সুচেতা বিশ্বাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সুচেতা বিশ্বাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সুচেতা বিশ্বাস

                                            


কাঁচের দেওয়াল 


মন ভালো না থাক লে শরীর
থাকে না যে  ভালো  
শরীর ভালো না থাকলে 
মন ভালো নেই কারো 
মন ভালো নেই মন ভালো নেই
 রথের মেলার বাঁশী 
ছিল সেদিন۔ চোদ্দআনা 
আজ  বিন পয়সার হাসি 
গুমরে ওঠে মেঘলা দুপুর 
জলের সাথে খেলায় 
বুদ্বুদ উঠে মিলিয়ে যায় 
বৃহত্তর বেলায় 
মন ভালো নেই  দেয় না শরীর 
যাচ্ছে জুড়ে দেওয়াল কাঁচ
শান্ত জলের অদেখারা 
ভিতর থেকে উঠছে ডাক 


ইন্দ্রজাল

 ফিরতি পথের ঘুমেরা পা ছড়িয়ে 
অনেক দিন গল্পগাছা হয় না 
বাবার বাগান প্রেম মায়ের ধূপধুনো 
মিইয়ে যাওয়া  অবেক্ষণে  সতর্ক
মেঘলা বিকেল বারান্দা সমুদায় 
বরঞ্চ শব্দটা র প্রয়োগ নিয়ে বাড়াবাড়ি 
কোনো মানে রাখে না এখন 
মানসিক ঐহিক শব্দজাল চাকার দাগের 
মতন ঘূর্ণিতে মিলিয়ে গিয়ে ইন্দ্রজাল 
 রাত হলে ঘুমের ওষুধ এসে দাঁড়ায় 


নতুন বসন্ত 

স্মৃতি দুলে উঠলো  যেই স্টেশন ছাড়লো
 মধ্বর্তিনী ট্রেনের জানলা 
মাদুর পেতে রোদ বসে দেখছে শীতের শেষটুকু 
ডাক নাম যাদের শিহরণ সেই শুকনো পাতাদের আজকে ভোজ  অনন্ত শূন্য বিসমিল্লার নহবতে 
পিষে যাচ্ছে  সোহাগের আটপৌঢ় ঘরকন্না 
আগুন আগুন অহংকারে  ঝট করে সরে গেলো۔۔ 
পলাশ বনানী যাদের নুন  আনতে পান্তা শেষ হয়েছে 
এখন পাতে শুধুই গরম ভাতের সুগন্ধি 
মেখে নিচ্ছে ধুমকেতু আলো 
চেন টানার সময় হয়ে এল 


শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১

সুচেতা বিশ্বাস

                               


পাখির পালক 

অপর্ণার এখন কিছুই ভালো  লাগে না ۔۔۔۔কোনো রকম এ রান্নাটা রোজ করে ۔۔তাও ও তেল কম ۔۔ঝাল  কম ۔۔সারাদিনে  কত গ্লাস জল যে সে খায় ۔۔۔অনেকে বলে এটা নাকি ম্যানিয়া ۔۔۔রুমা অনেকদিন ধরে দেখছে অপর্ণা কে ۔۔সপ্তাহে একবার ডাক্তারের কাছে যায় ۔۔তখন রুমার সাথে দেখা হয়ে ۔۔অটো স্ট্যান্ডের গায়েই রুমাদের বাড়ি ۔۔রান্নাঘর থেকে দেখতে পেলেই  ছুটে আসে রুমা ۔۔"দিদি কেমন আছো " 
"ভালো লাগছে না গো শরীরটা ۔۔۔"
" কি হলো আবার ۔۔আগের সোমবার ই তো ডাক্তারের কাছে গেলে " 
" ওষুধ এ কাজ হয় নি ۔۔উল্টে মাথা ব্যাথা শুরু হয়েছে " 
"তুমি এবার অন্য ডাক্তার দেখাও দিদি " 
" কত ডাক্তার তো দেখলাম "
‌রোজ ই একই রকম কথা ۔۔۔তাই চুপ করে যায় রুমা ۔۔পাশের বাড়ির  রুবি বৌদি ও দেখে অপর্ণা কে ۔۔ভালো জানাশোনা ও আছে ۔۔কিন্তু অপর্ণা কে দেখলে ই ঘরে ঢুকে যান ۔۔উনি ই তো বলেন "ওর ওটা ম্যানিয়া ۔"۔ মাঝে মাঝে রুমার মনে হয় পাশের বাড়ি র বৌদি ই ঠিক ۔۔সুন্দর সংসার ۔۔বাড়ি গাড়ি কি নেই অপর্ণার  ۔۔তা  ও মুখে হাসি নেই ۔۔একপাড়াতে আজ এগারো বছর একসাথে ۔۔সেই বিয়ের পর থেকে রুমা পাড়ার সবাই কে দেখছে ۔۔পরিবর্তন তো আসে সবার ই ۔۔এটাই জীবনের নিয়ম ۔۔۔অপর্ণার পরিবর্তন টা  একেবারেই অন্য রকম ۔۔۔রুমা একদিন ওর স্বামী কে জিজ্ঞাসা করেছিল . " তুমি তো ছোটোর থেকে দেখছো অপর্ণা দি কে ۔۔আগে ও এই রকম ছিলেন " 
‌" ঘরে থাকতো নাকি ۔۔দিনরাত টই টই  .  একটা দল ছিল ওদের  ۔۔ছেলেদের  কে স্কুলে দিতে যাবার নাম করে۔۔সুইমিং ক্লাস এর নাম করে  কোথায় কোথায় যে সব কটা যেত ۔۔পাড়া তে সবাই জানতো ۔۔মার্কেট, সিনেমাহল, ডিস্কো থেক۔۔সব জায়গায় দেখা যেত ۔۔বাড়ি  তেও এই নিয়ে খুব অশান্তি ছিল" 
‌এই টুকুই বলেছিলো সমীর ۔۔۔কৌতুহল টা  রয়েই গিয়েছিলো ۔۔পাশের বাড়ি র রুবি বৌদি বাকি টা বললো একদিন ۔۔"ছেলে রা বড়ো হলো ۔۔দল  ভাঙলো ۔۔দলের মধ্যে ওর ই  ছিল ভীষণ রেশারেশি ۔সব থেকে বেশি হিংসুটে ছিল۔ ۔۔আমার বড়দি ও তো ছিল ওই  দলে ۔۔দিদির কাছে শুনেছি যার যা দেখতো সেটাই ওর চাই ۔۔কারুর ভালো ও দেখতে পারতো না " 
‌রুমা সেদিন  ই বুঝেছিলো রুবি বৌদি ওই অপর্ণা দি কে এড়িয়ে যায় ۔۔কি এমন হলো যে উনি এমন হয়ে গেলেন ۔অতীতের ۔۔উশৃঙ্খল জীবন কি  ওকে খুঁড়ে খুঁড়ে খায় ? কি এমন বিষাদ যে পুরো শরীরটা কে নষ্ট করে  দেয় ۔۔না পড়ে একটা ভালো শাড়ী না একটু সেজেগুজে থাকে ۔এ কেমন বিষাদ ? 
‌শাশুড়ি মায়ের কাছে শুনেছে অপর্ণা দির কিডনির প্রব্লেম ছিল ۔۔۔ভেলোর নিয়ে গিয়েছিলো ۔۔খরচের কোনো ত্রুটি রাখেন নি গৌরব দা ۔۔এর সঙ্গে বেশ একটা মজার ঘটনাও মা বলেছিলেন মা ۔۔" ওই যে শরীর টা খারাপ হলো ۔۔তার পর থেকে কোনো বন্ধু ফোন করলেই বলতো ওর শরীর টা আজ খুব খারাপ ۔۔প্রায় ই এই ভাবে ওর শরীর খারাপের কথা শুনে বন্ধুরা 
‌রাতের কিংবা দুপুরের সব রান্না করে দিয়ে যেত ۔۔আর ও ওই সুযোগে সেদিন 
‌টা রান্না করতে হবে না বলে সেজেগুজে বর ছেলে নিয়ে বেড়াতে যেত " 
‌এটা আপনি কি করে জানলেন মা " রুবির বড়দি যেদিন ওদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছিল ۔۔সেদিন ওই ই ওদের বাজার এ দেখছে ۔۔۔" 
‌রুমা অনেক কোথা ই  জানে ۔۔কানে আসে ۔۔কিন্তু অপর্ণার সাথে বসে কোনোদিন গল্প করে নি ۔۔মাঝে মাঝে অপর্ণাদির সাজপোশাক ও বড্ডো উগ্র লাগে রুমার ۔۔রবিবার প্রায় ই দুপুরে গৌরবদার সাথে বেরোয় এই পঞ্চাশেও টাইট জিন্স জিনস উপরে বাচ্চা মেয়েদের মত রংচঙে টপ ۔۔পাড়ার অনেক ই হাসাহাসি করে "۔۔ফিসফাস শোনা যায় " স্বামীর শাসন নেই " 
রুমার সবই শোনা কথা ۔۔শুনে শুনে মনের মধ্যে কল্পনা করে নিয়েছে কিন্তু সত্যি কি সব টা ঠিক ۔۔আর সবাই তো এক রকম হয় না ۔۔ আমাদের সমাজে কেউ একটু আলাদা হলেই সবার আগে আমরা মেয়েরা ই তাকে নিয়ে  বেশি সমালোচনা করি۔۔ ۔۔ যুগ যুগ ধরে মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু ۔۔অপর্ণা কে দেখলেই রুমার মনের দ্বন্দ্ব তৈরী হয় ۔۔
" কোথায় গিয়েছিলে  অপর্ণা দি ?۔۔ এসো না একদিন ۔۔গল্প করবো۔۔ " 
সেই মিস্টি হাসি "  আসবো আসবো ۔۔۔ গাইনির কাছে গিয়েছিলাম ۔۔۔দূর কিছুই হয় নি ۔۔"
" কেন কোনো অসুবিধা হচ্ছে " 
" তলপেটের ডান দিকে একটু ব্যাথা۔۔কোনো ওষুধ ই দিলেন না ۔۔জানো ডাক্তার হাসতে হাসতে কি বললেন "অপর্ণা কে এত খুশি দেখে রুমার ও উৎসাহ বেড়ে গেলো۔۔ "
" কি বললেন গো "
" বললেন সব ওষুধ বন্ধ করে দে ۔۔একটা  বয় ফ্রেন্ড বানা ۔۔আর ওকে নিয়ে পার্ক এ ঘুরে বেড়া ۔۔"
দুজনেই হো হো করে  হাসতে লাগলো ۔۔রুমা মনে মনে ভাবছে সত্যি তো সব  রোগের ই ওষুধ আছে ۔۔মনের রোগের ওষুধ ক জন দিতে পারে ۔۔সে তো۔ পাখির পালকের মতন ۔۔ভোরের  শিশিরে র মতন۔ ۔۔শিউলি গন্ধের মতন ۔۔۔নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়۔۔




সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

সুচেতা বিশ্বাস

                      




জন্মদিন 


বৃষ্টি টা ধরে এসেছে, সকাল থেকে ই অসহ্য গরম ,তাতেও সব কাজ মুখ বুজে করে গেছে পুনম , মায়ের শরীরটা ভালো নেই তার উপর গরমে নাজেহাল.. তাও মা সোফায় বসে বসে সবজি কেটে , রুটির আটা  টা মেখে দিয়েছিলো , ছুটির দিন ভাই ভাইবৌ দেরিতে ই উঠেছে , সব রবিবার যেমন ওঠে ,ওদের আজ বন্ধুদের সাথে কোনো রিসোর্ট এ পিকনিক ,সেজে গুজে সকাল সকাল রওনা দিলো , লাঞ্চের পর  .স্কুলের বাচ্ছাদের . টেস্ট পরীক্ষার খাতা  গুলো সারা দুপুর বসে চেক করলো  .ছেলে কে নিয়ে পড়াতে বসলো  ,তার পরে ই হঠাৎ মনে পড়লো ,আজ তো রবিবার  ..নীল এখুনি বায়না করবে  মল যাবার জন্য ...সারা সপ্তাহের পর রবিবার মানেই . .মল এ গিয়ে    পেট পুরে  বার্গার খাওয়া,  ম্যাকডোনাল্ড থেকে .,এটাই নীলের একটু খানি জীবনে খুশিই মুহূর্ত ...সারা সপ্তাহ সে অপেক্ষা করে যায় দিনটার জন্য ..কিন্তু আকাশ এর অবস্থা  দেখে  পুনম বুঝেছে  আজ নীলের মন খারাপ হবে.. ..কিন্তু নীল গেলো কোথায় ? 
এখন নীল কে খুঁজতে যাওয়া মানে সারা বাড়ি খুঁজে দেখা ... ..গলা চড়িয়ে ডাক দিলো পুনম " নীল ...কোথায় গেলি " 
"আসছি মাম্মা "
একছুটে দৌড়ে এসেছে নীল ..জোরে জোরে  হাঁপাচ্ছে
হাতে একটা চার্ট পেপার না ? 
মিট মিট হাসছে ছেলেটা ..
মায়ের কাছে এসে  ই চার্ট পেপার এ এগিয়ে দেয় .
চার্ট পেপার  দুভাজ করে বানানো একটা বার্থডে কার্ড. 
বাড়ির কারুর মনে নাই আজ পুনমের জন্মদিন ..মা বাবার তো বয়স হয়েছে ..ওদের কথা পুনম ধরে না ..কত কথাই  তো ওরা ভুলে যায় ..ভাই ও ভুলে গেলো ..কাল রাতে ই পুনম ভেবেছিলো বিকেল হলে ই অন  লাইনে এ সবার মনের মতন কিছু খাবার দাবার আনিয়ে নেবে ..তখন ঠিক কারুর না কারুর মনে পরে যাবে ..
আজ 7 বছর হয়ে গেছে সন্দীপ সেই যে পুনম কে বাপের বাড়ি দিয়ে গেলো ...তখন পুনম অন্তসত্তা ..আর আসে নি সন্দীপ ..এই সাত বছরে একবার নিজের ছেলে কেও দেখতে আসে নি ..দুবাই এর  ভালো ব্যাবসায়ী পরিবার দেখে পুনমের বাবা খুব ঘটা  করে তার একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম ...মন খুলে দুহাত উজাড় করে খরচ করে ছিলেন ..সন্দীপের ব্যাবসার জন্য কিছু টাকার দরকার ছিল ... তা ও তিনি দিয়েছিলেন বিনা দ্বিধায় ..না গয়না না টাকাপয়সা ..কোনো টাই  পুনম নিয়ে আস্তে পারেনি ..কোনো রকম যোগাযোগের রাস্তাই  ছিল না ..বড়ো আদরের মেয়ে তাদের ...কাছে টেনে নিলেন মা বাবা ভাই ....ভালো ছবি আঁকার  হাত 
ছিল পুনমের ...কনভেন্ট এ পড়াশুনা করেছে ....শহরের  নাম  করা একটা ইংলিশ মিডিয়াম এ বাবার চেষ্টাই পুনমের চাকরি হয়ে যায় ..ছেলে নীল কে সবার মাঝে ভালো ভাবে মানুষ করছে ...তাও ছেলেটার দিকে তাকালে ই ভিতর টা ডুকরে ওঠে ...বাবার জায়গাটা তো শূন্য  ..নীল কে সে ছোট বেলার থেকে যা সত্যি সেটা  ই বলেছে ..মাঝে মাঝে বড়ো মন মরা হয়ে থাকে ছেলেটা ..আর এটাই পুনম কে  কুড়ে কুরে শেষ করে দিচ্ছে ..
বার্থডে কার্ড টার দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারছে না পুনম ..কার্ড এ মা আর ছেলে ...নিচে লেখা আছে " মা আর নীল " কত বেলুন ,কেক ,চকলেট ....ভীষণ কান্না পাচ্ছে পুনমের ...নিজেকে সামলে নেয় , "তোর মনে ছিল " 
"না মাম্মা ..মামু  আমাকে কাল রাতে ই মনে করিয়ে দিয়েছে ..মামু তোমার জন্য রাতে সারপ্রাইজ পার্টি রেখেছে ",...কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলে যাচ্ছে একনাগাড়ে কথা গুলো নীল ..."আমি তো তোমাকে সব বলে দিলাম যা হ ...."
এবার ও খুব সামলে নেয় নিজেকে পুনাম ...ওতো অন্য কিছু ভেবেছিলো ..."আমি কাউ কে কিচ্ছু বলবো না .ঠিক আছে ...যা হ সারপ্রাইজ পার্টির জন্য রেডি হয়ে নে "..
নীল খুশিতে এদিক ওদিক দৌড়া দৌড়ি করে বেড়াচ্ছে ..পুনম নীলের আঁকা কার্ড টার  দিকে তাকিয়ে থাকে ..বাইরে একটানা বৃষ্টি আজ সারাদিন 

রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

সুচেতা বিশ্বাস



মা  

দুই মেয়ে বলে কম বলেনি লোকে 
আপনজনই তো তারা 
তাই  কুলুপ ছিল মুখে 

ঘরকন্না  কাজের পর
  ভাত ঘুম কি আসেনি ?
বইখাতা সঙ্গী সারাটা  দুপুর 
 ۔۔
একসাথে ছবি আঁকা ۔۔উল বোনা ۔۔۔সাইকেল 
গানে গানে কতদিন টাপুরটুপুর 

মেয়ে নিয়ে মেয়েবেলা۔۔ মেয়ে তো কি ?
সব পারে মেয়েরা ۔۔মায়ের  কাছেই  শিখেছি 

সুচেতা বিশ্বাস 
বিষয় -মা 

শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৮

সুচেতা বিশ্বাস


টুকরো কথা 
১
হাতের ওপর হাত টি রেখে
বলিস নি ডেকে বেদনাকে
“যা উড়ে যা তুই”
শিমুল তুলো হাওয়ায় মেখে।
২
আঙুল ছুঁয়ে বলেছিলি
হারাবি না কোনদিন
নদীর বাঁকে দেখা হলে
থাকবি শর্তহীন।
৩
ছুঁয়ে গেছে প্রান্তিক মেঘ
আজন্মের ঘ্রানে
তাই বৃষ্টি এলে ডাকবি জানি
তোর দেওয়া ডাকনামে।


 হলুদ পাখি.

নিজের অজান্তে খুলে আসে হলুদ পালক
জানেনা খেয়ালী পাখি
পালকটি ওড়ে...।
থেমে থেমে রং পাল্টে যায়
গায়ে বেশ হিম লাগে এতদিন পরে
ছুঁতে চায় মেঘ --ভিজবিতো আয়?
জানে না হলুদ পাখি
এতদিন খাঁচায় এসেছে রাত
পেয়েছে অঢেল দানাপানি
তারপর হল জানাজানি
দুচার কথায় কি বা এলো গেল
আঁজলা ভরুক উঠে আপন মনের যত নুনে।



রক্তচাপ

কার্নিশ থেকে টুপটাপ হিম
শব্দে শব্দে জলীয়বাষ্প
চুপ কথারা বিরক্ত হয়
মাসাল্লা ওরা একদিন হাসতো

পরিনত রোদ্দুর চু কিত কিত
পাড়াপড়সী দীর্ঘ ঘুমে
মেঘমল্লার ঘা ধূতো অভিমানী
আজ হারিয়ে সুরবাহার আস্তরণে

পরিনীতা ফাগুন আগুনের
রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিলাপ বিস্তার
রক্তচাপের মাত্রাহীন সুরে


সেই তাললয় হারিয়েই নিস্তার