মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৬

যুগান্তর মিত্র



সোনা বউদির কথা-১
সোনা বউদির কথা বলা হয়নি কখনো।
সর্ষেফুলের ভোর ঝুলে থাকত মুখে।
আঁচলে হাওয়া দুলিয়ে
 
মুঠো মুঠো হাসি বিলিয়ে দিত
 
পায়রাদের ভিড়ে।
আর কী কৌশলে যেন ঠিক লুকিয়ে রাখত
দুপুরের ছায়া।

সন্ধ্যা পেরলেই সে সোনা বৌদিই
শামুকের খোলে রাত বিছিয়ে
একা একা হেঁটে যেতে চাইত তারামণ্ডলের দিকে। 
কতকাল আগের সেই সোনা বউদি
এখন আমার উঠোনে
তুলোবীজ ওড়ায় যখন তখন। 




সোনা বউদির কথা-২
সোনা বউদির উঠোনে কুয়াশাকুসুম,
তুলোবীজ ওড়ে প্রায় সারাবছরই।
বাৎসরিক উৎসবের মতো উষ্ণতা আসে।
শীতকালীন ঋতুসংহার
অহংকার লুকিয়ে রাখে কম্বলের ওমে।
কুরুশ কাঁটায় ফ্যাকাসে উল
যত্ন খুঁজে ফেরে।
সোয়েটার সোয়েটার ভোর-গান
উঠোনে বিছিয়ে দিয়ে
হাসির আলখাল্লা ঝুলিয়ে রাখে
সোনা বউদির ছাইয়ের উনান।
সোনা বউদির দুই ঋতু শীত আর বর্ষা
হাসাহাসি করে দুই বোনের মতোই।


শুভাশিস সিংহ



মীরা-১

কৈশোরের নির্জন দুপুর
চিলেকোঠার নিস্তব্ধতায় দুটি অপরিণত প্রাণ
কখন বুকে মাথা রেখেছি জানতে পারিস নি
লজ্জা চুঁইয়ে পড়ছিল ভয়ের চিবুক গলে

তোর বুকের চড়াই-উতরাই মাঝে
নিঃশ্বাসের উষ্ণ প্রস্রবণ
যা তোকে ঠেলে নিয়ে গেছে অনেক দূরে
সুখের একেবারে শেষ প্রান্তে
এরপর তৃপ্তির স্বেদ বিন্দু
বিকেলের ভুল ভেবে উবে যায় একদিন

সময়ের মাপকাঠিতে 
আমরা যুবক-যুবতী-দুটি পরিণত প্রাণ
কিন্ত হঠাৎ যদি ফিরে আসে
কোন ত্রয়োদশীর রাত কিংবা
নজরদারির পরোয়া বিহীন চিলেকোঠা
নিজের একাকীত্বের মাঝে খুঁজবি না

আমাদের একান্ত কিছু নাবালক দুপুর



মীরা-২
ঘুম পালাচ্ছে
কালিম্পং এর জাপানি ঘরে
একা মীরা
তিক্ততা লক্ষ্মীর ভাঁড় হয়ে গেছে




জয়ীতা ব্যানার্জী গোস্বামী



ধারাবাহিক রহস্য গল্প
অভিশপ্ত নীল 
প্রথম পর্ব 


ঘুম ঘুম চোখে সিঁড়ি বেয়ে উঠছিলো পিয়াস। দোতালার ল্যান্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে একবার দেখে নিল টাইটান রাগা'র সোনালী ডায়ালটা...এখন প্রায় বারোটা...হ্যাঁ এক্কেবারে জিরো আওয়ার যাকে বলে ...ঝাপসা কাঁচের জানালা দিয়ে দেখলো নীল ট্যাক্সিটা এখনও দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে। শহর ভেসে যাচ্ছে আজ অকালের বৃষ্টিতে.....দুদিনে শীতটাও বেশ জাঁকিয়ে বসেছে।

রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

ইন্দ্রজিৎ দত্ত


ডাউনফল
---------- বড় মেঘের গল্প শোনা ছিলো তাই নৌকা ছেড়ে দিলাম
নদীতে জল নেই নদীতে পিয়ানো নেই
কাজিয়া
ছইয়ের বাইরে অস্থির আমাদের হাত পা
তুমি বললে, দাঁড়াও
অামি বললাম, থামো
হাইওয়ে কোথায়
অাঙুল গ্রাহ্য করে ডুবে যাচ্ছে বচ্ছরকার রুমাল
সমুদ্র শেষ হলো





অরুণাভ চট্টোপাধ্যায়



প্রিয়তমা

কাঁচের ভিতর কাঁচ-
খানিকটা আবছা ধোঁয়া...ধোঁয়া!
শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র হিম কুয়াশায় পৌঁছায় না
লেলিহান শিখার আগুনের কুণ্ডলী!
পৌঁছয় না মাংস পোড়ার গন্ধও।

মানস চক্রবর্ত্তী



হাত রাখলে হাত
মাটির ওপর!
সেমিকোলন না পেয়ে বিস্ময়...
কতোওটা নুয়েছো!
একবছুরে যেন  

হাসান রোবায়েত





একটি নৌকার পাশে দাঁড়িয়ে
একটি নৌকোর পাশে দাঁড়িয়ে
ছোট নৌকোটা— তুমি শুধু বড় নৌকোটির পাশেই ছোট আর যা কিছু—ফেনায় দুলে যাওয়া পিঠ ঢালুর গভীরে এক তাজা ফুল খুঁটে খুঁটে জড়ো করে মথ—
ছোট নৌকোটা, ভাসো: কমলালেবুর পাশে গোল!

শৌনক দত্ত



কেবলি ছবি...

বাতাসে পুজো পুজোএকটা গন্ধ ।পাড়ায় পাড়ায় মন্ডপ তৈরীর কাজ চলছে ।পাল তার নিপুন হাতে খড়ের উপর মাটির প্রলেপ লাগাচ্ছে ।তৈরী হচ্ছে মূর্তি ।এমন দিনগুলোয় সাম্য অদ্ভুত একটা গন্ধ পায় বাতাসে ।ঢাক কাঁসরের আওয়াজ শুনতে পায় ।এটা কেন হয় সাম্য ঠিক বুঝে না ।
ছোটবেলা চুপিচুপি চলে গেছে ।ছোটবেলায় মনে হতো ইস কবে যে বড় হবো ।আর বড় হবার পর মনে হয় ধ্যুর ছোটবেলাটাই ভাল ছিলো ।সাম্যের ও আজকাল তাই মনে হয় প্রায়ই ।

শুভ আঢ্য











ঘোড়া ও লোকটি

লোকটার ধুলো ঝাড়া হলে ঘোড়াটিও মুখ তোলে 
ছবির দিকে, আর চাবির গোছারা ঘর ভুলে যায়
আঙুলে লাগানো আরোগ্যের প্রেসক্রিপশন মাখায়
মেয়েটি, তার ফোন থেকে অক্ষম ধ্বনিরা গতকাল সাজায়

তারপর আর কোনো গমবাড়ি নেই
তারপর আর কোনো হাইওয়েও থাকে না
তারপর শেষ হয় বার্লির মদ

ডি মাইনর কর্ড আঁকা আঙুল লোকটার, দেখে যায়
মেয়েটার ভাঁজ ও পরে থাকা ঘোড়াটির নাল

লোকটা আর মেয়েটির জ্যোৎস্না এতটুকুই

ঘোড়াটি ওইসব দিনে রাস্তায় ঘাস খায় শুধু


অনুপম দাশশর্মা



বৃষ্টিঘেঁষা দরিয়া
অলৌকিক সন্ধ্যের উঠোনে দাঁড়াতেই
কুয়াশা ঘিরে ধরল, দেখি..
শেষ শ্রাবণের আলতো জলবিন্দু হাতে
নিয়ে তুমি চুপ করে আছো
..
তোমার শরীর থেকে ভেসে আসছে
আমার রেখে দেওয়া সুখানুভূতির সুবাস
অথচ পিঠ থেকে আঁচল সরাতে গিয়ে
দেখলাম, সেখানে ছোপ ছোপ বিস্মৃতির মেঘ
...
স্থির চাহনির দিকে উদ্বেগ ফেলে বললাম
আদিম উল্লাসের মুখে হাত চাপা দেওয়াটাই কি
সমাহিত করেছে আমার বৃষ্টিঘেঁষা দরিয়াকে?



এটা ভয়ঙ্কর সত্য
কেউ মনে রাখেনা, রাখেওনি সংসারের
ধুলো পড়া কোণ
চোখ ফোটা সন্তানের মুখ দেখে যে চোখে
লেগেছিল খুশির ঝলক, সেখানে এখন
হতাশার অহঙ্কার
ধূসর পৌঢ়ত্ব সিঁড়ির শেষ ধাপে বসে দেখছে
কত দ্রুত উড়ে যাচ্ছে অপত্য স্নেহের
গুঁড়ো ধুলো।
.
মনে রাখেনি ছোট ছোট হাতের পুষ্পাঞ্জলি
দেওয়া শপথগুলো
মধ্যরাতের মুষলপর্বে ফুটপাথে উন্মত্ত যৌবন
কুশিক্ষিত হয়ে মোটা দাগ কেটে দেয়
প্রবীণ শিক্ষকের অবসরকালীন বুকে।
.
ভুলে গেছে ওরা পাথরের বুক চিরে
জ্বলে ওঠা চকমকির ইতিহাস
বন্যজীবন অসংযমীর পোশাকে আজ
খান্ডবদহন,আর.

ইস্পাতের আঘাতে চৌচির হয়ে যাচ্ছে
পৃথিবীর পিঞ্জর।
.
মনে রাখেনা কেউই ...
শুধু থেকে যায় সমস্ত কথা
অক্ষরে অক্ষরে, ক্ষমাশীল চোখে।




শ্রাবণ আমার
বাদামী রংয়ের মেঘ নেমে এলে রাজপথের
দাবানলে নিজস্ব শ্রাবণ খুঁজি
চেনা ঋতুরা বেয়াদব হয়েছে বহুবছর
বর্ষার নিজস্ব ঘ্রাণ পেতে হয়
চোখ শাসান কোন ঘূর্ণি বদতমিজের কাছে
বিচ্ছিন্ন পৃথিবীতে এক থেকে গেছে
হেমন্তের শিশির
সেখানেও ভিজবার বায়না ধরি
শ্রাবণ আমার দেউলিয়া মনের
সিক্ত প্রবোধ
বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা জলপাইরঙা
ভরা নদী।