পৌলমী ভট্টাচার্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পৌলমী ভট্টাচার্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

পৌলমী ভট্টাচার্য

 


সূক্ষ্ম দ্বীপ, আমি এবং নান্দনিক ভূগোল



আদবকায়দা মেনে ঘর বাঁধা যায় না ... 

এমনটাই স্বপ্ন জড়ানো দ্বীপে গচ্ছিত থাকে বিস্তর নুড়ি সংলাপ ।

'ভালবাসা বলে কিছু নেই?'

প্রশ্নহীন সাম্রাজ্যে অজানা চিহ্ন নিষিদ্ধ ; -- বক্তব্য আত্মিক যুবরাজের।

তার পকেট ভর্তি উদভ্রান্ত বর্ষা,
চুলে চুলে হাঁটে পদাতিক সন্ন্যাস।
বালিকা-বেভুল বেশে মেঠোচারিণীর কুসুম কুসুম প্রলাপ যেন সারং ঘরানায় দৈবাৎ আলোর বিপর্যয়;
তবু, অশিক্ষিত এবং উড়নচণ্ডী নুনের ভিড়ে মিশে যায় কবি পরিচিতি ।
এখানে তেমন কানপাতা দায় হয় নি আজও অথচ মৌমাছিদের সংসারে সাজানো আছে সবুজ বনবিবি।
বাহানায় তুমি দূরে যাচ্ছ সমুদ্দুর...
নির্জনতায় হাসে সূক্ষ্ম দ্বীপ ,
                                  আমি এবং
                           নান্দনিক ভূগোল।

স্বাধীন চেতনার বশে ভালোবেসো না যেখানে নাক দুল হাতিয়ে নেবে শ্মশান-বিভূতি।




শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

পৌলমী ভট্টাচার্য

                             


 


১]           অলিভ গ্রিন করিডোর

অলিভ গ্রিন করিডোর
দুপুর নামলে উত্তাপ হয়
ভিঞ্চি সাহেবের হাতের তেলো
মশগুল হয় বাহারি রং  -

ক্যানভাসের বুকে নামে রোমাঞ্চকর প্রবাস
গণিত সূত্র মেপে তুলি টানলে
ভিজে কাজল...

মন্দাক্রান্তা ছন্দর বেবাক অবয়ব  -

বিদ্যাপতির পুরুষ পরীক্ষা
মাদল বাজায় কাজল কোণে
গ্রিন করিডোর মাতে মাতাল স্যাক্সোফোন
মোনালিসার ঠোঁটের ইন্টালেকচুয়াল এসথেটিক্স
আদ্রতা পৌঁছায় দুপুরের সেলসিয়াসের পাদদেশে
ইমপ্যাক্ট ফরম্যালিটি জারি হয়
অলিভ করিডোরের উত্তর সীমান্তে   ।


২]                পিচ্ছিল ডাক্ট বেয়ে

অক্সিন চক্কোর কাটে এরাবিডোসিস থালিয়ানায়
শিকড় রস খোঁজে  -
নির্বাচন মহলে টহল দেয় গুপ্ত মনের চোরা শিকড়
কবিতার শরীর থেকে খুলে পড়ে
রেশম সুতোর অভিব্যক্তি ,
বে-আব্রু মুখ গুলো চকচকে...

স্টেরয়েড জৈব রাসায়নিক পদার্থ গড়িয়ে যায়
পিচ্ছিল ডাক্ট বেয়ে...
ফুৎকার তোলে সেকেন্ড ম্যাসেঞ্জার
লাল কোষের ছিদ্র ফুঁড়ে
বারবণিতার উদ্দাম ফাইন আর্টস  -

পেপটাইড বিবস্ত্র প্রান্তরের কৌণিক দূরত্ব মাপে
বেহিসেবি,
স্বল্প বসনে তামাশা করে ব্রাসিনোস্টেরয়েড
ফুর্তি মাঠে শয্যা পাতে  -
ফলিকল উদ্দীপিত হলে
কলম এবং অক্ষরের সহবাস চলে বিয়াড়ি ছন্দে
ডিনোমিনেটর রসদ খোঁজে   ।।

           



সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

পৌলমী ভট্টাচার্য

                                                                  



১)


** মনজিল**


মেঘের পালঙ্কে জেগে থাকা

নাজুক নক্ষত্র

যেন বিদ্যাপতির বর্ষা মেখে গায়ে

প্রতিফলিত আকাশ চাদরে ।

বাদী , সম্বাদী লাগিয়েও

মন ভরে না তার

পোয়াতি জোছনায় বিবাদী ভরে ঘরে

মেঘ ফুঁড়ে এল স্ফটিক বিবাদী ।

কিছু গমকে , আয়েশি গিটকিরিতে

বর্ষা নামল সারেঙ্গীর ছড় ছুঁয়ে

আখতারি বাঈ এর পরদেশিয়া

আঁতর নেয়ে উদাসীন -

ভিগি রাতে সে হবে পাগল- প্রেমিক

নক্ষত্র ঘুমায় পশমিনার আড়ালে

জমাট আঁধারে জড়িয়ে আছে

একাকিনী রাধা

তাঁর কাজল- কালো চুল এলিয়ে

বর্ষা ঘণায় আষাঢ়ের নীরব আঁখিতে ।।


*************************************


২) ** নারীর সাজে**


এক বস্তা ব্যথা নিয়ে নদীর কাছে ছুটে গেলাম

সেও দেখি আমারই মতন শোক- যাতনায় ডুবে গিয়ে

রুক্ষ-বুকে, শুষ্ক-মুখে শুয়ে আছে

ধুলো পিঠে আলের ধারে


আমায় দেখে পিছন মুড়ে নির্বিকারে শয্যা পাতে ।

ওর ব্যথাটা আমার বুকে কেমন জানি বাজ হানল -

একি ! তোমার মলিন আধার শুষ্ক কেন ?

তুমিও কি আমারই মতো ...


বলেই হঠাৎ নদী এক পলকে ঊর্ধ্বপানে চোখ মেলল ।


আমি তো দেখেই অবাক !

মেঘের জঠর ভেদ করে

কালীদাসের মেঘদুতম্ উঁকি মারছে -

পলক আমার কেড়ে নিয়ে নদী বলে

চলতো এবার এক ছুট দিই নিজের মতো

ততক্ষণে আদ্র ব্যথা শুষে নিয়ে

এক নিমেষে বর্ষা আমার সঙ্গী হয়েছে ।

গর্ভবতী ধানের ওপর আমায় ফেলে

চিবুক ছুঁইয়ে, কানের দ্বারে আলতো

বারি-বিন্দু দিয়ে গেল ; ভালোবাসি ,ভালোবাসি ...

এই প্রথম ওর শরীরে আমি মিশে

সিক্ত নারীর আখ্যা পেলাম ।

ভ্রান্ত ধারণায় বন্দি ছিলাম নারী সাজার প্রথম ধাপে

নতুন শিশুর অবয়বে , বর্ষ শেষের অনুভবে

বর্ষা যেন ঘিরেছে আমায়

ওর ছোঁয়াতেই চোখ মুদলাম

স্পর্শ সুখের উল্লাসেতে -

যৌবনের দৌড়গোড়াতে পোঁছে গিয়ে

আমার সুখের দোসর হয়ে ,

আমার তরী বাইয়ে দিল এক উজানে ।

পরম্পরা জিইয়ে বাদল

আমার শরীর-ঘরে শীতল পাটি বিছিয়ে নিয়ে

যাত্রা পথে তৃপ্ত হল -

সে আস্বাদে আমার প্রথম নারী হওয়া ।।


*********************************************


** আচমকা বারিষ **


তোমার আঙুল ছুঁলে বারিষ নামে

মেঘের শরীর ছেড়ে

ভেজা বন্দিশে ভিজল শরীর

সকাল – সন্ধিক্ষণে ।

পেঁজা তুলো আমায় ছুঁলে

মন্দ তুই পুরুষ

ভিজে আকাশে চাঁদ নেয়েছে

উধাও কালপুরুষ ।

পাখপাখালি আমার বুকে

আকাশ হলে কালো

সোহাগ মাখা কূজন আবেগে

বারিষ আচমকা নামল ।

সকাল জাগে আমার মতো

শবরীর প্রতীক্ষায়

অ্যাহেসাস - এ বাষ্প বিন্দু

গোপন চিলে কোঠায় ।।


শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

পৌলমী ভট্টাচার্য

গল্প_অভিমান 

    
      খুব সাদামাটা জীবন ধারণের ছকে নিজেকে জড়ানো এই ভদ্রলোক, পেশায়  সঙ্গীতের শিক্ষক। সঙ্গীত জগতে নাম ডাকের অভাব ছিল না। চাকরি ছেড়ে শখ কেই বেছেছিলেন পেশা হিসেবে। বেখেয়াল মানুষ টার মাথায় অপর একটা জীবনের ভার এসে পড়ে হঠাৎ ই।পরিবার রক্ষার্থে মরিয়া হয়ে ওঠা তখন থেকে। নিশ্চিন্ত বাঁচাতে পড়ল ছেদ। পরিবারের সাথে স্বতস্ফূর্ত ভাবে গলা মেলাতে ভয় পেত বোকা লোক টা ; ভয় পেত নিজের গুণ কে মেলে ধরতে বাইরের জগতে।বয়সের কাছে এক সময় হার স্বীকার করতে গিয়ে স্তিমিত হয়ে আসে কণ্ঠ। এই অবরোধ হ'ল তাঁর জীবনে কাল।
              আকাশের তলায় কত প্রদীপ জ্বলে উঠেছে। ঘরে ঘরে দীপান্বিতার শুভ সূচনা।নিজে হাতে সকালেই পুজো করেছিলেন সেদিন, মন ভালো নেই তাঁর। শরীর অবাধ্যতা করছে। 
 -----  বাঁচতে ইচ্ছে করলেও লড়াই করতে ইচ্ছে করে না আর,,,
 ------  কেন এসব কথা বাবা? 
           দীর্ঘশ্বাস প্রসারিত করে হাহুতাশের সুর ছিল ভদ্রলোকের গলায়। সম্ভবত মানুষ টা জীবনের ওপর লকডাউন শুরু করতে চেয়েছিলেন। স্ত্রী, সন্তানের তাগিদে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন হাসপাতাল থেকে, পারেন নি।হৃদযন্র লকডাউন ডেকেছিল। বোকা অভিমানী মেয়ে ওর বাবার রোদে আছড়ানো নিথর দেহ কে আগলাতে চেয়েছিল আপ্রাণ ভাবে, কেউ আমল দেয়নি ; ডেডবডি কিনা। জোর করে ওর থেকে বাবা কে কেড়ে নিয়েছিল পৌষ মাস। বাবার অসম্ভব পছন্দের ছিল রকমারি পারফিউম ,সেদিন ও সুগন্ধি ধূপ, আতর, রজনীগন্ধায় সুসজ্জিত হয়েছিল। 

---- বাবা বলেছিল, দেখবি আমি রাজার মতো মরবো, তোদের কষ্ট দেব না। 
ঠিকই বলতো বোকা লোক টা। বোকা লোক টার মেয়ে ও একই গোত্রের। অভিমানের চাদরে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিল আজন্ম কাল। শব্দকোষে এ শব্দের ইংরেজি অনুবাদ হয় না, তাতে কি? রবিঠাকুর রচিত ইংরেজি শব্দগুলো আছে না  ! 
--- "টরচারড্ এক্সপ্রেশন অফ উনডেড ভ্যানিটি " ,,,, 
মনকাড়া শব্দগুলো কে নিয়ে খেলা করত মেয়ে টা কেবল। কী দুর্ভাগ্য! এখানে ও মেয়েটার অভিমানের লকডাউন শুরু হয়েছিল বাবার মৃত্যুর সময় থেকে। সময় যেতে থাকা ঘড়িটার মৃত্যু ঘটেছিল; লকডাউন হয়েছিল ,শেষ হয় নি এখনো। একটা জীবনে কত বিষয় ভিত্তিক লকডাউন আসে, তাই না  ?