অনিন্দ্য রায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনিন্দ্য রায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৮

অনিন্দ্য রায়

হয়তো তোমারই
▪

▪
স্পর্শলতাটির পাতা ছিঁড়ে আমি তোমাকে পড়াই
খুলি হাওয়ার চাদর, কামিজ জলের
    আর চুলে যে রাত্রির ফিতে তা-ও খুলে
                                             বিছানায় পাতি
ঘুমের কলসি ফেটে ঘরময়  বিভূতি ছড়াল

মাখি গায়ে, তোমাকে মাখাই
আমাদের চিন্তাগুলি সাঁই-
সাঁই ওড়ে, তাদের রেচন
মুখে লাগে, আদরের ধন
পান করি একসাথে, চাটি

তোমার শরীর আজ আহার্যের বাটি

একেকটি ব্যঞ্জন খাই, তারপর ধুয়ে নিয়ে
                                     উপুড় করে রাখি
হাত ঘষি পিঠে
বাটি গরম হয়ে উঠলে আবার উল্টে দিই
দেখি, ভেতরে সমস্ত জল বাষ্প হয়ে আছে
আমিও বাড়াই জিভ
             ওই ফোঁটা ফোঁটা কামকুয়াশাকে খাই
এবং শরীর ফুলে ওঠে
এবং শরীর গত শতাব্দীর সেগুনগাছের মতো ফুলে ওঠে
এবং লতাটি তার কাণ্ড জড়িয়ে বড়ো হয়
ফোটে ফুল
কেশের বাদ্যের গুঁড়ো
         বাজে তা-ও
             সেই শব্দ নীহারিকা পের হয়ে যায় আরও দূরে

সেখানে কি আছে মাটি
    পৃথিবীর মতো থকথকে লেই?
আছে লোহা-তামা-পেতল-ইস্পাত ?

আয়ুধ বানিয়ে নিতে সেখানেও বন্ধক রাখতে  হয়
         হৃদয়-বাসন !
সেখানেও গাছ হয় বীজ থেকে
অপরিচিতের লতা  ছুঁতে চেয়ে যেই হাত বাড়ালাম
ঝনঝন করে নীরবতা ভেঙে গেল
কথার পাতায় আলো কেঁপে উঠল
          তোমার মুখের বিকিরণে
         

শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

অনিন্দ্য রায়


হয়তো তোমারই
▪

▪

পিঠের প্রান্তরে আসি , অল্প ঘাস, ছায়া-মহাকাশ
ছড়িয়ে রয়েছে বাকি আটদিকে , আমিও আঙুলে
হাঁটি, নখে আঁকি গ্রহনক্ষত্রের স্থান, মৃত্তিকার শাঁস
দাঁতে ছিন্ন করি, জিভে রক্তের লবণ লাগে, চুলে
মুছে নিই স্বাদ, নিয়ে অতোটা ভূগোল পুনরায়
ভ্রমণ চেয়েছি, হেঁটে, হাঁপিয়ে উঠলে হামাগুড়ি
দিয়ে, হোক যেনতেন, জ্বলে উঠতে উল্কার ধাক্কায়
তোমাকে ছোঁয়ার আগে ধ্বংস হয়ে যেতে পুরোপুরি

তোমাকে ছোঁয়ার পর মনে হয় পুনর্জন্ম আছে
সকল শ্রমেই আছে ঘুমের চাদর, নগ্নতাকে
বারবার জাগরণ ভেবে চেপে ধরি, তার কাছে
বন্ধক রেখেছি বিম্ব, আয়নাটি ইশারায় ডাকে
দেখি, মাঠ শেষ হলে আপেল বাগান, দুই ঢিবি
নদীখাত, ওপিঠে অপেক্ষা করে আমার পৃথিবী

ছোট ছোট গাছ
গাছের তলায়
বারুদের কূপ
আগুনের নাচ
চোখ পুড়ে যায়
তুমিও তো চুপ
চাপ শুয়ে থাকো
হাওয়ার পোশাকও
ছিঁড়ে ফালিফালি
গাছ ছোট ছোট
যে ডালেই ওঠো
মাথা নীচু কুঁড়ি
যদি হাততালি
দিয়েছ হঠাৎ
যদি ধরো হাত
কোথাও মাধুরী
উঠবেই বেজে
ছোট ছোট গাছ
কী তামাশা এ যে
পুরুষের আঁচ
স্ত্রীর জলাশয়
নিয়ে বড়ো হয়

তোমার শরীর
ছুঁতে চায় শ্রীর
স্নানের লিরিক
কোনোদিন ঠিক
সে পাবে গানের
তুমুল বারিষ
সে অভিমানের
ওষুধ ও বিষ
ছোঁয়ালাম ঠোঁটে

ছোট ছোট গাছ
গাছে গাছে ফোটে
কুসুম কুসুম
আমাদের ঘুম

ঘুমের ভেতর
একখানি ঘর
একা মোমবাতি
একা একা ফুঁয়ে
নিভিয়ে দিলাম

প্রিয় ডাকনাম

শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৮

অনিন্দ্য রায়


হয়তো তোমারই
   •


 চোখ, মনে হয়,চিনি; চেনা পুষ্করিণী
সাঁতারে নেমেছি কোনোদিন
হয়তো দেখেছি জলে কোনো মলিনতা নেই, দেখে 
ওষ্ঠ ফাঁক করে খেয়েছি ,তরল প্রাণ
 সে পানীয়ে আগুন মেশানো
শরীরের সব জল বাষ্প হয়ে ওড়ে
আমিও ডুবতে থাকি
ডুবে যেতে থাকি 

নীচে, জলের তলায় এক রূপকথা সিঁড়ি
শ্যাওলার ঝোপ, শোণিতের শ্বাস আর স্বেদ
আমিও পিছলে পড়ি 
সিঁড়ি টানে নিজের গভীরে
ভাঁজ-করা অন্ধকার খুলে যায়, আবার গুটিয়ে আসে 
আশ্চর্য কম্পনে আকাশেও ফুটো হয়ে যায়
ঝরে বারি, ছিটকে আসে চোখে

জ্বলে যায়
জ্বলে যায়
জ্বলে

নেভে সকল আতস 
অন্ধের আবেগে ছুঁই অনাদি খিলান
ছুঁই দ্বার, আপৎ জানলা
মাথাও গলিয়ে দিই
মুখে লাগে তীব্র রসায়ন
তোমাকে অম্ল ভেবে ক্ষারকের ধর্মে ঢুকে পড়ি

হে রক্তবাহিত সুখ, হে প্রাণ মোক্ষম
যা থাকে ভূমির নিচে আধখানা চাঁদ
কলঙ্কে বোলাই হাত , সে খাঁজে আঙুল
আটকে যন্ত্রণা পাই,  সহ্য করি, ও হো

তোমাকে নিরস্ত্র ভেবে বর্ম খুলে ফেলি
তোমাকে সাক্ষর ভেবে চিঠিপত্র লিখি
তানপুরা ভেবে তারে হাত দিতে যাই
এবং মানবী ভেবে প্রস্তাব করেছি

প্রতিটি চুম্বনে থাকে রণবাদ্য, ভেরি
আয়ুধ যতটা পারে পরাক্রমশালী
প্রতিটি প্রবেশ যদি ব্রহ্মাণ্ড ওল্টায়
বারবার, বারবার, বারবার, মরি

মৃত্যু না, জন্মের জন্য আয়োজন এই
এই শ্রম, এই জ্বর
এই ঘেমে ওঠা

চক্ষুরুন্মিষতি, প্রণয়ের সম্ভাবনা, রতি
চাঁদের গায়ে তো চাঁদ
প্রাণে প্রাণে
শব্দের কাঁসরঘন্টা
আঘাতে বাজছে

ক্ষতে মুছি ব্যথা ও গরল
আঙুলে আঙরা, শিরা দপদপ, অস্থি ছাইপাঁশ
রতন খুঁজতে এসে তুমি পাও ধাতুর কলস
রয়েছে সামান্য ছিদ্র মাটির ঢাকনায় 
ওইটুকু শ্বাসরন্ধ্র , কাব্য ওইটুকু 
ঠোঁটে চেপে ফুঁ দিই, চুষি হাওয়াফল

বীজে যত আলোড়ন আমাদের বাজনা সেরম
চিত্রঋণ : পাবলো পিকাসো 

রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭

অনিন্দ্য রায়


ছায়াবীথিতলে
•


যেভাবে মুষ্টিতে আসে ছড়ানো আঙুল,তালু
গোল হয়ে, ছোট হয়ে সমস্ত শক্তিকে 
                                              আনে  ঘন করে 
যেভাবে বেলুন তার নিজ চাপে বিস্ফোরিত হয়
যেভাবে কাগজ মুড়ে তাতে আঁকা নিসর্গভুবন 
                                  বন্ধ করে অতৃপ্ত আর্টিস্ট
যেভাবে বরফ গলে, বাষ্পীভূত জল
জানি, এর কোনোটিই নয়

লুডো খেলতে খেলতে হঠাৎ যে উল্টে দেয় বোর্ড
                                                 সেরকমও না
সূর্য ওঠার মতো, অস্তের মতো 
আলোআঁধারির প্রিয় কাটাকুটি-প্যাটার্নের মতো
জানি, সব গুটিয়ে আসবে
বলের ব্লাডার থেকে বাতাস বেরিয়ে গেলে 
তেমনি আকাশে ধ্বংস হবে মহাকর্ষ
জানি, তবু দুহাত বাড়াই , তর্জনী সক্রিয় করি
আ-তরযোনিতে 
প্রতিটি স্পর্শকে চিনি ঘ্রাণেন্দ্রিয় দিয়ে
আর ত্বকে অসংখ্য চক্ষু  জন্ম নেয়
দেখি এই আলোপাঠ্য, শুনি আলোগীতি

কোথাও ছিল কি প্রাণ ? আমার শরীর ছাড়া আর কি কোথাও
মহাসমুদ্রের তলে স্ফুট হত অযুত বুদবুদ ?
এবং সঙ্গীর খোঁজে হয়ে ওঠে তারাও চঞ্চল ?

সেই সমুদ্রেও আছে প্রবালকীটের অভিমান
আছে শ্যাওলার কেঁপে ওঠা যতটা সম্ভব মানবিক
জলে যে লবণ আছে
   অশ্রুর, রক্তের, ঘাম বা রসের মতো স্বাদের ভিন্নতা
চিনেছে একটি জিহ্বা, ডুবোপাহাড় একটি
ছোট ছোট দারুচিনিদ্বীপ
বেলাভূমি জুড়ে আছে নগ্ন মানুষের অবসর
রিসর্ট ও ঋষি
আছে ভ্রমণকাহিনী
প্রেমের কবিতা
ইমারত
স্টেডিয়াম
হাওয়াই আড্ডা
সবই তো ধ্বংস হবে
সূর্য, সেও হলুদ বসন খুলে লোহিতদানব হয়ে গিলবে সকল 
      গ্রহ, উপগ্রহ, পাথর, তৈজস
মৃত্যু হবে তারও

সব আলো নিভে যাবে
সব অন্ধকারও

একটি বিন্দুর গর্ভে ঢুকে পড়বে রেখচিত্র সব

যদি ওই বিন্দু অব্দি আমার শ্বাসের কণা টিকে থাকতে পারে
ডিমে ফুটবে আবার কুসুম

আবার তোমার সঙ্গে দেখা হবে, শ্রী
এই ছায়াবীথিতলে


বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৭

অনিন্দ্য রায়



ছায়াবীথিতলে


ভ্রুণের সংহিতা, তাকে নৈঃশব্দ্য ফাটায়
আমরা রক্তের ধর্মে গণিত রেখেছি
             আর যে কাহিনী উত্তরে মেলে না তাকে বলি মোহনবাঁশরী
তা থেকে বেরোয় নাদ
বলি ব্রহ্ম
       বলি অণ্ডত্রয়ী
একটি তো দেখতে পাই না
ভাবি দুই
এই বিশ্ব দ্বন্দ্বময় ভাবি
অথচ অন্য আছে সর্বত্র
 তা-ই ফলাফল
অথচ দোকান আছে পাওয়া যায়  ধুতুরার ফুল
বাইরে পুরুষ আর অন্তরে স্ত্রীরূপ গহ্বর
এবং যে বীজ হয় জিভে নিলে সংজ্ঞা টলে যায়
               তোমাকে বিখণ্ড করে
আবার একত্রে রাখে
সুবর্ণগোলক
তা দিয়ে বানানো গয়না অঙ্গ হয়ে শরীর বানাল
তা দিয়ে বানানো অঙ্গ তুলে ধরল নিজের পতাকা
এবং ছায়ার ঘাসে খসে পড়ল সকল পোষাক
এবং ত্বকও খসল
       মাংস-অস্থি-ঘিলু গলে গেল
 রক্তের ফোঁটা হয়ে, নীরক্ত কুসুম হয়ে
       প্রবল ঘুর্ণিতে পড়ে টুকরো হল প্রাণ ও পরাগ
আবার জুড়তে তাকে ডাক দিই
কাছে এলে আলিঙ্গন করি
বানাই মোক্ষম ক্বাথ
সে আঠা বুলিয়ে রাখি সর্বান্তকরণে
   আহা জোড়ে, জুড়ে যায় যেভাবে অশ্ব লাগে নিষ্প্রাণ শকটে
ছোটে সব সামাজিক পথে
ঘাস খেতে কদাচিৎ নেমে আসে অসামাজিকতায়
নামায় বুভুক্ষু মুখ
ওষ্ঠে ঘষা লাগে পাপপুণ্যের বিছুটি
ফুলে ওঠে,
   এত এত এত স্থূল হয় ঢাকা পড়ে মহাকাশ
বৃষ্টি সব ওধারে আটকায়
এই পাড়ে জল ভাঙে
জলের গভীরে ভাঙে জৈবইতিহাস
সেখানে যুদ্ধের কথা পুঙ্খানুপুঙ্খ লেখা
সনমাসতারিখে হিসেব
উপাসনাগৃহ আর স্মৃতিস্তম্ভে ভরে যায় দেহ
ঘন্টা বাজে
লালায় মুখের থালা ভরে যায়
তাকে বলে খিদে
এতবছরের রীতি রুটিকে গোলই রেখে দিল
যেকোনো প্রান্তের থেকে ছেড়া শুরু করা যায়
         ঘুরিয়ে নেওয়া যায়
এবং কামড় দিলে স্বাদ থাকে একইরকম
যেন গম সব ক্ষেতে একই আদর পেয়েছিল
একই তাপ, মাত্রাও অনন্য
প্রতিটি চাষীর চোখে চাষীবৌ দেখে এক চন্দ্রোদয়ঘোর
কিন্তু পলক পড়ে বিভিন্ন সময়ে
তাই নুনের মাত্রা ভিন্ন মনে হয়
চুম্বনে
       ও উৎপাদনেও

আমরা শস্যের গায়ে হাত বোলাই আভ্যেসবশে
চাপ দিই
         খোসাটি ছাড়াই

নগ্নতা ছাড়া যেন পরিচয় সম্ভবই নয়    

ছবি কৃতজ্ঞতা স্বীকার : অরিণ রায় 

শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

অনিন্দ্য রায়


প্রিয় মেনহির


রৌদ্রকোল, পিছলে যে পোষ্য পড়ছে, ফাঁদ পাতি আঁধারঊর্ণায়
প্রতিটি ঘরের কোণে অপরাধ বুনে রাখে আছে
আমিও চাকরিসূত্রে মৃত পোকাদের পরিষ্কার করি আর
                   তাদের শরীর টিপে বের করি রস-মেটাফর

কাগজে মাখিয়ে দিই, আঙুল বোলাই, তাতে
বাংলা অক্ষরের মতো বাহান্নটি দাগ
তাস বেটে নিয়ে খেলতে বসেছি

এইটুকু আমার কবিতা, এটুকুর লোভ দেখিয়ে তোমার ধূর্ত বেড়ালটিকে
আমাদের দলে টানলাম



প্রচ্ছদ শিল্পী : সুদীপা কুন্ডু







মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

অনিন্দ্য রায়


ছায়াবীথিতলে


হ্যাঁ, বিস্ফোট সেই, শব্দ, প্রসারণশীল
হ্যাঁ, সেই দড়াম, শক্তি, হ্রাসমান, ক্রমে
হ্যাঁ, সেই সুতোর টুকরোরা, ছিঁড়ে ছড়িয়ে পড়ছে
কো               থা                   য়
কোনো থায় নেই, সে নিজের ওপরেই নিজে বড় হচ্ছে
নিজেরই অন্তর ভেঙে বানাচ্ছে উদ্বায়ী ও অগ্নিগোলাগুলি
ছুটছে,  হ্যাঁ, নিজেরই প্রান্তর ধরে ছুটে যাচ্ছে শিশু
মহাজাগতিক
শূন্যের চেয়ে নামমাত্র বড়
সময়ের চেয়ে সামান্য অনুজ
হস্ত-পদ-পেট নেই
মুখবিবর একটি
চক্ষু-নাক-কর্ণ নেই
একটি গহ্বর জায়মান 
বমন করছে তারাপিণ্ড, গ্রহপিণ্ড, উল্কাপিণ্ড
পিত্ত নয়, অম্ল নয়
আঁধারের রসে সব মাখামাখি 
হ্যাঁ, অন্ধকার, টানটান, কোথাও কোঁচকানো অন্ধকার
ব্যপ্ত এই তিনশো ষাট গুণিত তিনশো ষাটটি দিকে
মাঝে কোথাও কোথাও ছিঁড়ে গেছে
আর ওই ছিদ্রপথে জেগেছে নক্ষত্র
আর ওই ছিদ্রপথে মরেছে নক্ষত্র
আর ঘনকৃষ্ণ পতিত হয়েছে
তিনি হাঁ করলেই বিশ্বরূপ
গ্রাস করলেই অন্য বিশ্ব এক
এক তো না
বরং প্রতীপ
উল্টো অনিন্দ্য লেখে উল্টো সৃজনে
উল্টো পাঠিকা, তুমি প্রতিকবিতা পড়ো

প্রতিছায়াবীথিতল
অঙ্ক কষে দেখি আমি
যেন তা উল্লম্ব আছে
বাস্তবতা নিম্নে শুয়ে রয়
মন্ত্র পড়ে দেখি আমি
কালীমূর্তি
নীচে মহাদেব
এবং মুণ্ডের মালা
গ্যালাক্সি সকল
কন্ঠ থেকে রক্ত নয়
ঝরছে আলোর ফোঁটা
একটি শৃগাল জিভ বাড়িয়ে রয়েছে
ডাকগুলি, শিবাগুলি তার
নিশির তরঙ্গগুলি পাড়ি দিচ্ছে
উথালপাতাল

হ্যাঁ, গো, সকলই নিম্নগামী
সকলই বস্তুই চায় বস্তুদের নিকটে টানতে

তবু কেন দূরে থাকা, এত এত দূরে সরে যেতে হয়
একটি গ্যালাক্সি থেকে অন্যদের
একটি নক্ষত্র থেকে অন্যদের
একটি পরাণ থেকে অন্য প্রাণ ভ্রাম্যমাণ হয়
!

ছবি কৃতজ্ঞতা স্বীকার : অরিণ রায়









বুধবার, ১৪ জুন, ২০১৭

অনিন্দ্য রায়

ছায়াবীথিতলে


অনন্তে শিকারী এক চলেছেন ভল্ল হাতে। মহাকাশ ফেড়ে তিনি ছুটছেন আঁধারের লতাপাতা সরিয়ে, মাড়িয়ে। যদি নরম জন্তু কোনো চোখে পড়ে, যদি ফলায় বিদ্ধ করে কাঁধে নিয়ে বাড়ি ফেরা যায়। আলোর চকিত দ্যুতি দেখলেই অস্ত্র ছুঁড়ে দেন। লাগে না কোথাও। শূন্যতায় ধাক্কা লেগে ফিরে আসে। আবার কুড়িয়ে তা দৌড়ে চলেন তিনি। কোথায় শিকার? চক্ষু সশ্রম, কানও প্রতিভ। সহসা শব্দ আসে, উর্জাপুকুরে কোনো হরিণী তৃষ্ণায় পান করছে বোধহয়।  সেই লক্ষ্যে তিনি তৎক্ষণাৎ ছোঁড়েন আয়ুধ। প্রচন্ড আর্তনাদে খসে যায়  আকাশের ইঁট। এবং সে ফোকরে মুখ ঢুকিয়ে দেখেন, তাঁরই আঘাতে একটি মানুষ ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে । সে সব টুকরো আকাশে নক্ষত্র হয়ে চকচক করে আর হৃদয়টি  চাঁদ হয়ে ঝুলে থাকে, অভিসম্পাত দেয়, “পুড়ে খাক হয়ে যাও”। এবং  তিনিও  জ্বলে ওঠেন তখনই। সময়ের অর্ধেক, যা তাঁর মুখোমুখি, এ দহনে আলোকিত হল।  শিকারের খন্ডগুলি উল্টো অর্ধে রয়ে যায়। অভিশাপে  তাদের লাগাল তিনি কখনো পান না

তিনি সূর্য
আমাদের আদিম শিকারী
রশ্মির বল্লম তিনি আমাদের দিকে ছুঁড়ে দেন সারাদিন
গাছের পাতায় লাগে, আমাদের চর্মে লাগে, চক্ষে লাগে
মর্ম চিরে যায়

তাঁর দেহে  জটিলাকুটিলা এসে একত্রে  করেন বাস
   একে অম্লজান আর দু-য়ে হিলিয়াম
      এবং আমরা জানি একে একে তৈরি হয় দুই
          তাপ আর আলোর ক্যানোন  

দশদিকে ছোঁড়েন তিনি তা
   যেন দিন পের করে, গোধূলি পেরিয়ে
      ওইসব নীহারিকা, নক্ষত্রের গায়ে মেরে  
          শিকারের অতৃপ্ত বাসনা এখনো মেটাতে চান

প্রতিশোধে তারাও কার্তুজ ছোঁড়ে

এই যুদ্ধের মাঝে
আমরা, উলুখাগড়ার দল
ভয়ে ভয়ে থাকি  

সবাই তো জানি সত্য কোনখানে
তবু লিখি না কোথাও
অঙ্ক কষি, থিওরি বানাই   

বাচ্চাদের ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির অন্য সব ব্যাখা দিই
যেন তারা লড়াইয়ের ভয় কখনো না পায়



ছবি কৃতজ্ঞতা স্বীকার : অরিণ রায়

মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০১৭

অনিন্দ্য রায়



ছায়াবীথিতলে
                          
-কে ওই বাতাসবাহন? পর্বত পেরিয়ে আসছে, শরীরে আচ্ছাদ নেই,মাঠে
 গড়িয়ে উল্লাস করে,কাছে এলে, দেখি, ওফ্‌, অস্থি নেই, বাস্তু নেই
 সেও যেন বায়ু, নিজেকেই সওয়ারি বানিয়ে আমার দুয়ারে এল, তাকে নিয়ে
 জলাশয়ে যাই, ডোবাই, বুদ্বুদ করে তুলি পুনরায়,লাগে না সামান্য পানি
 সামান্য আর্দ্রের প্রতি তার অনুৎসাহ, তবে ডাকি অগ্নি ময়রাকে
 তিনি তো মিষ্টান্নে দেন আত্মস্বাদচিনি এবং ক্ষুধাকে শালপাতার ঠোঙায় সাজিয়ে
 বাণিজ্য করেন; পারেন না পোড়াতে এই অজ্ঞাত তুমুল, কে এই?
 চাষীকে বলি, ‘পুঁতে দাও’; মাঝিকে ভাসাতে বলে বই খুলে বসি, কে ওই?
 আমার সদর দ্বারে কড়া নাড়ছে ? ও কে?

_ আমি তো দেখিনি তাকে, দেখেছি, মানুষ শুধু বেজে ওঠে শোকে

-তবে কি সে অশ্রু নির্মিত কোনো সহজ বিছানা! বালিশ, সান্ত্বনা আছে
 নিদ্রাকে ঔষধ ভেবে লোকাচার জনপ্রিয় ছিল, মনে পড়ে?
 এ ঠিক সেই মতো না, বলছি তো
 বিশ্বাস করো, মনে হচ্ছে, আমিই কী? দাঁড়িয়েছি মিরর হাউসে ?

-দেখেছি, খেলার বল হারিয়ে বালকেরা ওঠে সমস্বরে ফুঁসে  

-তবে কে মা-বাপ তার? অনাথ? নাকি স্বয়ম্ভু? নিজের কড়ি
 নিজেকেই কিনতে খরচ করে
 প্রতিটি দোকানে যেভাবে দোকানি এসে খুলে রাখে বাইরের জামা
 সেও নগ্ন ততদূর, তারও খেলা একাকী, সঙ্গিনীহীন
 গোলে নিজেই দাঁড়িয়ে
 শট মারে কাম-ক্রোধ-মোহ ... এবং দর্শক হয়ে দেয় করতালি

-নাচের সঙ্গত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ওই নৈঃশব্দ্যের ফালি   

-পুরুষেরা তার জন্য বর্ম পড়ে থাকে
 নারী শুধু খুলে যায়, বাতির সলতেটুকু জিহ্বা দিয়ে
 উদযাপন করে, ফুলগুলি নিরপেক্ষ নয়

-ফুলগুলি, কখনো উদ্বাস্তু ভাবি,কখনো ভেবেছি আশ্রয়

- তবে? ওই? বায়ুভুক, হাওয়াহরকারা, টুকরো অণবিক মৃত্যু
  সুতোর কম্পাঙ্কে যদি আবার জন্মাল
  যদি, শ্বাসে, তুমি দ্রবীভূত, যদি শোণিতে ছুটেছ 
  ফুসফুসে ঘুমিয়ে রও, হৃদে এসে জাগো
  পোষ্য ময়ূরদুটি, একজন মেঘ করলে নাচে
  অন্যটি রৌদ্রের দাসী, ডেকে উঠলে ভোরবেলা হয়
  তখনই শরীর জাগে, ঘন্টা বাজে, লালা ছলকে পড়ে
  তখনই শরীর, তাকে গুরু মানি, দীক্ষা সারিলেন

-‘তোমার শরণে নিও, হে জাহাজ, হে আমার কাঙাল, কাপ্তেন’

-কান ধরি, কান্না ধরি, ধরে থাকি পুং-প্রয়োজন
 কোনোদিন চিনতে পারব কে আমায় ঘা দিয়ে বাঁচায়
 কোনোদিন মহাকাশ নীচু হলে চড়ে যেতে পারি

-তোমার যন্ত্রণা ছিল তোমার প্রেমের চেয়ে ভারী

-আমি তাকে লঘু করি, দড়ি কেটে ফেলি সারাৎসার
 আবার লুফতেও যাই, আবার উড্ডীনও হই নিজে
 মনে পড়ে, কতকাল আগে এসেছিলাম, আন্ধার-আলো
 আমার পিতা ও মাতা, ঠাকুরদা- ঠাম্মাও তাঁরা
 তাঁরাই সন্ততি, আমি যত পিছলে যাই এইসব রশ্মির জালে
 ধরা পড়ি, লেপ্টে থাকি, উত্তেজনা হলে বড় হই
 আবার হ্রস্ব হই, কবিতা বলেছে তাকে কেউ

-হয়ত জীবন মানে আঁধারের ঢেউ

-আমাকেও যেতে হবে, পাহাড় পেরিয়ে, মাঠে গড়াগড়ি দিয়ে
  জলে ও চুল্লিতে ডুবে আমাকেও দিতে হবে পরীক্ষা, হবে না?

-ততক্ষণে চাঁদ উঠবে , মুখে ঝরছে জ্যোৎস্নার ফেনা


-আমারও তেষ্টা পাবে, ছাতি ফেটে বেরোবে কলিজা
 তা দেখে কাঁদবে তুমি, কান্নায় মেশানো থাকবে নুন-জল-বিষ

-যেভাবে মানুষ মরে সেরকম পারিনি, ভাগ্যিস

-তবে কতটুকু পারি, কতবার ভাঁজ করতে ভেতরে কাপড়
 পারি আর ছিঁড়ে যায়, ছিন্নের আওয়াজ ওঠে, লজ্জা ঘৃণা ভয়
 সেলাই করার আগে ছুঁচকেও  দণ্ডবৎ করি

--‘তোমার শরণে নিও, হে কানন, হে আমার মাতাল, মঞ্জরী’

ছবি কৃতজ্ঞতা স্বীকার : অরিণ রায়





-