সমিধ গঙ্গোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সমিধ গঙ্গোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

সমিধ গঙ্গোপাধ্যায়

 


 



হিং টিং ছট



মগ্ন রাঙাছুটি

ছাতায় ঢাকা যাত্রাপালা, চোর

মশালঝাড়ু কণাদে উষ্ণীষ

***
তেইশে এলো রাক্ষসের পলি

ডিম্বাণুর স্তনে বর্ষাকাল

শেষনাগের ধ্যান ঝুলছে সিলিং পাখা ধরে

বিষাদ গৃহী

পারঙ্গম নয়

***
রসালো জেদ

একান্তই আমার ভীমরুল

ধাই নাচাও চিতল জ্যোৎস্নায়

***
স্থান তোমার রেশম গুটিয়েছি

বিসংগত আখর হয়ে ফাটো

***
মশকপ্রায় বিকেল চটকানি

সোনারঙের বাছবিচার পটলচেরা খেই

প্রেমিক আজও নিতল প্রস্তাবের শাহরুখ 

শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

সমিধ গঙ্গোপাধ্যায়

       


তিন ধামা চাল


১.
আলস্য,
      প্রথম প্রেমের মত পুরুষাঙ্গে 
                          লেগে আছে...অনির্দিষ্টকাল।


২.
কুন্তিবিহনে পড়ে আছে
তিন চারটে ঠোঁট, সিগারেট, ছাইদানি আর?

অপার্থিব লিবিডোর টাটকা বাতিল ন্যাড়া লাশ।


৩.
ময়লাটে ঘুম পরপর এত জমে গেছে,

স্বপ্নেরা বসে থাকে--উবু, হাতজোড়...

বিচার পায় না।


৪.
মেনে নেওয়া সবটুকু আকর্ষণীয় কারাগার
বরং এখন কিছুদিন,

ধন্যবাদের কাছে কয়েদি সন্ধান করা যাক...


৫.
লগ্নভ্রষ্ট পুরুষেরা ফিরে আসছে মন্ডপে

শীৎকারের ডেসিবেলে
বেকারত্ব ঢেকে নেবে বলে।

৬.
পাখির কাছে মাতৃত্ব 
বন্ধক রেখে
স্বনির্ভর হয়েছে চোরাবালি।

৭.
সম্ভাবনা অবৈতনিক--

ঊরুলক্ষ্মী পূর্বাপর অশ্লীলতাবাসিনী রইলেন
সায়ংকালীন অধিবেশনে...

৮.
অরূপচর্চায় তুমি নিরুচ্চার ঈশ্বরীর মত
নির্বিশেষে প্রত্যেক পাতের পাশে বসে

ভাজা মাছ উল্টেপাল্টে দাও...

৯.
কাত হয়ে শুয়ে পড়া
অতএব চিহ্নেরা অর্ধেক চাঁদ ছুঁয়ে বলে,
"আরশিও সুস্থতা পাবে"।

১০.
ধরা তো পড়তেই চাই
কিন্তু বারবার
টোপের বদলে তোমায় গিলে বসে থাকি।

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সমিধ গঙ্গোপাধ্যায়

                              


ঈশপের গল্প
-------------------
সমিধ গঙ্গোপাধ্যায় 
---------------------------

১.
অতঃপর রঘুসাঁই মুহূর্তের নাড়িভুঁড়ি ভক্ষণ করিয়া
বিদেশ ভ্রমণে চলিলেন।

তাঁর কোমরের ঘুনশিতে সূর্যের অবিসংবাদি দণ্ডবৎ।যারপরনাই দস্যুগণ সেমসাইডে গোল করতে ব্যস্ত, দ্যাখো আর্হেন্তিনার জাদু পাদুকা--ওই যে মধ্যমাঠ থেকে ধ্যান বাড়িয়েছে ন্যাসপাতিবেদানাপৃথিবী,
বাঁ-পায়ের চিমড়ে বুড়ো আঙুলে চিউইংগামের মতো
সেঁটে যাচ্ছে মিঠেরস অহো যেন রাধাভাবে মাতোয়ারা গড়াচ্ছে কাঁদনহাসি, 
"কেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীভূত" বলে চেঁচাচ্ছে কেউ, 
"আঃ এত গোল কোরো না" বলার সঙ্গে সঙ্গে
ঘনতর যুদ্ধ বাধল, বহুব্রীহি, 
"কি বললেন, গোল করব না?তাহলে খেলছি কিসের জন্য?"

ব্যাঙ্গমা শাবকের রদ্দায় ঘাড় ভেঙে 
ওয়াকওভার ওয়াকওভার "দেব না, চালাকি পেয়েছ? 
এত দাম দিয়ে গোল কেনা!" 
গোল গলা গোল গাল কামানো ভুরুর নিচে 
গোল চোখ গুলু গুলু তেড়ে এল 
পরাক্রমশালী ঘাসুড়েরা, " এত খেটে সাইজমতো সবুজ পাঞ্জাবী বানালাম এখন বললেই হল নিড়ানির দাম নেই?" সাতসমুদ্দুর আর তেরোতম নদীর তর্জনে প্রাণে নিরবধি হট্টগোল বেধে গেল। 
শতেক গৃহবালা সিঁথি আলুথালু কটমটে কটাক্ষ বেলনার দিকে, 
"কই আমরা এত কেঁদে মরি, ঠিকঠাক গোল তো হয় না! তাই ভাবি নিম্নচাপ লাগলেই মাঝমধ্যিখানে 
কেন আঙুরনয়না টপ করে খসে পড়ে আর কর্তা অসময়ে ঢেঁকুর খসান।"

ওদিকে বয়স বহিয়া যায় "টপ" ধ্বনি মনে ঝোল টানে। 
ক চ ত প আর যাবতীয় যত অনশ্বর ঘানিটানা বলদাভ কানা বর্গ তাদের অমূল যত ন্যাকাহাঁদা বিষাদের মিল টিল বন্ধ হয়ে যাক।

সময়ও কেমন ছলকে মধুময় হাড় কেটে কাত করা রাঁড়, টিক টক টিক টক টিক টক নিষিদ্ধ কথাকলি কপালে আঁকছে-- 
আহা এই কলতান দ্রব্যগুণে একমাত্র সিদ্ধি পেয়েছে।

শ্রাবণে তাহলে শুধু টাপুর টুপুর
হৃদয়ে আতিথ্যের বাতিক শুধুই কিটকিটে
তাঁকে ডাকো কেবলম টাক ডুমো ডুমো টাকে
ছিটকিনি খুলে ভালোবাসো ওহে টিকির টিকির
হাট্টিমের টিম টিমে ডিমের ঝোলে আসুক যত খাদ্যপ্রাণজ্বালা
দুক্কুরবেলা ছমছমে টিংটং হোক সদরের অতিথিসংশ্লেষ

নোনতা মিষ্টি ঝাল টক সব জিভে আর টাকরায়
এক গতি
এক নতি
এক মতি
এক যতি সবিনয়ে "টক্কাস" উল্লাসে মিতালি পাতাক টমটমে চেপে টেপে বসে টসে ফোটো টোটো শুট করে টরে নিক।

দেখেছ "ট" ছাড়া কোনো কথার অলংকারই গ্রাহ্য হয় না মার্কেটে ফার্কেটে। 
তার কেটে মেটে গেছে টেছে বলে টলে 
গাঁট্টা মারতে টারতে এলেও সেই...
দ্যাখো কফির সঙ্গে টফি না এলে গণমান্যে গরল আর চা'য়ের সঙ্গে টা সত্যি বলো সামনে এলে আপত্তিকর বলে জিগির টিগির তোলো কেউ?

হুঁহুঁ বাবা সেই কবে থেকে জানা আছে এই সৌর চামচে করে শালগ্রাম শীলাছিদ্রে সেবা ঢাললেই পিতার খড়মাকৃতি আর মাতার কাঁচুমাচু কাঁচুলির দর্শন হয়। নৌকো বানানোর বাতিকে যখন হরপ্পার মাথার খুলি নিখুঁত গোলাকার ফুটো করে প্রথম থ্রিলার লেখা হল, তখন থেকে এই আবিষ্কার আমাদের ধামাধরা। গুটিকয় আমরাই তারপর ডলফিনের মধ্যে দেখতে পাই মহাবিশ্বরূপ। এতগুলো উপগ্রহ সফল স্বরক্ষেপে বাড়ি বাড়ি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এসেছে তবু তোমাদের নিজেদের উপস্থকথন ঝড়ের বিবিধ নামে বারবার ঝুলিয়েছে এঁড়েবকনা ডিভিডেন্ডগাথা।

সুসমতল মেঝেয় তোমরা আত্নভোলা পেছনগন্ধী সাম্যাবস্থা পাবে বলে, 
উবু হওয়ার ব্যবস্থা করেছি এখন কার বাহ্য বেশি কার তরলকঠিন কার ধোঁয়াটে কার বা গুলি গুলি তাই নিয়েও কতশত বিতন্ডা লাঠালাঠি তোমাদের বুদ্ধিজীবিকার। 
কার গাড়ুজল কার নাভিকূপে ব্যাঙছানা স্থাপন করেছে তাকে শমন পাঠাও। অথচ মেঘে মেঘে এত শান্তিফুল ফুটে আছে দেখেও পুজোয় বসতে  অনীহাকাতর। 
এহেন পাঁকালপিছলানি দেখে মন্ডলাকৃতি
আলুশশাকুমড়োঢ্যাঁড়সপৃথিবী
গোল হতে গিয়েও শেষতক, খসখসে কাগজে মুছে দিচ্ছে নিজেরই নিতম্বের কর্মফল। 
ফলতঃ যা হওয়ার, ওই অবিমৃশ্য কাগজের গন্ধ আর সহ্য করা যায়?
নিজেদেরই কোষ্ঠীর বিচারে কাঠিন্য পুঁতে নিজেরাই মাত হচ্ছ। মিছিমিছি ক্রিয়াহীন প্রতিক্রিয়াগ্রস্ত হয়ে নিজের হাতে নিজেকেই পিন্ড গেলাচ্ছ অহেতুক।

কোথাকার চৌখুপিমার্কা আলিবাবা লালিপপ ছুড়ে ফেলে নাতনিকে খাওয়াচ্ছে কাগজের কাঁড়ি। 
কোথাকার তিনকোণা উদ্ভট আনারকলি স্তনকেকের ওপর বৃন্তচেরী সাজিয়ে ভিক্ষে চাইছে কোঁচকানো দোমড়ানো কাগজের থলি।
কোথাকার আখাম্বা কাগজও ভাবছে
ম্যানিকিওরড রক্তবমি
আহাম্মক কুকুরটা চেটে দিয়ে যাবে।
অথচ ডলফিন যে তোমাদের সবার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান 
সে বোধটুকুও এত লোক থাকতে একগাদা আধাখ্যাঁচড়া  ডাইনোসরের কাছে ধার বাকি রেখে এসেছ। 
সইতে সইতে এত ভীড়ভাট্টা বেড়ে গেছে এখন লাও ঠেলা, সঙ্গরোধজাত মুদ্রাও অফসাইড মোটে খুঁজে পাচ্ছে না। 

তোমাদের রেখেঢেকে দেওয়ার মত হরি হরি বাস্তুতন্ত্রেরও জাঙ্গিয়ার পকেটের মনোনীত কোনো মান্ধাতা নেই!


২.
আসনশুদ্ধি পূর্ব্বক মুন্ডিত মস্তিষ্কে সহস্র দলযুক্ত পুষ্প(নিতান্ত অভাবে অক্সিটোসিন) ধারণ করিয়া মুদিত চক্ষুদ্বয় টিপিয়া ধরিয়া(আচমন অকুস্থলে অপ্রয়োজনীয়) আবেগাপ্লুত কন্ঠস্বরে ছন্দ বজায় রাখিয়া যার যেমন সাজিবার অভিপ্রায় অনুসারে উচ্চারিত হইবে--

হইহই রইবই
আলোচনা কালো চোনা
শুঁয়োপোকা লিটিচোখা
মেরু জলে মরু ফলে
চিকাকাঁই আইঢাই
মাহুত সহিস
গাড়োয়ান দারোয়ান
মাস্তানি কাপ্তেনি
তান্ত্রিক যান্ত্রিক
চবুতরা খরবায়ু
রাতঝর্ণা মেঘপর্ণা
তেড়েতাং কেড়ে ভাঙ
ছায়া কোল কায়া দোল
এলিয়ট অনিমেষ
কালিকট পরী দেশ
ভাজা মকর তাজা নখর
দ্রিমিদ্রিম বাঁকা শিম
খই-শপথ মই-কপোত
ধলাচাঁদ কালাকাঁদ
ইত্যাদি প্রভৃতি

অতঃপর পানশি চলুক--
আমি আমি আমি আমারই চেতনার রঙবাজি মেনে দাড়ি হল অখণ্ড গোঁফ উঠল চোঙাকার হয়ে
এহেন খামচা-খামচি চারশতবিশ বার খেয়ে ও খাবলে খোঁচাপ্রবৃত্তি হল সম্ভবামি যুগে যুগে
(Imagine there is no paracetamol) 
আর চার মহাকাব্যিক ঘোড়াচালকেরা ম্যাদামারা indifferent
এমনকি চকমকি শিল্পও গুহাকুটিরের নীলিমায়
ৎ এর উৎসেচকে ধাত্রীপ্রবণ;
ওহে চকিতএষণা কল্লোলিনীকলা ওহে মাকালমালিকা ওহে যক্ষ দক্ষ ভক্ষ দামিনী শ্যামলী প্রজ্ঞার অতীত কিংবা আগামীপারমিতা এসো,
শূন্যেরও শূন্যতাকামী পুঞ্জময়ী অদ্বিতীয়া পেখম বিধুরা এসো এসো দাহ করো
যা কিছু জঙ্গুলে
যা কিছু নাগরিক
যা কিছু মূক
যা কিছু মুখরা
যা কিছু বধির
যা কিছু লম্বকর্ণ
যা কিছু শিশুচর্বি
যা কিছু বৃদ্ধপরগাছা
যা কিছু পেটরোগা
যা কিছু আতুপুতু
যা কিছু মৌটুসী
যা কিছু গৃধিনী
যা কিছু অপরচুলো
যা কিছু খনিজলোম
এসো দাহ করো, আমি হও অতর্কিত আমি
"ওঁ অগ্নয়ে স্বাহা ওঁ অগ্নয়ে স্বাহা"
হিকরি ডিকরি গিলি গিলি ছুঃ
হরিতকীর মুখশুদ্ধি--পরিণয়ে আমলকির
মেজো সেজো বড় দাওয়াত হোক
ছাই পোড়াও সন্দেহের
ছাই পোড়াও অপ্রেমের
ছাই পোড়াও অলস মৃত্যুর
ফিনিক্সেরও আত্মীয়তা স্বীকার কোরো না
আমার মুখে আমাকে তুলে দাও আহা বাহারী কাবাব দাউদাউ খটখটে
তারপর যা হয়
দিনকে ওস্তাদ করব
রাতকে ছোটলোক
খানিক মদন হবে খানিকটা মার
ছ'দিন পাঁচ রাত্রি পরে ম্যাগেলানের মত
তোমাদের অনুরক্ত নাভিস্মৃতি ফিরে আসবে গোলাকার  লাইন টেনে টেনে
আশ্চর্য মহায়ুর্বেদে তোমাদের জুড়ে দেওয়া হবে
একদন্ডেই
তোমাদের সভ্যতায় আর কোনো আধপোড়া ঠাঁইনাড়া ঈর্ষা হবে না...

অতঃপর রঘুসাঁই কঠোর উপবাস লইয়া স্বদেশ ভ্রমণে চলিলেন।





শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১

সমিধ গঙ্গোপাধ্যায়

                         


চন্দ্রাহত অথবা সেয়ানা ধর্ষণকারীর স্বীকারোক্তি 
--------------------------------------------------------------------



না না চাঁদ দেখলে আমার আর অন্য কিছু

হজম হয় না
এই আমিদেহ নাকি চাঁদ নিয়ে সুস্বাদু কবিতায়
প্রজ্ঞা আর প্রেম বেঁধে ঘোড়া হাঁকিয়েছে? কই না তো!

আমার বউ অন্ত্রের ক্যান্সারে মারা যাওয়ার আগে
একটা সরোবর খেতে চেয়েছিলো
প্রোমোটারও চেনা ছিলো 
বললেই সমস্ত তরল আওয়াজগুলো চেপেচুপে 
দশতলা প্রমাণ এক টিফিন বাক্সে পাঠাতো
কিন্তু আমার গাফিলতি সরোবরের বদলে কিছু পাখির ছবি এঁকে দিয়েছিলো
খেয়াল করিনি ওরা পরিযায়ী,তাই যাবার সময় বউকেও নিয়ে চলে গেছে কবে

আমার প্রেমিকার মালভূমিতে তালু চাপড়ে
বলেছিলাম "হেই দ্যাকো উঠে পড়েছি পৃথিবীর ছাদে"
আমার প্রেমিকার পিঠে বারকয়েক লাথি মেরে অবাক হয়ে বলেছি "কই প্রেম যদি ভাঙলো তবে শব্দ পেলাম না কেন?"
তার ঠোঁট থেকে দুটো আনকোরা মেঘের কান ছিঁড়ে নিতে নিতেও বলেছি "কই বাপু প্রেমে এতো যন্ত্রণা কই?"
আমার প্রেমিকার হাস্যকর করোটি নিয়ে বাজি ধরেছি
"এক ঘায়ে ফাটাতে পারবে?"
আর ফেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাইমাখা ধোঁয়া খানিক নাকে যেতেই নিশ্চিন্ত হয়েছি 
"যাক তাহলে প্রেম ওই মানবাধিকারের মতোই বড় বেশি ভঙ্গুর ছিলো, তাই টিকতে পারেনি!"

এমনকি নিজেকেও বিশ্বাস করো দোস্ত,
গোড়ালি কন্ঠা বৃন্ত বগল নাকের লোমের আলাদা আলাদা বিমার পেটে ঢুকিয়ে রেখেছিলাম, হ্যাঁ গো সুপারিশের সহিত
আর তারা একটুও বিপ্লব না-ফাটিয়ে সকাল সকাল
পুরসভার সবেধন নীলমনি কমোডের যে কোনো একটায়
সকাতরকলরবে শান্তিময়, বেরিয়ে গিয়েছে

এমনিতে মাঠে ঘাটে রাতের দিকে যাই
সে তো অন্য কারণে
তবে অন্যের গায়ের চামড়া আমি যে এখনও অবধি 
একবারও কেড়ে নিইনি সেও তুমি জানো
যেটুকু আভাসমেঘে বেলা হ'লে তোমরা টের পাও
তারা সব নিজে থেকে এসে জল ঢালে আর পাম্প ক'রে
দেখে নেয় কতক্ষণ পরে পরে কতখানি নিচ থেকে সবটুকু জল 
ফিরে আসে

শুধু যদি চাঁদ ওঠে দুপুরের দিকে,
আমার রুটি  তিথি তরকারি বারবেলা গতে 
এগারো নম্বর রাশিফলের বারণ 
এবং ইসবগুল কিচ্ছুটি হজম হয় না
নিজেকে একটা কাঁকর বানাতে ইচ্ছে হয়
সেই কাঁকরে চাঁদের অসম্ভব তিতকুটে রোদ্দুর যখন 
প্রথম পোয়াতি জরায়ুর মতো খুশিয়াল শ্রাবণ হয়ে ওঠে
আর সেইমুহুর্তে চাঁদ টুক ক'রে নেমে এসে দাঁতে তুলে নিয়ে খুব কামড়াকামড়ির পর থুতু ছড়িয়ে উধাও হয়ে যায়
তখন সেই রক্ত লালা ঘাম স্রাব পুঁজ বমির ক্ষীর মাখা দেহখানা 
সরকারি চাকুরে কবিতার পাশে রেখে সামান্য মজা দেখি আমি

এর বেশি আমার কোনও দোষ তুমি ধরতেই পারবে না!


তিন নম্বর পৃথিবীর একচালায়
--------------------------------------------

কোনো কোনো সীমন্তিনী
গোবর থেকে উত্তীর্ণা হন

কেমন একটা অদ্ভুত আলো হয়ে ওঠে চারদিক
আমরা অস্বস্তি গিলে টকঝাল ঢেঁকুর তুলি

রাতের শেষ ট্রামে ফুসলে ওঠাতে পারি না

ত্যক্ত কারখানার মাঠে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে পারি না

স্বচ্ছ শাড়ি অস্বচ্ছ বোরখা কার্যকরী গাউন
ভবিষ্যৎ জেনে ফেলা বিকিনি কোনোটাই মাপমতো
লাগাতে না পেরে

তার নগ্নতায় সামান্য মাটি লেপে দিই

তারপর মহানন্দে অকপটে জুলজুলে
নেত্রপাত করে নিই দফায় দফায়

তাকে অকারণে একটু দুর্গা বানাই

নিশ্চিন্তে পাঠ করি
লিখে ফেলি পাতার পর পাতা
বান্ডিল ওড়াতে থাকি কাগুজে খিদের

তারপর মাটি বেশি জমে গেলে
কাকভোরে ডুবিয়ে দিয়ে আসি

নতুন কোনও নগ্নতায় চামড়ার অনটনে
আবার একটু অকারণে নিজেদের লেপে দেবো ব'লে।


স্বনির্ভরতা
----------------

ঘুম আসবে বলেছে
আজ-কাল-পরশুর প্রাইম সময়ে
স্লট পেয়েছে যেমন আর যতক্ষণ খুশি

শয্যা-চমকহীন জন্মান্তরের বড় প্রশ্নে
গন্ডারের শিঙেওয়ালা নম্বর থাকে
যদি হাসাতে না পারো তবে ফুঁ দেবারও
অধিকার নেই

নিতান্ত ঘুমের জেদ আসবে বলেছে
তাই বড়জোর চোখ আর পেট থেকে খোসা চেঁছে
ধুনো হতে পারো
এক আধ নম্বরের শ্বাসে টিক দিতে দিতে
সূর্যও ভুলে গেছে জল ধরে রাখার বয়ান
তুমি কোন ছাড়

তিলোত্তম আবছায়া হয়ে ওঠাই
সাফল্যের অদ্বিতীয় ধর্ম--
রোল নম্বর মনে রাখতে পারে না বলে
নিজেরই খড়মপেটা খেয়ে,
স্বয়ং ব্রহ্মেরও অন্ডকোষ
পরষ্পরের চেয়ে দূরতর হয়ে গেছে
ভাসা ভাসা পথে
তুমি কোন ছাড়

শুধু দ্যাখো
ঘুম তার নিজেরই ছায়ার তরলে,
সুভদ্র বিপর্যাস মিশিয়ে মাপছে গভীরতার গড়ন

শুধু ভাবো এর বাইরে স্রেফ পাতা উলটে
না গিয়ে
যদি লেখার হাতের লেখা নির্বিকার গুমখুন
করা যেত পাশ ফেরার আগে
মাতৃদত্ত হোক না হোক বেশ খানিকটা নাম
বিক্রি করা সম্ভব হতো,
                         মুক্তিপণ নেবার অছিলায়।




রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

সমিধ গঙ্গোপাধ্যায়

                                                        


বর্ষাবন্দিশ ১
------------------

----------------------------

'ভালবাসি' বলা ততটা সহজ নয়
নিষাদস্বভাবী অন্যায়প্রতিভাকে
বিষাদে যদিও মেঘ সারানোর ভয়
ঠোঁটের আদলে স্বস্তি দিও না তাকে

'ভালবাসি' আহা বোলোনা বালাইষাট
কাকভেজা গান শোনাবে, মানুষ কই?
রেডিওস্টেশনে ছাতা তৈরির হাট
অসুখ বাধিয়ে ভোলাচ্ছে থইথই

'ভালবাসি' বলা সনাতন পদ্ধতি
ডাকের সাজেই মুগ্ধতা, এনকোর
মন যদি হয় ব্যাটারিচালিত ক্ষতি
মুষলধারাটি যেতে না-দেবার ভোর

'ভালবাসি' তা'ও নতুন শব্দ চাই
ওটুকু রক্ত অনেকেই দিতে পারে
আনসিনে কত গ্রামার ভেজানো ছাই
বৃষ্টি তবুও কবিতায় খুঁজে মারে

'ভালবাসি' বলা ততটা কঠিন নয়
বারিশবিহনে কার কবে ঘুম আসে?
মেঘদূত যদি শহুরে তুলনা হয়
কলকাতা জুড়ে থাকব তোমার পাশে...



বর্ষাবন্দিশ ২
------------------

চোখের বোতাম
খুলে ফেলা নাম
পদ্যে রেখেছি সিন্দুক

ফসল দীঘল
কৃষি পরিমল
গদ্যের মত নিন্দুক

চেনা ঝোপঝাড়
শিশিরের ঘাড়
মুড়িয়ে ছুড়েছি বন্দুক

ছোট্ট গোড়ালি
প্রিয় চোরাবালি
বাদলা পোকার বন্ধু

মিল বুঝেশুনে
বেচে দেব গুনে
হুইসেল, রাতপাখিদের

পাঁজর কপাট
সময়ের ছাঁট
হাতের পাতায় রাখি ফের

ছন্দে বাঁধাই
চোখপোড়া ছাই
ভালও লেগেছে মন্দের

জ্যোছনার ঘাস
বৃষ্টিসমাস
রতিপরিহিত মন দে

শ্রাবণ তোমারই
আধভেজা বাড়ি
ছায়াভীরু সেই কাব্য

যদি বর্ষায়
পাই তার সায়
আবার তোমাকে ভাববো...


বর্ষাবন্দিশ ৩
-------------------

লোকায়ত অছিলায় নবারুণ তোমাদের স্নানে
গোলাপ পাহারা আনে ঝকঝকে মুদারার মত
অভক্ষ্য শিরানীল ব্যথা লেখে, তারানির্মাণে
সকরুণ শত্রুতা পাঁজরবাগানে অবনত

নিরবধি চঞ্চলা প্রতিমার কাঠামোপ্রলাপী
শয্যা সকাশে ঢালে এক লরি জ্যোছনার ফেউ
মৃগনাভি-অসময়ে সোঁদা সলজ্জ সংলাপী
রগুড়ে দেয়ালা ভাবে, মাথুর নামাবে কেউ কেউ...