বিদিশা দাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিদিশা দাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

বিদিশা দাস

ইদানীং
 
প্রতিটা সম্পর্কের একটা নিজস্ব খোলা বারান্দা থাকে,
সেখানে টুকরো আকাশ, লতিয়ে ওঠা মাধবীলতা।
শব্দ-স্পর্শ-ঘ্রাণের চিত্রবিচিত্র কারুকাজে ঋতু চেনায় সে ।
দগ্ধ বৈশাখী,ঘ্যানঘেনে শ্রাবণ বা রিনরিনে বসন্তের পয়গাম নিয়ে আসে,
অথবা হিমেল রাতের কুয়াশার শৈত্য।
 
সব অচেনাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না যেমন ;
তেমনি সম্পর্ক গুলোকেও !
 
ওই বারান্দাটা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে ক্রমশ,
 
ইদানীং সম্পর্কগুলো বড় অচেনা হয়ে যাচ্ছে !
  
তবুও ফিরে ফিরে যাওয়া তাদের কাছেই,
মানুষ সামাজিক প্রাণী, আজো এই বদ্ধমূল ধারণায় বাঁচা ।।
        (২)
ভালোবাসলে তবেই ***
বিদিশা দাস
  ***
ভালোবাসলে তবেই জ্যোৎস্না মাখানো কোজাগরী মাঠ ঢুকে পড়ে ঘরে,
রঙচটা চার দেওয়ালে অলৌকিক সমুদ্রবেলা ।
দিগন্ত ছুঁয়ে যায় সুখের অনুভবে আশাবরী রাগ,
জলছবি এঁকে যায় কিছু রূপকথা।
ভালোবাসলে তবেই তো থমকে দাঁড়ায় চাঁদ
  কাঁসার থালায় পরমান্ন নিয়ে জানালায়,
একে অপরের অন্তরটিকে ছুঁয়ে দেখা যায় স্পশার্তীত বোধে,
রিক্ত হতে হতেও শাশ্বত অনন্তের দিকে যাত্রা !
 
তুমুল ভালোবাসলে তবেই ভিতর ঘরের চাবিকাঠি
  খুঁজে পাওয়া যায় শেষমেশ,
ভালোবেসেই নিঃস্ব হয়েও অনির্বাণপ্রভায় আলোকিত আনন্দবেশ ।।


মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০১৭

বিদিশা দাস


আজ বৃষ্টি...বর্ষা এলো ***
             
আজ ভোরাই গানে বৃষ্টি
মেহুলী মেঘ গলানো বৃষ্টি
যেন কতদিনের পরে আবার
স্বেচ্ছানির্বাসনের ঘোমটা সরে
মাটির বুকে প্রেম ঝরলো
চেনা আঙিনায় সুখ জমলো । 
বর্ষা এলো...
সংগে এলো অথই গভীরতা
বৃষ্টিগানে মুখর হল কবির নীরবতা।
আজ দুপুর ধোয়া বৃষ্টি
মনপ্রান ভেজানো বৃষ্টি
যেন বাজলো আবার কদমবনে
রাখালিয়া সুর, নওলকিশোর
বাজায় বাঁশি, রাধামন উচাটন
নীল যমুনা তার যাওয়া বারণ।
বর্ষা এলো...
সংগে এলো প্রথম কদম ফুল
বৃষ্টি সুরে রাধার মন আজ হল ব্যাকুল ।
আজ চুপবিকেলে বৃষ্টি
জোনাক সাঁঝবেলাতেও বৃষ্টি
রূপপ্রতীক্ষা রাতেও বৃষ্টি !
বর্ষা এলো...
সংগে এলো মেঘ রঙা হৃদয়
জলরঙা মন ভালোবাসা
আজ বেদুইন হয় ।
           (২)
*এই বৃষ্টিতে ইচ্ছে হয় ***
             
বিদিশা দাস
এক সকাল অঝোর বৃষ্টি দেখছি,
জলের অফুরান প্রাচুর্যে অতলান্ত সংকেত!
ইচ্ছে হয় কাগজের নৌকো ভাসাই,
নাই বা পেলাম কলম্বাসের জাহাজ !
মনে মনে পাড়ি দিই গহীন সমুদ্রপথ,
রোমাঞ্চকর অভিযান শেষে; নিয়ে আসি
একমুঠো সূর্যকুসুম উষ্ণতা,
আমার সেই সোনালি প্রজাপতিটার জন্য
কাঠটগরের ঝোপটায় বসে থরথর করে কাঁপছে খুব তার জন্য, 
দুলে দুলে কাঁপছে যে নীল অপরাজিতা ফুল গুলো; তাদের জন্য, লাল গোলাপ টার জন্য, আর অবশ্যই ফুটপাতে আদুল গায়ে ভিজছে যে পথশিশু তার জন্যও। 
এক দুপুর নিবিড় বৃষ্টি দেখছি, 
সামনের গলিপথে নীলাভ বিষণ্ণ শূণ্যতা 
কোনো ডাকহরকরা মেঘ দ্রুত চলে যায়,
এক নির্বাসিত বিরহীর চিঠি নিয়ে অলকায় ;
ইচ্ছে হয় মেঘটাকে ডেকে জিজ্ঞেস করি,
আজ অবধি আকাশের ঠিকানায় যত চিঠি লেখা হয়েছে ;সব চিঠিই কি প্রাপক হাতে পেয়েছে ঠিকঠাক ? 
ইচ্ছে করে, ফাল্গুনের জ্যোৎস্না প্লাবিত নদীর বুক থেকে একটু মদালসা উত্তাপ নিয়ে আসি সেই কাঙ্ক্ষিত চিঠিগুলোর জন্য,
সেই উষ্ণতায় তারা পৌঁছে যাক সেই ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে ;যারা হয়তো এখনো ছায়াপথে অপেক্ষায় থাকে প্রিয়জনের লেখা চিঠির জন্য,
অনন্ত নির্নিমিখ অপেক্ষায় ।।