উল্টে দিলে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
উল্টে দিলে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৭

তুষ্টি ভট্টাচার্য

                                  উল্টে গেলে-৪ 

    তা টুজোপুজো তো দিব্যি কেটে গেল দৌড়ে দৌড়ে টুজোপুজোকে চেন না? টুজো হল ওই যে সেই দুজো ছিল না, তার নাতি দুজোকে চেন নিশ্চই, না চিনলে আর ক্রিকেট ক্রিকেট খেলিখেলা কর না! এই টুজো কিন্তু বংশগতভাবে একটা গুণ পেয়েছে বল ওর হাত থেকে ফস্কে বাউন্ডারির বাইরে কিছুতেই যায় না ওর ভাবলেষহীন মুখ দেখলে মনে হবে, এই যাঃ! ফস্কে গেল বুঝি ক্যাচটা! কিন্তু দেখা গেল ঠিক সময়ে ঠিক মত বডি মুভমেন্ট করে ওর দুহাত ঠিক বলের তলায় এঁটে গেল ফেবিকুইকের মত এই টুজো না থাকলে এবারে পুজো তো কার জলে যেন হাবুডুবু খাচ্ছিল আর ভেসেই চলে যাচ্ছিল প্রায় ঠিক দুদিনের মাথায়, যখন পুজো যাই যাই করছে, উড়ে গিয়ে ক্যাঁক করে ধরে ফেলল তার টুঁটি ফলে পুজোর আর ভেসে যাওয়া হল না কেচ্ছার গন্ধ পাচ্ছ না? এইবার সনাতন বাঙালি জেগে উঠবে। পুজো কার জলে কোথায় কেলি করল, কে ভাসাতে গিয়েও তাকে ভাসাতে পারল না...তাহলে সরিয়ে সরিয়ে বলি শোন! রস আর সর হল দুই যমজ ভাই রস গড়ালে সর ফেটে যায়, আর সর পড়লে রস জমে যায় এমনই এদের আদায়-কাঁচকলায় সম্পোক্ক এবার এই আদা আর কাঁচকলা, সর আর রসে মিলে কী কেলেচ্ছাটা করল বলি অত অধৈর্য হলে চলে না বাপু! কেচ্ছা-টেচ্ছার একটা আলাদা ইমেজ আছে, ভলিউম আছে, সার্কাজম আছেআরও অনেক কিছু আছে, তোমরা বুঝবে না বলে আর বলছি না একদিন রস শুক্তো রান্না করবে বলে আনাজ কাটছিল রসের শুক্তো বাওয়া! তেতো হবে নি কো কিছুতেই! তা রস পেঁপে কাটল, কাঁচকলা কাটল, আলু কাটল, আরো গাদা গুচ্ছের কী কী সব কাটান কুটোন করল কিন্তু উচ্ছে বা করলা কাটল না তাই দেখে সরের কী পিত্তি জ্বলানো হাসি! শান্তিময়ের মত অনেকক্ষণ ইকো-টিকো দিয়ে হাসার পরে থামল বটে, কিন্তু ভ্রুটা কুঁচকে গেল ওর পার্মানেন্টলি ভাব একবার, যে সর মেখে এককালের ললনারা ভাঁজ-টাঁজ আটকাতো, তারই কপালে ভাঁজের পর ভাঁজ আর এই হল গিয়ে ক্লাইমেক্সের শুরু! রস আনাজ ফেলে ছুটে এল, যতই আদা-কাঁচকলা হোক না কেন, আফটার অল যমজ তো! সে পরম মমতায় সরের কপালে হাত বুলিয়ে দিতে থাকল আর কাঁদতে থাকল। ওর চোখ থেকে অনবরত জল ঝরছে দেখে সরের তো কপাল আরও কুঁচকে উঠেছে, দিকে রসের হাত বুলনোর চোটে কপালটাও বেজায় চ্যাটচ্যাট করছে, আরেকদিকে রসের কান্না! সর তো আর রসিক না, বেজায় খেঁচো লোক, তাই ক্যাঁকখ্যাঁক করে গলা দিয়ে এমন বিচিত্র আওয়াজ তুলল যে সে যাত্রা রস রণে ভঙ্গ দিয়ে আবার শুক্তোয় ঢুকে গেল। উচ্ছে, করলা ছাড়া রস এমন মিষ্টি শুক্তো বানালো যে, তা খেয়ে ইতিহাসের পাতা ছিঁড়ে ফেলল সবাই একে একে। সেই থেকে শুক্তোর নাম আর কোন ইতিহাস বইতে হাজার খুঁজলেও পাবে না। হ্যাঁ এইবার আসি সেই কেচ্ছার কথায়।    
    পুজো এমনিতে বেশ ভালই। ভাল মানে প্রেম-ট্রেম করলেও কেচ্ছার ধারেকাছে যায় নি। টেচ্ছার সঙ্গেই ছিল ওর গোপন আঁতাত। কেমন সেটা একটু ডিটেলে বলি আগে। ধরা যাক, পুজোর মনে খুব ভাব এসেছে, ও চোখ টিপে কেচ্ছাকে ডেকে নিল। কেচ্ছাও ল্যাংল্যাং করে ইনিভিসিবল ম্যানের মত এসে দাঁড়িয়ে পড়ল পুজোর গায়ে গায়ে। তারপর চলল, খুব ফষ্টিনষ্টি। কিন্তু দেখতে কেউ পেল নাই। সবাই ভাবল পুজোর একটু মাথার গন্ডগোল হয়েছে আবার, একা একাই হাসছে, গাইছে, খোঁয়ারি কচ্চে। ফলে কেচ্ছা আর হল না। টেচ্ছা আবার ভালমানুষের মত মুখ করে কেটে পড়ল হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে। অ্যাকচুয়ালি, মাটিতে পায়ে হেঁটেই যাচ্ছে, লোকে ভাবছে হাওয়ায় ভাসছে, মানে লোকে আদৌ কিছু ভাবছে না আর কী! ভাবার স্কোপ রাখলে তো! তো, সেবার পুজো এভাবে ঘোমটার তলায় খ্যামটা নাচতে খুব বোর হয়ে গেছে। টেচ্ছাকে আর ডাকে নি। ভাবল এবার কেচ্ছার সঙ্গেই একটু ইয়ে করা যাক। যেমন ভাবা তেমনিই ফট করে কেচ্ছা সশরীরে হাজির। সে আবার অন্তর্যামী কিনা। পুজো প্রথমটায় একটু ঘাবড়ে গেলেও, পরে যো হোগা দেখা যায়ে গা… ভেবে নিয়ে কেচ্ছার সঙ্গেই ওর তাইরেনারেটা শুরু করে দিল। ব্যাস্‌, যা হবার তা হয়ে গেল এবার। সবাই দেখছে ওদের কেলোর কীর্তি, মোবাইলে রেকর্ড পর্যন্ত করে নিল কয়েকজন… উফফ, কী দারুণ জমাটি ব্যাপারস্যাপার গো সে! রস আর সরও দেখেছে সব। রস তো গড়িয়েই পড়ল আনন্দে, আর সর ফুলে আরও মোটা হয়ে গেল। এদিকে টুজো তো তখন ক্ষেপে বেগুনি হয়ে গেছে রাগে। ওর পশ্চিম ভারতীয় রক্তে তুফান উঠেছে। দাদাঠাকুরের দেওয়া সেই বিশাল গ্লাভসখানা পরে নিয়ে বাড়ি থেকে হনহন করে বেরিয়ে পড়ল। আর এসে দাঁড়াল সোজা কেচ্ছার সামনে। তাপ্পর এক সপাটে গ্লাভস হাতের চড়!! কেচ্ছার প্যান্ট হলদে থেকে কমলা হয়ে গেল, চোখে নীল, বেগুনি আভা, গালের চামড়া থেকে ধোঁয়া উঠছে… সেই অবস্থায় ওকে চ্যাংদোলা করে টুজো ওকে ছুঁড়ে ফেলে দিল চলন্ত ভ্যাটের গাড়িতে। আর পুজোকে এমন ধমকালো যে পুজো কেচ্ছা আর টেচ্ছা দুজনের নামই একেবারে জিন্দেগি থেকে ধুয়ে ফেলল সার্ফ এক্সেল দিয়ে।       
  তো, সেই টুজো আর পুজো, মানে লিড রোলে যারা আছে তাদের কথা কওয়াই হল গিয়ে বুদ্ধিমানের কাজ দুজো, পূজা, খাজা, গজাএমন সাইড রোলের পাবলিক পাঁউরুটি, ঘুগনির লোভে অনেক আসে, অনেক যায় টুজো কিন্তু খুব স্মার্ট, একটুও কুঁজো না, এমনকি লাইফে কোনদিন কুঁজোর জল পর্যন্ত খায় নি আর পুজো একদম লক্ষ্মী হয়ে গেছে সেই থেকে। টুজোকে ফলো করে সোজা মর্তের দিকে গুটিগুটি পায়ে চলে এসেছে। এসে সোজা প্যান্ডেলে উঠে বসে আছে। টুজোর যথারীতি সব দিকে নজর। চুন থেকে পান খসার উপায় নেই। সব কিছুই ঠিকঠাক মত চলছিল। কিন্তু অষ্টমীর দিন কোথা থেকে যেন মেঘ-টেঘ এসে বৃষ্টি জুড়ে দিল। টুজো আবার ফুঁসতে শুরু করল, গ্লাভস জোড়া আনে নি বলে খুব আফসোস হচ্ছে এখন। মনে হচ্ছে খালি হাতে ফিল্ডিং করার অভ্যেস যে কেন ছেড়ে দিয়েছিল ও! যত নষ্টের গোড়া ওই দাঠাকুরের গ্লাভস্‌! না দিলে হয়ত বাজার থেকে কিনে পড়ত, কিন্তু দুজোর গ্লাভস বলে ফান্ডা দেখাতে গিয়ে সারাক্ষণ তো আর হাতে এঁটে রাখত না! এখন মাঝেমাঝে ওর মনে হয়, ওর হাতের পাঞ্জা দুটোই আর নেই, হাতের চেটোয় নিজের চামড়ার বদলে, গ্লাভসের চামড়া গজিয়েছে। জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে একবার হাত দেখাতে গেছিল ও, গ্লাভসশুদ্ধু হাত পেতে দিয়েছিল লোকটার সামনে। তারপর তার ধমকে গ্লাভস খুলে দেখাতে তিনি বললেন, ‘যান মশাই, আপনার হাতের রেখা সব মুছে গেছে। বেকার খাটালেন আমায়। পাথরটাথর যে দেব, তারও সুযোগ নেই। কী করতে এসেছেন এখানে, অ্যাঁ!!’ ভিজিট দিয়ে মানে মানে সেখান থেকে পালিয়ে বেঁচেছিল সে যাত্রা। এবার সেই মুছে যাওয়া ভাগ্যরেখা নিয়ে খালি হাতে মেঘের সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে হবে ওকে। মনের জোর পাচ্ছে না যদিও, হাঁটুদুটো অজান্তেই ঠকঠক করে কেঁপে গেল...শূন্যে ঘুসিটা ছুঁড়ে দিল চোখ বুজে, হাওয়া কেটে সাঁই করে আওয়াজ হল শুধু। মেঘকে একচুলও নড়ানো গেল না। এরপর আবার সর্বশক্তি দিয়ে মারল, আবার, আবার... শরীরের সমস্ত শক্তি শেষ হয়ে গেছে টুজোর, ও নিজেই বুঝতে পারছে এবার ও হেরে যাচ্ছে, ক্লান্তিতে ওর শরীর এলিয়ে পড়ছে, চোখ বুজে আসছে, জ্ঞান হারানোর মুহূর্তে ও বুঝতে পারল মেঘ প্রচন্ড গর্জন করে উঠল জয়ের আনন্দে, বৃষ্টি এসে গেছে আর পুজো নির্লজ্জের মত সেই বৃষ্টিতে ভিজছে!     

   শেষে কিন্তু হাল ধরল সেই দুজোই। মানে দুজোর ভূত এসে এক্কেবারে ঘাড় মটকে দিল মেঘের আর বৃষ্টিকে তুলে এমন আছাড় মারল যে তার ৭৭খানা হাড় ভেঙে গুঁড়িয়ে গেল। শোনা যায়, মেঘ আর বৃষ্টি ৩৩দিন ছেরামপুরের ওয়ালশ হাসপাতালের পাতালে ভর্তি ছিল। ওখান থেকে তারা আবার কালীপুজোর সময় উদয় হয়েছিল। সে গল্প অবশ্যি অন্য। পরে হবে কোনদিন।    

মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

তুষ্টিভট্টাচার্য

উলটেদিলে-৩
কামড়াবললআমড়ারটকখাবিকামড়িবলচুপকরদামড়াএইনাবলেদুজনেআমড়ারচামড়াছাড়াতেলাগলএমনসময়েএকভোমরাএসেবোঁবোঁকরেবললআমিওখাবআমিওখাবকামড়াআরকামড়িতোরেগেআগুনসমস্বরেবলেউঠলকামড়াওকেকামড়াকামড়াকামড়িকেওইমূর্তিতেদেখেভোমরাতোতখনদিলছুটঠিকএইসময়েইমৌমাছিরপ্রতিকামরাভরামধুজমেআছেদেখেগোমড়ামুখোএকছ্যামড়াগানধরলএভরাবাদরামাহভাদরাশূন্যমন্দিরহামরা!

গানশুনেততক্ষণেকামড়াঘুমেঢুলছেআরকামড়িরখালিহাঁচিআসছেআসছেনাকসুড়সুড়করছেঅথছহাঁচিহাঁচছেনাএএকবিরাটকেলোবুঝলেহাঁচিটাহলেএকটুদাঁড়িয়েপড়াযেতএখনকামড়িনাপারছেশুতেনাপারছেবসতেআরযেআমড়াগুলোচামড়াখসিয়েপড়েছিলসেগুলোবিড়বিড়করেবলেইফেললআরেআমরাকিবানেরজলেভেসেএসেছিআমরাওঘুমবোআমরাওঘুমবো

ভোমরাটাএকটুদূরথেকেমজাদেখছিলবলেউঠলআমোলোযা!! আমড়াগুলোআমরাআমরাকরেকীবলছের‍্যাখসেযাওয়াচামড়াখসখসেগলায়বললতুইযানাবাপুফুলেফুলে,দুলেদুলেমধুগেলগেতাপ্পরপেটফুলেমরগেভোমরাকইলমর্গেতোলাশথাকেহেকিচ্চুটিজানোনাইএদ্দিনেওইজন্যিতোমারচামড়াভর্তিদাদহাজাখোসচুলকানিযাওএবারনিজেইনিজেকেচুলকোওখুবকষেআমিততক্ষণেএট্টুসঅংককষিগে

পাণিনিকেমানেনিবলেএকটাওঅংকমিললনাসেভোমরাছ্যামড়ারসেওতখনওইগোমরামুখোছ্যামড়ারমতগলাসাধতেলাগল – পানিধাপামানিধাপা....  শুনেসেইগোমড়াছ্যামড়ারকীরাগ!! গজগজকরেবলতেলাগলধাপারমাঠদেখিয়েছাড়লহারামজাদাধোপারবাচ্চাভোমরাওকমনাগুনগুনেসেওকইলঅ্যাইযেধোপাকারেকইচশুনিধপধপকরেহাঁটিবলেভেবনাআমিধোপাধবধবেজামাদেখেআমিতোমাকেমানিনিপাণিনিহলেমানতুমআমারঅংকগুলোমিলেযেতএযাত্রাতারপরআমরাদুজমেমিলেযাত্রাদেখতেধাপারমাঠেযেতুমতুমিহিংসেয়নিজেরচামড়াছাড়াতেছাড়াতেকামড়াকামড়িরসঙ্গেআমড়ারটকখেতেআরআঙুলচাটতেটকাসটকাসআমরাততক্ষণেঠকাসকরেমাঠেরমদ্দেবসেপড়েছিআরযাত্রাদেখেডুয়েটেগেয়েউঠেছি– নানানাআজরাতেআরযাত্রাদেখতেযাবনা!


যাত্রারকিআরদিনক্ষণহয়রেপাগলাওইযেকীসববারবেলা-টারবেলাআছেনাশুনলেইমনকারবালারকাছেচলেযায়আরভয়ানকবুকচাপড়েচিৎকারকরেবলেওঠেকালবেলারকাছেযাবইঠাকুরআমাকেআরকেউআটকাতেপারবেনাকালবেলায়ঘুমথেকেউঠবোনাপ্রমিসএকদমসক্কালসক্কালবেলানাবাড়িয়েবেলারকাছেচলেযাবযেমনভাবাতেমনিকাজপরেরদিনভোরেউঠেচলেগেলামবেলারবাড়িমুখেলেগেছিল – বেলাবয়েযায়ছোট্টমোদেরপানসেতরীসঙ্গেকেকেযাবিআআআআয়.......  আদৌকিন্তুসঙ্গীকরারইচ্ছেনেইকাউকেতবেফাইনালিবিধিবামবুঝলেনকিনাবেলানিজেইদেখিবেলাপাড়করেঘুমথেকেউঠলআরওরওইপিঁচুটিভরাবাসিমুখচোখদেখেবুঝলামবড্ডভুলকরেছিআজযেদিকেইযাবযেদিকেইতাকাবোপিঁচুটিছাড়াকিছুইপাবনাআরঠিকএইজন্যইঅঞ্জনদত্তবেলারফোননম্বরফাঁসকরেদিয়েছিলবেশএকটাহিংস্রআনন্দএলোমনেএটাভেবে


হিংস্রমননিয়েবেশিক্ষণআবারশান্তথাকাযায়নাকিছুএকটাখুনখারাবিবাভাংচুরনাকরলেমনেরভেতরঅহরহডুগডুগিবাজতেথাকেট্ররররররাক.....ট্রররররররাক.....ট্রররররাক....আরেসত্যিসত্যিইএকটালোকবাজাচ্ছেদেখিসামনেআমাকেজিজ্ঞেসকরলোভানুমতীরখেলদেখবিতুইবললবলেপিত্তিআরওচটকেগেলবললামবিনিপয়সারখেলহলেদেখবসেওদেখিদুটোপুঁচকেশুঁটকেমার্কাবাঁদরনিয়েআসরেনেমেপড়লতারপরযেমনহয়আরকীএলাফাচ্ছেতোওরফ্রকেরঘেরউলটেগিয়েন্যাংটোপুটোদেখাচ্ছে.... তোওরলালমার্কাপেছনদেখেভীষণরকমবোরহয়েউলটোদিকেহাঁটালাগালামতবেযাবারআগেবলেগেছিলামকমরেডএট্টুকমরেডহলেভালহতনাতারপরভাবলামএবারসত্যিসত্যিইএইডুগডুগিটাকেথামাতেহবেকীকরাযায়কীকরাযায়... ভাবতেভাবতেমাথায়পটাংকরেএকটাআবিস্কারেরহ্যালোজেনলাইট
জ্বলেউঠলো


সেইলাইটেসামনেদেখিকম্বোলাশআমারসামনেদাঁড়িয়েআরেতিনিহলেনকলোম্বাসেরজড়ুয়াভাইযিনিসাড়েছাপ্পান্নবছরআগেকুম্ভমেলায়বিছরেগেছিলেনআরসেইকুম্ভথেকেকৌপিনপরেএকেবারেসোজাগঙ্গারধারধরেহেঁটেএসেহাজিরহয়েছেনআমারসামনেআমিকিন্তুঠিকচিনেছিওঁয়ারেটুপিটালুক্কেফেললেকিআরটুপিপরারচিহ্নমোছাযায়তবেএরএইযাত্রাকিন্তুনটবরেরনানটবরলালেরওনাএইযাত্রাটানিউহেংআংস্টাইলেরনিউহেংআজকালনিউমার্কেটেরমরাসাহেবেরপোড়োবাড়িটায়থাকেসন্ধ্যেহলেইধেনোখেয়েহাহাকরেহাসেআরনেত্যকরেআরসেইলাচযেসেআলটুফালটুলাচনয়রেমা!একদমনটরাজইস্টাইলেরসঙ্গেপ্রভুদেবামেশালেযেফিউশনতৈরিহয়তেমনিতাএরপরআমিসেইকৌপিনপরাকম্বোলাশদাদাকেনিয়েগেলুমনিউমার্কেটেনিউহেংআরকম্বোদারহেব্বিদোস্তিহয়েগেলনিউহেংকম্বোদাদাকেসেইস্পেশাললাচশিখিয়েদেবেকথাদিলতোএখনদশটাকারপ্রশ্নএটাইগাইবেকেসঙ্গতকরবেকেআমিবললামকেনচন্দোবিন্দুব্যাসআরদেখেকেতাদেরএরপর.... ওদেরধেইধেইনেত্যরমাঝেআমিটুককরেসলটেগেলুমআহাসল্টনারেবাবাসলটেগেলুমমানেপালটেগেলুমমানেপাইলেগেলুমকিলিয়ার???????


যাবার আগে গূঢ়তম তত্ত্ব বলে যাই একটা ৷নিউহেং অং এসেছিলেন হিউয়েন সাং এর সঙ্গে ।তিনিও হারিয়েছিলেন কুম্ভমেলায় ৷এর পর বুঝে নিন - লাশ এর কম্বো প্যাক কে কী ভাবে বানাল ৷আমি যদি সব বলে দিই ,তাহলে এই গুড় থুরি গূঢ়ার্থ নিয়ে কচকচি যা কিনা কচকচ ডাঁটা চিবানোর মত ফালতু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে আমাদের সামনে ৷

শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০১৭

তুষ্টি ভট্টাচার্য


                    উল্টে দিলে-২ 

     বিশ্বাস করুন, এই কাফকাকে আমি চিনি না। কাফ সিরাপ চিনি, চিনির স্বাদও চিনি। কফির কাপ নিয়ে কাফি হাঙ্গামার কথাও জানি, কিন্তু কাফকাকে উল্টে দিতে পারি নি। কাফকার রূপান্তর হয় নি, অথচ তিনিই আস্ত একটা মানুষকে পোকায় বদলে দিয়েছিলেন! সেই যে পরমহংস বলে গেছিলেন, লোক না পোক, সেটাই অক্ষরে অক্ষরে চোখে খোঁচা দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন উনি। অথচ নিজে বদলালেন না একটুও।  কাফকা উল্টোলেও কাফকাই! কীমাশ্চর্যম!! সোজা উল্টোলে কঠিন, স্বর্গ উল্টোলে নরক, আকাশ উল্টোলে পাতাল, পৃথিবী উল্টোলে বিগ ব্যাং, ব্যাঙের জিভটা পর্যন্ত এমনি এমনি উল্টে যায়, আর মান্‌সের কথা কী কমু! তাদের জিভ খসানো কথা একবার উল্টোচ্ছে তো একবার পাল্টাচ্ছে। অথচ এই কাফকা সাহেব উল্টোলেন না এক চুল। উল্টোতে যে দম লাগে বাবা! এসব নিতান্তই আমাদের দেশী ব্যাপারস্যাপার। সাহেবসুবোর কম্ম না এটা।
        সে যাই হোক, উনি না উল্টোলেন তো আমাদের ভারি বয়েই গেল। এই যে ইদানীং আঁতেল গোষ্ঠী উল্টে যাচ্ছে, সেটা খেয়াল করে দেখেছেন? যেমন ধরুন, এদের তো নাক গুলো প্রচন্ড উঁচু উঁচু হত, সেই নাক আবার সব সময় কুঁচকে থাকত। যেন গুয়ের গন্ধে ভরে গেছে আশপাশ। গু নেই, তবু গন্ধ আছে। মানে গন্ধ সেও কিন্তু মন্দ বড়। ছন্দ নেই তাতে। ছন্দছাড়া গুয়ের যত মুখপোড়া গন্ধ ওই আঁতলগুলোর নাকেই ধরা দিত। হ্যাঁ, তাও আবার উল্টো হয়ে। মানে গন্ধ হয়ে গন্ধকের ঝাঁজের মত নাক জ্বালিয়ে দিত। গন্ধ কে আবার জিজ্ঞেস ক’রে বস না! গন্ধকের মত গন্ধের এবং সন্দের অনেক জ্বালাপোড়া হে! ওসব তুমি বুঝবে না। ঝিম মেরে বসে থাকো বোজা চোখে। যেন ধ্যানী বুদ্ধটি। আসলে তো হার হারামী বুদ্ধু টি! ঘাপটি মেরে বসে থেকে ভাঁজছে মুগুর। বাইসেপ-ট্রাইসেপ থেকে ট্রাই তুলে নিয়ে সেই তো আবার শেষে যাবে বাওয়া ক্রাইয়ের কাছেই! তাহলে আর আস্ফালন কীসের এত!! আস আস এবার ফলন ফলাও। আরেকবার ট্রাই কিয়ে, ট্রাই দিয়ে ভাজো তো দেখি খই। কই পাবে তা আমি জানি না বাপু! কই মাছ এখন আবার গাছে চড়েন না। এককালে চড়ত, একন তার ওব্যেস নেই আর। আর বাপুজীও কই মাছ জেবনে খান নি, খইও ভাজেন নি, তিনি তো চরকার চাকা ঘুরিয়েছেন, আমরা এখনও সেই চাকায় চাক্কি পিসিং এন পিসিং। পিসফুল নয় অবশ্য এই পেষাপেষি। বহুত গ্রীসফুল হাত চাই একখান। তবে না চাকা ঘুরবে বনবন! আর সেই চাকা গড়াতে গড়াতে নিয়ে যাবে তোমায় হাড় হাভাতে কালের এক্কেরে ওই পারে। আহা, কালকে চেন না? কাল বলব তার কাহিনী। আজ শুনে রাখ কান খুলে ওপারের গপ্প। ওপারে সর্বসুখ আছে জান তো? নদীর আর কী! সে এপার ওপার দুই পারের কাছের লোক। সে নির্বিকার বয়ে চলে আকারের দিকে। হাঁ করে দেখছ কী? আকার হল সাকারের যমজ। আকারের কান্না পেলে সাকারের হিসু পায়...এইরকম ওদের হল গিয়ে ব্যাপারস্যাপার। আর র‍্যাপারকে চেন? র‍্যাপার হইল গিয়া ব্যাপারীর মোটা চামড়া। আর চামড়ায় চামড়ায় ঘষা খেলে নুনছাল উঠে গিয়ে সে হয়ে যায় সেই কালের ফোঁস করে ফেলে দেওয়া দীর্ঘশ্বাস। আর এই যে ফেলে দেওয়া হল, ব্যাস্‌ আর কোন চিন্তা নাই এবার। আনন্দ আর সদানন্দের মিলনমেলার তাঁবু পড়ে যাবে মাঠে।
     একটা গপ্প শোন তাইলে। এইবার সেই মাঠে গিয়া কাফকা সাহেব কী কেলেচ্ছাটা করল বলি। মাঠে ফুরফুরে হাওয়া খেতে খেতে তিনি দিব্যি পায়চারী করছিলেন। হঠাৎ দেখলেন সাইডের ঝোপটা যেন একটু নড়ে উঠল। কাছে গিয়ে দেখেন একটা লোক ওখানে অ্যা করছে। তিনি বেশ ঘাবড়ে গেছেন এই দৃশ্য দেখে। তখন আর সেই দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, মাঠের সবুজ ঘাস আর তার ঘাসফুলের শোভা দেখার কথা আর মাথায় রইলো না তাঁর। এভাবে ওপেন টয়লেটের কোন ধারণাই ছিল না তাঁর। এও কী সম্ভব!! আর যেই না ভাবনাগুলো জট পাকাতে থাকল তাঁর মাথায়, তাঁরও বেগ এসে গেল। আর সে বেগের জোরও সাহেবের গায়ের জোরের মতই। অতএব আর কোন উপায় নেই বলে আশ্রয় নিলেন সেই ঝোপের পিছেই। কাজ মিটলে পাশে তাকিয়ে দেখলেন, এক ব্যাটাচ্ছেলে তার দিকে তাকিয়ে হলুদ দাঁত ক্যালাচ্ছে। চোখে চোখ পড়তেই বলল, কী সাহেব, কেমন হেগে সুখ হল বল! খোলা মাঠের ফুরফুরে হাওয়ায়...পাছায় ঘাসের সুড়সুড়ি... এইবার আর ‘না’ কর না। বদলে যাও প্লিজ! ঘাসফড়িং হয়ে এখানেই থেকে যাও। আর দেখ, তোমার এই ধলা চামড়ার অ্যা আর আমাদের কালা চামড়ার অ্যা’র রঙ কিন্তু এক। এই তো বর্ষা এসেই গেছে, এবার দুই অ্যা মিলেমিশে মাঠে সার হবে। ঘাসের বাড়বাড়ন্তও হবে, তেমনি ঘাসফড়িং-এরও। আর বেগড়বাই না করে এবেরে বদলেই যাও, কেমন? 
     সাহেব তো ততক্ষণে রেগে অগ্নিশর্মা! কী এত্ত বড় সাহস! আমাকে বদলাতে কয়!! আমি উল্টে যাই না, বরং অন্যদের ওল্টাই। আর আমার অ্যা তুলে কথা! যত বড় মুখ নয়, তত বড় অ্যাঁ!! ছোড়েঙ্গে নেহি, সব কটাকে এবার পোকা নয়, ভাল্লুক বানাবো। দেখি কে তোদের বাঁচায় এবার।
     সেদিন রাতে আবার ফ্রয়েড সাহেব এসে হাজির। তিনি দেখলেন, তাঁর বাংলোর চারপাশে গাদা গাদা ভাল্লুক ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভয়ে তিনি তক্ষুণি তাঁর এযাবৎ যত স্বপ্ন ছিল, তাঁদের দোষ ধরতে শুরু করলেন। তাঁর প্যান্ট হলদে হয়ে গেলে বুঝলেন, একেই বলে সাক্ষাৎ স্বপ্নদোষ! কাফকাকে ডেকে বললেন, বুঝলি, ওই মাঠই বেস্ট! চল আমরা মাঠ হয়ে যাই গে বরং। কাফকার রাগ তখনও কমে নি। আরও রেগে গিয়ে বললেন, কী!! গে হব! তুই ব্যাটা বরাবরের অসভ্য লোক, মাথায় খালি উল্টো চিন্তা, তুই হারামি মাকেও ছাড়িস নি... তোর সঙ্গে গে হব! কচুপোড়া হব। তবে মাঠের আইডিয়াটা মন্দ না, বুঝলি। ফ্রয়েড বললেন, যাব যে, কিন্তু ওই গাদা গাদা ভাল্লুকগুলোর চড় খেয়ে যদি আমরা সসেমিরা হয়ে যাই? কাফকার উত্তর – ধুর ধুর! ওরা তো আমারই সৃষ্টি। এক্ষুনি ওদের চামচিকে বানিয়ে দিচ্ছি। এবার চ!

    আমরা দেখলাম চ-এর মত রাশি রাশি চামচিকে চাদ্দিকে উড়ে বেড়াচ্ছে আর মাঝ মাঠে কাফকা আর ফ্রয়েড গামছা পরে বসে ধামা ধামা মুড়ি-আলুচ্চপ সাঁটছে। আমাদের আর কীই বা করার আছে! দেখেশুনে চোখ পচে গেছে, ফলে যে যার মত যেদিকে ইচ্ছে হাঁটা দিলাম এবারের মত।     

বুধবার, ১৪ জুন, ২০১৭

তুষ্টি ভট্টাচার্য

  উল্টে দিলে  

      উল্টো না উটলো। উঠল না রে বাবা! উলঠে যায় না কিছু। মিছু পিছু নিয়েছে বলে ভেব না ঘাবড়ে যাব। ঘাড়বে ঘাম তো এমনিই নামছে, গরমে। গমর মানে জান? গরু মরেছে রবে। হায়ও রাব্বা!! এ সব কী ব্বাবা? পান্তাবুড়ি আনতাবড়ি রাবড়ি খেলে এমন হয়। লালু না আলুও না, বাবড়ি চুলের সাঁই গো সে। হেব্বি হাইফাই। দিনরাত সাঁইসাঁই সাইকেল চাল্লে পৌছয় হনুমানের কাছে। তাপ্পর চল্লিশ বার নমো করে চালিশা পড়ে নালিশ করে ভীষণ! বিভীষণ জেগে উলঠে যা হয় আর কী! নাহ! আন্না ব্বাবা! যাইগে নাইগে...
       নাইবার কথায় খেয়াল হল, সাবানের ফেনায় সেবার পা হড়কে সে ক্ষী অবস্থা গো মা! পা’টা সেই যে গেল, আর ফিরে এলো না। সেই থেকে আর সাবান মাখি না। কসম সে! সচ্চি!! একটা গামছা দে চামড়ায় ডলা দিই আর কিছু ছালের সঙ্গে ময়লাগুলো ডেলা পাকিয়ে দড়ির মত উঠে আসে। আর সেই দড়ি বে বে আমি উঠে যাই স্বর্গের সিঁড়ির একদম কাছে। আর পৌঁছেই মনে হল, এই যাঃ! গা মোছাই তো হল না! সেই ভেজা গায়ে স্বর্গের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে হাওয়া খেয়ে সেবার আমার নাকের জলে, চোখের জলে অবস্থা। মানে কোনটা চোখের আর কোনটা নাকের, কেমন যেন গুলিয়ে গেল। আর গুলিয়ে গেলেই আমার ধেবড়ে যায়। পেটের মধ্যে কেমন একটা ভুটভাট ভটভট আওয়াজ দিয়ে কেউ একটা সাইলেন্সার ছাড়া বুলেটে স্টার্ট দিচ্ছে মনে হয়। না গো, সত্যিই বলছি, গ্যাস হয় নি। থোরিসি রুমানি হয়েচে। রুমানি বোঝ না? রুমালী রুটিকে কেটে কেটে ছোট টুকরো করলে রুমানি বলে। তা সেই রুমানি গুলো খেয়ে ব্রেনটা কেমন যেন আউল্যা হয়ে রয়েছিল কদিন ধরেই। বুঝলাম গত জন্মের বাউল মেলার পরবর্তী এফেক্ট এটা। তা আমায় দেখে কে যেন আওয়াজ দিল – পুরো ঝলিসে দিলে মাসীমা! মাসীমা বললে আমার হেভভি মজ্জা হয় আর অসীমের কথা মনে পড়েসেই যে অসীম, যে কিনা কোন এক ভূতুড়ে দুক্কুরে গলুইয়ের ভেতর একটা আস্ত নৌকোকে পাচার করে দিয়েছিল। পাচার বোজ নি? আরে যেভাবে গরু পাচার হয় সীমানা ডিঙিয়ে। তারপর থেকে অসীম স্রেফ হাওয়া হয়ে গেছে। হাওয়া মানে বোঝ তো? এই যে বাতাস গো, বাতাস, যেখানে অক্সিজেন কম, কার্বন বেশি। তা সেই অক্সিজেন কম, আর কার্বন বেশি অসীমের তাপ্পরই মাকে মনে পড়ে যায়।  
       মার পড়লেই পিঠের কথা আসে। পিঠ মানেই শিরদাঁড়া। আর সেখান থেকে নেমে এলো একপ্রকার স্রোত, যাকে আবার কারেন্টের ছ্যাঁকা ভেবো না। সে হল গিয়ে একপ্রকার হিম, এক হিমু আর আরেক হিমি, যাদের নিয়ে সবাই হিমসিম খেতে খেতে ঠিক করল এভাবে আর চলতে পারে না। কে যেন চিমটি কেটে বলে উঠল, এই গমরে তো হব্বি ভুলভাল বকছো ঠিকঠাক বকনা। আরে, বকনা গাই কিনেছিনু একবার। তারপর সে কী দুলুনি মাসীমাগ! ম্যাগি খেয়ে থামল তাপ্পর থামলে কী হবে! টাফাটাফি খেলিছে বিশ্ব লয়ে সে এক অনাথ হিসু। আর ছেল এক ফাটা বাঁশ, কোথায় যেন! আমি আনিয়াছি তারে হেথায়। ফাটছে আর টাফছে। এই নিয়ে বাঁশাবাশিঁ আমাদিগের চলিতেছে গতজম্ম থিকা।
    গতজন্মের কথা জাতিস্মর মনে রাখে। আমার কি আর সেই সাধ্য আছে? সাধ থাকলেও সাধ্যে কুলোয় না। কুলোর বাতাস দিয়ে কে যেন এক্কেরে পিথিবির ওপারে ঝেড়ে দেয় আমারে। আর ওপারে গিয়ে দেখি, পাড় কই? কূলই নাই, তো পাড় কোনছার? বলছিলাম কী ছার, আপনার বোধবুদ্ধি হল গিয়ে অনেক হাই লেভেলের। আমার কূল আর কিনারা নিয়ে মাথা না ঘামালেই ভাল। এক তো এই গরমে হেব্বি ঘাম আর তাই নিয়ে তার হেব্বি ঘ্যাম, ভারী কারবারে আপনার দুর্মূল্য মাথাখানা ঘামালেই মানায়। এসব ছেঁদো ছিছিক্কারে আপনি কান দেবেন না ভুলেও কানকাটার মত। কানের অনেক দাম গো দাদা। দিদিদেরও তাই বলি। অযথা কানে তুলো দেবেন না। তাচ্চেয়ে বাডস ভাল। খোল বেরোবে গদগদ করে। আর তাপ্পরই আপনারা কানের তালা খুলে আচ্ছাসে শুনবেন ভাল ভাল কথা। ও হ্যাঁ, ভাল কাকে বলে জানেন? আমি ভাল। খুব ভাল। আপনিও ভাল, খুব ভাল। ওঁরাও ভাল, খুব খুব ভাল। আজ্ঞে হ্যাঁ, আপ ভাল তো জগত খারাপ। আর জগত ব্যাটার সেই যে ফাঁসি হল ক্ষুদিরামের সঙ্গে, সেই থেকে তার আর দেখা নেই। ক্ষার খেয়ে সেই থেকে আমিও রেডি। জগতকে খুঁজে আনা হল গিয়ে আমার নৈতিক কত্তব্য। না, না, এর মধ্যে নীতিকে টানবেন না পিলিজ! নীতির রীতির সঙ্গে জমজমাট পিরীত চলছে। ওদের বাড়া ভাতে বরং কিছু ছাই ঢালায় মন দিই আমরা। আর মনটনের কারবারে আমরা যারা টনটনে জ্ঞান নিয়ে জাহাজের ব্যাপারী, তারা একদমই থাকি না। আপনি তো সবই জানেন ছার! আপনে হলেন গে সর্বজ্ঞ গাধার মত পন্ডিত, থুরি সর্বজ্ঞ পন্ডিতের মত গাধা। আপনে জানবেন না তো কে জানবে! আদা খেলে গলাটা বেশ খোলতাই হয়। ভাষণ-টাসন দিতে যাওয়ার সময়ে আদা খুব উপকার করে। আদার মস্ত সুবিধে হল, তার কোন আঁধার নেই, এমনকি আধার কার্ডও লাগে না তার। এমনি এমনিই হরলিক্স খেতে খেতে যেকানে সেকানে সেঁদিয়ে যেতে পারে। অ্যান্ড আদার পারপাসও আছে কিছু তার। সেটাই একটু খোলসা করি। খোলস ছাড়াতে ছাড়াতে এবং ছরাতে ছড়াতে একা হয়ে যাওয়া আদা এরপর কেমন যেন ধাঁধার মত আচরণ করতে থাকে। মানে আদার ব্যাপারে থাকবে নাকি গলা খুসখুস সারাবে, নাকি তরকারিতে মিশে গিয়ে ঘেঁটে যাবে... তো স্যার, আপনি হলেন গিয়ে স্বয়ং এক ইয়াআআ বড় জাহাজ, আপনার আর আদার পারপাস নিয়ে মাথা ঘামানো শোভা পায় না। আর আমি বরং এই সু্যোগে শোভাবাজারের ঘাটে ছই দেওয়া নৌকো নিয়ে প্রচন্ড প্যাঁচ মারি গিয়ে। সে এক মস্ত সমস্ত প্যাঁচ যার মধ্যে সাতশো জিলিপি ইন্‌ক্লুডেড, বাকি কিছু ঘাটে দাঁড়িয়ে বিড়ি ফুঁকছে তখনও। সে যাই হোক, এই চ্যাপ্টার ছেড়ে দিন গে এবারের মত। আগে বড়হো... ফরওয়ার্ড মার্চ... অ্যাবাউট টার্ন...... নেক্সট্‌ট্‌ট্‌ট্‌!!!!!