.

পৃষ্ঠাসমূহ

  • প্রথম পাতা
  • সৃজন যোগাযোগ
  • সৃজন কথা
  • সৃজন সম্মান ২০১৭
  • সূচিপত্র
শ্রাবণী সোম যশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শ্রাবণী সোম যশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

শ্রাবণী সোম যশ

                                




স্বর্ণকুঠি' 



"ওরে আস্তে আস্তে বাছা  , এই আধভাঙ্গা মার্বেলের বুকে কান পাতলে আজও মলের ঝমঝম শব্দে পায়ে পায়ে ঘুরতে ইচ্ছে করে। তোদের  কাছে এখন চুন সুড়কির গাদা বৈ আর  কিছুই তো নয়। কিন্তু আমার তো সর্বস্ব। একটাই শান্তি  জায়গাটা ভালো কাজে লাগবে। এই মহীপাল গ্রামেরই ছেলে নির্মল ঠিকাদার। ওর ঠাকুর্দা ছিল নামকরা লেঠেল। তারই নরম-সরম  নাতি নির্মল। পেশায়   ঠিকাদার। ওর যখন দু বছর , গাঁজাখোর বাপটা মরলো কামবেশ্বর তলার ঝোপে সাপের কামড়ে।  বড়ো জাগ্রত শিব এই কামবেশ্বর। কামবেশ্বরের ফুল বেলপাতা দিয়েই তো আমার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মহানারায়ণ পাল। যেমন ধনী তেমনই গুণী জমিদার। তার নামেই তো চন্দ্রপুরের নতুন নাম হলো মহীপাল। ওরে ওরে দেখে বাপ আমার, এই জীর্ণ শরীরে এখনও ব্যথা টের পাই রে। লোকে বলে খ্যাপাটে নির্মল। নিজের মনে কথা কয়।  আমার সুখদুখের কথা তো ওই একমাত্র বোঝে। বেটা এখন কাজ পেয়ে কথায় গা করছেনা"।
- আহ থামো দিকিনি , না আছে তোমার ঐ স্বর্ণকুঠি নাম আর না আছে আগের সেই গৌরব। এখন তো লোকে ভাঙ্গাকুঠি নাম দিয়েছে তোমার । তাও এত দেমাক কিসের।
ধমকায় নির্মল। ভাঙাচোরা রাবিশ সরানোর কাজে ব্যস্ত কুলি- কামিনরা ওর আপনমনে  বকবকানি দেখে হাসে। এসব গায়ে মাখে না ও।

ছোটবেলায় মায়ের সাথে স্বর্ণকুঠির বাগানে প্রথমবার  কাঠ কুড়াতে এসে  রংচটা থামগুলোর গায়ে হাত বোলাতেই শুনতে পেয়েছিল,
- আহ ! কতদিন বাদে সেই কমলাবতীর মতো মিঠে হাতের ছোঁয়া পেলাম।
চমকে সরে এসেছিল নির্মল। খুব ভয় পেয়ে গেছিলো সেদিন। আবার পরেরদিন কি এক অদ্ভুত নেশার টানে  এসে  এই বিশাল বাড়িটার আধখসা থাম দেওয়াল জং ধরা গরাদ দরজার ইয়া পাল্লা ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছিল। পায়ে পায়ে লম্বা বারান্দা ছাড়িয়ে বাগানের কোণে কামবেশ্বর মন্দিরের চাতালে গিয়ে বসেছিল। পেয়ারা কাঁঠাল জামরুল আম সবেদা কি নেই ! যে যার খুশিমত পেড়ে খায়। সাপখোপ , দু চারটে হাড়গিলে শেয়াল বেঁজির রাজত্ব আছে ঠিকই তবে তাতে ও ডরায় না। পাঠশালায় ছুটি হলেই আধখামচা সোনালী রঙের  ভাঙাচোরা ঘরগুলোয় ঘোরার নেশায় ছুটে আসতো ও। মায়ের কাছে শুনেছে  আরও অনেক আগে পুরো বাড়িটাই সোনালী রঙের ছিলো। আর  একদম ওপরে একটা ছোট সোনার স্তম্ভ ছিল তাতে অনেক আলো বসানো ছিলো। সেই আলো যখন গোটা বাড়িতে ঠিকরে পড়তো সত্যিই নাকি মনে হতো সোনার বাড়ি। নামও ছিল স্বর্ণকুঠি।

পাঠশালায় ছুটি হলেই  রোজ চলে আসতো এখানে। কি করে যেন ভারি বন্ধুত্ব হয়ে গেল এই স্বর্ণকুঠির সাথে। প্রতিটি দেওয়াল কড়ি বরগার কথা শুনতো মুগ্ধ হয়ে।  শিকড় গজানো লোহা বের করা সিঁড়ির ধাপে আলতো পায়ে ভর দিয়ে পৌঁছে যেত দোতলার বিশাল হলঘরে, যেখানে ঝাড়লণ্ঠনের স্মৃতি আঁকড়ে শূন্য আংটাগুলো মূকাভিনয় করছে।   দেওয়ালের ফ্রেশকো ছিঁড়ে গজিয়ে ওঠা লতাগুল্মের বাহুডোরে ধরা দিয়েছে স্যাঁতস্যাঁতে ঐতিহ্য। আবার কখনও আগাছার ঝোপ সরিয়ে নেমে যেতো মন্দিরের নিঃঝুম গর্ভগৃহে। মুগ্ধ হয়ে শুনতো কমলাবতীর কথা স্বর্ণকুঠির জবানে,
- দুধে-আলতায় ডোবানো পায়ের ছাপ ফেলে ষোড়শী কমলাবতী এগিয়ে চললো  অন্তঃপুরে। গায়ের রং আর পায়ের ছাপ দুই  মিলেমিশে একাকার। সাথে নতুন বউয়ের গয়না,  মলের ঝমঝম শব্দ। আমার পাথুরে বুকটা জুড়িয়ে যেত ওর কোমল স্পর্শে মিঠে সুরেলা গলার স্বরে।
শুনতে শুনতে কিশোর নির্মলেরও মনে খুব সাধ হতো সেও একবারটি কমলাবতীকে ছুঁয়ে দেখবে। প্রশ্ন করতো,
- কমলাবতী কে ?
-মহানারায়নের পুত্র বীরনারায়ণ, তার যমজ পুত্র হোল প্রতাপনারায়ণ  আর প্রদীপনারায়ণ । প্রসূতিগৃহেই মোহানারায়নের স্ত্রী   রানিমা মারা গেলেন। এমনই লিখন,  তার কিছুদিনের মধ্যেই দুই ছেলেও পিতৃহারা হলো। দুই ভাইয়ের কারোরই ঝোঁক ছিলোনা জমিদারীতে। নায়েবই ওসব সামলাতেন। কমলাবতী হল ছোটছেলে প্রদীপের স্ত্রী। প্রদীপ ছিল আমুদে  দিলদরিয়া কিন্তু রাগলে চন্ডাল।  শিকারের প্রবল নেশায় মাসে অন্ততঃ সাতদিন জঙ্গলেই কাটাতেন।   জঙ্গলের মোহিনী আকর্ষণের  কাছে হার মেনেছিলো কমলাবতীর স্নিগ্ধ রূপলাবণ্য। এদিকে প্রতাপ ছিল আত্মকেন্দ্রিক ঘরমুখী কিন্তু সুরের সাধক। যেকোন বাদ্যযন্ত্র ওর আঙুলে প্রাণ পেতো। কিন্তু কিছুতেই সংসারী হতে রাজি হলেন না।
গল্প শুনতে শুনতে সড়সড় করে হয়তো সাপ চলে যেতো নির্মলের গা ঘেঁষে। হুশই  থাকতোনা ওর বাড়ি ফেরার। কতবার যে লাঠিপেটা খেয়েছে মায়ের কাছে।


ভাঙা স্বর্ণকুঠির  রাবিশ সরানোর কাজ পেয়েছে নির্মল। তারপর এই জমিতে মেয়েদের হাইস্কুল হবে। ইদানিং গ্রামের বেশ কিছু বখাটে ছেলে আস্তানা গেড়েছিলো ওই স্বর্ণকুঠিতে। নালিশ করেও লাভ হয়নি। এদ্দিনে একটা কাজের কাজ হবে। নির্মল মনে মনে ভাবে গ্রামের মেয়েগুলোকে আর ভিন গ্রামে যেতে হবে না পড়তে। ভাব
এটা সেটা ভাবতে ভাবতে  কখন যে স্বর্ণকুঠি পৌঁছে গেছে খেয়ালই করেনি। দু তিনটে করে সিঁড়ি টপকে কোনোরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে দোতলায় দক্ষিনদিকের বিশাল ঘরটায় এসে দাঁড়ালো নির্মল। দেখলেই বোঝা যায় এটা প্রতাপনারায়ণের সংগীত মহল। ঘরের মেঝেজুড়ে উইযের আল্পনা।  এখনও দোয়ালের কোথাও কোথাও বাদ্যযন্ত্রের অংশবিশেষের মলিন চিত্র চোখে পড়ছে। কত অনুরণন কত সুর মুর্ছনার সাক্ষী এই ঘরের প্রতিটি কোণ ! ওমনি কানে এলো,
- সুর না সুরের অভিশাপ ! 
- অভিশাপ কেন হবে, ধনীদের ওসব বিলাসিতা তো থাকেই। কথা বলতে বলতেই কেমন দমবন্ধ লাগে নির্মলের। এতদিনের পুরোনো বাড়ি !  ওর মনের কথা যেন পড়ে ফেলে রংচটা দেওয়াল আধভাঙ্গা জানলা দরজা সবাই।
- এঘরের বাতাস তো ভারী , হাঁপিয়ে তো  উঠবেই তুমি । তার চেয়ে  বরং মন্দির চাতালে বসো। ওরা কাজ করুক ওদের মতন।
মন্দিরের শ্যাওলাধরা সিঁড়িতে বসে নির্মল উদাস হয়ে যায়। বাগানটারও  হতশ্রী দশা। ভেতর দালানের পাশে কয়েকটা পেয়ারা আর টগর গাছ টিকে আছে এখনও। দালানেই গাঁজা জুয়ার ঠেক বসছিল কয়েকমাস ধরেই।

মনটা হু হু করে নির্মলের, মনে পড়ে যায় পুরোনো কথা, কমলাবতীর কথা। তখন নেশা ধরে গেছিলো কমলাবতীর গল্প শোনার। দুপুর বিকেল যখন হোক লুকিয়ে চুরিয়ে পৌঁছে যেত স্বর্ণকুঠি, ডুবে যেত গল্পে, মুগ্ধ হয়ে শুনতো,
- কিশোরী কমলাবতী লঘুপায়ে এঘর ওঘর দালান ঘুরে বেড়াতো। সারাদিন শুনতাম  ওর মলের মিষ্টি শব্দ। বাগানে রঙিন প্রজাতির মতো ঘুরে বেড়াতো। ভারী ভালো মেয়ে। প্রতাপকে সমীহ করে একটু দূরে দূরেই থাকতো। একবার  হয়েছে কি , প্রদীপ গেছে শিকারে আর দুপুরবেলায় কমলাবতী ঘুরতে ঘুরতে প্রতাপের ঘরের সামনে যে বড় হল টা আছে ওখানে এসে দাঁড়িয়েছে।  ওর সেতারের সুর মুগ্ধ হয়ে শুনছে। শুনতে শুনতে আপন খেয়ালে সুরের তালে হলময় ঘুরে ঘুরে নাচছে ঠিক যেন দেবতাকে সমর্পণ করছে ওর ভক্তি - ভালোবাসা। এরপর থেকেই রোজ ওই সুরের টানে কমলাবতী উঠে আসতো ওপরে।  কোনোদিন বাঁশি তো কোনোদিন এস্রাজ বা তবলায় বোল তুলতো প্রতাপ আপনমনে। ও টেরও পায়নি যে কমলাবতী রোজ সুর- তালের ছন্দে মেতে ওঠে। একদিন রাতের  প্রথম প্রহরে  প্রতাপ  বাজাতে বাজাতে বাঁশিটি রেখে হলে বেরিয়েই দেখলেন অপুর্ব লীলায়িত ভঙ্গিতে কমলাবতী নেচে চলেছে। যেন মীরা,  শ্রীকৃষ্ণের চরণে নিবেদন করছে নিজের ভক্তি। মুগ্ধ হয়ে গেলেন প্রতাপ। বাঁশিটা নিয়ে আবার বাজাতে শুরু করলেন কমলাবতীর চারপাশে ঘুরে  ঘুরে। খোঁপা ভেঙে মেঘবর্ণ চুল লুটিয়ে পড়েছে কোমর ছাপিয়ে, স্খলিত আঁচল, পদ্মফুলের মতো মুখমণ্ডলে মুক্তোবিন্দু ঘাম। একজন সুরে মুগ্ধ আরেকজন সুষমায় ! কখন  যে সেখানে প্রদীপ ফিরে এসে দাঁড়িয়েছে দুজনের কেউই টেরও  পায়নি। ক্রোধে উন্মাদ হয়ে গেল প্রদীপ। হাতে শিকারের দো-নলা বন্দুক। চিৎকার করে উঠলেন, এইসব রসলীলা  চলছে আমার অনুপস্থিতিতে। সম্বিৎ ফিরতেই চমকে নিজেকে গুটিয়ে নিলো কমলাবতী। প্রতাপও নিজ কক্ষে ফিরতে উদ্যত কিন্তু কোনকিছুরই সুযোগ দিলো না প্রদীপ। আমি চিৎকার করে বলেছিলাম ভুল হচ্ছে।  চরম ভুল। ফুলের চেয়েও নিষ্পাপ মেয়ে ও।  চিৎকার করে বলেছিলাম ওকে মেরো না। ওর যে অনেক কিছু বলার আছে তোমাকে। ততক্ষণে প্রতাপও নিজের ঘর থেকে বন্দুক নিয়ে এসেছে। কেউ শোনেনি আমার কথা। কেউ না। স্বর্ণকুঠির নোনা স্যাতস্যাতে দেওয়াল আরো একটু ভিজে ওঠে স্মৃতির ভারে।
- কি হলো চুপ করে গেলে কেন। বলো কি হয়েছিল সেদিন।
- যা হয়েছিল সেতো গ্রামের সবাই  জানে। প্রদীপের বন্দুকের গুলিতে লুটিয়ে পড়লো কমলাবতী। দু দুটো প্রাণ চলে  গেল একসাথে। প্রদীপকে বলার অপেক্ষায় ছিল ও। বলা হলো না। কেউ জানলো না কমলাবতী মা হতে চলেছিল। 
- হ্যাঁ জানি প্রদীপনারায়ণ বউকে মেরে দুঃখে নিজেও গুলিতে আত্মহত্যা করেছিল। তবে তার আগে প্রতাপ নারায়ণ এর মাথার খুলি দু টুকরো করে দিয়েছিল গুলিতে।
-  দুই ভাইয়ে তুমুল বচসা। দুজনের হাতেই বন্দুক। হাতিহাতিতে প্রদীপের  বন্দুকের গুলি প্রতাপের  মাথা ফুঁড়ে এসে  লাগলো আমার ছাতিতে। উফফ কি কষ্ট ! না না গুলিতে নয়, চোখের সামনে গোটা পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল। এতগুলো  প্রাণ চলে গেল!  অসহায় আমি চুপ করে দেখলাম। কাউকে বাঁচাতে পারলাম না। আমার সর্বাঙ্গ  এমনভাবে জমির সাথে শক্ত করে গাঁথা ছিল আমি কিছুই করতে পারলাম না। সেইদিন থেকে চিড় ধরলো  আমার শরীরে ।

নির্মল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে বেশিরভাগ ভাঙা আবর্জনা সরিয়ে ফেলেছে ওর  লোকজন। কিন্তু এই কাজটা করে ও  একদম খুশি নয়। ওর ছোটবেলার স্বপ্নের রাজ্য এটা। শুধু ছোটবেলা কেন আজও ওর জীবনের অচ্ছেদ্য সঙ্গী এই স্বর্ণকুঠি। আজও দুজনে দুজনের সুখ দুঃখ ভাগ করে নেয় চাতালে। ও না করলে অন্য কেউ করবে এই কাজটা। করবে নির্মম ভাবে। তবে নির্মল ভেবেই রেখেছে মূল ফটকের সামনের প্রিয় মার্বেলের টুকরোটা ও নিজের কাছেই রাখবে। স্বর্ণকুঠির মূল দুটো স্তম্ভ আড়াআড়ি এমনভাবে ভেঙে পড়েছে যে গোটা বাড়ির বেশিরভাগ অংশই  তাতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে। একেবারে ধ্বংসস্তুপ। পেয়ারা গাছের খানিকটা থেঁতলে গেছে। আর গাছ !  বাড়িটারই কিছু বাঁচলো না। এইতো দু সপ্তাহ আগেও ও কতক্ষন কাটিয়ে গেছে বাইরের দালানে। কই একবারও মনে হয়নি তো এভাবে হঠাৎ সব ধ্বংস হয়ে যাবে। স্বর্ণকুঠি নিজেও কি বুঝেছিলো শেষের সে দিন ঘনিয়ে এসেছে। স্কুলফেরত বাচ্ছাগুলো দুদ্দার ছুটে এসে পেয়ারা পাড়ছিলো। ওদের দলে মাঝে মাঝেই কমলিটাও থাকে। নির্মল দেখলেই সাবধান করতো বাচ্ছাগুলোকে, সাপখোপ আছে। মনে মনে হেসেছিল ওর মতো কমলিটারও কি স্বর্ণকুঠির নেশা ধরলো ! ওর ই তো মেয়ে। ও নিজেও তো কমলীর মতো 6 বছর বয়স থেকেই স্বর্ণকুঠিতে আসতো। পিলার দুটো সরালেই কাজ শেষ।  অদ্ভুত ব্যাপার এতবড় আর ভারী  পিলার উল্টে পড়েছে, কিন্তু টুকরো টুকরো হয়ে যায়নি। যারা সেদিন ওই ভেতর দালানে জুয়ার আসর বসিয়েছিল তাদের মধ্যে দুজন আহত হয়েছে ওই পিলারের নীচে। একজনের কোমর থেকে নিম্নাঙ্গ থেঁতলে গেছে আরেকজনের হাত দুটো গুঁড়িয়ে গেছে। দুজনেই হাসপাতালে। আদৌ বাঁচবে কিনা কে জানে। পিলারগুলো ভেঙে ভেঙে সরাতে হবে। প্রথম পিলারের পর দ্বিতীয়টা একটু সরাতেই তলা থেকে একটা চ্যাপটানো জুতো আর ফ্রকের ছেঁড়া অংশ দেখা গেলো। চমকে উঠলো নির্মল, একি এত কমলির জামা জুতো। কমলি এসেছিল সেদিন এখানে ! কই বলেনি তো। থেবড়ে বসে পড়লো ও ওখানেই। কি সর্বনাশ ! যদি কমলির কিছু হতো ! যদি চাপা পড়ে যেতো পিলারের নীচে ! ও বাঁচতো না। জানতেই হবে কমলির জামা জুতো এখানে এলো কি করে । সব মজুরদের দুপুরের খাবারের ছুটি দিয়ে দিল নির্মল। আজ পুরোটা না জেনে ও কিছুতেই বাড়ি ফিরবে না। কমলি যে এসেছিল সেটা তো বুঝতেই পারছে। কিন্তু কই কমলি তো কিছুই বলেনি । নাহ ওকে শুনতেই হবে। চিৎকার করে ওঠে নির্মল,
- বলো বলো আমার কলমী কি করছিল এখানে।
- তোমার কলমী তো ঠিক আছে কিছু ক্ষতি তো হয়নি ওর। তাহলে আর কেন চিন্তা করছো এত। আমি কি পারি তোমার কলমীর কোনো ক্ষতি করতে !  এবার আমায় বিদায় দাও। অস্থির হয়ে ওঠে পিতার বাৎসল্য। কিছু তো ঘটেছে যেটা ও জানেনা।
- বলতেই হবে তোমাকে । এই অস্থিরতার মধ্যে আমাকে ফেলে রেখে তুমি চলে যেতে পারো না।
- বাচ্ছাগুলো রোজই আসে পেয়ারা খেতে। ডালে চড়ে লাফায় ঝাঁপায় পেয়ারা খেয়ে বাড়ি যায়। সেদিন মেঘে কালো হয়ে এসেছিল চারিদিক। কলমী একাই এসেছিল পেয়ারা পাড়তে। ভেতর দালানে তখন দুজন বসেছে তাস আর গাঁজার ছিলিম নিয়ে। কলমীকে দেখেই ওরা হাত নেড়ে ডাকলো ভেতরে।
- আহ থেমো না বলো। চুপ করে থেকো না আর। জানি খুব কষ্ট হচ্ছে তোমার। সবাই ভাবে তোমার সারা শরীরে নোনা ধরেছে কিন্তু আমি জানি ওটা তোমার কান্না, চোখের জল। একটিবার একটু কষ্ট সহ্য করে বলো
- ওরা কলমীকে বললো, অনেক পেয়ারা দেবে ওদের কোলে বসলে। আমি চিৎকার করে বললাম কলমী বাড়ি যাও ঝড় উঠবে এখুনি। ওরা দুষ্টু লোক। চঞ্চল কলমী লাফাতে লাফাতে ছুটে এলো ওদের কাছে। হেসে উঠলো ওরা দুজনেই। আমি ভয় পেয়ে গেলাম ওদের কান্ড দেখে। কি করি এখন । ওরা ওর গাল টিপছে জামা তুলে ওর পাপড়ির মতো শরীরে।
- আহ চুপ করো তুমি। আমি আর শুনতে পারছিনা। তুমি আমার কেউ না। চুপ করে দেখলে তুমি। কিন্তু কমলীর কিছু হলে ব্যথা পেলে ওর মা তো বলতো আমাকে। বলো তুমি আমি সব শুনবো।
- আমি অসহায় চিৎকার করছি কেউ এগিয়ে আসছে না। কিভাবে রক্ষা করি এই পাষন্ডদের কবল থেকে। কলমীর দু হাতে দুটো পেয়ারা ধরিয়ে দিয়েছে ওরা। এবার ওরা ওর ইজের ধরে টানছে। ছোট্ট ছোট্ট হাতগুলো দিয়ে কলমী ওদের হাত সরিয়ে দিচ্ছে। ওরা তত মজা পাচ্ছে। ভাবছি  আবার কি সেই আগের মতোই মুক আমি দেখবো। আগেরবার তো পারিনি, মান প্রাণ কিছুই রক্ষা করতে। এবারেও কি ! কি করি। কিন্তু হুড়মুড়িয়ে ওদের গায়ে পড়লে কলমীও তো বাঁচবে না। বাবা কামবেশ্বর সহায়। প্রচন্ড ঝড়ে ধুলোয় কলমী ছিটকে পড়লো উঠোনে। ওর জামাটা ছিঁড়ে গেল ওদের হাতের টানে। সুযোগ কাজে লাগলাম আমি। এই পোড়ো জান দিয়েও ক্ষতি হতে দেব না কলমীর। সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করে নিজের মূল স্তম্ভ নড়িয়ে পড়লাম ওদের ওপর। ততক্ষনে কমলী ভয়ে খালি পায়েই ছুটছে বাড়ির পথে। আমি বুঝলাম আমি পেরেছি। আমি জিতে গেছি এবার। কমলিবালা না হোক কলমী রূপে তো তাকে রক্ষা কোরতে পেরেছি। আহ কি শান্তি !
আজ স্কুলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হলো। কলমীকেও এই স্কুলেই ভর্তি করে দিয়েছে নির্মল। বিশাল গেটের ওপর সোনালী ফলকে লেখা কমলিবালা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। আর শ্বেত পাথরের টুকরো টা আজও নির্মলের বাড়ির ঠাকুর ঘরের চাতালে লাগানো আছে।  


প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৬:১৩ AM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অণুগল্প, শ্রাবণী সোম যশ

রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

শ্রাবণী সোম যশ



 

ছিন্নবীণার সুর 

তৃষা অমৃতা আর সোহিনী তিন ফেসবুক ফ্রেন্ড আজ প্রথমবার মিট করবে। এতদিন ফোন whatsapp এ চলছিল ভালোই। সোহিনী uk থেকে এসে আটকে গেছে বাড়িতে। অনলাইনে কাজ চলছে ঠিকই তবু হাজার সমস্যা। কিছুদিন যাবৎ তৃষাও খুব ডিস্টার্ব বছরখানেক আগেই ওর হাজব্যান্ড মারা গেছে।  তাই  ঠিক হয়েছে গাড়ি নিয়ে তিন বন্ধু বেরিয়ে পড়বে। পুরুলিয়ায় অমৃতাদের গ্রামের বাড়িতে দুটো দিন একটু হৈচৈ করা এই আর কি। প্ল্যান তো ওদের অন্যরকমই  ছিল প্রথমে,  গোয়া বা কোভালাম গিয়ে বিন্দাস মস্তি করার। কিন্তু এখন এই পরিস্থিতিতে সেটা তো সম্ভবই নয়। অমৃতার গাড়িতেই যাবে। প্রথমে তৃষাকে তুলে তারপর সোহিনী কে নিয়ে সোজা হাইওয়ে ধরবে। 

তৃষা গাড়িতে উঠেই অমৃতাকে জড়িয়ে চুমু খেয়ে হেসে কেঁদে পুরো জমজমাট একটা সিন করলো। অমৃতা যত বোঝায়, ওরে থাম থাম কে শোনে কার কথা। এই পর্ব শেষ হতে না হতেই সোহিনী উঠে পড়ল। সোহিনী বরাবরের মতোই সংযত কিন্তু চোখে খুশির ঝিলিক,  দুই বন্ধুকে প্রথম ছুঁতে পারার আবেগে। প্রথম চাক্ষুষ করার আবেগ কমতেই দুই বন্ধু পড়লো অমৃতাকে নিয়ে। 'উফফ ক্যায়া হুসন, ক্যায়া জলয়া'। নামী মডেল অমৃতা, ওকে দেখলেই চোখ আটকে যায় ওর সাজানো গোছানো শরীরে। সোহিনীও জিন্স আর টপে টিপটপ। তৃষার চেহারায়  বরং বয়সের তুলনায় কিছুটা ভারিক্কি ভাব। নিঃসন্তান তৃষা কিছুদিন আগে স্বামীকে হারিয়ে খানিকটা এলোমেলোও বটে। সোহিনী এখনও বিয়েই করেনি। নিজের কর্মজগতে চূড়ান্ত সফল। অমৃতার প্রেমিক ওর অপেক্ষায়। এই মুহূর্তে করোনাকে সাক্ষী রেখে বিয়ের পরিকল্পনা নেই।  

পুরুলিয়ায় পৌঁছে চান খাওয়া সেরে তিনজনে জমিয়ে আড্ডায় বসলো। ছিমছাম পাকা দোতলা বাড়ি অমৃতাদের। ছোট্ট একটা বাগান যেটা এই মুহূর্তে অযত্নে আগাছায় ভর্তি। উঠোনটা পেরিয়ে মাটির দেড় তলা আরেকটা বাড়ি । আপাতত সেখানে ওদের পুরোনো চাষি নেলকো আর ওর বউ থাকে। তারাই ওদের রান্নাবান্না করে রেখেছে। আজকের অমৃতা যদিও এই পরিবেশ এই বাড়িতে একেবারেই বেমানান তবুও এখানে পৌঁছে থেকেই ও সেই আগের কিশোরিবেলায় ফিরে গেছে। চোখমুখের এই উচ্ছলতার অনেকটাই হারিয়ে গেছিল ওর পালিশ করা সৌন্দর্যের আড়ালে। সূর্যের তেজ একটু কমতেই তিন বন্ধু বেরিয়ে পড়লো ঘুরতে। খোলা মাঠ শ্রাবণের আকাশ দেখে গুনগুন করে গান ধরলো তৃষা। থামতেই সোহিনী বলে উঠলো, " এত মিষ্টি গলা তোর ! থামলি কেন রে"। ততক্ষণে ওরা কংসাবতীর ধারে এসে পৌঁছেছে। বর্ষার জলে পূর্ণ যুবতী কংসাবতী, রূপের দেমাকে দুপাশের তীর,  গজিয়ে ওঠা গাছ গাছালিকে উপেক্ষা করে স্পর্ধা ভরে এগিয়ে চলেছে। তৃষা ছুট্টে গিয়ে নদীর ধারে মোটা একটা গাছের গুঁড়িতে পা ছড়িয়ে বসেই গলা ছেড়ে গান ধরলো , 'ওগো নদী আপনবেগে পাগলপারা'। অমৃতা আর সোহিনীও গুটি গুটি পায়ে গিয়ে প্রকান্ড গুঁড়িটায় ঠেস দিয়ে বসলো। তৃষা গান শেষ করেই ওদের দিকে ফিরে বললো, 
- এই যে ম্যাডামরা, আপনারা এবারে একটু পেট খুলুন তো। অমৃতা তুই শুরু কর। আজ তোর প্রেমিকের কথা শুনবো।  
পড়ন্ত সূর্যের আভা এসে পড়েছে জলে। সেই লালিমায় ভিজে অমৃতাকে নবীন কিশোরীর মতো লাগছিলো। কচি ঘাসের ডগা ছিড়ে দাঁতে চিবাতে চিবাতে নদীর বেগে হারিয়ে ফেললো নিজেকে। 
- তখন মাধ্যমিকের পর ছুটি চলছে।  আমাদের বাড়ি থেকে দু তিনটে বাড়ি পরেই বুবান দাদাদের বাড়ি। বিধবা মায়ের একমাত্র ছেলে বুবান দাদা। ও  আমাকে ইলেভেনের অংক দেখিয়ে দিত। এন্ট্রান্স পরীক্ষার পর তখন ছুটি চলছে ওর ও ।  রেজাল্টের অপেক্ষায় দিন গোনা। একদিন দুপুরে আমি বুবান দাদাদের বাড়ি গেলাম যে অংকগুলো পারিনি সেগুলো দেখিয়ে নিতে। 
- ওহ তার মানে তোর সেই স্কুল লাইফের প্রেম। এত পুরোনো চাল রে ! 
ফোড়ন কাটলো সোহিনী। কিছুই কানে গেল না অমৃতার। অমৃতা তখন ফিরে গেছে ষোল বছরে।
- নীচের তলায় এঘর-ওঘর খুঁজছি কেই নেই। বুবান দার মা কেও দেখতে পেলাম না। মাসি মাসি করে ডাকতে ডাকতে দোতলায় উঠলাম। নাহ, কারোর সাড়া নেই। খাতা বই বুকে চেপে ধরে  চলে যাবো বলে সিঁড়ির দিকে পা বাড়িয়েছি , বাসন পড়ার শব্দ। ফিরে গিয়ে দেখি বুবান দার হাত থেকে জলভর্তি গ্লাস পড়ে গেছে। মেঝেভর্তি জল। বুবান দার চোখ লাল। গায়ে জ্বর। মাসি গেছে ডাক্তার কাকুর সাথে কথা বলে ওষুধ আনতে। একগ্লাস জল এনে বুবান দাকে দিলাম। বললাম, আজ তো তাহলে অংক হবেনা পরে আসবো। চলে যাবো বলে পিছন ফিরেছি বুবান দা হাত টা ধরে টানলো,  একদম ওর বুকের কাছে। জানিস, ওর জ্বরতপ্ত নিঃশ্বাসে আমার গাল গলা বুক পুড়ে যাচ্ছিল। জিভ আলজিভ বেয়ে তেষ্টা পেয়ে গেছিলো ভীষন। আমার একটুও  ইচ্ছে করছিল না ওকে বুকের কাছ থেকে সরতে, ওকে ছেড়ে বাড়ি যেতে। আমি চোখ বন্ধ করে অপেক্ষা করছিলাম ওর উষ্ণ গভীর স্পর্শের। আমার সব তেষ্টা বুবান দা নিজের ঠোঁট দুটো দিয়ে শুষে নিয়েছিল। নিস্তব্ধ দুপুরে ফ্যান এর হাওয়ায় কেবল আমার অংক খাতার পাতা ওড়ার শব্দ। সেই প্রথম বুঝলাম শরীর মানে মন্দির। আঙুলের ডগা ছুঁয়ে শরীরের প্রতিটি শিরা উপশিরায় উৎসবের মাদল।  নদীর ভরা কোটালে পূর্ণ  অবগাহনের তৃপ্তি আমার অঙ্গে অঙ্গে। আমি তখন  শরীরী শিশিরের স্পর্শসুখে বিভোর ভোরবেলার একমুঠো জুঁই। বুবান দা, আমি যে তোমায় এতটা ভালোবাসি আমি নিজেও কি ছাই জানতাম ! 
অমৃতার দুচোখে টলটলে প্রেম।
 - তারপর কি হলো বলবি তো। এই বুবান দাই কি তোর এখনকার... 
কলকল করে উঠলো তৃষা। একই প্রশ্ন সোহিনীর চোখেও। 
- তার আর পর হলো কই ! বুবান দা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যাদবপুরে চলে গেল, সাথে মাসিকেও নিয়ে গেল। কিছুদিনের মধ্যেই জমি বাড়ি বিক্রি করে পাকাপাকি কলকাতায় চলে গেল ওরা। আর কিছু খোঁজ পাই নি রে। 
আফসোসে  ভেঙে পড়ল তৃষা সোহিনী।  সোহিনী বললো, 
- এরকমই বোধহয় ঘটে জীবনে। 
সন্ধ্যের অন্ধকার গায়ে মেখে তিনজন ফিরে এলো কংসাবতীকে একা রেখে।

বাড়ি ফিরেই অমৃতা আবার স্বমূর্তি ধারণ করেছে। পাকা গিন্নির মতো ওদের খাওয়ার শোবার ব্যবস্থায় লেগে পড়েছে।  চা মুড়ি নিয়ে বসে এবার অমৃতা চেপে ধরেছে ওদের দুজনকে। 
- আমি তো ডায়েরীর পাতা খুলে তোদের পড়ালাম এবার তোরা  নিজেদের বেড়ালগুলো ঝুলি থেকে বের কর তো সোনা। 
আড়মোড়া ভেঙে বুকে বালিশ নিয়ে পা নাচতে নাচতে তৃষা বললো ,
 - আমার জীবনে  তো পেরেম, সরবে নীরবে কোনোভাবেই এলো না রে। যা কিছু ওই একমাত্র বরের সাথে। সোহিনী তুই এত সুন্দরী, হাই প্রোফাইল জব তোর পিছনে নিশ্চয়ই বিশাল লাইন। আজ অবধি কে কে তোমাতে দিওয়ানা হয়েছে শুনি একটু। 
হেসেই উড়িয়ে দেয় সোহিনী।
 - কাজের চাপে প্রেম যে কোন ফোল্ডারে রেখেছি আর কি যে তার পাসওয়ার্ড বেমালুম ভুলে হজম করে ফেলেছি। তার চেয়ে বরং তৃষা তোর বিয়ের গল্প বল তো। শুনি। 
অমৃতাও হই হই করে ওঠে, 
- বল বল। আমিও  বিয়ের আগে একটু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে নিই। 
উঠে গিয়ে ঘরের সব জনলাগুলো খুলে দিলো তৃষা। আজ পূর্ণিমা। মেঘ সরে গিয়ে ঝলমলে চাঁদ এসে লুটিয়ে পড়েছে  মেঝেয় পাতা মাদুরে। আলোটা নিভিয়ে দিয়ে জানলা ধরে দাঁড়িয়ে গান ধরলো , 'ভালোবাসি ভালোবাসি এই সুরে কাছে দূরে ...'
 - পাড়ার পুজোয় প্রতিবছর ফাংশান হতো। এই গানটা দিয়েই শুরু করেছিলাম সেবার। গান গাওয়া শেষ করে স্টেজ থেকে নামতেই বাবা বললো, এনারা কাকুলিয়ার ওদিকে থাকেন। ঠাকুর দেখতে এসে তোর গান শুনে দাঁড়িয়ে গেছেন। প্রণাম করলাম হাসিমুখ মাসিমাকে। সাথে ছিল ওনার একমাত্র ছেলে বাবা মায়ের সাথে গল্প চলার ফাঁকেই আমি কেটে পড়লাম বন্ধুদের সাথে ঘুরতে । লক্ষ্মী পুজোর পরই  ফোনটা  এলো বাড়িতে।  আমাকে ওনার  পুত্রবধু করতে চান।  তিন মাস পরেই ছেলে আমেরিকায় চলে যাবে, তাই তার আগেই বিয়ে দিতে হবে। বিয়ের পরে বউকেও  নিয়ে যাবে। এরকম সুপাত্র তায় আবার যেচে এসেছে !  বাবা - মা হতে চাঁদ পেলো জানিস। 
- আহা তুই বুঝি কিছু কম ! মাযেদের ওই স্বভাব পরের ছেলে সবসময়ই  ভালো।
রাগ দেখালো  অমৃতা।
- বিয়ে আর পাসপোর্ট- ভিসার প্রস্তুতি একসাথে চললো। বিয়ের দশ দিনের মাথায় নীল আমেরিকা চলে গেল আর তার একমাস পরে আমিও চেনা জগৎ ছেড়ে অচেনা দেশে অচেনা একটা মানুষের কাছে গিয়ে উঠলাম। তিন বছরের এসাইনমেন্ট ছিল নীলের।  সেটা শেষ হতেই নতুন একটা প্রজেক্ট হেড করে ওকে তখন অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা চলছে। নীল ব্যস্ত থাকতো সবসময়। ভীষণ ব্যাস্ত কাজ  নিয়ে। সফলতার আকাঙ্খায় ও মত্ত। এদিকে শাশুড়ি মা একা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আমিও আর পেরে উঠছিলাম না ওই উইকেন্ড পার্টি আর গোটা সপ্তাহ মুখবুজে গৃহবন্দী থাকতে। একটা বাচ্চা চাইছিলাম ভীষণ ভাবে। নীলের আপত্তিও ছিল না, সমর্থন ও না। সুযোগ টা করে দিলেন শাশুড়ি মা। অজ্ঞান হয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি হলেন। নীল বুঝলো এক্ষুনি অস্ট্রেলিয়া যাবার সিদ্ধান্ত ঠিক হবে না। খুশির পালকে  ভর করে ফিরে এলাম প্রাণের শহর কলকাতায়। এবারে আমার বদলে শাশুড়িমাই  আব্দার শুরু করলেন, 'বয়স হয়েছে কবে আছি কবে নেই' নাতি নাতনীর মুখ দেখতে সাধ ওনার। এত বাচ্ছা ভালোবাসি আমি নীলের ছোটবেলার ছবি গুলো সব বাঁধিয়ে রেখেছি আমার ঘরের দেওয়ালে। বাচ্ছা হচ্ছেনা বলে যখন চিকিৎসা চলছিল,  শাশুড়ি মা ওগুলো আমায় দিয়েছিলেন।  রোজ ওগুলো দেখতাম বলে নীল যে কত রাগাতো আমাকে ! 'আসল নীল কে ছেড়ে তুমি যে বালক নীল কে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে।  যা করার তো আমাকেই করতে হবে। তোমার ঐ ছবির নীলের কিছু ক্ষমতাই নেই'। এমনই কপাল দেখ, এ ডাক্তার সে ডাক্তার করেও বিয়ের পাঁচ বছর পেরিয়েও কোল খালি রয়ে গেল। শাশুড়ি মাও  চলে গেলেন কমাস বাদেই। আর এখন তো নীল ও আমাকে একা করে দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলো। 
বলতে বলতেই গাল ভিজে গেল তৃষার। সোহিনী আর অমৃতা এসে জড়িয়ে ধরলো ওকে।

নেলকোর বউয়ের হাতে পরিপাটি করে সাজানো গোছানো  খাবার টেবিল দেখে অমৃতা খুব খুশি। সবাই মিলে জমিয়ে খেয়ে উঠতেই সোহিনী বায়না জুড়লো জ্যোৎস্না রাতে ছাদে  গিয়ে বসবে।  মাদুর , কুশন সব নিয়ে গিয়ে ছাদে বসার ব্যবস্থা করে দিলো নেলকো। ঝুপসি ঝুপসি কালচে গাছগুলো কেবল জেগেছিল ওদের সাথে। মফস্বল এলাকা, রাত এগারোটাতেই বেশ নিঃঝুম। তৃষার সঙ্গগুনেই হয়তো সোহিনীও গুনগুন করতে শুরু করলো। আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে..। অমৃতা ঝুপ করে সোহিনীর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো। বললো, 
-  ফ্লাইট চালু হলেই তো তুই চলে যাবি সেই কোন সুদূরে।  মনের ভিতর ডুব দিয়ে, মণি মানিক্য যা আছে বিলিয়ে দিয়ে যা বন্ধুদের। দেখবি বাঁচার আনন্দ অনেক বেড়ে যাবে। 
স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে গিন্নিগিরি করে উঠলো তৃষা, 
- সেইতো, অত দূরে একলাটি পড়ে থাকিস , চাইলেও কেউ যেতে পারবো না সৌ। মনের ভার ঝেড়ে ফেল।
তৃষার কথায় দুজনেই হেসে ফেললো। 
সোহিনী বললো,
- ভেবেইছিলাম তোদের বলবো আমার ছেঁড়া কাঁথার গল্প। ফার্স্ট ইয়ারের শেষের দিকে সবাই সবাইকে ভালোমতোই চিনে গেছি। বন্ধুত্ব না হলেও মুখ দেখেই বলে দিতে পারতাম কোন ডিপার্টমেন্ট। সেই সময় শুধু ফার্স্ট ইয়ার নয় গোটা কলেজেই জাদু খুব ফেমাস। 
- জাদু? সে আবার কে ? 
তৃষার প্রশ্ন।
- ওকে সবাই জাদু বলেই  ডাকতো। এত ভালো সফ্টওয়্যার প্রোগ্রামিং করতো ! সিনিয়াররাও ফিদা। সবাই বলতো ও জাদু জানে। আমিও করতাম তবে জাদু মানে অঞ্জনের থেকে ভালো নয়। বন্ধুত্ব থেকে কখন যে সম্পর্কটা অন্যদিকে গড়িয়ে গেল কেউ খেয়ালই করিনি। ফাইনাল ইয়ারে ক্যাম্পাসিং হলো। জাদু আর আমি দুজনেই একই কোম্পানী তে জব পেলাম। পোস্টিং তখনও কনফার্ম নয়। দুজনেই খুব ঠাকুর ভক্ত হয়ে গেলাম। ইশ ঠাকুর যেন একই জায়গায় পোস্টিং হয়, নিদেনপক্ষে কাছাকাছি।
 - ওরে ঢপবাজ তুই যে এদ্দিন বলতিস তুই ঈশ্বরে বিশ্বাস করিস না। দেখলি, সত্যিটা কেমন বেরিয়ে গেল। 
খিল্লি করলো অমৃতা। ওর কথায় হেসে ফেললো সোহিনী। 
 - না রে সত্যিই মানিনা। তখন তো জাদুকে কাছে পাবার নেশায় স্বার্থের ভক্তি। শেষরক্ষা হলো। দুজনেই নয়ডায় পোস্টিং পেলাম। উফফ, সেদিন যে আমরা কি খুশি হয়েছিলাম!  এরপর তো সময় জলের চেয়েও দ্রুত গড়াতে লাগলো। আমি একজনের বাড়িতে pg তে থাকতাম।  ইচ্ছে করেই এটা নিয়েছিলাম নতুন জায়গায় কতকটা সেফ হবে ভেবে। জাদু একটা ফ্ল্যাটে  একটা রুম ভাড়া নিয়ে থাকতো। আমি প্রায়ই যেতাম  জাদুর কাছে। মাস ছয়েক পরে,  একটা প্রজেক্টে ওই অফিসেরই চারজন মিলে কাজ করছিলাম আমরা। কানাঘুষোয় আগেই শুনেছিলাম এই চারজনের কোনো  দু জনকে কোম্পানী বাইরে পাঠাবে। জাদুর টা কনফার্ম ছিলাম, কারণ ওর মতো প্রোগ্রামিং ওখানেও কেউ পারতো না। 

কথার মাঝখানে হঠাৎ সোহিনী উঠে জল খেতে গেল। আর চাঁদ ততক্ষণে মাঝ আকাশে এসে বসেছে ওদের সঙ্গ দেবার জন্যে। সোহিনী আসতেই ওরা আবার মুগ্ধ শ্রোতার ভূমিকায়।
- প্রেজেন্টেশনের পরের দিন শনিবার। আমি গেলাম জাদুর কাছে। সেদিন অনেক গল্প আলোচনার মাঝে মূল বিষয় ছিল এবারে আমরা বিয়েটা সেরে ফেলবো। খুব এক্সপেক্ট করছিলাম দুজন একসাথেই  বাইরে যাবো। আর তার আগেই বিয়েটা সেরে নেব।  জানিস, সেটাও ছিল শ্রাবণ মাসের সন্ধ্যা।  কথায় কথায় সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত নামলো। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি। জাদু বায়না ধরলো ওর কাছে রাতটা থেকে যেতে। ওকে বারণ করার বা ফিরিয়ে দেবার কোনো ইচ্ছেই সেদিন ছিল না আমার। ঝোড়ো হাওয়া ঝাপ্টা মারছিল ষোল তলার কাঁচের সার্শীতে। বাইরে অঝোরে ভাঙছে আকাশ আর ভেতরে বাঁধ ভাঙছে প্লাবন। প্রকৃতির দাপটকে অগ্রাহ্য করে জ্বলন্ত দুটো দেশলাই কাঠি নিমেষেই দাবানল ডেকে আনলো সেই রাতে। নিজেকে নিঃস্ব করে জ্বালিয়ে পূর্ণতা পেতে চেয়েছিলাম ওর ভালোবাসায়। নিঃস্ব আমি, সিক্ত আমি ভাসতে ভাসতে চরম সুখের মোহনায় গিয়ে ঠাঁই পেলাম। তান্ডবের শেষ অংক সেরে প্রকৃতি আবার হেসে উঠেছে আপন খেয়ালে। আমিও পুরুষ স্পর্শে প্রকৃতি হবার মাধুর্য্যে পল্লবিত হলাম নতুন করে। 
সোহিনী চুপ করে যেতেই তৃষা বললো,
 - তোর কষ্ট হলে তোকে আর কিছু বলতে হবেনা সৌ। চল আমরা বরং অন্য গল্প করি1।
অমৃতা সোহিনীকে কোল পেতে দিলো । ওর কোলে মাথা রেখে তৃষার হাতটা নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে সোহিনী বলতে শুরু করলো নতুন অধ্যায়ের কথা।
- এর ঠিক দুদিন পরেই জানতে পারলাম  কোম্পানী আপাতত একজনকেই UK পাঠাবে।  আর সেটা হলো সোহিনী দত্ত। অদ্ভুত পরিস্থিতি জানিস, জাদু নয় আমার নাম সিলেক্ট হয়েছে। এটা মেনে নিতে যতটা কষ্ট জাদুর হয়েছিল, আমার হয়েছিল অনেক বেশী। আমাদের সব পরিকল্পনা আতান্তরে পড়লো। আমি জাদুকে ছেড়ে যেতেও চাইছিলাম না আবার সুযোগটা হাতছাড়া হোক এটাও  চাইছিলাম না। জাদুই বুঝিয়েছিলো পরের আসাইমেন্টে নিশ্চয়ই ওর নাম থাকবে। কাজেই এখন সুযোগ হাতছাড়া করলে পরে মুশকিল হবে।  অথচ,  যাবার দিন দশেক আগে হঠাৎই জাদু ভীষণরকম অবুঝ হয়ে গেল। আমাকে কিছুতেই যেতে দেবে না। বলতে লাগলো আমরা দুজনে এখানেই খুব ভালো থাকবো। এদিকে আমি ততদিনে যাবার জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমার পক্ষে আর পিছিয়ে আসা সম্ভব ছিল না কিছুতেই। কদিনের মধ্যেই  সব ছেড়ে জাদুকে ছেড়ে পাড়ি দিলাম। ওখানে গিয়ে সেটল হওয়া, নতুন কাজ বোঝার ব্যস্ততায় জাদুর সাথে কথা হলেও গল্প হতো না। আমি ফোন না করলে জাদু করতো না। uk এর নতুন জীবনে কিছুটা অভ্যস্ত হতে, খেয়াল হলো গত মাসে আমি পিরিয়ড মিস করেছি। এক মিশ্র অনুভূতি হয়েছিল তখন। জাদুকে খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করছিল। সন্ধ্যাবেলায় কাজ থেকে ফিরেই ফোন করেছিলাম খবরটা দেব বলে। একটা অস্বস্তি কাজ করছিল ভেতরে ভেতরে । সেদিন অনেকবার ফোন করা সত্বেও ফোন তোলেনি ও। পরেরদিন ও নিজেই ফোন করেছিল। আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই জানিয়েছিল, ওই কোম্পানী রিজাইন করে ও নতুন কোম্পানী জয়েন করেছে ।  সামনের মাসেই ওর বিয়ে। এই লং ডিস্ট্যান্স রিলেশন ওর পক্ষে বিয়ারেবল নয়। প্রেগনেন্সির খবরটা আর দিতে ইচ্ছে হয়নি জানিস। মনে হয়েছিল,  এই মুহূর্তে এই খবরটা দেবার অর্থ আমাকে বিয়ে করতে চাপ সৃষ্টি করা ওকে। মনকে রাজী করাতে পারিনি কিছুতেই। সেদিন তাপাঙ্ক মাইনাসে নেমে গেছিলো। গরম দেশের নরম মেয়েটা, সেদিন একটু উষ্ণতা কুড়োনোর আশায় কুঁকড়ে গেছিলো।  
- জীবন তো থেমে থাকে না রে । তুই কেন নিজেকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছিস।
পরম মমতায় হাত রাখে ওর হাতে অমৃতা।
- কষ্ট নয় রে অমু। নিজেকে এখন অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছি। যদি কখনও কারোর প্রতি সেভাবে সাড়া পাই ভেতর থেকে..
কথার মাঝেই সোহিনীর মোবাইল টা বেজে ওঠে । এদিক ওদিক কুশনের নীচে খুঁজতে খুঁজতে থেমে গিয়েও আবার বেজে ওঠে।  ফোনটা  নিয়ে সোহিনী কে দিতে গিয়ে তৃষা দেখে স্ক্রিনে একটা ছেলের মুখ। চমকে ওঠে ও।  অবিকল ছোটবেলার নীল। বলেও ফেলে, 
- কি অদ্ভুত এ যেন কিশোর  নীল। হতভম্ব সোহিনী কিছু বুঝতে না পেরে বলে,  
- হোয়াট ? নীল ? ইউ মীন নীলাঞ্জন ?  ও আমার ছেলে,  সমুদ্র। আমার আর জাদুর ভালোবাসার সন্তান। 
ততক্ষণে অমৃতারও চোখ পড়েছে ছবিটায়। ও অস্ফুট বলে,
- বুবান দা ! নীল মানে ... নীলাঞ্জন রায়চৌধুরী। 
অমৃতার কথায় দুজনেই চমকে বলে,  
- তুই ওকে চিনিস ? 
বলেই ওরা দুজন দুজনের দিকে তাকায়। বুঝতে পারে অমৃতার বুবান দা তৃষার নীল আর সোহিনীর জাদু একই মানুষ।  তিন নারীই কখনো না কখনো ভালোবাসার সোপান বেয়ে মানুষটিকে ছুঁয়ে আলোর ফানুস উড়িয়েছে জীবনে। ভালোবাসা বোধহয় এভাবেই উজ্জীবিত হবার আকাঙ্খায় বিন্দু হয়ে বেঁচে থাকে অন্তরে। মোবাইলটা  বাজতেই থাকে ক্রমাগত। তিনজনেই অধীর হয়ে হাত বাড়ায় মোবাইলটার দিকে।   

প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৯:০০ AM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অণুগল্প, শ্রাবণী সোম যশ

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

শ্রাবণী সোম যশ


“আগুন্তুক”


“আ মোলো এতো ঝড় জলের রাত্রে কে জ্বালাতে এলে বাছা এই বুড়িমানুষকে” ঝন ঝন করে দরজার শিকল টা ধরে কেউ নাড়াচ্ছে মনে হচ্ছে, নাকি  ভুল শুনলাম।  সবই বয়সের দোষ! আবার শিকল নাড়ছে। ওহ মা, এবার তো আরো জোরে।  মিনতি হ্যারিকেন  হাতে নিয়ে  কোনোরকমে ঘোমটার আড়ালে মাথা বাঁচিয়ে দরজা খুলতেই খুশিতে গদগদ একেবারে। সামনেই দাঁড়িয়ে ছোট ছেলে।
- ওহ মা, সমু এসেছিস! তা একবার মা মা করে ডাকলোই তো হয়। আরও আগেই খুলে দিই। পাগল ছেলে আমার! এহ  হে,  কাক ভেজা হয়ে গেছিস  বাবা! 
- এতো জোরে দরজায় শব্দ করছি শুনতে পাচ্ছনা আর ডাকলেই শুনে ফেলতে!  কি যে বলো। তার মধ্যে এই মেঘ ডাকছে এত্ত জোরে। মা  ছেলে তাড়াতাড়ি ঘরে এসে ঢোকে। মিনতি  গামছা এনে তড়িঘড়ি ছেলের ভিজে মাথা মুখ মুছিয়ে দেন। নিজের একখানা কাচা ধুতি সমুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বেরিয়ে যান ঘর থেকে।
- এতো রাত একটু দুধ মুড়ি আর কলা খেয়ে পিত্ত রক্ষা কর সমু। কাল সকাল সকাল মোক্ষদা এসে খাবার বানিয়ে দেবে। মাছ ধরাবো দুপুরে খাবি।
- দুপুর আবার কোথায় পেলে মা। তোমার সমু কাজ  পেয়েছে। কালই যেতে হবে। এতদিনে তোমার ভগবান  মুখ তুলে  চাইলো।  বেকারত্বের গ্লানি থেকে মুক্তি পেলাম মা। দুঃখ একটাই অনেক দুরের দেশে যেতে হবে। নতুন জায়গা নতুন জীবন তাই তোমায়  প্রণাম করতে এলাম।
 ছেলের কথায় আচঁল দিয়ে চোখ  মোছেন মিনতি।
- বড়ো খোকাও নিশ্চয় খুব খুশি হয়েছে ভাইয়ের কাজের খবর পেয়ে। বকাঝকা করলেও তোকে স্নেহ করে তো খুবই। ছোট ভাই বলে কথা।
- হ্যাঁ মা খুশি তো হবেই, তবে কেউ তো এখনো জানেই না। খবরটা জানামাত্রই  সব্বার  আগে তোমাকে বলতেই ছুটে এলাম।

                                পাশের ঘরে কাচা চাদর  বালিশ দিয়ে পরিপাটি বিছানায়  ছেলেকে শুতে দিয়ে নিজের পরিচিত বিছানায় গা এলিয়ে দেন মিনতি। কি জলখাবার করবেন, কি কি মিষ্টি করাবেন, দুটি মাছ ভাত মুখে না দিয়ে কিছুতেই যেতে দেবেন না। এইসব  ভাবনায় দু চোখের পাতা সারা রাত এক করতে পারেন না। বরাবর ভোরে ওঠা মিনতির  ঠিক  ভোররাত্রেই তন্দ্রা এসে যায়। হঠাৎ চটকা ভাঙে, একি! বড়ো খোকার গলা না।  হ্যাঁ, তাইতো বড়ো খোকাই তো। মা মা করে ডাকছে। দেখো কান্ড রাতে সমু আর এখন এই নিশি পোয়াতেই ভাইয়ের টানে দাদাও এসে হাজির।  ভালোই হবে আজ দুই ছেলেকেই সারাদিন নিজের কাছে আটকে রাখবেন। দুই ভাই একসাথে মায়ের কাছে খেয়েদেয়ে তবেই বেরোবে। কোনো কথাই শুনবেন না।  দরজা খুলতেই আলুথালু বড়ো খোকা মাকে জড়িয়ে ডুকরে ওঠে,
-মা,  সমু এসেছে।  তোমায় একটিবার প্রণাম করতে এসেছে মা।
 - হ্যাঁ জানি তো সমু এসেছে।  তুই কাঁদছিস কেন খোকা?
- মা আমি পারলাম না। আমি হেরে গেলাম মা। তোমার কাছ থেকে ভাইকে আমি নিয়ে গেছিলাম মা। চাকরি না পাওয়ার ব্যর্থতা সমুকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিলো মাগো। কাল রাত্রে দশটার এক্সপ্রেসের সামনে সমু আত্মহত্যা করেছে মা।
হতচকিত মা ছুটে যান ঘরে যেখানে সমুকে ঘুমাতে দিয়েছিলেন। টানটান করে কাচা চাদর বালিশ পাতা।  কারোর চিহ্ন নেই সেখানে। টলতে টলতে বেরিয়ে দাওয়ায় এসে বসে পড়েন মিনতি,  চোখে পরে তখনও  কলতলায় সমুর দুধ মুড়ি খাওয়া এঁটো থালা পরে আছে। পাশেই কলার  খোসায়  অগুনতি পিঁপড়ে হানা  দিয়েছে। দূর থেকে কানে আসে, “বলো হরি হরিবোল বলো হরি হরিবোল”  
প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৮:০০ PM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অণুগল্প, শ্রাবণী সোম যশ

শনিবার, ২২ জুন, ২০১৯

শ্রাবণী সোম যশ



“না বলা কথা”


একটা শব্দ খুঁজে চলেছি আমাদের আলাপের জন্মলগ্ন থেকেই। 
রোদজ্বলা দুপুরে  যেদিন প্রথম দেখলাম, 
ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই খুঁজছি। 
দ্রুতগামী যানের ভিড় বাঁচিয়ে, 
আঙুলে আঙ্গুল জড়িয়ে পথটুকু পেরোনোর তাড়াতেও !  
আবেগী নদীর ধারে আলোছায়া মেখে, 
মাঝির ভাটিয়ালি সুর শোনার অবকাশেও থামেনি সেই খোঁজা। 
ক্লান্ত পায়ে হোঁচট সামলাতে, দুহাতে শার্ট খামচে ধরেও খুঁজেছি শব্দটাকে।
 ফুচকার ঝালে চোখ মুখ ভাসিয়ে,
রুমাল কেড়ে নিয়ে হাতড়েছি বুকের সাজানো বাগান।  
হঠাৎ নামা চৈতালি বৃষ্টিতে , লুটোপুটি করতে করতে বৃষ্টির ফোঁটা ভেঙেছি !
ছেঁড়া চটিতে পিন লাগানোর তাড়ায় ,
আমার পিনবিদ্ধ আঙ্গুলে তোর জিভের ছোঁয়ায় শিউরে উঠে থমকেছি ! 
হিমেল সন্ধ্যায় কাঁপতে কাঁপতে , 
নিকোটিন ভেজা ঠোঁটের উষ্ণতায় পাগলের মতো  খুঁজেছি। 
মনখারাপের ভোরে ভরসা পেতে ,
রোমশ বুকে মুখ লুকাতেই ঘটলো মিরাকল ! 
এতদিন এতো খোঁজার মুহূর্তের অবসান ,
খুঁজে পেয়ে গেলাম মন ছোঁয়া শব্দটাকে !   
তোর চোখের তারায় সর্বনাশের বসত দেখে চিনলাম নিজেকে।  
 বুঝলাম, আসলে  ' ভালোবাসি ' বলতে চেয়েছি প্রতিমুহূর্তে !

প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৮:০০ PM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: কবিতা, শ্রাবণী সোম যশ

সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮

শ্রাবণী সোম যশ



“ছোবল”


 দুপুর ভর দীঘির জল তোলপাড় করে চান করলো মতিয়া। এতক্ষনে শরীর মন দুইই ঠান্ডা হলো।গ্রামটাকে যেন বোবায় ধরেছে আজ। দীঘির জল নিয়ে মনের খুশিতে খেলছে ও। চিকন শ্যামলা গায়ের রঙ, কোমর ছোঁয়া চুল। আস্ত দীঘিই যেন লুকিয়ে আছে চোখের মাঝে। মতিয়ার বাবা নেলকো সর্দার গাঁয়ে, গাঁয়ে ঘুরে বিষধর সাপ ধরে এনে বিক্রি করে। ভালো রোজগার কিন্তু সবটাই যায় ওই হাঁড়িয়ার ঠেকে। বসত ভিটেও বাঁধা পড়েছে। ঘরে মা মরা সোমত্ত মেয়ে কিন্তু সেদিকে হুঁশ কই ! জমিদার  রুদ্রনারায়ণকে লোকজন একটু সমঝেই চলে। ওনার রুদ্র মেজাজ অসহায়দের ওপর একটু বেশিই প্রকট। নেলকো সর্দার তো সবটুকুই খুইয়ে বসে আছে ওনার চৌকাঠে।                                                                     
                                               ভর সন্ধ্যেবেলায় বাপের সাথে রুদ্রনারায়ণের চাপা গলায় কথার শব্দ শুনেই কান পেতেছিল মতিয়া। রাত বাড়তেই জমিদার বাড়িতে জড়িবুটি দিতে পাঠিয়েছিল বাপ টা। একটুও গোঁসা করেনি ও। কোমরে কুকুরি গুঁজে গায়ে চাদর ঢাকা দিয়ে গিয়ে  উঠেছিল  রুদ্রনারায়ণের ঘরে। সাপের  মতো পেঁচিয়ে ধরেছিলো শয়তান টা। চরম সর্বনাশের আগেই পালিয়ে এসেছিলো শয়তানটার কবল থেকে। সকাল হতে না হতেই গোটা গ্রাম জেনে গেলো কাল নাগিনীর ছোবলে রুদ্রনারায়ণ মারা গেছে। আর পালঙ্কের তলায় পাওয়া  গেছে নেলকো সর্দারের সাপ রাখার ডালা। দেনার দায়ে বিকোনো নেলকো যে নিজের প্রাণ বাঁচাতে এই কাজ করেছে বুঝতে বাকি রইলোনা কারোরই। পুলিশ এসে হাতকড়া পরিয়ে ধরেও নিয়ে গেলো।
                                                       রুদ্রনারায়াণ  লোভী বেড়ালের মতোই ছোঁকছোঁক করতো মতিয়ার কাছেপিঠে। নিজের কানে যখন শুনলো বকেয়া দেনা মকুব করার জন্যে নিজের মেয়ের সওদা  করতেও  অরাজি নয় নেলকো, এমনকি কড়কড়ে দশটি  হাজার টাকা হাত পেতে নিয়েও নিলো বরাবরের মতো মুখে কুলুপ আঁটবে বলে। রাগে দুঃখে চোখে জল এসে গেছিলো মতিয়ার,  নিরুপায় হয়ে  ছুটে গেছিলোজমিদার  গিন্নির কাছে। গম্ভীরমুখে সবটুকু শুনেছিলেন গিন্নিমা। জড়িবুটি নিয়ে রাতে ঘরে ঢোকার  সময়েই মতিয়া দেখতে পেয়েছিলো, গিন্নিমার খাস চাকর  রুদ্রনারায়ণের ঘর থেকে পিছনের দরজা দিয়ে চুপিসাড়ে পালাচ্ছে। নাহ, কুকরীটা কাজে লাগাতে হয়নিআর ওকে। শুধু পালঙ্কের নিচে লুকোনো ঢাকনা খোলা ডালাটা জোরে নাড়িয়ে দিয়ে পালিয়ে এসেছিলো মতিয়া। দুই নারীই মুক্তি পেলো লম্পট পুরুষের হাত থেকে।  শেষমেশ  মরিয়া হয়ে সর্বনাশের নাশ করলো এভাবে।  
ReplyForward
প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৮:০০ PM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অনুগল্প, শ্রাবণী সোম যশ
পুরাতন পোস্টসমূহ হোম
এতে সদস্যতা: পোস্টগুলি (Atom)
Snowfall Widget for Blogger

সৃজন পরিক্রমা

সৃজন সূচী

  • ▼  2025 (28)
    • ▼  ফেব্রুয়ারি (28)
      • সম্পাদকীয়
      • শীলা বিশ্বাস
      • সমিধ গঙ্গোপাধ্যায়
      • গার্গী সেনগুপ্ত
      • জয়শ্রী দাস মন্ডল
      • সুবিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শঙ্খ মিত্র
      • মিঠুন চক্রবর্তী
      • সুরজিৎ বেরা
      • সৌমী আচার্য্য
      • চয়ন ভৌমিক
      • সৌমনা দাশগুপ্ত
      • মধুমিতা বসু সরকার
      • সুবীর ঘোষ
      • নন্দিতা দাস বসু
      • স্বপন রায়
      • ধৃতিরূপা দাস
      • যাদব দত্ত
      • অরূপরতন হালদার
      • সায়ন্ন্যা দাশদত্ত
      • শম্পা মাহাতো
      • সব্যসাচী মজুমদার
      • বৈদূর্য্য সরকার
      • শর্মিলা ঘোষ
      • কৌশিক সেন
      • শ্রীলেখা মুখার্জ্জী
      • অর্ঘ্য নাথ
      • পৌলমী ভট্টাচার্য
  • ►  2022 (90)
    • ►  জুন (3)
    • ►  মে (8)
    • ►  এপ্রিল (8)
    • ►  মার্চ (2)
    • ►  ফেব্রুয়ারি (3)
    • ►  জানুয়ারি (66)
  • ►  2021 (313)
    • ►  ডিসেম্বর (8)
    • ►  নভেম্বর (11)
    • ►  অক্টোবর (11)
    • ►  সেপ্টেম্বর (80)
    • ►  আগস্ট (35)
    • ►  জুলাই (33)
    • ►  জুন (78)
    • ►  মে (24)
    • ►  এপ্রিল (6)
    • ►  মার্চ (12)
    • ►  ফেব্রুয়ারি (9)
    • ►  জানুয়ারি (6)
  • ►  2020 (176)
    • ►  ডিসেম্বর (14)
    • ►  নভেম্বর (3)
    • ►  অক্টোবর (3)
    • ►  সেপ্টেম্বর (4)
    • ►  আগস্ট (78)
    • ►  জুলাই (4)
    • ►  জুন (4)
    • ►  মে (66)
  • ►  2019 (103)
    • ►  ডিসেম্বর (36)
    • ►  জুন (40)
    • ►  জানুয়ারি (27)
  • ►  2018 (313)
    • ►  ডিসেম্বর (35)
    • ►  অক্টোবর (45)
    • ►  সেপ্টেম্বর (1)
    • ►  আগস্ট (32)
    • ►  জুলাই (48)
    • ►  জুন (32)
    • ►  এপ্রিল (27)
    • ►  মার্চ (21)
    • ►  ফেব্রুয়ারি (33)
    • ►  জানুয়ারি (39)
  • ►  2017 (383)
    • ►  ডিসেম্বর (58)
    • ►  নভেম্বর (26)
    • ►  সেপ্টেম্বর (46)
    • ►  আগস্ট (37)
    • ►  জুলাই (49)
    • ►  জুন (64)
    • ►  মে (49)
    • ►  এপ্রিল (12)
    • ►  মার্চ (3)
    • ►  ফেব্রুয়ারি (38)
    • ►  জানুয়ারি (1)
  • ►  2016 (31)
    • ►  ডিসেম্বর (31)

এই সংখ্যার জনপ্রিয় লেখা গুলো

  • পিয়াংকী
                                  Zero oil technique... আজকের রান্নাবাটি খেলায় গরমবাহার শুরু করেছি প্রায় দু'মাস হতে চলল। ভেতো বাঙালির তেলালো...
  • তুষ্টি ভট্টাচার্য
                                                        চতুর্থ পর্বের পর সাইকেল  ৫)    ভোরবেলা ওঠা অভ্যেস সামুয়েলের। এখানে সূর্যও সকাল সকাল উঠে...
  • লিপি সেনগুপ্ত
                                               এই সংখ্যার কবি লিপি সেনগুপ্ত ৷ জন্ম অরণ্য শহর ঝাড়গ্রামে।  স্কুলের পড়াশোনা সেখানেই, পরবর্তীতে কলকা...
  • চয়ন ভৌমিক
    খেলা   এটাই নিয়ম, তাই এভাবেই মুখোমুখি মাঠে নামো। প্রথমে নরম বিকেল আঁকোচোখে , পরবর্তী ধাপে বুকের জোনাকিতে               ট...
  • সম্পাদিকার আঙিনায়
    সম্পাদিকার আঙিনায় ....................................   প্রতিটি সত্তাই চায় সতন্ত্র হতে ৷ সেই সতন্ত্রতাকে ভিত্তি করে...
  • মানসী গাঙ্গুলী
                                                         কিশলয়      যতদূর চোখ যায় আকাশটা ঘোর কালো রঙ ধরেছে, বৃষ্টি এল বলে। জানলা দিয়ে সেইদিকে ত...
  • মনোজ দে
    "সৃজন " এই সপ্তাহের কবি মনোজ দে ৷ মনোজ এই সময়ের এক প্রতিভাবান কবি ৷১৯৯২  বাঁকুড়ায় জন্ম৷অতিথি অধ্যাপনা পেশা ৷ তার উল্লেখযো...
  • শীর্ষা মণ্ডল
    আমাদের এই সপ্তাহের কবি শীর্ষা মণ্ডল ৷জন্ম বীরভূমে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলজিতে স্নাতকোত্তর এবং গবেষণা। বর্তমানে মধ্যপ্রদেশে একটি...
  • সৌমী আচার্য্য
                        পর্ব -১২ সৌমী আচার্য্য আদিত‍্য ভাবিয়াছিল যেকথা কহিয়া সে চন্দ্রনাথের বাড়ি হইতে ফিরিয়া আসিয়াছে সম্ভবতঃ ইহারপর চন্দ্রনাথ আর...
  • কস্তুরী সেন
    এই সপ্তাহের কবি কস্তুরী সেন ৷ প্রথম দশকের কবি।  স্নাতকোত্তর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় । বিষয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য। লেখালিখি...

পৃষ্ঠাসমূহ

  • হোম
  • সৃজন কথা
  • সৃজন যোগাযোগ
  • সূচিপত্র

সৃজন বিভাগ

  • অণুগল্প
  • অনুবাদ কবিতা
  • অনুবাদ সাহিত্য
  • কবিতা
  • গল্প
  • গুচ্ছ কবিতা
  • চিঠি
  • চেনো কি আমায়
  • ছবিঘর
  • ধারাবাহিক
  • ধারাবাহিক কবিতা
  • ধারাবাহিক গল্প
  • নাটক
  • ভিজুয়াল পোয়েট্রি
  • ভ্রমণ কাহিনী
  • মুখোমুখি
  • রহস্য গল্প
  • সম্পাদকীয়
  • সম্পাদিকার আঙিনায়
  • সাহিত্যের বারান্দা
  • সৃজন সংস্কৃতি ও শিল্প

নিয়মিত লেখকবৃন্দ

  • -অণুশ্রী ভট্টাচার্য্য মুখার্জী (2)
  • -শুভশ্রী সাহা (1)
  • / স্নেহাংশু বিকাশ দাস (1)
  • অঙ্কিতা সরকার (1)
  • অজিত রায় (3)
  • অঞ্জলি সেনগুপ্ত (1)
  • অণুশ্রী ভট্টাচার্য্য মুখার্জী (5)
  • অতনু টিকাইৎ (2)
  • অনন্যা রায় (1)
  • অনিন্দ্য পাল (5)
  • অনিন্দ্য ব্যানার্জী (1)
  • অনিন্দ্য রায় (11)
  • অনিন্দ্য রায়. (1)
  • অনিন্দ্য সান্যাল (2)
  • অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী (1)
  • অনিমেষ সরকার (1)
  • অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী (1)
  • অনিরুদ্ধ দাস (2)
  • অনিরুদ্ধ সাঁপুই (1)
  • অনুপম দাশশর্মা (6)
  • অন্বেষা রায় (5)
  • অপর্ণা গাঙ্গুলী (1)
  • অপর্ণা চৌধুরী (1)
  • অভিজিৎ দত্ত (1)
  • অভিষেক ঘোষ (1)
  • অভিষেক প্রসাদ (1)
  • অমিতাভ দাস (8)
  • অমিতাভ ব্যানার্জী (1)
  • অম্লানরায়চৌধূরী (1)
  • অরিজিৎ বাগচী (5)
  • অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় (1)
  • অরুণজীব রায় (1)
  • অরুণাভ চট্টোপাধ্যায় (2)
  • অরুণিমা চৌধুরী (1)
  • অরুনাভ চট্টোপাধ্যায় (2)
  • অর্কায়ন বসু (1)
  • অর্ঘ্য দত্ত (4)
  • অর্পণ কুমার মাজি (1)
  • অর্পিতা বোস (6)
  • অলভ্য ঘোষ (2)
  • অ্যাঞ্জেলিকা ভট্টাচার্য (3)
  • অয়ন মণ্ডল (4)
  • আকাশ সরকার (1)
  • আকাশ সৎপতি (1)
  • আর্পিতা দাশ (1)
  • আলো বসু (4)
  • আসমা সুলতানা শাপলা (1)
  • ইন্দ্রজিৎ দত্ত (1)
  • ইমেল নাঈম (1)
  • ঈশানী বসাক (2)
  • উজান উপাধ্যায় (4)
  • উজ্জ্বল ঘোষ (1)
  • উমাপদ কর (1)
  • ঋতুপর্ণা চৌধুরী (1)
  • ঋতুপর্ণা রুদ্র (3)
  • ঋষি সৌরক (1)
  • ঋষেণ ভট্টাচার্য্য (5)
  • এ কে এম আব্দুল্লাহ (2)
  • ওয়াহিদা (1)
  • কলমচি কৌশিক (1)
  • কস্তুরী সেন (1)
  • কাকলি দাস (1)
  • কাজল সেন (4)
  • কাজলসেন (1)
  • কুহেলী কর্মকার (1)
  • কৃষ্ণা দাশগুপ্ত (1)
  • কৃষ্ণেন্দু পাঠক (2)
  • কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (1)
  • কোজাগরী (2)
  • কৌশিক চক্রবর্ত্তী (14)
  • ক্রান্তি প্রসাদ (1)
  • গোপা পাল (2)
  • গৌতম কুমার গুপ্ত (1)
  • গৌতম দত্ত (3)
  • গৌতম যুথিপুত্র (1)
  • চন্দন দাস (1)
  • চন্দ্রাণী বসু (3)
  • চয়ন ভৌমিক (3)
  • চার্চিলা সিং (1)
  • চিরদীপ সরকার (1)
  • চুমকি ভট্টাচার্য (2)
  • চৈতালী ভৌমিক (3)
  • জয়তী রায় (2)
  • জয়তী রায় ( মুনিয়া) (26)
  • জয়াশিস ঘোষ (1)
  • জয়িতা সরকার (2)
  • জাকিয়া জেসমিন যূথী (1)
  • জুবায়ের আহম্মদ (1)
  • জ্যোতির্ময় মুখার্জি (6)
  • জ্যোৎস্না রহমান (2)
  • জয়তী অধিকারী (1)
  • জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় (6)
  • জয়িতা দে সরকার (2)
  • জয়িতা ভট্টাচার্য (3)
  • জয়ীতা ব্যানার্জী (5)
  • জয়ীতা ব্যানার্জী গোস্বামী (4)
  • ঝুমা চৌধুরী (9)
  • ঝুমা মল্লিক (1)
  • ত নি মা হা জ রা (1)
  • তনিমা হাজরা (5)
  • তনুশ্রী চক্রবর্তী (1)
  • তন্ময় ধর (2)
  • তপন কুমার বস (1)
  • তপন কুমার বসু (5)
  • তপন কুমার বসূ (1)
  • তপময় চক্রবর্তী (1)
  • তপোবর্ণা ভট্টাচার্য্য (1)
  • তানিয়া চক্রবর্তী (1)
  • তাপস কপাট (1)
  • তাপস মুখার্জী (1)
  • তাপসকিরণ রায় (5)
  • তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায় (2)
  • তিমিরণ দত্তগুপ্ত (2)
  • তুষার আচার্য্য (1)
  • তুষার সরদার (2)
  • তুষ্টি ভট্টাচার্য (26)
  • তুষ্টিভট্টাচার্য (1)
  • তৈমুর খান (9)
  • দিব্যেন্দু শেখর দাস (2)
  • দীপ রায় (3)
  • দীপক জানা (1)
  • দীপঙ্কর বেরা (9)
  • দীপাঞ্জন নাথ (1)
  • দীপাঞ্জন মাইতি (6)
  • দীপান্বিতা বসু (1)
  • দীপ্তি মৈত্র (1)
  • দেবব্রত তাঁতী (2)
  • দেবযানী গুপ্ত (2)
  • দেবযানী বসু (1)
  • দেবযানী বিশ্বাস (1)
  • দেবর্ষি ভট্টাচার্য (1)
  • দেবাশিস কোনার (3)
  • দেবাশিস মুখোপাধ্যায় (7)
  • দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। (1)
  • দেবাশীষ পাটোয়ারী (1)
  • দ্বীপ সরকার (2)
  • ধীমান পাল (1)
  • নন্দিতা দাস বসু (1)
  • নন্দিতা দাস বসু (3)
  • নন্দিনী পাল (8)
  • নাজনীন খলিল (1)
  • নাটক (2)
  • নাসির ওয়াদেন (1)
  • নির্মাল্য বিশ্বাস (1)
  • নীপবীথি ভৌমিক (6)
  • পবন বর্মন (4)
  • পবিত্র পাত্র (2)
  • পলাশ কুণ্ডু (1)
  • পলাশ কুন্ডু (1)
  • পলাশ দে (1)
  • পারমিতা চক্রবত্তী (2)
  • পারমিতা চক্রবর্তী (1)
  • পারমিতা চক্রবর্ত্তী (6)
  • পারমিতা বসু (1)
  • পার্থ সিংহ (1)
  • পার্বতী রায় (1)
  • পায়েল ব্যানার্জী (2)
  • পিনাকী মুখোপাধ্যায় (4)
  • পিয়ালি বসুঘোষ (5)
  • পিয়ালী বসু ঘোষ (4)
  • পিয়ালী বসুঘোষ (1)
  • পিয়াংকী মুখার্জী (3)
  • পিয়ালী বসু (3)
  • পিয়ালী মজুমদার (1)
  • পীযূষকান্তি বিশ্বাস (1)
  • পুষ্পাঞ্জলি বক্সী (1)
  • পূবালী রাণা (3)
  • পৃথা রায় চৌধুরী (1)
  • পৌলমী গুহ (1)
  • পৌলমী দে পুরকাইত (1)
  • পৌলমী পুরকাইত (1)
  • পৌলমী ভট্টাচার্য (4)
  • পৌলোমী মুখার্জী (1)
  • প্রণব বসুরায় (1)
  • প্রণবেশ সরকার (1)
  • প্রবীর বিকাশ সরকার (1)
  • প্রসেনজিৎ কাবাশি (1)
  • প্রসেনজিৎ রায় (1)
  • প্রান্তিক সরকার (1)
  • প্রিয়াঙ্কা দে দাস (1)
  • ফাল্গুনী ঘোষ (6)
  • ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় (6)
  • বনবীথি পাত্র (17)
  • বনলতা সূত্রধর (1)
  • বর্ণনা রায় (2)
  • বর্ণালী চক্রবর্তী মৈত্র (1)
  • বলাকা সেন (1)
  • বাসব মণ্ডল (1)
  • বাসব মন্ডল (8)
  • বিতস্তা ঘোষাল (2)
  • বিদিশা দাস (2)
  • বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় (2)
  • বিপ্লব মিশ্র (1)
  • বিশ্বজিৎ দাস (6)
  • বিশ্বজিৎ দেব (1)
  • বিশ্বদীপ দে (1)
  • বুবুসীমা চট্টোপাধ্যায় (1)
  • বেথুন বেরা (3)
  • বেথুনবেরা (1)
  • বেবী সাউ (1)
  • বৈশাখী নার্গিস (2)
  • বৈশাখী রায় চৌধুরী (1)
  • ব্রততী সান্যাল (1)
  • ভজন দত্ত (15)
  • ভাস্কর হালদার (1)
  • মঞ্জু বন্দোপাধ্যায় রায় (1)
  • মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায় রায় (2)
  • মঞ্জু ব্যানার্জী রায় (1)
  • মনোজ আচার্য (2)
  • মনোজ দে (3)
  • মনোনীতা চক্রবর্তী (1)
  • মন্দিরা ঘোষ (1)
  • মমতা ভৌমিক (1)
  • মলয় রায়চৌধুরী (10)
  • মহুয়া ব্যানার্জী (1)
  • মানস চক্রবর্ত্তী (12)
  • মানস ব্যানার্জী (2)
  • মানসী গাঙ্গুলী (15)
  • মিঠুন চক্রবর্তী (2)
  • মিনতি ঘোষ (2)
  • মীনা মুখ্যার্জী (1)
  • মুকুলিকা দাস (1)
  • মৃণাল ঘোষ (1)
  • মৃত্তিকা মুখার্জী চট্টোপাধ্যায় (3)
  • মৃত্তিকা মুখোপাধ্যায় (1)
  • মৃনালিনী (1)
  • মৃন্ময় চক্রবর্তী (3)
  • মেঘ অদিতি (2)
  • মেঘশ্রী ব্যানার্জী (7)
  • মৌমিতা পাল (1)
  • মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায় (5)
  • মৌসুমী মৌ (2)
  • যুগান্তর মিত্র (24)
  • রঞ্জন মৈত্র (2)
  • রঞ্জনা বসু (4)
  • রত্নদীপা দে ঘোষ (2)
  • রাজর্ষি ঘোষ (1)
  • রাহুল গাঙ্গুলী (10)
  • রিমি মুৎসুদ্দি (1)
  • রিয়া চক্রবর্তী (4)
  • রীতম চট্টোপাধ্যায় (2)
  • রীতা ঘোষ (1)
  • রীনা রায় (3)
  • রুদ্র বোস (1)
  • রুমা অধিকারী (4)
  • রুমা ঢ্যাং অধিকারী (4)
  • রুমেলা দাস (1)
  • লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল (2)
  • লুৎফুল হোসেন (2)
  • শঙ্খসাথি পাল (4)
  • শঙ্খসাথি_পাল (1)
  • শমিতা ওঝা (1)
  • শম্পা মাহাতো (8)
  • শম্পা রায় বোস (1)
  • শর্বরী মুখার্জী ও সিলভিয়া ঘোষ (1)
  • শর্মিষ্টা দত্ত (11)
  • শর্মিষ্ঠা ঘোষ কবিতা (1)
  • শর্মিষ্ঠা দত্ত (18)
  • শর্মিষ্ঠা নাহা (1)
  • শাঁওলি দে (1)
  • শাপলা সপর্যিতা (6)
  • শামীম মনোয়ার (1)
  • শাশ্বতী সান্যাল (2)
  • শিল্পী দত্ত (4)
  • শীর্ষা মণ্ডল (3)
  • শুক্লা মালাকার (3)
  • শুক্লা মালাকার (1)
  • শুভ আঢ্য (10)
  • শুভদীপ চক্রবর্তী (1)
  • শুভদীপ মাইতি (1)
  • শুভব্রত দাস (1)
  • শুভময় মজুমদার (1)
  • শুভশ্রী সাহা (12)
  • শুভা গাঙ্গুলী (1)
  • শুভাশিস সিংহ (8)
  • শুভাশিস সিংহরায় (1)
  • শুভাশিস হালদার (1)
  • শৈবাল চক্রবর্তী (1)
  • শৈলেনচৌনী (1)
  • শোভন বাগ (2)
  • শোভন মণ্ডল (2)
  • শৌনক দত্ত (5)
  • শৌভিক চ্যাটার্জী (1)
  • শ্যামলী সেনগুপ্ত (3)
  • শ্যামা পদ দে (3)
  • শ্রদ্ধা চক্রবর্ওী (1)
  • শ্রাবণী সোম যশ (5)
  • শ্রাবণী সোমযশ (1)
  • শ্রাবনী সোম যশ (1)
  • শ্রীজিতা বেরা (2)
  • শ্রীময়ী চক্রবর্ত্তী (1)
  • শ্রীলেখা মুখার্জ্জী (9)
  • শ্রীশুভ্র (1)
  • সঞ্জয় ঋষি (1)
  • সঞ্জীব কুমার (2)
  • সঞ্জয় চ্যাটার্জী (1)
  • সন্মাত্রানন্দ (2)
  • সবুজ বাসিন্দা (সুপম রায়) (1)
  • সব্যসাচী সান্যাল (1)
  • সমর জানা (1)
  • সমিত মজুমদার (2)
  • সমীর দাস (2)
  • সম্বৃতা দাশরায় (2)
  • সর্বাণী সোম যশ (1)
  • সাত্যকি (1)
  • সিলভিয়া ঘোষ (11)
  • সিলভিয়া ঘোষ (2)
  • সুকলী সরকার (1)
  • সুকল্প দত্ত (1)
  • সুকান্ত ঘোষ (1)
  • সুকান্ত মজুমদার (1)
  • সুচেতা বিশ্বাস (5)
  • সুজন ঘোষ (1)
  • সুজাতা দে (1)
  • সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায় (3)
  • সুতপা সরকার (2)
  • সুধাংশু চক্রবর্তী (2)
  • সুনীতি দেবনাথ (1)
  • সুনৃতা মাইতি (2)
  • সুপম রায় (1)
  • সুপ্রকাশ মুখোপাধ্যায় (1)
  • সুপ্রতীম সিংহ রায় (1)
  • সুব্রত ব্যানার্জী (1)
  • সুব্রত ব্যানার্জ্জী (2)
  • সুব্রত মণ্ডল (4)
  • সুমন কুণ্ডু (6)
  • সুমন মণ্ডল (1)
  • সুমন সাহা (1)
  • সুমনা দত্ত (4)
  • সুমনা পাল ভট্টাচার্য (2)
  • সুমিত দেবনাথ (1)
  • সুমিতা মজুমদার (2)
  • সুশান্ত বর্ধন (2)
  • সুশান্ত হালদার (2)
  • সেলিম মণ্ডল (1)
  • সেলিম মন্ডল (1)
  • সোনালী ঘোষাল (1)
  • সোনালী মিত্র (1)
  • সোনালী সাহা (1)
  • সোমনাথ বেনিয়া (1)
  • সোমাদ্রি সাহা (1)
  • সোহেল ইসলাম (1)
  • সৌমনা দাশগুপ্ত (3)
  • সৌমলেন্দু ঘোষ (1)
  • সৌম্যদীপ রায় (1)
  • সৌরভ নীল (1)
  • সৌরভ বর্ধন (2)
  • স্নেহাংশু বিকাশ দাস (4)
  • স্বপন রায় (11)
  • স্বপ্ননীল (1)
  • স্বাতী চ্যাটার্জী ভৌমিক (4)
  • স্বান্তনা দাস (1)
  • হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (2)
  • হাসান রোবায়েত (2)
  • হিমাংশু চৌধুরী (1)
  • হৈমন্তী বন্দ্যোপাধ্যায় (1)

পুরোন সংখ্যা

সৃজন দর্শন

ফেসবুক পাতায় সৃজন

সৃজনের জনপ্রিয় লেখক

  • সম্পাদকীয়
  • সোহেল ইসলাম
  • সম্পাদকীয়
  • চন্দ্রাণী বসু
  • ম্যারিনা নাসরীন
  • অজিত রায়
  • জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি
  • সম্পাদকীয়
  • মলয় রায়চৌধুরী
  • ভজন দত্ত

সৃজন লেখকবৃন্দ

জয়তী রায় ( মুনিয়া) তুষ্টি ভট্টাচার্য যুগান্তর মিত্র বনবীথি পাত্র ভজন দত্ত কৌশিক চক্রবর্ত্তী মানস চক্রবর্ত্তী অনিন্দ্য রায় সিলভিয়া ঘোষ মলয় রায়চৌধুরী রাহুল গাঙ্গুলী শুভ আঢ্য ঝুমা চৌধুরী দীপঙ্কর বেরা নন্দিনী পাল বাসব মন্ডল শম্পা মাহাতো শুভাশিস সিংহ দেবাশিস মুখোপাধ্যায় অনুপম দাশশর্মা জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় নীপবীথি ভৌমিক পারমিতা চক্রবর্ত্তী বিশ্বজিৎ দাস শাপলা সপর্যিতা অণুশ্রী ভট্টাচার্য্য মুখার্জী অরিজিৎ বাগচী শৌনক দত্ত অর্ঘ্য দত্ত জয়ীতা ব্যানার্জী গোস্বামী পবন বর্মন পিয়ালী বসু ঘোষ রুমা অধিকারী শঙ্খসাথি পাল সুব্রত মণ্ডল সৌমিত্র চক্রবর্তী অ্যাঞ্জেলিকা ভট্টাচার্য চন্দ্রাণী বসু চয়ন ভৌমিক পিয়ালী বসু পূবালী রাণা বেথুন বেরা মৃন্ময় চক্রবর্তী অনিন্দ্য সান্যাল অরুণাভ চট্টোপাধ্যায় এ কে এম আব্দুল্লাহ তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বীপ সরকার বিতস্তা ঘোষাল বিদিশা দাস বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় মনোজ আচার্য মিঠুন চক্রবর্তী রত্নদীপা দে ঘোষ সন্মাত্রানন্দ সুধাংশু চক্রবর্তী সুনৃতা মাইতি সুমনা পাল ভট্টাচার্য সুশান্ত হালদার হাসান রোবায়েত অঞ্জলি সেনগুপ্ত অভিষেক ঘোষ অরুণজীব রায় অর্কায়ন বসু ইন্দ্রজিৎ দত্ত উমাপদ কর ওয়াহিদা গৌতম যুথিপুত্র জাকিয়া জেসমিন যূথী জুবায়ের আহম্মদ জয়তী অধিকারী দীপান্বিতা বসু নির্মাল্য বিশ্বাস পীযূষকান্তি বিশ্বাস প্রণব বসুরায় প্রণবেশ সরকার প্রবীর বিকাশ সরকার বিপ্লব মিশ্র ব্রততী সান্যাল মুনিয়া রাজর্ষি ঘোষ শঙ্খসাথি_পাল শুভময় মজুমদার শুভাশিস সিংহরায় শ্রীশুভ্র সব্যসাচী সান্যাল সুব্রত ব্যানার্জী সেলিম মন্ডল সোনালী ঘোষাল সৌমলেন্দু ঘোষ সৌম্যদীপ রায়
ব্লগজিন-এ প্রকাশিত সমস্ত লেখা স্ব-স্ব লেখকের অনুমতি ব্যাতিত অন্য কোথাও প্রকাশ নিষেধ. অসাধারণ ইঙ্ক. থিম. Blogger দ্বারা পরিচালিত.