চরাচরের সামিয়ানায়
*******************
********
নদীর উত্তর পারে দেহ রয়েছে বন্ধক
আত্মা আমার বয়ে যায় উৎস থেকে মোহনা,
কত-জন্ম শত-মৃত্যুর সাক্ষী থাকছে আকাশ
জীবন গড়ার সখ মিটিয়ে এসেছি আঠেরো আনা ॥
সুখের ঠিকানায় ধুয়েমুছে যাচ্ছে শান্তির কমলা সূর্য
প্রাপ্তি খুঁজে হয়রান পোড়া মনের বিষ কংক্রিট ,
জাত ধর্ম বংশ কৌলিন্য সব মাড়িয়ে শেষমেষ
বিজয়ী হলো চুল্লির অবশিষ্ট চল্লিশ মিনিট ॥
তাই ...
ছেড়ে ছেড়ে যাচ্ছি আটচালাঘর সাঁঝবাতি আর তুলসীতলা ,
মায়ের স্পর্শ চন্ডীমন্ডপ আবদুল চাচীর নিকোনো উঠোন
আদর-আবদার-রাগ-অভিমান-যতন-সোহাগ মাখছি গায়ে
পরজন্মের জন্য গুছোচ্ছি জীবন নামের অমূল্য রতন ॥
জলের তোড়ে ভাসছে মুঠোমুঠো প্রাপ্তিসুখ
আঁজলা ভরে কুড়িয়ে তুলছি যাপনের হিসাব ,
পাওনাগন্ডা মিটিয়ে এগোচ্ছি দেনার দায়ে ,
আগামী জন্মে ফিরবো যেদিন ...
শরীরী গন্ধে উপচে পড়বে ভালোবাসার মহোৎসব ॥
|
|
পিয়াংকী মুখার্জী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পিয়াংকী মুখার্জী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮
পিয়াংকী মুখার্জী
সোমবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৮
পিয়াংকী মুখার্জী
রোদ-চশমা
**********
***************
সমাজে এখন আগুন আর জলের সহাবস্থান
তরলকণা প্রকৃতিতে পুড়ে পাথর করে দিয়েছে জন্মশোক
শিল্পী আজকাল আর ছৌ নাচের মুখোশ পরেন না , শুধু পৃথিবী থেকে নিজেকে আড়াল করতে চোখে ঠেসে নেন রোদ-চশমা ।
বাষ্পের ধোঁয়াশায় ঘনীভূত হয় ঝাপসা আলো
উন্মুখ মুখগুলো অনাবৃত অহংকারে ধুইয়ে দেয় পতাকার রং
আমি পেশাদার খবর গ্রাহক ,
বাধ্যতামূলক শরীরে চাপিয়ে নিই বর্ম
ওদের ঘর্মসিক্ত লবণজল আমার দেহ চুঁইয়ে অংকুরিত করে ভেজা মাটি
সাময়িক সুখের পরিপূরক হয়তোবা ওই রোদ-চশমাই !
দ্বিতীয় কবিতা
""""''''''""""""""""""
অপরিবর্তনীয়
************
***************
আকাশকে ছুঁয়ে পা মেপে মেপে মুক্তির পথে এগোয় ঔদাসীন্য ।
মেঘের নীল ঠোঁট বিনাকারণেই বিষাক্ত করে তোলে পাহাড়ের দেহ ,
জলীয়বাষ্প পর্বতারোহণের সময় হাহাকার শুরু করে তৃষ্ণার্ত পথিকের মতো ,
ওর শরীর জুড়ে কামুক বাতাসের অবগাহন ।
নিম্নে নদী চাতকের মতো অপেক্ষার পোশাক বুনেই চলে ,
যত শক্ত হতে থাকে বুনোট উল্টোপক্ষে ততই আলগা হয় মায়াজাল ।
ভূগোল বদলায় ,
গণিতের নতুন নতুন নিয়ম তৈরি হয়,
বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত আবিষ্কার করেই চলে প্রযুক্তি ,
সাহিত্য জগতেও জন্ম নেন আগামীর যোগ্য উত্তরসূরি
কিন্তু সূর্য চন্দ্র সাক্ষী রেখে ...
ইতিহাস অপরিবর্তিতই থেকে যায় কালের নিয়মে ॥
মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১৮
পিয়াংকী মুখার্জী
১)বৃষ্টিস্নাত বিকেল
আকাশের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আজ গর্ভবতী করেছে আজন্ম নিস্ফলা বন্ধ্যা দুপুরকে ,
কক্ষপথ নিংড়ে মেঘেরা সাজিয়েছে প্রসবযন্ত্রণা ,
মুঠো মুঠো জলকণা আঁজলা ভরে গুছিয়ে নিয়ে
বিকেল জন্মেছে পৃথিবীর চোখ সিক্ত করে ।
জমাখরচের খতিয়ান খুলে বসা অপ্রেমিকও আজ ধারাপাতের সুরে গুণছে বৃষ্টির টুপটাপ !
ওই যে দূরে নন্দনের ঐতিহ্য শিকেয় তুলে প্রকাশ্য উষ্ণ ওষ্ঠচুম্বনে স্নাত হচ্ছে এজন্ম !
শিকল ছিঁড়ে গৃহবধূ আজ ঘুঙুর পরে নাচছে কত্থক , উড়ছে আঁচল ভিজছে ছাদ ।
অশ্রু-বৃষ্টি-মাখা জলে মায়ের চিতার আগুন ধুইয়ে মানবজন্মের ঋনশোধ করছে এক মফঃস্বলী সন্তান !
আমার শহরের শিলালিপি আজ পাঠোদ্ধার হলো বৃষ্টিস্নাত বিকেলের হাতে !
২)
বৃষ্টি যখন প্রতিপক্ষ
*****************
আদুরে আলোমাখা স্নেহেরা ফিরে গেছে ...
বৃষ্টির মেঘপিওন ডাকবাক্সে জমিয়ে রেখেছে আগামী জীবনের সবকটা চিঠি ।
যদিও ছেঁড়াকাগজের কালিমাখা অক্ষরগুলো স্নান করে পরিশুদ্ধ হয়েছে তবুও তারা অসম্ভব ঝাপসা আজ !
জানালার ঘষা কাঁচে এখন শুধুই নিস্তব্ধতার আয়োজন !
নশ্বর দেহের প্রতিটি অঙ্গ থেকে খুলে খুলে পড়ছে আবদার মাখা গ্রীষ্মের গয়না ॥
তাও মেয়েটা নিশ্চুপ !
হ্যাঁ , বর্ষা এসেছিলো বন্ধুর মতো দুহাত বাড়িয়ে আঙ্গুল ছুঁয়ে ভেজাতেও চেয়েছিলো ওর পিছল-মন ...
মেয়েটা ভেজেনি বিয়োজনের ভয়ে ॥
শ্মশানে দাঁড়িয়ে ও মেখে নিয়েছে বাবার অবিনশ্বর আত্মা !
৩)
বৃষ্টির বর্ষা
*********
তারিখটা আজ আর মনে পড়ে না ,
আটকে রাখার শত চেস্টা বিবর্ণ করে সে ফিরে গেছে ঠিক সেদিনের মতো করে অন্য কোথাও ...
তবে শোভাবাজারের মুখের বটগাছটা নিজস্ব দম্ভ আর দৃপ্তি নিয়ে মেরুদন্ডীর তকমা বুকে সাঁটিয়ে এখনো আশ্রয় দেয় সহস্র পাগলাঝোরাকে ...
আনকোরা দুপুর-বিকেল-সন্ধ্যায় যখন আকাশের কোল চিকচিক করে ওঠে জলের স্রোতে , , ,
নতুন হলুদ-পাখি ভিজে যায় উষ্ণতার বৃষ্টিতে !
সেদিনও , বৃষ্টির ফোঁটারা ওই বটগাছের পাতাগুলোকে তোষামোদি করে ধীরে ধীরে দুমদাম - টুপটাপ - টিপটিপ নানান মুদ্রায় ঝরে পড়ছিল আমার চোখের কাজল লেপ্টে দিয়ে তোমার রিমলেস চশমার বাইফোকাল কাঁচে ।
রোদ্দুর ভেজা বিকেলে বৃষ্টি নেমেছিলো শহরের মেঘে ,
কিন্তু ...
বর্ষা এসেছিলো দুটো মনের ভিতর ঘরে ॥
সেদিনের শব্দেরা এই মুহূর্তেও আমায় ছুঁয়ে যাচ্ছে ...
মনে পড়ছে , তুমি বলেছিলে , "নদী আছড়ে পড়লে তার কোনো আবরণ থাকে না , সে তখন শব্দবিহীন
"
কি ভীষন অট্টহাসিতে শোভাবাজার কাঁপিয়ে আমি বলে উঠেছিলাম ,
" পর্বত ভাঙ্গছে অণু-পরমাণুতে , তাই বুঝি তার এত্ত উদ্দাম উত্তাল শোকপ্রকাশ ? ? "
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)


