রিয়া চক্রবর্তী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রিয়া চক্রবর্তী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৮

রিয়া চক্রবর্তী


জলরঙ স্বপ্ন

এক স্বপ্ন থেকে আর এক স্বপ্নের দূরত্ব
হয়তো কয়েক আলোকবর্ষ! 
আচ্ছা সে কি ভাসমান, না কি নির্বাসিত!
অথবা দুই স্বপ্নের মাঝে এসে দাঁড়ায় 
এক সাংঘাতিক ভুল যা কিনা
শূন্যতার মুখোমুখি হবার জন্য
দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ।
স্বপ্নের সারথি ছিল জলরঙ, তেলরঙ, 
গাছ, পাখি, নদী, ফুল, নৌকো, 
এরা সবাই তো ছিল প্রতিবেশী। 
কোন এক ঝড়ের রাতে কে যেন
তছনছ করে দিয়ে গেছে, 
ভ্যান গঘের সোনালি ধানক্ষেত।
সেই স্বপ্ন ছিল ক্ষনজীবি
তাঁর মৃত্যুতে কেঁপে উঠেছিল
মেরুদণ্ড, স্নায়ু,মজ্জা ও মাংস
হারিয়ে যাচ্ছিলো তারা
কার্বনডাই অক্সাইডের অন্ধকারে।
আজ স্মৃতি সাম্রাজ্যের পাহারাদার
জেগে থাকি হোয়াং হো-র বুক চিরে। 
কোন রাতচরা পাখি ভুল বশত এসে পরে,
অবিরাম স্পষ্ট উচ্চারণে স্বপ্ন জেগে ওঠে
আর যত পুরনো রক্তাক্ত স্মৃতি
সরে যায় সারিবদ্ধ ভাবে, 
কাঁপা কাঁপা আর অনচ্ছ।

রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭

রিয়া চক্রবর্তী


ঘরে ফেরা হয় না সবার


পরিযায়ী,  উড়ে বেড়ায়,  ঘুরে বেড়ায় দেশ থেকে আরেক দেশে। প্রকৃতি ভৌগোলিক পরিবেশ আর আবহাওয়ার পরিবর্তনের উপর জন্য  ওরা ছুটে চলে প্রকৃতির অনুকূল পরিবেশে। হেমন্তের শেষে কুয়াশাকে সাথে নিয়ে ছোট্টো শীত যখন গুটিগুটি পায়ে টুপটাপ ঝরে পরে গ্রাম থেকে শহরে,  মাঠ থেকে খাল, বিল, জলাশয়ে। ঠিক তখনই তাদের আগমন হয় ঝাঁকে ঝাঁকে। শীতও আসে তাদের ডানায় ভরে করে , ভোরের আকাশকে বরন করে নেবার জন্য  মালার মতো ডানা মেলে উড়ে আসে বহুদুর থেকে। 
প্রচন্ড শীতের দেশ  থেকে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ শীতের দেশে  খাবারের সন্ধানে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে দল বেঁধে পাখিরা আসে রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ আর ঠান্ডা-রোদের মিশেল আবহাওয়ার দেশে। শীতের শুরুতেই ওদের পাখনার ঝাপটায় নান্দনিক ছন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে নদ-নদী, খাল-বিল, ঝিল, জলাশয় এবং বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ । 
পরিযায়ী পাখির ডানার কাঁপনে চঞ্চল হয়ে ওঠে প্রকৃতিও, তাদের  কলতান, ডুব-সাঁতার, গুঞ্জনে- কুহনে-কুজনে  নির্জন প্রান্তর হয়ে রূপবতী লাস্যময়ী । আবার  শীতশেষে আমাদের এই বন্ধুরা  চলে যায় তাদের পুরোনো  ঠিকানায়। অনেকে আবার নতুন ভাবে ভালোবেসে  এখানেই ঘর বাঁধে। 

পরিযায়ী যে পাখিদের ক্ষেত্রেই হয় তা কিন্তু নয়। পরিযায়ী মানুষও ঘুরে চলে নিজেদের ইচ্ছেতে অনিচ্ছেতে। জীবন এতো বড় এক সংগ্রাম,সেই সংগ্রামে কেউ হারে,কেউ জেতে। তবুও মানুষ আশায় বুক বেঁধে জীবন শুরু করে দেয়। প্রধানত চারটি কারণে মানুষ দেশ ফেলে আরেক দেশে যেতে চায়।১/ ইকোনমিক মাইগ্রেশন, ২/সোশ্যাল মাইগ্রেশন, ৩/পলিটিক্যাল মাইগ্রেশন, ৪/এনভায়রনমেন্টাল কারন।  অর্থাৎ যদি কোনো দেশে কোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয় তাহলে অন্য কোথাও যাওয়ার চেষ্টা। প্রধান কারণ খাবার, বাসস্থান ও মানুষের মতো বাঁচবার স্বপ্ন। যেখানে কাজ পাওয়া যায়, যেখানে কোনো রাজনীতির থাবা কাউকে শেষ করে না দেয়, যেখানে প্রকৃতিতে খরা, প্লাবন, সুনামি, সাইক্লোন  এসব নেই। 

তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের এ পরিযায়ীর  শুরুটা কোথায়?

ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের দিক থেকে বিচার করলে এ পরিব্রজনের  শুরু হয়েছিল খ্রিস্টের জন্মেরও হাজার হাজার বছর আগে। হলোসিন যুগের দ্রুত প্রাকৃতিক রদবদল মানুষের জীবন কঠিন করে দেয় বলে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকদের ধারণা। হঠাৎ করে সংঘটিত প্রাকৃতিক বিপর্যয় আর আহার সংকট মানুষকে বাধ্য করে অভিবাসনে। ধীরে ধীরে মানুষের সংস্কৃতিগত পরিবর্তন দেখা দেয়। এ সময়ে সংগ্রাহক জীবন থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে মানুষ অভ্যস্ত হয় শিকারি জীবনে। খনিজ ও শিলাখণ্ডের তৈরি হালকা ও নিক্ষেপযোগ্য বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করে মানুষ তখন জীবনধারণের প্রয়োজনে শিকার করত। এ সময়ই বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন ঘটেছিল বলে প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা।আবার অন্য ভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষক থেকে শুরু করে নৃবিজ্ঞানী কিংবা ইতিহাসবিদ প্রত্যেকেই মানেন যে, একটি স্থানে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন, সাংস্কৃতিক রূপান্তর কিংবা জীবনযাত্রার ধরনে আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এর  ভূমিকা রয়েছে। প্রখ্যাত তাত্ত্বিক এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাইদ ‘রিফ্লেকশন অব এক্সাইল’ শীর্ষক দীর্ঘ নিবন্ধে দেখিয়েছেন, বিশ্ব সভ্যতার জন্য পরিযায়ী কতোটা গুরুত্বপুর্ণ। 

পাখি তুই কি জানিস  কঠিন যে এই এডাপটেশন প্রক্রিয়া?

আবার যদি তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখি তাহলে ১/ ইমিগ্রেশন, ২/মাইগ্রেশন কিংবা ৩/এনফোর্সড মাইগ্রেশন অর্থাৎ এই  তিনটি ভিন্ন বিষয়ও মানুষ অনেক ক্ষেত্রে নিজ থেকে বাইরের দেশে যায়, সোজাসাপটা কথায় কেউ যায় নিজের দেশে পড়াশুনো শেষ করে অন্য দেশে আরও ডিগ্রী নেবার জন্য। আবার কেউ যায় অন্য  দেশের আমন্ত্রণে কিংবা কাজের সন্ধানে। সেখানে গিয়ে নতুন করে বসতি স্থাপন করে। এক্ষেত্রে নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে মানুষকে পোহাতে হয় নানা ঝক্কি-ঝামেলা। কিন্তু যদি কায়কে  জোর করে কোনো স্থানে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটা হয় আরও ভয়াবহ। সম্প্রতি সমীক্ষায় দেখা গেছে বেশকিছু মানুষকে চাকরি দেবার নাম কিরে ধরে নিয়ে গিয়ে এ ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে কোনো কোনো অসাধু চক্র। শেষ পর্যন্ত কিছুই না মেলায় কারো কারো ঠাঁই মিলেছে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে সেই গণকবরে। আর কেউ কেউ অসহায়  অবস্থায় প্রহর গুনছে মৃত্যুর।

নিওক্লাসিক্যাল কিংবা ডুয়েল লেবার ইকোনমিক থিওরির কথাও বলা যেতে পারে, যা এই সম্পর্কিত ধারণাগুলোকে বদলে দিতে সহায়তা করেছে। তাই পরিযায়ী নতুন কোনো ধারণা নয়, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই হয়ে আসছে। যেমন  জোরপূর্বক মানুষ ধরে এনে দাস বানানো হতো। তবে এই  ঘটনাও নতুন নয়, ঔপনিবেশিক যুগে যে ক্রীতদাস ব্যবসার প্রচলন হয়েছিল, সেটাও ছিলো পরিব্রাজন।  ঔপনিবেশিক যুগে শিল্প-কারখানার শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন দেশের মানুষকে ধরে আনা হতো। এক্ষেত্রে কাজের লোভ দেখিয়ে অনেককে করা হয়েছে অপহরণ। শুরু হতো তাদের যন্ত্রনাময় জীবন। 

ও পাখি তোর যন্ত্রণা কে বুঝেছে কোথায় কবে ...

এই পরিযায়ীদের সম্পর্কে বলা অসুম্পুর্ণ থেকেই যাবে যদি নারীদের কথা না বলি। হ্যাঁ এই পাখিদের যন্ত্রনা কেউ বোঝেনি কোনোদিন। ঠিক যেভাবে মাইগ্রেশন এ লিড রোল প্লে করে বড়রা, মানে প্রভাবশালী দেশগুলো অনুন্নত দেশগুলোকে কন্ট্রোল করে থাকে। বড় দেশ ছোট দেশকে যেমন করে তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয় তেমনি এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজও  শুধু নারীকেই পরিযায়ী করতে চেয়েছ যুগ যুগ ধরে। একজন মেয়ে ছোটো থেকে তার ভালোলাগা, ভালোবাসা, ইচ্ছে, স্বপ্ন নিয়ে একটু একটু করে যখন বড় হয়ে ওঠে, একটা বয়সের পরে সে জানতে পারে যে ঘরে সে বড় হয়েছে সেটা তার ঘর নয়। সেটা বাবার ঘর।তারপর তাকে নিজের চেনা ঘরকে ছেড়ে দিতে, পাড়ি দিতে  সম্পূর্ণ অচেনা এক পরিবারে বিয়ে নামক একটা পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে। চলে যেতে হয়  একদল মানুষের মাঝে যাদের চেনে  না,জানেনা , আগে কখনো দেখেনি  বা যাদের চিন্তা ও শিক্ষার  সাথে হয়তো কোন মিলও নেই তারপরেও সেই ঘরে থাকতে হয় একজন মেয়েকে।যখন সে একটু একটু করে তাদের মতো করে নিজেকে গড়ে নিচ্ছে তখন সে জানতে পারে এটাও তার ঘর নয়। স্বামীর ঘর, আরও একটু বয়স হলে সন্তানের ঘর বৃদ্ধ বয়সে বৃদ্ধাশ্রম। এইভাবে ঘুরে যেতে হয় একজন মেয়েকে। 
একজন পূর্ণ বা প্রাপ্ত বয়সের মানুষকে যদি ভাঙ্গতে হয় বা অনেক বেশী অমিলের সাথে মিলতে হয় তার মত কঠিন যে আর কিছু নেই তা একমাত্র মেয়ে মেয়ে নামক পরিযায়ী পাখিরাই জানে। একেবারেই নতুন করে জন্মাতে হয় সেই বিয়ে করা মেয়েটিকে। স্বামীর  মা-বাবাকে মা-বাবা ভাবা, তার  ভাই-বোনকে ভাই-বোন করে নেওয়া?  ওই অচেনা ঘরের গন্ধটিকে নিজের ঘরের মত করে করে ফেলা, ওদের রুচি আর কথার মত করে বলতে  ও চলতে  শেখা। এমনকি খাবার-দাবারের ধরনও হয়ে থাকে তাদের মতো। নিজের প্রিয় গান, প্রিয় বই,  প্রিয় স্বপ্ন, নপুরের মতো ঝঙ্কার তুলে হাসির ঝিলিক সব,সব কিছুই পাল্টে নিতে হয় নতুন পরিবেশে। নিজস্বতাকে ভুলে ওই জায়গার মতো করে ওদের মতো করে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়তে যেতে গিয়ে  প্রতিনিয়ত চলে কম্প্রোমাইজের যুদ্ধ। এমনকি, নিজের রক্ত, মাংস, মজ্জা, স্নেহ, ভালোবাসা, ভালোলাগা দিয়ে তিলতিল করে নিজের মধ্যে গড়ে তোলা সন্তানকে যখন শত অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে জন্ম দেয় আর জন্ম দেবার পরে  যেই সন্তানটিকে তাদের মত নিয়মে  আর শিক্ষায় বড় করার প্রচেষ্টায় নিজেকে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে সব হারিয়ে সেই মেয়েটি  হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ আরেক মানুষ।

 পরিযায়ীর  প্রকৃষ্ট উদাহরণ এর চেয়ে আর কি কিছু আছে?এর চেয়ে পরিব্রাজনের বড় অভিজ্ঞতা কি আর কোনো পাখির আছে?


মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

রিয়া চক্রবর্তী


কথা রাখার কথা ছিলো


কথা ছিলো ঝরে পড়া পাতাদের জড়ো করার
মতোই, ইচ্ছেদের  সাথে নিয়ে অসহ্য জীবন ঠেলে
উঠে দাঁড়াবো আরেকবার।
ভালোবাসার বন্ধ্যা জমিতে
দুজনে মিলে ফুল ফোটাবো।

কথা ছিলো দীর্ঘ শীতের রাত পার করে, 
আবার বসন্ত হেসে উঠবে,
আমাদের দুজনের ঠোঁটের ছোঁয়ায়।
চাঁদও হিংসে করবে আমাদের ভালোবাসা দেখে।

কথা ছিলো দূরে বহুদূরে, 
তারাদের সাথে নিয়ে, 
ইচ্ছে নদী দুকুল ছাপিয়ে বইবে।
 স্বপ্নেরা বেরিয়ে আসবে মৃত্যু উপত্যকা ছেড়ে। 
বিশ্বাসের পানসি বেয়ে তুমি আমি,
সীমাহীন  ভেসে বেড়াবো।

কথা ছিলো, কথা থাকে,
মানুষ বদলে যায়, মুখোশ পাল্টায়।
তারারাও থাকে, চাঁদও থাকে, নদীও থাকে,
থাকেনা শুধু বিশ্বাস ভালোবাসায়।
প্রেমের খেলায় স্বপ্নের পানসি 
ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়।
শীত ঘুম শেষ করে 
বসন্ত জেগে ওঠে না।।



শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০১৭

রিয়া চক্রবর্তী


বর্ষা বিলাস
রাতের হাজার তারাদের বুকে লুকিয়ে সারারাত বৃষ্টি রিমঝিম। খুব ভোরে ঘুম ভেঙে শুনি তখনও বৃষ্টির টুপটাপ।বিছানায় শুয়েই তাকিয়ে আছি জানলার বাইরে। ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজতে চাইছি তোর সাথে। কাপাসিয়া মেঘের চোখে কাজলের ঘনঘটা। ঠিক তক্ষুনি শহরে দক্ষিনের হাওয়ায় গেয়ে উঠলো মন "আষাঢ় কোথা থেকে পেলি আজ ছাড়া। " আর ঠিক তক্ষুনি বেয়াক্কেলের মতো বেজে উঠলো এলার্ম। আর আমি সব ভুলে বন্ধ করে দিলাম ঘড়ির ঘন্টা
এমন বৃষ্টি স্নাত স্নিগ্ধ সকালেও অস্থির লাগে কারো?উঠে পরলাম চটপট।  মনে হয় যেন কতকিছু করার ছিলো, করা হয়নি কখনো, অনেক স্বপ্ন ছিলো যা অধরাই রয়ে গেছে, অনেক চাওয়া ছিলো যেগুলো অর্জনের জন্য প্রচেষ্টাও করতে পারা যায়নি! আয়নায় তাকিয়ে সদ্য ঘুম থেকে ওঠা মুখ দেখে আবিষ্কার করলাম গালে দুটো ব্রণ জ্বলজ্বল করছে।তথচ কোন ক্রীম বা মেক আপ তো ব্যবহার করিনা, তাহলে? ভোরের আলো সুন্দর, যেমনই তাতে আছে নতুন করে আশায় বুক বাঁধার স্বস্তি, তেমনি আছে অস্থির এক ভালোলাগা। পৃথিবীর এমন ভোরগুলো ভীষণ সুন্দর।  এক অদ্ভুত সুন্দর, স্নিগ্ধ
দুপুর নেমে আসে পাহাড়ে ঘোরানো পাকদন্ডি বেয়ে বেয়ে। আমের-আচার,ডালের বড়ি, আলু পোস্ত, আর মাছের ঝোলে।পোস্ত আমার চিরকালের পছন্দের জিনিস। তারপর! তারপর কল্পনায় মাটি লেপা দাওয়া থেকে শাপলা পানা হাত। আর ঠিক তখনই তুই এক ঝলকে তুলে নিবি চোখ ভর্তি রোদ।অগোছালো কপালে   সমুদ্র পরিয়ে দেবে চিকচিকে টিপ।সন্ধ্যের শুকতারা থেকে ঝিনুকের কোলে ঝরে পড়বে এক ফোঁটা মুক্তো।  আর অনেক দূরের থেকে তুই তখন এক ঝটকায় ফিরিয়ে দিবি আমার উথাল পাথাল গান।আর ঠিক তখনই পাড়ের সাথে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে যেতে যেতে কান ফুসফুস খেলে নেবে নদী। তুলসিতলায় জ্বলে উঠবে সাঁঝের প্রদীপ। হাওয়ায় হাওয়ায় জোনাকিরা সাজাবে আলপথ।বৃষ্টির ঝিম ধরা আলো ঘিরে নেবে উড়ে উড়ে ঘুরতে থাকা বাদল পোকারা। আর আমি তখন চুপচাপ বাতাস থেকে উপচে নেবো তোর মেহেক।
মাঠে  আনাচে কানাচে ঘাসেরা সব বিছিয়ে নেবে বৃষ্টি ধোয়া সবুজ চাদর। আমি তখন রাত ঘুমে
পরেরদিন আবার ভোরে জেগে ওঠা। পাখিরা ডানায় বয়ে আনবে এক পশমিনা সকাল।সূর্য্যের অফুরান আলো নিয়ে নিঃশ্বাসে, ঝরে পড়বে একটা একটা পাতা।ধিরে ধিরে সিঁড়ি বেয়ে গঙ্গা নাইতে যাবেন ঈশ্বরী। ওঁ জবাকুসুম শঙ্কাশং। আর আমি তখন ভোরের স্বপ্নে সত্যি করব তোকে।আর তুই তখন এক এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিবি ইচ্ছে-বেলুন।কুয়াশারা হাত ধরাধরি করে মুছে দেবে পাহাড়ি নদীর উপরের সাঁকো। মোতির দানার মতো টিপটিপ করে পাতায় পাতায় ঝরে পড়বে বারিষ। জানলা খুলে দেব আমি। বুকে ভরে নেবো ভিজে মাটির আতর।ঠিক তক্ষুনি, খিলখিলে হাসির মেয়েটাকে দেখে নিষ্পাপ মনে ভালোবেসে ফেলবে কেউ।ঠিক তক্ষুনি, দস্যি অথচ শান্ত মেয়েটাকে হেসে ফেলবে কেউ। একা একা কতকি যে ভাবি! এমন অনেক অর্থহীন লেখা, দিনলিপি, রোজনামচা, বিচ্ছিন্ন আবেগের টুকরো কথা, কত্তো কি। এইসব মিলেমিশে একটাই আরাধনা তৈরি করে হৃদয়ে। তোর বুকে মাথা রেখে বাঁচতে চায় মন