সিলভিয়া ঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সিলভিয়া ঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সিলভিয়া ঘোষ


(১)

ইস্কুলে গেটের কাছে শিউলি ফুলের গাছ  থেক কটা  শেফালী কোচড়ে ভরে নিতে নিতে রমা, সায়নী কে বলল, গন্ধটাকে সব সময়ের জন্য বন্দি করলাম।

(২)

অঙ্গনাবাড়ির পম্পা   ঢাকের  আওয়াজে হাতে গুণতে থাকে  খিচুড়ি না পাবার দিনের গুলোর কথা! 

(৩)

স্টেশন চত্ত্বরে এই দুমাস  দিনে দুপুরের যে কৃত্রিম ভিড় তৈরী হত, তাতে  কাদের  যে  হাত আছে তা জানতে হলে লেডিস কম্পারমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রিঙ্কুর কোমড়টা এক্ষুণি  অনুসন্ধান করলেই  বোঝা যাবে.......

(৪)

ছেলে মেয়ে গুলোর সারাদিনের অত্যাচার সহ্য করে, দু বেলা খেতে বসার সময় মায়ের কথা মনে পড়ে যায় প্রবাসে থাকা বছর তেরোর৭হ মিঠুর, শুধু দিন গুণছে সে ঢাকে কাঠি কবে পড়বে,  তবে কলকাতাতে মায়ের কাছে যাবে যে........ 


(৫)

শাপলা তুলে আনার সময় প্রতিদিন পদ্মফুলের দিকে নজর চলে যায় আমিনার,  আর কটা দিন,  অষ্টমীতে ঐ ফুল আরো অনেক ফুলের জোগান দেবে সে, তবেই না  একদিন একটু  মুরগীর পালক, তেল,  পেঁয়াজ ,রসুন দিয়ে রগরগে করে খেতে তো পারবে! 

(৬) 

ইস্কুলে যাবার সময় নেই রাণুর,  একবার বৃষ্টি নামলে এতো কষ্টের বানানো লক্ষ্মী প্রেতিমেগুলো গলে একসা হয়ে যাবে, ওদের মাথার উপর ত্রিপল টানাবে কে!  মা একা কতদিক সামাল দেবে , কুমার টুলির এই অন্ধকার গলিতে? 

(৭)

বিশ্বকর্মা পুজো  যাবার পর থেকেই মনের মধ্যে একটা আনন্দ হতে থাকে, বুড়ি,  পটল,  টেঁপি, নেংটিদের। এরপর আর ক' দিন বাদে দুগ্গা পুজো, তখন এক একটা দিন ঐ কি যেন বলে এন জি না কি যেন,  তারা এক এক দিন পেট পুরে খাওয়াবে,  পুরোন জামা দেবে সব হবে কদিন পথ শিশুদের জন্য........ 

(৮)


 রাজু  এবার পুজোর আগেই বোনাস নিয়ে খাবারের দোকানের কাজটা ছেড়ে দেবে,  বড় বড় পুজো মণ্ডপের সামনে রোল সেন্টারে কাজ করবে আর পোসেনজিৎ,  ঋতু,  যীশু,  পরমব্রতদের চোখের সামনে ফিতে কাটতে দেখবে,  একটু গা ঘেঁসে ছেলফী নেবে .......


(৯)


আব্বার চোখে চালসে পড়ে একটা চোখ নষ্ট হয়ে গেছে, এবার শোলার কাজের অর্ডার এসেছে প্রায় দুই ডজন।  আম্মির সাথে রাত জেগে কাজ গুলো সেরে না ফললে টাকা কটা হাতছাড় হয়ে যাবে। সেলিম তাই এবছর,   ক্লাস  নাইনের  পরীক্ষাটা আর দেবে না ঠিক করছে...... 

(১০)

ভ্যানটা কিনে রেখেই বাপটা বুকের রোগে পড়ে আছে,  নীলুই পাঁচ ভাই বোনদের মধ্যে বড় তাই কেলাস ফাইভের পর  বিড়ি খাওয়া আর ভ্যান চালানো শিখে নিয়েছিল বেশ, পুজো আসলে এখন আর  চিন্তা করেনা সে মানুষও যেমন টানতে পারে,  রাত বিরেতে চোরাই মালও এমন কি কাটা লাশও  তো বয়ে নিয়ে যায় শুধু সংসারের জন্যই.........






বুধবার, ১৪ জুন, ২০১৭

সিলভিয়া ঘোষ


চোখের আলোয়


-----একটু জোরে চালাও না রিক্সাটা, গেস্ট হাউজে রাত ১১টার মধ্যে ঢুকতে হবে, বলল লাল্টু।
-------এই তো চালাচ্ছি বাবু, আসলে গরমে শলীলটা বেশ খারাপ ছেল দু দিন,  (কথাবার্তা তে পুরো বহরমপুরের মানুষের ভাষার ছাপ)
------ এখানে কতদিন আছে? রিক্সায় বসা আরেকটি কণ্ঠস্বর  পেল রিক্সা চালক। 
------সাথে সাথে উত্তর আসে চালকের কাছ থেকে-- সে তো জন্ম থেকেই এখানে। 
------রিক্সায় বসা লাল্টু, পল্টু পরস্পরের মুখ চাওয়া- চাই করতে লাগলো। 
------গন্তব্যস্থান আসা মাত্রই রিক্সাওয়ালাকে দেখার জন্য লাফ দিয়ে নামলে দু জনে। 
দেখেই চিনে ফেলেছে ওরা, কি গো রামকৃষ্ণদা আমাদেরকে চিনতে পারছো না? 
-------কে রামকেষ্ট , তারে তো  চিনিনা! আমি রসুল মিঞা। দেন তো টেহা কটা, আজ রাত ভোর রিস্কা টানতি হবে, আজ যে ভরা পূর্ণিমা।  সামনের পূর্ণিমায়...
------  কি?  কি?  বলে সামনের পূর্ণিমায়?দুজনেই বলে।            ওঠে। 
--------না মানে,  টেহাটা দিন তো! 
--------তোমার কি কিছু মনে নেই,রামকৃষ্ণদা, আমাদের কথা,  বহরমপুরের কথা? সেই যে তোমাদের সবাই কে নিয়ে আমরা পাঁচ জন বাস ছেড়ে ছিলাম পুরী যাবো বলে?  সব, সওব কি ভুলে গেলে? কত খুঁজেছি তোমাকে আমরা,  যেদিন তুমি হারিয়ে গেলে সেদিন থেকে। বৌদি, বাচ্চাগুলো কত কান্নাকাটি করেছে, তুমি জানো? বলল নান্টু। 
-------মশাই টেহা টা দিবেন না চলি যাবো?
------অনেকটা হতভম্ব হয়েই টাকাটা দিল পল্টু।
---------টাকা নিয়ে,  রিক্সাটাকে ফিরিতে নিয়ে যেতে যেতে রামকৃষ্ণ  মনে মনে বলে,  সব মনে পড়ে রে লাল্টু। আমি চলে গেলে,  সেদিন সমুদ্দুরের থেকে ভেসে ওঠা আধমরা,  নীলোফারের বাবা  কে হবে? অন্ধ বলে যে কেউ যে ওর সুযোগ নিতি পারে, আগে যে, সে এই পাশবিক অত্যাচারেই অন্ধ হয়ে গেছে। তীর্থ ক্ষেত্রেও মানুষের পারে সীমা নেই। তাই তো ঐ নিষ্পাপ পেরানটাকে বাঁচাতে আমি ই না হয় , ধর্ম খোয়ালাম! 
ডাঃ তো বলিছেন, সামনের হপ্তায়, একটা মরা মানসের চোখ বসানো যাবে নীলুর চোখে। আজকের দিনটা একটু বেশী খাটি। টেহার দরকার যে বড্ড। আমি জানি,  মিনতি আমারে ছাড়া নেতাই কে নিয়ে সাথে ঘর কন্যা করছে, শুধু  বাবলুটার জন্য মন ছ্যাচায়! 
পূর্ণিমার আলো পড়ে গোপালপুরের সমুদ্র সৈকত চিকচিক  করতে থাকে,  তার ঢেউ  বোধহয় রামকৃষ্ণের চোখের এসে লেগেছে। তবুও  নাটুকে ছাড়া যাবে না, সে  যে,  তার ভরসায় গত স্মৃতি ভুলে বেঁচে আছে।

*********** **************