পৌলমী দেব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পৌলমী দেব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

পৌলমী দেব

                                           


# প্রত্নতত্ব

নদীর গতিপথ পরিবর্তন সভ্যতা ধ্বংসের অন্যতম কারণ..

মেয়েকে পড়াতে বসে নতুন করে চোখে পড়লো কথাটা

মুহূর্তের মধ্যে যেন খুলে গেলো অনেক ভাঙ্গনের উৎসমুখ

যাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ভালোবাসার বেসাতি
তারই স্রোত যদি বইতে থাকে অন্য খাতে
তাহলে চড়া তো পড়বেই
কমতে থাকবে মন ঘনত্ব 

ঘাটতি হবে আশা প্রত্যাশার বাণিজ্যে
নৌকার দাঁড়ে জমবে ধুলো
স্থবির হবে ঢেউয়ের সাথে প্রাণের খেলা

সময়ের সমানুপাতে দূরত্ব বাড়তে বাড়তে
শেষ পর্যন্ত মিলিয়ে যাবে অন্য আলোকবর্ষে 
 
পড়ে থাকবে নষ্ট ইতিহাসের জলছাপ

                     *****


# আপেক্ষিক দূরত্ব

রূপকথা বাসি হলে বাস্তব হয়ে যায়

তাই সোনালী প্রজাপতি পুষিনা সিন্দুকে

পাহাড়ের খুব কাছে গেলে স্বপ্নে দেখা 
পাগলাঝোরা যদি খুঁজে না পাই
তাই দূর থেকেই তারিফ করি

জঙ্গলের গোপন ভাঁজ খোলার চেষ্টা করিনি কখনও

মাপার চেষ্টা করিনি অতলান্তিকের গভীরতা

তুমিও ছুঁতে চেওনা আমায়

রেখে দাও অবচেতনের জোনাকি করে

রহস্য হয়ে থাকতে দাও, তোমার গল্পের উপসংহারে

                      *****

# প্রতিবিম্ব

ইদানিং দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ বেড়ে গেছে

সময় নেই অসময় নেই বারবার আসে
আর কতদিনই বা উড়ে বেড়াবে

ফিরে আসতেই হবে বসন্ত ধূসর হয়ে গেলে      
বসতে হবে মুখোমুখি

কত দলিল জমা পড়ে আছে ধুলো মেখে
সাজাতে হবে একটার পর একটা
চলবে সওয়াল-জবাব

ছিদ্রগুলো খুঁজে বার করতে হবে দুঁদে গোয়েন্দার মতো
চুলচেরা বিচার চলবে

দোষী প্রমাণিত হলে
বাম দিকে বসা বিচারক নিষ্ঠুর সাজা শোনাবে

তারপর,যাবজ্জীবন বন্দি হবে অনুশোচনার কারাগারে

                        *****


চিত্র- ঈষা চৌধুরী









রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

পৌলমী দেব

                               

   
#বাঁধন

মাকে আমি সাঁকো বলি

যে জুড়ে রেখে দেয় হরেক নামের পাড়ের সাথে

সাঁকো ছুঁয়ে যাতায়াত চলে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়

সাঁকোর আয়ুর সাথেই কখন সমানুপাতিক হয়ে ওঠে সম্পর্কের আয়ু

পথ ঘাট একই থাকে
দূরত্বও সেই একই থাকে

শুধু সাঁকোর অভাবে আর পারাপার করা হয়না



#স্বরলিপি

মঞ্চে যখন মার  গান শেষ হতো
হাততালির জোয়ারে ভেসে যেত স্টেডিয়াম
মার মুখ যত উজ্জ্বল হয়ে উঠতো
তত মাকে অচেনা মনে হতো
আমার সাধারণ মা সুরের ছোঁয়ায় অসাধারণ হয়ে উঠতো
 
আমার চোখ শিল্পী মায়ের থেকেও বেশি খুঁজতো, রোজকার আটপৌরে মাকে
মা বলতো,গান আমার খোলা আকাশ

মায়েদের জন্য তো বরাদ্দ চার দেওয়াল
খোলা আকাশ তো দেওয়া যাবেনা
দেওয়া হলোও না শেষপর্যন্ত

মা অভিমানী ছিল,প্রতিবাদী নয় 
সাদা কালো রিডের গায়ে লেগে থাকা সুরগুলোকে কাঠের বাক্সে কফিনবন্দি করেছিলো নিজের হাতে

তারপর,কতদিন মায়ের কাছে আব্দার করেছি
গান গেয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতে
কোনোদিন মা পুরো গান গাইতে পারেনি
গলা বুঁজে এসেছে কান্নায়

তখন বুঝিনি 
কেন মায়েদের গান আভোগ স্পর্শ করেনা
থেমে যায় অন্তরা অথবা সঞ্চারীতেই



#ফাঁকি

মায়েরা অংক বোঝেনা

বোঝেনা ঠিক কতটা দিলে কতটা ফেরত নিতে হয়

কনকাঞ্জলির এক মুঠো চালেই তাই সমস্ত ঋণ শোধ করা হয়ে যায়
                    
                         ****
মায়েরা ভূগোল বোঝেনা

পাহাড়,সাগর,মালভূমি সবই খুঁজে নেয় চৌহদ্দির ঘেরাটোপে 

আহ্নিক গতি,বার্ষিক গতির চাকায় সংসারই  তাদের মানচিত্র হয়ে ওঠে
              
                       *****

মায়েরা ইতিহাস বোঝেনা

নিজের জমির জন্য বিদ্রোহকে রূপকথা মনে করে

জমির স্বত্ব হারাতে হারাতে কখন একদিন নিজেদেরই হারিয়ে ফেলে

                    ******
মায়েরা সাহিত্য বোঝেনা,তাই শখের বইগুলোর উপর পড়তে থাকে অবহেলার ধুলো

মায়েরা অর্থনীতি বোঝেনা,তাই দিনের শেষে তাদের ভাগে পড়ে থাকে একরাশ শূন্য

মায়েরা রাষ্ট্রনীতি বোঝেনা, তাই অধিকারগুলো  চিনে নিতে পারেনা কোনোদিনও


মায়েরা শুধু এটুকুই বোঝে,
কি করে সব বুঝেও না বোঝার ভান করে থেকে যেতে হয় শুধুই মা হওয়ার জন্য....










               




পৌলমী দেব

                             

#বাঁধন

মাকে আমি সাঁকো বলি

যে জুড়ে রেখে দেয় হরেক নামের পাড়ের সাথে

সাঁকো ছুঁয়ে যাতায়াত চলে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়

সাঁকোর আয়ুর সাথেই কখন সমানুপাতিক হয়ে ওঠে সম্পর্কের আয়ু

পথ ঘাট একই থাকে
দূরত্বও সেই একই থাকে

শুধু সাঁকোর অভাবে আর পারাপার করা হয়না



#স্বরলিপি

মঞ্চে যখন মার  গান শেষ হতো
হাততালির জোয়ারে ভেসে যেত স্টেডিয়াম
মার মুখ যত উজ্জ্বল হয়ে উঠতো
তত মাকে অচেনা মনে হতো
আমার সাধারণ মা সুরের ছোঁয়ায় অসাধারণ হয়ে উঠতো
 
আমার চোখ শিল্পী মায়ের থেকেও বেশি খুঁজতো, রোজকার আটপৌরে মাকে
মা বলতো,গান আমার খোলা আকাশ

মায়েদের জন্য তো বরাদ্দ চার দেওয়াল
খোলা আকাশ তো দেওয়া যাবেনা
দেওয়া হলোও না শেষপর্যন্ত

মা অভিমানী ছিল,প্রতিবাদী নয় 
সাদা কালো রিডের গায়ে লেগে থাকা সুরগুলোকে কাঠের বাক্সে কফিনবন্দি করেছিলো নিজের হাতে

তারপর,কতদিন মায়ের কাছে আব্দার করেছি
গান গেয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতে
কোনোদিন মা পুরো গান গাইতে পারেনি
গলা বুঁজে এসেছে কান্নায়

তখন বুঝিনি 
কেন মায়েদের গান আভোগ স্পর্শ করেনা
থেমে যায় অন্তরা অথবা সঞ্চারীতেই



#ফাঁকি

মায়েরা অংক বোঝেনা

বোঝেনা ঠিক কতটা দিলে কতটা ফেরত নিতে হয়

কনকাঞ্জলির এক মুঠো চালেই তাই সমস্ত ঋণ শোধ করা হয়ে যায়
                    
                         ****
মায়েরা ভূগোল বোঝেনা

পাহাড়,সাগর,মালভূমি সবই খুঁজে নেয় চৌহদ্দির ঘেরাটোপে 

আহ্নিক গতি,বার্ষিক গতির চাকায় সংসারই  তাদের মানচিত্র হয়ে ওঠে
              
                       *****

মায়েরা ইতিহাস বোঝেনা

নিজের জমির জন্য বিদ্রোহকে রূপকথা মনে করে

জমির স্বত্ব হারাতে হারাতে কখন একদিন নিজেদেরই হারিয়ে ফেলে

                    ******
মায়েরা সাহিত্য বোঝেনা,তাই শখের বইগুলোর উপর পড়তে থাকে অবহেলার ধুলো

মায়েরা অর্থনীতি বোঝেনা,তাই দিনের শেষে তাদের ভাগে পড়ে থাকে একরাশ শূন্য

মায়েরা রাষ্ট্রনীতি বোঝেনা, তাই অধিকারগুলো  চিনে নিতে পারেনা কোনোদিনও


মায়েরা শুধু এটুকুই বোঝে,
কি করে সব বুঝেও না বোঝার ভান করে থেকে যেতে হয় শুধুই মা হওয়ার জন্য....






              





শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

পৌলমী দেব


মাতৃত্ব


বিয়ের পর এই বাড়িতে যেদিন প্রথম পা দিয়েছিলো,সেদিন সবার সাথে আলাপ করানো হলো,শুধু একজন ছাড়া।কয়েকজনের সাথে পরিচয় অবশ্য সম্বন্ধ দেখতে বা তত্ব দিতে যাওয়ার সময়।বিয়ের দিন এতো ভিড়ে কোনো আত্মীয়কেই তেমন ভাবে মনে থাকার কথা নয়।কালরাত্রির দিন পিসি-শাশুড়ির সাথে একঘরে শুয়ে একটু ইতঃস্তত করে জিজ্ঞেসই করে ফেললো ঝুমুর,পিসিমণি ওই ছেলেটা কে ছিলো?
পিসি-শাশুড়ি বললো,কোন ছেলেটা?
--ওই,সন্ধেবেলা যাকে সবাই তাড়াতাড়ি সরিয়ে নিয়ে গেলো আমার ঘর থেকে? 
পিসি-শাশুড়ি মুখটা করুণ করে বললো,ওটা তোমার ছোট দেওর বৌমা।কি কপাল দেখো,জন্ম থেকেই ছেলেটা বোবা আর কালা।বৌদিরও কপাল!এতো গুলো সুস্থ সন্তানের পরে বেশি বয়সে এমন এক ছেলের জন্ম দিলো।সবই ভগবানের ইচ্ছা মা!
-ওকে সবাই বকছিলো কেন?ঝুমুরের বিস্ময় তখনো কাটেনি।
-শুধু বোবা কালা হলেও না হয় কথা ছিলো।বাচ্চুটা মাঝে মধ্যে এমন পাগলামি করে বসে যে ঘর বন্ধ করে রাখতে হয়।কখন কাকে মেরে ধরে বসবে কে জানে!
--পাগল?ঝুমুর একটু চিন্তিত সুরে বললো।
ঝুমুরের ভীত মুখ দেখে পিসি বলল,পাগল নয় বৌমা।ছেলেটা এমনিতে খুবই ভালো।কারোর থেকে তেমন ভালোবাসা পায়না তো,তাই কষ্ট থেকে কখনও সখনও হয়তো…..
ঝুমুর প্রথম প্রথম সত্যিই ভয় পেতো বাচ্চুকে।ওর দিকে কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো যেন,নতুন মানুষ বলেই বোধহয়।কিন্তু ঝুমুরের বুকের ভিতরটা হিম হয়ে যেতো ওর চোখের দিকে তাকালে।ডাইনিং টেবিলে সবাই একসাথে খেলেও বাচ্চুকে কখনও দেখেনি।ওর ঘরে রোজ খাবার দিয়ে আসার কাজ বংশীদারই ছিল।ছেলের অসুখে বংশীদা দেশে যাওয়ায় পর একদিন ঝুমুর প্রায় জোর করেই খাবার নিয়ে গেলো বাচ্চুর ঘরে।একটা বল নিয়ে খাটের উপর বসে নিজের মনে খেলছিলো,ওকে দেখে মুখে সামান্য হাসি ফুটলো।এরপর থেকে মাঝে মাঝেই খাবার নিয়ে যেতো ঝুমুর।ভয়টাও আস্তে আস্তে কেটে গেলো।একদিন খাবার দিতে গিয়ে দেখলো কম্বলে মুখ ঢেকে শুয়ে আছে বাচ্চু।কম্বল সরিয়ে গায়ে হাত দিয়ে দেখলো বেশ জ্বর।থার্মোমিটার আনতে যাচ্ছিলো,হঠাৎ আঁচলে টান পড়তে দেখলো বাচ্চু করুণ দৃষ্টিতে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে।সেইদিন থেকে কেমন যেন একটা অপত্য স্নেহ পড়ে গেলো বাচ্চুর উপর।বাচ্চুও বড় বৌদির হাতে ছাড়া আর কারুর হাতে খেতোনা।মাঝে মাঝে ওর কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়েও পড়তো।
তন্ময় যদিও ঝুমুরের বাচ্চুকে নিয়ে এই 'আদিখ্যেতা' একদম পছন্দ করতো না।মাঝে মাঝেই বলতো,তোমাকে এতো করতে কে বলেছে?পাগল ছেলে,কখন কি করে বসবে কে জানে! 
মুখে কিছু না বললেও,হাবেভাবে বিরক্তি প্রকাশ করতো ঝুমুর।কোনো কোনো দিন রেগেমেগে বলেও দিয়েছে,ওকে একদম পাগল বলবে না।অনেকের থেকে সুস্থ।কোনোদিনও গেছ ছেলেটার কাছে?ভালোবাসার কাঙাল ও।একটু ভালোবাসা পেলেই হয়তো....।
বাচ্চুর প্রতি এই অপত্য স্নেহ নিয়ে শুধু তন্ময় না,বাড়ির প্রত্যেকে,এমনকি শাশুড়ি পর্যন্ত সাবধান করেছে।বাচ্চুর কথা উঠলেই ঝুমুর এড়িয়ে গেছে।ও জানে সন্তান কখনো মায়ের ক্ষতি করে না।না হোক সে গর্ভধারিণী।
          সুখবরটা আন্দাজ করছিল,আজ ডাক্তারের কাছে গিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হলো।মনের মধ্যে টাটকা বাতাস বয়ে গেলো ঝুমুরের।একটা মেয়ের এর চেয়ে সুখের মুহূর্ত আর কি হতে পারে।গাড়িতে উঠেই আচমকা ঝুমুরের গালে চুমু খেলো তন্ময়।
-আজ নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হচ্ছে।
-কি হচ্ছে কি?লজ্জা পেলো ঝুমুর।
কথাটা ছড়িয়ে পড়তেই বাড়িতে খুশির জোয়ার উঠলো। অনেকদিন পর বাড়িতে বাচ্চা আসছে,স্বভাবতই সকলে ভীষণ খুশি।ঝুমুরের যত্নআত্তিও বেড়ে গেলো খুব।প্রথম বেশ কিছুদিন আমিষের গন্ধ নাকে গেলেই কেমন অস্বস্তি হতো।তাছাড়াও সব সময় একটা বমি বমি ভাব,দুর্বলতা।বিছানায় শুয়েই থাকতো বেশিটা সময়।অনেকদিন বাচ্চুর কাছেও যাওয়া হয়নি।ওকে দেখতে না পেয়ে,নিশ্চয়ই খুব মন খারাপ হয়েছে বাচ্চুর।বংশীদার থেকে নিয়মিত খবর নেয় ঝুমুর।একদিন বংশীদা এসে বলল,দাদাবাবু সকাল থেকে কিচ্ছু খাচ্ছেনা।দুধের গেলাস নিয়ে গেলাম,এমন ছুড়ে মারলো।একটু হলেই আমার মাথায় লাগতো।এখনো ভাত নিয়ে গেলাম,খেলোনা।আমার হয়েছে যত জ্বালা!
ঝুমুর কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে তারপর বললো,তুমি ওর খাবারটা উপরে দিয়ে এসো বংশীদা।আমি যাচ্ছি।
-তুমি এই শরীর নিয়ে যাবে বৌদিমণি? কর্তামা জানতে পারলে আর রক্ষে থাকবে না।
-কাউকে কিছু বলতে হবে না তোমাকে,ঝুমুর নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।মাথাটা একটু টলছিল,সেটা উপেক্ষা করেই বাচ্চুর ঘরে গেলো।
উল্টোদিকে মুখ ঘুরিয়ে শুয়েছিলো বাচ্চু।ঝুমুর এগিয়ে এসে পিঠের উপর হাত রেখে ডাকলো,বাচ্চু।এই পরিচিত স্পর্শের জন্যই বোধহয় অপেক্ষা করছিল বাচ্চু।চকিতে উঠে বসে প্রথমে কিছুক্ষণ ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ঝুমুরের দিকে।সামান্য সময়,তারপরেই মুখে খুশির রঙ ফুটিয়ে দু’হাত দিয়ে জাপ্টে ধরলো বৌদিকে।ঝুমুরের পেটে চাপ পড়তেই বাচ্চুর হাত দুটো সামান্য ঠেলে ইশারায় বললো,আয় ভাত খাবি আয়।
বাচ্চু কি বুঝলো কে জানে!খাট থেকে সাথে সাথেই নেমে এলো।ঝুমুরের ভারি পেট নিয়ে কষ্ট হয়।উঠতে বসতে সময় লাগে।ধীরে সুস্থে বংশীদার রেখে যাওয়া ভাতের থালা হাতে নিতেই দেখলো বাচ্চু কেমন অবাক হয়ে তার পেটের দিকে তাকিয়ে আছে।সম্পূর্ন অচেনা চোখের ভাষা।ঝুমুরের একটু অস্বস্তি হলো।তবু ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি ঝুলিয়ে ভাতের থালা রেখে বাচ্চুর হাতটা আলতো করে নিজের পেটের উপর রেখে ইশারায় বললো,এই বাড়িতে নতুন একজন আসছে।দেখ,দেখ! 
আচমকাই বাচ্চুর মুখটা আবার কালো হয়ে এলো।এক ঝটকায় ঝুমুরের হাতটা সরিয়ে উল্টোদিকে মুখ করে আবার শুয়ে পড়লো।ঝুমুরের রাগ হলো খুব।অসুস্থ শরীরে কত হ্যাপা সামলানো যায়!মনে মনে বললো,খেতে হবে না যা।তোর জন্য বংশীদাই ভালো।মন খারাপ ও হলো।মুখ ভার করে সবে সিঁড়ির প্রথম ধাপে পা দিয়েছে,আচমকাই আঁচলে টান পড়লো।শাড়িতে পা বেঁধে নিচে পড়তে পড়তে চোখে অন্ধকার দেখলো।তারপর আর কিছু মনে নেই। 
জ্ঞান ফিরতেই ঝুমুর দেখলো মাথার কাছে স্বামী,শাশুড়ি আর বড় ননদ উদ্বিগ্ন মুখে বসে।ডাক্তার বলে গিয়েছেন,ভয়ের কিছু নেই।ছোট্ট একটা অপারেশন করলেই চলবে।ঝুমুরের কম বয়েস,মা হওয়ার সুযোগ আবার আসবে।
ছ'মাস ধরে লালন করা স্বপ্নটা বিসর্জন দিয়ে বাড়ি ফেরার পর বিস্তর কথা শুনতে হলো ওকে অসাবধানতার জন্য।বাচ্চু এসে দু একবার ওর ঘরের বাইরে থেকে উঁকি দিয়ে গেছে।ঝুমুর দেখেও ডাকেনি।ঘটনার আকস্মিকতা ওকে স্তব্ধ করে দিয়েছে একেবারে। 
     দিনকয়েক বাদে একটু সুস্থ হয়ে বাচ্চুর ঘরে ঢুকতেই দেখলো ঘরের ভিতর বাচ্চু থমথমে মুখে বসে।ওকে দেখে অপরাধীর মতো মুখ করে সরে বসলো। এই কয়েকদিনের মনের ঢেউ এর ওঠানামা যেন কিছুটা শান্ত হলো ওর মায়া মাখানো চোখ দুটো দেখে। স্বেচ্ছা বাঁধ ভেঙে পড়লো মুহূর্তেই।দু’চোখ ভরে জল এলো ঝুমুরের।
- এত অভিমান তোর?ও এলে তোর ভালোবাসা কমে যাবে ভেবেছিলি?ওইভাবে কেউ আঁচল টেনে ধরে,যদি মরে যেতাম? পাগল ছেলে আমার!
  বাচ্চু কি বুঝলো কে জানে,মুখে অদ্ভুত একটা শব্দ করে ডুকরে কেঁদে উঠে সর্বশক্তি দিয়ে আরো জোরে জাপ্টে ধরলো ঝুমুরকে।