফিরে চল একটু জংগলে লুকোচুরি খেলি।" বাচ্চারা খুব খুশী।রাতে সবাই বাড়ি ফিরে গেলো খুশী মনে। চাঁদু পালের দাদার নাতিকে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।চারিদিকে লোকজন ছড়িয়ে পড়লো।কিন্তু কোনো খোঁজই নেই।এদিকে আশেপাশের সকলে দেখেছে বারোটি বাচ্চাই বজরা থেকে নেমে এসেছে,চড়ুইভাতিতে লাইন দিয়ে খেতে বসেছে।তাহলে গেলো কোথায়!
     কয়েকদিন হল,চাঁদু পাল অসুস্থ।সকলে উপস্থিত।সবাই এটাই জানে নাতির হারিয়ে যাবার জন্য তিনি নিজেকে দোষী ঠাউরেছেন।তাই তিনি বিছানা নিয়েছেন।রাতে সকলে নিজ ঘরে চলে গেলে,হঠাৎ বুকের ব্যাথা অনুভুত হয়,চাঁদু পালের।গিন্নীকে ডেকে ঘড়ঘড় গলায় বললেন " জংগলের ভাঙা মন্দিরের পিছনেএএএ যকক..."
গিন্নীমা স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলেন রাত ভোর হয়ে গেলো।কাউকে ডাকলেন না, ছটফট করতে করতে শান্ত হয়ে গেলো চাঁদু পালের শরীর।সকালে কান্নায় ভেঙে পড়লো সারা বাড়ি।গিন্নীমা স্তব্ধ।

বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯

চৈতালী ভৌমিক







বই
অক্ষর জ্ঞান কবে হয়েছে মনে নেই।অ এ অজগর, আ এ আম পড়তে পড়তে কবে থেকে যে বই পড়া শুরু করেছি তার সঠিক দিনক্ষন জানি না।তবে এটা মনে আছে ওই বর্ণপরিচয় এর দ্বিতীয় ভাগের গোপাল আর রাখালের নীতি কথার গল্প গুলো খুব প্রিয় ছিলো।হয়ত আমার গল্প পড়া সেখান থেকেই শুরু।খুব ছোটো থেকে কমিক্স বই পড়ার খুব নেশা ছিলো।অরণ্যদেব,ম্যানড্রক, নন্টে ফন্টে,হাদা ভোঁদা এইসব।তারপর তো পড়লাম ছোটোদের রামায়ন, ঠাকুমার ঝুলি,ঠাকুরদার ঝুলি, বেতাল পঞ্চবিংশতি। বোমক্যেশ,ফেলুদা,পান্ডব গোয়েন্দা এগুলো তো মুখস্ত ছিলো।এছাড়া সন্দেশ,চাঁদ মামা,শুকতারা এগুলো তো ছিলোই।
আমাদের পাড়ায় একটি লাইব্রেরী ছিলো।অনেক পুরানো।জায়গাটা ছিলো একটা খালি প্লটের মধ্যে কাঠের দোতলা ঘর,আর সেটাই লাইব্রেরী। সেটা কখনো বিকালে বা রাতে খোলা থাকতো না।কারন গেট থেকে জংগলের মতো গাছপালা। সংকীর্ণ রাস্তা,আর ভাঙা চোরা একটা কাঠের মই এর মতো সিঁড়ি। তার ওপরে আস্ত একটা লাইব্রেরী। সেইখানে কাকিমার জন্য বই আনতে যেতাম,হাতে থাকতো কাগজের চিঁরকুট,তাতে বইয়ের নাম ও লেখকের নাম লেখা থাকতো।এইভাবেই শুরু হয় আমার জ্ঞানত বই পড়া শুরু।
   কত যে বকা খেয়েছি এই বই পড়ার নেশার জন্য তার ইয়ত্তা নেই।বইয়ের ফাঁকেফাঁকে পড়া তো ছিলোই, এমন কি বাথরুম এও গুপ্ত জায়গাতে বই লুকিয়ে রাখতাম কমিক্সের।
   বাড়ি বদল হওয়ার পর নতুন জায়গাতে এসে লাইব্রেরীর খোজ না পেয়ে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।খালি মনে হতো দিন কাটবে কি ভাবে!কারো বাড়ি বই দেখলে বুভুক্ষুর মতো তাকিয়ে থাকতাম।কখনো চাইতাম।কেউ দিতো, কেউ দিতো না।তারপর তো স্কুলের থেকে লাইব্রেরীর বই পেতাম।নিজের টা শেষ করে বন্ধুদের গুলোও শেষ করতাম।এছাড়া বিভিন্ন পুরোনো ম্যাগাজিন ও সংগ্রহ করতাম,ছেঁড়া ফাটা সব।আমার তখন বই চাই।মনে পড়ে,বই খাতা বিক্রি করার সময় সেই কাকুর কাছ থেকেও পুরোনো ম্যাগাজিন চেয়ে নিতাম।
নিজের টিউশন এর পয়সাতে প্রথম কিনেছিলাম শরৎ চন্দ্রের 'দত্তা',  ৩ টাকা ৫০ পয়সা দাম নিয়েছিলো তখন বইমেলায়।সেই বই কেনার নেশা এখনো আছে।বই হাতে নিয়ে কত যে মানস ভ্রমণ করেছি তার ঠিক নেই।এই বই পড়েই কখনো পাহাড়ে,কখনো সমুদ্রে, কখোনো বা নাম না জানা নতুন যানে চেপে নানান এডভেঞ্চারে সাথী হয়েছি।মহাশ্বেতা দেবী, তসলিমা নাসরিন এর বই পড়ে মন গর্জে ঊঠেছে।আবার রবীন্দ্র নাথের শেষের কবিতার লাবন্য কে চিনে মন পরিণত হয়েছে।জীবনের সাথীরূপে যাকে চেয়ছি তার অবয়ব মনে মনে সৃষ্টি করেছি এই বই পড়েই। কলেজে উঠে পড়েছিলাম আশাপূর্ণা দেবীর প্রথম প্রতিশ্রুতি, সূবর্ণরেখা,বকুল কথা।মনে আছে বেশ কয়েকদিন আবেশে ছিলাম।
 পুজোবার্ষিকীর যত বই বের হতো, প্রায় সবই পুজোর আগে পড়া সারা হয়ে যেতো।
রাত জেগে বই পড়ার নেশা আজও আছে।বাসে ট্রেনে দূরে কোথাও গেলে আজও সংগী সেই বই।
    এখনো উপহারে কেউ বই দিলে খুব আনন্দ হয়।নতুন বইয়ের যে গন্ধ তা আজও মন কে প্রশান্ত করে।যতই মোবাইল এ গল্প পড়ি, হাতে বই নিয়ে পড়ার মজাই আলাদা।আমার ছেলে মেয়ের মধ্যেও আমি কিছুটা এই বই পড়ার অভ্যাস দেখি।মনে মনে শান্তি পাই এই ভেবে যে তারা নিজেদের পরম বন্ধুকে যেনো এইভাবেই ধরে রাখে।