অনিন্দ্য পাল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনিন্দ্য পাল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অনিন্দ্য পাল

              







সত্যসাধন

=========================== 
বহুদিন পর সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ ধূমায়িত  চা পেলেন সত্যসাধন। গত প্রায় সাত মাস ধরে শ্যামলিকে নিয়ে যে যমে মানুষে টানাটানি গেছে, তাতে সত্যসাধন প্রকৃত অর্থেই সবদিক দিয়ে দেউলিয়া হয়ে গেছেন। দিন পনেরো আগে সবাইকে মুক্তি দিয়ে চলে গেছেন শ্যামলি। একেবারে একা হয়ে গেছেন সত্যসাধন, তাই শ্যামলির পারলৌকিক কাজকর্ম মিটে গেলে যাদবপুরে একমাত্র ছেলে সুমনের কাছে চলে এসেছেন। মেয়ে রুমা অনেকবার বজবজে তার কাছে যেতে বললেও কর্ণপাত করেননি। মেয়ের বাড়ির অন্ন মুখে তোলা যায় নাকি? তার চেয়ে গ্রামের বাড়িতে পচে মরা অনেক ভালো। 
          খবরের কাগজে মুখ গুঁজে অনেকটা সময় কেটে গেল সত্যসাধনের। বিকেলে নাতি রোহনকে নিয়ে একটু পার্কে গেলেন। সুমনের ফ্ল্যাটে দু'টো বেডরুম। একটাতে ওরা থাকে, আর একটাতে নাতি পুষ্কর। আপতত সত্যসাধনের জন্য ডাইনিং কাম ড্রয়িং-এর পাশের ছোট্ট একটা ঘরে ক্যাম্পখাট বরাদ্দ হয়েছে। ছেলে তার ঘরে একটা পুরোনো টিভির ব্যবস্থা করে দিয়েছে, সেটাতে সারা সন্ধ্যে হাবিজাবি সিরিয়াল আর খবর দেখে শ্যামলিকে  হারানোর কষ্ট ভোলার চেষ্টা করলেন বটে, কিন্তু সেই চেষ্টা যে একেবারেই বিফল হয়েছে সেটা বুঝলেন রাতের খাবার খাওয়ার সময়। দু'টো রুটি আর একটু সব্জি, এটুকুই খেতেন সত্যসাধন, তার ব্লাড-সুগার থাকায় শ্যামলি সব সময় চোখে চোখে রাখতেন। কখনও লুচি, পরোটা, আলু বা মিষ্টির ধারে কাছে ঘেঁষতে দিতেন না। এখানে যখন বৌমা রাতে পরোটা আর আলুর দম, সঙ্গে দু'টো রসগোল্লা দিল খেতে, সত্যসাধন কিছুতেই মুখে তুলতে পারলেন না। ছেলে সুমন বিরক্ত হয়ে বললো, 
-- আরে একদিন খেলে কী হবে? আমাদের কলিগ অরুন তো মিষ্টি খেয়ে তুড়ে দেয়, দিব্যি আছে। তোমার যত ভয়। খাও খাও খেয়ে নাও। 
মনের সঙ্গে অনেক লড়াই করে সত্যসাধন একটা পরোটার খানিকটা খেয়ে উঠে পড়লেন। 
  ঘরে ঢুকে অভ্যাসমত সুগারের ওষুধটা খেয়ে শুয়ে পড়লেন। কিন্তু কিছুতেই ঘুমাতে পারলেন না। ছেলে-বউ ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করলে একটু পায়চারি করবেন ভেবে ঘর থেকে বেরিয়েই শুনতে পেলেন, 
-- ওই যে অতটা খাবার নষ্ট হল, সেটার কি হবে? এই টু-বেড ফ্ল্যাট, নড়াচড়া করার জায়গা নেই, সেখানে আর একটা মানুষ কে কোথায় রাখা হবে না ভেবেই ... 
বৌমা লিপিকার ধারালো কথা শেষ হল না, সুমনের গলা পেলেন, 
-- একটু আস্তে তো বলতে পারো, সব বিষয়ে এত চেঁচামেচি কর কেন? আমার বিষয়টা তো জানো, অ্যাকাউন্টেন্সি, হিসেবটা আমি একটু ভালোই বুঝি। বাবা এখানে থাকলে লাভ বই লোকসান নেই। বাবার নিজের পেনশন আছে, প্লাস রুমা প্রতি মাসে বাবার জন্য দু-হাজার করে দেবে, ইভন গতকাল ও এই মাসের জন্য দিয়েছে, ওটা থেকেই তো তোমার জন্য জামদানীটা আনলাম। আবার গ্রামের জমি-জমার বিক্রিবাটা হলে কম করেও লাখ তিরিশের কম আসবে না, এসব তো ভাবো। আর কদিন বা আছে, একটু বুদ্ধি করে আদর যত্ন করে মিষ্টি, আলু খাওয়াও, দেখবে হুস করে ...
ছেলের খিলখিল হাসিটা বড্ড উষ্ণ মনে হল সত্যসাধনের। নিজের ঘরে ফিরে বিছানায় বসতেই মাথার মধ্যে একটা জ্বালা অনুভব করলেন, গলার কাছটা কেমন যেন তেতো হয়ে গেল। পঁয়ত্রিশ বছর আগের একটা রাত ভেসে উঠলো চোখে। রুমা, তাদের প্রথম সন্তান জন্মেছিল সেদিন, সত্যসাধন মেয়েটাকে একবারের জন্য দেখতে যাননি। তিনদিন পর শ্যামলি রুমাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলে বলেছিলেন, আগে জানলে অ্যাবরশন করাতাম। 
বালিশের নীচ থেকে ফিচার-ফোনটা বার করে রুমার নম্বরটা ডায়াল করলেন। সত্যসাধন জানেন মেয়েটা মায়ের স্বভাব পেয়েছে, এখনও রাত জেগে বাবার কথাই ভাবছে। 
=============================== 

সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

অনিন্দ্য পাল

                                                        



                                





 বর্ষাজন্ম //

================== 
গ্রীষ্মের শরীরের মধ্যেই বেড়ে উঠতে চায় 
মেঘশিশু-- 
উদভ্রান্ত ক্ষোভ থেকে নিংড়ে নিতে চায় 
এক আশ্চর্য বজ্র-বিদ্যুৎ 
এবং উষ্ণতার আলপথ পেরিয়ে 
আদর আর অন্ধকারের পুকুরে ডুব দিয়ে 
বিবর্তিত হয় স্তরীভূত মমতায়-- 
বাতাস খুঁড়ে নেমে আসা সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে 
জন্মান্তরের ত্রিমাত্রিক ইতিহাস 
তারপর শুধু ভিজে যাওয়া 
শুধু ভিজে যাওয়া আর মিশে যাওয়া 
নিশ্চিন্ত ভালোবাসায় তলিয়ে যাওয়া 
ঋতুমতী পৃথিবীর আদর-গহ্বরে... 
=============================== 

মৃত্যুর আবিষ্কার // অনিন্দ্য পাল 
====================
এত মৃত্যু! হিসেব করে আসিনি তবু স্বপ্নে 
শ্মশান দেখিনি এখনও, কয়েকটা রঙিন ফুল 
ফুটে ওঠে। তাদের চামড়ায় লেখা থাকে 
আগুনের ছদ্মনাম : 
আগুন কারও মা হতে পারে না 
আগুন কারও বাবা হতে পারে না 
আগুন কারও সন্তান হবে না কখনো 
অথচ আমার স্বপ্নে আগুনের গর্ভে বেড়ে ওঠে 
রোজ-- 
বহুমাত্রিক সবুজের মহাকাব্য! 

মৃত্যু কোনো জ্যোতিষীর নাম নয় 
মৃত্যু বরং প্রকৃতির সেই অমোঘ ফুল 
যার গন্ধে মিশে থাকে চলে যাবার ফেরোমেন 

মৃত্যুকে কি বলা যায়, গাঢ় উপসংহার? 
মৃত্যুর কলম যদি থেমে যায় পর্দার এপারে 
যদি মৃত্যুরও ঘনিয়ে ওঠে চূড়ান্ত শেষ সময় 
তবে, হাসালে জীবনের দেবতা --- 
তোমার হাতে আসলে পড়ে আজে কিছুটা 
উদ্বায়ী সময় ... 
=============================== 

ঝড়ের সঙ্গে সেলফি// অনিন্দ্য পাল 
=====================
ছোট্ট মেয়েটা ঝড় ভালোবাসে 
বৃষ্টিও ওর খুব প্রিয়, 
কিন্তু ও শুধু দেখে চারপাশে ভয় আর কান্না 
ছোট্ট মেয়েটা, একটা সেলফি নিও! 
ছোট্ট মেয়েটা ঝড় ভালোবাসে 
ও কখনো দেখেনি ছাউনি উড়ে যাওয়া 
ও জানে না তছনছ ধ্বংসের ডাস্টবিনে দাঁড়িয়ে 
আকাশ দেখতে ভালো লাগে না। 
ছোট্ট মেয়েটা ঝড় আর বৃষ্টি বড্ড ভালোবাসে 
ও কখনো দেখেনি একবুক জলে দাঁড়িয়ে 
গামছা পেতে চিড়ে-গুড় নেওয়া 
ওর চোখের সামনে কখনো ভেসে যায় নি 
স্তন পানরত উলঙ্গ শিশু ... 

ছোট্ট মেয়েটা ঝড় ভালোবাসে বৃষ্টিও ওর খুব প্রিয় 
ওকে যেন কখনো বাঁধের পাশে ঘর বাঁধতে না হয় ... 
=============================== 

রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০

অনিন্দ্য পাল

                                                 





 সৃজন এই সংখ্যার কবি অনিন্দ্য পাল। 


সাপের খোলস // অনিন্দ্য পাল 
=====================
মুখোসের উপর মুখোস চড়িয়ে 
লুকিয়ে পড়েছি সবাই 
গভীর 
ঘুরন্ত অন্ধকারে!

অন্ধকার কি শব্দহীন? 
না, খিদের শব্দ এখানে 
হিস-হিস...

অন্ধকার কি শর্তহীন ?
তাহলে তার পোষাক নেই কেন 
লজ্জাস্থানে!

অন্ধকার কি লোভহীন ? 
তবে এত মালা কেন গলায় 
সর্বাঙ্গে! 

আসলে আমরা সবাই বিবর্তনের শিকার 
সাপের ছেড়ে ফেলা খোলসের মত পড়ে থাকি 
চুপচাপ, 
ফাঁপা শরীরের খিদে এঁকে রাখি 
বেওয়ারিস খোলসের 
ভিতরপিঠে... 
================================ 
আঁকা মানুষ।  // অনিন্দ্য পাল 
===========
শেষ হয়ে যাওয়া সময়টুকু পেরিয়ে এসেছি সবে 
সব নাম-বেনাম বেরিয়ে গেছে শেষ নিঃশ্বাস হয়ে 
আমার "আমি"র মুখে বারবার এঁকে রাখা সব মুখোশ 
খরার আদরে ফাটাফুটি দোঁয়াশের মত চেয়ে আছে 
আকাশের দিকে, 
ধরো সেখানে ভেসে আছে একটাই মেঘ 
অথবা অভিশাপ 
বৃষ্টি হলে ,ধুয়ে যাবে রঙের পরত 
না হলে , ধূসর গুঁড়ো হয়ে বাতাসে মিশে যাবে 
আঁকা পরিচয় 
স্তরে স্তরে গড়ে তোলা বল্মীক জীবন 

এখন দেখছো এই সব শব যা চেয়ে দেখ 
আকাশের দেওয়ালে ফুটে আছে নাম 
আঁকা মানুষ ...
==================================
 বসন্তের শেষে //অনিন্দ্য পাল 
======!!!!=====
আজ বসন্ত চলে গেছে এই খানিকটা আগে 
চৌকাঠে ডানপা বাড়িয়ে দিয়েছে গ্রীষ্ম 
শীতকাল চলে গেছে বলে কষ্ট হচ্ছে না আর 
সিলিং-এ পাখাটা ঘুরছে, নামছে বাতাস আবার 

বসন্ত চলে গেছে বলে কোকিল ডাকলোনা আর 
অথচ 
কোকিলের ছানাপোনা সব এখনো কাকের বাসায় 
কোকিল কি ভুলে যেতে পারে সন্তানের কথা 
কোকিল কি ভুলে যেতে পারে সেই সব পথ 

আগামী বসন্তে আসতে হবে আবার 
বোকাসোকা কাকের মাতৃস্নেহ লুঠ করতে 
কোকিল ভোলেনা কাকের অপত্যপ্রেম 

তবে কাক ভুলে যায় বারবার বিগত বঞ্চনার ইতিহাস। 
========================= 
অনুরোধ // অনিন্দ্য পাল 
========
আমাকে ফেলে দিও না কাঁটাঝোপে 
ঘুলঘুলি থেকে পড়ে যাওয়া চড়ুই বাসার মত ,
বরং দিও এক সানগ্লাস সূর্যবাঁধ 
গুমটি মনের ফোস্কাতে দিও কিংশুক চুমু 

দহনরাগ জুড়াবো যখন অন্ধকার ঠাসা কোণে 
আলোকে দিওনা ঠিকানা লুকানোর 
কোন নদীজলে দিয়েছি ডুব 
মিশে গেছি কোণ বনে ...

অহল্যাঘুম ভাঙিও না আমার 
জীবনঘড়িতে দিওনা ঘুম ভাঙাবার চাবি 
আটকে দিওনা মোলায়েম শীতের বাতাস 
এ ভাবেই বাঁচি আমি এটুকুই আমার দাবী, 

সময় ফুরিয়ে এলে চলে যাবো ঠিক 
যেমন যেতে হয় হরিণকে মৃগনাভি ছেড়ে 
নাহলে প্রত্নবীজ হয়ে থেকে যাব হাজার বছর, 
যদি আসো তারও পরে, কালের সেচখাল পেরিয়ে 
ছুঁয়ে দেখো প্রথম বেরোনো কচিপাতা দুটো 

চারাগাছে পাবে নরম ভালোবাসা, 
                                            কাঁটার প্রেম এড়িয়ে। 
====================================
ভালোবাসার বাড়ি // অনিন্দ্য পাল 
===============
মোমের শিখার মত লাজুক আগুন
ছড়িয়ে দিয়েছ বুকের গভীরে 
সেখানে অনশনরত একগুঁয়ে ম্যাগমারা তখন 
একে অন্যের ইচ্ছা পানে ব্যস্ত, 
তবু তোমার এই পেলব দহন সয়ে নিতে পারি 
বেতাল জীবনের মত,
আরও পারি মৃত সভ্যতার শৌচাগার হতে 
অথবা অন্ধ দাবানল হয়ে গিলে নিতে পারি 
সবুজ কলমি লতা, 
অথবা যদি তুমি বলো, পুষ্পহীন করে দিতে পারি 
রাধার কুঞ্জবাগান,
শেষ লহমায় ছিনিয়ে আনতে পারি অ্যানুবিস হয়ে 
রতিমগ্ন প্রেমিকযুগল,

কিন্তু এত সব করেও কী পাওয়া যায়, পাওয়া গেছে 
কখনও কোনকালে বেহুলার প্রেম? 
তাই আর আদেশ নয়, নয় কোনো আইন জারি 
এস,লালরডোডেনড্রনের মত ঝরে পড়ি পাথরপাহাড়ে 
ফুলের শব দিয়ে বানাই ভালোবাসার বাড়ি। 
==================≠=========== 
ভালোবাসার বনসাই // অনিন্দ্য পাল 
=========
সেই প্রথম দিন, প্রথম দেখা 
একঝাঁক পায়রা এবং তুমি 
হাতে সোনালী শস্যদানা 
বানভাসি উপত্যকা আমি 

তুমি, আমি এভাবে গড়ায়নি আর দিন 
ক্যালেন্ডার নতুন হয়েছে বারবার 
ঘুমের মধ্যে তুমি লেডি আলাদিন
অর্ধেক দিন বেচে আমার রোজগার 

আমি দানা খুঁজি কবুতর জীবন 
চাঁদপ্রেমে উড়ে গেছ সমুদ্রশহর 
কুয়াশা বাষ্পে চুমুক দেয় তৃষ্ণা সৌরদিন 
পেয়ালায় ঢেলেছি স্মৃতি, রাত্রি উজাগর 
ইতিহাস অতীত কখনো ডাকেনি পিছনে 
তলানিতে ঘোলাটে সুখ, বসত করে মনে 


আমার বাগান জুড়ে আগাছা গুল্ম ঘাস 
তোমার দোলনাটবে বনসাই ভালোবাসার চাষ ...

================================
একফোঁটা সুখের জন্য // অনিন্দ্য পাল 
================
মুষ্টিবদ্ধ সুখ খুঁজে ছিলাম মরিচীকার মত 
বেলেমাটি লেপা মেটে দাওয়ায় 
সেখানে বসত ছিল হলুদ ঝরাপাতার...

নীলচে শিরায় উপভোগ শ্লথগতি 
আপেলশামুক বাসা বাঁধে স্পন্দনঘরে
দু-একফোঁটা সুখেই ভিজবো, ভেবেছিলাম 
মেঘের আদর ভেসে চলে গেল, হঠাৎ মরুঝড়ে 

এত বড় আকাশ এত বৃষ্টি ঝরে 
আমাকে ভেজাবে কে, আমার একলা ঘরে 
ভালোবাসা ফুটে আছে দেখি রাতের জ্যোৎস্নাতলায় 
একফোঁটা সুখ তোমার গন্ধ নিয়ে 
আমাকে উদাস করে ...
============================= 
আবার প্লাবন আসুক, ব-দ্বীপে // অনিন্দ্য পাল 
==≠=================
তোমার আধচেরা ব-দ্বীপে এখন 
অস্তরাগের বিষণ্ণ প্রতিলিপি 
তবে কি এবার দিন ফুরিয়ে এল? 

ঋতুহীন খনিগহ্বর চাঁদ গেলে গোগ্রাসে...

জোনাকিরা এখনও ছড়ায়নি দেহগত আলো 
তুমি কি নিতান্তই অমাবস্যা চেয়েছ, বীতকাম 
প্রতিরাত ভোরে, 

প্লাবন আসবে কবে তোমার ব-দ্বীপে আবার?
আলুনি উর্বরতা আর সুখ দেয়না, শান্তি দেয় 
স্নেহ আর উৎসবে কেটে যায় রাত, অচঞ্চল 
কঠিন বাঁধে কি আটকেছো মোহনার নোনাজল? 

তবু আমি আশাদীপ জ্বেলে রাখি প্রাণপনে 
তোমার পলিপল্বল উঠোনে 
আবার যদি ফিরে আসে সেই সব প্লাবিত উচ্ছ্বাস
থেকে যাবো তবে, এই দ্বীপে,আনাচে-কানাচে 
অথবা বিশুষ্ক হও যদি লবণ বালিয়াড়ি 

ফুরিয়ে যাবো তবে, একান্ত একা আনমনে... 
=============================== 
বন্ধুকে / অনিন্দ্য পাল 
=========
যে ভাবে হারিয়েছিল তোমার উত্তরকাল 
আজ সেই আলুথালু পথে 
যেতে হবে ঐন্দ্রজালিক পদক্ষেপে, 

না কোনো প্রশ্ন নয়, কৌতুহলের ওষ্ঠে রাখ 
ধৈর্যের বাটখারা 
তোমার শত্রু নয় কেউ, তুমিও নও বন্ধু সবার 
ভঙ্গুর পলিথিনে মুড়ে পুরসভার ডাস্টবিনে ফেল
ষড়যন্ত্র আর মিথ্যার মাসকারা

এ অভিশাপ এনেছ কিষ্কিন্ধ্যা থেকে 
বৈরিতা বিদূষক হয়ে শুয়ে আছে তোমার হারেমে 
মনসার সুড়ঙ্গ ভুলে তুমি তুলে নিয়েছ ধনুক
দেবতার লড়াইয়ে বলি হতে হয়, রাবন আর রামে 

সুগ্রীবের ছলনায় বধেছ সহোদর
এখন বদলেছে সব, আগের মত নেই কালের নগর 
তবু তোমাকে বলছি আমি বন্ধু হই তোমার 

তুমিও শত্রু নও, কেউ বন্ধু নয় তোমার! 
====================================
অদ্ভুত কথা // অনিন্দ্য পাল 
=========
ধরবো বলে ছুটেছিলাম একবগ্গা 
সময়ের পিছনে 
নীল লন্ঠন জ্বেলে এগিয়ে ধরেছিল 
অবসৃত আদিম আত্মীয়রা 
আত্মার আলোয় যেটুকু ছিল পূর্ণিমা 
ব্রহ্মাণ্ডের গাছেরা তাও নিয়েছিল শুষে 

তবুও গোড়ালির আঘাতে ভেঙে ফেলে 
সভ্যতার মাইলফলক 
পেরিয়ে এসেছি প্রজন্ম পারের পঞ্চভূতে 
এখানে এখন সমুদ্র সমতল 
গুল্মজাতীয়রা ছেঁটে দেয় বট-অশ্বত্থের ডানা 
হৃৎপিণ্ডের আবহবিকারে জন্মনেয় 
লঘু আর গুরু 
এখানে সবাই স্বাধীন, অথচ প্রশ্ন করতে মানা,

মেরুদণ্ড বন্ধক রেখে সিংহাসনে রাখা হয় চুমু 
উচ্চরক্তচাপে ভোগে তরুন সময় 
খোলাবাজার থেকে কিনে নেয় বোতলের লোভ 

কফিনে ঘুমিয়ে থাকে মরেও বেঁচে থাকা 
বাস্তু ঘুঘু ... 

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

অনিন্দ্য পাল


হতভাগ্য 
=================

আমায় লিখতে দিল না 
মুখোশ, বেড়াতে দিল না শব্দের বনে 
অসহায় চিৎকার, ভাবতে দিল না গভীর পংক্তি 
অন্যায়ের গুটিপোকা ...

তবু আমাকে অন্তঃসত্ত্বা করে যায় প্রতি যামে 
শতাব্দী পেরিয়ে আসা জোনাকির আলো।
===============================


শিকার 

========
বনের আইন কানুন ভেঙে ভেসে গেছে 
যে কাঁকড়াশিকারি উদ্বাস্তু 
তার তো মৃত্যু হতোই
বনে বাঘের খাবার হয়ে যদি গুমখুন না হত 
তবে মরে যেত পেটের মধ্যে ওত পেতে থাকা 
খিদে জন্তুটার কামড়ে 
দশ -পাঁচ টাকায় জীবন বেচে দিয়ে তাই 
কিনতেই হয় আজন্ম পালন করা 
উদর হিংস্রতার সুখ, 
মৃত্যু দিয়ে আলু-ভাত মেখে মুহূর্ত কয়েক 
সেরে ওঠে জাতীয় অসুখ ...

ফেরার নৌকা ফিরে যায় শেষ ইচ্ছা চোখে নিয়ে 
বনের পাকশালে সুসিদ্ধ হতে থাকে রাজার শিকার 
কাঁকড়ার অভিসম্পাত মিশে যেতে থাকে 
নদীর বিশ্বজনীনতায় ...

এরপর আবারও নৌকো ছাড়ে 
আবারো বস্তা বোঝাই হয় নদীর ফসল 
শুধু নিরুদ্দিষ্টের ছেঁড়া কাপড় আটকে থেকে যায় 
লবনাম্বু ঝোপের কাঁটায়। 
==============================


এসক্যলেটর 
===========
আমরা কেউ কারো হাত ধরে নেই 
সবাই ধরে আছি একটাই রড 
তার আগুপিছু জানিনা, দেখিনি বংশপরিচয় 
শুধু উঠতে চাইছি মেঘ বাড়িটার ছাদে 
একে অন্যকে পিছিয়ে দিয়ে, সঙ্গী লোভ আর ভয় 

এভাবে পৌঁছে গেছি একে একে 
প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় থেকে আসমানী ছাদে 
নীচে যারা আছে আসছে তারাও প্রত্যেকে
এখানে বাড়ছে ভিড়, উষ্ণতা বাড়ছে বাতাসে 
ভেবেছিলাম এটাই শেষ ছাদ, এই অবকাশে 

থামেনি নির্মম সিঁড়ি, চলেছে অবিরাম অকারণ 
আমাদের সময় শেষ ,আরও উপরে তার স্টেশন।

শনিবার, ২২ জুন, ২০১৯

অনিন্দ্য পাল