পিয়ালি বসুঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পিয়ালি বসুঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

পিয়ালি বসু ঘোষ

               



কম্পাঙ্ক

======

জ্বরের ঘোরে যাকে দেখি, সে আমার কেউনা|একটা কম্পাঙ্ক মাত্র|এই যে মাথাভর্তি এতো এতো যন্ত্রনা সময়ের সেভিংসে জমা হয় তাকে জাগাই মাঝে মাঝে|বলি এই যে আমার অভিশপ্ত জীবন, আমার উতল হাওয়ার ষড়যন্ত্রেরা

ঘিরে থাক আমার কপাল, চোখ এবং চোখের কোটর|জ্বর বাড়ুক প্রবল|কম্পাঙ্ক থামলে আমার প্রলাপও থেমে যাবে| মরে গেছি ঠিকই কিন্তু আমি শীত রাতের সাইবেরিয়ায় নরকবাস চাইনা|



দেখা

====


একা হাঁটি, একাই

পথ চলতে চলতে শরীরে বাসা বাঁধে জোনাকি

আলো দেয়, সামান্যই

চোখের চপলে শ্লীল অশ্লীল কিছু নেই

দেখি অদূরে শীর্ণ নদীরেখায় মিশেছে

তেত্রিশ কোটি দেবতার স্নান উৎসব

লাজে ধোয়া তাঁদের বস্ত্রে অমরত্ব আঁকছে সুবর্ণরেখা

শামুক খোল

=========

এইযে কফি রঙ আলোয় বিশৃঙ্খল কিছু শামুকখোল উড়ে গেলো, ওরা ব্যক্তিগত শব্দের ধার জানেনা|বিলীয়মান ধোঁয়ার মধ্যে মাঝেসাঝে কক কক করে ডেকে ওঠে|আমি দেখেছি ওদের ডানার অবিশ্রান্ত বিক্ষেপ|আমার জাটিঙ্গার কথা মনে পড়ে|ইচ্ছে করে ওদের পথ বাতলে দিই|বলি জীবন জুড়িয়ে আসার আগেই পৌঁছে যাক ওরা, সেলাই করে নিক ভাঙা ডানা|গন্তব্য তো সহজ নয়|খানিকটা ভ্রম, উন্মাদনার কালাজাদু|পৌঁছোক ওরা, আমি তো পারিনি...

সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

পিয়ালী বসু ঘোষ

                                          




ফিনিক ফোটা জোছনা

পিয়ালী বসু ঘোষ
১)
ঝকঝকে ফিরোজা আকাশে অকারণ প্রশ্রয়ের মতো মেঘ|
আকাশমনি উঁচু ডালটায়
 দুটো মুনিয়ার নিরাপদ ঘেরাটোপ|
বাজারি অর্থনীতির আগ্রাসন ওরা বোঝেনা, কেবল চাষীর ধান কাটার দিনে আকাশে মেঘ দেখলেই সারা মাঠে হুইসেল দেয় ওরা|

২)

কেতাদুরস্ত দুচারটে ফড়িং আকাশের গন্ধ নিয়ে আসে
ডাকে, খুব নিবিড়ে- কাকে যেন ডাকে
এসব দিনে মরা পুকুরে নাজুক গল্পের মতো ফোটে ঢোলকলমি
ব্যস্ত কেজো আর ঘেমো দুপুরকে নেহাতই করুনা করতে হয় এসময়

৩)
ফিনিক ফোটা জোছনা দেখেছো?
দেখেছো কালো-সাদা খোপ কাটা দিনে শরেদের ঝোঁপ?
আঁধারের শরীর বিলি কেটে গেলে
বাঁশপাতি ঘরে ফেরা ভোলে
অবিন্যস্ত ধারাজলেও নেতিয়ে থাকে দুপুর
ঢিল ছুঁড়ে সে দুপুরের মৌনতা ভেঙেছো কখনো?

সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮

পিয়ালি বসুঘোষ,




#সুপর্ণাদের_একদিন_প্রতিদিন -------------------------------------------- কতোকিছুই নিজের নয় তবু নিজের বলে ভ্রমে বিভ্রমে কেটে যায় দিন, কে যেন বলেছিলো একটা শরীর শরীর তাপ লাগে সেই উৎসাহে গরম জামার নীচে লুকিয়ে রাখি শীত হাত বাড়িয়ে পেড়ে নিই নিভে আসা ধোঁয়ার চিনেকাপ ধূলোমাখা বই হাতে শুকনো মাটির আহত সংকেতে দেখি আলোর প্রমিতি নিভে যাবার আগে ছড়িয়ে থাকে তাচ্ছিল্যের মায়া জানিনা সূর্যেরও কি শরীর আছে ? সময় এগোয় কমলালেবু রোদের লোভে কিন্তু সকাল কখন দিন হয়ে যায় দিন একদিন হয় সেদিন সন্ধ্যে কখন সে-রাতের স্মৃতি হয়ে নীল নীল ক্ষতদের ঢেকে দেয় বাহারি ব্ল্যাঙ্কেটে আমাদের ভিতরঘর নেই গোলমরিচের মতো অন্ধকারে কেবল ঘরের ভিতরে দেখি অনুযোগহীন 'বড়দিনের' কাছে গোটা শীতকাল জমা রেখেছেন একলা ভাস্কর দেখছেন কিভাবে পাতা ঝরে যায় বেপরোয়া সুপর্ণাদেরও .....


শনিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৮

পিয়ালী বসু ঘোষ

#সাঁঝবিহান পর্ব-৯
___________________

লন্ঠনের মৃদু আলোয় সাঁঝকে কাছ থেকে দেখে সতীশ । ওর চোখের পাতায় আচমকাই স্নেহের ঠোঁট ছোঁয়ায় ও ।খুব কাছে গিয়ে দুহাতের পাতায় ওর লক্ষ্মীপ্রতিমার মত মুখটা তুলে নিয়ে বলে "ভালো থাকবে সাঁঝ,লক্ষ্মী হয়ে থাকবে। অতীতকে মনে রাখলে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়না.....আর সামনে না এগুলো জীবনটা বৃক্ষর মত হয়ে যায় ।স্থাণু,স্থবির । তখন সে শুধু আশ্রয় হয়ে ওঠে কিন্তু নিজে আশ্রয় চাইলে পায়না, কিন্তু কখনও কখনও আমাদের সকলেরই তো একটা আশ্রয় দরকার হয়,তাইনা ?কিন্তু মানুষ হয়ে জন্মেছ যখন,যে সুযোগ বৃক্ষের নেই সে সুযোগ তুমি হারাবে কেন ?"

সাঁঝ এসব কেতাবি কথার আয়োজন বোঝেনা ।দুহাতে চেপে ধরে সতীশের কবজি দুটো।
চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে সাঁঝের । এমন সাঁঝকে সতীশ দেখেনি আগে ।হঠাৎই ওর বুকের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে কেঁদে ওঠে সাঁঝ ।ওর শরীরের স্পর্শ পায় সতীশ ।সাঁঝের বুকের মসৃণ পেলব যন্ত্রণার ওঠানামা বুঝতে পেরে ভালোলাগা খারাপলাগার এক মিশ্র অনুভুতিতে সতীশেরও স্নায়ু দূর্বল হয়ে ওঠে ।

তবু নিজেকে সংযত করে উঠে দাঁড়ায় সতীশ ।
একটা লাঠি আর একহাতে লন্ঠন নিয়ে কলমি তার দুই মেয়ে নিয়ে উঠোনে এসে দাঁড়াতেই সতীশ বেরিয়ে যায় । বৈচি কতগুলো বুনোফুল ওর ফ্রকের কোচরে করে নিয়ে এসেছিলো ।সতীশ এমন ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেলো যে ফুলগুলো পড়ে গেলো মাটিতে ।ও পিছন ফিরেও দেখলনা । ভারী অবাক হলো কলমি । অন্যমনস্ক ভাবে ঘরে ঢুকতেই সাঁঝ ওর ওপরে ঝাঁপিয়ে ঢুকরে কেঁদে উঠলো । কলমির বুক কেঁপে উঠলো । তবে কি ও যা ভেবেছিলো তাই ! কিন্তু গোমস্তা জানলে এ গাঁ থেকে ওদের বাস উঠে যাবে যে.......

যতটা দ্রুত সতীশ কলমির বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল,ততটাই ধীর গতিতে ও নিজের ডেরার পথ ধরলো । মনে পড়লো সকালে ফজিরাম কিছু বলতে চেয়েছিল, তবে বোধহয় এ কথাই হবে ।ওর কথা শুনে কলমির বাড়িতে গেলেই ভালো হতো ।এমন বিশ্রী দুর্বিপাকে পড়তে হতনা ওকে ।সাঁঝকে ওভাবে ওই আলোছায়া বুটিকাটা গালচেতে বুকের সাথে লেপ্টে না রাখলেই ভালো হতো । সাঁঝ অন্যের ঘরে যাবে, ওর গায়ে পরপুরুষের গন্ধ না থাকলেই ভালো । অবশ্য মানুষ নয় জানোয়াররা বুঝতে পারে শরীরের গন্ধ । মানুষ ওসব গন্ধ পায়না ।মানুষই সহজে ধুয়ে ফেলতে পারে যাবতীয় গন্ধ ।আবার উল্টোটাও বড্ড সত্যি । জানোয়াররা সেই গন্ধ পেলেও সঙ্গীকে ফেলে,ছেড়ে কিম্বা অত্যাচার করে চলে যায়না । সতীশের মনে হয় এমন অনুভুতিহীন হলেও চলতো ওর এখন ।মনুষ্যত্ব বিবর্জিত জন্তু হলেই বা কি ক্ষতি হতো ওর ? ও নয় শুধুই রমণ বুঝতো,প্রেম নয় ।ও নয় প্রেমিকার স্তনসন্ধি তে চুমু খেয়ে আঁচড়ে কামড়ে চলে আসতো ।ফেরার পথে ভুলে যেত রমণচিহ্ন । কিন্তু কই তেমন তো কিছু হচ্ছেনা ।
কেমন এক পরাধীন গ্লানিতে ওর অজান্তেই তৈরী হওয়া বোধের কাছে পুরোপুরি হেরে ভূত হয়ে নিষ্ফল একটা লাফালাফি করছে মন ।

রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭

পিয়ালি বসুঘোষ


 .সাঁঝবিহান
পর্ব -৬

সকালের রোদ উপচে পড়ছে ন্যাড়া ছাদটার গায়ে ।কাল দুপুরে দেওয়া গয়না বড়ি গুলো এই সুযোগে একটু উল্টে পালটে দিতে ছাদে নিয়ে এসেছে শাল্মলী।কদিন আকাশ কেমন ভার ভার ।যখন তখন বৃষ্টি নামার ইঙ্গিত দেয় ।আগে ও এসব নিয়ে ভাবতে গিয়ে আনমনা হয়ে যেতো ।এখন হয়না আর ।বুঝে নিয়েছে সময় তার খেয়ালখুশিতেই চলবে আর তার লেজ ধরেই চলবে শাল্মলীর উলুবনের মত মন ।

মাস কয়েক সতীশের কোনো চিঠি নেই ।সে এখন নিকট অতীত ।বসার ঘরে বিবেকানন্দ বা মা দুর্গার ছবির পাশে একদিন ওরও স্থান হবে একথা এখন বেশ বোঝে শাল্মলী ।অবশ্য সাথে  এটাও ভাবে সতীশই বা কি করবে ?সমাজ স্বীকৃত সম্পর্ক তো ওদের নয়।কজন পুরুষই বা এমন করে বুকের মধ্যে মেটে রঙা প্রেমিকাকে লালন করে কুণ্ডলী পাকানো জীবনে বাঁচতে চায় ।সে এক যুগ ছিলো যখন সতীশ সব নিয়ম ভেঙে ফেলতে চাইতো ।শ্বেতকেতুর ওপরে তার খুব রাগ ছিলো বিবাহ নামক এই প্রতিষ্ঠানটি সৃষ্টি করার জন্য ।অথচ আজ সব ওয়েস্টার্ন মিউজিকের ডিনুয়েণ্ডোজ ফর্মের মতো অধোগামী ।
আসলে বয়স কম থাকলে যৌবন অতি সপ্রতিভ হয়ে ওঠে ।নিজের স্পর্ধার ওপর নিজেরই অধিকার থাকেনা । ঠুনকো সামাজিক সম্মানবোধের খাঁচায় নিজেকে আটকে না রাখার সাহস দেখানো মুখের কথা নয় ।

এসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই ছাদের কোণের ফণিমনসা গাছটার গায়ে হাত বুলিয়ে নীচে নামতে যাবে এমন সময় দেখে ফুলপিসিমার সাথে নীচের রোয়াকে দাঁড়িয়ে কথা বলছে সতীশ ।অজান্তেই পা টা হড়কে গেছে শাল্মলীর। বুকের মধ্যে যাবতীয় দ্বিধা,দোলাচল,পিছুটান অতিক্রম করে মন ছুটছে লোকটার দিকে এক অমোঘ আকর্ষণে ।সিঁড়ি দিয়ে তরতর করে নেমে ঝুলবারান্দা দিয়ে হেঁটে আড়াল থেকে লক্ষ্য করে ও সতীশকে ।ঠিক আগের মতো নেই তো ও ।একটা সাদা পাথর নেমে আসে যেন বুকে ।ভারী লাগে বুক । তারপর অজান্তেই শয়তানের হাসির মতো কি যেন একটা ইশারা খেলে যায় ওর ঠোঁটে ।

রাতে খাবার শেষে ছাদে গিয়ে মাদুর বিছায় ও ।জানে রাত ঘন হলে সতীশ আসবে ঠিক ওর খোঁজে ।সারাদিন এ ঘরে ও ঘরে খিচুড়ি আলুভাজা,ডিমভাজা,মোরগকোরমা খেয়ে সন্ধ্যের দিকে একটু অস্থির করছিলো শরীর ।কিন্তু বাড়ীর ছেলেকে কাছে পেয়ে মা পিসিরা ছাড়বেই বা কেন ?একটু জোয়ান নিয়ে একবার ও সতীশ কে খুঁজতে গিয়েছিলো কিন্তু মা কাকীরা এমন ঘিরে রেখেছিলো ছেলেকে যে সেই ভীড়ে ওকে খেয়ালই করলোনা ও।

আজ শাল্মলীর জন্যই যেন গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে আছে চাঁদ।চোখের কোটরে ঠিকরে আসছে চন্দ্রাহত বর্ণমালা।বুঁদ হয়ে বসে আছে ও বাউলানীর মতো সতীশের অপেক্ষায় ।একসময় পাতাপোড়া মত একটা গন্ধ নাকে আসতেই ধ্যান
ভাঙলো ওর ।আকাশের দিকে চেয়ে সময়টা বোঝার চেষ্টা করলো ।অনেক রাত হলো ।নাহ! আসবেনা সতীশ।আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মাদুরটা গুটিয়ে নামতে যাবে এমন সময় দেখে চিলেকোঠার ঘরের সামনে সতীশ দাঁড়িয়ে আছে শরৎ উপন্যাসের নায়কের মত ।আচমকাই বাঁধ ভেঙে গেলো ওর ।সতীশ কে কোনওরকম সুযোগ না দিয়েওর উষ্ণ ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো ।টের পেলো একটা নোনতা জল সতীশের গাল বেয়ে নামছে ।এক ঝটকায় ও সোজা হয়ে সতীশকে দেখেই চমকে উঠলো।একটা ধু ধু মরুভূমি বুকে নিয়ে এক একলা পুরুষ তখন স্পর্শে গন্ধে
শাল্মলীর কাছে ধরা দিচ্ছে শেষবারের মত ফুরিয়ে যাবে বলেই ।