তনিমা হাজরা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
তনিমা হাজরা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

তনিমা হাজরা

                            


আরাত্রিকা


(১)
সেই যে পদ্মপাতায় জল ধরেছি, 
অনেক বছর আগে, 
এখনো জল নীলকমল আর লালকমলে জাগে, 
সেই যে চুলে মেঘ ধরেছি, চোখে বজ্রপাত, 
এখনো জাগে নীলকমল আর লালকমলে রাত, 
সেই  আলোতে বসন পরে ভোর হয়েছে কবে, 
সব বাসনা মাটির ওপর ভোরের শিশির হবে।।

(২)

কোথায় তোমার বাড়ি 
ও মেয়ে কোথায় তোমার বাড়ি??

-যেখান থেকে আসার সময় 
বাবার গোত্র, পদবিটা হল ছাড়াছাড়ি।। 

কোথায় তোমার বাড়ি,
ও মেয়ে কোথায় তোমার বাড়ি??

--যেখানে খাট, বিছানা পাতা, হাড়িকুড়ি উনোন উঠোন, 
সাথে হৃদয় ছেঁচা পুরুষ রতন, স্বপ্ন কুটে 
মশলাপাতির গন্ধ রকমারি, 
ইচ্ছেমতো বস্ত্রহরণ, ইচ্ছেমতো শাড়ি।।

কোথায় তোমার বাড়ি,
ও মেয়ে কোথায় তোমার বাড়ি??

-- ঘর বানাতে দর বুঝেছি নিজের এখন, 
তাই ভেলায় চড়ে দরের খেলায়
 একাই সাঁতার কাঁটি, 
শিকড়বিহীন জমিন দারীর 
সার বুঝেছি খাঁটি।।

(৩) 
সাগরপিয়াসী সেই নারী
সাগর ডিঙিয়ে চলে 
যেন ঊর্মির কান্ডারী, 
চোখে তার সূদুর দিগন্তরেখা, 
বালিদের সাথে বসে ঝাউপাতা জড়ো করে একা, 
ঝিনুকের মতো যত লবণ অধ্যায়, 
মুক্তার দৃঢ়তা তার বুকে দিয়ে যায়।। 
(৪)
প্রথম কদম ফুলটি ছিল গাছের কাছের ডালে,
 মন দিয়েছে মুখ্যু মেয়ে কিশোরী খেয়ালে, 
 কৈ সে ডাকে, কৈ ডাকে না,কৈ পাড়ে সে, কৈ পাড়ে না, 
 লোহার বাসরঘর, 
 মনসা গোঁজে খোঁপার কাঁটায় সাপের সাদিক বর, শাপজড়ানো বাপপেয়ারে 
সহজ লখীন্দর,
বর নাকি সে অভিসম্পাত, শয্যা পুড়ে ছাই, সগগো কাঁপান নাচ দেখবেন
 যমের সোদোর ভাই,
 সোদোর নাকি অধর মাটি, সোনার কাঠি, রূপার কাঠি
  ঘুম ধরেছে, খুব যেন সে, চোখ জুড়ানো, পাখ মেলা সে, স্বপ্ন কাঁচা খায়, 
  বেউলো সতী আত্মরতি স্বমৈথুনে বায়, 
  খায় সে জীবন, মনের মতন পলান্ন ভোগ চড়ে, 
  বর্ষা লেগে কদম স্তবক কাদায় ঝরে পড়ে, 
  প্রেম সে অবুঝ, হা কুচকুচ, কার সে চাবুক, কার বন্দুক,  
বেউলো ক্যানে ভাসে, কলার মান্দাসে, 
সাপের চুমুক, বিষকম্বুক, শালের পাতে ছলকানো দুধ,
 লোহার বাসর, ঝাঁঝট কাঁসর, বিদ্রোহী  আয়ুধ।। 

চিত্রঋণ- ঈষা চৌধুরী 


শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

তনিমা হাজরা


#ভালো_থাকিস_তুই


নাওএর উপর ছই, 
সাইদুল, যাস রে কোথায় তুই, 
পেরিয়ে কালবোশেখির ঝড়, 
মাঝি, তুই সাবধানে যাস ঘর।

নদীর জলে ঢেউ, 
মাঝির মনে ভাসে কেউ, 
অপূর্ব এক জুটি,
যেন বকমবকম বিহঙ্গম সে দুটি, 
কলকল হাসি, 
দু'জন পাশাপাশি।। 

বড্ড মন কাড়া,
ভাবতে বসে মাঝি,
কেমন আছে তারা??

সবাই তো নাও এ চড়ে,
ক'জন মাঝির খবর করে, 
মাঝির বসত ঘর, 
মাঝির প্রাণের স্বর,
মাঝির ডাইল-ভাত, 
মাঝির সন্ততি অঙ্গজাত,
কিছু তুচ্ছ কথায় মাখা,
উপহারের নামমাত্র টাকা,
তাতেই মাঝি পুষে রাখে ভালবাসার ঋণ,
একটি স্মৃতিমেদুর দিন।।

তাই তো  মাঝির মন,
আজ বিষম উচাটন, 
মারী যে চারদিক, 
রমজানে রাখে তৌফিক 
মাঝি তুই কেমন করে হলি
তাদের এমন অক্ষয় রফিক। 

আপন বলে কাকে,
যে ব্যথায় খবর রাখে, 
বাজে মাঝির চলভাষ, 
তার কন্ঠে দুশ্চিন্তার ত্রাস।

ওরা জানতে পারে, 
ওদের কথা মাঝির প্রায়ই বড্ড মনে পড়ে, 
হে মন, এ উতল দরিয়ায়
 কি করে কে যে কার আপন,
অহো! কী অমর্ত্য এ ক্ষণ, 
কী অপার্থিব এ বন্ধন, 
কথার গায়ে টুপটুপিয়ে
 কথারা সব ঝরে, 
 ঝাপসা অশ্রুভারে,
 দুখের ভাগ নিলে তা কমে, 
 সুখের ভাগ নিলে তা বাড়ে 
মাঝি, জানবি তুইও ওদের আপন 
তোর এমন সরল প্রাণের 
জোয়ার ভালবাসায় 
লাগলো মননদীতে পূর্ণমাসীর জোছনা-রজত কাঁপন।।

নাওএর উপর ছই, 
সাইদুল, এখন কোন গাঙে রে তুই, 
পেরিয়ে কালবোশেখির ঝড়, 
দোয়া রাখি, 
বন্ধু, যেনো প্রত্যহ সাবধানে তুই ফিরিস নিজের ঘর।। ত নি মা।। 

শব্দার্থঃ 
রমজান- কলুষদহনকারী অগ্নি
তৌফিক - সম্প্রীতি
রফিক -বন্ধু, প্রাণপ্রিয়  ।।।ত নি মা।।

#দেবতার_কান্না 


আচ্ছা তোমাদের সেইসব নানা ধর্মের নানা নামের দেবতারা সব কেমন আছেন এখন,
একবার নিতে চাই ভাই খোঁজ। 

সেই যাঁরা সকাল থেকে নানা উপাচারে  তোমাদের বাধ্য হয়ে ফুলে, দীপে সেজে তোমাদের জন্য অপেক্ষা করতেন  রোজ।।

তোমরা তাঁদের সামনে যাবে,
 ধূপ দেবে, ধুনো দেবে, ফল দেবে, ফুল দেবে, মোমবাতি দেবে, চাদর চড়াবে, মাথা ঠুকে প্রণামী বাক্সে  ঘুষ দেবে নিজেদের ষোলো আনা ভালো হোক এই প্রার্থনায় ।।

তারপর, স্তবের স্তবকে স্তবকে  বিবিধ ধর্মস্থানগুলি মুখরিত হবে বিবিধ ধর্মগীতিকায়।। 

 দেখো কি পরিমাণ অসহ্য হয়েছো এই সামান্য কদিনের বন্দীত্ব সহ্য করে, 
সেইসব স্বরচিত দেবতাদের কথা ভাবো তো একবার দয়া করে, 
 কেমন আবদ্ধ তারা  চিরকাল তোমাদের যোগ ও সাজশে বদ্ধ গর্ভগৃহে ধর্মকুটিরে, কুটিরে। 

ডাকছে বিপন্ন মানুষ এতবার এত করে, 
তবুও মানুষের ভিড়ে, 
এসে দাঁড়াতে দাওনি তাঁদের নিজেদের ক্ষুদ্রতাদোষে, 
বেঁধে রেখে দিয়েছ তাঁদের কষে, 
মন্দিরে, মসজিদে, গীর্জায়, 
লাগতে দাওনি ধূলো দেবতার পায়, 
চড়িয়ে রেখেছ বাহারী পোশাক সাজ ও গহনাসম্ভার তাঁদের অনিচ্ছুক গায়, 
শিকল দিয়েছ তাঁদের  পায়, 
যেন কিছুতেই তাঁরা কয়েদের পাঁচিল না টপকায়, 
তোমাদের ছুঁৎমার্গ কেটে, 
হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ,পারসীক ইচ্ছেমতো নানাবিধ  লেবেল দিয়েছ তাঁদের গায়ে জোর করে সেঁটে। 

এত যে মানুষ মরছে থরে থরে, 
তবু্ও প্রহরায় তাঁদের আটকে রেখেছ  ঘরে মনের ক্ষুদ্র গন্ডি করে।।  

মানুষ তো মরণশীল, 
দেবতা যে অমর, অপার।।
তবুও দেখো কী পোড়া ভাগ্য তাঁর
তোমাদের হাতে পড়ে ।। 

তোমাদের হাতে পড়ে, 
জাত যায় তার, 
ঘুষ খেয়ে যেতে হয় হররোজ
 প্রণামী বাক্সের ফেরে।

দেবতার মহত্ত্ব নিয়েছে
ডাকাতের মতো কেড়ে,
ভক্তের ভক্তির চূড়ান্ত  নীচতা 
এসে, হায়।

দেবতা বলেছেন  বারবার তোমাদের কাছে উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে, 
দেবত্ব নয়, দেবত্ব নয়, অমরত্ব নয়,
এ শিকলের, এ গরাদের হোক ক্ষয়,
অগণিত মানুষের মাঝে 
দেবতাও পরিপূর্ণ এক সামান্য মানুষই হতে চায়।।।।ত নি মা।। 

#পুনরুত্থান 

যীশু উঠলেন 
মৃত্যুকে জয় করে, 
যন্ত্রণাকে মুছে ফেলে গা থেকে, 
যীশু উঠলেন কবরের বল্কলে, 
পুরনো শরীর ঝেড়ে ফেলে রেখে। 

যীশু উঠলেন যেমন করে 
ভুলগুলি করে ক্ষমা 
মহামানবেরা অভিব্যক্তিপথ খোঁজে, 
যীশু উঠলেন মানবের প্রতিনিধি 
যেন মাশুল গুনেছে খেটে খাওয়া তার রোজে।

যীশু উঠলেন ভোরের আলোর মতো 
আকাশের গায়ে অবিনশ্বর দম্ভে,
যীশু উঠলেন প্রাণের প্রেরণায় 
সৃষ্টির প্রারম্ভে।।

যীশু উঠলেন, যীশু উঠবেন, 
পৃথিবীর বুক চিরে, 
যীশু উঠলেন,যীশু উঠবেন 
সবুজের সারি ঘিরে।।

যীশু উঠছেন ধমনীর দ্রুত রক্তপ্রবাহ যেমন হৃদয়ের থেকে প্রাণবায়ু নিয়ে প্রতি কোষে কোষে ছোটে,
যীশু উঠবেন যেমন করে গায়ের অজস্র শুঁয়োগুলি ঝেড়ে প্রজাপতি তার ডানা দুটি মেলে গুটির গরাদ কেটে।।

যীশু উঠবেন হিংসার শেষে বিজয়ী বিবেকদ্যুতি, 
যীশু উঠবেন শোক ভেদ করে আশার আলোর প্রতি।। 

শবদেহ ছেড়ে যীশুর উত্থান 
আসলে শোক জয় করে জীবনেরই গান।।

মৃত্যুর অন্তিম তীরে বসে বসে জীবনের টংকার,
তাই যীশু উঠলেন, যীশু উঠছেন, যীশু উঠবেন বারবার।।

গর্ভিনী ধরার সন্তানদের নিঃশেষ করে, বিলুপ্ত করে, 
এমন সাধ্য কার??
ওরে, এমন সাধ্য কার??? ত নি মা।। 
 

সোমবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৮

তনিমা হাজরা




 

(১)
 শোন মন আছে তোর? 
আমার কিন্তু নেই, 
আছে এক আগ্রাসী অন্তর। 

প্রচন্ড ক্ষিদেয় ভালবাসার রক্তমাংস 
সব চুষে খেতে চায়।

তফাৎ যাও, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু,
নেহি তো সব ঝুট হ্যায়।।

(২)
প্রভাবশালী শব্দেরা দাঙ্গা বাঁধিয়ে তোলে মাথার ভেতরে, 
পাইন গাছেদের এ ভারি দুর্দায়,
শীর্ষমুকুলের প্রসব যন্ত্রণা পেরিয়ে আকাশ ধরতে যেতে হয়, 
শিকড়ে আটকে থাকে তবু প্রাণ। 

(৩)

খেলনা পাতি খেলতে খেলতে কখন আমি ভুলেই গেছি খেলার নিয়ম। 
ভাবছি বুঝি খেলাই সত্যি, আইসবাইস।
এই বৃষ্টি, এই মেঘ, লুকোচুরি, ভোকাট্টা,
দম নিতে দে।
 শুধু কি মানুষ, সময় ও ভুল প্রমাণিত হয়।
 
আব্বুলিশ।।






শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৮

তনিমা হাজরা

খুব সহজেই


খুব সহজেই মুছে ফেলা যায়
শ্লেটে কষা  যত শব্দ ঋণ 
ভালবাসা সত্যিকারের হলে
সত্যি সত্যি মুছবে না তা সত্যি কোনোদিন। 

খুব সহজেই মুখের মেক আপ তুলে
অন্য সাজে অন্য মানুষ সাজো,
অথচ, বুকের ভেতর গোপন রক্তক্ষত
যা সারিয়ে তোলার দাওয়াই পাওনি আজো।

খুব সহজেই আমায় টেক্কা দিয়ে
যুক্তি কথায় যাচ্ছ জিতে বাজী,
বেশ তো আমায় ভুলতে পারো যদি,
আমিও তবে ভ্যানিশ হতে রাজি।

খুব সহজেই সহজ ছিল আকাশ 
ডানায় মেখে অজানা রোদ্দুর, 
আবার সে তো গুমোট হতেই পারে
কালো মেঘের বিষাদে ভরপুর।

খুব সহজেই পাগলামি সব ছেড়ে 
হতে পারি চরম  বাস্তবিক,
আমায় পাগলামিতে তবুও সওয়া যায়,
পারবে তো ঠিক সইতে আমায় তুমি,
যখন আমি ভীষণ স্বাভাবিক???

শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

তনিমা হাজরা

১.
অলক্ষীগাথা


ভোর হোলো যে,
ও মেয়েটি জাগো, 
লক্ষী হয়ে অনেক বছর ঘুমিয়েছিলে,
এবার অবাধ্য হও,
 কিংবা একটু অলক্ষীও,
জোর গলাতে নিজের প্রাপ্য মাগো।  

অসম্মানে 
একাই রুখে দাঁড়াও,
আঘাতে দাও প্রতিঘাতের শেল, 
মেয়েলি জীবনের খোলস খুলে
এখন থেকে নারী হয়ে ওঠো।।



২.
বহমান
ত নি মা হা জ রা

 আকাশ হতে বড় ভয় হয়,
একদিন সব মেঘেরা বৃষ্টি হয়ে দূরে চলে যায়,
জেগে থাকে শুধু অন্ধকারে  তারাদের দগদগে ক্ষত।

দিগন্ত হতে বড় ভয় হয়,
একদিন রাতে জনশূন্য হবে এই চরাচর,
একাকী কান্নারা শিশির হবে ঝিঁঝিঁ দের সাথে।

নদী হতে বড় ভয় হয়,
একদিন সব মাঝি ফিরে যাবে নাও বেয়ে
মাঝরাতে একাকী ঢেউদের কাছে ফেলে রেখে।

সেই একাকিনী গহনে নদী হব, দিগন্ত  হব, আর আকাশ হব
নিজস্ব পুরুষটির বুকের ভেতর,
সব ভয় জয় করে জীবন হয়ে বয়ে যাব তার শিরায় শিরায়।।




৩.
রাণওয়ে 
তনিমা হাজরা

আমি ভোর থেকে সাজালাম 
সাধের ঝাউগাছ,
তাসের বালিয়াড়ি,
কানাঘুষো চাঁদ,
বৈরাগী হাওয়া,
উদ্বাস্তু কাঁকড়ার তৎপর ছোটাছুটি।
লবণাক্ত কামরাঙা সূর্য।
তুই ঘুমচোখে জোয়ার হয়ে এলি,
পাশে বসলি নিজস্ব ভঙ্গিতে।
সেই পাগল করা হাসি হেসে
 অবহেলায়  বল্লি,
আমার জন্য শুধু শুধু 
এত খেটেছিস কেন?
আমি তো সেই কবে থেকেই তোর হয়ে গেছি।
বারবার শুধু বারবার 
এই কথাটাই শোনার জন্য
আমি আমার অবশ স্নায়ু 
মুঠোয় রেখেছি সারাজীবন।।

৪.
মেলোডি 
তনিমা হাজরা

ইচ্ছে কুড়োচ্ছে মেয়েটি 
ছেলেটির অবসন্ন গ্রীবায়।।

ডুবন্ত চোখের পাতায়,
ক্লান্ত জানুতে।।

মুছে দিচ্ছে পথচলার হিমেল যন্ত্রণা,
জাগিয়ে দিচ্ছে প্রাণ।।

একে ভালোবাসা বলো ভালবাসা
অথবা,বাঁচার দ্বৈত  গান।।