সব্যসাচী মজুমদার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সব্যসাচী মজুমদার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

সব্যসাচী মজুমদার


 


হঠাৎ সবই শীতের মতো এল 

 


হঠাৎ সবই শীতের মতো এল ।
পাহাড় থেকে দেখতে পেলাম খাঁই,
কুয়াশাহীন তেন ও ত্যক্তেন…
আমার তুমুল পশুপাখির চাই ?

খাচ্ছে ওরা ! চাটছে ওরা স্বাদ ?
ওদের ছায়া অবশ্য উদ্বায়ু ।
স্পষ্ট আলোর জন্যেও সংঘাত 
বাড়ছে বলে সতর্ক হয় স্নায়ু…

তারপরে ঢেউ পাল্টে দিতে এল 
ভূতের মতো অসংখ্য হাত-ঘড়ি…
এইখানে তোর বহুত্বে উদ্বেলও
বুঝতে পারে সমস্ত মঞ্জরী !




শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

সব্যসাচী মজুমদার

                          



ও জানে বাহার

_________________

আসলে আনন্দ পাই ম‌উরি ডাকে বলে
জননাঙ্গ ক্ষয়ে গেছে জীবাশ্ম আদলে

দূর গাছে ফুল ফোটে অতিদূরে তরী 
ভাসে একা।অন্তমিলে মনস্তাপ করি

মনস্তাপে লক্ষী থাকে লক্ষী জনার্দন
লোকের শরীরে লাগে গণ জাগরণ

মানে ক্লান্ত খুলি ফাটে খুলি ফেটে যায়
মাতৃপক্ষ রক্ত মাংসে ভ্রমর বসায়

সেজেছে নালোক পিতা সাজে দেশগ্রামে
বলিও চড়ায় পিতা হৈমনের নামে

নামে নামে ছেয়ে যায় রেণুছায়াতল
শরণার্থে বলে ওঠো হে সংবদল...

বদল করেছি স্বস্তি চিন্হটুকু আর
থ‌ই আসছে বলে নদী ও জানে বাহার...


পরবাস
__________

তবে শামুক আসলেও উত্তেজিত হ‌ইনি
কাল কে কে আসবে,ঋণ কার কত---
এসব ভাবতে ভাবতে কখন সৈনিক
মরেছে আবহমান।রসপূনর্মদ
কবিতা হয়েছে নাকি হয়েছে কিছুটা
আলোচনা হয়ে গেছে। আমি শুনছি পদ
আর তুমি পরবাস। দ্রাঘিমা বিচ্যূতা,
সহজেই ভেবে নাও যোদ্ধাহীন পথ

আসলে চাঁদের মতো সব নিরপেক্ষ নয়
নিরপেক্ষ নয় এই দিগন্ত স্বস্তিকা
অস্পষ্ট কথার মধ্যে লুকিয়ে অন্বয়
আঁশফুলে লিখে রাখি বস্তুবাদী টীকা
তারপর ভাটিয়ারে ভুসুকু বধির
লিখেছিলো ছিঁড়ে ফেলা দেহগত মীড়...

ঘোড়া শুরু হয়
_______________

ছায়াটুকু শেষ হলে ঘোড়া শুরু হয়
কাঁসাই রঙের পাখি ওড়ে সমতলে
সুদীর্ঘ পলাশে তুমি গণ‌অভ্যুদয়
দীনবন্ধু রেখেছিলে অগভীর জলে

রটে গেছে বন্ধুময় শ্বাপদের গান
অতিদূরে সমব্যাথি চিতলের ছায়া
এমন সময় তুমি দোঁহার বয়ান 
কালো গায়ে লেগে আছে ফসল বেহায়া

প্লুতফুল ভেসে যায়।আদিম শ্মশান
ঝোরায় ঝোরায় ডাকে ধনেশ পাখিরা
তোমার রাঢ়ের ঢালে বসে এস্তেবান
শিখণ্ডীর সঙ্গে করে শারীরিক ক্রিয়া

তারপর অরণ্যের উষ্ঞ পরিসরে
ঝুমুরের সর্ব অঙ্গ কণ্ঠ চেপে ধরে





শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সব্যসাচী মজুমদার

               







নিরাক
_______
নিরাকের রঙ পড়ে আছে
                         প্রশস্ত গুহায়
প্রবেশ করিনি তার 
        অপেরা দেখেছি 
                           নির্দ্বিধায়...


নৈঋত
________

দ্রোহ আর দুপুরের কেঁচো
        পাল্টে পাল্টে নেয় দিক
তুমি সারঙের মোহন ভেতরে
          ঢুকে মুছেছো নৈঋত


তারপর পুড়েছে বাহু 
ছলাৎ শ্রাবণ বায়ু

চলো,স্পষ্ট আলোচনা হোক
কোথায় বেড়েছে কত ঋণ

আমার মাছের গন্ধে 
            লেগে থাকে
                   অমেয় লেনিন...


চোখের  জলের মতো
________________________


সমগ্র বাতাস এলো
এলো চীবরখানির

কুয়াশা সরেছে ততদূর
মহুলের যতটা পাখির

অবরোহনের চাঁদ যোনি হয়ে যায়
চোখের জলের মতো
                               সঙ্ঘধারনায়...



মধুকূপী
________

আপাতত দেহের ওপারে বসো মধুকূপী,
তুমি বুঝবে কী----মূর্তির পাশে পড়ে আছে অনুথ্থিত?
পড়ে আছে ঈশ্বর ও ভেঙে যাওয়া ডিম

তিরতির করে মৃত্যুগামীর অমেয়
তুমি দেখো,ঠোঁটে আমাদের মাটি
তার দেহের ওপাশে ব্রজ রয়
কিছুটা ধ্বনিত  হলো স্রাব ও প্রণয়...


চিত্রঋণ: ঈষা চৌধুরী 



রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

সব্যসাচী মজুমদার

                                                                   


আজকের কবি  সব্যসাচী মজুমদার I

দশটা লেখা
______________

(১)
তবু যে সত্তর আশির দশক সত্যিই ছিল না
একথা বলা যায় না। রীতিমত খোঁজ করে পাই
কুয়াশা ও শেয়ালের দাঁত।

শীত করে।কাঁপি। চারিদিকে আমের মঞ্জরী।

(২)
খুব ছোটো ছোটো মানুষেরা গুঁড়ি মেরে থাকে
আকাশে তখন রণরিক্ত
কবি লিখে নিচ্ছে দ্রুত--ডহরের কথা

ছোটো ছোটো মানুষেরা গুঁড়ি মেরে থাকে
চুরি হয় অচেনা সংখ্যাতে

(৩)

অংশত কিছু শবরমণের সুখ
আমার ভেতর ঢুকেছিল বলে তুমি
জ্যোৎস্না দেখার মতোন সর্বভূক,
বিরলের কাছে বলে এসেছিলে অশ্রু

(৪)
তুমি ঢেউ ঢেউ আলো বিদ্যুৎ সংঘর্ষ
কিংবা অনুচিত জলে ভরে যাওয়া জীবৎকাল
অথবা সারসের মতন কুঁজো মিথ

যেভাবে স্বতন্ত্র হয় মেগাস্থিনিস

(৫)
আমাদের মেহেরুন্নেসা দশা কাটেনি যখন
তুমি মৃৎপাত্র হয়ে বসে ছিলে

সাজোনি বাজোনি

তবু তোমারই সমর্থক হয়ে উঠলো কত কী!

(৬)
আলো চলে গেলে কখন‌ও কখন‌ও
বাইরে তাকাইনি। কেননা যে ভয়টা 
আমাদের তাড়া করত,থাকত বাইরে।

আর আলো চলে গেলে একটা রাস্তা চলে যেতো বাইরে।

(৭)
বারবার যখন‌ই ভুলে গেছি এ দেশের তারিখ
আমারে দিশায় টানে অপ্রত্যাশিত নাবিক।

তুমিও পরাগথলি ভীত সর্পমস্তা,
মাথা তুলে দেখে নাও মেঘের অবস্থা

(৮)

জলদবর্ণের জন্য কোলাহল ওঠে
দূরে শিথিল হলো কামোদ

দুহাতে চকিতপম কুড়োই ছায়ার
অনুথ্থান শিরা বৃহন্নলা
নয়ন যুক্তি ও ক্ষীণাকার

(৯)

যে সব ফুল দেখে আতংক হয়
তাদের নাম শরীর

আমি তখন ইরাবান আহার
সুন্দর বনের পীর...

(১০)

মাথা ঠুকি। মাথা ঠুকে ঠুকে বলি
বর্ষাকাল জনহীন নয়

তবু কেউ শুনে ফেলেনি কখনও
ঢেউ লেগে দুলে ওঠে শঙ্খ অপচয়