সৃজনের রূপমহল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সৃজনের রূপমহল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১৮

-শুভশ্রী সাহা



সাজে বনেদিআনা


দেখা শব্দটি ভীষন আপেক্ষিক। আজ যাকে খুব সুন্দর লাগছে কাল নাও লাগতে পারে, মানে প্রথমদিন দেখে যাকে সুন্দরী লেগেছে পরের দিন তাকে দেখে মন বলে উঠল, দূর কই সুন্দর! এ দেখার অঙ্ক বড় জটিল।আসলে এই যে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এলো দেখার কারনে,  এর একটা বড় কারন
শৃঙ্গার। সোজা বাংলায় সাজগোজ। আপনার ব্যক্তিত্ব কে একমুহুর্তে জলো করে দিতে পারে ভুল সাজ।আবার সাজিয়ে দিতে পারে একদম অন্যরকম। শরীরের গঠন প্রায় এক সকলের হয়ত মুখস্রী গায়ের রঙ আলাদা হয়ে যেতে পারে একটু আদ্রু, কিন্তু পারফেক্ট সাজ আপনার অনেক ত্রুটি ঢেকে দিতে পারে। এই প্রসংগে বলি, বয়েস সাজে একটা বিরাট ভুমিকা গ্রহন করে।রবীন্দ্রনাথের পাশে প্রতিমা দেবীকে দেখুন কি শালীন লাগে ছবিতে, বিজয়া রায় সত্যজিত রায়ের পাশে এরা কেউ বহু সময়ে রঙ্গিন শাড়ীও পরেন নি। বয়সো চিত সাজেই তারা শ্রেষ্টা। ইন্দিরা গান্ধী জীবনেও শাড়ি ছাড়া কিছুই পড়েন নি, তাতে কি তার ব্যক্তিত্ব রাশ পেয়েছিল, তিনি ভারতের প্রতিভূ ছিলেন দেখেই বোঝা যেত। অথচ লোকে তাকে প্রিয়দর্শিনী ডাকত। সাজে বনেদিআনা বড় প্রয়োজন অথচ লোকে উলটোপথে ঘুরছে। সাজ গোজ আপনার ব্যক্তিত্ব  আপনার শিক্ষাদীক্ষা এবং আপনার অস্তিত্ব কে প্রেজেন্ট করে। ধরা যাক আপনি শিল্পী মানুষ

আপনার সাজের রুচি এবং বোধ শ্রোতার সাথে সেতু তৈরী করে নেবে সহজেই। আপনাকে সেক্ষেত্রে যেমন চাইছে দেখছে তেমন ভাবেই তৈরী হলে আপনি সার্থক। আপনি চিকিৎসক  উকিল শিক্ষিকা আলাদা বোধের সাজ আপনার জন্যে।মোটামুটি চল্লিশের পর বিশেষ করে পঞ্চাশের কোঠায় ঢুকলেই আপনার জন্যে বনেদী সাজগোজ রেডী। সেই সময় উগ্র মেকাপ রঙ্গিন চোখ ধাঁধানো শাড়ি, ঝোলানো দুল বিশেষ করে ড্রেস নৈব নৈব চ।

সুন্দরী বা সপ্রতিভ হতে গেলে  দেখানোবাজির স্টাইল করলে হবে না। হৃদয় থেকে তৈরী হতে হবে। নানাবিধ শাড়ি এখন বাজারে তাদের সাথে যথাযোগ্য সাজগোজ করলেই আপনি তৈরী। বয়েসের ভার যদি মুখেই বসানো থাকে তাহলে কি সাজগোজ হয় আসলে! সোনার গহনার জুড়ি নেই অল্প সল্পতেই আপনি দেবী হয়ে উঠবেন। কাদম্বিনী দেবীর কুঁচি দেওয়া ব্লাউজ, ব্রোজ দেওয়া ছিপ ছিপে শরীর,  জ্ঞানদা নন্দিনী দেবীর পরা কুচোনো শাড়ি  সাজের জগতের মাইল স্টোন। পরবর্তী ক্ষেত্রে ইন্দিরা দেবী,  নন্দিতা কৃপালিনী প্রতিমা দেবী লেডী রানু মুখার্জী এক সে বড়কর এক ছিলেন। সে বনেদীয়ানা চালিয়েছেন অমলা শঙ্কর,  রুমাগুহঠাকুরতা মমতা শঙ্কর,  অপর্না সেন শর্মিলা ঠাকুর রাখীগুলজার এদের কথা বলতেই হয়। চলচিত্র জগতে থেকেও এনারা নিজস্ব স্টাইলে চলেছেন বরাবর। মনে রাখবেন আপনাদের রুচিই সাজগোজে বনেদীয়ানাই আভিজাত্য বহন করে।

মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

পারমিতা চক্রবর্ত্তী

প্রাচীন যুগে রূপকথা 
_____________________


সৌন্দর্যের সংজ্ঞা যুগে যুগে বদলাচ্ছে তা আমরা আশেপাশের পরিস্থিতি দেখে বুঝতে পারি I আজকের দিনে সবাই যেখানে স্লিম ফিগার’-এর দিকে ঝুঁকছে, সেখানে অতীত হাতড়ালে আমরা দেখতে পাই চীনে ট্যাং বা তাং রাজবংশের শাসনকালে ব্যাপারটা ছিল ঠিক উল্টো। তখন স্থূলকায়, গোলগাল মুখ, লম্বা গাল এবং প্রশস্ত কপালের মেয়েদেরই সুন্দর বলে বিবেচনা করা হত। সুন্দর বা সুন্দরী কাকে বলব, মানে সৌন্দর্যের ভিত্তিটা কি ? বাহ্যিক সৌন্দর্য বলতে আমরা বুঝি ত্বক , চুল , দাঁত , নখ ইত্যাদি , ইত্যাদি ৷

চুল সৌন্দর্যের বড় একটি বিষয় ৷ মধ্যযুগের বিভিন্ন চিত্রকর্মে মহিলাদের যেসব ছবি আমরা দেখি, তার সঙ্গে আমাদের বর্তমান সমাজের মেয়েদের সাজসজ্জার বেশ বড় একটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। প্রকৃতপক্ষে তখনকার সময়ে নিজের কপালকে স্বাভাবিকের চেয়ে আরো বড় এবং কিছুটা বাঁকানো রূপে দেখানোই ছিল সৌন্দর্যের পরিচায়ক। সেজন্য তাদের অনেকেই সামনের দিকের কিছু চুল কাটা কিংবা তুলে ফেলার মতো কাজটি করত। পরবর্তীকালে চুলবাঁধাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নানা কলাকৌশল ৷ পুরানো এক প্রবাদবাক্য আছে মেয়েদের কেশেতেই বেশ । বিভিন্ন ধরণের খোপা তাতে ফুলের ব্যবহার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে বারবার ৷


বড় নখ নারীদের প্রাচুর্যের প্রতীক ৷ নেইল আর্ট যুগ-যুগ ধরে চলে আসছে ৷ এককালে চীনের লোকদের হাতের নখ বড় রাখার চল ছিল। কিং রাজবংশের সময়কালে তাদের নারী-পুরুষদের হাতের নখ কখনো কখনো ৮-১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা দেখা যেত। কোনো কোনো নারীকে নখ ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে সোনার তৈরি নেইল-গার্ড ব্যবহার করতেও দেখা গিয়েছে। নখ বড় রাখার বিচিত্র এ চর্চা দেখা যেত মূলত ধনী সমাজের মাঝেই। তারা নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি দেখাতে নখের পরিচর্যা করত ৷ তারা এটা বোঝানোর চেষ্টা করত যে, এত টাকা-পয়সা তাদের আছে যে নিজ হাতে কাজ না করলেও দাস-দাসীদের দ্বারা দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পন্ন হবে ৷ দাস-দাসী দিয়েই জামা-কাপড় পরা ও খাওয়া-দাওয়ার কাজটা সেরে নিত তারা।

মধ্যযুগে এবং রেনেসাঁর সময়ে ইউরোপের নারীদের সাজসজ্জা শুধু মাথার চুল তুলে কপাল বড় করার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না। চোখের পাতার লোমকে তখন অতিরিক্ত যৌনাবেদনময়তার প্রতীক হিসেবে দেখা হত। তাই অনেক নারীই তাদের সেই লোমগুলো একেবারে তুলে ফেলতেন। এছাড়াও প্রাচীন গ্রিসে জোড়া লাগা ভ্রু ছিল নারীদের পবিত্রতা এবং বুদ্ধিমত্তার প্রতীক। এটা না থাকলে অনেকেই চোখের সুরমা ব্যবহার করে সেই ঘাটতিটা পূরণ করত।

জাপানি নারীদের প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস একেবারেই ছিল না ৷ আমাদের মাঝে গড়ে ওঠে সেই ছোটবেলা থেকে দাঁতের সুরক্ষা রক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দাঁতকে ঝকঝকে সাদা দেখানোও নিয়মিত এই ব্রাশ করার অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে জাপানি নারীদের মাঝে প্রচলিত সৌন্দর্য চেতনা ছিল এর ঠিক উল্টো। হাজার বছর ধরে জাপানি নারীরা তাদের দাঁতকে কালো রঙে রাঙিয়ে নিত। উনিশ শতক পর্যন্তও তাদের মাঝে এ চর্চা দেখা গেছে। সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি বিয়ের অঙ্গীকার রক্ষার একটা প্রতীকী রূপও ছিল কালো দাঁত।

আবার প্রাচীন ধনী রোমান সম্প্রদায়, আরো ভালো করে বলতে গেলে ধনী রোমান নারীরা তাদের দাঁতকে ঝকঝকে সাদা করার জন্য বেছে নিয়েছিল মানবমূত্রকে। সেই মূত্র দিয়ে ধুয়েই দাঁত পরিষ্কারের কাজটি তারা করত। তবে যেনতেন মানুষের মূত্রের উপর ভরসা করতে পারত না তারা। দাঁত পরিষ্কারের জন্য তারা শুধুমাত্র পর্তুগিজদের মূত্রই ব্যবহার করত। এজন্য জাহাজ ভর্তি করে জার পূর্ণ পর্তুগিজ মূত্র আসত রোমান নারীদের জন্য। মূত্রে থাকা অ্যামোনিয়া জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করত। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও সত্য যে, আঠারো শতক পর্যন্ত মাউথওয়াশ হিসেবে মূত্র ব্যবহৃত হয়েছে।

আঠারো শতকে এসে ইউরোপীয় নারীদের সৌন্দর্য চর্চায় পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। আগেকার সময়ের হালকা সাজসজ্জার বদলে তখন তারা বেশ ভারি সাজসজ্জার দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। এরই একটা অংশ ছিল বিভিন্ন ধরনের বিউটি প্যাঁচ। চাঁদ, তারা, বর্গ, বৃত্ত ইত্যাদি নানা আকৃতির বিউটি প্যাঁচ পাওয়া যেত তখন। ছোট ছোট সেই ফেব্রিকগুলো মুখের বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হতো। আর একেক জায়গায় লাগানোর অর্থ ছিল একেক রকম। যেমন- যদি কোনো নারী এমন বিউটি প্যাঁচ তার ডান গালে পরত তবে তার অর্থ হত যে, সে বিবাহিতা।


প্রাচীনকালের চীনের রূপচর্চায় ঢু মারলে দেখা যাবে তৎকালীন নারীরা তাদের ভ্রুকে কালো, নীল কিংবা সবুজ গ্রিজ দিয়ে রাঙাতে খুব পছন্দ করত। সেই সঙ্গে তখনকার ফ্যাশন অনুযায়ী ভ্রুকে দিত নানা আকৃতি। হান রাজবংশের সময়ে কোনো দিক নির্দেশ করা ভ্রুর স্টাইল বেশ জনপ্রিয় ছিল। আবার এককালে দুঃখের ভ্রুনামক একপ্রকার স্টাইল বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এই স্টাইল অনুসারে কারো ভ্রুকে মাঝখানের জায়গায় বাঁকিয়ে কিছুটা উপরের দিকে তুলে দেওয়া হত।

প্রাচীনকালের নারীরা ভিন্ন উপায়ে নিজেদের রঙিন রাখার চেষ্টা করত ৷ তবে সর্বতোভাবে রূপের আড়ালে লুকিয়ে থাকে সজীব মন ৷ তার পরিচর্যাই হল রূপচর্চার আসল চাবিকাঠি ৷ রূপ নিয়ে পুরুষ কিংবা নারীর উন্মাদনা চিরকালই ছিল বেশী ৷ তাই সেই রূপকে নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই । 


--------------------

"সৃজন" নিবেদন 

পারমিতা চক্রবর্ত্তী

শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০১৭

জয়িতা সরকার


কাজল নয়না
_____________
"কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক।
মেঘলা দিনে দেখেছিলেম মাঠে কালো মেঘের কালো হরিণ-চোখ"
ঘন কাজল চোখের আবেদন চীরকালীন....  চোখের ভাষা, কটাক্ষ, কিংবা তেড়ছা চোখে সামান্য দৃকপাত...  বদলে দেয় অনেক কিছুই....
কবিগুরু এমন কৃষ্ণকলির দেখা পেয়েছিলেন.... ময়নাপাড়ার মাঠে....  আর আমরা আজ কালো আর রহস্যময়  চোখের সন্ধ্যানে পারি দেবো মিশর.......
প্রাচীন মিশর মানেই ফ্যারাও এবং পিরামিড | কিন্তু এমন কখনও দেখেছেন যেখানে প্রাচীন মিশর দেখানো হচ্ছে অথচ রাজপুরুষরাজনারী অথবা অভিজাতদের চোখে মেক আপ নেই ?
তাদের সাজের প্রধান অঙ্গ ছিল চোখের চারপাশে মোটা করে আঁকা কাজল | শুধু সাজগোজ নয় কিন্তু | পিছনে ছিল অন্য কারণও |
খ্রিস্টের জন্মের ৪০০০ বছর আগে গড়ে ওঠা নীল নদের সভ্যতায় সমাধিতে দিয়ে দেওয়া হত রংতুলি এবং প্যালেট | যাতে পরলোকেও চোখের সাজে কোনও ত্রুটি না থাকে |
চোখের চারধারে মোটা করে কাজল দেওয়ার কারণ ছিল যাতে সূর্যের তীব্র তাপ থেকে কোমল ত্বক রক্ষা পায় | মরুভূমির দেশে বালির হামলা থেকে ওই সংবেদনশীল ত্বক রক্ষা করতে রুজপারফিউমড অয়েলগ্যালেনা পাউডার সব মিশিয়ে চোখ সাজাত মিশরীয়রা | এতে বালুঝড় এবং সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচত ত্বকের স্বাস্থ্য | রক্ষা পেত বিভিন্ন সংক্রমণ থেকেও |
শেষে এমন হলনারী-পুরুষ নির্বিশেষে অভিজাতদের সাজের অংশই হয়ে দাঁড়াল কাজল ঘেরা চোখ | এমনভাবে আঁকা হত যাতে বিড়ালের চোখের মতো দেখতে লাগে | স্মোকি এই লুক দেখা দিল মিশরের পিতৃতান্ত্রিক সমাজের প্রতীক হয়ে | মনে করা হতসাজসজ্জা ছাড়া যে চোখ থাকে তাতে নজর লাগে অশুভ শক্তির | এইভাবেই সাজসজ্জা আর সুস্বাস্থ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়েছিল নীল নদের সভ্যতা |

#মিশরীয়_যুগের_তিন_বিখ্যাত_রানী_সাজপোশাকের_সাতকাহন

#হাটসেপসুটস
মিশরের ইতিহাসে ফারাওদের রাজত্বকালগুলো বিভিন্ন রাজবংশেরশাসনে ভাগ করা। সেই ইতিহাসের আঠারোতম রাজবংশের বিখ্যাত রাজা ছিলেন প্রথম টুথমিস
খৃষ্টপুর্ব ১৫০৮ অব্দে তাঁর ঔরষে প্রধান মহিষী আহমেস এর কোল আলো করে পৃথিবীতে আসেন তাদের কন্যা হাটসেপসুটস।দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমতী এই কন্যাটি ছিল রাজার সবচেয়ে প্রিয়
হাটসেপসুট রানী হলেও তিনি যে একজন মহিলা এটা তাকে সব সময় স্মরণে রাখতে হতো। বিভিন্ন ধরনের আকস্মিক বাধা আর প্রতিকুলতা মোকাবিলার জন্য তিনি সবসময় তৈরী থাকতেন
জনগন যাতে মহিলা হিসেবে তাঁকে দেখে যেন কোনভাবেই অসন্তষ্ট না হয়তার জন্য তিনি তাদের সামনে আসতেন পুরুষের পোশাক পরে। এমনকি তিনি নকল দাড়িও ব্যবহার করতেন। তাঁর বেশিরভাগ মুর্তি ছিল পুরুষের পোশাক আর নকল দাড়ি লাগানো।
সেগুলো দেখে মনে হয় তার শারিরীক গঠনও ছিল অনেকটা অল্প বয়স্ক পুরুষের মত

#নেফারতিতি
মিশরীয় ভাষায় নেফারতিতি শব্দের অর্থএকজন সুন্দরীর আগমন হয়েছে
প্রাচীন মিশরীর এই রানী তাঁর অসাধারণ সৈন্দর্য্যের জন্য মৃত্যুর হাজার বছর পরে আজও পৃথিবী বিখ্যাত হয়ে আছেন। অনেক ঐতিহাসিকদের মতেই তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী, এখনও প্রকৃত সৌন্দর্যের মাপকাঠি হিসেবে নেফ্রেতিতিকেই বিবেচনা করা হয়
১৯১২ সালে এক প্রত্নতাত্বিক উৎখননের নেফ্রতিতির একটা অসম্পূর্ণ অবাক্ষ মূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছিল, এই মুর্তির মুখ সৌষ্ঠ্যব এই বিংশ শতকের কসমেটিক সার্জারির আউটলাইন হিসেবে অনেকই ব্যবহার করে! তিনি তাঁর অসাধারণ সৌন্দর্যের পাশাপাশি দৌর্দান্ড প্রতাপশালী সম্রাজ্ঞী ছিলেন
ধারণা করা হয়, তৎকালিন মিশেরর ধর্মীয় আর সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে নেফারতিতির প্রতক্ষ্য ভুমিকা ছিল। বিভিন্ন রিলিফে তাকে পুরোহিত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাকে সূর্যদেবতা আতেনের উপাসনাও করতে দেখা যায়, যে কাজ গুলো অন্য কোন রাণীকে কখনো অধিকার দেয়া হয়নি। এমন কি নেফ্রেতিতির সাজ পোষাকও ছিল সূর্যদেবতার স্ত্রীর মতো
কানারাকের রিলিফে দেখা যায়, তাঁর পরনে লম্বা আলখেল্লার মতো পোষাক, কোমরের কাছে লাল ফিতা বাঁধা, চুল ছোট ঘাড় পর্যন্ত
এলোচুলে তিনি স্বামী আমেনহোটেপের সাথে সূর্য দেবতাকে নৈবদ্য দান করেছেন। রাণী হিসেবে এমন অনেক ভুমিকায় তাকে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেটা শুধু সে সময়রের রাজারাই করত। যেমন তাকে প্রায়ই ফারাওয়ের মুকুট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়, শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় উপস্থান করা হয়েছে
#ক্লিওপেট্রা’ … এই নামটি শুনেই যুগ যুগ ধরে মোহিত হয়েছে কত পুরুষ
ইতিহাসের মতে রানি ক্লিওপেট্রা তার অসামান্য সৌন্দর্য বজায় রাখতে অনেক লাক্সারিয়াস রূপচর্চার উপায় বেছে নিতেন। রানির সেবায় নিয়জিত থাকতো শত শত দাস দাসি। আর কেনই বা নয়? তিনি ছিলেন ইতিহাসের সবচেয়ে সমৃদ্ধ সাম্রাজ্যের মালকিন যার রূপের ছটায় পাগল ছিলেন সম্রাট সিজার আর মার্ক আয়ন্তনি। দুনিয়া ছিল তার হাতের মুঠোয়
  ক্লিওপেট্রা তার অনন্ত যৌবন বজায় রাখার জন্য মুখে সোনার মাস্ক ব্যবহার করতেন। জ্বি হ্যাঁ, সলিড সোনার মাস্ক
রাজকীয় স্নানঃ
মিশরের রানির অন্যতম বিখ্যাত বিউটি সিক্রেট হচ্ছে তার বিলাসময় রাজকীয় স্নান রেসিপি। তিনি দুধ আর মধু দিয়ে স্নান করতেন।
এটাও বলা হয় যে রানি যখন কোন দূরদেশে যাত্রা করতেন তার সাথে যেত দুটি মাদী গাধা যাতে তার স্নানের সময় দুধের কোন ঘাটতি না হয়
রানি ক্লিওপেট্রার ফেস মাস্ক এবং ক্রিমঃ
রানির দাসীরা ফ্রেস এলভেরার পাতা নিয়ে আসতো এবং এর জেলের সাথে মধু মিশিয়ে রানি মাস্ক তৈরি করতেন। তিনি তার দাসদের দিয়ে সাদা মাটি বা হোয়াইট ক্লে আনিয়ে নিতেন এবং তার সাথে শশার রস মিশিয়েও ফেস মাস্ক বানাতেন। তিনি বলতেন এতে করে বলিরেখা দূরে থাকে
রানীর বডি স্ক্রাবঃ
দুধ আর মধুর স্নানে যেন ভালো ফল পাওয়া যায় সেজন্য রানির দাসীরা তার সারা দেহ ন্যাচারাল বডি স্ক্রাব দিয়ে ম্যাসাজ করে দিত। এতে ডেড সেলস ঝরে গিয়ে ক্লিওপেট্রার ত্বক হয়ে উঠত আরও মসৃণ। বলা হয় এই রাজকীয় স্ক্রাব তৈরি হত সুদূর ডেড সি থেকে নিয়ে আসা সামুদ্রিক লবণ ঘি দিয়ে তৈরি ক্রিমের সাথে মিশিয়ে
রানির চোখের বিশেষ যত্নঃ
রানি তার চোখের বিশেষ সাজের জন্য আজও সারা পৃথিবীতে অমর হয়ে আছেন। তার জীবনের উপর তৈরি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাটক বা সিনেমায় ইতিহাস থেকে নেয়া রানির বিখ্যাত সাজ ব্যবহার করা হয় এবং রানি তার চোখ উজ্জ্বল এবং আবেদনময় করার জন্য চোখের পাতায় সেলেরি আর হেম্পের রস লাগাতেন
ক্লিওপেট্রার চুলের যত্নঃ
বলা হয় ক্লিওপেট্রার চুল ছিল মেঘের মত ঘন আর কালো। রানি তার চুলের যত্নে ব্যবহার করতেন মিশরীয় মেহেদি পাতার পেস্ট আর তার সাথে মিশাতেন জুনিপার বেরির রস। আর চুলের রোজকার যত্নে তার চুলে অলিভ অয়েল আর বাদাম তেল দিয়ে ম্যাসাজ করা হত
****
তিন রানীর সাতকাহন  তো শুনলেন , দেখতে দেখতেই  পূজোর আর মাত্র তিনমাস.....  নিজেরাই ঠিক করুন মন্ডপে ঝড় তুলতে নেফারতিতির মত সাজবেন না ক্লিওপেট্রা হবেনা.....
চয়েজ ইজ ইয়োরস.....
( তথ্য অন্তর্জাল)