মীনাক্ষী ঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মীনাক্ষী ঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১

মীনাক্ষী ঘোষ

                            


কোল্হাপুর ডায়েরী ৫


রাতে নিজের বাংলোয় সকলকে ডিনারের আমন্ত্রণ জানিয়ে বাড়ির সামনে ড্রপ করে বৌদি বিদায় নিলেন।
মন্দিরের কাছাকাছি জায়গাটা দিয়ে যাবার সময়  মিমি  কোল্হাপুর শহরের পুরনো রূপটা যেন দেখতে পেল। মিমিদের ফ্ল্যাট যেখানে সেটা কোল্হাপুরের পশ এরিয়া। সেখানে কসমোপলিটান ভাবটাই বেশী। কিন্তু মহাদ্বার রোডের এদিকটায়  এলে কোল্হাপুরের আসল চেহারাটা প্রতিভাত হয়।পুরনো শহরের মতোই সরু সরু পথঘাট। পুরনো কেল্লার ভগ্নাবশেষ কেল্লার তোরণের মতো প্রবেশ ফটক মারাঠা ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।আর কোল্হাপুরকে বেষ্টন করে বয়ে চলেছে পঞ্চগঙ্গা নদী।
এই মহাদ্বার রোডেই বিখ্যাত চপ্পল গলি। ভারত বিখ্যাত কোলাপুরী চপ্পলের উৎপত্তিস্থল।   কোল্হাপুরি চপ্পল (ইংরেজি: Kolhapuri chappal) হল ভারতের মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে প্রচলিত ও পরম্পরাগত হস্তশিল্পজাত একপ্রকার চামড়ার জুতো। স্থানীয়ভাবে উদ্ভিজ্জ বা প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে এই জুতোর চামড়া পাকা করা হয়। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে কোলহাপুরি চপ্পল পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্ক নিয়ন্ত্রক জেনারেলের কাছ থেকে ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
ইতিহাস প্রাচীন এই শহরটার মূল সুরটি যেন ক্রমশ একটু একটু করে ধরা দিচ্ছে মিমির কাছে।
কোল্হাপুরে  মারাঠা সম্প্রদায়ের প্রাধান্য বেশী। মারাঠা হলো মূলত ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়। স্বয়ং শিবাজী মহারাজ ছিলেন মারাঠা কুলতিলক। ক্ষত্রিয়রা স্বভাবত
যুদ্ধপরায়ণ।কোল্হাপুরে এখনো মারাঠা গৃহে তলোয়ার দেখা যায়। এরা এমনিতে খুব নির্ঝঞ্ঝাট ও নির্বিবাদী। অকারণ কলহে এরা  পটু নয়। কিন্তু ক্রুদ্ধ হলে ওরা তলোয়ার বের করতে দ্বিধা করেনা।
দু'বছর পুণে থাকার সুবাদে মিমি  মারাঠি ভাষাটা একটু একটু বুঝতে পারে। কোল্হাপুরে মারাঠি বলার ধরণটা
একটু ভিন্ন। একটু গ্রাম্য টান থাকলেও আন্তরিকতার ভাবটা সুস্পষ্ট।
আজ সূর্য একটু তাড়াতাড়িই ফিরেছে অফিস থেকে। আজ প্রথম দিন। জয়েনিংয়ের যাবতীয় ফর্মালিটিজ মিটিয়ে অন্যান্য কলিগদের সাথে আলাপ পরিচয় সেরে রওনা
হ য়ে পড়েছে। আজ অফিসেই সবার সাথে লাঞ্চ সেরেছে। আগামীকাল থেকে আশীষ এসে লাঞ্চ বক্স নিয়ে যাবে।
সূর্যর কাছে দারুণ একটা মজার কথা  শুনলো মিমি। সূর্যর প্ল্যান্টটা কাগাল পরগণায়। বাড়ি থেকে সড়কপথে দূরত্ব পঁচিশ কিলোমিটার।  মহারাষ্ট্রের শেষ সীমানা ওইটাই। সূর্য যেহেতু প্ল্যান্ট হেড, প্রোডাকশন ও মেইনটেনান্সের দায়িত্বভার ওর ওপরেই। ওর কেবিনটাও তাই শপ ফ্লোরের ভেতরেই। লাঞ্চের পরে কেবিন সংলগ্ন ওয়াশরুমে যেতেই মোবাইলে টিংটং করে মেসেজ বেজে উঠলো। ' ওয়েলকাম টু কর্নাটক'।বাহ  এতো ভারী মজার ব্যাপার। কেবিন মহারাষ্ট্রে আর ওয়াশরুম কর্নাটকে!এ যেন ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বর্গচ্ছেদ। যদিও এখানে কাঁটাতার অদৃশ্য তবু এই ভাগাভাগিতে বেশ মজাই লাগলো।
সন্ধ্যার একটু পরেই মিমি সপরিবারে রওনা দিলো মিঃ বোসের বাড়ীর উদ্দেশে।
ক্রমশঃ


ছবিঃ কোলাপুরী চপ্পল
 

রবিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২১

মীনাক্ষী ঘোষ

           



কোল্হাপুর ডায়েরী ৪

অ‍্যাপার্টমেন্টের নীচেই একটা সাউথ ইন্ডিয়ান রেষ্তোঁরা আছে সেখান থেকে লাঞ্চের অ‍্যারেঞ্জমেন্ট হোলো।
আগামিকাল সূর্যের জয়েনিং ডেট।
বিকেল চারটে বাজে। দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে অবস্থানের কারণে সূর্যাস্ত হয় দেরীতে। লাঞ্চের পরে সবাই যখন নিজের নিজের ঘরে বিশ্রামের আয়োজন করছে মিমি পায়ে পায়ে এসে দাঁড়ালো লিভিংরুম লাগোয়া বর্গাকৃতি ছোট্ট খোলা ছাদটার রেলিং ঘেঁষে। এখানে সবাই এই ধরণের সংলগ্ন খোলা ছাদকে টেরেস বলে।  ব্যালকনিকে
বলে গ্যালারি।
তিনতলার টেরেস থেকে নীচে ব্যস্ত সড়কের ছবি প্রতীয়মান। মিমি তার দৃষ্টি ভাসিয়ে দিলো সুদূরে। দূরে চক্রাকারে বেষ্টিত পাহাড়ের  অস্পষ্ট রেখা দিগন্তে গিয়ে মিশেছে। আপাতশান্ত কোলাহলবিহীন এই শহরটির প্রতি এক অজানা ভালবাসা বুকের ভেতর জারিয়ে যাচ্ছিলো আস্তে আস্তে।
সম্বিৎ ফিরলো কলিংবেলের আওয়াজে। এইসময় আবার কে এলো? দরজা খুলতেই সামনে দাঁড়িয়ে সৌম্যদর্শন মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক ও পাশে স্মিতহাস্যে মধ্যবয়সিনী  ভদ্রমহিলা। চকিতে মিমির মনে পড়লো সূর্য বলেছিলো বটে ওর নতূন অফিসের বস কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মিঃ বোস আসতে পারেন।  ওর মাথা থেকে কথাটা একেবারেই বেরিয়ে গেছিলো।ইশশ ছি ছি। ওর অপ্রস্তূত মখ দেখে ভদ্রলোক হাতযোড় করে নিজের পরিচয় দিলেন। কোনরকমে অপ্রস্তুত ভাব সরিয়ে মিমি ওঁদের ভেতরে আসতে অনুরোধ জানালো। এই কোম্পানিতে সূর্য ছাড়া উনি আর একমাত্র বাঙালি।
অল্পক্ষণের মধ্যেই অপরিচয়ের দূরত্ব কমে অন্তঙ্গতার সুরটি ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠলো। মিসেস বোস ক্রমশ হয়ে উঠলেন মিমির কাছে 'বৌদি'। স্নেহশীলা এই মানুষটি মিমিকে প্রথম থেকেই  নিজের ছোট বোনের মতো করে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। মিমিও তাকে নিজের বড়দিদি  ভেবেই ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়েছিলো ধীরে ধীরে।
নানান আলাপচারিতায় মিমি জানতে পারলো কোল্হাপুরের মহালক্ষ্মীদেবীর মন্দিরের কথা।মিমির উৎসূক মন জানতে পারলো আরো অজানা কিছু তথ্য।করবীর তালুকার অন্তর্ভুক্ত কোল্হাপুরকে করবীর তীর্থ ও বলা হয়।
বৌদি প্রস্তাব দিলেন পরদিন সকালে সূর্য অফিসে বেরিয়ে এগেলে উনি মিমিকে নিয়ে মহালক্ষ্মী মন্দির দর্শন করাতে যাবেন। নতুন জায়গায় মাতা অম্বাবাঈয়ের কাছে পুজো দিয়ে শুভারম্ভ করা ভালো।
পরদিন সকালে সূর্য অফিসে বেরিয়ে গেলে মিমি স্নান করে
রেডি হয়ে রইলো। ছেলেমেয়ের ব্রেকফাষ্ট  টেবিলে ঢাকা দিয়ে বৌদি আসা মাত্র  বেরিয়ে পড়লো দেবী সন্দর্শনে।। বাড়ি থেকে খুব বেশী দূর নয় মন্দির। বৌদির সাথে গাড়ী ছিল। মিনিট দশেকের মধ্যেই ওরা পৌঁছে গেল মন্দিরের কাছে। মন্দিরের প্রবেশপথ মোট চারটি। পশ্চিমদিকের প্রবেশদ্বার দিয়ে মিমি আর বৌদি প্রবেশ করলো মন্দিরে।
মিমি অবাক বিস্ময়ে দেখছিলো মন্দিরের কারুকাজ।
পঞ্চগঙ্গা নদীটি কোল্হাপুরকে বেষ্টন করে প্রবাহিত হয়ে চলেছে।আর এর তীরেই রয়েছে বিখ্যাত দেবী মহালক্ষ্মীর মন্দির।প্রায় ছয়হাজার বছরের পুরনো এই মন্দিরটি কালো গ্রানাইট পাথরে গুহার আদলে নির্মিত। অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী ও ভাস্কর্যের মেলবন্ধনে এই মন্দিরটির শৈল্পিক গুরুত্ব ও অপরিসীম।
মূল মন্দিরটির শীর্ষদেশে পাঁচটি চূড়া। চূড়াগুলিতে যথাক্রমে পাঁচটি বড় ও ছোট সোনার কলস স্থাপিত।। এত সকালেও দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত সমাগম যথেষ্ট।
,  হরি পুরাণের  কাহিনী অনুসারে তপস্বী ভৃগু বৈকুন্ঠে পদার্পণ করে কলহবশত বিষ্ণুর বুকে পদাঘাত করলে বিষ্ণুপত্নী কুপিতা হন। বিষ্ণুবক্ষেই যে দেবী লক্ষ্মীর অধিষ্ঠান!স্বামীর অপমানে ক্রোধান্বিতা দেবী এত অপমানের পরেও শ্রী বিষ্ণুকে প্রসন্ন ও সহাস্য বদনে মহর্ষি ভৃগুর প্রতি ক্ষমার্হ নয়নে দৃষ্টিপাত করতে দেখে  বিষ্ণুধাম পরিত্যাগ করে মর্ত্যে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।মর্ত্যে দেবী যে স্থানটিকে নির্বাচন করেন সেটি হোলো এই কোল্হাপুর। স্বয়ং বিষ্ণু ও দেবীর সাথে বৈকুণ্ঠ  পরিত্যাগ করে শ্রীক্ষেত্রে বসবাসের সূচনা করেন।দেবীর অগণিত ভক্তের আকুল আবেদনে মাতা চিরকালের মতো এখানেই আপন অধিষ্ঠান স্থাপনা করেন।তদবধি তিনি সমস্ত রকম দৈব রোষ থেকে এই স্থানের রক্ষাকর্ত্রী হিসাবে পূজিতা। এমনকি প্রলয়কালে যখন সমগ্র ধরিত্রী জলরাশিতে নিমজ্জিত তখনো শ্রী বিষ্ণু ও মাতা লক্ষ্মী ভক্তদের পরিত্যাগ করে বৈকুণ্ঠ গমনের ইচ্ছা পরিহার করেন। কোল্হাপুরে তাই বিষ্ণু এবং লক্ষ্মীর চিরকালীন অধিষ্ঠান। লোকশ্রুতি, কোল্হাপুরে কেউ কখনো অন্নাভাবে অভুক্ত থাকেনা।
অন্য মতানুসারে দেবাদিদেব মহাদেবের বরে অপ্রতিরোধ্য কোলাসুরকে দেবী যুদ্ধে পরাস্ত করে হত্যা করতে উদ্যত হলে অসুর মিনতি করেন তার মৃত্যুর পর এই স্থানটিকে যেন তাঁর নাম অনুসারে নামাঙ্কিত করা হয়।
তার নামানুসারে স্থানটির নাম হয় কোল্হাপুর।
দেবীকে মাতা ভবানী  উমা বা পার্বতী পক্ষান্তরে অম্বা মাতা রূপে পূজা করা হয়।
এই মন্দিরটি সপ্তম শতাব্দীতে চালুক্যবংশীয় রাজা কর্ণদেব নির্মাণ করান। সামনে দক্ষিণভারতীয় স্থাপত্যশৈলীর আদলে  একটি বৃহৎ দীপাধার। গুহার আদলে তৈরী মন্দিরটির প্রবেশাভিমুখে বাঁদিকে দেবীর চরণ চিহ্ণ যা শ্রীযন্ত্র নামে খ্যাত সেখানে প্রণাম করে মূল মূর্তির অভিমুখে যাত্রা। প্রবেশপথটি অত্যন্ত অপরিসর। সিংহদরজা পেরিয়ে মাতৃসন্দর্শনের স্থানটি অপেক্ষাকৃত পরিসরযুক্ত।
কালো পাথরে তৈরী মাতৃমূর্তিটি নাতিবৃহৎ। দৈর্ঘ্যে তিনফুট। নানানরকম দুর্মূল্য রত্নালঙ্কার ভূষিতা মূর্তির ওজন চল্লিশ কিলোগ্রাম।মূর্তির পিছনে  কালো পাথরে রচিত সিংহমূর্তি দেবীর বাহন। মূর্তির মস্তকোপরিভাগে শেষনাগ ছত্ররূপে বিরাজমান।
মাতৃমূর্তি চতুর্ভূজা।  দেবীর নিম্ন দক্ষিণহস্তে একটি ফল- মতুলিঙ্গ।দক্ষিণ উপরিভাগে একটি বৃহদাকার গর্ধভের মস্তক ভূমি নিবদ্ধ দৃষ্টি।বাম উপরিহস্তে একটি বর্ম ধৃত এটিকে খেতক বলা হ য়। ও বাম নিম্নহস্তে একটি পানপাত্র। দেবীমূর্তি পশ্চিমমুখী। বৎসরের তিনদিন পশ্চিম দেয়ালের একটি ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠ থেকে অস্তগামী সূর্যের  বিদায়রশ্মি দেবীর মুখে  আলো প্রদান করে দেবীকে প্রনিপাত জানায়।
মুগ্ধ হয়ে মিমি মন্দিরের অনুপম ভাস্কর্য দেখছিলো। এই পাথরের গায়ে গায়ে কত অজানা কাহিনী লিপিবদ্ধ হয়ে আছে তার কথা আর কে বলবে! নির্বাক অথচ বাঙ্ময় যেন প্রতিটি গাত্র শৈলী।
শুধু দেবীমূর্তি নয় এই অদেখা ভাস্করদের  অনুপম কারুনৈপুণ্যের প্রতি প্রণাম জানিয়ে মিমি মন্দির থেকে বেরিয়ে এল।
ক্রমশঃ

 

রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১

মীনাক্ষী ঘোষ

                     



কোল্হাপুর ডায়েরী ৩

সূর্য ওর কোম্পানির এইচ আর ডিপার্টমেন্টকে জানিয়ে রেখেছিল ওদের পৌঁছবার কথা।  সেই রাতটার মতো কোম্পানির তরফ থেকে কোল্হাপুরের একটি নামী
হোটেলে দুটো রুম অ‍্যলটেড ছিলো যাতে এতটা জার্নি
করে এসে রাতটুকু  নিশ্চিন্ত আয়াসে বিশ্রাম নিতে পারে।
হোটেলের লবিতে এইচ আর ডিপার্টমেন্টের একজন প্রতিনিধি  উপস্থিত ছিলেন। সব ব্যবস্থাপনা মিটিয়ে রুমে আসতে আসতে সন্ধ্যার তিমির তখন ক্রমশ নিবিড় হয়ে আসছে।
রুমে ঢুকে খানিকটা ফ্রেশ হতে না হতেই কফি আর স্ন্যাকস নিয়ে রুম সার্ভিস হাজির। এতটা জার্নিতে খিদেও পেয়েছিল একটু।  ছেলে এবং মেয়ে ওদের চেঞ্জ নিয়ে পাশের রুমে চলে গেল। আর সূর্য চেঞ্জ করে সুখশয্যায় গা এলিয়ে দিতেই নিদ্রাদেবীর করতলগত।
নতুন জায়গায় আসার আবেগে আর উত্তেজনায় মিমির ভেতরে তখন সহস্র অশ্বক্ষুরের শব্দ।
সূর্য অকাতরে ঘুমোচ্ছে। দরজাটা আলতো করে টেনে মিমি এলো পাশের ঘরে। পুত্র এবং কন্যা দুজনেই চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসেছে দাবাখেলার সরঞ্জাম নিয়ে। ওদের ব্যাকপ্যাকের সর্বক্ষণের সঙ্গী এই চেসবোর্ড। পাসটাইম হবিও বটে! খুব যখন ছোট সূর্য ই শিখিয়েছিল। এখন ফাঁক পেলেই দুই ভাইবোন খেলতে বসে পড়ে এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়।
মিমি পায়ে পায়ে এগোলো ওদের ঘরের লাগোয়া ব্যালকনিটার দিকে। কি নিরিবিলি শান্ত নির্জন পরিবেশ!।গার্ডেন ফেসিং ব্যালকনিটায় দাঁড়িয়ে মিমি নতুন শহরের গন্ধটাকে বুকের ভেতর ভরে নেবার চেষ্টা করছিলো।
খানিকক্ষণ পরে রুমে ডিনার ও সার্ভ করে গেল। সূর্য ততক্ষণে একটা ন্যাপ নিয়ে এই ঘরে এসে বসেছে। ওদের খেলার মাঝখানে ছোটখাটো ফুটনোট ও দিয়ে চলেছে। প্রায় সবটাই মেয়ের পক্ষে আর তাই ছেলে আরো সিরিয়াস ভঙ্গীতে  পরের মুভটা নিয়ে  যৎপরোনাস্তি দার্শনিক হয়ে পড়ছে। ছেলের অবস্থা দেখে মিমির হাসি পেয়ে গেল।
ছেলেকে বললো-' তোর বাবার খালি  পার্শিয়ালিটি।  এবার
রাখ দেখি। চল্ নতুন জায়গার খাবারগুলো টেষ্ট করে দেখি। সূর্য হার্ডকোর ননভেজ। মেনুতালিকায় কোল্হাপুরী
শুখা মটন  জিরা রাইস আর ভাকরি। জিরা রাইসের সাথে রসনা পরিচিতি থাকলেও বাকি দুটো নিতান্ত ই এযাবৎ
অনাস্বাদিত।
কোল্হাপুরের লোকেরা সাধারণত একটু মশলাদার খাবার পছন্দ করে। কোল্হাপুরী মাটন তার অন্যতম। এটা বানাবার বিশেষ একটা পদ্ধতি আছে। স্বাদেগন্ধে অতুলনীয় এই পদটির রন্ধনপ্রণালী পরে মিমি আয়ত্ত্ব করেছে।কোল্হাপুরী মাটনের সাথে আরো দুটো পদ পরিবেশিত হয়।
এই দুটি যথাক্রমে তাম্বড়া রসা আর পান্ডরা রসা।
রসা অর্থ হলো রস। কোল্হাপুরী রান্নায় শুকনো নারকেলের প্রচলন খুব বেশী। প্রায় সব রান্নাতেই শুকনো নারকেলের গুঁড়ো ব্যবহার করা হয়।
তাম্বড়া রসাটি তাম্রবর্ণের বা রক্তাভ। লাল লঙ্কা এর প্রধান উপকরণ। পান্ডড়া শব্দটির মারাঠি অর্থ হোলো সাদা।  এর বর্ণটিও তাই সাদা। এই রসটি বানাবার মূল উপকরণ হোলো প্রধানত তিল পোষ্তদানা আর শুকনো নারকেল গুঁড়ো। এগুলি একত্রে পিষে  তরল চাটনির মতো তৈরী করা হয়। অ‍্যাপেটাইজার বা খিদেবর্ধক হিসেবে এটি ভালো কাজ করে।  আর তাম্বড়া রসা হোলো মাংসের গ্রেভি বা জলীয় অংশ। শুকনো মাংসের সাথে এটি পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও  এখানে বাটারমিল্ক বা ছাঁস পরিবেশন করা হয় হজমকারক হিসাবে। এটি মিমির খুব পছন্দের পানীয় একটি।দই দিয়ে ঘোলের মতন বানিয়ে তার মধ্যে পুদিনা পাতাও ভাজা জিরেগুঁড়ো দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পরিবেশন করা হ য়। অত্যন্ত কম ক্যালরিযুক্ত ও পুষ্টিবর্ধক পানীয় হিসাবে এটি খুব জনপ্রিয় ও বটে। ভাকরি হলো যবের রুটি। এটিও অত্যন্ত কম ক্যালরিযুক্ত।।  এই হোটেলের প্রতিটি খাবারের স্বাদ নিতে নিতে কোল্হাপুরী রন্ধনপ্রণালীর  এক অনন্যতা অনুভব করছিলো মিমি যা পরবর্তীতে তাকে কোল্হাপুরী মশলার স্বকীয়তা সম্পর্কে উৎসাহী ও কৌতূহলী করে তোলে।
সবশেষে ছিলো এক বিশেষ ধরণের লঙ্কার আচার যাকে ওরা থেচা বলে। মিমি তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেও সূর্য বা ছেলেমেয়েরা কেউই আর মখে তুলতে পারলোনা। ওরা কেউই তেমন ঝাল খেতে অভ্যস্ত নয়।
ডিনারের পাট চুকিয়ে ছেলেমেয়েকে গুডনাইট জানিয়ে
নিজেদের ঘরে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই দুচোখের পাতা জুড়ে নেমে এলো নিবিড় ঘুম।রাস্তার ধকল নতুন জায়গায় আসবার উত্তেজনা সর্বোপরি ভোজনের পারিপাট্য মিমিকে আর জেগে থাকার অবকাশ দিলোনা। রাতবালিশের নিবিড় কোমল স্নেহস্পর্শে তলিয়ে যেতে লাগলো নিশ্চিন্দিপুরীর স্বপ্নরাজ্যে।
সকালে ঘুম ভাঙলো সূর্যের ডাকে। সামনের দেয়ালঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো সকাল ন টা বাজে।পাশের বেডসাইড টেবিলে মর্নিং টি আর বিস্কিট রাখা। ওকে চোখ মেলতে দেখেই সূর্য বললো-
'মিমি আমাদের  প্যাকার্স অ‍্যান্ড মুভার্সের গাড়ি এসে গেছে। কোম্পানির লোক ফ্ল্যাটে পৌঁছে গেছে আসবাবপত্র ঠিকঠাক অ‍্যারেঞ্জ করার জন্য।তুমি তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাষ্ট করে নাও। আমরা ফ্ল্যাটে যাবো।
সূর্য ই পাশের রুম থেকে ছেলেমেয়েকে ডেকে তুললো।ঘন্টা দেড়েকের মধ্যে রেডি হয়ে আবার নতুন ঠিকানায়।
হোটেলের বেশ কাছেই নির্ধারিত ফ্ল্যাটটি। একেবারে তিনরাস্তার মোড়ে। একেবারে উল্টোদিকে বিবেকানন্দ কলেজ। কলেজ ক্যাম্পাসে স্বামী বিবেকানন্দের একটি আবক্ষ মূর্তি প্রতিষ্ঠিত।
ফ্ল্যাটে ঢুকে মিমির মনটা  আনন্দে ভরে গেল। তিনটে বেডরুম ড্রইং ডাইনিং কিচেন মিলিয়ে অনেকটাই স্পেশাস। সবচেয়ে বড় কথা বেডরুমগুলো সবকটাই রাস্তার অভিমুখী। মিমিরা পৌঁছতে পৌঁছতে কোম্পানির  লোকজন  ততক্ষণে ফার্নিচার মোটামুটি সেট করে ফেলেছে।কিচেনে ঢুকে দেখলো  অল্পবয়েসী একটি ছেলে বাসনপত্র সব বের করে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখছে। নাম জানালো আশীষ। কোম্পানির পিওন।  সূর্যর অফিসে লাঞ্চ পৌঁছোবার দায়িত্ব  ওর তার সাথে ফাঁকে ফাঁকে ঘর গেরস্থালির কাজে সাহায্য করার জন্য ওকে নিয়োগ করা হয়েছে। মিমির অবশ্য এই ব্যাপারটা একেবারেই না পসন্দ। অফিসের বেয়ারাকে দিয়ে ঘরের কাজ করাবার একেবারেই পক্ষপাতী নয় সে। কথায় কথায় জানলো ছেলেটি কোল্হাপুরের শিবাজী ইউনিভার্সিটি থেকে মারাঠি ভাষায় এম এ পাশ করেছে!ছেলেটি ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত।
নম্র ভদ্র বিনয়ী ছেলেটি সহজেই সকলের মন জয় করে নিল।
ক্রমশঃ




রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১

মীনাক্ষী ঘোষ

                                       




কোল্হাপুর ডায়েরী


কলিংবেলের আওয়াজ শুনে দরজাটা খুলতেই সূর্যর
সহর্ষ চিৎকার- 
-"মিমি' এখানকার পাততাড়ি এবার গোটাও। একসপ্তাহের মধ্যে কোল্হাপুর শিফ্ট করবো আমরা।"
মিমির হাঁ-মুখটা বুজতে  বোধকরি কয়েক সেকেন্ড সময় লাগলো আর সেই হাঁ করা মুখের দিকে চেয়ে মিটমিট করে হেসে চলেছে সূর্য।
-"মানেটা কি? বলা নেই কওয়া নেই 'ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে'!
ধুসস কি ব্যাপার খোলসা করে বলোই না!"
বছর দুয়েক হোলো মিমি সূর্য  ওদের দুই পুত্রকন্যা সহ
পুণেতে এসেছে।অবশ্যই সূর্যের কর্মসূত্রে। এর আগে দীর্ঘ
আঠারো বছরের বিবাহিত জীবন কেটেছে বাংলার বূকেই।
সূর্য পেশায় মেটালার্জিষ্ট।পশ্চিমবঙ্গের একটা বিখ্যাত অ‍্যালুমিনিয়াম কোম্পানির  একটি ইউনিটের সর্বোচ্চ আধিকারিক ছিল সূর্য। বছর তিনেক আগে সেই বেসরকারি কোম্পানিটি অন্য আরেকটি কোম্পানি
টেক ওভার করে।কয়েকমাস যাবার পরে  ভারপ্রাপ্ত নতুন আধিকারিকরা এই ইউনিটটি বন্ধ করে দেবার সিদ্ধান্ত নেন। সূর্যকে বদলির প্রস্তাব দেওয়া হয় মধ্যপ্রদেশের চম্পা জেলায় অন্য একটি ইউনিটের প্রধান হিসেবে।
ওদের ছেলের তখন ক্লাস টেন। সামনে আই সি এস ই পরীক্ষা।মেয়ে ছোট ক্লাস ফাইভ। যেহেতু ছোটবেলা থেকেই ওদের কোন প্রাইভেট টিউটর ছিলোনা।মিমি আর সূর্য ই ওদের পড়ানোর দায়িত্বটা পালন করতো।
বদলি হলে সূর্যকে একাই  যেতে হবে - এই টানাপোড়েনে যখন তারা  ভীষণভাবেই দ্বিধাগ্রস্ত তখন ই পুণেতে কর্মরত মিমির ছোটভাই সূর্যকে পুণে চলে আসার প্রস্তাব দেয়।
সর্য দোনোমোনো করেছিলো। কিন্তূ মিমির প্রবল উৎসাহ আর আগ্রহে শেষমেষ বাংলার পাট চূকিয়ে একরকম হারা উদ্দেশে অনিশ্চিতকে বরণ করে নেবার একটা দুঃসাহসিক
সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলে তারা। 
বদলির সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় এবং ইউনিটটি বন্ধ হবার কারণে ছেলের পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের মুভ করার কোনো উপায় ই ছিলনা। আরো একটা কারণ ছিল। মিমির অ‍্যালায়ানস ফ্রাঁসেজে ফ্রেঞ্চ ক্লাসে সিক্স্থ লেভেল কমপ্লিট করার মাস দুয়েক বাকি ছিল। সব চুকিয়ে
পুণে আসতে বছরের মাঝামাঝি।
তারপর থেকেতো জীবনটা বল্গাছাড়া ঘোড়ার মত ঊর্দ্ধশ্বাসে দৌঁড়েই চলেছে। তার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে মিমি দিশেহারা। পুণেতে কনসালট্যান্ট হিসেবে একটা কোম্পানিতে জয়েন করার তিনমাসের মধ্যে সূর্য বদলি হলো দিল্লী। দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে পুণেতে শুরু হলো মিমির চরৈবতি পর্ব। এই দু বছরে সূর্য কখনো দিল্লী কখনো গোয়া  কখনো পুণে এভাবে চাকরির সাযুজ্য বজায় রেখেছে। আর মিমি পুণেতে থেকে গেছে ছেলে মেয়ের জন্য। সবে কাল ই ছেলের টুয়েলভের পরীক্ষা শেষ হ য়েছে।
এরমধ্যে সূর্য চাকরির সন্ধান চালিয়ে গেছে নিয়মিত। যেখানে একজায়গায় পরিবারসহ থিতু হতে পারে। আসলে সূর্য বরাবর ই ঘরকুনো বড় বেশী পরিবার ঘেঁষা।
ঘরে ঢুক ধপ্ করে সোফায় বসেই  মিমিকে বললো- 
'তোমায় বলিনি মিমি। কিছুদিন আগে কোল্হাপুরের একটি বড় কোম্পানির মালিক আমার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন ওদের ফ্যাক্টরিতে  জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেবার  জন্য। সবটাই টেলিফোনিক ইনটটারভিউয়ের মাধ্যমে। অবশেষে সবকিছু ফাইনালাইজ
করে আজ ওরা ‍অ‍্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পাঠিয়েছে।' কোম্পানি রেন্টেড ফ্ল্যাট আর নিজস্ব ব্যবহারের গাড়ি ও দেবে  সেই কোম্পানি। সাত দিনের মধ্যে জয়েন করতে
হবে। অতএব,' চলো মুসাফির বাঁধো গাঠরি।'
মিমির মাথায় এখন আর কিছুই ঢুকছেনা। ওর মনের ভেতর স্লাইড শো হয়ে তখন ভেসে চলেছে একটা অদেখা শহরের স্বপ্নে আঁকা কিছু ছবি। আবার নতুন জায়গা নতুন মানুষ আবার আরেক অনিশ্চিতের হাতছানি  যা মিমিকে সারা জীবন অস্থির করে টেনে নিয়ে বেড়িয়েছে দেশ থেকে দেশান্তরের দিকে। সূর্য যখন কিঞ্চিৎ ইতস্তত করেছে মিমি অভয়দাত্রী হয়ে সাহস জুগিয়েছে। টালমাটাল সময়গুলোকে শক্ত হাতে ধরে ঢেউ সামলেছে একের পরে এক।
কোল্হাপুর  সম্পর্কে মিমির জ্ঞান ছিলো ওই কোল্হাপুরী চপ্পল অবধিই। বালিগঞ্জ ফাঁড়িতে কোল্হাপুরী সেন্টার নামে জুতোর দোকানটা কোল্হাপুর নামটা সম্পর্কে অবহিত করেছিলো। ব্যস ওই পর্যন্ত ই। আর কোন কৌতূহল বা ধারণা কিছুই ছিলনা। এমনকি  এখনো পর্যন্ত মিমির ধারণা নেই পুণে থেকে কোল্হাপুর কতটা দূর! 
 সূর্যর গলার আওয়াজে ছেলেমেয়েও পায়ে পায়ে বসার ঘরে। সবটাই শুনেছে তারা কিন্ত বিমিশ্র অনুভূতি তাদের দুজনের গলায়। ছেলে খুব খুশী। এমনিতেও ও এবার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চলে যাবে বাইরে। কিন্তু মেয়ে--!!!
এখানে দু'বছরে এখানকার স্কুল ও পরিবেশে অনেকটাই ধাতস্থ হয়ে গেছে সে। নতুন ভাষা মারাঠীকেও বেশ ভালোরকম করায়ত্ত্ব করেছে সে এই দুই বছরেই। এখানে নামী কনভেন্টে ভর্তি হবার সুযোগই শুধু সে পায়নি এখানকার স্কুলেও ভালো ছাত্রী হিসেবে স্কুলের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ফার্ষ্ট অথবা সেকেন্ড হয়েছে প্রতিটা পরীক্ষায়।
আবার নতুন স্কুলে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার পরীক্ষা মেয়েটাকে ভীতচকিত করে তূলেছে।কিন্তু মেয়ে অসম্ভব বাবা ন্যাওটা। বাবা আবার একসাথে থাকবে এই আশ্বাসটুকু ভরসা করে তাই সেই ভীতিটুকু হজম করেছে চুপ করে বাবার কোলে বসেই।
রাতে সকলে ঘুমিয়ে পড়লে মিমি ডেষ্কটপ খুলে কোল্হাপুর শহরটার ইতিবৃত্ত পড়লো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে।
পুণে থেকে দুশো পঁচিশ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ পশ্চিম মহারাষ্ট্রের একটা ছোট্ট সুন্দর শহর হলো কোল্হাপুর। মূলত কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের সংযোগবিন্দু এই  উপত্যকা শহরটি স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত মারাঠা সাম্রাজ্যের  অধীনে ছত্রপতি শাহু মহারাজের স্বায়ত্ত্বশাসিত রাজ্য ছিল।স্বাধীনতার পরে এটি একটি জেলা হিসেবে পরিগনিত।সহ্যাদ্রি পর্বতমালার পূর্বদিকে অবস্থিত এই ছোট শহরটি কেবলমাত্র নান্দনিক সৌন্দর্যেই সমৃদ্ধ নয়।পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকেও এর তাৎপর্য অপরিসীম।
ইতিহাস প্রাচীন এই শহরটি রাষ্ট্রকূট সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল একসময়।মহারাণী তারাবাঈ কোল্হাপুর, কাগাল ও ইচলকরঞ্জি এই তিনটি পরগণা নিয়ে কোল্হাপুর রাজ্যটির পত্তন করেন।পরে উত্তরাধিকার সূত্রে ছত্রপতি শাহু মহারাজের হাতে এর শাসনভার অর্পিত হয়।
সূর্য উঠেছিল বাথরুমে যাবে বলে। মিমিকে  ডেস্কটপের উপর ঝুঁকে বসে থাকতে দেখে মৃদু ধমক দিলো। রাত ও হয়েছে অনেক। কথা না বাড়িয়ে মিমি শুয়ে পড়ার আয়োজন করলো। যেটুকু পড়লো  তাতে যাবার আকর্ষণ আরো প্রবল। বাকিটা গিয়েই নাহয় এক্সপ্লোর করা যাবে। 

ক্রমশঃ


                  




      
    
             
                          



ছবি ১ঃ কোল্হাপুর লোগো
ছবি ২,৩ ঃ মহারাণী তারাবাঈ
ছবি ৪ঃচিন্ময় গনেশ
ছবি৫ঃ কোল্হাপুর প্রবেশপথের মূল ফটক