শুক্লা মালাকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শুক্লা মালাকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

শুক্লা মালাকার

                



এই ভরা বরষায়

 

এই ভরা বর্ষায় স্যাঁতসেঁতে দেয়াল

ভেঙে পড়ে, গাঢ় অভিমান

ফোঁটায় ফোঁটায় নেমে আসে ঘাসবনে

গোপন কুঠুরিতে শিহরণ

রবিঠাকুর গুণগুণ, প্রেম রুনঝুন

 

হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি মাপি

সমস্ত জানালা খুলে ভিজে হাওয়ায়

ডানা মেলে উড়ে চলি,

হাজার হাজার মেঘের আলপনায়

জড়িয়ে থাকা কল্পনারা হুলুস্থুল

 

এই অসহ্য বর্ষায়

গোটা শরীর ছুঁয়ে থাকে তিরতিরে ক্ষণিকের সুখ।



আমি যা চাই

 

আজ, তুমুল শ্রাবণে

পার্কের সামনে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে যে যুবক

তার মুঠোয় ভরে দিতে চাই প্রতিশ্রুতি

উথলে পড়া নর্দমার জলে

বৃষ্টি স্নানে মত্ত শিশুদের চোখে

এঁকে দিতে চাই ভবিষ্যৎ

শ্রাবণ আমায় আমার থেকে বিচ্ছিন্ন করে

আমি হয়ে উঠি নির্ভার, সতেজ

হাজার হাজার টুকরো করে

নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই ধূসর শহরে

পচা ডোবার গ্রামে

পৃথিবীর নির্মম মিছিলে।



শ্রাবণের সুখ

 

আকাশে ঝুলে শ্রাবণের মেঘ

অফিস যাত্রীদের মুখ ভার

শহরের রাস্তায় রঙিন ছাতার ভীড়

ফুটপাত বাসীর মাথায় হাত

 

তুমুল বৃষ্টি চাষির বিষন্ন মুখে হাসি ফোঁটায়

সবুজ হয়ে ওঠে খেত

গ্রামে কিংবা শহরে এসময় জানালার পাশে

কেউ কেউ উদাস বসে থাকে

ঝিরি ঝিরি জলকণায় স্বপ্ন মিশিয়ে খাতা ভরায়

নাক উঁচু সমাজ এদের আঁতেল বলে জানে

 

ভরা শ্রাবণে সুখের ডানায় বসে থাকে

কেবল চাষি আর কবি। 



বৃষ্টি ব্যাঙ আর ইলিশ

 

খেয়াল করেছো, বৃষ্টি হলে

আজকাল আর ব্যাঙেরা ডাকে না

তাহলে কি ওরা হারিয়ে গেল?

যেভাবে শহর থেকে হারিয়ে গেছে স্থীরতা

হাসনুহানা ফুটলে সাপেরা মাতাল হতো

টুক করে গিলে ফেলত ব্যাঙ

শিকার হওয়া ব্যাঙেদের আর্তনাদ তুমি শোন?

চারপাশে শাসকের চিবিয়ে খাওয়া মুখ

ঘরে ঢুকে পড়া রাজনীতি

ডাস্টবিনে ফেলে যাওয়া শিশু

লক্ষ লক্ষ মরা অভিশাপ ছায়া হয়ে কাঁপে

খোপে খোপে বাইশ ডিগ্রি তাপমাত্রায়

প্রোরচিত হচ্ছে লোভ, বাইরে গলে পড়া

সূর্যের তাপে যুদ্ধরত সৈনিক

 

এবার মেঘ ঘন হয়ে এলে চল ব্যাঙেদের খুঁজি

ততদিনে শহরে এসে যাবে ইলিশের শব। 


                           

শনিবার, ৩০ জুন, ২০১৮

শুক্লা মালাকার


টাইটেল -  অস্তগামী

শুক্লা মালাকার


অপারেশান ‘ঝড়’
আগেই ঠিক হয়েছে আজ সন্ধ্যেয় বরুণ বাবা ক্ষেপবেন  শুধু একজ্যাক্ট টাইমটা পরে মেসেজ করে জানিয়ে দেবে বলেছে  আজ এগারোটার লিস্ট ধরিয়েছে চিত্রগুপ্ত সেই মতো ন-জন যমদূতের ডিউটি ফিক্স করা হয়েছে  দুজনকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে এখন ভালোয় ভালোয় সবটা মিটে গেলেই হয়
মর্তে আজকাল যা চলছে যমের দূয়ারের সিস্টেমটাই নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে চিত্রগুপ্ত  হিসেব নিকেশ করে যে কটা প্রাণ রেকমেন্ড করেরোজ তার থেকে দু চারটে বেশী এসে যাচ্ছে বেলাবেলি চলে এলে বিশ্বকর্মা ডাটা তুলে দিয়ে যায় রাতবিরেতে হিসেব তোলে কেকম্পুটার যন্তরটি যমরাজের মগজে ঢোকে না চিত্রগুপ্ত তো শুধু পাপ-পূণ্যের হিসেব তুলতেই শিখেছে। আগেই ভালো ছিল এদিক ওদিক হলে পুরোনো হিসেব মুছে চটপট নতুন লিখে ফেলা যেত। ব্রহ্মার আদেশ! হাতে লেখা চলবে না। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেশিন আপডেট রাখতে হবে। ওদিকে নীচে যা চলছে। কত গোঁজামিল দেওয়া যায়। যার আসার কথা চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর পর, বাবা-মার ওপর রাগ করে দিল পুট করে ঝাঁপ মারপিট হল কি আন্দোলন অমনি বোমাবাজি নয় গুলিবাজি পটাপট দু চারটে পরে যাবে ফেলে রাখা তো যায় না। আনাতেই হয়। চিত্রগুপ্তকে পাপের ঘর কতকগুলো মিথ্যে দিয়ে ভরতে হয়। কি জ্বালা! শিব বাবু জানতে পারলে আবার দক্ষজজ্ঞ হবে।  
নিচের ওই ঝামেলার জন্য সবসময় দু-চারটে বাড়তি দূত পাঠিয়ে রেডি রাখতে হচ্ছে। এখন তো আবার সব দূতের কাছে ট্যাব, সঙ্গে নেট কানেকশন রাখার নিয়ম। অবস্থার হেরফেরে ফটাফট মেসেজ করে যমরাজের আদেশ জেনে নিতে পারে । বাড়তি দূত নিয়োগের খরচ বইবে কে? হাড়কেপ্পন বেস্পতির সঙ্গে প্রতি বাজেটে এই নিয়ে ঝামেলা হয়। ইন্দ্র বেটা যে গাদাগুচ্ছের অপ্সরা পুষছে তার খরচ দিচ্ছে কি করে? যম তো জন্ম-মৃত্যুর পুরো সার্কেলটা চালাচ্ছে। তার ওপর পাপ-পূণ্যের বিচার। কত ঝক্কি সামলাবে?
পিং! ওই মেসেজ এলো। অপারেশন শুরু হলে অ্যালার্ট থাকতে হয়। দূতেরা তাজা সংবাদ মেসেজ করে। এখন এমন হয়েছে মেসেজ এলেই বুক ধরপর করে। এই বুঝি লিস্টি আপডেট করতে হবে। দফতরে থাকলে আজকাল রানীও মেসেজ করে না।
‘ বরুণদেব সময় থেকে কুড়ি মিনিট দেরিতে চলছেন। কি করা!’
বোঝ কাণ্ড। এখন আবার তাকে ফোন কর।
-     বাবা বরুণ! তোমার যেতে কতক্ষণ?
-     সরি! সরি! দুপুরে ধোকার ডালনাটি বড়ই স্বাদের হয়েছিল। চাট্টি বেশী খেয়ে ফেলেছিলুম। ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়ে গেছে। এখুনি বেরোচ্ছি। আপনি চিন্তা করবেন না। স্পিড বাড়িয়ে সময় কিছুটা ম্যানেজ করে নেব। ওই ধরে রাখুন আটটা পনের-ষোল হবে।
-     ঠিক আছে বাবা! সাবধানে যেও।
নতুন টাইম সেট করে মেসেজ পাঠালেন
‘রেডি থাকো বাবারা সময় হয়ে এল’
এবারই আসল টেনশন। অপারেশন শেষ না হওয়া অব্দি বুক-পেট গুড়গুড়। ঠিকঠাক মিটে গেলে কেউ বাহবা দেবে না! এট্টু এদিক ওদিক হলেই বেহ্মা তিন মাথা নাড়িয়ে জ্ঞান দিতে থাকবে।
মেসেজ আসতে শুরু করেছে।
দূত ১:  সাকসেসফুল।
দূত ২:  অল্পের জন্য ফস্কে যাচ্ছিল ম্যানেজ হয়ে গেছে
দূত ৩:  সাকসেসফুল   
জয়গুরুজয়গুরু!
দূত ৪:  দুটো পেয়েছি। একটাকে লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।
‘তা তুমিও হাসপাতালে যাও না বাপু। ওখান থেকেই নিয়ে এসো’
দূত ৫:  আনসাকসেসফুল বরুণ স্যার বাজটা ৩০মিটার দূরে একটা নারকেল গাছে ফেলেছেন পার্টির কিছু হয় নি কি করব?

‘ ঘোরোঘোরোঘুরে ঘুরে দেখ এত বড় একটা দুর্যোগ কোথাও না কোথাও একটা ঠিক পেয়ে যাবে  দশ নম্বরকে বলছি তোমাকে জয়েন করতে ও তো স্ট্যান্ডবাই আছে সুযোগ পেলেই যাকে হোক তুলে নেবে নম্বরটা ঠিক থাকা চাই
দূত ৬:  সাকসেসফুল
জয়গুরু! জয়গুরু! ছটা পেয়ে গেছে! একটা ঝুলছে।
দূত ৭:  খাবি খাচ্ছে  কিছুতেই হাতে আসছে না
আরে মেয়েদের জান আসতে কি চায়বল বাড়াও বৎস
দূত ৮:  দুটোই পেয়ে গেছি
দূত ৯:  গাড়িতে তিনজন ছিল  ডাল যেভাবে পড়েছে তিনটেকেই আনতে হচ্ছে

যা বাবা! গুনতিতে আবার বেশী হয়ে গেল। পাঁচ নম্বরটাকে বারণ করতে হবে এখুনি।
দূত ৫ পেয়ে গেছি স্যার। পুরোনো বাড়ির নীচে দাঁড়িয়ে ছিল। দশের বুদ্ধি। একটু বল বাড়াতেই হুড়মুড় করে কার্নিশ ভেঙে পড়েছে। দুজন ছিল তাই দুটোকেই নিতে হল। তবে মুশকিল হল একটা আবার মহম্মদ স্যারের ইউনিটের।

‘ফেরত দে বাবারা! ফেরত দিয়ে দে! এদিকে কাউন্টিং এ বাড়তি’
 দূত ৫ আজ্ঞে তা আর সম্ভব না। যেভাবে চাপা পড়েছে ফেরানোর উপায় নেই
 দূত ১১:  স্যার আমার সামনে যা পরিস্থিতি দুটোকে নিতেই হচ্ছে ওই যাহআরো একটা নিতে হচ্ছে স্যার

উফএকটা অপারেশান যদি ঠিকঠাক হয় ওই বরুণ ব্যাটা টাইম মেকআপ করতে গিয়ে এমন স্পিড বাড়ালো! দিল সব ঘেঁটে  নিজে তো ঘুমিয়ে নিয়েছে, আমার রাতের ঘুমটিকে আচ্ছা করে চটকাল। ওদিকে আবার মহম্মদ স্যারের কাছেও খবর পাঠাতে হবে  উফএ ধকল আর নেওয়া যায় না
আজকের মতো শেষ মেসেজ পাঠালেন
ফিরে আয় বাবারা অপারেশান ওভার!’