সোমবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৮

শ্রাবণী সোমযশ

#অণুগল্প
বিষয় -অভিশাপ
অনুতাপ" কি গো খোকার ফোন এলো? এত্তোবার বলি তাও যে কেন একটা খবর দেয়না। আমরা কত চিন্তা করি নিজে বাবা হয়েও বুঝলোনা"।  গজগজ করতে করতে সরমা নিজের কাজে লেগে যান।  সপ্তাহ ঘুরে আবার রবিবারের অপেক্ষা। এবার কিন্তু ঠিক সময়েই ফোন বাজে।  এটা  সেটার পর বলেই ফেলেন,  "সপ্তাহে একবার তাও বন্ধ করে দিলি!  নাতিটার গলাটা শুনবো বলে বসে থাকি জানিস তো। কবে বাড়ি আসবি একটু দেখতেও তো সাধ যায়! দুদণ্ড গল্প করতে " এক নিঃশ্বাসে বলে একটু দম নেন। ওপার  থেকে বিরক্তি সীমা ছাড়ায়," কি যে বাজে বকো, ওইতো বস্তাপচা আজগুবি গল্প শোনাবে সানি কে, আর এর বাড়ি ওর বাড়ি ঘুরে ঘুরে সময় নষ্ট। জানো  কত খরচ একবার ইন্ডিয়া যেতে। বাড়ি আয় বাড়ি আয় করে বাজে না বকে টাকা লাগলে বলো কিছু পাঠাচ্ছি।"  মুচড়ে ওঠে বুকটা গাল ভিজে যায়, তাও সামলে নিয়ে বলেন, "খোকা টাকা লাগবেনা আমার কথায় রেগে যাসনা।" উপেন বাবু ফোনটা হাত থেকে নিয়ে রেখে দেন, " খোকা ফোন কেটে দিয়েছে , তোমার কথা ও শুনতে পাবেনা। তিন দিন পরই আবার বেজে ওঠে ফোন, কর্তা গিন্নি কেউই গা করেন না। ফালতু ফোন ধরে আর কি হবে, মনে  মনেই ভাবেন। রোববারে আবার ফোন এলেও আসতে পারে হয়তো। কিন্তু ধরতেই হয়, বড়ো অধৈর্য্য হয়ে বেজেই চলেছে একনাগাড়ে।  এতো খোকার ফোন! " মা" বলেই কান্নায় ভেঙে পরে , "তোমার অভিশাপ লেগেছে মা, আমি তোমায় বাজে বাজে কথা বলেছি তার ফল। সানি  খুব অসুস্থ। কোন বন্ধুর সাথে মজা করে  ড্রাগ নিয়েছে। ছেলেটা হসপিটালে ভর্তি মা। আমরা আর এই পরিবেশে থাকবোনা, সব ঠিক করে ফেলেছি। আমরা দেশে ফিরে যাবো একবারে। তোমার সাথে বাবার সাথে তোমাদের সানি  মানুষের মতো মানুষ হবে।"  ছেলেকে শান্ত করেন সরমা, "ঠিক আছে যা করবি ভেবেচিন্তে করিস ঝোঁকের মাথায় না। আর শোন বাবা, অভিশাপ বলে কিছু হয়না। মা তো শুধু সন্তান কে আশীর্বাদই করে । অভিশাপ একটা সংস্কার মাত্র। খারাপ কর্মের ফল খারাপ হয় আর ভালো কর্মের ভালো। ভগবানের রাজ্যেও এই নিয়ম। এটাও বিজ্ঞান খোকা।"                                      একমাস পর সরমা আর উপেন মাঝে নাতিকে নিয়ে নিজেদের ছোটবেলায় ফিরে যান। ছেলে বৌমাও নিশ্চিন্ত সন্তানের সুরক্ষিত ভবিষ্যতে। খুশির মুহূর্ত চিরস্থায়ী হয় জীবনে।  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন