রঞ্জনা বসু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রঞ্জনা বসু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

রঞ্জনা বসু

       


(১) 
মেঘ পাহাড়ের কোলে
                      

মেঘের গায়ে ভাসতে ভাসতে
দেখতে পেলাম পাহাড়ের চূড়া,
পাহাড় ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে এক মেঘবালিকা।

তারই কাছে পেয়ে গেলাম ঝর্নার গান
রোদের ঝিলিক আর শান্ত বাতাস,
সমস্ত প্রেম জড়ো করে রাখি
বলি, আমি আছি...

অনেক দূরের থেকে
সে বলল, হৃদয়ে জড়িয়ে রাখো
স্থির চোখ মেলে দিয়ে শান্ত হয়ে দেখো।


(২) 
 স্বাধীনতা দিন
      

অভিজ্ঞতায় বৃদ্ধ মানুষটি
তেরঙ্গা পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে
দেখছে আর ভাবছে,
নিজে নিজেই কাঁপছে!

তার ভাবনার গভীরে শুধু শহিদের
স্মৃতি, উদার আকাশে রাখে চোখ
মাটির বুকে থাকে অবনত।

সেখানে ফুটে ওঠে দেশ মাতৃকার ছবি
ঝরা পাতায় পড়ে আছে লক্ষ কোটি 
সংগ্ৰামীর জীবন কাহিনী।

(৩)
 বন্ধু
       

এ পথে যেতে যেতে ফিরে আসার গান শুনি
অপরিচিতের মুখ চিনে নিই, সুখচরে মাথা তোলে আত্মীয় গাছ
বন্ধু আছে বলে এ মাটির বুকে আমরা ভালো আছি।
সব জীবনই আদতে বাঁচার কথা বলে, বন্ধুর কাছে না পৌঁছুলে
জীবনের মাঠ জুড়ে খেলা হয় না। তাইতো বন্ধুতার এত প্রগাঢ় টান
মন বলে ওরে জীবন, আর কটা দিন সুখে বেঁচে থাক।

নদী নালা গাছপালা, পাহাড়ের চূড়া
এত রূপ রস গন্ধ বাতাসের ছোঁয়া, কখনও আলগা হয় না
ভালোবাসার বন্ধনে অটুট থাকে,হাতখানি ধরা থাকে বন্ধুর হাতে।

সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

রঞ্জনা বসু

                                  



ফিরে আসা

 

যত দূরেই ভাবছো যাবে
ফিরে আসতে হবে বারবার
যেভাবে জোয়ার আসে
যেমন পাখিরা ফেরে সন্ধ্যায় নীড়ে।

মানুষেরও সেই আশা
যত্নে সাজিয়ে রাখে সুখ ভালোবাসা,
আধখোলা বইয়ের পাতা, ডেকে নেয় ঘরে
দিন মাস বছরের চেনা অঙ্গিকারে।

আশ্বীনের ফসলে ক্ষেত ভরে ওঠে
রুক্ষ মাটিতে শ্রমে ফসল ফলায়
মানুষই তো জীবন ভালোবাসে
প্রয়ানের ভাবনায় বড় ভয় পায়।



শিরোনামঃ দহে নাতো কিছু
কলমে, রঞ্জনা বসু

তোমার উত্তপ্ত ঠোঁটে
সমস্ত লজ্জারা ঢাকা পড়ে গেল---

ভালোবাসার রঙে লাগলো আগুন উৎসব

যখন তুমি ভুলে গেলে সব
কি যেন হারিয়ে গেল সমুখ থেকে।

সেইমাত্র অনিষ্টের ভীষন লজ্জায়
অসহ্য কাদায় ডুবে যেতে যেতে

প্রেম হল নষ্ট চাঁদ, কলঙ্ক বুকে।



শিরোনামঃ বহু দিনের চেনা
কলমে, রঞ্জনা বসু

সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে...

সুর যেন ছুঁয়ে আছে আজও
পায়ে পায়ে ফেলে আসা পথে
ভালোবাসার চিরচেনা সেই সে শপথে।

এখন চুলের সাদা ভাঁজে
বয়স এসেছে চুপিসারে

ভালোবাসা আজও সেই নাম ধরে ডাকে।



শিরোনামঃ বৃক্ষ তুমি কার
কলমে, রঞ্জনা বসু

ভূমি গর্ভ থেকে
প্রস্ফুটিত হল বীজ সূর্যের সাথে
আলোকে হয়েছে স্নাত,মন্ত্রমুগ্ধ ধরণীর বুকে।

বৃক্ষের সবুজ শাখা আনবে প্রভাত
এলোমেলো উড়ে এসে বসবে পাখিরা
মাথা তুলে বাঁচে আদি প্রাণ
মেলে দেয় ছায়া।

চির বিথী অক্ষয় হোক
সবুজ মায়ার সুখে
মুছে যাবে মানুষের শোক।

রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

রঞ্জনা বসু


কবিতা -- মা


শিউলি শিশিরে আগমনী গানে 
হাসি, আলো নিয়ে উমা আসে ঘরে 
খুশির দোলায় দোলা ।
আঁধার মাটিতে উৎসব দ্বারে 
প্রাণের প্রদীপ জ্বালা ।

জন্মদাত্রী মা যে আমার 
আলপনা আঁকে সুখে, 
দুই মায়ের ই মুখটি দেখি 
নয়ন দুটি মেলে ।

স্নেহের আঁচলে মুখ রেখে দেখি 
জড়িয়ে রয়েছে মা, 
আঘাত পেয়ে কাতর হলেই 
আগলে রেখেছে মা ।

শব্দে , স্পর্শে, চুলের গন্ধে 
ছড়িয়ে রয়েছে মা, 
ভালোবাসার একটি সিঁড়ি 
সামনে ধরেছে মা ।

এগিয়ে যাচ্ছি ধাপে ধাপে 
যখন আকাশ ছুঁতে, 
মাটির ওপর বসে মা যে 
পথ টি চেয়ে আছে ।

দেখতে পাইনি সব 
ব্যস্ত আমি , সময় দিচ্ছি সবাইকে 
মায়ের জন্য সময় বড়ো কম
মা, তখন ঠাকুর ঘরে বসে 
প্রার্থনা করে বাছাদের ভাল হোক ।

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

রঞ্জনা বসু



বৈশাখ মাসের রোদে গা পুড়িয়ে নাজিমা আলপথ ধরে হাঁটছে ।চারাগাছ বুকে নিয়ে পড়ে আছে 
বিশাল প্রান্তর । কয়েক মাস বাদেই ফসলে ভরে উঠবে মাঠ।
নাজিমারও এখন ভরা মাস।
ভারী শরীরটা টেনে নিয়ে চলেছে ।
তাড়াতাড়ি পা চালাতে কষ্ট হয় ।

আরও কিছু পথ গেলে তবে পৌছাতে পারবে । বাড়ির কথা মনে হতেই নাজিমার বুকের ধরপরানি বাড়ে। এলোমেলো পা চালাতে গিয়ে মুথো ঘাসের খোঁচা 
খেয়ে কাতরায় । তেষ্টায় গলা শুকিয়ে কাঠ ।

নাজিমা আকাশের দিকে মুখ তুলে চায় । মনে মনে ভাবে 
আজ দেড়মাস হয়ে গেল মজিদের কোন খবর নেই ।
ছ’মাস আগে গাঁয়ের আর পাঁচজনের সাথে সুরাট গেল কাজের তাগিদে । ঘরে বসে সংসার চলেনা, শুনেছে ওখানে রোজগার ভাল । পোয়াতি বউকে রেখে মন চায়নি যেতে । কিন্তু টাকার দরকার । রোজগার না থাকলে খাবে কি?
এদিকে কতদিন যাবৎ করোনা আতঙ্কে লকডাউন হয়ে পড়ে আছে দেশ । সব যেন এলোমেলো হয়ে গেছে ।
দুদিন আগে নিতাইয়ের বৌটাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে পারেনি ।
বাড়ি ফিরে এসেছে ।
এইসব কথা মনে হতেই নাজিমার চোখ ছল ছল করে ওঠে ।কখন বাড়ির উঠোনে পা রেখেছে খেয়াল করেনি ।

মেয়েকে দেখে আমিরুন বিবি আনন্দে আপ্লুত হয়ে নাজিমার মুখে গালে চুমু খেতে খেতে বলে ভালো করছো, আগে আগে আইয়া পড়ছো । চিন্তার কিছু নাই, আমি তো আছি ।

কপালের চুল সরাতে সরাতে নাজিমা ভাবে, আমার আম্মুর হাতে কত শিশুর জন্ম হল ।তারা সবাই হেসে খেলে বড়ো হলো ।যদিও আজকাল সবাই হাসপাতালেই যায় ।নাজিমা ওর ক্লান্ত শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দেয় ।
আমিরুন বিবি বুঝতে পারে হাতে বেশি সময় নেই । সদরে যেতে হলে একটা গাড়ি দরকার 
হাজার চেষ্টা করেও সম্ভব হয় না ।
সেই রাতেই এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্মদেয় নাজিমা। আমিরুন বিবি নাতনির নাম রাখে করুনা ।