শ্রীলেখা মুখার্জ্জী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শ্রীলেখা মুখার্জ্জী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

শ্রীলেখা মুখার্জ্জী

 



আফসোস

উদযাপনের তেমন কিছুই নাই
হাতের মুঠোয় প্রাত্যহিকীর ভোর
পেলব ঘাসে আরাম খোঁজাটাই
আগল খুলে উদোম হাওয়ার জোর

পূরবৈয়াঁয় জুঁইলতাটির দোল
থমকে গেছে দিন পেরিয়ে রাত
ফুল ঝরিয়ে বিষাদমগ্ন কোল
নিমগ্নতায় গভীর গিরিখাত

বর্ষা ছিল নিবিড় ব্রীড়া স্নান
বর্ষাতিতে মুখচোরা সেই তাপ
ছিল মুখর বাদল দিনের গান
মিইয়ে যেত ক্যাপুচিনোর কাপ

এখন কেবল রাত মোহনায় দিন
ঋতুরা সব রেলিং ছুঁয়ে চুপ
মেঘ যে এখন গল্প কথা হীন
ঝরার নেশায় জলফোঁটা টুপটুপ

বারান্দাতে অস্তগামী রোদ
দীঘল ছায়ার মর্মে পিছুটান
কী জানি কোন ধার হলো না শোধ
সব খুইয়ে বৃথাই মাপি ধান

রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

শ্রীলেখা মুখার্জ্জী

                            




(১)

রাগাশ্রয়ী
————

আমার ভোরবেলাটুকু তোমায় দিলাম…

তুমি ইয়েমেনের সুর আর ঝংকারে
তাকে ইমনে সাজিও
সন্ধ্যা নিবিড়ে খানিক কল্যাণ লেপে দিও
তার জ্যোৎস্না ধোয়া কপালে…

ঝিলের জলে ঝিলমিল বিকেলের ছায়া,
ইদানীং গেঁথে রাখি দিলরুবার মিহি তারে

নিজের ইচ্ছেমত সুর তুলি অন্ধকারে
নৈঃশব্দ্যের অন্তরালে,ভাবনার নরম আলোয়

শুদ্ধ বেহাগে যদি তুমি নাই আসো,
খাম্বাজে পা ফেলো যত্নের মসৃণ ধৈবতে

ভোরটুকু নেবে তো,ভৈরবীর কোমল ঋষভে !

ছুঁয়ে থেকো সারাবেলা,
আমার একলা দিনের ঠুমরী নয়তো গজল হয়ে—

(২)

ষোলোআনাই চাই
————————

মেঘ মরসুমে ভিজতে গেলে দ্বিধা
তুই ভাবছিস মনগড়া অসুবিধা !

বৃষ্টি ছোঁয়ার আবেশে পাই তোকে
আলিঙ্গনের নিবিড় স্পর্শালোকে ;

মেঘ ডিঙোনো ভিনদেশী এক হাওয়ায়
জল ছেঁচে নিই ছোঁয়াচে গা সওয়ায়

তুই কি তখন বিদেশিনী ভোরে
বালিশ ভেজাস মনখারাপের তোড়ে..…

ছাদ ভাসানো টাপুর টুপুর ফোঁটা
স্পর্শমেদুর মনে শিউরে ওঠা

বৃষ্টি-আদর ছোঁয়ায় দোলে বকুল
ভাবনা আমার তোর ছোঁয়াতেই অকূল ;

শতেক দ্বিধা ,ভিজতে চাওয়ার মাসে
আনমনা মন , উদ্বেল তোর সুবাসে…

মনগড়া নয় সত্যি পুরোটাই
স্পর্শে তোকে ষোলআনাই চাই—

(৩)

উৎসব
———-

আশ্বিনের আকাশ এখন শারদলগ্না
রোদ্দুরে উৎসবের রোশনাই

ভোরের শিশিরস্নাত অপরাজিতার
আত্মনিবেদনের স্তোত্র শুনতে শুনতে
আমি নৈবেদ্য সাজাই ;

সাজিতে ঝরা শিউলির কাব্য
মালা হবার অপেক্ষায়…

অপেক্ষার হাত ধরে পিছু হাঁটি
নোনা পেছল রাস্তায় ;

শিউলি আজও ফোটে, ঝরার জন্য

সেদিনও ফুটত
তবে ঝরাটুকু ছিল ভরপুর প্রাপ্তি
এক মধুময় প্রতীক্ষা—

রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

শ্রীলেখা মুখার্জ্জী



(১)
বাঁধ ভেঙে দাও
—————-
সদ্য শীতে, লেপ কম্বল রোদে দেওয়া
কতটা নিপুণ, পরিপাটি হয়

মা তুমি জানো এই কারুকাজ
পশমের গোলার মতো নিজে কে ফুরিয়ে
সংসারে নক্শা তোলার কৌশল

পঞ্চব্যঞ্জনে পরিতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে
ভাতঘুমে নিঃঝুম রান্নাঘর ,
কালিমাখা দেয়াল সাক্ষী ,তোমার দুমুঠো ভাতের
পরিশ্রান্ত গল্প… অভিযোগহীন আজও

মানিয়ে নেওয়ার সংবিধান তুমি গুলে খেয়েছো মা !

তোমার ইছামতী শুকিয়ে গেলো
সংসারের বিধানে… সবকিছু যে তোমায় মানায় না

আর কতোদিন মা !
কতোদিন নিজস্ব ভালো লাগাগুলোর
ফসিল বানিয়ে রাখবে…

এখন পড়ন্তবেলায় ছিনিয়ে নাও তোমার নিজস্বতা

মা নিয়ে নাও তোমার একবুক ইছামতী
যা এতদিন আটকে রেখেছে সংসার… নিষেধের বাঁধে
,
২)

আদরের আশ্রয়
———————
খুচরো থাকতো বাঁধা আঁচলের খুঁটে
খরচ বাঁচিয়ে কিছু সংসারী গল্প
হাতপাতা আবদার নিত চেটেপুটে
যদিও চাহিদা ছিল নিতান্তই অল্প

অভাবের ছায়া তুমি রাখতে আড়ালে
গিলে নিতে কৌশলে না পাবার দুঃখ
লক্ষ্মীর ঝাঁপি জানে তুমি হাত বাড়ালে
ছোঁয়াচে  সে মোহরের ,বোধটাই সুক্ষ্ম

তোমার পোষ্য ছিল ,জিন না আলাদিন
চুরমুর হজমির আনা পয়সারা !
ম্যাজিক লাঠিতে তুমি করতে রঙীন
সম্বল কি ছিল ! শৈশবটুকু ছাড়া !

হাক্লান্ত ঘরে ফিরে আদরের আশ্রয়
সে উপচানো গন্ধের  মা মা সুখটান
পোড়োবাড়ি ধ্বংসের স্তুপ আজ ভয়
হেরো রাত খোঁজে ঘুমপাড়ানির গান

৩)
পরমান্ন
———
বসন্ত এলেই আমি পায়েসের গন্ধ পাই

জানলায় মা এসে দাঁড়ায়…

আয়ুরেখা , শেষ সীমার দিকে
এগিয়ে যায় কিছু টা ,
দমকা হাওয়ায় কাঁপতে থাকে প্রদীপের শিখা

মা আসবে বলে,
ঘষে মেজে চকচকে করি পেতলের পিলসুজ ;

আকাশে ফাগুনী পূর্ণিমার চাঁদ উঠলে,
মা আসে…
হাতের বাটিতে সাদা পরমান্ন

চাঁদের আলো পিছলে যায়

কেঁপে ওঠা প্রদীপের শিখা
আঁচলে আড়াল করে মা…

আমি শৈশবের ফানুসে ভেসে ভেসে
আবদারের আশ্রয়ের চৌকাঠ পেরোই

পায়েসের গন্ধ নিই বুকভরে…


রবিবার, ২৩ জুন, ২০১৯

শ্রীলেখা মুখার্জ্জী

মুক্তগদ্য

একলা আকাশ /
-----------------------------
জানি ,অভ্যেসগুলো ছড়িয়ে আছে ভাবনার ভাঁজে ভাঁজে। বহুদিন ধরে হেঁটে চলা পাশাপাশি দিন ,আজ একাকীত্ব ছায়ার আলোআঁধারি তে কিংকর্তব্যবিমুঢ়। অভ্যেসের রোঁয়াগুলো ঝেড়ে ফেলে দিতে গিয়ে গুমরে উঠছে নোনা ঢেউ স্রোত। এতদিনের ভালোবাসা বাসি কি ছুঃঁমন্তরে অতীত হতে পারে ? 
বৃষ্টির রাত , বারান্দার চেনা কোণ ,গা ঘেঁষাঘেঁষি দুটো চেয়ারে গুলাম আলি ‘চুপকে চুপকে রাতদিন’ ভুলে যাবো বললেই তো আর ভোলা যায় না… যে কোনো বাহানায় কান্নারঙের তোড়ে ভাসে। আর জানলায় উঁকি দেওয়া পাহাড়ের খাঁজে ডুবে যাওয়া সূর্য্যের আলোলিপির স্বাদ নিতে নিতে রবিবারের বিকেল… কফি মগে আয়েশী চুমুক , ঠোঁট থেকে মুছে যায় নি এখনও !!

তবুও আমি চেষ্টা করছি মেঘলা ছুঁয়ে ভালো থাকার। এখন থেকে হয়তো  আমার অ-সুখের মাস ! তবুও আমি বাঁচবো ডুবসাঁতারের কৌশল হস্তগত করে। আমি গড়ে নেবো আমার আকাশ ,অপরাজিতার নীল ঢেলে। ঝড়ে উড়ে যাওয়া খড়কুটো দিয়ে এবার বুনবো কেবল আমার একলা বাসা । আমার নিভৃতি নিরিবিলির স্বাদে পরিপূর্ণ একটি ভালোর বাসা----

বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯

শ্রীলেখা মুখার্জ্জী


লক্ষ্মীমন্ত /
—————————————
হেমন্তসূর্যের গড়িমসি ভোরে আমি জনলা ঘেঁসে দাঁড়াই। তখনও হাল্কা ঘুমের স্বপ্নসুখে আমার শহর। পাহাড়ের ওপর কুয়াশা আস্তরণের ভাঁজে ভাঁজে নাছোড়বান্দা রাত লেগে থাকে। শুধু আমি স্বপ্নের সন্ধানে জানলার শার্সি খুলে শিশিরের শব্দ শুনি। বন্ধ চোখের পাতায় আজকাল স্বপ্নরা আসে না। 
স্মৃতিরা ঘুমের চৌকাঠে আসনপিঁড়ি হয়ে বসে গপ্পো জোড়ে। মেয়েবেলার ছাদে আকাশপ্রদীপের আলো এসে পড়ে। হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জন হেঁটে যায় একলা ছায়াপথ ধরে  নির্লিপ্ত ভঙ্গীমায়। বুকের ভেতর শূন্যতার খনিতে হীরক কুচির মতো মাঝেমাঝে ঝিলিক মারে অতীত। 
যেন পূর্বজন্মের আমি দীপান্বিতা লক্ষ্মী পূজোর আল্পনা দিই উঠোন জুড়ে। জলচৌকি তে লক্ষ্মীর পা আঁকি। জেঠিমা বলেন লক্ষ্মীমন্ত মেয়ে।কুলো বাজিয়ে অলক্ষ্মী বিদেয় হলেও সবার অলক্ষ্যে তিনি কিন্তু আমারই আঁচলধরা…
দূরে কোথাও বেড়ালের কান্নায় স্মৃতিরা ঝাপসা হয়ে আসে। ভেসে আসা আজানের একাকীত্ব আঁকড়ে মনে পড়ে যায় আজ দীপাবলী। অলক্ষ্মীকে আঁচলে বেঁধে প্রদীপের সলতে পাকাতে ব্যস্ত হয়ে যাই। আমি যে লক্ষ্মীমন্ত…

সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮

শ্রীলেখা মুখার্জ্জী


১)
পদক্ষেপ /
———————————-
সমুদ্রের মায়াবী হাতছানি তে
থমকে ছিলো অতল…
পায়ে পায়ে ছুঁয়েছি প্রত্যাশার ফেনা ;

সাঁতার জানি না আমি
তবুও গোড়ালি ছাড়িয়ে সমর্পন
অতলান্ত নীলে

ডুবে যেতে পারি
একথা বলেছিলো,
পায়ের নীচের সরে যাওয়া ভিজে বালুকণা…

সর্বনাশা মোহ
গ্রাস করার শেষ মুহূর্তে
একুশের নোঙর ফেলা প্রেমের তটে
আবার ফেরালি তুই ;

এখন প্রত্যাশার রাজপথে হারিয়ে যাবার আগেই
আমি বাস্তবের গলিতে বাঁক নিই—
,
২)
স্মৃতির ক্যানভাস/ শ্রীলেখা মুখার্জ্জী
------------------------------------
বৈশাখী এক দুপুর জুড়ে চিলছাদে বুনোশিস
জলপাই রঙ দেয়াল জোড়া সে বন
ঝড় দোলানো দস্যি হাওয়ায় হয়তো উনিশ-বিশ
দুই তরফেই এগিয়েছিল কখন ;

সবুজ তখন অবুঝ তুলির টান
মনের গোপন প্রকোষ্ঠতে নরম অভিমান
প্রতীক্ষাতে লাগছিলো রঙ অস্তরাগের পরত
মনে তখন অকালবোধন শরত....

জংলাছাপা শাড়ীর ভাঁজে আদিম বনের সুর
পাঞ্জাবী নীল আকাশও তো অনাবিল
তিরছি নজর তীর বেঁধানো দৃষ্টি ছিলো কাতিল
মেয়েবেলার এক উড়ন্ত গাঙচিল---
,
৩)
জীবনের সিম্ফনি /শ্রীলেখা মুখার্জ্জী
—————————————
মেয়েবেলার রোদ পড়ে পড়ন্তবেলায়
মণিকর্ণিকার ঘাটে জল আয়নায় ,
কবিতারা ছায়া ফেলে ঝিলমিলে কিশোরী আলো…

অতীত স্রোতে ভেসে আসে আমার ফাগুনমাস
চেনা চেনা শব্দের মন্দাক্রান্তা ছন্দ ;

শরীরের শুকনো বাকলে বিঁধে থাকা
চূর্ণ বিচূর্ণ প্রতিশ্রুতি গুলো খোঁটে কাঠঠোকরা মন

সূর্য ডোবার বেশি দেরী নেই আর
দিনের চিতা সাজাতে ব্যস্ত নৈঋত আকাশ ;

চিতা জ্বলে ওঠার আগে পর্যন্ত
আমি কবিতার পোশাকে প্রথম প্রতিশ্রুতির
শব্দ সাজাই , চুরি হয়ে যাওয়া রঙে…

জীবন , শেষ নিঃশাসের চৌকাঠে দাঁড়িয়েও
আশা বোনে——

সোমবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৮

শ্রীলেখা মুখার্জ্জী


১)
নিজস্ব /
-----------------------------------------
দুপুরের একটা ঝিম ধরা নেশা আছে ;
সারদিনের কল্পনারা সময়ের রোদ পোহায় 
ইচ্ছের বয়ামে...
সুতো ছাড়ি বেফিকির হয়ে
পেটকাটি বগ্গারা নীল ছুঁয়ে ভিজে যায়
মেঘভাঙা জলে ;
ভেজা ডানা উড়ে চলে ;
বাঁচিয়ে রাখা মাঞ্জায় বাজি ধরে দুঃসাহসী
কাটাকুটি খেলা....
দূরে জামরুল পাতায় জড়োসড়ো হয় রোদ
আমি ধীরে ধীরে গুটিয়ে ফেলি
ছায়ার মাদুর----
,
২)
ছায়াময় বিষণ্ণতা / শ্রীলেখা মুখার্জ্জী
---------------------—————
প্রাক-বৈশাখের নিঃসঙ্গ সন্ধ্যাটি
আজানের সুরে নিজেকে মেলে ধরে
দক্ষিণের জানলায়---
প্রাপ্তির ছায়াগুলি দীর্ঘতর হতে হতে
মহাশূণ্যের পথে হারিয়ে যায়
আকাশের কুরুশ কাঁটায় জামরঙা কাব্যের বুনোট
আরও ঘন হয়
রাতপাখিদের ডানায় ক্রমনিশ্ছিদ্র আঁধারে
একাকীত্বের সমুদ্রে ঢেউ ওঠে
বিচ্ছিন্নতার নিজস্ব ব-দ্বীপটি অগত্যা
এবড়ো খেবড়ো শেকড়েই নোঙর বাঁধে
কেবলমাত্র বাঁচার তাগিদে---
'
৩)
রবিবার--শ্রীলেখা মুখার্জ্জী
-------------------------------------
ভোর জানে আজকে রয়ে সয়ে আনবে সকাল
প্রলম্বিত আস্ত একটি দিন ;
রবিবার মাখামাখি সকালের আলো
পোষা বেড়ালছানাটির মতো
পায়ে পায়ে ঘোরে আমার.....
সাবানফেনা-ডুবন্ত স্নানে চুলেদের শ্যাম্পু
মাথা থেকে ঝরে পড়া টুপটাপ জলের কুচি
আলসেমিতে ছুটি পোহায়,
শরীরে জড়ানো আটপৌরে শাড়ীটিও
আজ ফুরফুরে মেজাজে অবসাদ মেলে দেয়
ছাদের পাঁচিলের খটখটে রোদ্দুরে ;
সুমনের 'এক কাপ চায়ে তোমাকে চাই'
সারাবেলা সুর ভাঁজে সিডি প্লেয়ার,
গেরস্থালীর অন্দরমহলে মজলিশি রঙ
রবিবারের একান্ত খুশবু---

শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৮

শ্রীলেখা মুখার্জ্জী


প্রেম প্রতীক্ষা
---------------------------------------------------
শুনেছি আঠারো মানেই লাগাতার প্রেমের কুচকাওয়াজ। কিন্তু আমার অষ্টাদশী কচি সবুজ মাঠে একটিও পদধ্বনি শোনা যায় নি...নাকি আমিই শুনতে পাইনি !!! এই ব্যাপারটি আজও আমায় বড়ো ভাবায়।প্রেমের কড়া নাড়া শোনার জন্য যা কিছু প্রয়োজন , তার একশো ভাগই আমার কাছে ছিলো কিন্তু। তবুও তার দেখা পাইনি।
একুশ যখন নিজেকে নিয়েই মুগ্ধ , তখনই সপ্তপদীর গাঁটছড়া। প্রেম বোঝা আর হলো না। দায়িত্ব কর্তব্যের ভ্রূকুটিতে অচল পয়সার মতো অবহেলায় পড়ে রইলো নরম জলপাই রঙের স্বপ্নগুলো। চব্বিশের কাশফুলের দোলায় মাতৃবেলার আঘ্রাণ। অনেক না পাওয়া ভুলিয়ে দিলো সে অনুভূতি।
দেখতে দেখতে পড়ন্তবেলার রোদ এসে পড়লো আমার একফালি আকাশের জানলায় । সিঁথির দুপাশে রূপোলী ঝলক স্পষ্টতর। কপালের বলিরেখায় , সেই পুরোনো ভাবনা আজও কারণ সমেত উত্তর খোঁজে। বয়স যদিও ষাট পার করেছি , তবুও মন এখনও প্রেমের বয়াম থেকে চুরি করে আচারের স্বাদ নিতে চায়। একটি একটি করে বসন্ত চলে যায় , হেমন্তের ঝরাপাতার আওয়াজে আমি আশা কুড়োই পরের বসন্তের...হয়তো সে আসবে এবার। দেরাজবন্দী সেই ঝিমিয়ে পড়া স্বপ্নগুলো হয়তো আবার মেলবে পরাগডানা----

মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১৮

শ্রীলেখা মুখার্জ্জী

শ্রাবণ কিছু দিয়ে যায়.../
----------------------------------------------------------
মেঘলা আঁধারে জ্বলে ওঠে 
টিপটিপ স্মৃতির জোনাকি...
শ্রাবণ পরতে জমে থাকা গোপন কান্নায় 
ভেজা জানলা খোলা ধুধু নিঃসঙ্গতা ;
আমি চেয়ে দেখি পাহাড়িয়া মেঘ নতজানু হয়
গগনচুম্বী শৃঙ্গের অহংকার আস্ফালনে
সোহাগী মেঘের আলিঙ্গন , ভালোবাসা খোঁজে ;
বিষণ্ণ হাওয়ায় ওড়ে মনখারাপের খবর
করপুটে জমা করি ফোঁটা ফোঁটা মেঘজল
বৃষ্টি ছুঁয়ে যায় অভিমানী ঠোঁট , চোখের পাতা
একঘর শ্রাবণসন্ধ্যা ফিরিয়ে দেয় আমার
আরশিনগরের পড়শী সুবাস মুহূর্তগুলি...
স্পর্শমেদুর সেই নিবিড় ;
অনুভবে , তুই আজও বর্ষার একমুঠো তাজা বকুল