.

পৃষ্ঠাসমূহ

  • প্রথম পাতা
  • সৃজন যোগাযোগ
  • সৃজন কথা
  • সৃজন সম্মান ২০১৭
  • সূচিপত্র
অনুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

মানসী গাঙ্গুলি

নুড়িপাথরের ভাত

           মায়ের অনেক জ্বালা। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে কত কি-ই করতে হয় যা করার জন্য তিনি আদৌ প্রস্তুত নন। আদ্যন্ত সৎ হয়েও কখনও-বা করতে হয় মিথ্যাচার। এমনই এক মা হল এই নুপুর। পিঠোপিঠি তিন সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর কিছু বাড়তি রোজগারের আশায় গ্রাম ছেড়ে তপন পা রাখল শহরে,পরে সেখান থেকে বিদেশের মাটিতে। গ্রামে রইল তার যুবতী স্ত্রী ও তিনটি শিশুকন্যা। প্রতিমাসে তপনের পাঠানো টাকায় বেশ ভালই চলছিল নুপুরের,পোশাকে-আশাকে চেহারায় চাকচিক্য দেখলেই তা বোঝা যেত। বড়টাকে গ্রামের স্কুলে দিয়েছে কেবল,বাকিদুটো তো নেহাতই শিশু। বাচ্চারা বাবার কথা জানতে চায়,বায়না করে বাবার জন্য। তাদের শান্ত করা দায় হয়ে দাঁড়ায় নুপুরের। তবু চলছিল ভালই খেয়েপরে। এমন সময় বিদেশে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে হাজারে-হাজারে মানুষ মারা যেতে লাগল। একদিন জানা গেল তপনও করোনার বলি হয়েছে। 
         গ্রামের লোক শুনল নুপুরের বুকফাটা আর্তনাদ। সান্ত্বনা দিতে এল তারা। কিন্তু শুকনো কথায় তো চিঁড়ে ভেজে না,ক'দিন পরেই তপনের পাঠানো টাকা শেষ হয়ে গেল। কিছু টাকা জমিয়েছিল নুপুর অনেক আশা করে। আর কিছু জমাতে পারলেই একটা আলমারি কিনবে সে,তার পাল্লাজুড়ে লাগানো থাকবে একটা বড় আয়না,সেজেগুজে সেই আয়নায় নিজেকে দেখবে সে। এ তার অনেকদিনের স্বপ্ন। সে টাকাও শেষ। স্বপ্ন ভেঙ্গে পেটপুজো হয়ে গেছ। ক'দিন নিজে আধপেটা খেয়ে,না খেয়ে কোনোরকমে তিন শিশুকন্যার জন্য খাবার মজুত রাখছিল সে কিন্তু সে আর ক'দিন? নিজেরও যে দেহ চলে না,স্বামীর জন্য শোক করবে কি? সে তো দূর অস্ত। নেই কোনো সঞ্চয়। ভাবে বাচ্চাগুলোকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষ খেয়ে মরবে,কিন্তু বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ ভরে ওঠে জলে। পড়শীদের পরামর্শে লোকের বাড়ি কাজ নেয় সে যা স্বপ্নেও কখনও ভাবেনি। গ্রামেগঞ্জে অল্পশিক্ষিত মহিলা নুপুরের দ্বারা অন্য কোনো কাজও আর সম্ভব ছিল না। কাজের বাড়ি থেকে পাওয়া জলখাবারটুকু তিন সন্তানের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে নিজে জল খেয়ে থাকছিল। ফলে ক'দিন পর কাজ করতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে সে। তারা জিজ্ঞেস করলে সে কেঁদে ফেলে। দয়াপরবশ হয়ে তারা তাকে পেট ভরে খাওয়ায়,বাচ্চাদের জন্যও কিছু খাবার দিয়ে দেয় আর মাইনের টাকার কিছুটা আগাম দিয়ে দেয় যা দিয়ে সে কটা দিন অন্তত চালিয়ে নিতে পারে। এরপর আরো দুটো বাড়ি এক এক করে কাজ নিলে সে বাচ্চাদের দুটো খেতে দিয়ে নিজেও খেতে পায়। গ্রামেগঞ্জে কাজের মানুষকে সবাই দুটো খেতে দেয়,তাই তার একবেলা রান্না করলেও চলে যায়।
           ক্রমে করোনা থাবা বসালো এদেশেও। ঘোষিত হল লকডাউন। সব কাজের বাড়ি থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হল। জলখাবারটুকু বন্ধ হয়ে গেল। মাস গেল,দু'মাস গেল মাইনের টাকা পুরো পেলেও তাতে মাস চলে না। তিনমাস পার হলে কাজও গেল,কদ্দিন আর মানুষ বসিয়ে বসিয়ে পয়সা গুনবে?এদিকে বাচ্চারা খিদেয় কাঁদতে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবার নামগন্ধ নেই। পেট চলে কি করে? আগান বাগান ঘুরে শাকপাতা এনে সেদ্ধ করে খাওয়ায় তাদের। তাতে কি হয়? কি করে ভোলাবে বাচ্চাদের? মনে পড়ে ছোটবেলার কথা,মিছিমিছি রান্নাবাটি খেলার কথা। সবটাই তখন ছিল মিছিমিছি,খাওয়াটাও মিছিমিছি। এও কিছুটা সেইরকম,কিন্তু খাওয়াটা তো মিছিমিছি সম্ভব নয়! তবু সেই পথই অনুসরণ করে নুপুর। তবে কিছুটা ফারাক রয়েছে। এখানে খেলার আনন্দ নয়,বরং খিদেয় কাঁদতে থাকা সন্তানদের ভোলাতে মিছিমিছি রান্নাবান্নার আয়োজন মায়ের। উপকরণ বলতে নুড়িপাথর,সেগুলিই হাঁড়িতে চাপিয়ে চোখের জল সংবরণ করে ফোটাতে থাকে মা। উনুনে কাঠকুটো গুঁজে দেয়,সন্তানরা যেন ভাবে খাবার তৈরি হচ্ছে,মিলবে অল্পক্ষনেই। ভাবতে ভাবতে পেটে খিদে মনে আশা নিয়ে উনুন ঘিরে বসে থাকে তারা। মায়ের ভাঁওতাবাজি কাজ দেয় সাময়িকভাবে। মিছিমিছি রান্নায় পেট ভরে না,তবু ক্লান্ত অবসন্ন দেহে অনেক আশা বুকে নিয়ে অবশেষে ঘুমিয়ে পড়ে তারা উনুনের আশপাশে।
          এই ঘটনা প্রতিবেশীদের নজরে পড়লে কিছু সাহায্যের হাত এগিয়ে আসে। কথাটা ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য আসতে লাগল বিভিন্ন জায়গা থেকে। ঘোর কাটে না মায়ের। সরল মনে প্রশ্ন করে,"মানুষ এখনও এত ভালবাসতে পারে?"
 

প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৯:০০ AM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অনুগল্প, মানসী গাঙ্গুলী

মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

চুমকি ভট্টাচার্য

#কেক

তোজোর জন্মদিনে আজ সারা বাড়ি সেজে উঠেছে ফুল, রঙিন কাগজ আর বেলুন দিয়ে। সন্ধ্যেবেলা অতিথিরা এক এক করে আসতে শুরু করলেন। এত্ত বড় কেক কাটে তোজো।বন্ধুরা সেই কেক একটু খায়,আর বেশিরভাগটাই একে অপরের মুখে মাখিয়ে দেয়। খাবার ও কত রকমের- যার বেশিরভাগ ফেলা গেল। কমলামাসি সেইসব ফেলে  দেওয়া খাবার ইয়া বড় বিনব্যাগে পুড়ে ফেলে দিয়ে আসল রাস্তার ডাস্টবিনে।এখন অনেক রাত, তাও তোজো জেগে- জন্মদিনে পাওয়া উপহারগুলো একে একে দেখে সে। হঠাৎই কতগুলো কুকুরের ভয়ানক চিৎকার ও একটা আর্তনাদ শুনতে পেয়েই জানালার ধারে গিয়ে দেখে , নিচে রাস্তার ডাস্টবিনের পাশে তারই বয়সী একটা ছেলে কেকের টুকরো হাতে ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপছে। তাকে ঘিরে রয়েছে হিংস্র কুকুরের দল।এরইমধ্যে পাপা গিয়ে ছেলেটাকে উপরে আনেন।রোগা ছেলেটাকে দেখে তোজোর বড় মায়া হয়।তোজো মনেমনে ঠিক করে, এরপরের জন্মদিনে এই ছেলেটার মতই সব বাচ্চাদের নিমন্ত্রণ করবে শুধু।
প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৮:০০ PM 1 টি মন্তব্য:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অনুগল্প, চুমকি ভট্টাচার্য

সিলভিয়া ঘোষ


#অভিমান



অফিস থেকে ফিরেই মনামী পাঁচ বছরের ছেলের সারাদিনের দুষ্টুমি, বায়না,  অপকর্মের কথা বাবার মুখ থেকে শুনতে শুনতে অধৈর্য হয়ে  ছেলের স্কুল ব্যাগের থেকে ডায়েরিটা বের করেই মাথায় হাত দেয়। আগামী কালই  গার্ডিয়ান কল  হয়েছে। কিন্তু কাল যে  ইউনিয়ন মিটিং আছে  অফিসে।  না গেলে এবার চাপ হবে।  উমাপতি বাবু এবার সবাই কে বলে রেখেছেন মিটিং এ না এলে পরবর্তী কালে কোন রকম  সমস্যায় সাহায্য করবে না ইউনিয়ন।  এদিকে জরুরী  গার্ডিয়ান মিটিং কেন ডাকলো সে টেনশনে মনামী ছেলে কে ধরে বিভিন্ন রকম ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগায়,  প্রণবেশ ( মনামীর বাবা)  মেয়ে কে বারে বারে বোঝানোর চেষ্টা করেন ঐভাবে বকাবকি  করলে হবে না  বরং খেলার ছলে গল্পের ছলে ওর  কথাগুলো জানার চেষ্টা করতে হবে। মনামীর  কোন উপদেশই মাথায় কাজ করছেনা।  এটুকু ছেলে যে কতটা অবাধ্যতা করতে পারে  সেটা বাড়িতে দেখেই  সে বুঝেছে। সে রকমই নিশ্চয় স্কুলেও এমনটাই করে... 
    তিতান  বাড়িতে  এটা তুলছে,  ওটা ভাঙছে, জল ঘাটছে , দাদুর সাথে কুস্তি করে দিন কাটাতেই ভালোবাসে।  একটা জিনিস  লক্ষ্য  করেছে  মনামী, তিতান যেন তাকে সহ্য করতে পারছেই না। সারারাত আজেবাজে স্বপ্ন আসে  ঘুমের মধ্যে মনামীর। সকাল হতে না হতেই ফোন করে তিতানের ক্লাস টিচার কে,  জানতে চায় কতটা দরকার আজকের মিটিং টার। ক্লাস টিচার  সুদেষ্ণা রায় একটু যেন অসুন্তুষ্ট হয়েই বলেন "না এলে জানবেন কি করে ছেলে কি করছে না করছে? শুধু মাসে মাসে টাকা ফেলে দিলেই তো আর  বাচ্চা মানুষ হয় না! তাকে সময়ও দিতে হয়।" কথাটা শেষ হতে না হতেই  ফোনটা কেটে দিল মনামী। আজকাল এতটুকু জ্ঞান নিতে পারেনা সে।  অফিসে কানাঘুষো তাকে নিয়ে আলোচনা চলে সেটা অভিষেকই  প্রথম জানিয়েছিল।  মনামী জানে পরিবারের সবাই তার আড়ালে  তাকে নিয়েই ঠাট্টা তামাসা করে তবুও সব সহ্য করে সে একজনের মুখের দিকে চেয়ে।   সেই ছোট্ট তিতান কে মাথায় রেখেই আজকাল  সব কিছু মানিয়ে নিয়েছে  সে। তবুও... 
        
        স্কুলে যেতেই  হবে জেনে মনামী  তাড়াতাড়ি  ছেলের পুলকারেই চলে গেলো স্কুলে। ক্লাস টিচার বললেন একটু  ব্যক্তিগত কথা জানতে চাইছি আপনার কাছে, তার কারণ বাচ্চার উপর তার পরিবেশের প্রভাব পড়ে বেশী তাই।  তিতান  এমনিতে নরম্যাল কিডস তবুও ওর মধ্যে কিছু কিছু অ্যাবনর্মালিটি আছে। যেমন এক জায়গায় বসে না সে কখন,  অন্য বাচ্চাদের বাবাদের সাথে আসতে যেতে  দেখলেই ও তাদের সাথে মারামারি  করতে  উদ্যত হয়। এর কারণগুলো জানা দরকার। 
       ঘণ্টার  শব্দে  বাইরে বেরিয়ে আসে মনামী। মনে মনে ভাবে হায়রে জীবন!  যে বিশ্বাসঘাতক , লম্পট,  মাতালের  জন্যে  পালিয়ে এলাম   কলকাতার মায়াবী আলো ছেড়ে  এত দূরে ছেলে মানুষ করতে,  আজ সেই ছেলের  মনেই এতটা অভিমান জমা হয়ে আছে তার  মায়ের প্রতি,  না কি হারিয়ে যাওয়া বাবার প্রতি !  যাকে  মনামীও ভুলতে চায়  রোজ রাতে  বালিশের মধ্যে রাখা  শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ লাগানো   (নির্ঘুমভাবে আগলে রাখা)  একটা ছুরির বিনিময়ে... 


চিত্র সমরেন্দ্র মণ্ডল 
প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৮:০০ PM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অনুগল্প, সিলভিয়া ঘোষ

হিমাংশু চৌধুরী


শীতের সাতসতেরো 



হ্যাঁ, শীত আসছে। যদিও আজকের কোলকাতায় তিনি ক্ষণিকের অতিথি, যাকে বলে, ব্লিংক অ্যান্ড ইউ মিস, তাহলেও, একটা বেশ আনন্দ আনন্দ ভাব তো হবেই। বছরে ন'টা মাস দম চাপা ভ্যাপসা গুমোট গরম থেকে অন্তত তিনটে মাসের জন্য মুক্তি তো মিলবে।

ছোটবেলায় শীতকালের আগমনটা আরো আনন্দদায়ক ছিলো, কারণ, একে তো নভেম্বরের শেষের দিকে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হতো, তারপর শুধু খেলা আর খেলা। এই সময়ে শহরে আসতো সার্কাস আর কমলালেবু,  একসাথে। সার্কাস দেখার উত্তেজনায় আগে পরে মিলিয়ে দশদিন ঘুম হোতো না। গতবারে কি দেখেছিলাম, এবারে নতুন কি দেখবো, রাত্রে লেপের আড়ালে ঢুকে সেই আলোচনা চলতো, যতক্ষণ না মা পিঠে দু'চার ঘা দিচ্ছে। আর ভাই বোনরা মিলে কমলালেবু খাওয়ার প্রধান আকর্ষণ  ছিলো, কে কত তাড়াতাড়ি লেবু খেয়ে খোসাটা টিপে ঐ তৈলাক্ত রসটা কারো চোখে ঢুকিয়ে দিতে পারছে! বাবা মার কাছে কম বকা খেয়েছি এইজন্য! আর দুটোই যখন একইসাথে হতো, অর্থাৎ, রবিবার খাসির মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে বেরিয়ে সবাই মিলে ময়দানে বা সিঁথির মোড়ে গিয়ে কমলালেবু খেতে খেতে সার্কাস দেখা, তখন তো সোনায় সোহাগা।

আর কতগুলো জিনিষ খুব মনে পড়ে। আমার ঠোঁট প্রথমেই ফেটে চৌচির হয়ে যেত। বস্তুত, আমার ঠোঁট ফাটলেই লোকে বুঝতে পারতো, শীত চলে এলো। তারপরের চারমাস হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলতো আমার লিপস আর সুরভিত অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম এর। মোটামুটি বোরোলিন লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার সাইমন্ডসের মতো ঠোঁট করে আমায় রাখতে হতো সর্বদা। ওটাই আমার হলমার্ক ছিলো। বহুদিন অবধি এই অভ্যাসটা বজায় ছিলো।  আমার জীবনসঙ্গিনীকে বহুবার জিজ্ঞেস করেছি, আমার কোন ব্যাপারটা তুমি প্রথম লক্ষ্য করেছিলে? দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সব সময় একই উত্তর পেয়েছি- মুখ নয়, চোখ নয়, চুল নয় কেত নয়- বোরোলিন (তখন ক্লাস ইলেভেন)।

তখন বোধহয় শীত আরো এক দেড়মাস বেশি থাকতো। কালিপুজোর দিন যেহেতু একটু বেশি রাত অবধি বাইরে থাকার পারমিশন ছিলো, সেইদিন সোয়েটার মাফলার না পড়লে মা বাড়ি থেকে বেরতে দিতো না। দু'দিন পরে রাতভর জলসায় পাছে যাওয়ার অনুমতি না পাওয়া যায়, তাই মা'র কোন কথায় তখন না করা যেত না। আর ওদিকে ফেব্রুয়ারির শেষ, এমনকি মার্চেও গায়ে ঢাকার দরকার হতো।

আর ছিলো পঁচিশে ডিসেম্বরের পিকনিক। সেই কুয়াশামাখা ভোরে আমরা বেরিয়ে পড়তাম। সব সরঞ্জাম ভাগাভাগি করে বয়ে নিয়ে যেতাম খাল পেরিয়ে বালির চরে। তখন বুঝিনি, এখন জানি সেই জায়গাটা ছিলো বিধাননগরের শৈশবাবস্থা। বিশাল বিশাল মোটা পাইপ পেতেছিল জার্মান সংস্থা হিউম পাইপ অ্যান্ড কোম্পানি। বড় বড় পাম্প দিয়ে গঙ্গা থেকে বালি আর জল একসাথে মিশিয়ে এনে ফেলেছিল পূর্ব কলকাতার এই জলাভূমিতে। সেই জলাভূমি বুজিয়ে তৈরি হলো সল্ট লেক। আমরা অত শত জানতাম না। আমরা বলতাম, বালির চর। গোটা সল্ট লেকে তখন আবাসিকের সংখ্যা হাতে গোনা যাবে, উল্টাডাঙ্গার দিক থেকে ঢোকার রাস্তায় কিছু বাড়ি হয়েছে, বাকি বিস্তীর্ণ জায়গা ধূ ধূ করছে বালি আর বালি, মাঝে হোগলা আর গোলপাতার বন। সেক্টর টু আর থ্রি তে তখন হাতে গোনা দুয়েকটা বাড়ি।  যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়নি তখনো। বিস্তীর্ণ বালির চরের মাঝে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে দুটো বাড়ি। ওয়াটার হাউস (মনে হয় সলটলেকে জল সরবরাহের মেইন পাম্প ওখানে বসানো হয়েছিল), আর পাওয়ার হাউস (বিদ্যুৎ দপ্তরের বাড়ি)। কত যে শিয়াল পরিবার তাদের ছানাপোনা নিয়ে ওখানেই বাস করতো। রাত বাড়লেই প্রহরে প্রহরে তাদের সমবেত হুক্কাহুয়া ধ্বনিতে চারপাশ মুখর হয়ে যেত, তবে সেটা শীত গ্রীষ্ম বারোমাসই। পিকনিকে যাতায়াতের পথে দুখিয়ার ক্ষেত থেকে তাজা মটরশুঁটি দু'চারগাছা ছিঁড়ে নিয়ে চিবোতে চিবোতে যাত্রা। এখন যেখানে বাইপাস, ঠিক তার পূর্বদিকেই ছিলো একটা বেশ বড় খাল (আমরা ভাবতাম নদী, পরে জেনেছি, ওটা ছিলো, কেষ্টপুর খালের সাথে বিদ্যাধরী নদীর সংযোগকারী চ্যানেল)। রীতিমতো নৌকা চলতো সেখানে, জোয়ার ভাঁটা খেলতো। বাঁশের তৈরি নড়বড়ে সাঁকো পেরিয়ে ওপারে পৌঁছাতে হতো। ওপার থেকে আবার আধঘণ্টাটাক আল ধরে হেঁটে পিকনিকের জায়গায় পৌঁছানো।সেখানে পৌঁছানোর পরে একটা জায়গা সুবিধে মতো পছন্দ করে নিয়ে বসে পড়া। হোগলাবন আর গোলপাতার জঙ্গল থেকে গোলপাতা ছিঁড়ে নিয়ে বালির উপর পেতে দেওয়া। তার উপরে ভাড়া করা জাম্বো সাইজের শতরঞ্চি পেতে বসার ব্যবস্থা। বড়রা রান্নাবান্না, আর আমরা খুচরোরা ব্যাডমিন্টন বা ক্যাম্বিস বলে ক্রিকেট খেলায় ভা সিম্পলি দৌড়াদৌড়ি করায় মত্ত হয়ে যেতাম। মাঝে মাঝে হাওয়া উঠলে সব বালি বালি হয়ে যেত, কিন্তু তাও খেতে কারোর কোনদিন অসুবিধে হয়নি। শরের জঙ্গল থেকে আসন্ন সরস্বতীপূজার জন্য ভালো দেখে খাগের কলম জোগাড় করাও এই বাৎসরিক পিকনিকের অবশ্য কর্তব্য ছিলো। আর বেশি অ্যাডভেঞ্চারাস কয়েকজন জলা জায়গায় নেমে বেলে মাছ ধরতো, আর শোলাগাছ তুলে নিয়ে আসতো। এখনকার টোপোগ্রাফি অনুযায়ী জায়গাটা করুণাময়ীর আশেপাশেই হবে। এখনকার সল্টলেকের বাসিন্দারা কল্পনাও করতে পারবেন না, উনিশশো সাতাত্তর সাল অবধিও চিত্রটা এরকমই ছিলো।

আর ছিলো ক্রিকেট খেলা। বন্ধুরা মিলে পিচ তৈরি করে রীতিমতো ডিউস বা কর্কড বলে (আমরা বলতাম, কর্কেট) খেলা। আগামী দু'মাস সকালে ক্রিকেট, দুপুরে ক্রিকেট, বিকেলে ভলিবল। ও ক'দিন ফুটবল তোলা থাকতো। তিনি আবার বেরোবেন কোয়াটার্লি পরীক্ষার পরে। খেলাধূলা সবই হতো অধুনা চকচকে হয়ে বন্দী হয়ে যাওয়া সুভাষ সরোবরে। বিশাল লেক, তার পাশে গোটা পাঁচেক আলাদা আলাদা মাঠ। এক একটি এক এক রকম খেলার জন্য নির্দিষ্ট।  কোথাও ভলিবল কোর্ট কাটা হয়েছে,  কোথাও বারপোস্ট লাগিয়ে ফুটবল হয়। মাঠগুলো বড় বড় ক্লাবের দখলে। এবারে আমরা যখন টিফিনের পয়সা জমিয়ে ডিউস বলে ক্রিকেট খেলা শুরু করবো ভাবছি, তখন, প্রধান সমস্যা দাঁড়ালো মাঠ আর পিচ। প্রতিষ্ঠিত মাঠগুলো বড়দের দখলে। কুছ পরোয়া নেহি- অ্যানুয়াল পরীক্ষার পরের দিনই হই হই করে আমরা নেমে পড়লাম মাঠ হাসিলের কাজে। জঙ্গল পরিষ্কার করে মাঠ, কোদাল দিয়ে মাটি কেটে দুরমুশ করে রীতিমতো ফিতে দিয়ে মেপে পিচ তৈরি করা হলো। তারপরে সুভাষ সরোবর থেকে বালতি বালতি জল এনে দুরমুশ করা হলো। তাও যখন মনোমত হচ্ছেনা, তখন পাশের ফার্স্ট ডিভিশন মাঠ থেকে (সেই সময়, ১৯৮৪-৮৫ সালে, সুভাষ সরোবরে সিএবি ক্রিকেট লীগের কিছু খেলা পড়তো) মালীকে কিছু ঘুষ দিয়ে রোলার টেনে এনে রোল করে পিচ তৈরি করা হলো।  তারপরে আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত ডিউস বা 'কর্কেট' বলে ক্রিকেট খেলা শুরু হলো। পয়সা কম ছিল,  তাই একজোড়া প্যাড কিনে দুই ব্যাটসম্যান শুধু ফ্রন্টফুটে একটা করে প্যাড বেঁধে খেলতো। ব্যাট করার সময় পাশের রাস্তা দিয়ে যদি কোন ঝিঙ্কু মামণি যেত, তবে বলটা চার ছক্কা মেরে ওদিকে পাঠিয়ে একটা এক্সট্রা স্যোয়াগ নেওয়ার  ব্যাপার ব্যাটসম্যানের,  আর বল মিস করলে বা প্যাডে লাগলে, বা বরাতজোরে কেউ যদি সত্যিই আউট হয়ে যায়, তাহলে বোলারের হাউজ্জ্যাট ধ্বনিতে কাককোকিল উড়ে যেত গাছ থেকে। সকালের খেলা শেষে লাঞ্চ ব্রেক, তারপরে আবার দুপুর থেকে বিকেল অবধি। ঠিক চারটের সময় ভলিবল মাঠে। সাড়ে পাঁচটা অবধি ভলিবল। তারপরে পাড়ায় ফিরে কাইট জ্বালিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা। তখনকার কাঠের ফ্রেমের র‍্যাকেটগুলো একিটা ত্রিকোনাকৃতির ফ্রেমের মধ্যে বেঁধে রাখতে হতো সারা বছর, না হলে বেঁকে যেত। বহু বছর পরে সেদিন আমাদের পুরনো বাড়িটা ভেঙে নতুন করার সময়ে সেই র‍্যাকেট আর ফ্রেম বেরলো লফট থেকে, তারগুলো ছিঁড়ে গেছে, যেমন কেটে গেছে আমাদের জীবনের অনেকগুলো তার।

আর মনে পড়ে ইফতিকার চাচা'র কথা। বহুদিন ভেবেছি তাঁর কথা লিখে যাবো কোথাও না কোথাও। ইফতিকার চাচা ছিল সদাহাস্যময় ফিল্মি হিরোর মতো দেখতে কাশ্মিরী শালওয়ালা।  সেই সময় শীত পড়তে না পড়তেই একঝাঁক পরিযায়ী পাখিদের মতো কলকাতায় নেমে আসতো দেবদূতের মতো দেখতে একদল কাশ্মিরী যুবক। কাঁধে তাদের গাঁঠরি,  তার ভিতরে হরেক রকম পশরা। শাল সোয়েটার পঞ্চো মাফলার জ্যাকেট মায় উলেন মোজা দস্তানাও। মাইজী, শাল লিবেন বলে একমুখ হেসে ইফতিকার ঢুকতো আমাদের বাড়িতে, তারপরে গাঁঠরি খুলে বসতো।  ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতো রংবেরঙের শীতের পোষাক। আর আমরা কচিকাঁচাদের জন্য বেরতো আখরোট আর খোবানি। এরপরের চার পাঁচ মাস তার আনাগোনা লেগেই থাকতো। নিম্নবিত্ত পরিবারে এইসব সওদা বিক্রি করে মাসিক ইনস্টলমেন্টে সেই টাকা আদায় করাই ছিল তাদের ব্যবসার ইউএসপি। 

ধীরে ধীরে ইফতিকার চাচার আসা যাওয়াটা একদম স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেল। ওর বিবি, বাচ্চাদের নাম সব আমার মুখস্থ হয়ে গেল। সময় কেটে গেল। যাবার সময় প্রতিবার আমাদের কাশ্মীরে আমন্ত্রণ করে যেত। আমার মা'কে বলতো, "ওখানে এসো দিদি, আমার বাড়িতে থেকে কাশ্মীর ঘুরবে।" সে আমন্ত্রনের আন্তরিকতা মন ছুঁয়ে যায়।

তারপরে সত্যিই একদিন কাশ্মীর ঘোরার প্রোগ্রাম হলো আমাদের। আমি সে'বছর মাধ্যমিক দিয়েছি। মাধ্যমিক পরীক্ষার পরেই যাওয়া হবে। আত্মীয় বন্ধু মিলিয়ে প্রায় পনেরো জনের দল। এত লোক নিয়ে  যাওয়া, আগে থেকেই হোটেল বুক করে রাখা হলো। যদিও ইফতিকার চাচা তার বাড়িতে উঠতে বলেছিল, কিন্তু সেটা প্রশ্নের বাইরে বলে, তাকে বলা হয়নি কিছুই। তবে ইফতিকার চাচা তার ঠিকানা দিয়ে গেছিল। তখন তো আর এরকম মোবাইল ফোনের সুবিধে ছিল না। যাবার পনেরো দিন আগে কী মনে করে বাবা একটা পোষ্টকার্ড ফেলে দিল ইফতিকারের ঠিকানায়। কবে যাচ্ছি, কী ট্রেনে যাচ্ছি, জম্মু কখন পৌঁছাব, শ্রীনগরই বা কখন ঢুকবো, কোন হোটেলে উঠবো, ইত্যাদি ইত্যাদি।

কাশ্মীর যাত্রার উত্তেজনায় আর ইফতিকার চাচার কথা মনে নেই। শুধু অপেক্ষা, কখন পৌঁছাবো। তারপরে তো জম্মু পৌঁছে সেখান থেকে প্রায় বারো ঘন্টার মনোরম কিন্তু কষ্টকর বাসযাত্রা পেরিয়ে সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ হোটেলে উঠে সবে গরম জল দিয়ে হাত পা ধুয়ে বসেছি, বাইরে অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, ঠান্ডায় হাতপা কাঁপছে,  হঠাৎই শুনি আমার জামাইবাবুর নাম ধরে কে চিৎকার করছে, আর দরোজা ঠকঠক করছে। দরোজা খোলা হলো, দেখা গেল, ইফতিকার চাচা দাঁড়িয়ে আছে।

তারপরে তো তার চেঁচামেচি শুরু হয়ে গেল, কেন আমরা তার বাড়িতে না উঠে হোটেলে এসে উঠেছি। আধা ঘন্টা ধরে মাথা চাপড়ে হা হুতাশ করলো, বকলো, তার পরে বলতে শুরু করলো, হোটেল ছোড় দো, হামারা ঘর চলো। একেবারে স্যুটকেস-টেস তুলে বাইরে নিয়ে যায় আর কী! অনেক বুঝিয়ে তাকে নিরস্ত  করা হলো, যে হোটেলে পেমেন্ট হয়ে গেছে, এখন কী আর ছেড়ে যাওয়া যায়! হোটেল তো আর টাকা ফেরত দেবে না! মুখে এই কথা বললেও, মনে মনে আমরা সবাই ভাবছিলাম,  গরীব মানুষ (গরীব বলেই তো শাল বিক্রি করতে যায়, নাকি?), তার বাড়িতে এতজন গিয়ে বিব্রত করার কোন মানেই হয়না। শেষ অবধি সে আগলে সানডে দুপুরে সবাইকে তার বাড়িতে দাওয়াত খেতেই হবে কথা নিয়ে বিদেয় হলো। এছাড়া কথা দিতে হলো পরদিন থেকে সে আমাদের ঘোরার ব্যবস্থা করে দেবে।

কথামতো সত্যিই সে কাজ কামাই করে পরেরদিন থেকে আমাদের শ্রীনগর ঘোরাতে শুরু করলো। বিভিন্ন গার্ডেন, ডাল লেকে শিকারা ভ্রমণ -সবই বাজার চলতির থেকে অনেক কম মূল্যে করিয়ে দিল। তখন কাশ্মীর সবে অশান্ত হতে শুরু করেছে। এদিকে সেদিকে ছুটকো ছাটকা গন্ডোগোলের খবর হচ্ছে মাঝে মাঝে।  তবে তখন কাশ্মীরের থেকেও ঢের বেশি অশান্ত ছিল খলিস্তানি আন্দোলন। আমরা যখন শ্রীনগরে ঘুরছি, সেদিন হঠাৎই শুনলাম শহরের উল্টোদিকে গাড়ি বিস্ফোরণ হয়েছে। ইফতিকার চাচা আর তার ভাই আমাদের সাথে ছিল, তারা অভয় দিল, তোমরা একদম চিন্তা করবেনা, তোমরা আমাদের মেহমান আছো।

রবিবারের দিন সক্কালবেলায় সে দুটো বড় গাড়ি নিয়ে হাজির, তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমাদের হোটেলটা ছিল ডাল লেকের  কাছে লালচকের উপরেই। সেখান থেকে গাড়িতে ইফতিকারের বাড়ি যেতে লাগলো খুব বেশি হলে কুড়ি-পঁচিশ মিনিট। আমরা মনে মনে প্রস্তুত হয়ে আছি, ভাবছি হয়তো কোন ছোটখাটো কাঁচা বাড়ির সামনে গাড়ি থামবে। যখন গাড়ি গিয়ে সত্যি সত্যি ইফতিকার চাচার বাড়ির সামনে থামলো, তখন যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিনা।

বড় রাস্তা থেকে একটা বাই রোড নেমেছে সবুজ মাঠের মধ্যে। চারিধারে অসংখ্য রঙবেরঙের ফুল ফুটে আছে, তার মাঝে সাদা ক্রিকেট ফেন্সের ভিতরে একতলা বিশাল বাড়ি, সামনে নিজস্ব লন, দরজা জানালা পুরো কাঁচের তৈরি, আর পুরোটাই শ্রীনগর শহরের মধ্যে। সাদা কাঠের ফেন্স, সবুজ দরজা জানালা আর রঙিন বাগান মিলিয়ে এক অদ্ভূত মায়াজাল সৃষ্টি করেছে।

আমরা এরকম বাড়ি দেখতে অভ্যস্ত নই। জানিনা, আলিপুরের দিকে এরকম থাকতেও পারে (তখনও সল্টলেক নির্মীয়মাণ),  কিন্তু আমরা থাকি বেলেঘাটার নিতান্ত নিম্নবিত্ত অঞ্চলে। সেখানে অধিকাংশই টালি বা খোলার চালের বাড়ি, দুচারটে পাকা বাড়ি। এরকম বাড়ি  ক্ষমতা থাকলেও  কেউ সেখানে করবেনা। দু'দিনে কাঁচ ভেঙে সব চুরি করে নিয়ে যাবে। এতই অবাস্তব লাগছে যে কে যেন জিজ্ঞেস করেই ফেললো, "চুরি হয়ে যায়না?" জবাবে সিনা টানটান করে চাচা বললো, "ইয়ে কাশ্মীর হ্যায়, ইঁহা চোরি নহি হোতা।"

আমরা গাড়ি থেকে নামতেই হইহই করে পুরো পরিবার নেমে এল আমাদের অভ্যর্থনা করতে। ইফতিকার চাচার বুড়ো বাবা মা, তিন ভাই, তাদের বিবিরা, ছেলে মেয়ে সবাই।  আমাদের হাত ধরে বসার ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো। মেঝেতে পুরু গালিচা পাতা, বসার সাথে সাথে চা আর স্ন্যাক্স এল। 

তখন, টেপ রেকর্ডারের যুগ। কলকাতার হিট ছবি তাপস দেবশ্রীর ভালোবাসা ভালোবাসা আর লাল গোলাপ। হঠাৎই শুনি টেপ রেকর্ডার চালানো হয়েছে, তাতে বাজছে বাংলা গান। ভালোবাসা ভালোবাসা ছবির। "খোঁপার ওই গোলাপ দিয়ে", "যত ভাবনা ছিল, যত স্বপ্ন ছিল"; তারপরেই বেজে উঠলো "এই ছন্দ, এ আনন্দ"... ইত্যাদি ইত্যাদি। মেহমান নওয়াজি করতে পেরে ওরাও খুব খুশি। আমাদের এই গান শোনাবে বলে অনেক কষ্ট করে ইফতিকার চাচা খোদ কাশ্মীরের বুকে বসে  বাংলা সিনেমার গানের ক্যাসেট জোগাড় করেছে! কী করে তা সম্ভব হলো কে জানে!

গল্পে গল্পে বেলা হলো। দাদিজী এসে জানালেন, খানা তৈয়ার হ্যায়, লাগা দুঁ? সবাই সম্মতি দিলে খানা লাগানোর ব্যবস্থা হলো।

খানা লাগানোর সিস্টেমও আলাদা রকম। প্রথমে বড় বড় ডেকচি করে খাবার এনে রাখা হলো মাঝখানে।  তারপরে চারিদিকে দস্তরখান পেতে আমরা বসলাম।সবাইকে ঝকঝকে বোন চায়নার প্লেট দেওয়া হলো। ভাত, রুটি, পরোটা, ডাল, সব্জি, পালং শাক দিয়ে বানানো মাটন কারি, চিকেন কারি, আর আলুবোখরার চাটনি- এই হলো মেনু। সেল্ফ সার্ভিং, যে যেটা এবং যতটা প্রয়োজন নিয়ে নাও। ওরা সবাই পাশে বসে আছে, দরকার মতো তরকারি বা মাটনের হাঁড়ি এধার থেকে ওধারে এগিয়ে দিচ্ছে। শেষ হয়ে গেলে আবার পালটে নতুন হাঁড়ি নিয়ে আসছে। গল্প করছে। আচ্ছাসে খাও, আম্মিনে খুদ বানায়া। 

গল্পে গল্পে জানা গেল, ইফতিকার চাচার বড় ভাই ওখানকার সেক্রেটারিয়েটে (যা এখানকার রাইটার্সের সমতুল) ক্লার্কের চাকরি করে। মেজ ভাই উকিল, ছোট ভাই সরকারি রোডস ডিপার্টমেন্টে চাকুরি করে, আর ইফতিকার নিজেও চাকরি করে। 
সবাই প্রতিষ্ঠিত,  তাহলে এত কষ্ট করে কলকাতা গিয়ে রাস্তায় ফেরি করার দরকার কী? উত্তরে জানা গেল, দাদা পরদাদার ব্যবসা, আচ্ছা চলতা ভী হ্যায়, বন্ধ করনেকা দিল নহি হ্যায়। উসসি লিয়ে সর্দিমে ছুট্টি লেকে সব কলকাতা চলা যাতা হ্যায়। বোঝ কান্ড! আমাদের এখানকার রাইটার্সের বড়বাবু, যতই লাভ হোক না কেন, ছুটি নিয়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে মাথায় পিঠে গাঁঠরি বেঁধে রাস্তায় ফিরি করতে পারবে?

ইফতিকার চাচার সাথে যোগাযোগ ছিল ২০০৫-০৬ অবধি। তারপরে চাচা আর নিয়মিত আসতোনা। মাঝেসাঝে একটা চিঠির আদান প্রদান। সেটাও কালের নিয়মে বন্ধ হয়ে গেছে। হয়তো চাচার ছোট  ছোট ছেলে ভাইপোরা, যাদের দেখে এসেছিলাম, বড় হয়ে এ ব্যবসায় আর নামতে চায়নি। মনে পড়লে দুঃখ হতো। কিন্তু, এ বছরেই দেখলাম কয়েকজন তরুণ কাশ্মিরী শালওয়ালা খোদ পশ্চিমবঙ্গের বুকে কাশ্মিরী হওয়ার অপরাধে মার খেয়েছে। তখন মনে হলো, ঠিকই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওরা। এই ঘৃণার বেসাতি করা ভূমি আমার দেশ না। এ'দেশে ওদের আসার দরকার নেই। 

তবুও শীতকাল এলে আমার ইফতিকার চাচার কথা মনে পড়বেই।

শীতকালের স্মৃতিচারণ করতে বসে বইমেলার কথা না বললে পাপ হবে। কিন্তু লেখাটা বড় হয়ে যাচ্ছে, তাই সংক্ষেপে সারবো। প্রতি বছর বইমেলা আসার আগে থেকেই পরিকল্পনা।  কবে যাবো, কী বই কিনবো। ছ'মাস আগে থেকে হাতখরচ বা টিফিন খরচ বাঁচিয়ে রাখা, আর বইমেলার আগে মা'র কাছ থেকে বায়না করে আর এদিক ওদিক থেকে চেয়ে চিন্তে ফান্ড অ্যারেঞ্জমেন্ট করা। কোন একটা রবিবার দিদিদের সাথে যাওয়া, সারাদিন বইয়ের সঙ্গে কাটিয়ে সামান্য পুঁজি দিয়ে যা কেনা যায়, সেইসব বই কিনে ধুলোপায়ে অদ্ভূত একটা আনন্দ নিয়ে ঘরে ফেরা। তখন ভাবতাম,  কোনদিন যদি এত টাকা থাকে যে এক ঘর ভর্তি বই কিনতে পারি, ত্যহলে কী মজাই না হয়! এখন যখন অনেক বই কেনার ক্ষমতা হয়েছে, হয়তো বা কিনিও, চাইলেই অনলাইনে বই কেনা যায়, পিডিএফ ডাউনলোড করে পড়া যায়, কিন্তু সেই টিফিনের পয়সা জমিয়ে শরদিন্দু অমনিবাসের ছ'টা খণ্ড একসাথে কিনে গাদাগাদি ভিড় বাসে চেপেও সম্রাটের মতো বাড়ি ফেরার সেই আনন্দের কোন তুলনা আজও পাইনা। 

এখন যখন ফিরে তাকাই, মাঝে মাঝে অবাক হয়ে ভাবি, এত যে আনন্দ ছিলো ছোটবেলায়, তা কেন ছিলো? বোধ হয়, মনটাই তখন অন্যরকম ছিলো। তেঁতুলের বিচি দিয়ে জোড় বিজোড় খেলেও যা আনন্দ পেয়েছি, তা আমাদের ছেলেমেয়েরা ভাবতেও পারবে না। সামান্য সরঞ্জাম আর উপকরণ ছিলো খেলার। আমার ব্যক্তিগত মত, ভিসুয়াল মিডিয়ার আগ্রাসনের ফলে এখন বাচ্চাদের সেই সামান্য জিনিষে সন্তুষ্ট হবার পাট চুকে গিয়েছে। আর আমাদের খেলার জন্য অবারিত মাঠ ঘাট পুকুর ছিলো, হ্যাঁ, এই কোলকাতাতেও, কিন্তু, এখন বাচ্চাদের না আছে খেলার জায়গা, না আছে শৈশব। আমরা ব্যর্থ হয়েছি আমাদের বাচ্চাদের ঠিক সেই ছোটবেলাটা দিতে, যা আমরা নিজেরা পেয়েছিলাম।

এখনো প্রতীক্ষা করি শীতের। কারণগুলো হয়তো পালটে গেছে একটু। শীত আসলে একটু তরিতরকারি দাম কমবে,  নলেন গুড়ের সন্দেশ পাওয়া যাবে, রাত্রে অফিস থেকে বাড়ি ফিরে অতটা হাল খেটে আসা গরুর মতো মনে হবে না নিজেকে, ডেঙ্গির অযৌক্তিক চাপ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে (কর্মক্ষেত্রে)। আর, সর্বোপরি, গতানুগতিকতায় শীতল হয়ে যাওয়া বহুব্যবহৃত সম্পর্কগুলো হয়তো একই কম্বলের নীচে এসে একটু উষ্ণ হয়ে উঠবে। অন্ধকারগুলো মুছে গিয়ে শীতের রোদ্দুরে আলোকিত হয়ে উঠবে।

ব্যাস, আর কি চাই?

প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৮:০০ PM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অনুগল্প, হিমাংশু চৌধুরী

অর্পিতা বোস


শীতের  স্মৃতিচারণ
________________

  ___________


     এইযে পৌষের বাতাস ছুঁয়ে যাচ্ছে আর শরীরের কাঁপন জানান দিচ্ছে বয়স বাড়ছে। আমি শীতের নরম মিঠে ওমে সেঁকে নেওয়ার চেষ্টা করছি নিজেকে। সাথে সাথে ফিরে ফিরে যাই আমার ছোটবেলার  সেই পৌষ-মাঘের শীতের বেলায়। 
তখন শীতকাল মানেই হরেক মজা। ফাইনাল পরীক্ষা শেষের ছুটি। সকালে ঘুম ভেঙ্গে কথা বলার সময় মুখ থেকে ধোঁয়া বের হওয়া নিয়ে ভাইবোনদের মধ্যে খুব মজা হতো।আর শীতের ছুটি মানেই অনেক অনেক গল্পের বই নিয়ে ছাদে সারাবেলা। শুধু কি গল্পের বই! নাহ্- মা-ঠাকুরমারা ছাদে বড়ি,আচার আর আমলকির নাড়ু শুকোতে দিতেন। আমরা পাহারা দেওয়ার নামে আচার আর আমলকির নাড়ু খেয়ে ফেলতাম। ঠাকুরমা জেনেবুঝেও বলতেন, কে যে আচার আর আমলকির নাড়ু খায় বুঝে পাইনা। 
 কৎবেল মেখে শুকোতে দিলে এসে দেখতেন এক চতুর্থাংশ খাওয়া হয়ে গেছে। 
 আরও আছে শীতের ছাদের গল্প। আমার আর ভাইয়ের ছিল খুব ঠান্ডা লাগার ধাত।তাই ঠাকুরমা রসুন-সর্ষের তেল গরম করে মাখাতেন আমাদের। আর শীতের স্নান করে আবার ছাদে দৌঁড়োতাম। শীত কাটাতে আর আমার কোমর ছাপানো চুল শুকোতে। আর খাওয়া সেরে আবার ছাদে এমন নরম মিঠে রোদ মেখে ফেলুদা, শুকতারা, আনন্দমেলা, কাকাবাবু-সন্তু,পান্ডব গোয়েন্দা,অথবা letter from a father to his daughter, Malgudidays, Dairy of a Young Girl, Discovery of India, The  story of my experiment with the Truth এমন সব গল্প কাহিনীর মাঝে হারিয়ে যাওয়া কমলালেবুর রসের আস্বাদন নিতে নিতে। 
আর পড়ন্ত বিকেলের সূর্যের আলো বাবার তৈরি ছাদবাগানের গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা ফুলের ওপর রঙের খেলায় নামত। নারকেল পাতার ফাঁকে লুকোচুরি খেলার ছলে সূর্যাস্ত হতো। আমাদের তখন খেলা সেরে হাতমুখ ধুয়ে ঘরে গিয়ে টিফিন খাওয়ার সময়। ফাইনাল পরীক্ষা শেষ, তাই ছাদে আলো জ্বালিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা অথবা খুব ঠাণ্ডায় ঘরের ভেতর জমিয়ে লুডো-ক্যারামের সেই সন্ধ্যারা হারিয়ে গেছে আজ।
এছাড়া শীতকাল মানেই পিকনিক,সার্কাস, চিড়িয়াখানার মজা তো ছিলই। সবাই মিলে সার্কাসের জোকারের মজা বা বাঘ-সিংহের খেলা আর ট্রাপিজের খেলার সেই শিহরণ আজও ভোলা যায়না।  চিড়িয়াখানা যাওয়া হতো দলবেঁধে সকালে সকলে মিলে। ওখানেই সারাটাদিন খাওয়া দাওয়া,খেলা, পশুপাখিদের ছোলা খেতে দেওয়ার দেদার আনন্দ সেরে বাড়ি ফিরে ঠাকুরদার নির্দেশ ছিল- ইংরেজিতে কমকরে ২০ লাইন ও বাংলায় বড়ো রচনা লেখার জন্য সারাদিন চিড়িয়াখানার ও সার্কাস দেখার অভিজ্ঞতার। একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা হতো ভাইবোনদের মধ্যে কার লেখা ভালো হবে তা নিয়ে। এরপর আসতো রেজাল্ট আউটের বুকের দুরুদুরু ভয়ে স্কুল যাওয়া। যদিও রেজাল্ট ভব ভালো-মন্দের সমালোচনার পরে অবশ্যই শুনতাম- " আরও ভালো করতে হবে পরের বার। তুমি পারবে।" 
আর তারপর ঘোষণা হতো পিকনিকের ডেটের ।
যৌথ পরিবারের  রোজই  কুড়ি-বাইশজনের পাত-পেড়ে খাওয়ার জন্য রোজই পিকনিক ভাবা যায়। কিন্তু তবুও আমাদের পিকনিক শীতকালে হতই। নাহ্, খুব দূরে সবসময় যাওয়া হতো না পিকনিকের জন্য। বরং আমাদের বিরাট ছাদেই একদিন বিছানার চাদরের চাঁদোয়া টাঙিয়ে হতো পিকনিকের দেদার মজা। পিসি -পিসতুতো ভাইবোনেরা মিলে লোকসংখ্যা তখন পঞ্চাশ ছুঁয়েই যেত। বাবা-কাকাদের রান্নার গন্ধে চারদিক ম-ম করতো। এমন পিকনিক ছাড়াও যে আরেকটা জমজমাট মজা ছিল আমাদের পুরী ভ্রমণ । হ্যাঁ ,প্রায় প্রতি বছরই   ছাব্বিশে অথবা সাতাশ  ডিসেম্বর আমরা সপরিবারে জগন্নাথ এক্সপ্রেস করে পুরী যেতাম। ইউনিয়ন ব্যাংকের  হলিডে হোমে রুমগুলো  বরাবর এইসময় চিনিকাকুর নামে  বুক করা থাকতো। পুরীতে বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখে আবার ট্রেনে উঠতাম। আর নতুন বছরের সূর্যোদয় কলকাতায় দেখতাম।
 এভাবেই নতুন বছরের শুরু হতো। আর স্কুলে নতুন ক্লাস, নতুন বইয়ের গন্ধরা মিলে যেত জয়নগরের মোয়ার স্বাদে। হ্যাঁ, স্কুল ফাউন্ডেশন ডের জন্য প্রথম দিন আমাদের জয়নগরের  মোয়া দেওয়া হতো।
এরপর আসতো পৌষ-পার্বন। নলেনগুড়ের পায়েস, পুলিপিঠের  আনন্দ উৎসবও  শীতের মজার আরেক ছবি। সারাদিন ধরে পিঠে পায়েসের গন্ধে বাড়ি ম-ম করতো। তারপর হতো স্কুলের পাশের মাঠে বারোভুতের মেলার মজা। হাতভরে কাঁচের চুড়ি, পুতুলের বিয়েতে দেওয়ার জন্য খাট- আলমারি- আলনা-ড্রেসিং টেবিল, রান্না বাটি খেলার বাসনকোসন,এই সব কেনার মজা আজ হারিয়ে গেছে।
তারপর নতুন ক্লাসে পড়াশোনা শুরু কিন্তু অপেক্ষায় থাকতাম বীণাপাণির বন্দনার দিনের। আমার মতো ফাঁকিবাজ স্টুডেন্টদের উনিই ভরসা। শুধু কি পুজোই! নাহ্! আরও ছিল অনেক অনুভূতি। কাকিমা- মাসিদের শাড়ি আর ব্লাউজের সাথে সেজেগুজে স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো। যৌথ পরিবারের কড়া শাসন মুক্ত সেই সরস্বতী পুজোর সেই নস্টালজিক অনুভব কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। 
সরস্বতী পূজোর সাথে সাথে শীতের প্রভাব কমতে থাকতো। 
আর তখন মনে আর প্রকৃতিতে লাগতো বসন্তের নতুন ছোঁয়া। তবুও সেই শীতের স্মৃতির হাওয়া আজও ছুঁয়ে যায় আমায়। আমিও ফিরে ফিরে যাই আমার সেই শীতবেলার পথে...

চিত্র - সমরেন্দ্র মন্ডল 
প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৮:০০ PM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অনুগল্প, অর্পিতা বোস

চৈতালী ভৌমিক


লোভ

তিল তিল করে জমানো মোহর গুলো নিয়ে আজ হিসাবে বসেছে কিপটে চাঁদু পাল।একটা মোহর বিক্রি করে বাড়ি বানাবেন।একটা বিক্রি করে ঘোড়ার গাড়ি আর বাগান কিনবেন।একটা বিক্রি করে মেয়ের বিয়ে দেবেন - এমনি করে লিখে রাখছিলেন।কিন্তু সব কিছু ইচ্ছা মিটে যাওয়ার পরেও তার প্রায় কয়েক ঘড়া মোহর থেকে যাবে।কি করবে কিছুই আর মাথায় আসছে না। বউ আবদার করলো, কিছু মোহর দিয়ে তাকে এবং মেয়ের গহনা বানিয়ে দিতে।তাও না হয় হলো।কিন্তু তারপর!নবাবের সাথে পরামর্শ করে একটা কালী মন্দির ও প্রতিষ্ঠা করলেন।তাও সম্পদ কমলো না তেমন।
চাঁদু পালের একটিই মেয়ে।তার মোটে ইচ্ছা নেই মেয়ের বিয়ে দিয়ে ঘরজামাই পুষে সমস্ত সম্পত্তি পরের ছেলের হাতে তুলে দেওয়া।আর তিনি হচ্ছেন মুর্শিদাবাদ এর নবাবের খাস লোক।যতদিন থাকবেন, না জানি আরো কত মোহর পাবেন।ভাবতে ভাবতে তিনি ঠিক করলেন একটি বজরা কিনবেন।তাতে বউ কে নিয়ে মাঝেমাঝে ঘুরতে বেড়াবেন।ভাবনার সাথে সাথে, কিনেও ফেললেন একটি বজরা।প্রথম প্রথম বউ মেয়ে সাথে যেতো।কিন্তু গিন্নীর বাতের ব্যাথার জন্য সেইভাবে আর বেরোতে চান না সাথে।গঙ্গার বাতাসে ব্যাথা নাকি বাড়ে।
  একদিন বজরায় হাওয়া খেতে একলাই বেড়িয়ে পড়লেন।ভাসতে ভাসতে দেখা পেলেন এক জেলে মাঝিকে।তার সাথে  নানান গল্প করতে করতে চাঁদূর মনে এক ফন্দী আসলো।বাড়ি ফেরার পর থেকে সে কেমন যেনো পালটে যেতে লাগলো।একদম আলাদা একটা মানুষ।হাড়কিপটে মানুষটা বেশ দিল খোলা হয়ে যেতে লাগলো।পাড়া,প্রতিবেশী আত্মীয় পরিজনের বাচ্চাদের থেকে যিনি দূরে থাকতেন তিনি তাদের সাথে খেলা করতে,গল্প করতে শুরু করেছেন।সময় পেলেই ওদের সাথে হইচই।ওরাও চাঁদু দাদু বলতে অজ্ঞান।বাজারে গিয়ে প্রতিবেশী, দোকানীদের সাথে গল্প আড্ডা দিতে লাগলেন।
  একদিন দাদু ঠিক করলেন বাচ্চাদের বজরায় করে ঘুরতে নিয়ে যাবেন।সবাই খুব খুশী।মোট বারো টা বাচ্চা নিয়ে তিনি রওনা হলেন। তারমধ্যে একটি নিজের দাদার ছেলের নাতি।ছেলে টি দাদুর অন্ধ ভক্ত।বজরা করে ঘুরে ফিরে এলেন নিজেদের গ্রামেই।দুপুর বেলা ছেলেদের নিয়ে জংগলে চড়ুইভাতি করে, ছেলেদের বললেন " এখন বাড়ি না ফিরে চল একটু জংগলে লুকোচুরি খেলি।" বাচ্চারা খুব খুশী।রাতে সবাই বাড়ি ফিরে গেলো খুশী মনে। চাঁদু পালের দাদার নাতিকে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।চারিদিকে লোকজন ছড়িয়ে পড়লো।কিন্তু কোনো খোঁজই নেই।এদিকে আশেপাশের সকলে দেখেছে বারোটি বাচ্চাই বজরা থেকে নেমে এসেছে,চড়ুইভাতিতে লাইন দিয়ে খেতে বসেছে।তাহলে গেলো কোথায়!
     কয়েকদিন হল,চাঁদু পাল অসুস্থ।সকলে উপস্থিত।সবাই এটাই জানে নাতির হারিয়ে যাবার জন্য তিনি নিজেকে দোষী ঠাউরেছেন।তাই তিনি বিছানা নিয়েছেন।রাতে সকলে নিজ ঘরে চলে গেলে,হঠাৎ বুকের ব্যাথা অনুভুত হয়,চাঁদু পালের।গিন্নীকে ডেকে ঘড়ঘড় গলায় বললেন " জংগলের ভাঙা মন্দিরের পিছনেএএএ যকক..."
গিন্নীমা স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলেন রাত ভোর হয়ে গেলো।কাউকে ডাকলেন না, ছটফট করতে করতে শান্ত হয়ে গেলো চাঁদু পালের শরীর।সকালে কান্নায় ভেঙে পড়লো সারা বাড়ি।গিন্নীমা স্তব্ধ।

প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৮:০০ PM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অনুগল্প, চৈতালী ভৌমিক

বনবীথি পাত্র




#ওম
#

(1)

ক'দিন ধরেই শরীরটাতে তেমন জুত পাচ্ছে না আদুরী, বুঝতে পারছে রাতের দিকে রোজই গায়ের তাপ বেড়ে আগুনপারা হচ্ছে। শরীরের আর দোষ কী! আরাম-আয়েশ তো দূরের কথা, পেট ভরে খাবারটাও কি খেতে পেয়েছে রোজদিন! মা তো জম্ম দিয়েই খালাস, বাপটার তো সংসারে মতিগতি নেই কোনদিন। জীবনে যা পয়সা কামিয়েছে, চুল্লু খেয়ে তার থেকে উড়িয়েছে বেশি। ঐ বুড়ি দাদি না থাকলে কবেই বোধহয় মরে যেত আদুরী। মরে গেলেই বেশ হত। এই গরু-ভেড়ার মত বেঁচে থাকাটা আবার বাঁচা নাকি! এমন এক পোড়ারমুখো মিনসের সঙ্গে বিয়ে হল যে বছর না ঘুরতে পেটে একখান বাচ্চা ভরে দিয়ে ভেগে গেল নিজের আশনাইয়ের মানুষকে নিয়ে। তারপর থেকে তো জীবনে একটা দিনও বিশ্রাম নেই আদুরীর জীবনে। এই জীবনখানায় কে যে আবার সোহাগ করে "আদুরী" নামটা রেখেছিল কে জানে! মনে মনে সেই নামকরণদাতাকে গালাগালি দিতে দিতে পাশ ফিরে শোয় আদুরী। আজ আর বিছানা ছেড়ে উঠতেও ইচ্ছা করছে না। কয়েক মিনিট শুয়েই উঠে পড়ে আদুরী। সুরিয়া আর বাচ্চা তিনটের চিৎকারে কানে মনে হচ্ছে তালা লেগে যাবে। 

-আজ সবকটাকে এমন মার মারব, যে আর কোনদিন এই সাত-সকালে ব্যাঁ ব্যাঁ করে কানের মাথা খাবে না।

কোমরটা নিয়ে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারে না আজকাল। তাতেও কোনরকমে ঘরের কোণ থেকে কঞ্চিটা তুলে নিয়ে বাইরের ছোট কাঠের খুপরীর দরজাটা খুলে দেয় আদুরী। দরজাটা খুলতেই হুড়মুড় করে বেরিয়ে আসে সুরিয়া আর ওর তিন ছানা। সামনের উঠানে ছানাগুলো তিড়িংবিড়িং করে দুপাক খেয়েই সুরিয়ার কোল ঘেঁষে ওর ঘন পশমের মধ্যে মুখ গুঁজে দাঁড়ায়। যেন কিছুটা ওম শুঁষে নিচ্ছে মায়ের শরীর থেকে। মারবে বলে যে কঞ্চিটা এনেছিল, নিজের অজান্তেই যেন সুরিয়ার হাত থেকে খসে পড়ে সেটা। পুষ্পাও ঘুম থেকে উঠে ঠিক এইভাবেই লেপ্টে থাকতো আদুরীর শরীরের সঙ্গে। কতদিন বেটিটাকে চোখের দেখাও দেখেনি আদুরী। বুকের মধ্যেটা কেমন যেন হু-হু করে ওঠে ওর।

শরীর না চললেও ওদের নিয়ে ডিমার ধারে আসে আদুরী। বর্ষা পেরিয়ে এখন শরৎ এসেছে। নদীতে পাথর-বালি আর পায়ের চেটো ডোবা জল। নদীতে জল থাকে যখন চোখে চোখে রাখতে হয় ওদের একটু। এখন নিশ্চিন্তে ওদের ছেড়ে দিয়ে দূরে একটা গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে বসে আদুরী। সুরিয়া আর ওর বাচ্চাগুলো মনের সুখে কচি ঘাস খাচ্ছে। মাঝেমাঝে ওদের ওপর রেগে গেলেও ওদের ভালোবাসে আদুরী। ওরা ছাড়া আর কী আছে আদুরীর জীবনে! একটা কর্তব্য পালন করতে পারলেই এবার আদুরীর ছুটি।
সুরিয়ার বাচ্চাগুলোর গা জিভ দিয়ে চেটে পরিষ্কার করছে। বাচ্চাগুলোর শরীরেও লোম বের হতে শুরু করেছে। সেই জ্ঞান হয়ে থেকে ভেড়া পালছে আদুরী। ওর অভিজ্ঞ চোখ বুঝতে পারে সুরিয়ার বাচ্চাগুলোর লোমও ওদের মায়ের মতই হবে। ভাদ্দর-আশ্বিন-কাত্যিক তিনমাসে পুরো লোমে ঢেকে যাবে। মনে মনে হিসাব করে আদুরী। শীত তো পড়বে সেই অঘ্রাণ মাসে! অজানা খুশিতে চিকচিক করে ওঠে আদুরীর কোঠরগত চোখ দুটো।


(2)

অসময়ে ডিমা নদীতে হড়কা বানে তলিয়ে যাচ্ছিল দুটি মেষশাবক। নিজের জীবন বিপন্ন করে তাদের বাঁচাল এক বয়স্কা আদিবাসী রমণী।

খবরের কাগজের ভেতরের দিকের পাতার এককোণে ছোট্ট খবরটা অনেকেই পড়ল, অনেকের চোখ এড়িয়েও গেল।

একদল পশুপ্রেমী সাংবাদিক ছুটে গেল ডিমা নদীর তীরে রাভাদের সেই ছোট গ্রামে।

স্থানীয় কিছু মানুষ যদি না বাঁচাত, আদুরী কাল হয়তো সুরিয়ার ছানা দুটোর সঙ্গে ভেসেই যেত বানের জলে। ডিমা নদীর ধরণটাই এমনি। ভুটানে বৃষ্টি হলে হঠাৎ করেই বান এসে যায় এখানে। কালকেও এমনটাই হয়েছিল। আদুরীর হয়তো চোখ লেগে এসেছিল খেয়াল করেনি। হঠাৎ দেখে নদীতে বান আর সেখানে হাবুডুবু খাচ্ছে সুরিয়ার দুটো বাচ্চা। কিছু না ভেবেই জলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আদুরী।

আজ আদুরী অনেকটা সুস্থ। দাওয়াতে এসে বসেছে। সাংবাদিক-ক্যামেরা আর গাঁয়ের মানুষজন সবাই ভিড় করেছে ওর উঠোনে।

এক সাংবাদিক জানতে চান,

-আপনি নিজে বানের জলে ভেসে যেতে পারেন জেনেও ভেড়ার ছানা দুটোকে বাঁচাতে গেলেন কেন?

কী যে বলবে বুঝতে পারে না আদুরী। কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক ভ্যাবলার মত চেয়ে থেকে বলে,

-থোড়াসা ওমের জন্যি বাবু।

তার কথার অর্থ কেউই বুঝতে পারে না। আবার জানতে চায়,

-ওমের জন্য মানে কী?

-আমার একমাত্র বিটিয়া পুষ্পার শাদির সময় জামাইবাবাকে একটা আচ্চি পশমের সুইটার দেব বলেছিলাম বাবু। কিন্তু দিতে পারি নাই। ওরা পুষ্পাকে তার জন্য আমার কাছে পাঠায় না। এবার এই সুরিয়া আর ওর বাচ্চাদের পশম দিয়ে একটা আচ্চি সুইইটার বানিয়ে দেব আমার জামাইবাবাকে। তবে না পুষ্পা বিটিয়াকে আমার ঘরে পাঠাবে ওরা। সুরিয়া আর বাচ্চারা না থাকলে আমি তো আমার পুষ্পা বিটিয়াকে কাছে পাব না কোনদিন.....


চিত্র - আশীস পাইন 
প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৮:০০ PM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অনুগল্প, বনবীথি পাত্র

সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮

অন্বেষা রায়

কফি ও গৃহপ্রবেশ
-------------------------

-----------------

(১)

আজ বিকেলে বাড়িতে একটা ছোট্ট কফির আসর বসবে।আমন্ত্রিত দুজন। মৈনাক, সঙ্গে মন্দাক্রান্তা। মৈনাক আমার স্বামী আর মন্দাক্রান্তা ওর প্রেমিকা। আচ্ছা আপনি শর্মিলা ঠাকুর,সঞ্জীব কুমার আর সারিকার 'গৃহপ্রবেশ' ছবিটা দেখেছেন? বাসু ভট্টাচার্যের পরিচালনা?  না দেখে থাকলে দেখে নেবেন। ভাল ছবি। 

ছবিতে স্বামী এক সহকর্মীর প্রেমে পড়েছেন এবং স্ত্রীর কাছে বিবাহবিচ্ছেদ চাইছেন।স্ত্রী সাধারণ ঘরোয়া গৃহবধূ। ভাড়া বাড়িতে থাকেন এবং  পয়সা জমান নিজের একটা বাড়ি বানাবেন বলে। স্বামীর প্রস্তাবের প্রাথমিক ধাক্কাটুকু সামলে স্ত্রী সম্মত হলেন কিন্তু সঙ্গে জুড়ে দিলেন একটি শর্ত। স্বামীর প্রেমিকার সাথে আলাপ করাতে হবে। যেদিন মেয়েটি আসবে সেদিন স্ত্রী তার সঞ্চয় ভেঙে বাড়ি এবং নিজেকে ঢেলে সাজালেন। বিকেলে প্রেমিকা সমেত স্বামী ঘরে ঢুকে তো হতবাক।নিজের ঘর,সংসারকে বাঁচানোর জন্য মেয়েটির এই আকূল প্রচেষ্টা স্বামীর ভেতরে এক প্রবল ধাক্কা দিল। ছবির শেষে দেখা গেল স্বামীটি তার প্রেমিকাকে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য এগিয়ে দিতে গিয়ে এক চরম মানসিক দোলাচলে পড়েছেন এবং শেষমেশ নিজের স্ত্রীর কাছে ফিরে আসছেন।
আমার আর মৈনাকের গল্পটাও খানিকটা এই ধাঁচের। কিছু সামান্য এবং কয়েকটা প্রধান পার্থক্য থাকলেও মোটের ওপর আজকের কফির আসর বাসু ভট্টাচার্যের 'গৃহপ্রবেশ' ছবির সেই ক্লাইম্যাক্সের মতোই বলতে পারেন। এখন ছটা বাজে, আর ঘন্টা খানেকের মধ্যেই মন্দাক্রান্তাকে নিয়ে  মৈনাক উপস্থিত হবে,তার আগে আপনাকে আমার এবং মৈনাকের সম্পর্কে কিছু বলে নিই।

মৈনাক আর আমার ভালোবেসে বিয়ে। ভালোবাসাটা প্রাথমিকভাবে ( যদিও এখন মনে হচ্ছে পাকাপাকিভাবেই) একতরফা ছিল। আমিই কলেজে পড়াকালীন মৈনাকের প্রেমে পড়েছিলাম।শুধু আমি নই আমার তুলনায় ঢের ঢের গুণ বেশি আকর্ষণীয়, বুদ্ধিমতী বেশ কয়েকজন মেয়েও মৈনাককে প্রেমিক হিসেবে চেয়েছিল। কিন্তু শিকে ছিঁড়ে ছিল আমার ভাগ্যে। কলেজের শেষ বছর, বুকে প্রচুর সাহস নিয়ে মৈনাককে বলেছিলাম মনের কথা। মৈনাক হ্যাঁও বলেনি আবার না বলে কাটিয়েও দেয়নি।ঝুলিয়ে রেখেছিল।আসলে খেলাচ্ছিল। এইসময়টা আমি ওকে পাওয়ার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলাম। ওর হয়ে নোটস কপি করা, টিফিন নিয়ে যাওয়া, গরমকালে জলের বোতল যোগান দেওয়া।আসলে কি জানেন আমি মেয়েটা না ভেতরে ভেতরে বরাবরই একটু সতীলক্ষ্মী টাইপের।আমার প্রিয়বন্ধু তানিয়ার ভাষায় 'বউ বউ মতন'। 
তা আমার এতো সেবা বিফলে গেলনা।মাসখানেকের মধ্যে মৈনাক হ্যাঁ বললো। আমি আনন্দে ভেসে গেলাম। এরপর পাঁচ বছরের মাথায় আমাদের বিয়ে হয়। এই পাঁচ বছরে মৈনাকের চাকরি পাওয়া, আমার শখের কম্পিউটার কোর্স হওয়া আর বিস্তর সম্বন্ধ নাকচ করা হল। এমনকি প্যানপ্যানে হিন্দি রোম্যান্টিক ছবির মতন আমার আর মৈনাকের মাঝে মিথিলা কয়েকমাসের জন্য ঢুকে আবার বেরিয়ে গেল। 
মিথিলার সাথে মৈনাক যখন লুকিয়ে সিনেমা দেখছে, বেপাড়ায় রোল খাচ্ছে বা ট্যাক্সিতে ওর শ্যামলা হাতের পাতায় আদর রাখছে তখন আমি বাড়িতে বসে কেবল টিভিতে বাসু ভট্টাচার্যের 'গৃহপ্রবেশ' দেখছি। শর্মিলা ঠাকুরের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে কষ্ট পাচ্ছি, লড়াই করছি, সঞ্জীব কপুররূপী মৈনাককে ভালোবাসছি আর সিনেমার শেষে তৃতীয়জনের বিরুদ্ধে জিতে যাচ্ছি।

খবরটা দিয়েছিল তানিয়া। ভাগ্যিস সেসময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তাহলে মৈনাক আর আমার বিয়েটা সম্ভব হত কিনা জানিনা।ঘরে ঢুকে বিছানায় ব্যাগটা ছুঁড়ে চিৎকার করে উঠেছিল তানিয়া।
" মৈনাক তোকে ঠকাচ্ছে সে খবর রাখিস?" 
আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে কাঁপা কাঁপা হাঁটুতে উঠে দাঁড়িয়েছিলাম। তানিয়া উত্তেজনায় গলা চড়াচ্ছিল।
"বাসের জানলা থেকে আমি পরিষ্কার দেখেছি পৃথা। মেয়েটার কাঁধে হাত রেখে সেঁটে বসেছিল মৈনাক। তুই এক্ষুনি  ফোন কর ওকে।" 
তানিয়ার কথা শুনে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেছিলাম। তানিয়া এরকমই। ও না থাকলে আমি বোধহয় পড়াশোনা ছেড়েই মৈনাকের সেবা করে যেতাম।তানিয়া আমাকে টেনে রাখে। 
 মৈনাককে সাত আটবার ফোন করেও ধরতে পারিনি। পরেরদিন বিকেলে দেখা করে পুরো ব্যাপারটা অস্বীকার করে ও।তানিয়া নাকি ভুল দেখেছিল। আমারও কেন জানিনা মৈনাকের কথাই সত্যি বলে মনে হয়েছিল।দাঁত কিড়মিড় করতে করতে  শাসিয়ে ছিল তানিয়া( মৈনাকের ওকালতি করতে যাওয়া আমাকে)। 
"পরেরবার ছবি তুলে রাখবো।"

তানিয়া ছবি তুলবে বলে, নাকি আমার কান্নার জেরে জানিনা মৈনাক আমাকে পরের বছর ভাল ছেলেটির মতন বিয়ে করে ফেললো।স্মার্ট ছেলে, চাকরির ক্ষেত্রে উন্নতিও করছিল।আমি বাড়িতে একটা টিউটোরিয়াল খুলে বসলাম। ফোর থেকে এইট সায়েন্স গ্রুপ।ভালই চলছিল।

 বিয়ের পরের বছরই আমাদের একটা ফুটফুটে মেয়ে হল। তিন বছরের মাথায় দ্বিতীয় কন্যা। তানিয়া চাকরি নিয়ে ভিন শহরে চলে যাওয়াতে আমার রাশ যেন আরো আলগা হয়ে গেল।আমি একেবারে পঞ্চাশের দশকের নায়িকাদের মতন পতিপ্রেমে হাবুডুবু খেতে লাগলাম। এরই মধ্যে কসবায় দারুণ একটা ফ্ল্যাট পছন্দ করে ফেললো মৈনাক। দামটা একটু বেশি। লোন পেতে পারে তবে অতটা লোন নিলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। অগত্যা........আমার বাবার থেকে কিছু টাকা ধার আর সঙ্গে আমার সমস্ত গয়না। ফ্ল্যাটে ঢোকার মাস দেড়েকের মধ্যে মন্দাক্রান্তার ব্যাপারটা  জানতে পারলাম।মৈনাকের ফোন মেসেজ থেকে।


(২)

বাসু ভট্টাচার্যের 'গৃহপ্রবেশ' আমার মাথায় গেঁথে গিয়েছিল। দ্বিতীয় নারীর থেকে স্বামীকে ফিরিয়ে আনছেন স্ত্রী।ভালোবাসার জোরে। তবে আমার গল্পটা সিনেমার প্লটের থেকে বেশ আলাদা। আমার স্বামী শুধু পরনারীর প্রেমে পড়েই ক্ষান্ত দেননি, তাকে নিয়ে বার দুয়েক মন্দারমণিও ঘুরে এসেছে। আমার স্বামী সিনেমার মতন নিজে থেকে কিছু বলেননি। আমি ধরতে পেরে প্রচন্ড কান্নাকাটি করায় নিজের কর্মকান্ড স্বীকার করেছেন মাত্র। পরিষ্কার জানিয়েছেন মন্দাক্রান্তাকে তিনি বিয়ে করতে চান অতএব আমি যেন এক দেড় মাসের জন্য নিজের ব্যবস্থা নিজে করি। আর তৃতীয় তফাৎ সিনেমার স্বামীটির মতন মৈনাকের এটা প্রথম পরকিয়া নয়। তানিয়া না থাকলেও দু চারজন বন্ধু আমাকে এষা আর পিয়ালীর কথা জানিয়েছে। যারা একমাত্র মৈনাকের ভাষাতেই 'শুধু ভাল বন্ধু'।

যাইহোক,  মন্দাক্রান্তার কথা জানামাত্র বাসু   ভট্টাচার্যের 'গৃহপ্রবেশ'  আবার মাথায় হানা দিল। আমি গোটা একটা দিন না খেয়ে কাটালাম এবং দিনের শেষে খেয়াল করলাম, আমার দুটি শিশু সন্তান আমার শোক পালনের জেরে অভুক্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছে। মৈনাক সেইরাতে বাড়ি ফেরেনি। আমার নতুন ফ্ল্যাট, আমার সমস্ত গয়না দিয়ে কেনা শখের বাড়ি,গোছানো সংসার সব ছত্রখান হয়ে যাচ্ছিল। আমি মনে মনে 'গৃহপ্রবেশ' এর কথা ভাবছিলাম। স্ত্রীর ভালোবাসায় স্বামীর প্রত্যাবর্তন। 
 শেষমেশ এক সন্ধ্যায় মন্দাক্রান্তাকে নেমন্তন্ন করেই ফেললাম। আজ সেই সন্ধ্যা।

সিনেমায় শর্মিলা ঠাকুর সারাদিন ধরে নিজেকে এবং বাড়িটিকে সাজিয়েছিলেন। আমিও ঘরগুলো গুছিয়ে ফেললাম। ভাল করে স্নান সেরে আয়নার সামনে দাঁড়ালাম প্রস্তুত হব বলে।মেয়েদের আগেভাগেই এক বন্ধুর বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। সন্ধ্যে সাতটা বেজে পাঁচ এ মন্দাক্রান্তাকে নিয়ে ঘরে ঢুকলো মৈনাক।আমাকে দেখে চমকে উঠলেও কিছু বললো না। গায়ের রঙ ফর্সা হলেই যে কেউ সুন্দরী হয়না আমি তার জ্বলন্ত প্রমাণ। আমাকে দেখলে প্রথমেই 'ময়দার তাল ' মনে হবে। তারমধ্যে শাঁখা পলা, সিঁদুর শাড়ি আর আত্মবিশ্বাসের অভাবে আরো ভ্যাদভ্যাদে ব্যক্তিত্ব। কিন্তু আজ সবকিছু আলাদা।
মন্দাক্রান্তাকে আপ্যায়ন করে ঘরে বসালাম। ওদের সাথে দরকারি কথাগুলো সেরে ফেলতে হবে
।মৈনাককেও বোঝাতে হবে আমার অবস্থা,আমার মেয়েদের কথা.....
 মৈনাকের চোখ অবাক বিস্ময়ে আমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে বারবার।আমার এই সাজ ওর অচেনা। 
কাপে কফি, প্লেটে খাবার এগিয়ে দিয়ে আমি বসলাম মুখোমুখি। মন্দাক্রান্তাকে একটু অস্বচ্ছন্দ মনে হল। আমি সময় নষ্ট না করে কথা শুরু করলাম।

" তাহলে কতদিনের মধ্যে যাচ্ছো?"

মৈনাক থমকাল।

"মানে?"

আমি আমারা শাঁখা পলাহীন হাতটা মুখের কাছে নিয়ে ছোট্ট করে কাশলাম।

" দেখো মৈনাক, বাড়িটা তো আমার আর আমার বাবার টাকায় কেনা তাই তোমাকে তো আর এখানে থাকতে দিতে পারছিনা। তুমি মন্দাক্রান্তার কাছে কবে যাচ্ছো? "

 মন্দাক্রান্তা প্রচন্ড বিস্ময়ে মৈনাকের দিকে তাকালো।
  
আমি ততক্ষণে আত্মবিশ্বাসী। গলা আরেকটু শীতল করে বললাম,

"সোফার পাশে দুটো বড় ব্যাগ আছে। গুছিয়ে ফেলো। মেয়েরা আসার আগে বেরিয়ে যাও কেমন।  তোমায় ঘর থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছি এটাও যেমন ওদের দেখা উচিৎ নয় তেমনি তুমি আমার ঘাড়ে পা দিয়ে নিজে টুকু  নিঙড়ে নেবে সেটাও কি ওদের শেখা উচিত? "

মৈনাক বাক হারা। দু একবার উত্তেজিত হয়ে 
"তুমি এরকম করতে পারোনা"র বেশি কিছু বলতে পারেনি। আর মন্দাক্রান্তা?  মৈনাককে অগ্নি দৃষ্টিতে জ্বালিয়ে গটগটিয়ে বেরিয়ে গেছে।

এই কফি আসরের পরের পরের দিন মৈনাক বাড়ি থেকে চলে যায়। খুব সম্ভবত কোনো মেসে। ডিভোর্সের কেস ফাইল হবে দু এক দিনেই।আমার টিউটোরিয়াল রমরমিয়ে চলছে।
  আজ বাড়িতে নারায়ণ পুজো। আমার ছাত্রছাত্রী আর দু চারজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু আসবে। আজ আমার বাড়িতে আমার ' গৃহপ্রবেশ।'

-----------------------
  
      
  
প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৮:০০ PM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অনুগল্প, অন্বেষা রায়

সিলভিয়া ঘোষ



মুহূর্তরা
--------_------
  ©

 বাসের জানালা ধারে বসে সামান্য টিফিন টা খেতে খেতে,  একটা  দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিল  মাঝ বয়েসী অদ্রিজা।  মনে মনে ভাবে,  কত বছর এই ভাবে, শুধু দুজনে  দুজনার মতো করে কোথাও যায় না! আজ তার অনেক দিনের সাধ পূরণ  হলো। 
আজকাল,  ফেবুর বন্ধুরা মালয়েশিয়া,  ক্যালিফোর্নিয়া , ব্যঙ্কক, পাটায়ায় তোলা স্বামীর সাথে  সব  অন্তরঙ্গ মুহূর্তদের ওপেন পোস্ট করে...

   অদ্রিজার খুব ইচ্ছে করে, একটা এমন ছবি পোস্ট করে, পরক্ষণেই মনে হয়, এমন ভাবে ছবি সে দেবেইবা কি করে!  এই পঁচিশ বছরের বিবাহিত সময়ে  এমন অন্তরঙ্গ কটা  মুহূর্তই বা  তারা কাটিয়েছে তেমন ভাবে! 
 সংসার,  ছেলে ,মেয়ে, অসুস্থ শ্বশুর, শাশুড়ি এই নিয়েই কেটে গেছে  অদ্রিজার আর অনুপের সংসার। 
তবু আজ,  এত বছর পর, সামান্য একটা শ্রুতিনাটকে পাঠ করার পর মহাজাতি থেকে বাড়ি ফেরার পথে অনুপের সহচার্য  ভীষণ ভাবে দামী মনে হচ্ছিল তার।   আপাত উদাসীন মানুষটার সারা শরীরে ঘামের গন্ধের সাথে, তার মাথার জুঁই ফুলের গন্ধ মিলে মিশে একটা সুন্দর  আবেশের সৃষ্টি করেছিল। খুব ইচ্ছে  করছিল ব্যাগের থেকে মোবাইল টা বের করে এই মুহূর্তটাকে মুঠোবন্দী করে সে,  কিন্তু পরক্ষণেই লজ্জা পায়...
 কি ভাববে অনুপ, সে আজও ছেলেমানুষই রয়ে গেলো! 

ভীষণ ইচ্ছে করছিল অনুপ কে বলে দিতে,   অন্তরের কথা।  যার সাথে আজ  বারো বছর সম্পর্ক রেখে  চলেছে সে।   মননে শুধু নয় শরীরেও...
কি বলতে পারে  কিম্বা  কেমন আচরণই বা  করতে পারে অনুপ এই পরিপ্রেক্ষিতে!   চিন্তা করেই গাল বেয়ে মুক্তদানা নামে অদ্রিজার...
নাহ,  আর সে ভাববে না!  এইভাবেই চলুক, কিছুটা স্বগক্তি করেই  কানে হেড ফোন লাগাতেই  পছন্দের রেডিও স্টেশন মির্চীতে বেজে ওঠে...

 "মন রাখা আছে কোন ঈশান কোনে বিষন্নতায়, চোখ কাটাকুটি  হোক সহজ কথার সময় কোথায়
এই নরম অসুখ হাওয়ায় হাওয়ায় সেরে যাক,
ফের সন্ধ্যে নামুক ব্যথা  তোমার সেরে যাক
 চুপ মুহুর্ত চুপ,  ঠোঁটের তুরুপ এই তোমাকে ছুঁয়ে দিলাম..."
ReplyForward
প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৮:০০ PM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অনুগল্প, সিলভিয়া ঘোষ

নন্দিনী পাল

স্বপ্নভঙ্গ 


সকাল আটটা।  ডিসেম্বরে কুয়াশা আচ্ছন্ন সকালে আলো তখনও ঠিকমত ফোটেনি । তিননম্বর ফ্লোরে হঠাৎ দুমদুম করে কেঊ যেন দরজা ধাক্কা দিচ্ছে । শ্রেয়া দরজা খুলে বেরিয়ে এল বাইরে। সিঁড়িটা উপরে উঠে গিয়ে মাঝখানে যে একটা চৌকো ফাঁকা জায়গা তৈরী হয়েছে সেদিকে তাকিয়ে, সে বোঝার চেষ্টা করে আওয়াজটা ঠিক কোথা থেকে আসছে। চোখে তখনও ঘুম লেগে। কাল অনেক রাত পর্যন্ত  হোম আ্যসাইন্মেন্ট করতে হয়েছে। কিন্তু আওয়াজের তীব্রতা শ্রেয়ার ঘুমকে এক লহমায় উড়িয়ে নিয়ে যায়। ততক্ষনে হোস্টেলের অন্য সব দরজা খুলে এক এক করে জড়ো হচ্ছে করিডোরে। সিঁড়ি ওঠার বাঁক থেকে কেউ বলল “অরে পুনম দরবাজা নহী খোল রহী হ্যায়”।                                                               
কথাটা শুনে শ্রেয়ার বুকটা ধরাস করে উঠল । সে সঙ্গে সঙ্গে দৌড় লাগাল উপরের তলায়। পুনমের সাথে কালই ওর দেখা হয়েছিল। একই ইন্স্টিটিউটে কোচিং করে। তিন চারদিন হল ওর রুমমেট বাড়ি গেছে। ওর দিদির বিয়ে । পুনম বলছিল একদিন ও খুব শান্তিতে আছে। ওর রুমমেট পূজা নাকি ড্রাগস নেয়। ওর ডিপ্রেসন নাকি মারাত্মক পর্যায়ে। সেকেন্ড টাইম জয়েন্ট দেবে। সাধারন মিডল ক্লাশ ফ্যামিলির মেয়ে, ড্রাগসের পয়সা জোটাতে পার্ট টাইম কল গার্লের কাজ করে। সামান্য ব্যাপারে পুনমের সাথে ঝগড়া করে। সারাক্ষন ফোনে চ্যাট করে। পড়াশুনায় ভীষন ডিস্টার্ব হয়। হোস্টেল সুপারকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি।তবে নেক্সট সেশনে রুম খালি হলে শ্রেয়া আর পুনম ঠিক করেছিল একই রুমে সিফট করবে।   
উপরে এসে শ্রেয়া দেখল দরজাটা ভেতর থেকে আটকানো সকালে লণ্ড্রী বাস্কেট নিতে এসে সরবতি আন্টি দরজায় ধাক্কা দিয়েছিলো। তখন সাড়া না দেওয়ায় ভেবেছিল হয় ঘুমোচ্ছে অথবা বাথরুমে আছে। এমনিতে সব মেয়েরা আটটা সাড়ে আটটার মধ্যে তৈরী হয়ে ব্রেকফাস্ট রুমে চলে যায়। ওদের কোচিং ক্লাসের আর এক সহপাঠী হিমানী থাকে পাশের রুমে। সে সকালে ইন্স্টিটিউট যাবার আগে পুনমকে ডাকতে এসেছিল,তখন পুনম দরজা না খোলায় সেই পাশাপাশি মেয়েদের ডাকে।                                                                                                                                                                       এক অজানা আশংকার চোরা স্রোত বইতে থাকে শ্রেয়ার শরীরে-“পুনম পুনম দরবাজা খোল তু শো রহি হ্যায় ক্যায়া”         কিন্তু ভিতর থেকে কোন শব্দই আসে না। সব নিশ্চুপ। দরজাটা যেন কি রহস্য ঢেকে দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো আরো কিছুক্ষন পড়ে সে রহসয় উন্মোচিত হবে। শ্রেয়া নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না। করিডরের জানলা দিয়ে তাকায় বাইরে। বোবা দৃষ্টি যেন পুনমকেই খুঁজছে । কুয়াশা ঘেরা শীতের সকালে সূর্য তার আবছা আলো নিয়ে বেরিয়ে আসছে দূরের কোনো হীমশীতল দেশ থেকে। এখনি সব ধোঁয়াশার অবসান হবে। এত ঠান্ডার মধ্যে  সারি সারি ছেলেমেয়েরা চলেছে পীচ ঢালা রাস্তা দিয়ে। রাস্তার শেষে রয়েছে সেই স্বপ্ন যা জীবনকে বদলে দেবে একলাফে। কোটা সেই শহর যেখানে লাখ লাখ কিশোর কিশোরি স্বপ্ন দেখে। নিজেদের সবকিছু গচ্ছিত রেখে বাবা মা তাদের নিজেদের অপূর্ন স্বপ্ন সাকার করতে চান সন্তানদের মধ্যে।                                                                                              শ্রেয়ার সম্বিৎ ফিরে আসে। কি-হোলে চোখ রেখে হিমানি কি যেন দেখছে। ওর মুখটা থেকে কে যেন সমস্ত রক্ত শুষে নিয়েছে। হিমানীর ফর্সা মুখটা ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে যায়। চোখদুটো ভীষন আর্তনাদে ফেটে পড়তে চাইছে। মুখ থেকে শব্দের বদলে গোঙানি ছাড়া আর কিছুই বের হচ্ছে না। দুটো মেয়ে ধরধর করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেল নীচে, সুপারকে ডাকতে।  
কাল ওদের শেষ সেমিস্টারের রেজাল্ট বেরিয়েছিল। পুনমের রেজাল্ট সেরকম ভাল হয়নি। বিকাস স্যর ওকে ডেকে পাঠিয়েছিল। আর তখন থেকেই পুনমকে ডিপ্রেসড লাগছিল শ্রেয়ার। স্যর বলেছিল এরকম রেজাল্ট হলে এন্ট্রান্স ক্লিয়ারের কোন সম্ভাবনাই নেই। শ্রেয়া জানত ওর বাড়ির পরিস্থিতি। ওর পড়াশুনার জন্য অনেক টাকা লোন নিয়েছিলেন ওর বাবা, কয়েকবছর আগে সারা জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে পুনমের দিদির বিয়ে দিয়েছেন। তাই সমস্ত আশা ভরসা পুনমের উপর। পুনম যদি এন্ট্রান্স ক্লিয়ার করতে না পারে তাহলে আর দুই ছোট ছোট ভাইবোনের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। তাই পুনমের বাবা যখনই ফোন করতেন সেই কথাই বলেন। আগামী মাসে পুনমের মার গলব্লাডার অপারেশন তার টাকাও বাবা ধার করেছেন তার বন্ধুর কাছ থেকে। সবসময় বাবার ওই কথাটাই কানে বাজত পুনমের-“পুনম অভী তু হী মেরা ভরোসা হ্যায়। তু আপনে পয়রোপে খাড়ী হোজায়েগী তো মেরি সারি চিন্তা দূর হো জায়েগী।”
পুনম আর কোনদিন নিজের পায়ে খাড়া হবে না। হোস্টেলের ছোট্ট রুম থেকে পুনমের নিথর শরীরটা যখন বের করে আনল পুলিশ তখন হোস্টেলের চারপাশে অনেক লোক জমা হয়েছে। সবার চোখেই আতঙ্ক ,অনেকে হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া ঘটনায় এতটাই বিমূড় যে কথা বলার সমস্ত শক্তি হারিয়ে নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শ্রেয়া এখনো সেই আগের জায়গাতেই বসে আছে। চোখ থেকে অবিরল ধারায় অশ্রু মুখ ভাসিয়ে টপটপ করে মাটিতে পড়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। অথচ উঠে পুনমকে দেখার মত মনের জোর তার নেই। এই শহরে প্রতিযোগিতার যূপকাষ্ঠে আটকে পড়াজীবনে একমাত্র বন্ধুকে হারিয়ে নিদারুন শোকে সে আজ বাকরূদ্ধ। এক্রাশ অভিমান গলার কাছে এসে আটকে আছে। একবার কি মন খুলে পুনম ওকে সব কথা বলতে পারল না । তাহলে  নিশ্চয় শ্রেয়া বোঝাতে পারত একবার রেজাল্ট খারাপে সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। জীবনে অনেক চান্স আসে কোনবার জেতে আর কোনবার হেরে যেতে হয়। 
কিন্তু পুনম চিরকালের জন্য জীবনযুদ্ধে হেরে গেল। পুলিশের ভ্যান যখন পুন্মের শরীরটা নিয়ে রওনা হল মর্গের উদ্দেশ্যে তখন দুপুর একটা। পীচের রাস্তাটা এখন ভরে গেছে সূর্যের প্রখর রোদে। তার মধ্যে কিশোর কিশোরীরা চলেছে যে যার হোস্টেলে।ওদের চোখ স্বপ্নের সাতরঙা রামধনু রঙে উজ্জ্বল। ওরা বোধহয় জানে না স্বপ্ন ভাঙ্গার রং। সেই রং নিয়ে পুলিশের ভ্যান্টা রাস্তার বাঁকে মিলিয়ে যায়। শ্রেয়া চেয়ে থাকে সেদিকে।  

 
ReplyForward
প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৮:০০ PM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অনুগল্প, নন্দিনী পাল

শ্রাবণী সোম যশ



“ছোবল”


 দুপুর ভর দীঘির জল তোলপাড় করে চান করলো মতিয়া। এতক্ষনে শরীর মন দুইই ঠান্ডা হলো।গ্রামটাকে যেন বোবায় ধরেছে আজ। দীঘির জল নিয়ে মনের খুশিতে খেলছে ও। চিকন শ্যামলা গায়ের রঙ, কোমর ছোঁয়া চুল। আস্ত দীঘিই যেন লুকিয়ে আছে চোখের মাঝে। মতিয়ার বাবা নেলকো সর্দার গাঁয়ে, গাঁয়ে ঘুরে বিষধর সাপ ধরে এনে বিক্রি করে। ভালো রোজগার কিন্তু সবটাই যায় ওই হাঁড়িয়ার ঠেকে। বসত ভিটেও বাঁধা পড়েছে। ঘরে মা মরা সোমত্ত মেয়ে কিন্তু সেদিকে হুঁশ কই ! জমিদার  রুদ্রনারায়ণকে লোকজন একটু সমঝেই চলে। ওনার রুদ্র মেজাজ অসহায়দের ওপর একটু বেশিই প্রকট। নেলকো সর্দার তো সবটুকুই খুইয়ে বসে আছে ওনার চৌকাঠে।                                                                     
                                               ভর সন্ধ্যেবেলায় বাপের সাথে রুদ্রনারায়ণের চাপা গলায় কথার শব্দ শুনেই কান পেতেছিল মতিয়া। রাত বাড়তেই জমিদার বাড়িতে জড়িবুটি দিতে পাঠিয়েছিল বাপ টা। একটুও গোঁসা করেনি ও। কোমরে কুকুরি গুঁজে গায়ে চাদর ঢাকা দিয়ে গিয়ে  উঠেছিল  রুদ্রনারায়ণের ঘরে। সাপের  মতো পেঁচিয়ে ধরেছিলো শয়তান টা। চরম সর্বনাশের আগেই পালিয়ে এসেছিলো শয়তানটার কবল থেকে। সকাল হতে না হতেই গোটা গ্রাম জেনে গেলো কাল নাগিনীর ছোবলে রুদ্রনারায়ণ মারা গেছে। আর পালঙ্কের তলায় পাওয়া  গেছে নেলকো সর্দারের সাপ রাখার ডালা। দেনার দায়ে বিকোনো নেলকো যে নিজের প্রাণ বাঁচাতে এই কাজ করেছে বুঝতে বাকি রইলোনা কারোরই। পুলিশ এসে হাতকড়া পরিয়ে ধরেও নিয়ে গেলো।
                                                       রুদ্রনারায়াণ  লোভী বেড়ালের মতোই ছোঁকছোঁক করতো মতিয়ার কাছেপিঠে। নিজের কানে যখন শুনলো বকেয়া দেনা মকুব করার জন্যে নিজের মেয়ের সওদা  করতেও  অরাজি নয় নেলকো, এমনকি কড়কড়ে দশটি  হাজার টাকা হাত পেতে নিয়েও নিলো বরাবরের মতো মুখে কুলুপ আঁটবে বলে। রাগে দুঃখে চোখে জল এসে গেছিলো মতিয়ার,  নিরুপায় হয়ে  ছুটে গেছিলোজমিদার  গিন্নির কাছে। গম্ভীরমুখে সবটুকু শুনেছিলেন গিন্নিমা। জড়িবুটি নিয়ে রাতে ঘরে ঢোকার  সময়েই মতিয়া দেখতে পেয়েছিলো, গিন্নিমার খাস চাকর  রুদ্রনারায়ণের ঘর থেকে পিছনের দরজা দিয়ে চুপিসাড়ে পালাচ্ছে। নাহ, কুকরীটা কাজে লাগাতে হয়নিআর ওকে। শুধু পালঙ্কের নিচে লুকোনো ঢাকনা খোলা ডালাটা জোরে নাড়িয়ে দিয়ে পালিয়ে এসেছিলো মতিয়া। দুই নারীই মুক্তি পেলো লম্পট পুরুষের হাত থেকে।  শেষমেশ  মরিয়া হয়ে সর্বনাশের নাশ করলো এভাবে।  
ReplyForward
প্রকাশনায় srijanblogzineblogspot .com এই সময়ে ৮:০০ PM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
বিভাগ সমূহ: অনুগল্প, শ্রাবণী সোম যশ
পুরাতন পোস্টসমূহ হোম
এতে সদস্যতা: পোস্টগুলি (Atom)
Snowfall Widget for Blogger

সৃজন পরিক্রমা

সৃজন সূচী

  • ▼  2025 (28)
    • ▼  ফেব্রুয়ারি (28)
      • সম্পাদকীয়
      • শীলা বিশ্বাস
      • সমিধ গঙ্গোপাধ্যায়
      • গার্গী সেনগুপ্ত
      • জয়শ্রী দাস মন্ডল
      • সুবিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শঙ্খ মিত্র
      • মিঠুন চক্রবর্তী
      • সুরজিৎ বেরা
      • সৌমী আচার্য্য
      • চয়ন ভৌমিক
      • সৌমনা দাশগুপ্ত
      • মধুমিতা বসু সরকার
      • সুবীর ঘোষ
      • নন্দিতা দাস বসু
      • স্বপন রায়
      • ধৃতিরূপা দাস
      • যাদব দত্ত
      • অরূপরতন হালদার
      • সায়ন্ন্যা দাশদত্ত
      • শম্পা মাহাতো
      • সব্যসাচী মজুমদার
      • বৈদূর্য্য সরকার
      • শর্মিলা ঘোষ
      • কৌশিক সেন
      • শ্রীলেখা মুখার্জ্জী
      • অর্ঘ্য নাথ
      • পৌলমী ভট্টাচার্য
  • ►  2022 (90)
    • ►  জুন (3)
    • ►  মে (8)
    • ►  এপ্রিল (8)
    • ►  মার্চ (2)
    • ►  ফেব্রুয়ারি (3)
    • ►  জানুয়ারি (66)
  • ►  2021 (313)
    • ►  ডিসেম্বর (8)
    • ►  নভেম্বর (11)
    • ►  অক্টোবর (11)
    • ►  সেপ্টেম্বর (80)
    • ►  আগস্ট (35)
    • ►  জুলাই (33)
    • ►  জুন (78)
    • ►  মে (24)
    • ►  এপ্রিল (6)
    • ►  মার্চ (12)
    • ►  ফেব্রুয়ারি (9)
    • ►  জানুয়ারি (6)
  • ►  2020 (176)
    • ►  ডিসেম্বর (14)
    • ►  নভেম্বর (3)
    • ►  অক্টোবর (3)
    • ►  সেপ্টেম্বর (4)
    • ►  আগস্ট (78)
    • ►  জুলাই (4)
    • ►  জুন (4)
    • ►  মে (66)
  • ►  2019 (103)
    • ►  ডিসেম্বর (36)
    • ►  জুন (40)
    • ►  জানুয়ারি (27)
  • ►  2018 (313)
    • ►  ডিসেম্বর (35)
    • ►  অক্টোবর (45)
    • ►  সেপ্টেম্বর (1)
    • ►  আগস্ট (32)
    • ►  জুলাই (48)
    • ►  জুন (32)
    • ►  এপ্রিল (27)
    • ►  মার্চ (21)
    • ►  ফেব্রুয়ারি (33)
    • ►  জানুয়ারি (39)
  • ►  2017 (383)
    • ►  ডিসেম্বর (58)
    • ►  নভেম্বর (26)
    • ►  সেপ্টেম্বর (46)
    • ►  আগস্ট (37)
    • ►  জুলাই (49)
    • ►  জুন (64)
    • ►  মে (49)
    • ►  এপ্রিল (12)
    • ►  মার্চ (3)
    • ►  ফেব্রুয়ারি (38)
    • ►  জানুয়ারি (1)
  • ►  2016 (31)
    • ►  ডিসেম্বর (31)

এই সংখ্যার জনপ্রিয় লেখা গুলো

  • সম্পাদকীয়
      জীবনকে শুরু করার দায়িত্ব আমাদের হাতে থাকে না কিন্তু তাকে সুন্দর ভাবে চালানোটা অনায়াসেই পারি । শুধুমাত্র নিজে বাঁচাটাকেই কী বাঁচা বলব ! জ...
  • সম্পাদকীয়
                  বর্ষার ঝিরিঝিরি বৃষ্টির রেশ কাটিয়ে ফুটে উঠেছে ছোট ছোট কাশফুল ৷কাশফুল মানেই শরৎ । আকাশে উড়ে বেড়ায় পেঁজা তুলোর ন্যায় মেঘ।ভে...
  • সব্যসাচী মজুমদার
                                                                        আজকের কবি  সব্যসাচী মজুমদার I দশটা লেখা ______________ (১) তবু যে সত্তর ...
  • সোনালী চক্রবর্তী
                    মঞ্জিরা  বন্দিশেরা নামছে সহস্রধারায় কৃষ্ণ অন্তরীক্ষ থেকে। নীলাদ্রি শুনছেন। বলা ভালো, শুষছেন। এই একটিই প্রেম তাকে কখনো গার্হস...
  • সোহেল ইসলাম
                                                  এই সপ্তাহের কবি সোহেল ইসলাম।জন্মঃ ১৯৮৫ ১লা মে । ২০০১ থেকে লেখা শুরু। প্রথম লেখা ব্যাক্তিগত না ...
  • সৌমী আচার্য্য
      চক্রব‍্যূহ          পাঁচ বছর আগে কোন একদিন ঘোর বর্ষা নেমেছে শহরের রাজপথে।গঞ্জের গলিতেও স্রোত।ধুয়ে যাচ্ছে জমে থাকা নোংরা।পোশাকের আবরণ ফুঁড়ে...
  • নিলয় নন্দী
      যদিও ঋতুর নাম বর্ষা ছিল না  এই তো সেদিন। তখন রাত। ধানসিঁড়ি নদীর কিনারে শুয়েছিলেন তিনি। নীলাভ চাঁদের জ্যোৎস্নায় অদূরে ঘাইহরিণী ডেকে উঠলে আম...
  • শতানীক রায়
                                      এই সংখ্যার কবি শতানীক রায়।জন্ম : ২৩ জানুয়ারি ১৯৯৩, মালদায়। কবিতা লেখেন। প্রবন্ধও অল্পস্বল্প লেখেন। প্রকাশ...
  • কৌশিক সেন
                      অলিভ পাতার দেশ এই সখ্যতা তোমায় দেবো বলে সামুদ্রিক প্রজাপতির পাখনায় ক্রশ এঁকে দিয়েছিলাম একদিন। তিরতিরে কর্মমুখরতায়  ছড়িয়ে দ...
  • সোনালী চক্রবর্তী
                                          আঞ্জুমান নীল কাঁচের ডোম, ক্ষীরোদ বিদ্যুত... "কুবলাই খাঁ" যারা পড়েছেন একটু ভেবে নিতে পারেন চে...

পৃষ্ঠাসমূহ

  • হোম
  • সৃজন কথা
  • সৃজন যোগাযোগ
  • সূচিপত্র

সৃজন বিভাগ

  • অণুগল্প
  • অনুবাদ কবিতা
  • অনুবাদ সাহিত্য
  • কবিতা
  • গল্প
  • গুচ্ছ কবিতা
  • চিঠি
  • চেনো কি আমায়
  • ছবিঘর
  • ধারাবাহিক
  • ধারাবাহিক কবিতা
  • ধারাবাহিক গল্প
  • নাটক
  • ভিজুয়াল পোয়েট্রি
  • ভ্রমণ কাহিনী
  • মুখোমুখি
  • রহস্য গল্প
  • সম্পাদকীয়
  • সম্পাদিকার আঙিনায়
  • সাহিত্যের বারান্দা
  • সৃজন সংস্কৃতি ও শিল্প

নিয়মিত লেখকবৃন্দ

  • -অণুশ্রী ভট্টাচার্য্য মুখার্জী (2)
  • -শুভশ্রী সাহা (1)
  • / স্নেহাংশু বিকাশ দাস (1)
  • অঙ্কিতা সরকার (1)
  • অজিত রায় (3)
  • অঞ্জলি সেনগুপ্ত (1)
  • অণুশ্রী ভট্টাচার্য্য মুখার্জী (5)
  • অতনু টিকাইৎ (2)
  • অনন্যা রায় (1)
  • অনিন্দ্য পাল (5)
  • অনিন্দ্য ব্যানার্জী (1)
  • অনিন্দ্য রায় (11)
  • অনিন্দ্য রায়. (1)
  • অনিন্দ্য সান্যাল (2)
  • অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী (1)
  • অনিমেষ সরকার (1)
  • অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী (1)
  • অনিরুদ্ধ দাস (2)
  • অনিরুদ্ধ সাঁপুই (1)
  • অনুপম দাশশর্মা (6)
  • অন্বেষা রায় (5)
  • অপর্ণা গাঙ্গুলী (1)
  • অপর্ণা চৌধুরী (1)
  • অভিজিৎ দত্ত (1)
  • অভিষেক ঘোষ (1)
  • অভিষেক প্রসাদ (1)
  • অমিতাভ দাস (8)
  • অমিতাভ ব্যানার্জী (1)
  • অম্লানরায়চৌধূরী (1)
  • অরিজিৎ বাগচী (5)
  • অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় (1)
  • অরুণজীব রায় (1)
  • অরুণাভ চট্টোপাধ্যায় (2)
  • অরুণিমা চৌধুরী (1)
  • অরুনাভ চট্টোপাধ্যায় (2)
  • অর্কায়ন বসু (1)
  • অর্ঘ্য দত্ত (4)
  • অর্পণ কুমার মাজি (1)
  • অর্পিতা বোস (6)
  • অলভ্য ঘোষ (2)
  • অ্যাঞ্জেলিকা ভট্টাচার্য (3)
  • অয়ন মণ্ডল (4)
  • আকাশ সরকার (1)
  • আকাশ সৎপতি (1)
  • আর্পিতা দাশ (1)
  • আলো বসু (4)
  • আসমা সুলতানা শাপলা (1)
  • ইন্দ্রজিৎ দত্ত (1)
  • ইমেল নাঈম (1)
  • ঈশানী বসাক (2)
  • উজান উপাধ্যায় (4)
  • উজ্জ্বল ঘোষ (1)
  • উমাপদ কর (1)
  • ঋতুপর্ণা চৌধুরী (1)
  • ঋতুপর্ণা রুদ্র (3)
  • ঋষি সৌরক (1)
  • ঋষেণ ভট্টাচার্য্য (5)
  • এ কে এম আব্দুল্লাহ (2)
  • ওয়াহিদা (1)
  • কলমচি কৌশিক (1)
  • কস্তুরী সেন (1)
  • কাকলি দাস (1)
  • কাজল সেন (4)
  • কাজলসেন (1)
  • কুহেলী কর্মকার (1)
  • কৃষ্ণা দাশগুপ্ত (1)
  • কৃষ্ণেন্দু পাঠক (2)
  • কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (1)
  • কোজাগরী (2)
  • কৌশিক চক্রবর্ত্তী (14)
  • ক্রান্তি প্রসাদ (1)
  • গোপা পাল (2)
  • গৌতম কুমার গুপ্ত (1)
  • গৌতম দত্ত (3)
  • গৌতম যুথিপুত্র (1)
  • চন্দন দাস (1)
  • চন্দ্রাণী বসু (3)
  • চয়ন ভৌমিক (3)
  • চার্চিলা সিং (1)
  • চিরদীপ সরকার (1)
  • চুমকি ভট্টাচার্য (2)
  • চৈতালী ভৌমিক (3)
  • জয়তী রায় (2)
  • জয়তী রায় ( মুনিয়া) (26)
  • জয়াশিস ঘোষ (1)
  • জয়িতা সরকার (2)
  • জাকিয়া জেসমিন যূথী (1)
  • জুবায়ের আহম্মদ (1)
  • জ্যোতির্ময় মুখার্জি (6)
  • জ্যোৎস্না রহমান (2)
  • জয়তী অধিকারী (1)
  • জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় (6)
  • জয়িতা দে সরকার (2)
  • জয়িতা ভট্টাচার্য (3)
  • জয়ীতা ব্যানার্জী (5)
  • জয়ীতা ব্যানার্জী গোস্বামী (4)
  • ঝুমা চৌধুরী (9)
  • ঝুমা মল্লিক (1)
  • ত নি মা হা জ রা (1)
  • তনিমা হাজরা (5)
  • তনুশ্রী চক্রবর্তী (1)
  • তন্ময় ধর (2)
  • তপন কুমার বস (1)
  • তপন কুমার বসু (5)
  • তপন কুমার বসূ (1)
  • তপময় চক্রবর্তী (1)
  • তপোবর্ণা ভট্টাচার্য্য (1)
  • তানিয়া চক্রবর্তী (1)
  • তাপস কপাট (1)
  • তাপস মুখার্জী (1)
  • তাপসকিরণ রায় (5)
  • তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায় (2)
  • তিমিরণ দত্তগুপ্ত (2)
  • তুষার আচার্য্য (1)
  • তুষার সরদার (2)
  • তুষ্টি ভট্টাচার্য (26)
  • তুষ্টিভট্টাচার্য (1)
  • তৈমুর খান (9)
  • দিব্যেন্দু শেখর দাস (2)
  • দীপ রায় (3)
  • দীপক জানা (1)
  • দীপঙ্কর বেরা (9)
  • দীপাঞ্জন নাথ (1)
  • দীপাঞ্জন মাইতি (6)
  • দীপান্বিতা বসু (1)
  • দীপ্তি মৈত্র (1)
  • দেবব্রত তাঁতী (2)
  • দেবযানী গুপ্ত (2)
  • দেবযানী বসু (1)
  • দেবযানী বিশ্বাস (1)
  • দেবর্ষি ভট্টাচার্য (1)
  • দেবাশিস কোনার (3)
  • দেবাশিস মুখোপাধ্যায় (7)
  • দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। (1)
  • দেবাশীষ পাটোয়ারী (1)
  • দ্বীপ সরকার (2)
  • ধীমান পাল (1)
  • নন্দিতা দাস বসু (1)
  • নন্দিতা দাস বসু (3)
  • নন্দিনী পাল (8)
  • নাজনীন খলিল (1)
  • নাটক (2)
  • নাসির ওয়াদেন (1)
  • নির্মাল্য বিশ্বাস (1)
  • নীপবীথি ভৌমিক (6)
  • পবন বর্মন (4)
  • পবিত্র পাত্র (2)
  • পলাশ কুণ্ডু (1)
  • পলাশ কুন্ডু (1)
  • পলাশ দে (1)
  • পারমিতা চক্রবত্তী (2)
  • পারমিতা চক্রবর্তী (1)
  • পারমিতা চক্রবর্ত্তী (6)
  • পারমিতা বসু (1)
  • পার্থ সিংহ (1)
  • পার্বতী রায় (1)
  • পায়েল ব্যানার্জী (2)
  • পিনাকী মুখোপাধ্যায় (4)
  • পিয়ালি বসুঘোষ (5)
  • পিয়ালী বসু ঘোষ (4)
  • পিয়ালী বসুঘোষ (1)
  • পিয়াংকী মুখার্জী (3)
  • পিয়ালী বসু (3)
  • পিয়ালী মজুমদার (1)
  • পীযূষকান্তি বিশ্বাস (1)
  • পুষ্পাঞ্জলি বক্সী (1)
  • পূবালী রাণা (3)
  • পৃথা রায় চৌধুরী (1)
  • পৌলমী গুহ (1)
  • পৌলমী দে পুরকাইত (1)
  • পৌলমী পুরকাইত (1)
  • পৌলমী ভট্টাচার্য (4)
  • পৌলোমী মুখার্জী (1)
  • প্রণব বসুরায় (1)
  • প্রণবেশ সরকার (1)
  • প্রবীর বিকাশ সরকার (1)
  • প্রসেনজিৎ কাবাশি (1)
  • প্রসেনজিৎ রায় (1)
  • প্রান্তিক সরকার (1)
  • প্রিয়াঙ্কা দে দাস (1)
  • ফাল্গুনী ঘোষ (6)
  • ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় (6)
  • বনবীথি পাত্র (17)
  • বনলতা সূত্রধর (1)
  • বর্ণনা রায় (2)
  • বর্ণালী চক্রবর্তী মৈত্র (1)
  • বলাকা সেন (1)
  • বাসব মণ্ডল (1)
  • বাসব মন্ডল (8)
  • বিতস্তা ঘোষাল (2)
  • বিদিশা দাস (2)
  • বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় (2)
  • বিপ্লব মিশ্র (1)
  • বিশ্বজিৎ দাস (6)
  • বিশ্বজিৎ দেব (1)
  • বিশ্বদীপ দে (1)
  • বুবুসীমা চট্টোপাধ্যায় (1)
  • বেথুন বেরা (3)
  • বেথুনবেরা (1)
  • বেবী সাউ (1)
  • বৈশাখী নার্গিস (2)
  • বৈশাখী রায় চৌধুরী (1)
  • ব্রততী সান্যাল (1)
  • ভজন দত্ত (15)
  • ভাস্কর হালদার (1)
  • মঞ্জু বন্দোপাধ্যায় রায় (1)
  • মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায় রায় (2)
  • মঞ্জু ব্যানার্জী রায় (1)
  • মনোজ আচার্য (2)
  • মনোজ দে (3)
  • মনোনীতা চক্রবর্তী (1)
  • মন্দিরা ঘোষ (1)
  • মমতা ভৌমিক (1)
  • মলয় রায়চৌধুরী (10)
  • মহুয়া ব্যানার্জী (1)
  • মানস চক্রবর্ত্তী (12)
  • মানস ব্যানার্জী (2)
  • মানসী গাঙ্গুলী (15)
  • মিঠুন চক্রবর্তী (2)
  • মিনতি ঘোষ (2)
  • মীনা মুখ্যার্জী (1)
  • মুকুলিকা দাস (1)
  • মৃণাল ঘোষ (1)
  • মৃত্তিকা মুখার্জী চট্টোপাধ্যায় (3)
  • মৃত্তিকা মুখোপাধ্যায় (1)
  • মৃনালিনী (1)
  • মৃন্ময় চক্রবর্তী (3)
  • মেঘ অদিতি (2)
  • মেঘশ্রী ব্যানার্জী (7)
  • মৌমিতা পাল (1)
  • মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায় (5)
  • মৌসুমী মৌ (2)
  • যুগান্তর মিত্র (24)
  • রঞ্জন মৈত্র (2)
  • রঞ্জনা বসু (4)
  • রত্নদীপা দে ঘোষ (2)
  • রাজর্ষি ঘোষ (1)
  • রাহুল গাঙ্গুলী (10)
  • রিমি মুৎসুদ্দি (1)
  • রিয়া চক্রবর্তী (4)
  • রীতম চট্টোপাধ্যায় (2)
  • রীতা ঘোষ (1)
  • রীনা রায় (3)
  • রুদ্র বোস (1)
  • রুমা অধিকারী (4)
  • রুমা ঢ্যাং অধিকারী (4)
  • রুমেলা দাস (1)
  • লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল (2)
  • লুৎফুল হোসেন (2)
  • শঙ্খসাথি পাল (4)
  • শঙ্খসাথি_পাল (1)
  • শমিতা ওঝা (1)
  • শম্পা মাহাতো (8)
  • শম্পা রায় বোস (1)
  • শর্বরী মুখার্জী ও সিলভিয়া ঘোষ (1)
  • শর্মিষ্টা দত্ত (11)
  • শর্মিষ্ঠা ঘোষ কবিতা (1)
  • শর্মিষ্ঠা দত্ত (18)
  • শর্মিষ্ঠা নাহা (1)
  • শাঁওলি দে (1)
  • শাপলা সপর্যিতা (6)
  • শামীম মনোয়ার (1)
  • শাশ্বতী সান্যাল (2)
  • শিল্পী দত্ত (4)
  • শীর্ষা মণ্ডল (3)
  • শুক্লা মালাকার (3)
  • শুক্লা মালাকার (1)
  • শুভ আঢ্য (10)
  • শুভদীপ চক্রবর্তী (1)
  • শুভদীপ মাইতি (1)
  • শুভব্রত দাস (1)
  • শুভময় মজুমদার (1)
  • শুভশ্রী সাহা (12)
  • শুভা গাঙ্গুলী (1)
  • শুভাশিস সিংহ (8)
  • শুভাশিস সিংহরায় (1)
  • শুভাশিস হালদার (1)
  • শৈবাল চক্রবর্তী (1)
  • শৈলেনচৌনী (1)
  • শোভন বাগ (2)
  • শোভন মণ্ডল (2)
  • শৌনক দত্ত (5)
  • শৌভিক চ্যাটার্জী (1)
  • শ্যামলী সেনগুপ্ত (3)
  • শ্যামা পদ দে (3)
  • শ্রদ্ধা চক্রবর্ওী (1)
  • শ্রাবণী সোম যশ (5)
  • শ্রাবণী সোমযশ (1)
  • শ্রাবনী সোম যশ (1)
  • শ্রীজিতা বেরা (2)
  • শ্রীময়ী চক্রবর্ত্তী (1)
  • শ্রীলেখা মুখার্জ্জী (9)
  • শ্রীশুভ্র (1)
  • সঞ্জয় ঋষি (1)
  • সঞ্জীব কুমার (2)
  • সঞ্জয় চ্যাটার্জী (1)
  • সন্মাত্রানন্দ (2)
  • সবুজ বাসিন্দা (সুপম রায়) (1)
  • সব্যসাচী সান্যাল (1)
  • সমর জানা (1)
  • সমিত মজুমদার (2)
  • সমীর দাস (2)
  • সম্বৃতা দাশরায় (2)
  • সর্বাণী সোম যশ (1)
  • সাত্যকি (1)
  • সিলভিয়া ঘোষ (11)
  • সিলভিয়া ঘোষ (2)
  • সুকলী সরকার (1)
  • সুকল্প দত্ত (1)
  • সুকান্ত ঘোষ (1)
  • সুকান্ত মজুমদার (1)
  • সুচেতা বিশ্বাস (5)
  • সুজন ঘোষ (1)
  • সুজাতা দে (1)
  • সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায় (3)
  • সুতপা সরকার (2)
  • সুধাংশু চক্রবর্তী (2)
  • সুনীতি দেবনাথ (1)
  • সুনৃতা মাইতি (2)
  • সুপম রায় (1)
  • সুপ্রকাশ মুখোপাধ্যায় (1)
  • সুপ্রতীম সিংহ রায় (1)
  • সুব্রত ব্যানার্জী (1)
  • সুব্রত ব্যানার্জ্জী (2)
  • সুব্রত মণ্ডল (4)
  • সুমন কুণ্ডু (6)
  • সুমন মণ্ডল (1)
  • সুমন সাহা (1)
  • সুমনা দত্ত (4)
  • সুমনা পাল ভট্টাচার্য (2)
  • সুমিত দেবনাথ (1)
  • সুমিতা মজুমদার (2)
  • সুশান্ত বর্ধন (2)
  • সুশান্ত হালদার (2)
  • সেলিম মণ্ডল (1)
  • সেলিম মন্ডল (1)
  • সোনালী ঘোষাল (1)
  • সোনালী মিত্র (1)
  • সোনালী সাহা (1)
  • সোমনাথ বেনিয়া (1)
  • সোমাদ্রি সাহা (1)
  • সোহেল ইসলাম (1)
  • সৌমনা দাশগুপ্ত (3)
  • সৌমলেন্দু ঘোষ (1)
  • সৌম্যদীপ রায় (1)
  • সৌরভ নীল (1)
  • সৌরভ বর্ধন (2)
  • স্নেহাংশু বিকাশ দাস (4)
  • স্বপন রায় (11)
  • স্বপ্ননীল (1)
  • স্বাতী চ্যাটার্জী ভৌমিক (4)
  • স্বান্তনা দাস (1)
  • হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (2)
  • হাসান রোবায়েত (2)
  • হিমাংশু চৌধুরী (1)
  • হৈমন্তী বন্দ্যোপাধ্যায় (1)

পুরোন সংখ্যা

সৃজন দর্শন

ফেসবুক পাতায় সৃজন

সৃজনের জনপ্রিয় লেখক

  • সম্পাদকীয়
  • সোহেল ইসলাম
  • চন্দ্রাণী বসু
  • ম্যারিনা নাসরীন
  • সম্পাদকীয়
  • অজিত রায়
  • জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি
  • মলয় রায়চৌধুরী
  • ভজন দত্ত
  • ভজন দত্ত

সৃজন লেখকবৃন্দ

জয়তী রায় ( মুনিয়া) তুষ্টি ভট্টাচার্য যুগান্তর মিত্র বনবীথি পাত্র ভজন দত্ত কৌশিক চক্রবর্ত্তী মানস চক্রবর্ত্তী অনিন্দ্য রায় সিলভিয়া ঘোষ মলয় রায়চৌধুরী রাহুল গাঙ্গুলী শুভ আঢ্য ঝুমা চৌধুরী দীপঙ্কর বেরা নন্দিনী পাল বাসব মন্ডল শম্পা মাহাতো শুভাশিস সিংহ দেবাশিস মুখোপাধ্যায় অনুপম দাশশর্মা জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় নীপবীথি ভৌমিক পারমিতা চক্রবর্ত্তী বিশ্বজিৎ দাস শাপলা সপর্যিতা অণুশ্রী ভট্টাচার্য্য মুখার্জী অরিজিৎ বাগচী শৌনক দত্ত অর্ঘ্য দত্ত জয়ীতা ব্যানার্জী গোস্বামী পবন বর্মন পিয়ালী বসু ঘোষ রুমা অধিকারী শঙ্খসাথি পাল সুব্রত মণ্ডল সৌমিত্র চক্রবর্তী অ্যাঞ্জেলিকা ভট্টাচার্য চন্দ্রাণী বসু চয়ন ভৌমিক পিয়ালী বসু পূবালী রাণা বেথুন বেরা মৃন্ময় চক্রবর্তী অনিন্দ্য সান্যাল অরুণাভ চট্টোপাধ্যায় এ কে এম আব্দুল্লাহ তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বীপ সরকার বিতস্তা ঘোষাল বিদিশা দাস বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় মনোজ আচার্য মিঠুন চক্রবর্তী রত্নদীপা দে ঘোষ সন্মাত্রানন্দ সুধাংশু চক্রবর্তী সুনৃতা মাইতি সুমনা পাল ভট্টাচার্য সুশান্ত হালদার হাসান রোবায়েত অঞ্জলি সেনগুপ্ত অভিষেক ঘোষ অরুণজীব রায় অর্কায়ন বসু ইন্দ্রজিৎ দত্ত উমাপদ কর ওয়াহিদা গৌতম যুথিপুত্র জাকিয়া জেসমিন যূথী জুবায়ের আহম্মদ জয়তী অধিকারী দীপান্বিতা বসু নির্মাল্য বিশ্বাস পীযূষকান্তি বিশ্বাস প্রণব বসুরায় প্রণবেশ সরকার প্রবীর বিকাশ সরকার বিপ্লব মিশ্র ব্রততী সান্যাল মুনিয়া রাজর্ষি ঘোষ শঙ্খসাথি_পাল শুভময় মজুমদার শুভাশিস সিংহরায় শ্রীশুভ্র সব্যসাচী সান্যাল সুব্রত ব্যানার্জী সেলিম মন্ডল সোনালী ঘোষাল সৌমলেন্দু ঘোষ সৌম্যদীপ রায়
ব্লগজিন-এ প্রকাশিত সমস্ত লেখা স্ব-স্ব লেখকের অনুমতি ব্যাতিত অন্য কোথাও প্রকাশ নিষেধ. অসাধারণ ইঙ্ক. থিম. Blogger দ্বারা পরিচালিত.