স্নেহাংশু বিকাশ দাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্নেহাংশু বিকাশ দাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

স্নেহাংশু বিকাশ দাস

                                                                                         


নরম বৃষ্টি পেরিয়ে 


কোনও অভিমান নেই আর

ফুটপাত হারিয়ে গেছে এই অবেলায়

চুপচাপ নরম বৃষ্টি পেরিয়ে।

কান্নার চেয়েও পুরনো ক্ষতদাগ

সেলাই করছে প্রগলভ ফেরিঘাট।

মৃত্যু এসে দাঁড়িয়েছে বালিঘড়ির নিয়মে।

ক্লান্ত পথ ঘুমিয়ে পড়েছে পাখিদের ডাকে।

খেলা শেষ হলে রাত্রির তারায়

অশ্রুবিন্দু যত,

গড়িয়ে পড়বে অলৌকিক জ্যোৎস্নায়।


নিরুদ্দিষ্ট এক ঘুড়ি // স্নেহাংশু বিকাশ দাস


মাটির আয়নায় ছায়া খুঁজছে নিরুদ্দিষ্ট এক ঘুড়ি

জন্মলগ্ন ছুঁয়ে ভেসে যাচ্ছে আলোয়, তার

ডানা জুড়ে পাখিদের জন্মদিন, নরম হৃৎপিণ্ডধ্বনি

রোদ পড়ে এলে শান্ত মেষপালক ছুটে আসে

বেদনা আঁকা হাতে ছোট ছোট অন্ধকার

নিঃশব্দে মিশে যায় শরীরে শরীরে, ঘুমের ভেতরে

নিভৃত বৃষ্টিতে নিভে যাচ্ছে সন্দেহ, দিনান্তের কোলাহল

নীচে, আরও নীচে রয়ে গেছে ব্যভিচার, আশ্চর্য সমুদ্র

চারপাশে মেঘ ও রোদের মতো জেগে থাকে এক সাঁকো

জেগে থাকে – পরাভূত বেদনার কোলে, নীরব উপেক্ষায়

একাকী বালক এক হেঁটে আসে আদিঅন্তকাল, জীবন উৎসবে


গতজন্মের পাখি // স্নেহাংশু বিকাশ দাস

সেই ছেঁড়াফাটা মুখটা এখন অনেক নমনীয়

নানান কাজে থাকে সারাদিন

মধ্য চল্লিশেও স্রোতের গভীরে নামে অনায়াসে

মাঝে মাঝে মদের গ্লাসে রাখে জীবনের পথঘাট

দুঃখস্মৃতিগুলো নিয়ে নির্জন স্টেশন সাজায়

আর মধ্যরাতে অশান্ত আঙ্গুলে সে ছড় টানে

যেন ব্যুহের ভেতরে বৃষ্টি নেমে আসছে

লোকে ও অলোকে মিশে যায় পদাবলী

কীভাবে দুনিয়াদারি ভুলে

আঁধারেও বেজে ওঠে আনন্দসুর -

আমি শুধু সেই কথা ভাবি....

ঘুমের গভীরে উড়ে যায় গতজন্মের পাখি....

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

স্নেহাংশু বিকাশ দাস


নিজস্ব ছায়ার প্রতি 
এক
এই যে এখন সকাল হল, ছায়াগুলো হেঁটে গেল কাঠবেড়ালির দিকে। আমি অতীত জড়িয়ে নিচ্ছি আলোয়, চাদর জড়িয়ে নিচ্ছি – এমনকি অলস হাসির মধ্যে লুকিয়ে রাখছি একটা গোটা বালিচক লোকাল। স্টেশন জুড়ে এখন বিস্মৃতির পদাবলি। টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিবর্ণ পাতায়। আমার আতসকাচ নেই, সমুদ্র নেই, এমনকি একটা নির্মেঘ আকাশও নেই। অথচ আমি খোলা খাতাটিকে বুকে জড়িয়ে অনর্গল বলে চলেছি অশ্লীল মৃত্যুর কথা। এখন ভিখিরির মতো হাত পেতে আছি। শুকনো পাতার বিষণ্ণতা ছিঁড়েখুঁড়ে দেয়। শীতের বিকেলে নরম অভিমান পাশে এসে বসে। দু’হাতের মধ্যে তখন নিজের ছায়া, জলপ্রপাতের শব্দ। এখন জানালার পাশে বিপন্ন পলিমাটি জমা করি অকারণ....

দুই

চুপচাপ বসে থাকতে ইচ্ছে করছে আজ। কুয়াশা জমেছে। ধুলো জমেছে। স্মৃতির পাশে এখন বিষণ্ণ কামরাঙা গাছ। গুটিশুটি শুয়ে আছে নিরীহ গিটার। সুর লাগছে না, আবেগ লাগছে না। বারবার সারানো সত্বেও আকাশ ফুটো হয়ে বৃষ্টি নামছে। পৃথিবীর সব সবুজ আজ ভিজে যাবে। দরজায় এখনই তালা দিয়ে দেব। ঘুম পাচ্ছে। অসহায় আত্মসমর্পণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। গোপন সেই পাচিলের কাছে নতজানু হতে হবে। সারারাত ধরে জলপ্রপাতের শব্দ শুনব। একটা চিঠি লিখতে হবে। অন্ধকারময় এক পোস্টকার্ডে সেই চিঠি লিখব। ব্যর্থতা লিখব। ঘুম লিখব। আয় ঘুম...আয় ঘুম...তোমার আঙুলে ঢুকে পড়ছে কামরাঙা ফুল।

তিন

নদী মানেই একটা শীতল ছায়া। প্রায়শই ঘুমিয়ে থাকে বুকের বাম দিকটায়। রোদে ও পিপাসায় জীবন এলোমেলো হয়। ঘুড়ি ডিঙিয়ে ছুটে যায় ভেজা আকাশের দিকে, পাখিদের দিকে। হয়তো বহুদূরবর্তী কেউ ঠিক লক্ষ্য রাখছে। আগামী রাত্রিগুলোকে বলে দেবে কুর্চির ব্যথাতুর তিলটির কথা। সেই তিল মেঘের ভেতরে খেলে বেড়ায়, শুভেচ্ছা জানায় ঘুমের ভেতরে, গভীর শরীরী শুভেচ্ছা। ছায়ার বুকে, নদীর বুকে শোনা যায় জলের গর্জন। ঝড় আসতে পারে। তুমুল ঝড়। তীব্র হাওয়ায় কেঁপে উঠবে পূর্বজন্মের স্মৃতি। সেই জন্মে একটিও নদীর হৃদয়ে বৃষ্টি নামেনি। ভুল করেও ভিজে যায়নি নদীটির চোখ, চোখের পাতা। অভিশপ্ত সেই জীবনের দিকে বারবার ছুটে যাচ্ছে ছেলেটি, মেয়েটিও। ছুটে যাচ্ছে তাদের জীবনের আজব দোলাচল নিয়ে।

রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭

স্নেহাংশু বিকাশ দাস


পারাপার

স্নেহাংশু বিকাশ দাস

তুমিও অতিক্রম করেছ শেকড়ের টান….
নিঃশব্দে ছুঁতে দিলে তুমুল বন্ধুতা
অভুক্ত নদীতে দাগ রেখে চলে গেল
দেশান্তরী চাঁদ, দ্বিধাবিভক্ত সময়
পায়ে পায়ে নিজস্ব বৃত্তে গিয়ে
ছড়িয়ে দিল কুশল বিনিময়….
ধরে নাও আছি, এসবের মধ্যেই আছি,
আকাশমণির পাতার আড়ালে মফস্বল,
শিশিরশব্দ, আটকে আছে সুর,
আলস্য মুছে দেয় শ্মশানভূমি….
শশ্যের ঘ্রাণে দেখ নাওহীন পারাপার….

 বিষাদ নামের এক দিন


সারাদিনের একলা আকাশ
স্মৃতিজল টান
সহনমাত্রা পেরোয়
শহুরে বাউল
পড়ে থাকে খোলা ছাদ
অচেনা ধুলো
উদাসীন বৃষ্টিধারায়
নৌকো ভাসে
ইতিবাচক ঋতুজন্ম বুকে…
দৃশ্যতঃ তোমার শরীর
ঝাপসা বিকেল থেকে
সন্ধ্যের দিকে হেঁটে যায়
তীব্র চুম্বন
নাছোড় বিষগ্রহ ছুঁয়ে….
এই ক্লান্তদিন তোমার
তুমুল গুচ্ছবাঁকে
সাজিয়ে রাখে
দুর্বোধ্য ছুরি-
নির্ভুল নদীটানও….
চোরাস্রোতে ভাসে
পুরনো শরীর
আর
অভিমানি বলিরেখা….
এখন অন্ধ পাখিটি
সাম-গান শোনে

আঁধার

ঋতুর গুঞ্জনে নুয়ে আছে অভিমান
নদীর শীতল টানে – কারা যেন
নৌকো ভাসায়, মায়াবী নেশার মতো
বিষাদ ক্রমশ ঝরে পড়ে উন্মুক্ত
নাভির ভেতরে।মাঝখানে স্মৃতি এক
মগ্ন সান্ধ্য ভাষায় ডানা মেলে, ভিজে যায়,
বুকের গহ্বরে জন্ম দেয় একান্ত আঁধার….









শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

স্নেহাংশু বিকাশ দাস

প্রবাহ



ক্রমশ অন্ধকার গাঢ় হয়…
সঠিক বিন্যাসে আরো বেশি রং
ছেড়ে আসা মেঠোজন্মের কথা
মিলেমিশে যায় মৃত পাতা
এলোমেলো ঋতু
নির্ভুল সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে
নৈর্ঋত আলোর শরীর
মুখ ফিরিয়ে রাখা দীর্ঘছায়া
অন্যমনে দেখে গতজন্মের স্থিরচিত্র

প্রচ্ছদ শিল্পী : সুদীপা কুন্ডু