হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

              



পৃথিবীর শেষ বিন্দু

------------------




জানলা দিয়ে দেখলাম

রাত একটা দুটো তিনটে চারটে পায়ে দাঁড়িয়ে আছে

সময় গেলে পায়ের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে হয়

আসলে রাস্তা দিয়ে যারাই যাচ্ছে

প্রত্যেকেই একটা করে পা রাতের গায়ে বসিয়ে যাচ্ছে

একটা একটা করে বন্ধ হচ্ছে দরজা জানলা

নিজের অন্ধকারেও তারা বেশ ডুবে

সবাই চারদেওয়াল পড়ে আর

ঘরে বাইরে অন্ধকারকে মিলিয়ে দিতে চায়


প্রাচীন ঠাকুমা জল চাইল আর

তৃষ্ণার্ত বাক্যবন্ধটা চারদেওয়ালে ঠোক্কর খেতে খেতে

ছাদের দেওয়াল ফাটিয়ে রাস্তা দিয়ে গড়িয়ে চলল


লক্ষ লক্ষ বাড়ির ছাদ বিস্ফোরণে উড়ে যাচ্ছে

আর পৃথিবীর কোটি কোটি রাস্তা অলিগলি দিয়ে

ধেয়ে আসছে পাহাড়ী শক্তিতে তৃষ্ণার স্রোত

পা রাখার জায়গা নেই

পৃথিবীর শেষ বিন্দুটাও 

এইমাত্র মহামিছিলে হারিয়ে গেল। 




রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

                                                             




 বর্ষা সিরিজ 

-------------





এক



বর্ষার বৃষ্টিতে মাকে কোনোদিন মাথা বাঁচাতে দেখিনি। বৃষ্টি মাথায় মা পায়ে পায়ে হেঁটে আসত। টোকা এগিয়ে দিলে বলতো, মায়ের আদর আড়াল করতে নেই। অবাক হয়ে ভাবতাম, কোন পথ দিয়ে মা দেশের কাছে গেল! দেশকে কতটা বুকের কাছে আনলে বৃষ্টিকে মায়ের আদর বলা যায়। 



দুই 



খুব ছোটোবেলায় বিজুকাকার কাছে যে নদীর গল্প শুনেছিলাম বড় হয়ে তাকে কোথাও খুঁজে পাই নি। আসলে বিজুকাকার নদীর কোনো নাম নেই। গ্রামের প্রত্যেকটা বাড়ির ভেতর দিয়ে গেছে সে নদী। যে বিজুকাকার পাতে মাছ মানে স্বপ্ন, বর্ষায় নদীতে মাছ পেলে গোটা গ্রামে ঘুরত সে মাছ। গ্রামের আগে আমাদের শব্দটা বিজুকাকা এমনভাবে উচ্চারণ করত যে মনে হতো চোখের সামনে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে সে আর বুকের মধ্যে বাজছে একটা মিষ্টি আওয়াজ। 



তিন



পাতা থেকে গড়িয়ে টপটপ করে হাতের ওপর এসে পড়ে জল। কথার মতো করে তাদের শোনা যায়। মেঘের ওপর যে ক'টা  কথা লেখা হয়েছিল তার অনেকটাই হাতে হাতে পড়া নেওয়া যায়। এমন মিল থাকবে আমরাও ভাবি নি। এখন প্রত্যেকর মুখ পড়া যাচ্ছে বলে আমাদের পায়ের নিচেটা কেমন যেন শক্ত শক্ত ঠেকছে। 



চার 



চারপাশ মেঘে কালো হয়ে এলে অনেকেই গর্তে গা ঢাকা দিয়েছিল। কে যেন খবর এনে দিয়েছিল বৃষ্টিই হবে না। গর্তের সংসার সাজিয়ে বসেছিল এমন কিছু মুখের শুকনো ঘোলাটে চোখ দিয়ে বয়ে গিয়েছিল নদী। দুই জলের প্রকৃতি ভিন্ন হওয়ায় কারও কাছেই কোনো হাত পৌঁছায় নি। এর পরের ইতিহাস একতরফা। অনেক দিন পর্যন্ত হাঁটু জলে ঢেকেছিল পথ।