রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

মনোজ আচার্য



।। অধরা।।

তোর স্পর্শের অনুভূতি
আমার প্রতিটি কোষে কোষে যখন
তোকে বৃষ্টি বলে ডেকেছিলাম।
একমুঠোয় যতবার ধরতে গেছি তোকে
তুই পালিয়েছিলি আঙ্গুলের ফাঁকে।

তোর স্পর্শের অনুভূতি
আমার প্রতিটি অস্থি মজ্জায় যখন
তোকে হিমানী বলে ডেকেছিলাম।
যতবার আগলেছি বুক দিয়ে
তুই বয়ে গেলি নদী হয়ে।

তোর স্পর্শের অনুভূতি
আমার বিস্তৃত বুকের উপর যখন
তোকে নদী বলে ডেকেছিলাম।
তুই ভেসে গেলি দূর সাগরের টানে
আজও আছিস তুই আমার গভীর মনে।

জানিস আমার শরীরেও স্রোত বয়
আমার সমস্ত শরীরময়
রক্তের উষ্ণ স্রোত!
আমার সমস্ত অস্তিত্ব ভাসিয়ে দিলাম আজ
শুধু অবিরাম ঢেউয়ের আশায়!
বয়ে আসা তোকে যদি পাই
তোর জন্য একবার সাগর হতে চাই।

ছবি : গুগুল

উমাপদ কর


গুহামুখ-


দেয়াল থেকে বলছে শতমুখ বোবা
কিছুই কি শোনে না উটপাখি,
দর্শক!

একটু একটু ক্ষয়ে যাচ্ছে নাক মুখ তর্জনি আর ভঙ্গি
প্রতিদিনের স্পর্শে,
সাড়া নেই, নেই তবু হাড় কৃপণের

প্রাণে এত অফুরাণ, অবয়বে এত দম ও দিল
এত কাড়া-নাকাড়া
তবু না-সাড়া স্মিত মুখ আর বরাভয়ের

আলোর জলসা বসেছে ওই মুখে
দেয়াল থেকে ছিটকে দিচ্ছে অন্ধকার
কী রঙচঙে লতাপাতার উষ্ণীষ-কমল

পাথরে পাথরে ধ্বনির কনসার্ট
ডুমো আলোয় এককুচি হাসি আর আধবোজা চোখ
নেমে এসে দাঁড়ালো না, দাঁড়ালো না তবু দেবতা হয়ে

গুহার দেয়ালে আর কোনো বাহারিমা ছিল না
শিল্পচর্চায় জেগে ওঠা অজন্তা
গুহামুখে বসে থাকে একলা স্বাধীন ...

ছবি : গুগুল

মৃন্ময় চক্রবর্তী

মেঠো প্রেমের গল্প

 

মাঠের ভেতর হিম নামছে। অন্ধকার ট্রাক তুলে নিচ্ছে মহাজনের আলু। এখন ওগুলো আর চাষীর নয়। দূরে কারা নাড়ার আগুন জ্বেলেছে। মনে হয় আলু পুড়িয়ে খাচ্ছে কিছু উড়ন্ত মানুষ। নাড়ার ধোঁয়া সমান্তরালে মিশে যাচ্ছে কুয়াশার পেটের গভীরে।
জনা বেহুলার উঁচু পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে অনেকক্ষণ। জারুল গাছের তলায় এখন গভীর রাত। চাঁদটা ছানি পড়া চোখের মত ভেসে রয়েছে মাথার উপর। নদীর দুপাড়ে কাশ আর শনের ভেতর অনেকগুলো চোখ জ্বলছে। ওর ভয় করছে। কখন আসবে মাতারি? নীলু ওঁরাও কি পচুই খেয়ে বেঁহুশ হয়নি এখনো?
এমন যে কেন হল জনা জানেনা। মাতারি ছাড়া তার আকাশটা যেন কাত্তিকের অমাবস্যা লাগে আজকাল। আচ্ছা মাতারি তো মাঠবেশ্যা, তাকে কেন সে ভালবাসল? ওকে তো চাষীরা ছিবড়ে করে ছেড়েছে। ওর রুগ্ন শরীরে একফোঁটা মাংসও নেই। জনা তবু তাকেই ভালবাসল! তাকে জড়িয়ে সারারাত মাঠের ভেতর শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে তার। ইচ্ছেটা শুধু এক আধ দিনের নয়, বাড়ন্ত। 
এত দেরি করছে কেন মেয়েটা? আজ সে বেশ কিছু আলু এনেছে। অনেকদিন কাজ পায়নি নীলু, মাতারির দেহও পয়সা জোটাতে পারেনা এখন। ওদের সংসারে আজকাল বড় অন্ধকার। 
নিজের জমির আলু সে চুরি করেছে। মহাজনকে লুকিয়ে নিয়ে এসেছে, মাতারিকে দেবে বলে। এটাও তার ভালবাসার মতই অকারণ, গোপন!

ছবি : গুগুল