পিয়ালী বসু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পিয়ালী বসু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

পিয়ালী বসু


হিলিয়াম  
__________

( ১ )

পূর্ণ হয়ে উঠছে আমার ফুসফুস
সময়ের সর্বগ্রাসী শূন্যতার মতো তোমার ভারহীন হৃদয় আকণ্ঠ ভরে উঠছে, বিষের তীব্র ধোঁয়ায়।

ভালোবাসার সুষম স্পন্দন 
এখন বিবর্ণ, পাণ্ডুর ঝাপসা হতে থাকা
একরৈখিক জীবন কে হাফ ফার্লং দূরত্বে মাপে

ডিজএরেড হয়ে চলেছে ক্রমশ, আমার যাবতীয় প্রথম প্রতিশ্রুতিগুলি। কপাল থেকে বুক হয়ে নাভি পর্যন্ত গড়িয়ে নামছে কবন্ধ সময়...। 

( ২ ) 

কেউ যেন আমার গায়ে অন্ধকার চাপিয়ে দিয়ে গেছে
সব জেনে, বুঝেও আমি নিশ্চুপ আছি, কারণ এখনো মিরাক্যালে বিশ্বাস করি। 

আসলে যে কোন নেগেটিভ ফোর্সে আমি বিশ্বাস করি না, তাই, মাছের চোখের দিকে টার্গেট করে তীর ছোঁড়ার প্রয়াসে যাইনি কোনোদিন।

আজকাল সূত্রহীন হয়ে পড়ে
প্রতিফলনের সমস্ত সংজ্ঞারা
তাই, যন্ত্রণার নুন জড়ো করে রাখি, ফাল্গুন মৌসমে

তবুও তুমি জেনে নাও, তিমিরসন্ধ্যার দেশে ' I Quit’- নয়, বরং আত্মহত্যার লিরিকের পাশে, আজও সমভাবে সহাবস্থান করে, ভাষাহীন নৈঃশব্দ্যের হলুদ রূপটান।

মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

পিয়ালী বসু



আশ্রয়

১)
—
বাড়ি ফিরেই বোমাটা ফাটালো অত্রি , … তখন সন্ধে সাত’টা , বাইরের ঘরের টিভিতে গাঁকগাঁক করে চড়া দাগের সিরিয়ালটা চলছে , একঘেয়ে সন্ধেটাকে আরও এক পোঁচ একঘেয়ে করে ।

১ নং রাজবল্লভ স্ট্রিটের এই ঠিকানাটায় , টিপিক্যাল উত্তর কলকাতা হবার জন্য যা যা দরকার তার প্রায় সবটাই আছে । সদর দরজা পেরিয়ে ভিতরে আসা উঠোনের মাঝখানে কলতলা , তাকে ঘিরে দোতলায় যাবার শ্যাওলা পড়া চলতা ওঠা সিঁড়ি , আর তারও উপরে আগাছায় মোড়া ছাদ ।
একতলার ডানদিকের ঘরটার নিয়মমাফিক ভাড়াটে অত্রি , পুরো নাম অত্রি সেনগুপ্ত … লাইফ ইন্সিওরেন্সের দালাল । কমন দেওয়ালের ঠিক পাশের ঘরটায় একঘর ভাড়াটে ঘেঁষাঘেঁষি করে। কবে থেকে রয়েছে তারা কেউ জানেনা। বোধহয় দেশভাগের সময় থেকে ।

আজ সকালেই খবরটা পেয়েছে অত্রি , শোনার পর থেকে দুপুরের টিফিন গলা দিয়ে প্রায় নামেনি তার , তক্কেতক্কে ছিল , কখন বাড়ি গিয়ে খবরটা আহেরি কে দেবে । আহেরি … অত্রির তিন মাসের বিবাহিতা বউ । হেব্বি দেখতে ! ভরন্ত ফিগার … রাস্তায় বেরোলেই পাড়ার রকের গুলতানি করা দলটাও নড়েচড়ে বসে ।

(২)
—-
সকাল থেকেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি । আকাশ অংশত মেঘলা … ছাদের কাপড়গুলি তুলে নিচে আসছিলো আহেরি । তখন বেলা প্রায় দুটো , শাশুড়িমা নিজের ঘরে আয়েশ করে দিবানিদ্রা দিচ্ছেন , হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো ।
এক – দুই – তিন … চতুর্থবার বাজার আগেই হুড়মুড় করে দৌড়ে যায় আহেরি ।

মিনিট পাঁচেক পর ফোন রেখে নিজের ঘরে যায় সে । কপালে আড়াআড়ি তিনটে ভাঁজ এতটাই স্পষ্ট যে , পাশের রাঙা কাকিমাদের বাড়ি থেকেও স্পষ্ট দেখা যাবে ।

বাবাদের জেনারেশানে একমাত্র সেজোকাকুই বেঁচে আছেন এখনো। বাকিরা সবাই মরে হেজে গেছে কবেই। সেজোকাকু অল্পবয়েসে সাঁতার কাটতেন , বাবার মুখেই শোনা আহেরির । এক ডুবে হেদুয়া এপার ওপার করতেন । তারা তখন বউবাজারের বাড়িতে , দুই শরিক ঘর , একসাথে ।

ভাবনার অতলে ডুব দেয় আহেরি । ‘কি করা উচিৎ এখন তার ? অত্রি কে বলবে কি ? ‘
.

(৩)
——
‘শালা ! সকাল থেকেই মেজাজটা খিচড়ে আছে । গত তিনরাত ধরে ঘষটানোর পরও একটা সুর বেরোয় নি । কোন মুখে যে পলাশ দা’র কাছে যাবে ? … ‘ এবারের পার্টির পেমেন্টটা বেশ হাই ছিল , অনেক বলেকয়ে রাজি করিয়েছিলো পলাশ দা কে অর্পণ , কিন্তু …

ধুস শালা ! নিজের উপরই বিরক্তি আসছে । এক ঝটকায় উঠে বারান্দায় আসে সে । সিগারেটে দু চারটে টান দিতে দিতে দৃষ্টি মেলে দেয় সামনে … ‘আহ ! যদি এমনই ভেসে বেড়ানো যেতো ! এমনই ইচ্ছেঘুড়ি হয়ে । ‘
.
এসআরএফটিআইতে সাউন্ড এঞ্জিনিয়ারিং পড়া শেষ করে কলকাতার মাটিতে পা রাখা তার বছর দুয়েক আগে । তারপর থেকে জুতোর শুকতলা খসিয়েও বলার মতো একটা কাজ জোটাতে পারে নি সে । এই অবস্থায় কি করেই বা ওকে আনা যায় বাড়িতে ? …
.
ডিপ্রেশনের আলগা ছায়াটা গেঁথে বসার আগেই গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে অর্পণ । স্টুডিওতে ঢুকে পড়ে । একবার আবার শুরু করা যাক । ভিকি বলতো , সকালে একটা নরম নরম ব্যাপার থাকে গলায় , যেটা বেলা বাড়ার সাথে সাথে থিতিয়ে পড়ে শেষ বিকেলে জাস্ট নুনের মতো ঝুরঝুরে হয়ে যায় । ভিকি সিং এসআরএফটিআইতে তাদের তিন বছরের সিনিয়ার ছিল । তুখোড় ছেলে ! তাইতো আজ কেমন গুছিয়ে বসেছে … একটা দীর্ঘশ্বাস আপনা আপনিই বেরিয়ে আসে অর্পণের বুক চিরে ।


ক্রমশঃ 

রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

পিয়ালী বসু


স্পর্শ ও প্রতিশব্দের বায়োস্কোপ–প্রথম স্ন্যাপশটে নিরাপদ বিশ্বাস ও মৃত্যু

ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য শব্দগুলি স্তনের মরশুমি ভাঁজে
গত জন্মের স্মৃতিমুখর আর্দ্রতা লিখে রাখছে 
:
বাইরে এখন প্রবল বৃষ্টি , রবীন্দ্রনাথ - শক্তি চাটুজ্যে গালিচা পেতেছেন
বিষাদের  আনোখা উদ্ভাসে 
:
"আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার
পরানসখা বন্ধু হে আমার"


কিন্তু তুমি নেই বাহিরে - অন্তরে মেঘ করে
ভারী ব্যাপক বৃষ্টি আমার বুকের মধ্যে ঝরে " 
:
গানের কলিতে সন্তর্পণে ... মাপ বুঝে গেঁথে বসছে ... 
:
মধ্য সপ্তকে'র সুর ছাপিয়ে 
নকশাবন্দী ইচ্ছেগুলি কুরুশের কারুকাজ তৈরি করছে 
:
অসাবধানী শব্দগুচ্ছেরা 
তিরিশের টানটান নাভি পেরিয়ে দূরবর্তী সম্পূর্ণতায় 
অকালবোধনের যাবতীয় শর্ত বুঝে ... শরীরী ক্লিভেজে
স্পর্শের পোজিশন মাপছে ...
:
সুস্পষ্ট ভাবনার প্রতিফলনে ...আধো আলো-আবছায়ায় 
শব্দজোড়া স্মৃতিকাতরতা ক্রমাগত অগণিত ক্ষয় ছুঁয়ে যাচ্ছে 
:
লেখাকে বাঁচিয়ে রাখে শব্দ আর উপমার অবিরত চোরাস্রোত , অথচ এই মুহূর্তে শহরের পথে ঘাটে উদাসীন অসমাপ্ত প্রেম , ধূমকেতু , ছায়াপথ গুঁড়িয়ে স্পষ্টতর হচ্ছে স্মারক মনখারাপ । 
:
আমি ও আমার ছায়া এই মুহূর্তে পরস্পরের মুখোমুখি বসে
এতদিন আলপথ ছিল কথার নিভৃত সহবাসে 
আজ ... আবছায়া মৃত্যুকে সঙ্গী করেছে স্পর্শ সম্ভাবনার অনিশ্চিত প্লাবন
:
তারপর ... 
:
নগ্নতাজনিত ক্লিশে ধারণাগুলিকে 
অনন্ত বৃষ্টির শব্দে ধুয়ে ফেলে ...হাওয়া মেহফিলে প্রবেশনিষিদ্ধ স্তব্ধতা
:
প্রতিটি বিশ্বাসী সম্পর্কের আড়ালে আসলে নিঃসঙ্গতা , যাপন করা প্রাত্যহিক ব্যর্থতা থাকে ... ব্যক্তিগত উপলব্ধি ও দীর্ঘকালীন সময়ের অবয়বে ,শব্দের পরেই জন্ম হয় প্রতিশব্দের , কথারা কোন প্রতিশ্রুতি বহন করেনা , একথা মেনে নিয়েই অনবরত শব্দক্ষরণ হতে থাকে ... শূন্য মুহূর্তের গহন ঘেরাটোপে ।



( ক্রমশ )