রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                                                   


 



মস্তিষ্কের ভুল ভুলাইয়া / মানব জীবনের অভিশাপ

************

   দ্বিতীয় ভাগ


___________________

 দ্বিতীয় ভাগে আলোচ্য বিষয় হবে, কিছু ঘরোয়া টিপস। প্রাচীন সনাতনী বিলুপ্ত প্রায় কিছু অভ্যেস। যেগুলি সাহায্য করবে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে। 

*************

ঋষি বলতেন: যে কোনো অভ্যাস ছোট থেকেই তৈরি করো। শরীর এবং মনের বিদ্যায় অভিজ্ঞ ঋষিদের কাছে বালক বয়স থেকেই ধ্যান ছিল জরুরি।  বালক যখন বয়ঃপ্রাপ্ত হবে, অভিভাবকের বেড়া সরে যাবে, তখন যেন সাফল্য আর ব্যর্থতা দুটোই বহন করার মত শক্তি ধারণ করতে পারে। ধ্যানের মধ্যে দিয়ে উজ্জীবিত হতে থাকে মস্তিষ্কের কোষকলা।

  বিজ্ঞান বলে, ভুলে যাওয়া  মস্তিষ্কের রোগ। তার  কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া। মস্তিষ্ক ক্ষমতা উন্নত করার প্রক্রিয়া ত্রিকালজ্ঞ ঋষিরা বলে গিয়েছেন। মানব জীবন সুন্দর করার জন্য নিরন্তর গবেষণা করতেন তাঁরা। হয়ত কালের প্রভাবে বিলুপ্তির পথে চলে গেছে সে সমস্ত উপায়। তবু, কিছু এখনো আছে। তার আগে , আরো একবার বলি, স্মৃতিভ্রংশ হল নিঃশব্দ হত্যাকারী। খুব ধীরে ধীরে আসে। কাজেই প্রতিদিন নিজেকে একবার করে দেখতে হবে।  হ্যাঁ বন্ধু! নিজেকে আগে বাঁচিয়ে তারপর অন্যের জন্য ভাবতে হবে। 

লক্ষ্য রাখতে হবে:

 :একদিনে কতটা মনে রাখতে পারছি। কিছুক্ষণ আগের কথা ভুলে যাচ্ছি কি না?

: রান্নার রেসিপি, টেলিফোন নম্বর , ব্যাংক কার্ডের তথ্য ভুলে যাচ্ছি কি না? 

: ফোন নম্বর ভুলে যাওয়া অথবা নাম মনে করতে না পারা। 

: সকালের ওষুধ খাওয়া হল কি না? কিছুতেই মনে পড়ছে না। 

: কথা বলার সময় সঠিক শব্দ খুঁজে পাওয়া যায় না। 


    অবহেলা একেবারে নয়। যৌবন মানে হল ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা। তাকে ঠিক মত কাজে লাগাতে হবে। যৌবনে অনেক কিছু করার ক্ষমতা থাকে। সেটাকে কাজে লাগিয়ে বৃদ্ধ বয়সে লড়াই করার ক্ষমতা অর্জন করতে হয়।

***********

  তাহলে উপায়:

****************

১. জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়া হোক অ উ ম শব্দটি। ওম। ধর্মের সঙ্গে যোগসূত্র খোঁজার প্রয়োজন নেই। সকালে পাঁচ বার করে সঠিক উপায়ে করলে নিজেই নিজের পরিবর্তন টের পাওয়া যাবে। 

________

২. সঠিক সঙ্গ

     নানা ধরণের লোকের সঙ্গে মিশতে হবেই। কিন্তু কেউ একজন থাক, যে এনার্জি সঞ্চারিত করতে পারে। সে যে কেউ হতে পারে। বাড়ির কাজের লোক হওয়া বিচিত্র নয়। তেমন লোক যেন সঙ্গে থাকে। একজন চরম সফল মানুষকে এখন জানি, যিনি ঘরের মেঝেতে হামাগুড়ি দিয়ে চলেন। সমস্ত ভুলে গেছেন। জীবন শুধু সাফল্য দিয়ে মাপলে চলবে না। সুখী হতে হবে আগে। এই ব্যালেন্স না জানলে নিজের খিদের মুখে নিজেকেই আহুতি দিতে হবে এক সময়। 

____________

৩. সঠিক ব্যায়াম

     ব্যাংককে দেখতাম, বিকেল হলেই ছেলে বুড়ো পিল পিল করে বেরিয়ে পড়ছে খেলতে। সেখানে কলকাতায় চলছে ফোন কালচার। আর অবান্তর গসিপ। রাজনীতি ইত্যাদি। খেলার মাঠ বন্ধ করে গড়ে উঠছে মস্তবড় বিল্ডিং। কোথায় খেলবে বাচ্চাগুলো? মা বাবা বিকেলে হাঁটবে কোথায়?

শরীরের ব্যায়ামের সঙ্গে সঙ্গে মনের ব্যায়াম জরুরি। নিয়মিত গান কেউ শুনছে না। আগে আড্ডা হত। সেমিনার হত। মস্তিষ্কের চর্চা হত। এখন সাহিত্যসভা হয়। একটা করে গল্প কবিতা পাঠ করে চলে যায় লোক। সেগুলো যদি একটু অন্যভাবে ব্যবহার করা যায়। আলোচনা সভা মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়। সঙ্গীত নাচ ছবি আঁকা ... ঢিমে তালে চলা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে তুলতে পারে। 

__________

৪. সূর্য ডুবে যাওয়ার পরের নোটবই। 

**********

 নিজের সারাদিনের কাজ। ছোট্ট করে লিখে ফেলা।  স্মৃতিশক্তি বাড়বে। আত্মবিশ্বাস বাড়বে। একটা নোট বুক থাকুক। টুক করে লিখে ফেললেই হয়। সুন্দর যৌন জীবন সাহায্য করে ভালো থাকতে। যৌনতা কিন্তু টনিক।

৫. ধ্যান করা

***********

 ধ্যান নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা রকম জটিলতা কাজ করে। যেন ওটা একটা বিশেষ কাজ। কঠিন কাজ। বুড়ো বয়সের কাজ। অনেকে আবার লজ্জারও কাজ  ভাবেন। 

দিনের যে কোনো সময় যে কোনো অবস্থায় করে ফেলা যায় ধ্যান। যেমন পিপাসা পেলে জল খায় লোক। তেমনি সমস্যা হলে একটু নিজের ভিতর তাকাতে হয়। উত্তর ভিতরেই আছে। অমুক করব না তমুক? যাব কি যাব না? 

ছোট্ট ছোট্ট ডিসিশন। উত্তর পাওয়া যায় নিজের কাছ হতে।

 জাদু আঙ্গুল

*************

. হাতের আঙ্গুলের সঠিক ব্যবহার। 

সারাক্ষণ মোবাইল বাটন টিপে চলা ছাড়াও আঙ্গুলের কাজ আছে। চোখ মন মস্তিষ্ক আঙ্গুলের সঠিক মুদ্রায় সাড়া দেয়। 

তর্জনী ও বুড়ো আঙ্গুল লক করুন মাঝে মাঝে। অজস্র স্নায়ুর অন্তিম অংশ এখানে থাকে। আমরা খেয়াল করিনা। আমাদের নিজস্ব শক্তি বাইরে বেরিয়ে। যাচ্ছে। এই লক সিস্টেম আবার শক্তিকে নিজের মধ্যে ফিরিয়ে আনে। প্রাণিক সার্কিট তৈরি করতে সাহায্য করে। এ নিয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা করব। 

 আর একটা সহজ মুদ্রার কথা বলে আজকের আলোচনা শেষ করব। 

 :জ্ঞানমুদ্রা

 তর্জনী ও বুড়ো আঙ্গুলের মাথা দুটি যুক্ত করুন। দুই হাতের। বৃত্ত তৈরি করুন। অন্য আঙ্গুলগুলি সোজা রেখে , দুই হাত দুটি হাঁটুর উপর রেখে মনে মনে পাঁচবার অ উ ম ভেঙ্গে ভেঙ্গে উচ্চারণ করুন। 

 এই মুদ্রা স্মরণশক্তি ও একাগ্রতা  বাড়িয়ে দেবে। ধৈর্য বাড়িয়ে দেয়। বালকবয়স থেকে এই মুদ্রা করলে খুব ভালো কাজ হবে। 

হাতের আঙ্গুলের অসীম শক্তি নিয়ে আলাদা লেখা লিখব। এখন , লক আর জ্ঞানমুদ্রা এই দুটোই নিয়মিত করলে ফল লাভ হবে। 

***********

ভারতবর্ষের আছে অসীম রত্নভান্ডার। খাদ্য তালিকায় ফাস্ট ফুডের দখল দারি কমিয়ে নিয়ে আসা যাক ব্রাহ্মীশাক। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলায় প্রভূত পরিমাণে উৎপন্ন হয় অমৃত শাক ব্রাহ্মী। এই শাকে উপস্থিত আছে। ব্যাকো সাইড নামে এক ধরনের রাসায়নিক জৈববস্তু। এটি ব্রেন টিসুর ক্ষত সারিয়ে তাদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। মনে আছে, আমার এক পিসি, আমার মাকে ঠাট্টা করে বলেছিল: ঘাস পাতা খায় গরু। অর্থাৎ মা এত ঘাস পাতা খান! তিনি গরু। অপমান করল আর কি! আমার মা ৯২ বছর বয়সে সজ্ঞানে একদিনের মধ্যে মৃত্যু বরণ করেন। স্মৃতিশক্তি ঈর্ষণীয় ছিল। মায়ের রেগুলার ডায়েট ছিল এই শাক। যেদিন মারা গেছেন, লাঞ্চ খেতে পারেন নি। সেদিন ও মেনুতে ছিল ব্রাহ্মীশাক।  

এখানে উপস্থিত অনেক ধরণের কার্যকরী উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র হিপোকমপাস অংশটির ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। ব্রেনের hippocampus অংশটির কি ক্ষমতা গুগল করে জেনে নাও বন্ধুরা। আমাদের মা বাবাদের গুগল ছিল না। ছিল পরম্পরা জ্ঞান। যা এখন নষ্ট হতে চলেছে। 


ভুলে যাওয়া সমস্যা ক্রবর্ধমান।আগে প্রবীণদের রোগ ভাবা হত, এখন সব বয়সীদের হয়। সাবধান হতেই হবে। এখন থেকেই।

নীলাদ্রি দেব

                                                   


                


  
এই সপ্তাহের কবি নীলাদ্রি দেব।জন্ম ১৪এপ্রিল, ১৯৯৫ কোচবিহার (পশ্চিমবঙ্গ)।শারীরবিদ্যায় স্নাতক৷যুক্ত আছেন শিক্ষকতায়৷
কবিতাবই- ধুলো ঝাড়ছি LIVE, জেব্রাক্রসিং ও দ্বিতীয় জন্মের কবিতা, এবং নাব্যতা. 
সহ সম্পাদিত পত্রিকা- ইন্দ্রায়ুধ, বিরক্তিকর

ডায়েরি 

নীলাদ্রি দেব 

এক. 
চৈত্রে হাওয়া ছোটে খুব. ধুলো ওড়ে, শুকনো পাতা. এলোমেলো একটা জীবন আরেকটু বেঁধে, গুছিয়ে রাখতে চেষ্টা করি. কিন্তু... এরপরও আলোর অধিকাংশ জুড়েই অন্ধকার. কত ছবি তৈরি হয় রোজ. ছায়া বাড়ে, ছায়া কমে. নিজস্ব ছায়া. যা বইতেই হয় অভ্যেসবশত.  

দুই. 
কত নিঃশব্দ পথ পেরিয়ে যাচ্ছি 
মুখোমুখি বলতে না পারা কথারা 
                    ভিড় করে আসছে 
নিচু হয়ে আসছে মেঘের মতো 
আর শাদা কালো জুড়ে 
   গলে যাওয়া মুখোশ, না মেলা অঙ্ক 

আমি কি আমার ভেতরে নিথর 
আমি কি ভাসছি আশ্চর্য আকাশ 

প্রমাণ আয়তন তুলো টেনে নিচ্ছে 
               যাবতীয় নির্মাণ কৌশল

তিন. 
রঙ, রোদ মিলেমিশে একটি সামান্য 
                                 যাত্রাবিরতি
স্তব্ধতারও ডাকনাম থাকা আবশ্যিক 
অথচ আলাপ, স্পর্শহীন দুপুর 
কার্নিশে বোগেনভেলিয়া ছড়িয়ে আছে 
 ফড়িঙের ডানায় সামান্য জীবনের ছায়া

চার.
দরজা বন্ধ করে দিন 
আলো ও আলোর টান এক নয় 
আপাতত দূরত্ব বজায় রাখতে শিখুন 
বিধি ও নিষেধের মাঝে হাইফেন 
সুতরাং ব্যক্তিগত জীবনের ওপর 
                          রাষ্ট্রীয় থাবার ছায়া

পাঁচ. 
সবটা বিক্রি হয়ে গেলে আপনার ঘুম পাবে
মালিকানাহীন জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন 
অথচ বিশ্বাস করছেন না 
        মালিকও মৌলবাদের পাঠ দেন 
আপনি নাইটগাউন খুলে রেসমাঠে এলেই 
  সমস্ত ঘোড়া ফিনিশিং লাইনের দিকে দৌঁড়োবে
জকির চোখের পলকে খসে যাবে টুকরো জীবন

ছয়. 
খসে যাচ্ছে পলেস্তারা, পুরনো শেকড় 
অবশিষ্ট কঙ্কাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেউ 
অস্তমিত সূর্যের হাসি দেখছে ওর ঘুলঘুলি
অ্যান্টেনার পূর্ব পশ্চিম থাকে 
উঠোনের নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধ 
তবু তুলসীমঞ্চে আলো জ্বালানোর কেউ নেই
এমন একটি আবহাওয়ার শেষে 
                  ভুল করে সিন্ডিকেট লিখে আসি 

সাত. 
গুহাচিত্রের পাশে কোনও প্রবেশ বা বাহিরপথ 
                                               লেখা ছিল না
অতএব গুপ্তঘাতক বিষয়ে রচনা লেখা হয়নি 
মাছের চোখ নিয়ে ততটা আগ্রহী নয় বুলেট 
শার্টটা ইন করে নিন 
কবির আস্তিনে বারুদ রাখা কবে বেআইনি হয়েছে!
রাজনৈতিক পতাকার নিচে 
                        নীল জলওলা বোতল বেঁধে রাখুন
যতিচিহ্ন ঠিক করতে গিয়ে হারিয়ে ফেলবেন না
                                                           শিরোনাম

আট. 
গাছে ফুল এলেই বা কী, না এলেই বা! 
পত্ররন্ধ্র একটি গোপন আস্তানা 
ডোরবেল ও ডোরম্যাট-এর পর লম্বা করিডোর 
পেছনের বারান্দা, বাগান পেরিয়ে ডুয়ার্সের ঝোরা 
বয়ে যাওয়া জলস্রোতের পর শ্মশান 
শ্মশানের তীব্র চতুর্ভুজে শ্যাওলা লেগে আছে
এভাবেই সমস্ত শুরু ও শেষের মাঝে সাঁকো I 
                                              কোন সেতু নেই I

নয়. 
আপাতত কথা বন্ধ থাক 
বিস্তারিত খবরের চক্করে ব্রেকিং নিউজকে 
                               অস্বীকার করবেন না
হ্যারিকেনের আলো পড়ে এসেছে, বললে... 
       টাইম মেশিন বিষয়ক সেমিনার শুরু হয় 
এসব প্রতিবর্ত কাজ
সহজাত 
কিন্তু ঐ যে সুতো গুটিয়ে রেখেছেন, 
    একবার খুলে দিলে খেলা বদলে যেতে পারত
যদিও টস একটি অজুহাত 
পিচের পাশে ঘাস ক্রমে দীর্ঘ হচ্ছে, শ্বাসও 

দশ. 
এলোমেলো অক্ষরের শেষে 
                  বন্ধনীকে বন্ধ করবেন না 
সূত্র ধরে সব অংক মেলে না 
যা থেকে যায়, 
    অন্য একটি জটিল সমাধানের সুতো
বা সুতোর একক



রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১

সোনালী মিত্র

 




এই সংখ্যার কবি সোনালী মিত্র।জন্ম ১৯৮৬ সালের ১৮ ই নভেম্বর নবদ্বীপ নদীয়ায়।এম এ পাশ করার পর কিছুকাল স্কুল শিক্ষকতায় নিযুক্ত থাকলেও বর্তমানে দিল্লিবাসী।লেখালিখি শুরু সেই স্কুল পত্রিকা থেকেই।বর্তমানে বহু পত্রিকায় লিখে চলা। সাহিত্য মূলক পত্রিকা "মায়াজম" এর হোতা তিনিই। প্রিন্ট এবং ওয়েব দুটি ভার্সনেই প্রকাশ হয়ে থাকে পত্রিকাটি। " স্পর্ধাকাল" তার একমাত্র কাব্যগ্রন্থ।


১) রানওয়ে / 


ইদানিং মৃত্যুর পর আর জন্ম নিতে ইচ্ছে করে না

জন্ম মানেই একটা অজানা হারেম থেকে

লোকায়ত অদৃশ্য রাজা- বাদশার হারেম ! জন্ম নিলেই

সেই তো ঘোড়া , সেই তো হাতি, দাঁতে শান দেওয়া জন্তু জানোয়ার !

সেই তো হাজার ওয়াট মৌলবাদী লোলুপ থাবা

এর আগে কিছু নেই , পরে চিতাকাঠ

ছাই , ধোঁয়া , কার্বন

যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ

অনর্গল শ্বাসে মিথেন।

নদী ভেসে যাওয়া অসময়ের বৃষ্টি

শূন্য রানওয়ে

কয়েক কয়েক কয়েক কোটি হায়না দৌড়ে যায়

শূন্য মানুষের দিকে

শূন্যর দিকে…

************************************

নেই কাব্য 

না দানে , না ধ্যানে আমি কোথাও নেই । 
না রক্তদানে , না বন্যাত্রানে । না দয়ায় , না দাক্ষিণ্যে । 
আমি ঠিক যেন কোন ভূমিকাতেই নেই
না গরিষ্ঠ নায়কে না জ্ঞান বিতরণে
না পুজো প্যান্ডের ডালের হাতায় না সংসারের ছ্যাঁচড়া চাকায়
না মঞ্চের কেন্দ্রে না না  , মঞ্চের পিছনে । 
#
লোকে আতেল বলে , অধঃপতনে সিদ্ধ বলে । 
কবিতা পাঠের শেষে হাততালি দিতে ভুলে যাই বলে 
ইদানিং মহাকবিরা ডাকে না আর , 
কেরোসিনের লাইন দেখে আগুন আগুন চিৎকার করি বলে 
রেশনকার্ড থেকে নাম বাদ গেছে আমার । 
প্রতিদিন দরজা বন্ধ ঘরে আত্মহত্যামূলক শব্দ দিয়ে 
শরীরে পিন ফুটিয়ে প্রত্যক্ষ করি রক্ত ও শিরার ভালোবাসার গভীরতা 
মৃত্যুর অভিনয়ের নাম জীবন - দুবার খাতায় লিখে কাটি
আমি জন্মে নেই , মৃত্যুতেও নেই । শোকে বা আনন্দে 
শ্বাসে নেই , দীর্ঘশ্বাসে নেই , গাঁয়ে নেই শহরে 
রাস্তায় হেঁটে যাই , বাচ্চারা পাথর ছোঁড়ে
আমি পাগলে নেই , প্রলাপেও নেই । তবু লোকে পাগল বলে ...

**************************************
গন্তব্য

একত্রিশ বসন্ত ধরে হাঁটছি
দারুচিনি নির্জন দ্বীপে,প্রাক্তন প্রেমিকদের বলিষ্ঠ বাহুরেখায়
কত কি যেন তীব্রভাবে পেতে চেয়ে কান পাতে থাকি,
অচেনা বাঁশিওয়ালার সুরে!
আসলে কিই যে পেতে চাই গন্তব্যের দিকে!
শুনতে পেলাম কি পেলাম না,তুমি কি অসুস্থ বলে ডাকলে?

ওষুধের ধারাভাষ্য মিলিয়ে রোগ নির্ণয় লিখে রাখ,
অযথা জটিলতা নিয়ে,ক্ষয় নিয়ে,তার বিস্বাদ নিয়ে
বজ্র বিদ্যুৎ ছোটাও ঘরেলু ঝড়ে
আর বৃষ্টি মাখতে মাখতে ঘুমিয়ে পড় আফিম খেতে।
আমায়ও আফিম ঘুম দেবে?
প্রেমিকের তৃপ্ত অবগাহন লেগে থাকবে একজন্ম সুস্থতায়।

*******************************************



শাকম্ভরী 

তোমার চুলের রঙ সোনালি, তুমি নাবিক তুমি জলদস্যু।জন্মসূত্রে পাওয়া নীল চোখ নিয়ে পর্তুগাল থেকে ভেসেছিলে সমুদ্রে , ভরা তুফানের রাতে তোমার স্বপ্নে জেগেছিল ডাঙা।  বহুদিন পরে বহুপথ ঘুরে তোমার জাহাজ নোঙর ফেলেছিল নারকেল বনের কাছে ।
সেখানে ভাঙা মন্দিরঘাট ,বিষ্ণুসত্যের দেবতা উলঙ্গ দেবীর থান আর খালিগায়ে নেংটি পরা মানুষের জঙ্গল । তুমি প্রেমঅজ্ঞপুরুষ , দুপাশ দিয়ে সরে সরে যাচ্ছে গাংচিল , সওদাগরি নৌকা ,তুমি রেশম থেকে খুঁটে নিচ্ছ বাংলা অপভ্রুংশের গৌরব।তোমার নামের পাশে লেখা হচ্ছে  ভারত আবিস্কারক  ।
#

আমি চন্ডালজাতিকা ,  শবরীগন্ধী।গুঞ্জরীমালী শরীরের কোণে কোণে। ভিজে কাপড়ে লেপ্টে থাকা শ্যামলা বুকের ইউরোপিয়ান শিল্পকলা ,আমার দেহের ভিতরে লুকনো স্যান্ধভাষার পদটিকা, ভূমি দখলের চিহ্ন। 


তুমি ডোম্বিনীর অরণ্য ভাঁজে মুখ ঘষে খুঁজে চলেছ আমার পূর্বপুরুষের সংগ্রাম ,মোঘলের ধ্বব্জা , তোমার পূর্বজের অভিসম্পাত।এখানেই ভাসাও বজ্রা, খুঁজে নাও বঙ্গ, পুণ্ড্ৰ,হরিকেল,সমতট।

আমি গাছের আড়াল থেকে তোমাকে দেখি 
সমুদ্রনীলের মতো তুমি নেশা। তোমার স্ত্রী দূরে , ছেলেপুলের মুখ দেখনি কতকাল। কোন এক ঝড়জলের রাত এনে ফেলুক তোমার এই শ্যামলা নাভিপ্রভায়। পৃথিবীর সব সমুদ্রই নারীর বুকে ভিতরে থাকে , ভেসে যেও।


******************************************

নেশা

কবিতার সত্যমিথ্যা জানি না 
কবিতায় আছে ব্যথার প্রলেপ , যুদ্ধবাজ রাফেল 
গরুমারা অভয়ারণ্য , উন্মত্ত যৌনতা , নষ্ট বীর্যের ছলনা
কলের জলে বইয়ে দেওয়া বিকলাঙ্গ সন্তানের দায়ভার। 

এসব কোথা থেকে পেয়েছি জানতে চেও না 

তুমি কী চাও আমি জানি 
মিথ্যার এসব উপকরণ খাদ্য , তোমাদের সম্বল 
#

পাঠ কর পাঠক

আধখোলা যুবতীবুকের ডালিম  জানি , খিদে পেলে
ডানা ঝাপটানো পাখিকেও চিনি 

রাত নামলে যেসব চাঁদ সস্তা হয়ে যায় টাকার কাছে  
তাদেরও চিনি , যাদের লুকিয়ে রাখা যায় মানিব্যাগের ছায়ায়
#
পড় পাঠক পড়

তুমি মিথ্যে প্রতারণায় খুঁজে পাও রাধাঘাট , একাডেমি ও সম্মান

আমি মিথ্যের সৃষ্টি জানি , সত্যির মধ্যে কিছুটা মিথ্যে মেশালে নেশার 
ঘনত্ব বড় পাতলা
 
নিজেকে মিশিয়ে মিশিয়ে মিথ্যের সাথে ভাসিয়ে দিই সত্যতা।

নেশা কর পাঠক
কারণ আমি জানি না যতটুকু তুমি জানো 
আমি লিখি তোমারই খননের কথাগুলো,  জানা কথাগুলি

************★*****★****************

টার্গেট 

বাবা তার যুবকবেলার বিশটা বছর ধরে শুধু যুদ্ধে লড়বার স্বপ্ন দেখে গেলো
বাবা বিশ বছর ধরে মুর্গী লড়াইয়ে বাজি রেখে দৌড়ে মরেছিলো 
স্বপ্নদোজখের মধ্যে গামবুটসহ পায়ে শক্রু শিবির জিরো পয়েন্ট টার্গেট ,
সৈনিক হবার ব্যর্থ স্বপ্নের ভিতর খিদে আর বুলেট নিয়ে 
বাবা লিখে ফেলেছিলো ২৪৫ টি বতন - এ -
গুলদস্তা


ফৌলাদি সিনা থেকে , বাবার শ্রমবিবর্ণ ফুটিফাটা পাঞ্জা থেকে চামড়া ছাড়ানোর উৎকট গন্ধ বের হয়

দেশ শান্ত হলে মা যত্ন করে মুছিয়ে দেন ঘর লাগোয়া রক্তের অপবাদ 
অথচ আমাদের কুসুমকলি শিং নাড়িয়ে  বকনা বিয়োলেই মহল্লায় মিঠাই বাটেন বাবা
গলায় ঘন্টি পড়িয়ে আদর করে নাম দেন তার 'আজাদ'

গাই কিচ্ছু বোঝে না , বাবাও না , বড় বড় চোখ নিয়ে চেয়ে থাকে শুধু একে অপরের দিকে

আমরা বুঝি , বাবার স্বপ্ন - 
যুদ্ধ নেমে আসে আমাদের রেশনের লাইনে , 
ভোটার কার্ডের থাপ্পায় , নামাজ পাটির চৌকাঠে 
রোজ যুদ্ধ লিখে কাটি , শরীরের ফুটে থাকে পিন 'কাফের'
বাবা স্বপ্নের ভিতর , পতাকা উড়িয়ে বলেন , জয় হিন্দ জয় হিন্দ জয় হিন্দ
********************************************

ঈশ্বরের খিদে

ঘরে ফেরা পাখির ডানায় গোধূলিআলোটুকুর
আয়ুকাল সুখ নামে ডাকি 
ভোরশিশিরের শরীরে মিশে ছিল রোদের স্বার্থ 
আত্মাবিসর্জন  ও অন্ধকারের মধ্যে ফারাক যতখানি 
ঠিক ততখানির মধ্যে আমাদের শ্বাসঘাত অবিরাম 

ঘাসেদের শরীর ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে যাচ্ছে খোকন...
খোকনের হাতে ঢোলকলমির ডাল ,সাঁইসাঁই ছুঁড়ে দিচ্ছে
আকাশমুখীন ,হাতের চলনের ছিঁড়েখুঁড়ে দেয় আগাছার যতশোক
শোকের ঊর্ধ্বে ঈশ্বর ,ঈশ্বরের পেটে সর্বগ্রাসী খিদে

সূর্যফুল ফোটার সাথে মায়ের আঙুল ও সিঁদুরের 
টান ছোঁয়ায় বৃদ্ধি পেল সংসার আয়ুরেখা।
বাবার গায়ে বুনোফুলের গন্ধ ,বাবার হাতে ঘি আগুনের গন্ধ।
বাবার বাঁশ ও ঠেলা আগুনের তোড়ে মায়ের উষ্ণ ভাতের স্নেহ।
বটগাছ থেকে শ্মশান পর্যন্ত নিভে যাচ্ছে খোকনের পুতুলসংসার।

★★****************************★******


একটা আঁচলের নাম শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

গোলাপি আঁচল খসে গেলে বিধ্বংসী ঝড় ওঠে 
পুরুষদ্বীপে , আসমানি দেবতা দোলে ঝড়ের দোলনায় 
তোর আঁচল খসে গেলে কদম্বতরুতলে আড়বাঁশিতে 
ভিখারি মাধব , উড়ে যায় শখের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

ওই,আঁচল খসে গেলে রাজা দেখে  প্রজার ঘরে অফুরন্ত ধন , 
গুপ্তঘাতক  অস্ত্র নামিয়ে ভক্ত বনে যায় 
সনাতন আঁচল খসে গেলেই কে আপন কে পর!
দাদার হাতে বাবার চোখে আঁচলখোলা রাধিকার যৌবন ।

তোর,আঁচল খসে গেলে  শিরায় শিরায় রাসায়নিক 
যুদ্ধ প্রস্তাব , ঘাপটি মেরে প্রধানমন্ত্রী হালুমের প্রত্যাশায়

আঁচল খসে গেলে কে সীতা কেই বা দ্রৌপদীর বর 
লোলুপজঙ্গলে সকলেই বাঘ , যতই তোর চোখে
থাকুক ধুলোবালির বৃন্দাবন ।





***************************************


জন্মদিনের গল্প 

বারোতম বছরের জন্মদিনে বাবা একটা স্টপ ওয়াচ দিয়েছিল
বলেছিল , সময় হিসাব করে খরচা করতে হয়। 

মা ,কাকিরা একটা ফুলতোলা নক্সা কাটা ওড়না দিয়ে
বলেছিল মেয়েদের লুকিয়ে রাখতে হয় এর মধ্যে । 
পুতুল খেলা ঘরে সুব্রত বলেছিল কি দেবো তোকে বল ?
বুকের শুঁয়োপোকা দিয়ে দিলাম তোকে 
খুব ভয়ে পেয়েছিলাম , সব দামি উপহারের মধ্যে
ওটা ছিল কুৎসিত ও হুলফোটানো দায়ক 

ষোলতম জন্মদিনে চমকে গিয়েছিলাম 
সেই শুঁয়োপোকাটা দিব্যি ডানা মেলে প্রজাপতি!
দারুণ লজ্জা আর সোহাগী আবেগ , কোথায় লুকাই ! 
কোথায় রাখি এই অদ্ভুত শিহরণ ?
অথচ সুব্রতদা শুঁয়োপোকাকে কি উড়তে দিতে চেয়েছিল ,
অথচ আমি কি বেড়ি দিয়েছিলাম পায়ে ?

আবার এক জন্মদিন এল আমার তেইশ বছরের
বিসমিল্লার সানাই সন্ধ্যা বুকে নিয়ে ছাব্বিশ বসন্তের 
বুকে মুখ রেখে যখন খুঁজতে চাইছিলাম 
প্রজাপতিটা কোথায় উড়ছে , উড়ছে কি কোন
নীলপাঁজরের ঘায়ে...

সুব্রতা দা আজকাল নাকি কবিতা লিখছে 
খ্যাতির চুড়ায় অসংখ্য তার ময়ূর পালক 
এখন নাকি অনেক প্রজাপতি ওর কবিতার খাতায়.....


************************************

১০

মৃত্যুকালীন কাব্য

এত লোভ দেখাবেন না ঘাতক ...মৃত্যু এবং আমায়
সফেদ জ্যোৎস্নায় ঝলকে উঠছে আপনার উদ্ধত তরবারি 

পবিত্র স্নান সেরে বসে আছি নগ্ন শরীরে 
স্রোতের উজানে কপালে লাল তিলক, পেলব গ্রীবায় দোদুল্য জবার মালা

প্রিয় ঘাতক,এই গোলাপী গুহায় জেগে আছেন ঈশ্বরী,
অলৌকিক কবিতাদের জন্ম দান করুন এই কামাক্ষ্যাতট ছুঁয়ে

ঘাতক,রেশমী ঘাসের সুরম্য অরণ্যে কোন হেমলক রাখা নেই।
স্বর্গের খুব কাছাকাছি থাকে নরক,এসব ভেবে নষ্ট করবেন না সময়
অমরাবতীতে ধুয়ে নেবেন হন্তারক অস্ত্রসমূহ

কথা দিলাম,গোপন থাকবে কবিতা এবং হত্যা বিষয়ক অভিযান।

প্রিয় ঘাতক,
অন্তিম চিতার ভিতর শুয়ে যথার্থ একটি কবিতাই তো হতে চেয়েছিলাম।




জয়তী রায়( মুনিয়া)

                                                





 মস্তিষ্কের  ভুলভুলাইয়া/ মানব জীবনের অভিশাপ। 

_________________________

  :নামটা কিছুতেই মনে করতে পারছি না! 

: কাল যেন কোথায় যেতে হবে? ফোনে সেভ করা আছে। দেখে নিচ্ছি। 

: ফোন নম্বর। দূর। ওতো সব সেভ করা। 

: বারবার জিনিস হারিয়ে ফেলা। 

  হাল্কা সুরে বলা কথাগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে একটা ভয়ংকর অসুখের। আলঝাইমার।

   মধ্য বয়স নিয়ে লেখা এই পর্বে এসে বলব, নিজেকে অবহেলা করার চূড়ান্ত ফল কি হতে পারে! 

 আজকাল সবাই সব জানে। একটা বোতাম টিপলে হাজির হচ্ছে তথ্য। আলাদিনের দৈত্য কাহিনীর আধুনিক রূপ হল স্মার্টফোন।  শুধু জানে না, ২৪ ঘণ্টা সময় ঈশ্বর আমাদের দিয়েছেন, তার মধ্যে লুকিয়ে আছে সুখে থাকা অথবা অসুখে থাকার উপায়। 

  কিছু অসুখ ঘটে যায়।  আমাদের হাতে থাকে না। আবার কিছু অসুখ আমাদের ভুল জীবন শৈলীর ফল হতে সৃষ্টি। যার মধ্যে একটি হল আয়ালজাইমার। অথবা ভুলে যাওয়ার অসুখ। সম্প্রতি Alzheimer's Association International conference 2020 এর একটি গবেষণায় উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পড়াশুনো এবং খারাপ জীবন যাপনের ধরণের জন্যই মানুষ পরবর্তী জীবনে মানুষ অ্যালজাইমারের মত রোগের শিকার হতে পারে। 

  মধ্য বয়স বলছি বটে, তবে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা অল্প বয়স থেকেও শুরু হতে পারে।

 যে যে রোগের ক্ষেত্রে জিন ঘটিত কারণ উল্লেখ  করা হয়, ভুলে যাওয়া তার মধ্যে একটি।

এছাড়া, স্ট্রোক হলে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস হলে মস্তিষ্ক দুর্বল হয়ে যেতে পারে। 

   আমি সেটার মধ্যে যাচ্ছি না। আজকের আলোচনায় থাকবে, পরিবেশ ও জীবন শৈলী র ভুল পদক্ষেপ কিভাবে মানুষকে ধীরে ধীরে অন্ধকারে ঠেলে দিতে থাকে। 

**********

  একদিনে ২৪ ঘণ্টা। কম নয়। ঘুমিয়ে থাকার সময়েও আমাদের মস্তিষ্কের চিন্তা শক্তি সচল থাকে। এই চিন্তা মানুষের জীবনের একটা বড় অস্ত্র। এর অপপ্রয়োগ বহু সময় ডেকে আনতে পারে বিপর্যয়। চিন্তাঅশ্বের লাগাম ছোট থেকে কষে ধরে রাখতে হবে। মন এবং মেজাজ বিক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে তাকে শান্ত ভাবে বুঝিয়ে ফেলা প্রয়োজন। মন আশকারা পেলে মাথায় চড়ে বসে। তুচ্ছ কারণেও বিক্ষিপ্ত হয়ে উঠতে পারে বারবার। তখন সে পারিপার্শিক সব ভুলে যেতে চায়। বা , ইচ্ছে করে মনে রাখতে চায় না। ক্রমাগত করতে করতে এটা অভ্যাসে পরিণত হয়। সুতরাং, দিনের উল্টোপাল্টা চিন্তায় লাগাম  পরিয়ে দিতে হবে। 

: সময়ের সঠিক ব্যবহার না করতে পারলে মেজাজ খারাপ হয়। স্কুলে পড়াকালীন অভ্যাস তৈরি করে দিতে হয়। বহু সময়, স্কুলে খাতা বই ফেলে রেখে আসা অথবা বাড়িতে টিফিন ভুলে যাওয়ার প্রবণতাকে কেউ তেমন গুরুত্ব দেয় না। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস পরিণত হয় স্বভাবে। বড় হয়েও ভুল হতে থাকে রোজ। ঢাবির গোছা, অফিসের ফাইল আরো নানান কিছু। রোজ ঠিক মত সময় জিনিস পত্র গুছিয়ে রাখতে পারলে, আপনা হতেই মস্তিষ্ক ইঙ্গিত দেবে। মনে করিয়ে দেবে। 

: নিজের চিন্তা শক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে মানুষ রাগী স্বভাবের হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যদি হতাশা আসে। চাওয়া আর পাওয়ার মাঝখানে থাকে যদি অনেক ব্যবধান , মনো সামাজিক জগতে তখন প্রবল আলোড়ন ওঠে। সমস্ত কিছুতেই অবসাদ। প্রাপ্য ছিল অথচ পাওয়া হল না... নিরন্তর এই চিন্তা মস্তিষ্কের বায়োলজিক্যাল ক্লকের কাজ ব্যাহত করে। এই সময় লম্বা শ্বাস খুব কাজে লাগে। লম্বা করে শ্বাস নিয়ে ধরে রাখতে হয়। সেই সঙ্গে নিরন্তর  নিজেকে বোঝাতে হবে। জীবনের চাইতে মূল্যবান আর কিছুই নেই। 

: অসম্ভব প্রতিশ্রুতি কাউকে দেওয়া যাবে না। সকলকে খুশি রাখতে গিয়ে নিজের দিকে সবথেকে কম সময় দেয় মানুষ। দিনের শেষে বাড়তে থাকে উদ্বেগ। সব কিছু তালগোল পাকিয়ে যায়। রোজকার অত্যধিক ভাবনা চিন্তা থেকে ভুলে যাওয়ার সিনড্রোম তৈরি হয়। সুতরাং, সকালে উঠেই নিজেকে শুনিয়ে দিন, বাঁচতে হবে নিজের জন্য। 

: ইনফরমেশন ওভার লোড __স্মৃতি ভ্রংশের একটা কারণ।

অনেক কিছু একসঙ্গে মনে রাখতে গিয়ে কিছুই  মনে থাকছে না। এ ক্ষেত্রে ফোনে নয়, কাগজে  টুকে রাখুন কাজ গুলি। আঙুল  আর পেন্সিলের যুগল বন্দী মস্তিষ্কের কোষ উজ্জীবিত করে। 

: অ্যালঝাইমার বিপদ ঘণ্টা বেজে উঠতে পারে যে কোনো বয়স থেকে। অযথা  হোয়াটস অ্যাপ দেখা বন্ধ করতে হবে। গ্রুপ চ্যাট দরকারি না হলে একেবারেই না। মনসংযোগ নষ্ট করে, এমন কাজ না করায় মঙ্গল। যে কোনো একটা বাদ্য যন্ত্র বাজান। না হলে, হারমোনিয়ামের রিড চেপে রাখুন। 

: স্মার্ট ফোন দিনের অনেকগুলি ঘণ্টা কেড়ে নিয়ে এলোমেলো করে দেয় রুটিন। প্রয়োজন না হলে দরকার নেই। তার চেয়ে গান চালিয়ে নেচে নিতে পারেন একটু। 


     অশনি সংকেত হল কাল বৈশাখী নেমে আসার সূচনা। নিজের দিকে তাকান। শরীরের উপরের অংশে বস্ত্র আছে। নিচের দিকে? হয় বইকি। ভুলে যেতে যেতে এই পর্যায় পৌঁছে যায় মানুষ। 

   পরিশেষে বলি, ২৪ ঘণ্টা কাজে লাগাতে হবে। রাতে শুতে যাবার আগেও, এমন একটা বই পড়ে শুয়ে পড়ুন, যা চিন্তা সুন্দর করতে সাহায্য করবে। 

 ভুলে যাওয়া রোগ মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। একে অপরকে সাহায্য করুন। দেখা হলে প্রশ্ন করুন, দুদিন আগে কি কি রান্না হয়েছিল? নানা রকম খেলা চলত আগে। সেই খেলা গুলো নিয়ে আসুন। এই খেলা একটা থেরাপি। আড্ডা য় গসিপ না করে এই সমস্ত খেলা খেলুন। 

  ভুলে যাওয়া নয়/ মনে রেখে এগিয়ে চলি। 

হাতে হাত রেখে / এক সাথে পথ চলি।

***********

 দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

: পরিবারে অ্যালঝাইমার থাকলে এখন থেকেই সাবধান হতে হবে। কারণ, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে প্রবণতা ফুটে উঠবে। সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। 

: ব্রেন অ্যাকটিভ রাখুন। মস্তিষ্ককে সবসময় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রাখুন। মাইন্ড কুলনেস থেরাপি অথবা টক থেরাপি কাজ দেয় খুব  বেশি। 


     সতর্ক থাকতে হবে/ নিজেকে রক্ষা করতে হবে।।



                                   



রবিবার, ২৮ মার্চ, ২০২১

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                                        



                মধ্যবয়স/ সাফল্যের সুনামি আগ্রাসন।


    আলোচিত বিষয় হল, মধ্যবয়স। মানব জীবনের সবচেয়ে জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়। 

    যুগ এখন অন্যরকমের। সাফল্য আগেও চাইত মানুষ কিন্তু এখন খিদে বেড়ে গেছে তীব্রভাবে। এই চাওয়া সর্বস্ব মানুষের মধ্যে যেটার অভাব সবচেয়ে বেশি, সেটা হল সুকুমার বৃত্তির। ছোট ছোট কোমল ভাব বিনষ্ট হচ্ছে। সাফল্য এলো তো আরো চাই। 

লাগাতার এমন দৌড়ে হাঁফিয়ে যায় জীবন। জীবনের মালিক সেটা বোঝে না। সে কষে ধরে থাকে লাগাম চালায় চাবুক। একদিন হঠাৎ ফুরিয়ে আসে এনার্জি। তখন গ্রাস করে একাকীত্ব। 

****

ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য অর্থ শেষ কথা নয়। সফলতা শেষ কথা নয়। দেখতে হবে, কাজের পিছনে যতটুকু সময় দিচ্ছি নিজের জন্যে ততখানি দিচ্ছি কি না? 

অনেকেই ভাবেন, কাজটাই তার জীবন। কাজ করতে পারলে তিনি ভালো থাকবেন। খুব ভালো কথা। কিন্তু,  হিসেব  অনুযায়ী যদি না হয়? কোনো কারণে চলে যায় কাজের ক্ষমতা? তখন ? অবসাদের কালো মেঘ ঘিরে ধরবে আপনাকে। 

*******

 কাজ করুন। সাফল্যের স্বাদ নিন। সেই সঙ্গে বন্ধু বা বান্ধবীর সঙ্গে সম্পূর্ন অন্য স্বাদের কথা বলুন। মনে রাখতে হবে, হঠাৎ করে কেউ মানসিক রোগী হয় না। দুশ্চিন্তা ধীরে ধীরে জন্ম দেয় মানসিক অবসাদের। যা আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের উপর কু প্রভাব ফেলে। মধ্যবয়সে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বেশি। কারণ শরীর এই সময় দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। ব্যক্তিগত স্তরে সম্পর্ক নিয়ে চলে টানাপোড়েন। এইজন্য মনে রাখতে হবে, সাফল্য যেন সুনামি না হয়। প্রাণঘাতি না হয়। 

 মনে রাখতে হবে, সাফল্য বা ব্যর্থতা কোনোটাই জীবনের চাইতে মূল্যবান নয়। আবেগকে গুরুত্ব দিন। গল্প করুন। সিনেমা যান। মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থের ব্যালান্স এমন হোক যেন ব্যর্থতা এলে সহজে নিতে পারেন। খ্যাতি আজ আছে কাল নেই। কিন্তু আনন্দ? চিরস্থায়ী হোক। 

   নিয়মিত নিজেকে লক্ষ্য করুন।  কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে নেতিবাচক সিগন্যাল এলে সরে আসুন। নিজের ঘরের লোক হলে, সমস্যা একটু জটিল হয় তখন সাইকো থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলুন। মনের জোর বাড়িয়ে তুলুন। ওষুধ কাজ করে রাসায়নিক পদার্থ বা নিউরোট্রান্সমিটারের ওপর। কাউন্সিলিং কাজ করে জ্ঞানীয় বিকাশ , আচরণ ও মনের গড়নের ওপর। 

*******

  মনোযোগ দিয়ে কাজ করলে সফলতা আসবে। তার সঙ্গে মন উন্নত করতে বাধা কোথায়? উন্নত শক্তিশালী ঝকঝক মন সাহায্য করে ভালো কাজ করতে। 

 সুন্দর থাকুন। মন সুস্থ রাখুন।       


                   


যুগান্তর মিত্র

 



আলেকজান্ডারের স্বপ্ন 


হেফাস্টিয়ান! অ্যারিস্টটল হলেন মহান গ্রিক দার্শনিক। তাঁর বুদ্ধিমত্তা কী পরিমাণ আমি জানি। আমি তাঁর কাছে পাঠগ্রহণ করেছি। তিনি একজন অপরিচিতকে বিশ্বাস করবেন কী করে? তাকে আমিই যে পাঠিয়েছি, তেমন নিশ্চিত হবেন কী করে তিনি? ধরা যাক, আমি পাঠিয়েছি সেটুকু বিশ্বাস করলেন। কিন্তু তিনি মৌখিক যে পরামর্শ দেবেন বা পত্র দেবেন, সেটা যে আমার দূত শত্রুপক্ষকে জানিয়ে দেবে না, তার নিশ্চয়তাই বা কোথায়? তাই আচরণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানেন, এই ছাত্রের পক্ষে তাঁর সংকেত বোঝা সম্ভব, কিন্তু সকলের পক্ষে নয়। এজন্যই তিনি আমার কাছে নমস্য ব্যক্তি। এই কারণেই আমি তাঁকে এতটা ভরসা করি হেফাস্টিয়ান! 
উজ্জ্বল হয়ে উঠল হেফাস্টিয়ানের মুখ। তিনি বলে উঠলেন, সত্যিই মহান  গুরু অ্যারিস্টটল। তাঁর বুদ্ধি ও কৌশলের কাছে আমরা নিতান্তই শিশু। তবে মহামান্য সম্রাট, আপনিও আমাদের মহান রাজা। ঠিক তাঁর কৌশল বুঝতে পেরেছেন। এমনি এমনি তো আর বিরাট ভূখণ্ডের সর্বময় কর্তা হয়ে ওঠেননি! এত দেশ জয়, এত রাজাদের বশ্যতা স্বীকার তো এমনি হয় না। আপনি বুদ্ধিমান এবং মহান। 
হেফাস্টিয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্রাট আলেকজান্ডার প্রবীণ সেনাপতিদের সরিয়ে দিলেন ক্ষমতা থেকে। বয়স্ক কয়েকজন সেনাকে বাহিনীর পেছনের সারিতে নিয়ে গেলেন। যারা সম্রাটকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল, তাদের প্রাণদণ্ড দিলেন একে একে। আর এতেই কাজ হল।  
কিছুদিনের মধ্যেই সেনাবাহিনীতে  শৃঙ্খলা ফিরে এল। তরুণ সেনাধ্যক্ষরা খুশি মনে আর উদ্যমে কাজ শুরু করে দিলেন। এবার আলেকজান্ডার নিশ্চিন্ত। তাঁর স্বপ্ন ভারত অভিযান। সেই অধরা স্বপ্নের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।   
দিনাবসানের সূর্য ঢলে পড়েছে পশ্চিমে। আলেকজান্ডার তাঁবুতে বসে আছেন। কিছুক্ষণ আগেও বন্ধু হেফাস্টিয়ান ছিলেন তাঁর সঙ্গে। এখন তিনি একা। দিনের আলো মুছে গিয়ে নেমে এল সন্ধ্যা। দ্বীপাধারে আলো জ্বেলে দিয়ে গেছে নির্দিষ্ট কাজের লোক। আকাশে লক্ষ কোটি তারা ফুটে উঠে ঝলমল করছে। সেদিকে তাকিয়ে আছেন সম্রাট। কিছুক্ষণ বাদে এসে দাঁড়ালেন তাঁবুর বাইরে।  
রোক্সানেকে তাঁর কাছে আসার জন্য খবর পাঠিয়েছিলেন। সডগিয়ার ব্যারণের কন্যা রোক্সানে। অপূর্ব তাঁর শ্রী। প্রথম দেখাতেই আলেকজান্ডার মুগ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। কিছুদিন আগে তাঁকেই বিবাহ করেছেন তিনি। রোক্সানে যখন মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে তাঁর সামনে এসে দাঁড়ান, আলেকজান্ডারের সমস্ত ক্লান্তি কেটে যায়। অদ্ভুত এক মাদকতায় ভরে যায় তাঁর মনপ্রাণ। 
এবার ভারত জয় করতে পারলেই তাঁর যুদ্ধ অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে। তিনি ফিরে যাবেন নিজের দেশে, ম্যাসিডোনয়ায়। সেখানে গিয়ে রোক্সানের সঙ্গে শুরু হবে তাঁর নতুন জীবন। 
পিছন ফিরে দেখতে পেলেন রোক্সানে তাঁর দিকে এগিয়ে আসছেন। আলেকজান্ডার তাঁর জন্য অপেক্ষা না-করে নিজেই এগিয়ে গেলেন কাছে। আগামীকালই ভারত অভিযানে যাত্রা করবেন। দু-হাত বাড়িয়ে দিলেন প্রেয়সীর দিকে। যে ঝলমলে তারাগুলো তিনি একটু আগে দেখছিলেন আকাশের কালো চাদরের গায়ে আঁকা আছে, সেই তারাগুলোই যেন রোক্সানের চোখেমুখে ঝলসে উঠছে। মুগ্ধ হয়ে সেই ঝিকিমিকি তারা দেখতে থাকলেন রাজা আলেকজান্ডার। ভারত অভিযানের পূর্বরাত্রে তাঁর মন খুশিতে নেচে উঠল।
( সমাপ্ত)

সুজয় যশ

                                       


এই সংখ্যার কবি সুজয় যশ।  হৈড়গ্রাম, হাটগোবিন্দপুর, বর্ধমানের  নিবাসী । 

[১]
' বৃহন্নলা '
-----------------

সারারাত গর্ভদ্বার পাহারায় সময়!
তবু ভোরের আলোয়,
জন্ম নিল বৃহন্নলা ।
সমাজ মুখ ফিরিয়ে ধৃতরাষ্ট্র ।

প্রত্যেকটা সূর্য ঘড়ির কালো ছায়া
শুধু বয়স বাড়িয়ে তোলে।
রোজ , নিজের উলঙ্গ শরীর ছুঁয়ে
মানুষের অসম্পূর্ণ সংঞ্জা খোঁজে ।

গলায় রক্ত দলা পাকায়---
চিৎকার করে বলা হয়ে ওঠে না ---
' আমি নারী থেকে পুরুষ ---
পুরুষ থেকে নারী---
তথাকথিত সমাজবৃক্ষে, আমিও মানুষ ' !

চারদেওয়ালে বন্দি পৃথিবী---
ধূসর মাটি, চোখের কোণে---
শূন্যে ভালোবাসা খোঁজে নীল শিরা।

সব পুরুষ নারী খোঁজে ---
নারী খুঁজে চলে পুরুষ ---
প্রেম খোঁজে না কেউ,
ভালোবাসা দেখে না কেউ----
বৃহন্নলার চোখে !

জোর করে আইন জন্ম নেয়---
অধিকার চেপে বসে সমাজে।
মাটি তবু ধূসর,  ক্লান্ত!
সমাজ হেসে চলে মুখ টিপে---
মানুষের চামড়া গলে রক্তের সাথে ।

একদিন প্রেম আসে হামাগুড়ি দিয়ে,
ভালোবাসা ফিরে আসে ছোট্ট আঙুল ধরে।
শিশু মন হাত রাখে গালে ---
চুমু খায় চোখে---
শিহরনে চোখ খোলে, বৃহন্নলা !

হাজার হাজার শিশু
এগিয়ে আসছে মানুষ হয়ে---
যৌনাঙ্গ হীন সবুজ সমাজে।

বৃহন্নলার শরীর জুড়ে
মানুষের গন্ধ !




[২]
' কবি সম্মেলন '

-------------------------

সারা রাত বুকে বালিশ চেপে
একটা কবিতা লিখলাম,
' মানুষের ইতিহাস ' !
খোলা মাঠে কবি সম্মেলন----
অনেক বাহবা,  হাততালি ।
শেষ ভিড়ে
উঠল, একটা শীর্ণ হাত---
বলে গেলো----
" তোমার কবিতা, আমায় ভাত দিতে পারল না " !

হাততালি গুলো
আমার পাঁজর গুড়ো করে ফেলল।
পাণ্ডুলিপি জুড়ে
আমার গুড়ো হাড়ের গন্ধ !

এখন আমি
কবিতা রান্না করি।
ভাত ফোটাই
আমার পাণ্ডুলিপির আগুনে ।
শুধু অপেক্ষায় আছি
পরবর্তী কবি সম্মেলনের ।





[৩]
' অনুভূতি '
-------------------

তোমার আদর গুলো
ছায়ার মত, শরীর জুড়ে হাঁটে ।
সেই লজ্জা নুপুর
সকাল থেকে, আলতা পায়ে ছোটে।

বড় ইচ্ছে করে
এক পোশাকে, দোলনামাখা চোখে----
তোমার ইচ্ছে ডানা
এক বিকেলে, হলদে পাখির বুকে ।

তোমার আগুন শরীর
লতার মত, কামড়ে ধরে চোখ।
দেখি বৃষ্টি ভেজা জলনুপুরে
নদীর গোপন স্রোত ।

তুমি উড়তে পারো
বুক আকাশে, রঙিন ঘুড়ির মত।
আমি শিকড় জুড়ে
তোমার বুকে, লিখব গল্প যত।

তুমি চুপটি করে
শাড়ির খুঁটে, আমায় বেঁধে রেখো।
বুনো লতার মত
জঙ্গলী ফুলে,ছায়ার মতোই থেকো।




[৪]
' কি হবে '
---------------

কি হবে,
যদি একমুঠো মাটি ছিঁড়ে নিই
তোমার হৃদপিন্ড থেকে!
যদি ভুলে যাই ,জরায়ু উপড়ে
আর একটা মাংসপিন্ড গিলে খেতে!

কি হবে
যদি মেঘের পালক ছিঁড়ে
তোমাদের আকাশ সাজাই!
গাছের দম বন্ধ করে
আর একটা কৃত্রিম ফুসফুস বানাই!

কি হবে
যদি সব নদী মোহনা ভুলে
ফিরে যায় উৎসের সন্ধানে!
যদি শহরের গলি জুড়ে
রাশি রাশি ক্যাকটাস জেগে ওঠে!

কি হবে
যদি একদিন সব শরীর
আগাছার প্রেমে পড়ে!
সঙ্গম ভুলতে থাকে
উদ্ভিদের শিকড় উপড়ে নেওয়া মাটি!

আমরা জরায়ু পাল্টে নেব তখন !
কিছু ভাঙাচোরা দিন
মুছে নেব পকেট রুমালে।

কই কিছুই তো হলো না এখনো!



[৫]

' রাস্তা '
----------------

ঢেউ আছড়ে পরার আগেই
শুকিয়ে নুন গুঁড়ি!
লবণাক্ত রক্ত থমকে
গতি হারানোর ভয়ে ।
ফিরে আসার অঙ্গীকার বুকে
জঙ্গলের ওপারে নূপুরের শব্দ ক্ষীণ------
কালো বেড়াল রাস্তা আগলে বসে,
রাস্তা পাল্টায় নদী ------
ঝাউবনে নূপুরের শব্দ!




[৬]
' স্বপ্নের রাত '
---------------------

বাইপাস ছুঁয়ে
ছুটে চলে আমার স্বপ্নের রাত,
বুকের টানেল ভেঙে
কুয়াশার মতো বাড়ে নিঃস্ব ইচ্ছে ।
জড়াজড়ি সিগন্যাল
ছুঁয়ে দেখে ছায়ার রাস্তা,
রাতের অনুভূতি
খুলে নেয় অবিনশ্বর মন।
ভালোবাসা বাড়ছে
নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে ,
অন্ধকার এখনো
আমার নিঃসঙ্গতার প্রেম মেখে।

আগুন মেখেছে সোহাগের রাত,
গোটা বাইপাসে আমার গুড়ো !
ভালোবাসার আগুনে
বাইপাস জুড়ে গলে বিটুমেন,
আগুন মাখে
আমার বুকের পুরনো বরফ!





[৭]

' অবৈধ '
-----------------

ক্লান্ত চোখ আদর খোঁজে ,
ঘুমের শরীরের অবৈধ গন্ধ
নিজেকে বিবস্ত্র করে !

ওবেলার বাসি ভাতের গন্ধ
খিদের ঠোঁটে চুমু খায়,
খিদের শরীর কামুক হয়ে ওঠে
পর পুরুষের ছোঁয়ায় ।

মুখের সামনে আধঢাকা শরীরে, বৌ
প্রেম মাখিয়ে দিচ্ছে বাসি ভাতে ।
শরীরে লেপ্টে থাকা ক্লান্তি, পরকীয়া চোখে
ওদের নির্লজ্জ প্রেম দেখে ।

আঙুল কে আস্কারা দেয় মন,
আদর মেখে ভাগ করে খায়
বাসি ভাতের প্রেম!
ক্লান্তি মুখ লুকোয় সতিনের অস্থির জঠরে।

ক্লান্ত চোখ আদর খোঁজে
ঘুমের স্তনবৃন্তে ,
আধখোলা শরীরে ওরা , সারারাত !






[৮]

' সোনালী মাটি '
---------------------------

(ক)
পাথর ভাঙতে ভাঙতে
খুঁজে পাওয়া গেল সোনালী মাটি,
সহস্র যোজন দূরে
খড় কুটোয় পোড়া মাটির পাহাড়ে।
বুনো আগাছায় ঢাকা জিভ,
পাহাড়ের নুন চেটে, বুঝতে চাইছে
জীবন পোড়ার গন্ধ!

(খ)
এবার বুড়িটা ঠিক মরবে !
কেউ  ভাবতেই পারেনি
রাস্তা পার হওয়া বাচ্চাটাকে
এক হেচকায় ফেলে দিয়ে -----
বুড়ি নিজেই পার হবে,
সোনালী মাটির খোঁজে , অন্ধকারে!

(গ)
ভালোবাসার সব এঁটো ধুয়ে,
আদিম হওয়ার লোভে
পাথর ভাঙতে রাজি সবাই ।
সোনালী মাটি উধাও!
বুড়িটা পৌছে গেছে পাহাড়ের চূড়ায়।

(ঘ)
বুড়ির পাকা চুলে কালবৈশাখী ,
নিজেকে গুড়ো করে হাসছে
শুক্ন হাড়কঙ্কাল বুড়ি!
হাওয়ায় উড়ছে সোনালী মাটি,
বুড়ি নিঃস্ব!

(ঙ)
পাহাড়ের নিচে উলঙ্গ হচ্ছে মানুষ
জিভের আগাছা মাড়িয়ে
এবার নতুন খেলা,
বুড়ি ছোঁয়া!





[৯]

' ব্ল্যাক ক্রমোজোম '
---------------------------

আমার চোখের নোনা দেওয়ালে,
বৃষ্টিরা আজ মুখচোরা ।
আমার আঙুল নীল লিটমাস,
স্মৃতির পাতায় আনকোরা ।
আমার শাখায় গুড়ো ক্যাকটাস
শিকড় কাটে মাঝরাতে।
আমার পৃথিবী অনেক পুরনো
শৈশব খোঁজে কার সাথে?

তোমার জানলা চোখ বুজে আছে
বৃষ্টি আগলে বারান্দায় ।
তোমার দু চোখে লাল লিটমাস
স্মৃতিরা কাঁদছে একলা হায়!
তোমার কবিতা জ্বলছে ধোঁয়ায়
মাটি হারিয়েছে ক্রমোজোম ।
তোমার পৃথিবী কংক্রিট ঘেরা
বিষের প্যাকেটে মাইক্রোজোম।

আমার পকেটে ডি এন এ ঠাসা
তোমার মুঠোর অপেক্ষায় ।
পাটিগণিতের শতকরা মেপে
মাটির পৃথিবী উপেক্ষায়।

সূর্যের কুঁড়ি
ভোর রাতে ফোটে।
তবুও পৃথিবী
রোজ কেঁদে ওঠে।
------------------- @@ ----------------


[১০]

' ঈশ্বরী '
--------------------

তোমার মনের ভেতর,
আমি শিশুর মতো ঘুমিয়ে ।
তুমি আঁচল ছোঁয়ালে,
নিদারুণ ভালোবেসে,  লুকিয়ে ।

আমার রুগ্ন মন,
তোমার চুলের গন্ধে সবুজ।
তুমি বৃষ্টি ভেজালে,
আমার আকাশ এখনো অবুঝ ।

তোমার বাগান জুড়ে,
অবুঝ খেয়াল হেসে ওঠে।
তুমি গাছ হয়ে ওঠো,
আমার অসুখ করা ঠোঁটে ।

তোমার বাকলে দেখি,
আমায় জড়িয়ে রাখা দাগ।
তুমি হয়ে ওঠো, ঈশ্বরী------
ঈশ্বর নতজানু,  নির্বাক!








রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১

যুগান্তর মিত্র

                                                        


আলেকজান্ডারের স্বপ্ন


 

  তোমাকে কিছুই বলতে হবে না। শুধুমাত্র আমি যা যা করলাম সেটুকুই দয়া করে সবিস্তারে জানিও। তাহলেই বুঝতে পারবে তোমাদের রাজা। এবার তুমি এসো। ক্ষুব্ধকণ্ঠে বললেন অ্যারিস্টটল।হতাশ হেরাস সম্রাটের গুরুর মাথার ব্যামো আছে নিশ্চিত হয়ে ঘোড়ার পিঠে গিয়ে উঠল।

(৩)

আলেকজান্ডারের কাছে এসে আধোবদনে দাঁড়াল হেরাস। ম্যাসিডোনিয়ার বীর রাজা তাকে দেখে খুশি হয়ে উঠলেন। এবার সহজেই সংকট নিরসন করা যাবে। ভাবলেন তিনি। জিজ্ঞাসা করলেন, কী পরামর্শ দিলেন গুরুদেব?

আলেকজান্ডারের দিকে একবার তাকিয়েই মুখ নামিয়ে নিল হেরাস। ধীরে ধীরে উচ্চারণ করল, আমাকে মার্জনা করবেন মহারাজ! আমি কোনও পরামর্শ আনতে পারিনি তাঁর থেকে!

তাঁর সঙ্গে কি তোমার দেখা হয়নি?  তিনি কি এখন এথেন্সে নেই?

দেখা হয়েছে মহারাজ। উনি আমার সবকথা শুনলেন মন দিয়ে। কিন্তু এই ব্যাপারে কোনও মতামত দিলেন না!

আজ তার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তি নিশ্চিত জেনে কুঁকড়ে রইল হেরাস।

আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছ! এত বড় স্পর্ধা তোমার? 

বিশ্বাস করুন মহামান্য! উনি সত্যিই কোনও পরামর্শ দেননি। আমার কথা শোনার পরেও ওনার কাণ্ডকারখানা দেখে আমি অবাক হচ্ছিলাম। শেষে বললেন, আমি যা যা করেছি সেটাই বোলো তোমাদের রাজাকে। তাহলে সে বুঝতে পারবে।

গুরুদেবও কি ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মেলালেন! ভাবলেন আলেকজান্ডার। নাকি আমাকে মিথ্যে কথা বলছে এই সেনা? গুরুদেবের সুপরামর্শ হয়তো জানিয়ে এসেছে আমার শত্রুপক্ষকে! মাথা গরম হয়ে উঠছে তাঁর। তবু বিচলিত না-হয়ে জানতে চাইলেন, গুরুদেব ঠিক কী কী করছিলেন আমাকে খুলে বলো।

এবার পূর্ণ চোখে তাকাল হেরাস। অবধারিত মৃত্যুর হাতছানি এগিয়ে আসছে তার দিকে বুঝতে পেরেছে সে। তবু গুরুদেবের সমস্ত কাণ্ডকারখানা সে বিস্তারিত জানাল।

প্রথমদিকে আলেকজান্ডার কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। পরে যখন বুঝতে পারলেন গুরুর ইঙ্গিত, তখন তাঁর মুখে ফুটে উঠল হাসি। বললেন, আমি বুঝেছি গুরুদেব কী বলতে চেয়েছেন। দীর্ঘ পথশ্রমে তুমি ক্লান্ত। এখন বিশ্রাম নাও। তার আগে সেফাস্টিয়ানকে একবার ডেকে দিও।

এসবের বিন্দুবিসর্গ বুঝতে পারল না হেরাস। মহারাজ মৃত্যুদণ্ডের বদলে তাকে চলে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন, এতেই তার ধড়ে প্রাণ ফিরে এল। দ্রুত সে সম্রাটের সামনে থেকে সরে গেল।

প্রায় ছুটতে ছুটতে হেফাস্টিয়ান চলে এলেন সম্রাটের কাছে। এসেই জানতে চাইলেন, কী সংবাদ এনেছে হেরাস। আমি জানতে চেয়েছিলাম মহারাজ। কিন্তু ও কিছুই না-বলে চলে গেল। এতটা বেয়াদবি তো করার কথা নয়! এই সেনাকে হেফাস্টিয়ানই নির্বাচন করে দিয়েছিলেন। তাই উদ্বিগ্নতা তাঁকে ঘিরে রেখেছে।

আলেকজান্ডারের চোখমুখ থেকে ঝরে পড়ছে আলো। তিনি বললেন, হেরাস তোমাকে কী আর বলবে! ও নিজেই তো জানে না গুরু অ্যারিস্টটল কী নির্দেশনা পাঠিয়েছেন।

সম্রাটের কথাটা কেমন যেন হেঁয়ালির মতো মনে হল হেফাস্টিয়ানের কাছে। যে লোকটা নির্দেশ বয়ে নিয়ে এল, সে নিজেই জানে না! এ আবার কেমন কথা! সংশয় নিয়ে বললেন, আমাকে সব খুলে বলুন মহারাজ। আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

আলেকজান্ডার অ্যারিস্টটলের ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ গুছিয়ে বললেন হেফাস্টিয়ানকে। কিন্তু তাঁর মাথায় কিছুই ঢুকল না। জিজ্ঞাসা করলেন, এমন অদ্ভুত আচরণের মানে কী সম্রাট?

গুরুদেব বোঝাতে চাইলেন বৃদ্ধ সেনাপতি আর সৈন্যদের অব্যাহতি দিতে, যাতে তরুণরা দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে। তাই তিনি গাছের বড় বড় কয়েকটা ডাল ছেঁটে দিয়েছিলেন।

আর হলুদ ডালগুলো? জানতে চাইলেন হেফাস্টিয়ান। তখনও তাঁর ঘোর কাটেনি।

হলুদ ডালপালা কাটার অর্থ হল যারা কমজোরি, বা যুদ্ধের ব্যাপারে অনাগ্রহী, তাদের যুদ্ধের আয়োজন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে। কেটে ফেলা ডালপালাগুলো মাটিতে পুঁতে দেওয়ার মানে কী জানো হেফাস্টিয়ান? এর অর্থ শত্রুদের এদের নিশ্চিহ্ন করে দাও।

কিন্তু মহারাজ, গুরুদেব তো খোলাখুলিই বলতে পারতেন দূতের কাছে। অন্তত একটা পত্র লিখে জানিয়ে দিতে পারতেন!

 

(ক্রমশ:)

চিত্র- অন্তর্জাল 

 



\

জয়তী রায় ( মুনিয়া)

                                                       




বাক্য ও জীবন

বাক্য  কয়েকটি শব্দের সমষ্টি। অথবা একটি মাত্র শব্দও বাক্য হতে পারে। মানুষের মনের ভাব প্রকাশ বাক্যের সাহায্যেই সম্পূর্ণ হয়। মনের ভাব--অর্থাৎ মনের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ফুটে ওঠে বাক্যের মাধ্যমে। 


মন দেখা যায়না। স্পর্শ করা যায়না। অথচ মন হল সবচেয়ে শক্তিশালী প্রকট ইন্দ্রিয়। শরীর নানা ভাবে তুলে ধরে মনের ভাব। বাক্য তার মধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে। 


বাক্য দুরকম। উচ্চারিত আর অনুচ্চারিত। জীবনের ষাট ভাগ হল অনুচ্চারিত বাক্য। বেশিরভাগ কথা মানুষ ভিতরে রাখে। আর যেগুলো বলে সেগুলোও অনেক সময় সেটা বাদ দিয়ে বলে , যেটা সে বলতে চায়। 


১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্থ বহু পরিবার কথা হারিয়ে ফেলেছিল। বাংলাদেশে থাকাকালীন রাশভারী ছিলেন, অথচ কলকাতা এসে হয়ে উঠলেন তোষামুদে , অকারণ হ্যা হ্যা করা মানুষ। ভিতরের কষ্টের কথা ক্ষতের কথা বলতে না পেরে হয়ে উঠছেন অবিন্যস্ত। 


রেপড হওয়া চোদ্দ বছরের এক মেয়ে এসেছিল আমার কাছে। ফ্যাল ফ্যাল চেয়ে থাকা শুধু। শরীরের চাইতে মন হয়েছিল অনেক বেশি রক্তাক্ত। তখন তার নিরাময় নির্ভর করছিল স্বাভাবিক কথা বলার উপর। সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই সহজ ছিল না।


 আমার কাজ হল--how to motivate our daily life----অর্থাৎ আমাদের দৈনন্দিন পাঁচপাঁচির জীবন ছোট ছোট সমস্যার কাঁকড়ে আক্রান্ত হয়। আমরা পাত্তা দি না। অথবা দেখেও ভান করি না দেখার। অবশেষে সেই কাঁকর জমতে জমতে পাহাড়। তখন ছোট মনের ডাক্তারের কাছে। গেলো একগাদা ওষুধ। 


    একটা দিন আসলে একটা জীবন। কেন? ভাবলে দেখা যায়, ভোর বেলার আমি, বেলা বারোটার আমি, বিকেলের আমি, রাতের আমি--মানুষ এক--চরিত্র আলাদা। প্রত্যেক সময় ভাবনা বদলেছে, মন পাল্টেছে, কথা বদলে গেছে। এবং লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ঘরের বাতাবরণ পরিবর্তন হচ্ছে। কাজের মহিলা এল না? অফিসে বস ক্ষেপে গেল; ফেসবুক লাইক কমেন্ট কম দিল; বন্ধু চ্যাটে এল না--হরেক কিসিমের সমস্যা, মাথা গরম।গরম মাথা নিয়েও মুখে হাসি রাখতে হয়। মন ভাবছে এক, মুখ বলছে আর এক। 


  সবাই বলবে, এগুলো তো পার্ট অফ লাইফ। তাই কি? এত সহজ সমাধান হলে আজ মনের ডাক্তারের চেম্বারে এত ভীড় হত না। 


   মনে, রোজ রোজ জমা হচ্ছে হাজার অভিযোগ। বেশিরভাগ অকারণ। মনের ডাস্টবিন উপচে পড়ছে। বাক্যর ঝাড়ু পারে সেগুলো ঝেঁটিয়ে তুলে ফেলতে। কিন্তু সে বলবে না। ভাববে কিন্তু বলবে না। লোক বলবে বলা যায়না সবসময়। কিন্তু, ভাবাও তো বলা। 


 --অমুক খুব পাজি। খুব সুবিধাবাদী। একদম সহ্য হয়না --এমন ভাবনা কিন্তু ক্ষতি করছে নিজের। তারচেয়ে চোখ কান বুজে বলে ফেলা অনেক ভালো। হয়ত দেখা গেল, ভাবনা ছিল ভুল। দুঃখের কথা এই, এমন ভুল ভাবনা বহন করে চলতে পছন্দ করে মানুষ।


নদীর তলা ক্ষয়ে ক্ষয়ে জীবন শেষ হয়ে যায় এক সময়। রোজকার জীবন সুন্দর রাখতে হলে একটা দিনকে লক্ষ করতে হবে ভালো করে। দেখা যাবে,ভোর থেকে রাতের পরিক্রমায় কথার বিশেষ ভূমিকা আছে। 


বহু সমস্যা পারস্পরিক কথা বলাবলিতে কেটে যায়। মনে রাখতে হবে, কোনো সম্পর্ক অনর্থক নয়। সাধারণ জীবনে একে অন্যের সঙ্গে সুন্দর সহাবস্থানের অপর নাম হল জীবন। বাক্যকে সঠিক উপায়ে মধ্যস্থতা করতে ডাকলে, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে উকিলের দরকার পড়বে কম। 


 আমরা কি চাই? আমরা ঠিক কি বলতে চাই? সেটা ডাক্তার হোক বা উকিল--সে ভালো বুঝবে না আমি নিজে বুঝব? আমার অস্তিত্ব রক্ষার দায়িত্ব অন্য লোকের হবে কেন? নিজের অবস্থান নিজেকেই তো ঠিক করতে হবে। 


  বাক্য সংকট ত্রাতা। মনের জমে ওঠা আবেগ মাইক হাতে নিয়ে না বলতে পারলেও, নিজের কাছের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিন। অনেক শান্তি লাগবে। ঘরের ভারি বাতাস হালকা হয়ে উঠবে। ঘুমের ওষুধ ছাড়াই হয়ত এসে যাবে প্রশান্তির ঘুম।।


                                                           


সাত্যকি

                                                          



এই সপ্তাহের কবি  সাত্যকি৷

প্রথম কবিতা প্রকাশ ২০১৮ সালে, শব্দহরিণ পত্রিকায়।প্রকাশিত হয়েছে বেশ কয়েকটি পত্রিকায়I পরবর্তীতে কবিকথা , কাগজের ঠোঙা , বিবস্বান , কাল্ধবনি , ষোলোআনা , নৌকা , সাগ্নিক , আকর, দক্ষিণের জানালা, পরবাস, পদক্ষেপ প্রভৃতি। পেশাগতভাবে কবিতা না লিখলেও, ধারাবাহিকভাবে চলছে  কবিতা লেখা।

প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় মুখর পত্রিকায় ২০১৯।এছাড়া, কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে গল্প ও অণুগল্প।

 


একটা দিনের খবর

 

শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের বাইরে হাত রাখলে গরম অনুভূত হয়

রোজ কথাদের মাঝ থেকে শব্দকে আলাদা করতে করতে ফিকে

হয়ে গেছে নাম শীত হারিয়ে বসে আছি রৌদ্র দগ্ধ উঠোনে বাকি

যা সব রেলের লাইনের মত সমান্তরাল তবুও এখানে ভেসে আসে

নিয়ম তাড়িতের মত শব্দ ভিজিয়ে দিয়ে যায় রৌদ্র দগ্ধ শরীর

জুড়ে মেঘ কুয়াশার অবাধ অস্তিত্ব যাপন... 


একান্তে যা বলা গেল

 

অনেক সংজ্ঞা ও উদাহরণ নিয়ে আমরা ঘুরে বেড়াই

কে জানে কোনটা কখন দরকারে লেগে যাবে

তাই ব্যাগে ঠেসে ঠেসে ভরে নেওয়া

আমার আমির প্রতি কর্তব্যের কথা মনে পড়ে

প্রত্যেকের সমানে যথাযথ তুলে ধরা

খানিকটা বাড়িয়ে হলে বেশ

 

এসবেরই মধ্যে ধরো,

             আমি যদি সব নিয়ে বিস্মৃত প্রায় হই

কেমন হবে

 

সেদিনও কী এভাবেই জাপটে ধরে রাখবে আমার হাত

সেদিনও দেখব তোমার চোখের নীল কক্ষপথে আমার ছায়া... 

                                                   

পাশে এসে দাঁড়ায়

 

সমস্ত আবেগ উৎকণ্ঠা কল্পনা অনুমান 

সাদা পৃষ্ঠার গায়ে ঢেলে ফেলার পর

বাকি থাকে অনুদান

 

উপার্জন হীন

গুড়ো মশলা দুপুরগুলো পাশে এসে দাঁড়ায় 


বদলে যায়

একটা ট্রেন এসে থামছে আর

হুড়মুড় করে লোক নামছে

ঠেলাঠেলি করে লোক উঠছেও

ট্রেন থামার আগের চিত্রপট বদলে যাচ্ছে

চিত্রপট এভাবেই বদলে যায় প্রতিনিয়ত



উপর্যুপরি

 

উপর্যুপরি আমিও ভর্তুকি দিয়ে যাই

প্রত্যেক দুপুরের মাছের ঝোল

বদলে পাই

 

গ্রানাইট হীন কাঠ পেন্সিল

খয়েরি খবরের কাগজ

বোতাম ছেঁড়া জামা

আর অজস্র শব্দ সমুদ্র

 

যারা চড়চড়িয়ে হেঁটে যাচ্ছে তালুর রেখা ধরে...


স্বপ্ন পোঁতা থাকে

 

 

দরমার চার দেওয়াল থেকে ঝর্না তলায় স্নান

এক বিরাট পথ বেয়ে চলা

ক্রমাগত অনুভূতির বেষ্টনের আবহে আটক হওয়া

 

আমি দেখে দেখে ফিরে যাই

আমার টালির কামরায়

 

তবুও তো কারো কারো ছ্যাঁকা লাগে

সবার ভিতরে একটা ঝর্না তলার স্বপ্ন পোঁতা থাকে...


ভ্রম

 

রবীন্দ্র সদন যাব বলে যখন এলিয়ট পার্কের কাছে দাঁড়িয়ে আছি

লাল লাইটে একদিকের যান চলাচল স্তব্ধ

তখন দ্বিধাবিভক্ত আমি কোন পথ ধরে যাব

ভাবতে ভাবতে এক পথের রাশ আলগা হয়ে আরেক পথ আগলে ধরেছে

 

এ-পথ ও-পথ করতে করতে যখন একটা পথ নির্বাচন করলাম

দেখলাম রবীন্দ্র সদন ছাড়িয়ে বেশ খানিকটা চলে এসেছি ভবানী পুরের দিকে... 


ভালোবাসার স্মৃতি...

 

 

কয়েকটা আসবাব মেলানো মেশানো জীবন দুটি ভালোবাসার মুখ ক্রুশ কাঁটায় বুনছে শীত পোশাক একাকী চলে যাওয়ার আগের স্টেশনে একাকীত্ব উপভোগ করা আনন্দ হুল্লোড় অপরিচিত মানুষের ভিড় থেকে নিরিবিলিতে সমস্ত বাধ্যবাধকতা ছেড়ে এখানে শেষ দিনগুলোকে কাছে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া এমনভাবেই কয়েকটা শীত পার হবে বসন্ত দিন আসবে হেমন্তের পাতা ঝরা ঘষঘষানি শব্দের ভিতর বিকেলগুলোকে শুধু দেখে যাওয়া স্মৃতির খেলাঘরে উলটপালট হাওয়া আর থেকে যাবে ভালোবাসার স্মৃতি...


অধিকন্তু একটা মৃত্যুর পর

 

লাশ কাটা ঘরে পড়ে আছে

দেহের মাঝে শুয়ে আছে একটা 

শুকনো নিম ফলের মত মন

যা কারো নজরে পড়বে না

মাথার চুল হাতের নখ গায়ের লোম

কোথাও  জমবে না কুয়াশার ছাপ

আজ আর ঝেঁপে বৃষ্টি হবে না!



একটা দিনের খবর

 

শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের বাইরে হাত রাখলে গরম অনুভূত হয়

রোজ কথাদের মাঝ থেকে শব্দকে আলাদা করতে করতে ফিকে

হয়ে গেছে নাম শীত হারিয়ে বসে আছি রৌদ্র দগ্ধ উঠোনে বাকি

যা সব রেলের লাইনের মত সমান্তরাল তবুও এখানে ভেসে আসে

নিয়ম তাড়িতের মত শব্দ ভিজিয়ে দিয়ে যায় রৌদ্র দগ্ধ শরীর

জুড়ে মেঘ কুয়াশার অবাধ অস্তিত্ব যাপন...