গুচছ কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গুচছ কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মিনাক্ষী ঘোষ

                     




 ভান

যে মেয়েটি

মালসায় আগুন আর নাভিমূলে

শ্বেতপদ্ম রেখে ভেবেছিল একদিন

মৃত্যু আর অমরত্বের মাঝখানে

সেতু নির্মাণ করা যায় অনায়াসেই!

শুন্যতার অতল খাদে

মনটাকে অনায়াস গড়িয়ে দিয়ে

প্রথাসিদ্ধ নিয়ম জলে আচমন সেরেছিল

এক কমন্ডলু বিবমিষায়!

অমরত্ব পাবে ভেবে

 অবিনাশী পাথরজন্মকে

আগুনে পোড়াতে চেয়ে বারবার

পদ্মের মৃণালে  ঢেকেছিল তার সমস্ত ক্ষত

বল্কল অথবা লজ্জাবস্ত্র

কোনটিই আজ আর গ্রহণযোগ্য নয় তার

 সেতুহীন অমরত্ব পেতে গেলে

মৃত্যুর আগুনে স্নাত হতে হয়।


মাভৈঃ



নিকষকালো গুহায় দাঁড়িয়ে থেকেও

বুকের ভেতর সহস্র সূর্যকে পুষে রাখি

 যত ই ঝঞ্ঝা ভাঙুক শাখা সম্বল

অন্য কোথাও নীড় খুঁজে নেবে পাখি

 

অন্ধকারের প্রাচীরগাত্রে ক্ষয়

জানি,জানি তাও নিশ্চিত হবে কোনদিন

ততোদিন চোখে জোনাকি জ্বালিয়ে রাখি

ভাদ্রের নদী যদিই উজানে বয়


ফাটলের গায়ে ক্ষীণ যে স্রোতস্বিনী

এতদিন ছিল একলাই নিরিবিলি

জোয়ার প্লাবনে বাঁধ ভাঙে উচ্ছ্বাস

পাথর ভাঙতে প্রয়োজনে রঙ তুলি


নাগপাশে আরো যতই কঠিনে বাঁধো

কান পেতে থাকো,শুনতে আর্তনাদ

হাজার আলোর ঝাড়বাতি তবু জ্বেলে রাখি

ধরেছি মুদ্রাতে আনন্দ বিষাদ যুগপৎ ।


কথা দিলাম


বর্ষার আগে

জমিতে নিড়েন দিতে হবে বলে

তুমি ঠা ঠা রোদ্দুর টুকু উড়ানিতে বেঁধে

মাঠে নেমেছিলে!


বর্ষা নামার আগে

ভাবী ফসলের আগমন

সুনিশ্চিত করা চাই!

জৈষ্ঠ্যের তীব্র পরাক্রম তোমায় ক্লান্ত করলেও

হতোদ্যম করেনি তাই

জানিনা,কতটা প্রদাহ তুমি

সয়েছিলে এই অবকাশে

শাখাহীন গাছের আড়ালে

এতটুকু বিশ্রাম চেয়েছিলে বুঝি!

তাই কি আভাসে

অনাহুত অতিথির মতো

মেঘ হয়ে উড়ে আসি

তোমার আকাশে

যদি এতটুকু ছায়া দিতে পারি

এই খরতপ্ত জীবন প্রদোষে

সেকথা অজানা থাক

আমার চিবুক জুড়ে ছড়ানো বিষাদ

আজ বাঁধভাঙা বৃষ্টি হয়ে

সোহাগ ছড়াক

পরিতৃপ্ত ঘুম নেমে আসা

তোমার নিবিড় দু'চোখে

একে যদি সামিয়ানা বলো

আমৃত্যু তাই হবো আমি


কথাদিলাম।

নদীজন্ম



আকাশের রূপোলী সিঁথিতে চলকে ওঠা আলো

নাকি আরণ্যক বিষাদ

কোনটা জন্ম দিয়েছিল হিরণ্যগর্ভ মেঘের 

সেকথা বুঝতে বুঝতে

কেটে গেল আরো এক নদীজন্ম

নুড়িপাথরের ঠোকাঠুকি,আর

গাছগাছালির ফিসফিসানি

সূর্যাস্তের সবুজকে যে গভীরতা দিয়েছিল 

সেকথা কেবলমাত্র  যুবতী নদী জানে

অবধারিত সমুদ্রস্নানে 

যদি আর না ই যেতে হয়

সম্পর্কের কাটাকুটি খেলা তবে

তার শেষ জন্মশোধ 

আর কোনো দায় নেই তার বহতা হবার

নিজের সাথে বোঝাপড়া সাঙ্গ হলে

মেনে নেওয়া

চিরস্থায়ী একলার বসবাস 

শ্যাওলায়,পাথুরে গুহায়


তবু

সহস্র প্রাচীন সেই 

কোটর জমানো জলে

ফাটলের চোরাপথে

 ক্ষণজন্মা মেঘেরাও

মাঝেমাঝে

বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে

চিরায়ুষ্মতী হবার নেশায়।


সুবীর সরকার

                    


শিরোনামহীন


১.
শালি ধানের চিড়ার লোভে এই গঞ্জদেশে এসেছি
বিন্নি ধানের খই ছড়িয়ে পাখিদের ডেকে আনছি
আলপথ আর ঝাড় ঝোপে পড়ে থাকছে এন্টি এজিং
                                                            ক্রিম
২.
পুরোন ছবিতে সেই কবেকার রোদ ও হাওয়া
মানুষের ঘুম কমে গেলে 
মানুষের কান্না শুকিয়ে গেলে
পাখি আর বেড়ালের খুব খিদে পায়
মাঠে মাঠে নেমে আসে আস্ত একটা টাউন
                                                      ক্লাব
৩.
নারীর চোখে ছায়া ঘনিয়ে এলে
আঙুল থেকে আংটি খসে গেলে
হাত থেকে হাতঘড়ি খুলে গেলে
পরিচালক মন দিয়ে চিত্রনাট্য লিখতে শুরু 
                                                        করেন
 
সমস্ত রাত জুড়ে নৌকোডুবির গল্প।
গল্পে পাশ ফেরা নদীর হাহাকার।
কপালে চুল উড়ে এলে
অনেকেই তুলি দিয়ে আঁকতে শুরু করেন
                                                          ভুরু










 

সৌমিত্র চক্রবর্তী

                           




ঝুম্পা তোদের দুর্গাপুজোয়

ঝুম্পা তোদের বাড়ির দেওয়াল 
নক্সীপুকুর গাছ
সেখানে সবুজ ঘাসবনে চরে 
হারানো সকাল স্বপ্ন
হাসিরা কখন ছেড়ে চলে গেল 
ফের ফিরে এল শরতে 
ঝুম্পা তোদের গোলবারান্দা 
জুড়ে শোয় রোদ্দুর
ঝাঁকে ঝাঁকে আসে কিচিরমিচির 
সোনালি ধানের সুখ
শারদ সকাল দুপুর সন্ধ্যে 
ধুনুচি নাচের ধূম
ঝুম্পা এবার খুঁজে নিস তুই 
ভীড়ের মধ্যে মুখ
তোদের দুর্গা দালানে এবার 
শতভীষা ঝিকমিক।।

*****

খর্ব বৃত্ত অধুরা গল্প

স্বর্ণলতা লাগিয়েছিলেম রূপোলী টবে
ব্যালকনিতে ঝুলতো লতার কথকতা
সরু চোখের প্রতিবেশী গলতো রাগে
আমার ছাতি তখন বেড়ে পঁয়তাল্লিশ।

স্বর্ণলতা স্বর্ণখনির ব্যাকুল আবেগ
ধিন কেটে ধিন তা কেটে তাক রঙ উচ্ছ্বাস
গোলাপী ঠোঁট গভীর চোখে ধ্বংস আবেশ
অলিন্দ আর নিলয় জুড়ে রাগ মালকোষ।

শুদ্ধস্বর সকাল হলেই সুরেলা আজান
মাঝ কার্তিক মাঠকর্মী হিম ছড়িয়ে
বরফ ছোঁয়া রাত ফুরোলেই চমকে দেখি
গল্প শেষের আগেই উধাও স্বর্ণলতা।

*****

একনায়কের ঝুন্ড

জেগে থাকা আর ঘুমোনোর গল্প শুনলেই
আমার হিটলারের সূক্ষ্ম বুদ্ধির কথা মনে পড়ে যায়,
কি অনায়াসেই না কমেডিয়ান মার্কা ভদ্রলোক
কয়েকটা দেশের সব জেগে থাকা মানুষদের
ঝেড়ে পুছে সাফ করে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিলেন!

অবশ্য হিটলার এটা শিখেছিলেন
মহামহোপাধ্যায় বীর নেপোলিয়নের কাছে,
নেপোলিয়ন আবার ক্রেয়নের কাছে
আর এভাবেই দেশ কালের কাঁটাতার আর
নোম্যানসল্যান্ডের উঁচানো
তরোয়াল কিম্বা কালাসনিকভের ভয়াল
সবুজ চোখ টপকে 
চলতি সব পার্লামেন্টেরিয়ান
আইন কে কাচকলা দেখিয়ে উত্তরাধিকার
সূত্রে ঢুকে পড়ে রাজকীয় আগুনখেকো দর্শন।

মাঝেমধ্যে দু একটা পাগল বিড়বিড় করে
কথকিঞ্চিৎ বিড়ম্বনায়
সুইমিংপুলের মউ মউ মৌতাতে
মজে থাকা জল ঘুলিয়ে ফেললে
নিরো জেগে ওঠে ঝুরঝুরে পুরনো কবরের
তলা থেকে হাতের গুপ্তি থুক্কু বীণা নিয়ে
হতভাগা পাগলগুলোর আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড হয় -
নাম্বার ওয়ান, ব্রুনো, 
টু লোরকা, 
থ্রি মোলায়েজ 
ডট ডট ডট...

একচোখোমি মাতাল হয়ে গেলে
বড্ড অসহ্য লাগে, আরেবাবা
শুধু অ্যানিমিয়া কেসের মত রক্তকণা কাউন্ট
করে গেলি! এমন ঝক্কাস ক্ল্যাসিক দর্শনের 
কদর করতেই শিখলি না!

তেজালো কবিদের বাপের ভাগ্য এখনো
সকাল হলেই চা, খবরের কাগজ
আর ধারালো পেন পেয়ে যাচ্ছেন;
ঘুম পাড়ানোর লিস্ট কখন যে জেগে ওঠে,
কে জানে!


নিলয় নন্দী

                   


বিরহ, বৈষয়িক ও নগরবৃত্তান্ত


বিরহ ~

ফিরে যাচ্ছি।
যদিও জানি নড়বড়ে সাঁকো আর স্মৃতিও পেন্ডুলাম
তবু এছাড়া উপায় ছিল না... 

বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার আগে সামলে নেওয়া জরুরী
ঈশানকোণ মেঘের আগেই সেরে নিই পাখিদের ওয়ার্কশপ 
কতটা ডানা ভাসিয়ে রাখতে হবে
কতটুকু ঠোঁট বাড়ালে ঠুকরোবে শাবক 
কীভাবে সামাল দেবে গোপন এয়ারগান 
এখন ভিক্টোরিয়া, প্রিন্সেপ ঘাট বাতুলতা মাত্র 
আয়ু বা আঁচল জল থৈথৈ নিঃশব্দ খেলা...

ডিসেকশন হাউসের দিকে তাকিয়ে আছি
কাঁচি ছুরি কাটাছেঁড়া আর কিছু দোনামোনা বার্ষিকী
যদি ডাকো একবার! 

এখনো ভুবনডাঙা অস্পৃশ্য সংকেত মায়াবালিয়াড়ি


বৈষয়িক ~

এপাশে মিউচুয়াল ফান্ড ওপাশে নেটফ্লিক্স
মধ্যে ঘন শ্রাবণ ধারা...
স্তন, স্তনাগ্র, মগ্ন ধ্যানবিন্দু এবং বিস্তর ফাঁকাজমি
বিষয় প্রেমের মুক্ত অর্থনীতি। দাপট গোধূলি।
যৌবন তল্লাশি সেরে প্রৌঢ় কবি নেমে যায় সংসার পুকুরে 
ঘাম, রক্ত, বাষ্প জমা কান্নাও কিছু কিছু
নিয়তির পশ্চাদ্দেশে সজোরে ফ্রিকিক 
জল ছেঁচে তুলে আনা খিদে বা খনিজ 
লিবিডো প্রবল, এসবই জলাঞ্জলি, চকিত দিগভ্রম
এখন কেবলই গুগল পে, অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস

মৌসুমী বাতাস উড়ে গেছে কবেই পাহাড়ের দিকে...


নগরবৃত্তান্ত ~

ও বিকেলবেলার পার্ক স্ট্রীট
তোমার থেকে লুকিয়ে রেখেছি গোপন অসুখ 
প্রেসক্রিপশন উড়ে যাচ্ছে হাওয়ায় 
হলুদ ট্যাক্সি থেকে গড়িয়ে পড়ছে মুঠো মুঠো ক্যাপসুল
কপাল জুড়ে গনগনে আঁচ চুমুর প্রলেপ দাও কলেজফেরত প্রেমিকা, খুঁটে খাও প্রেমিকের
অলিখিত শরীর, শহীদ মিনার...
বিপত্নীক ও অবিবাহিতেরা তেলেনাপোতা খুঁজে বেড়ায়
নাগরিক চাঁদ, আগুন বা আঁধার, ডুব দেয় নাহুমের কেক
আমি তো তোমাকেই চিনি খয়েরি সন্ধে ভুল রাস্তা 
বোবা গীটার, এলভিস প্রিসলে, বান্ধবী নেমপ্লেট

ফিরে যেতে হবে জেনেও
শিখে নিচ্ছি সাঁতারের কৌশল ইন্টারভিউ ব্যাকরণ 

যদি কোনদিন অসুখ সেরে যায়... 









পিয়াংকী

                             





টেবিল আর হাইপ্রেসার মেডিসিন 

 

১) 

দুয়ারে জল।টেবিলে বনসাই। 

বেশি জলে একে বাঁচানো যায়? 


জানা নেই!

হয়ত এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে একটা বেলা গড়িয়ে টুপ করে সন্ধ্যা নেমে আসবে মেঝেতে 


আমি ভাতের থালা হাতে লিখতে থাকব কবিতা 

ওপাশে টেপরেকর্ডারে বাজবে," ম্যায় হরি চরণন কি দাসী...মলিন বিষয় রস ত্যাগ জাগাকে"


২)

এরপরও বুক ভেঙে বসে আছি থ হয়ে

তোমার তীর্যক দৃষ্টি ফুচকার চুরমুরের মত গুঁড়ো করে দিচ্ছে ভেতরপথ


এতটা নিস্তব্ধ একজন মানুষ তখনই হয় 

যখন সে ওই অন্ধত্ব লালন করার বদলে নিজেকে মেরে ফেলে মাঝরাস্তায়


এসো।বয়ে নিয়ে যাও এই ধ্বংসাবশেষ 


যাকে  সরিয়ে রাখতে  চেয়েছিলে বারবার 

তার ঘরময় সাইলেন্সার


এবার থেকে হাইপ্রেসার মেডিসিন নিও।টেবিলের তলায় রাখা আছে


৩)

ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াও। 

সবুজ দেখো,হলুদ নীল বা গাঢ় লাল।

ওরাও উঁকি দিয়ে দেখে নিচ্ছে তোমার হাইতোলা মুখের হাঁ


ভেতরে বৃষ্টি। বাইরে বৃক্ষ

এই যে অনবরত বয়ে চলা ব -এর র'ফলা... 


এর পাশের বাড়িতে রোজ মেঘ করে আর ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হয়

লিপি সেনগুপ্ত

               


১॥


বাসি ফুল




লাইনে ধাতব উষ্ণতা রেখে 

ট্রেন চলে গেছে অন্ধকারে

বেহালার রিনরিনে সুর কোথাও, দূরে

রেল বস্তির জানলা বন্ধ

শয্যাতে বাসি ফুল মুখ থুবড়ে আছে

গোঙানির কোনো ভাষা আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি


ভোর আসে প্রতিদিন 

ডুবে থাকে ম্লান আঁধার  

আবার কুৎসিত রাত, ধাতব পেষণ

যাদের আসা যাওয়া রোজ

তারাও ফুল আনে 

টগর চাঁপা বেলি গোলাপ জুঁই 


বাসি ফুল আরও বাসি

শরৎ শিশিরে , মাঝরাতে

ভাঙা ছিটকিনি সাক্ষী রাখেনা এসবের




২॥


প্রতীক্ষার আড়ালে

----------------------

লিপি সেনগুপ্ত 



স্থিরজল বলে দিল তুমি আসোনি সারাদিন

মাঘের দুপুর 

ছায়া পড়বে এখনই মাঝ পুকুরে 

আর কি জানি ভাবতে ভাবতে

ঘাটের শেষ সিঁড়িতে পা ডুবিয়ে বসবে


নড়ে উঠবে জল

তুলসী তলার মাটির প্রদীপ 

শিখায় কাঁপবে উঠোন

শঙ্খে ঠোঁট ছোঁয়াবে ঐ বাড়ির বড় বৌ

এখানে দুলে উঠবে তোমার শরীর


ফিরে আসবে 

ভেজা পায়ে তখনও লেগে প্রতীক্ষার মাটি 

"আর কি সে আসবে নন্দিনী?…"


কুয়াশা ঢাকা প্রশ্নে

নিজেকে বধ করি প্রতিদিন

তোমার অজান্তে 






৩॥


পোষা বেড়াল

--------------------

লিপি সেনগুপ্ত 


বছর তিনেক আগে 

ভরা মাঘে শেষবার এসেছিল আর্য 


রোদ্দুর আসে রোয়াকে 

এপিঠ ওপিঠ করে

ন্যাপথলিনের গন্ধ মাখা মাফলার আর 

পুলওভার তোলা থাকে বাক্সে 


প্রতিবার লেবু গাছে ফুল

কলার মস্ত মোচার উঁকি 

পাঁচিলের ওপাশ থেকে

সেন জ্যেঠিমা আচারের বয়ম

উঠোন থেকে ঘরে তোলেন


আমার পোষা বেড়ালটা কখন যেন

গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে 

চৌকাঠ ডিঙিয়ে যায় চুপিচুপি...













শানু চৌধুরী

                  



১.

মীড় খুলে

বাতাস থেকে ডেকে আনছে

কে কার হাত?

কেকা ধ্বনি থেকে তুলে আনা ধ্বংসস্তূপের

কূটনীতি ঘিরে পাহারা দিই রোগগ্রস্ত শরৎ

আর রক্তে রক্তে দেখি পদ্মের প্রহেলিকা

যেখানে  মায়া না ভরে উঠলেও

আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে শৌখিন দানা


২.

অপরাধপ্রবণ হওয়ার আগে

সমস্ত যন্ত্রণার ওষুধ খেয়ে ফেলেছ তুমি

একটা অসাড় ঘড়ি

হাত থেকে খুলে যেতে যেতে

জন্ম নিলো গাছেদের সাথে কথা বলে

এসব সময় তুমি দেখেছ রক্তের বাতাস

ও নাড়ির স্পন্দন

আর বরফে ঢেকে যাওয়া মেয়েদের পোশাকে আঁকা

উজ্জ্বল পাইন পাতার বায়ো-মিমিক্রি


শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সমিধ গঙ্গোপাধ্যায়

                              


ঈশপের গল্প
-------------------
সমিধ গঙ্গোপাধ্যায় 
---------------------------

১.
অতঃপর রঘুসাঁই মুহূর্তের নাড়িভুঁড়ি ভক্ষণ করিয়া
বিদেশ ভ্রমণে চলিলেন।

তাঁর কোমরের ঘুনশিতে সূর্যের অবিসংবাদি দণ্ডবৎ।যারপরনাই দস্যুগণ সেমসাইডে গোল করতে ব্যস্ত, দ্যাখো আর্হেন্তিনার জাদু পাদুকা--ওই যে মধ্যমাঠ থেকে ধ্যান বাড়িয়েছে ন্যাসপাতিবেদানাপৃথিবী,
বাঁ-পায়ের চিমড়ে বুড়ো আঙুলে চিউইংগামের মতো
সেঁটে যাচ্ছে মিঠেরস অহো যেন রাধাভাবে মাতোয়ারা গড়াচ্ছে কাঁদনহাসি, 
"কেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীভূত" বলে চেঁচাচ্ছে কেউ, 
"আঃ এত গোল কোরো না" বলার সঙ্গে সঙ্গে
ঘনতর যুদ্ধ বাধল, বহুব্রীহি, 
"কি বললেন, গোল করব না?তাহলে খেলছি কিসের জন্য?"

ব্যাঙ্গমা শাবকের রদ্দায় ঘাড় ভেঙে 
ওয়াকওভার ওয়াকওভার "দেব না, চালাকি পেয়েছ? 
এত দাম দিয়ে গোল কেনা!" 
গোল গলা গোল গাল কামানো ভুরুর নিচে 
গোল চোখ গুলু গুলু তেড়ে এল 
পরাক্রমশালী ঘাসুড়েরা, " এত খেটে সাইজমতো সবুজ পাঞ্জাবী বানালাম এখন বললেই হল নিড়ানির দাম নেই?" সাতসমুদ্দুর আর তেরোতম নদীর তর্জনে প্রাণে নিরবধি হট্টগোল বেধে গেল। 
শতেক গৃহবালা সিঁথি আলুথালু কটমটে কটাক্ষ বেলনার দিকে, 
"কই আমরা এত কেঁদে মরি, ঠিকঠাক গোল তো হয় না! তাই ভাবি নিম্নচাপ লাগলেই মাঝমধ্যিখানে 
কেন আঙুরনয়না টপ করে খসে পড়ে আর কর্তা অসময়ে ঢেঁকুর খসান।"

ওদিকে বয়স বহিয়া যায় "টপ" ধ্বনি মনে ঝোল টানে। 
ক চ ত প আর যাবতীয় যত অনশ্বর ঘানিটানা বলদাভ কানা বর্গ তাদের অমূল যত ন্যাকাহাঁদা বিষাদের মিল টিল বন্ধ হয়ে যাক।

সময়ও কেমন ছলকে মধুময় হাড় কেটে কাত করা রাঁড়, টিক টক টিক টক টিক টক নিষিদ্ধ কথাকলি কপালে আঁকছে-- 
আহা এই কলতান দ্রব্যগুণে একমাত্র সিদ্ধি পেয়েছে।

শ্রাবণে তাহলে শুধু টাপুর টুপুর
হৃদয়ে আতিথ্যের বাতিক শুধুই কিটকিটে
তাঁকে ডাকো কেবলম টাক ডুমো ডুমো টাকে
ছিটকিনি খুলে ভালোবাসো ওহে টিকির টিকির
হাট্টিমের টিম টিমে ডিমের ঝোলে আসুক যত খাদ্যপ্রাণজ্বালা
দুক্কুরবেলা ছমছমে টিংটং হোক সদরের অতিথিসংশ্লেষ

নোনতা মিষ্টি ঝাল টক সব জিভে আর টাকরায়
এক গতি
এক নতি
এক মতি
এক যতি সবিনয়ে "টক্কাস" উল্লাসে মিতালি পাতাক টমটমে চেপে টেপে বসে টসে ফোটো টোটো শুট করে টরে নিক।

দেখেছ "ট" ছাড়া কোনো কথার অলংকারই গ্রাহ্য হয় না মার্কেটে ফার্কেটে। 
তার কেটে মেটে গেছে টেছে বলে টলে 
গাঁট্টা মারতে টারতে এলেও সেই...
দ্যাখো কফির সঙ্গে টফি না এলে গণমান্যে গরল আর চা'য়ের সঙ্গে টা সত্যি বলো সামনে এলে আপত্তিকর বলে জিগির টিগির তোলো কেউ?

হুঁহুঁ বাবা সেই কবে থেকে জানা আছে এই সৌর চামচে করে শালগ্রাম শীলাছিদ্রে সেবা ঢাললেই পিতার খড়মাকৃতি আর মাতার কাঁচুমাচু কাঁচুলির দর্শন হয়। নৌকো বানানোর বাতিকে যখন হরপ্পার মাথার খুলি নিখুঁত গোলাকার ফুটো করে প্রথম থ্রিলার লেখা হল, তখন থেকে এই আবিষ্কার আমাদের ধামাধরা। গুটিকয় আমরাই তারপর ডলফিনের মধ্যে দেখতে পাই মহাবিশ্বরূপ। এতগুলো উপগ্রহ সফল স্বরক্ষেপে বাড়ি বাড়ি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এসেছে তবু তোমাদের নিজেদের উপস্থকথন ঝড়ের বিবিধ নামে বারবার ঝুলিয়েছে এঁড়েবকনা ডিভিডেন্ডগাথা।

সুসমতল মেঝেয় তোমরা আত্নভোলা পেছনগন্ধী সাম্যাবস্থা পাবে বলে, 
উবু হওয়ার ব্যবস্থা করেছি এখন কার বাহ্য বেশি কার তরলকঠিন কার ধোঁয়াটে কার বা গুলি গুলি তাই নিয়েও কতশত বিতন্ডা লাঠালাঠি তোমাদের বুদ্ধিজীবিকার। 
কার গাড়ুজল কার নাভিকূপে ব্যাঙছানা স্থাপন করেছে তাকে শমন পাঠাও। অথচ মেঘে মেঘে এত শান্তিফুল ফুটে আছে দেখেও পুজোয় বসতে  অনীহাকাতর। 
এহেন পাঁকালপিছলানি দেখে মন্ডলাকৃতি
আলুশশাকুমড়োঢ্যাঁড়সপৃথিবী
গোল হতে গিয়েও শেষতক, খসখসে কাগজে মুছে দিচ্ছে নিজেরই নিতম্বের কর্মফল। 
ফলতঃ যা হওয়ার, ওই অবিমৃশ্য কাগজের গন্ধ আর সহ্য করা যায়?
নিজেদেরই কোষ্ঠীর বিচারে কাঠিন্য পুঁতে নিজেরাই মাত হচ্ছ। মিছিমিছি ক্রিয়াহীন প্রতিক্রিয়াগ্রস্ত হয়ে নিজের হাতে নিজেকেই পিন্ড গেলাচ্ছ অহেতুক।

কোথাকার চৌখুপিমার্কা আলিবাবা লালিপপ ছুড়ে ফেলে নাতনিকে খাওয়াচ্ছে কাগজের কাঁড়ি। 
কোথাকার তিনকোণা উদ্ভট আনারকলি স্তনকেকের ওপর বৃন্তচেরী সাজিয়ে ভিক্ষে চাইছে কোঁচকানো দোমড়ানো কাগজের থলি।
কোথাকার আখাম্বা কাগজও ভাবছে
ম্যানিকিওরড রক্তবমি
আহাম্মক কুকুরটা চেটে দিয়ে যাবে।
অথচ ডলফিন যে তোমাদের সবার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান 
সে বোধটুকুও এত লোক থাকতে একগাদা আধাখ্যাঁচড়া  ডাইনোসরের কাছে ধার বাকি রেখে এসেছ। 
সইতে সইতে এত ভীড়ভাট্টা বেড়ে গেছে এখন লাও ঠেলা, সঙ্গরোধজাত মুদ্রাও অফসাইড মোটে খুঁজে পাচ্ছে না। 

তোমাদের রেখেঢেকে দেওয়ার মত হরি হরি বাস্তুতন্ত্রেরও জাঙ্গিয়ার পকেটের মনোনীত কোনো মান্ধাতা নেই!


২.
আসনশুদ্ধি পূর্ব্বক মুন্ডিত মস্তিষ্কে সহস্র দলযুক্ত পুষ্প(নিতান্ত অভাবে অক্সিটোসিন) ধারণ করিয়া মুদিত চক্ষুদ্বয় টিপিয়া ধরিয়া(আচমন অকুস্থলে অপ্রয়োজনীয়) আবেগাপ্লুত কন্ঠস্বরে ছন্দ বজায় রাখিয়া যার যেমন সাজিবার অভিপ্রায় অনুসারে উচ্চারিত হইবে--

হইহই রইবই
আলোচনা কালো চোনা
শুঁয়োপোকা লিটিচোখা
মেরু জলে মরু ফলে
চিকাকাঁই আইঢাই
মাহুত সহিস
গাড়োয়ান দারোয়ান
মাস্তানি কাপ্তেনি
তান্ত্রিক যান্ত্রিক
চবুতরা খরবায়ু
রাতঝর্ণা মেঘপর্ণা
তেড়েতাং কেড়ে ভাঙ
ছায়া কোল কায়া দোল
এলিয়ট অনিমেষ
কালিকট পরী দেশ
ভাজা মকর তাজা নখর
দ্রিমিদ্রিম বাঁকা শিম
খই-শপথ মই-কপোত
ধলাচাঁদ কালাকাঁদ
ইত্যাদি প্রভৃতি

অতঃপর পানশি চলুক--
আমি আমি আমি আমারই চেতনার রঙবাজি মেনে দাড়ি হল অখণ্ড গোঁফ উঠল চোঙাকার হয়ে
এহেন খামচা-খামচি চারশতবিশ বার খেয়ে ও খাবলে খোঁচাপ্রবৃত্তি হল সম্ভবামি যুগে যুগে
(Imagine there is no paracetamol) 
আর চার মহাকাব্যিক ঘোড়াচালকেরা ম্যাদামারা indifferent
এমনকি চকমকি শিল্পও গুহাকুটিরের নীলিমায়
ৎ এর উৎসেচকে ধাত্রীপ্রবণ;
ওহে চকিতএষণা কল্লোলিনীকলা ওহে মাকালমালিকা ওহে যক্ষ দক্ষ ভক্ষ দামিনী শ্যামলী প্রজ্ঞার অতীত কিংবা আগামীপারমিতা এসো,
শূন্যেরও শূন্যতাকামী পুঞ্জময়ী অদ্বিতীয়া পেখম বিধুরা এসো এসো দাহ করো
যা কিছু জঙ্গুলে
যা কিছু নাগরিক
যা কিছু মূক
যা কিছু মুখরা
যা কিছু বধির
যা কিছু লম্বকর্ণ
যা কিছু শিশুচর্বি
যা কিছু বৃদ্ধপরগাছা
যা কিছু পেটরোগা
যা কিছু আতুপুতু
যা কিছু মৌটুসী
যা কিছু গৃধিনী
যা কিছু অপরচুলো
যা কিছু খনিজলোম
এসো দাহ করো, আমি হও অতর্কিত আমি
"ওঁ অগ্নয়ে স্বাহা ওঁ অগ্নয়ে স্বাহা"
হিকরি ডিকরি গিলি গিলি ছুঃ
হরিতকীর মুখশুদ্ধি--পরিণয়ে আমলকির
মেজো সেজো বড় দাওয়াত হোক
ছাই পোড়াও সন্দেহের
ছাই পোড়াও অপ্রেমের
ছাই পোড়াও অলস মৃত্যুর
ফিনিক্সেরও আত্মীয়তা স্বীকার কোরো না
আমার মুখে আমাকে তুলে দাও আহা বাহারী কাবাব দাউদাউ খটখটে
তারপর যা হয়
দিনকে ওস্তাদ করব
রাতকে ছোটলোক
খানিক মদন হবে খানিকটা মার
ছ'দিন পাঁচ রাত্রি পরে ম্যাগেলানের মত
তোমাদের অনুরক্ত নাভিস্মৃতি ফিরে আসবে গোলাকার  লাইন টেনে টেনে
আশ্চর্য মহায়ুর্বেদে তোমাদের জুড়ে দেওয়া হবে
একদন্ডেই
তোমাদের সভ্যতায় আর কোনো আধপোড়া ঠাঁইনাড়া ঈর্ষা হবে না...

অতঃপর রঘুসাঁই কঠোর উপবাস লইয়া স্বদেশ ভ্রমণে চলিলেন।





নন্দিনী পাল

                



আমার স্বর্গ


আকাশটা আজ অবাধ্য নীল
চাঁদটা লাজুক মুখে আনত চোখে তাকিয়ে
পৌরুষের অহংকারে দিবাকর তছনছ করেছে
সকালের কুমারীত্ব
বিষাদের ভিতর থেকে 
ডানা ঝাপটে উড়ছে পাখপাখালি
ধপধপে সাদা বক ঊড়ে যায় কলুসহীন
 সকাল পেরিয়ে
প্রতিধবনির মত ফিরে আসে প্রেম
ভেজা সবুজে বাঁদামী আঁচড় কেটে
কে যেন মৃদু হেসে তাকিয়ে আছে
ঠিক যেন চেনা নয়
স্বপ্নের মত, বাতাসে ভাসতে থাকে
মৃদু গুঞ্জন তুলে,অলকের প্রান্ত ছুঁয়ে
চুপি চুপি কথা বলে কানে
শিশির ভেজা মাটির সোঁদাগন্ধ
চুম্বনের উষ্ণতাটুকু শুষে নিয়েছে শেষরাতে
এরকম এক সজল প্রভাতে
প্রত্যাখান করতে পারি ঈশ্বরের স্বর্গ
যা কিছু নশ্বর তা শুধু আমারই।
 



বেলাশেষে


সবকিছু বাঁধাছাদা হয়ে গেছে আজ
খাট, বিছানা, আলমারী আর যত দামী জিনিস
গুছিয়ে নিয়েছি অনেক যত্নে
হয়নি ঊনিশ বিশ
কিছু কি রয়ে গেল ঘরের আনাচে কানাচে
কিছু কি ফেলে যাই দরজার খোলা কপাটে
সব কিছু নেওয়া হল সারা
তবুও তো মন দেয় না কোনো তাড়া
বারান্দায় দাঁড়িয়ে একবার দেখে নি
টেম্পোটা নিয়ে গেছে সব
ফেলে কি কিছুই যায়নি?
সেইসব সকালের ব্যস্ততা
সেইসব সুখী কিছুদিন
উড়ে যায় হাসি কান্নায় ঝরে যাওয়া কিছু পাতা
সব রয়ে গেছে এদিকে সেদিকে
বাতাসের ঘ্রাণে অক্ষরের মত
লিখেনি তাই দিয়ে হৃদয়ের কোলাজে
একখানি চিঠি
যেটা পোষ্ট হবে না কোনদিন
স্মৃতির আ্যলবাম খুলে পড়ব জীবনের
 শেষ কিছুদিন।


অচল পয়সা

নন্দিনী পাল

বেঁচে থাকা যখন বিড়ম্বনা
তখন মৃত্যুকে ছুঁয়ে ফিরে আসা আনন্দ দেয় না
টেবিলের উপর জমতে থাকা ওষুধের গন্ধ
গভীর রাতে অন্ধকার চিরে
সাদারঙা গাড়ীর লাল আলোটা
জমাট রক্তের মত হৃৎপিন্ডে আটকে থাকে
সবকটা যন্ত্র বিকল হবার মুখে
তবুও কেমন আছির উত্তরে
ভাল আছি বলা ছাড়া উপায় নেই
ভাল নেই বললে এত প্রশ্ন ছুটে আসে
তার সবকটার উত্তর হয় না
জীবনের স্বাদ চলে গেলে
বাড়তি আয়ু অনেকটা অচল পয়সার মত
ব্যাগের এক কোনে পড়ে থাকে
ঝনঝন করে আওয়াজ করা ছাড়া  
কোন দরকারেই লাগে না।
 
 
নিঃশব্দে চলে যায়  

 
সবাই  চলে যায়
কেউ কেউ নিঃশব্দে
যাদের বেঁচে থাকায় শব্দ থাকে না
মরণের পর তারা নিঃশব্দে বেঁচে থাকে
ঘরের আনাচে কানাচে
চটি জোড়া সযত্নে রাখা আছে
চশমাটা খাপের মধ্যে ভরা
ঝাপসা  দৃষ্টি ছোঁয় না বহুকাল
তবুও মনে হয় এই এক্ষুনি ঘরের দেওয়াল ফুঁড়ে
বেরিয়ে এসে সবাইকে চমকে দেবে
চমকে দেয় না, নিঃশব্দে চলে যায়
যাদের বেঁচে থাকার শব্দ থাকে না
ফুল মালা চন্দনের গন্ধ উড়িয়ে শেষবারের মত
তারপর আর কেউ বলে না তার কথা
তার কোনও কথাই ছিল না
নিঃশব্দে চলে গেলে
তার জন্য কষ্ট হয় না কারোর।

রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১

আকাশ মুখোপাধ্যায়

                              


এই সংখ্যার কবি বৈদ্যবাটীর বাসিন্দা। বর্তমানে বি.কম (অনার্স) পড়ছেন গোয়েঙ্কা কলেজ অফ কমার্স, কলকাতা থেকে। সাথে চ্যাটার্ড অ্যাকাউনটেন্সিও পড়ছেন।দেড় বছর হল লেখালিখির শুরু। তবে সেগুলোর বেশীরভাগই ডায়েরির পাতাতে সীমাবদ্ধ ছিল। গত বছর নভেম্বরে 'প্ল্যাটফর্ম' ওয়েবজিনে প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। প্রতি মুহূর্তে ভাবনাকে সঙ্গী করেই কবিতা লেখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন...



★ লিপস্টিক ★

প্রেমিকার ঠোঁটের এই ক্যাপিটালিস্টিক বস্তু
আমার মধ্যবিত্ত জীবনে তারা খসিয়ে দেয়।

সারাদিন কার্ল মার্ক্স গুলে খাওয়া ছেলেটা
শুধু চুমু খাওয়ার সময় ক্যাপিটালিজম এর
প্রশংসা করে...
কিন্তু, চুপি চুপি.....

★ সিলিন্ডার ★

লাফিয়ে লাফিয়ে প্রতি মাসে দাম বেড়ে যায়
সিলিন্ডার দায়িত্ব নিয়ে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে
আগুন লাগিয়ে দেয়....

সেই আগুন নিজের মত জ্বলতেই থাকে,
পরের সিলিন্ডার আসা অবধি....

এদিকে সিলিন্ডার ওয়ালা বাবার সাথে
বকশিস নিয়ে ঝগড়া করে যায় ....

আমরা সরকারের ভর্তুকির জন্য দিন গুনতে থাকি...

★ রিক্সাওয়ালা ★

প্রতিদিন রিক্সায় ওঠার সময় পাঁচ টাকা
করে কম দিই,
পাছে এই পাঁচ টাকা জমিয়ে বাংলা খেয়ে না পড়ে থাকে, এই ভেবে...

একদিন দেখি রিক্সাওয়ালাটা তার মেয়েকে
নোটবুক কিনে দিচ্ছে....
পাশ থেকে দেখি ওর মধ্যে আমার দেওয়া
ফাটা পাঁচ টাকার নোট টা রয়েছে.....

★ টিউবলাইট ★

টিউবলাইট অকারণে জ্বালাতে দেখলে
মা আমাকে বকাঝকা করে....
আমার বিলাসিতা নিয়ে খোঁটা দেয়...

প্রতিবার বকার সময় মনে করিয়ে দেয়
এই মাসের ইলেকট্রিক বিল দেওয়া
এখনও বাকি....

★ র‍্যাশান ★

অতিমারিতে অস্তিত্ব রক্ষা করতেই হবে
এইভেবে র‍্যাশান থেকে
দু টাকা কেজির চাল নিয়ে আসি...

চারিদিকে পোকা কিলবিল করে,
বাছতে বাছতে বেলা গড়িয়ে যায়...

ভালো করে বেছে ভাত রান্না করতে হবে,
কারণ, পেট খারাপ হলে ওষুধ কেনার কোনো টাকা নেই....




কবি-পরিচিতি :


শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১

অনির্বাণ দাশ

                           



১।।
অরাজনৈতিক
-----------------------

ক্রুসবিদ্ধ করুন 
অন্ধ করে দিন
গেলাসে হেম্লক
         খাবো এবার । 
কখনো সাঁজোয়া গাড়ি 
কখনো ধর্মকল
আমাকে মারে রোজ 
            দুর্নিবার ।।

তবু বেঁচে আছি দেহে 
মননে মরে মরে
হিদে পীরিতি ঢালে
         দুচার জনা। 
ব্রহ্মাণ্ড কী কেন 
নানা প্রশ্ন নেড়ে 
যাই তো বিছানাতে
          ওঃ আনমনা ।।
------------------------------------
২।।
স্বাধীনোত্তর
-------------------
সন্ধ্যে হলে একা বসি বারান্দায় টুলে।
পাখি ফেরে। গান ধরে বিশুদ্ধ সারঙে
কারা। অমাবস্যা গাঢ়। তার কালি রঙে
লিখি ভবিষ্যৎ কাল। চাঁদ ওঠে দুলে... 

মিছিল স্লোগান পথ সব ভেসে যায়
ভালো মন্দ তীব্র শোক আর চিদানন্দ 
একাসনে হেসে হেসে বিঁধেছে বিদ্রুপে... 
-----------------------------------------------------
৩।।

পথ
-----
বাড়ির চৌকাঠ মাড়িয়েই যেতে হলো

একটি পাখি একটি তারা খুঁজে শ্রম দীর্ঘ 
হেঁটে শেষে তৃষ্ণাজল দ্যায় কৃষ্ণকলি

নিরোধক ছাড়া যতো রমণ বিক্রীড়া
সৃজন আনন্দে ভোর 

সদ্যোজাত কেঁদেছিল গাঢ় অর্গাজমে
ঈশ্বর মানুষ আর পাতাঝরা সন্ধ্যেবেলা
মধ্যরাতে ওঠে যেন জাতীয় পতাকা
------------------------------------------------------



শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১

শোয়াইব শাহরিয়ার

                                          




এই  সংখ্যার কবি শোয়াইব শাহরিয়ার৷২৮শে এপ্রিল, ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার অন্তর্গত পূর্ব ইলশা গ্রামে জন্ম। পেশায় ছাত্র। আগ্রহ কবিতায়।প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ – কপালের কৌতুক (২০২১)


আহবান

তোমার বিষণ্ণ মুখের দিকে তাকালে, মুহূর্তেই অভ্যুত্থান ঘটে যায়। মনে হয়, কে যেন কোথাও অনবরত কেঁদে চলেছে। ফুলের পাপড়িতে যেন লেগে আছে নৈঃশব্দের নির্মমতা! মুহূর্তেই ভাঙচুর শুরু হয়; ভেতরে ভাঙচুর শেষে—নদী হয়ে ওঠো। নিঃশব্দে জল গড়ায়। অদূরে টুপটাপ ঝরে পড়ে—জীবন কিংবা জীবনের মতো কিছু! 

সেই নদীতীরে বসে, তোমাকে বলছি শুনো—যদি কখনো চোখের পাতায় শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চুম্বন এঁকে দেই, যদিও-বা ভীষণ বিষণ্ণতার দিনে—সমুদ্র সাঁতরাবে?

বৃষ্টি শেষে

বৃষ্টি শেষে—
পাতা ও পথের মতো যুবতী হয়ে উঠবে;
বৃষ্টি শেষে—
যুবতীর মতো ব্যথাতুর নদী হয়ে উঠবে!

অন্তঃপুরে যেদিন বৃষ্টি থেমে যাবে
শুকিয়ে যাবে জীবনের ঠোঁট
যেদিন ফুরিয়ে যাবে জলের যৌবন
মনে করে সেদিন ইশারা দিও...

আমি জীবনের রঙমহলে—
বৃষ্টির পরিবর্তে শষ্য হয়ে নামবো!

দুঃখ

তোমার করতলে দুটি রাষ্ট্র দিলাম
একটি রাষ্ট্র জন্মের, আরেকটি মৃত্যুর
আমার অনুরোধ—তুমি দ্বিতীয়টি নাও
তোমার অনুরোধ—প্রথম জন্মটি চাই
...এই নাও তবে ঐতিহাসিক দুটি রাষ্ট্র!

প্রিয় ফৌজিয়া, 
বলো, মাঝখানে দুঃখের বদলে কী-বা পেলাম?

শীতকাল

যে গাড়িতে চড়ে চলে যাচ্ছেন
ওটাকে মাঝেমধ্যে নদী ভেবে ভুল করি
ভাবি, রক্তাক্ত লবণের মাঠ!

কোনো আলপথ ভেঙে গেলে—
দেখি, অপরিপক্ক শিশুর মৃত চোখ;
অদ্ভুত এক গন্ধ ছড়িয়ে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে!
...আমি তখন মাঠের একপ্রান্তে দৌড়ে যাই!

এদিকে, দৌড়ে যাওয়া দেখে ভাবলেন পালাচ্ছি—
রক্তচক্ষু উপেক্ষা করার দুঃসাহস আমার নাই!

অথচ জানেননি—
গাড়িটাই ছিল আমার মৃত শরীর!
যেখানে বসে—
হাসতে হাসতে পেরিয়ে যাচ্ছেন শীতকাল!

পথ

বনমল্লিকা, ভাগ্যরেখা যদি মন্দ হয়
সৌরভ ছড়িয়ে দিও;
কাঁটাকে উপেক্ষা করে, 
আমার চুম্বনগুলো সুপ্রসন্ন হবে।

হয়তো মুঠোভরতি মেঘ থাকবে
বেদনাভরতি বৃষ্টি থাকবে
তবুও, তোমার সৌরভ দিও;
...তোমাকে দেখাবে স্বর্গের পথ!

দহন

বৃষ্টি হচ্ছে, ভেজা চুলে
                উড়ছে মেঘ—
ঠোঁট ছুঁয়ে, হৃদয় মাঝে!

বৃষ্টি হচ্ছে, ঢুকছি ভুলে
               দেহের ভাঁজে;
জলের যৌবনে ঢুকছে আগুন!

বৃষ্টি হচ্ছে, পুড়ছে নগর;
                পুড়ছে শরীর;
ফৌজিয়া, বৃষ্টি হচ্ছে—
                মৃত্যু হচ্ছে—
               তোর ভেতর!

বোধগম্যতা

পা, ধীরে চলো
সামনে সমূহ অন্ধকার;
একবার যদি ডুবো
হারাবে মন দেবতার!
পা, এলোমেলো বৃষ্টি 
পাতায় পাতায় ফাঁদ
দূরে যদি দাও দৃষ্টি
কেন সব বরবাদ?
পা, ধীরে চলো
ধীরেধীরে চলো...
আর্জি খুদার;—
সামনে সমূহ যৌন অন্ধকার!

দূরত্ব

দরোজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছো;
দূরত্ব যদিও তেমন না
এটুকু তো থাকেই—
যেটুকু থাকলে কোনো দূরত্বের প্রয়োজন পড়ে না!

...এটুকু থাকলে, জীবন আর জীবন থাকে না!

দূরত্ব কি জানে, তার অপর নাম প্রেম?
দুরত্ব কি জানে, তার অপর নাম নরক?

কেউ না জানুক, আমি তো জানি—
দূরত্বের অপর নাম বনমল্লিকা! 

প্রত্যুত্তর
(বনমল্লিকাকে)

তুমি হাত বাড়ালেই হাত চলে যায়
বুকের ভেতর; জোরে বৃষ্টি নামে হায়;
জল থৈথৈ জল থৈথৈ জলের অসুখ
তোমার পা-ছোঁয়া পথ অসুখে মরুক!

ঠোঁট বাড়ালেই পথ হয়ে যায় নদী
ইচ্ছা করে ডুব দিয়ে যাই নিরবধি!
তোমার মুখের লাল—যেন সর্বনাশ
ঠোঁট বাড়াতেই আহা—রূপান্তরে ঘাস!

ঘাসের উপর শুলে—গল্পগুলো জল
ঠোঁটের উপর ঠোঁট—জীবন উজ্জ্বল!
তোমার পরশ পেয়ে মৃত্যুমুখী হাসে;
বুক বাড়াতেই আহা—স্বর্গ পরবাসে!

খোঁজ

ম্যালা দিন দেখিনা তোমারে, তুমি এখন কই?
বুকের মইধ্যে একগোছা ধানের চারা দেখিয়ে বলেছিলা
ধানেরা যেদিন গর্ভবতী হয়ে তোমার ঘরে উঠবে
ঐদিন আমারে খুঁইজা নিও; পারলে একবার ঘ্রাণ নিও;

কৃষকের বাছা আমি;
মাথার মইধ্যে ডুইবা থাকে কালবোশেখির ভয়
ডুইবা থাকে শীতকালের জ্বর!
তোমারে তবুও খুঁইজা বেড়াই; সাহস কইরা 
ধানের কাছে গিয়া, নাকের আগা বাড়াই দিলাম
তোমারে তবুও পাইলাম না; তুমি কই থাকো এখন?

বুকের মইধ্যে ঠোকা দিয়ে একবার বলেছিলা—
ঐখানে যদি না পাও, তবে এইখানেই পাবা, খুঁইজা নিও...

এখন আমি তোমারে খুঁইজা বেড়াই...
খুঁইজা বেড়াই নিজের ভেতর!




সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

সুকন্যা সাহা

               




চেরাপুঞ্জী থেকে ...

              


ক্যালেন্ডার   মানলে   সেদিন 

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস 

উমিয়াম লেক থেকে উঠে   আসা 

এক শান্ত নদী মেয়ের  সঙ্গে আলাপ হল

গা দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে বিন্দু বিন্দু কুয়াশা ...

মেঘ পাহাড়ির সবুজে 

হারিয়ে যাওয়ার  আগেই

তার দুচোখে  দেখতে  পেলাম

একটুকরো চেরাপুঞ্জীর  মেঘ ...

শিলং পাহাড়ে সেদিন  অঝোরে বৃষ্টি ...




 যারা  বৃষ্টিতে ভিজছে

         

            সুকন্যা সাহা

খোয়াই ধরে  হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম  তোমার কথা

শ্রাবনের নিভু নিভু দিনের শেষে, বিষন্ন একাকী সন্ধ্যায়

ইউক্যালিপটাসের মন  কেমন  করা  গন্ধ নিতে নিতে 

অস্ফুটে বলছিলাম ,"বৃষ্টি  তুমি আসবে  তো?"

তখনও ভাবিনি কালো মেঘের ওড়না  উড়িয়ে তুমি

কৃষ্ণকলি, ধবধবে  সাদা ফোঁটায় চারিদিক

ঝাপসা করে আমায় আদর করে ভিজিয়ে দেবে---

ভালবাসার বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে যারা 

বৃষ্টিতে ভিজেছিল, ভিজছিল এবং ভিজবে

তাদের কথা বার বার মনে পড়ে যাচ্ছিল।


মেঘলা দিন 



#সুকন্যা সাহা 


খিচুড়িতে  মেশানো ছিল 

খানিক চাল আর ডাল 

যেমন পানসে আজকের 

মেঘ মাখা সকাল ...


আকাশের  গায়ে লেগেছিল

কিছু স্লেট রঙা ছোপ

একটানা ভিজছিল পুকুড়পাড়ে

আকন্দের ঝোপ ...


তানসেন হোক আজ 

মিঞা কি মল্লার ...

কৃষ্ণকলি দিগন্তে 

ছেয়ে যায় সুর বাহার ?


রাস্তায় কারা যেন 

ঢেলে গেছে  জল 

প্যাঁচপেঁচে কাদামাখা 

বর্ষা র আঁচল 


দুরন্ত বর্ষা 

ঝাপসা চারিধার 

আজ  শুধু  আলাপ হোক 

মেঘ ও মল্লার ...




.

রঞ্জনা বসু

                                  



ফিরে আসা

 

যত দূরেই ভাবছো যাবে
ফিরে আসতে হবে বারবার
যেভাবে জোয়ার আসে
যেমন পাখিরা ফেরে সন্ধ্যায় নীড়ে।

মানুষেরও সেই আশা
যত্নে সাজিয়ে রাখে সুখ ভালোবাসা,
আধখোলা বইয়ের পাতা, ডেকে নেয় ঘরে
দিন মাস বছরের চেনা অঙ্গিকারে।

আশ্বীনের ফসলে ক্ষেত ভরে ওঠে
রুক্ষ মাটিতে শ্রমে ফসল ফলায়
মানুষই তো জীবন ভালোবাসে
প্রয়ানের ভাবনায় বড় ভয় পায়।



শিরোনামঃ দহে নাতো কিছু
কলমে, রঞ্জনা বসু

তোমার উত্তপ্ত ঠোঁটে
সমস্ত লজ্জারা ঢাকা পড়ে গেল---

ভালোবাসার রঙে লাগলো আগুন উৎসব

যখন তুমি ভুলে গেলে সব
কি যেন হারিয়ে গেল সমুখ থেকে।

সেইমাত্র অনিষ্টের ভীষন লজ্জায়
অসহ্য কাদায় ডুবে যেতে যেতে

প্রেম হল নষ্ট চাঁদ, কলঙ্ক বুকে।



শিরোনামঃ বহু দিনের চেনা
কলমে, রঞ্জনা বসু

সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে...

সুর যেন ছুঁয়ে আছে আজও
পায়ে পায়ে ফেলে আসা পথে
ভালোবাসার চিরচেনা সেই সে শপথে।

এখন চুলের সাদা ভাঁজে
বয়স এসেছে চুপিসারে

ভালোবাসা আজও সেই নাম ধরে ডাকে।



শিরোনামঃ বৃক্ষ তুমি কার
কলমে, রঞ্জনা বসু

ভূমি গর্ভ থেকে
প্রস্ফুটিত হল বীজ সূর্যের সাথে
আলোকে হয়েছে স্নাত,মন্ত্রমুগ্ধ ধরণীর বুকে।

বৃক্ষের সবুজ শাখা আনবে প্রভাত
এলোমেলো উড়ে এসে বসবে পাখিরা
মাথা তুলে বাঁচে আদি প্রাণ
মেলে দেয় ছায়া।

চির বিথী অক্ষয় হোক
সবুজ মায়ার সুখে
মুছে যাবে মানুষের শোক।

রত্না দত্ত

                   



এক পশলা বৃষ্টি

( ১ ) 

গোধূলির হাতছানিতে আজ
সুমধুর দখিনা বাতাসের দোলা,
আকাশের বুকে বজ্রমাণিকের আনাগোনায়
মেঘমল্লারের সুরে ভুবনভোলা।
এক পশলা বৃষ্টি এসে হঠাৎ
ভেজালো মনের গহন আঙিনা,
এনেছে সাথে পরম সঙ্গী করে 
শীতল হাওয়ার মনমাতানো দখিনা।
এই বৃষ্টিতে যদি মন নাই ভেজে
তবে তার অঝোরে ঝরে যাওয়াই বৃথা,
আমি জানি আর মেঘ জানে
মনের সকল চুপকথা।
                   
                            ______

( ২ ) সিক্ত হব বৃষ্টিধারায়

জমাট কালো মেঘের পুঞ্জীভূত ভারে
বিস্তৃত আকাশ গর্ভবতীর যুগল,
নরম তুলতুলে আঙ্গুলের টোকায়
ঝরঝর অমৃতধারা বইবে
তোমার কাজলটানা চোখ দুটো
হয়ে উঠবে বৃষ্টিস্নাত ও সজল।
শহরের কোলাহল ও ব্যস্ততায় কষাই মন 
হয়ে যাক না এক পশলা বৃষ্টি,
তোমার অঝোর ধারায় ভিজবো আজ
বৃষ্টিস্নাত হয়ে আকাশের কোলে
নিভৃতে মাথা রেখে শয়ন করব,
নয়নাভিরাম বিস্তৃত সবুজ বক্ষযুগলে
বহুদিনের আকাঙ্ক্ষিত হৃদয় সিক্ত হবে
মেতে উঠব সোঁদা মাটির গন্ধে।

                             ________

( ৩ ) কামনার ধারা

তপ্ত,রুক্ষ মাটি রয়েছে অপেক্ষায়
বুক ফাটা এক গলা তৃষ্ণা নিয়ে,
হঠাৎই অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি ধারায়
মাটির বুক যাবে ভিজিয়ে দিয়ে।
রুক্ষ,শুষ্ক বৃক্ষরাশি আজ তৃষ্ণার্ত
বুক ফাটছে জলের লাগি,
হে বৃষ্টি, তোমার বর্ষণ ধারার তরে
গোটা বিশ্ব আজ অনুরাগী।
বৃষ্টি,তুমি এসে ভিজিয়ে দেবে
আমার আকুল মন অঝোর ধারে
আমার অশ্রুজল ধুইয়ে দেবে
কেউ যেন না বুঝতে পারে।
বুকের কষ্ট ঘুচিয়ে আমি
উঠব আবার প্রাণবন্ত হয়ে,
মাত্র একপশলা বৃষ্টিই
এক নতুন ধরিত্রীর সৃষ্টি করে।
পৃথিবীকে করে চিরহরিৎ,চিরসবুজ
রুক্ষ,শুষ্ক মাটিকে করে সতেজ
তোমার অঝোর ধারাতে,সবাই
মনে প্রাণে সজীবতা পায় খুঁজে।

                              ________

( ৪ ) ভেজা মরসুম


হঠাৎই  গুরুগম্ভীর মেঘের তর্জনে গর্জনে
ঘুম ভাঙা চোখে তাকাই আলগোছে,
এগিয়ে গিয়ে খড়খড়ি তুলে
দেখি জানলার কাছে শার্সিতে
জলফোঁটা দাগ লেগে আছে।
কানফাটা বজ্রনিনাদে ভেঙে যায় ঘুম
চোখ খুলি মাঝরাতে,ভেজা মরসুম।
সারা প্রকৃতি ঘুমিয়ে আছে
ভিজে গেছে রাস্তাঘাট,ঘরবাড়ি,
সিক্ততায় পরিপূর্ণ শহরতলির জনবসতি
সূর্যের সাথে ওদের যে আজ আড়ি।
উড়ে যাও মেঘ দূর বহুদূর
কান পেতে শুনি তাই মেঘমল্লার সুর,
চোখ কচলিয়ে সব ভাবি এলোমেলো
ভোরের বৃষ্টি এসে হঠাৎই আমায় ভেজালো।
আজ আমার মন নিভৃতে,গোপনে
ছুটি চেয়েছে আলগোছে,
হব আজ আমি বৃষ্টিস্নাত নারী
সংসারের রোজনামচা দেব মুছে।

                              _______

( ৫ ) বৃষ্টিধারার তরে


অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে ভিজে খুশিতে মন ভরে
হিয়ার মাঝে মধুর সুরে মন আনচান করে,
খুশির জোয়ারে প্রকৃতি ভাসে নতুন আবেশ নিয়ে
কাঁপন ধরে সবুজ বনে  বৃষ্টির পরশ পেয়ে।
এক পশলা বৃষ্টি এসে ঘোচায় তপ্ত হাওয়া
চাতক পাখি গাছে বসে মেটায় মনের চাওয়া,
শীতল বাতাস ছুটে এল সোঁদা গন্ধ ভরে
তপ্ত ধরা শান্তি পেল বৃষ্টি ধারার তরে।
কারণে অকারণে সম্পর্কের দাবদাহে
অযথাই করি মনভূমির কঠিন কর্ষণ,
মান - অভিমানের অবুঝ টানাপোড়েনে
সুখশান্তি ফিরিয়ে দেয় অকাল বর্ষণ।

                              ______

( ৬ ) ক্ষণিকের তরে

বৃষ্টির সুমধুর পরশ এসে
কত কিছুই যে কহে হেসে,
ঝর ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে
অতিবর্ষণের অঝোর ধারায় সেজে
শীতলতায় ভাসাইলে যে মোরে।
কত কথা হয় মনের গহনে
নিভৃতে,শয়নে,স্বপনে ও একান্তমনে
টুপটাপ ছন্দ লয় বীণার তানে,
প্রেম তরঙ্গ সুধার নেশার ঘোরে
মাতি আমি ক্ষণিকের তরে।
নেচে ওঠে অঙ্গ আমার নৃত্যেরই তালে তালে
নূপুরখানি বেজে যায় রুমঝুম রুমঝুম,
উড়িয়ে দিলেম আঁচলখানি আকাশ পানে
ভিজলো আমার শিহরিত তনুমন।

                             ______