গুচছ কবিতা. লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গুচছ কবিতা. লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অর্ঘ্য নাথ

             




বোধন




অব্যুঢ় যুবক সবুজের মতো দানপত্র নিবিড়
ঘাটে বাঁধা তার পরমা মৃদু সুদূর
ডাহুক খুঁজেছে তালগাছ ভালো নাকি শিবির
অভিধানে দুপুর ঘুমায় নিশ্চিন্দিপুর নিশ্চিন্দিপুর।

তুলোর মতো আকাশ কখনো রুপোলি গন্ধে শ্রাবণ
প্রিয়জনের ভ্রমর মাখা কাশফুল নিয়তি রাকা
যুবক তবু শারদ আলোয় অস্থির, সোঁদা পলাতকা
ওপার থেকে নদীর গন্ধে প্রথম আলোর বোধন।

যুবকের 
                                     পথ 
                 গেছে
                                                     বেঁকে
প্রান্তিক অবশেষে অম্বিকা অথবা আটচালা
তরণী থাকুক অপেক্ষকাতর 
বাগধারা নীল পঙ্কজ ই শ্রেষ্ঠ মহিমাপালা ।

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

অঙ্কুশ ভৌমিক

                                         



এই সংখ্যার কবি অঙ্কুশ ভৌমিক ।বয়স - উনিশ৷বসবাস: শ্রীরামপুর, হুগলী। অবসরে বই পড়তে, গান করতে, ছবি আঁকতে ভালোবাসে। শখে কবিতা লেখা।


 অরণ্য



(১)

প্রথমবার শিউলি ফুল কুড়িয়ে

                           হাতে নিলাম।

আকাশগুলো ফুরিয়ে গেল

শেষ হলো সমস্ত অকাজের সময়


দূর থেকে দেখলাম,

শহর পেরিয়ে

অরণ্য কাছে এসে পড়েছে


আর, ঘাড়ের উপর 

নিশ্বাস ফেলছে

দুটো সাদা বক


(২)

আকাশের অনেকটা উপর থেকে

একটা ছোট্ট সিকি

ধানক্ষেতের সবচেয়ে উঁচু শিষটাকে

                                আঘাত করল


কিছুক্ষণ সবটা চুপচাপ

তারপর বাঁধনছাড়া উচ্ছাস

পরপর নিমজ্জিত হল,

ঘাস, ফুল, পাতা...

অবশেষে অরণ্য


আমার আর কিছুই বলার থাকল না

দু'মুঠো আদর ছাড়া


(৩)

ঘাসের উপর, যেখানে

আমার হলুদ পায়ের ছাপ পড়েছে

তার থেকে খানিকটা দূরে

একটা শিউলি ফুলের গাছ। সাদা।


আমি অন্য ঘাসগুলো মারাতে চাইছি না।

কিন্তু কেন?


(৪)

পরশু রাতে বাজ পড়ে-

যে গাছটা ন্যাড়া হয়ে গেছে

তার মাথায় একটা চিল সবসময় পাহারা দেয়


যতবার শিকারি আসে,

চিৎকার করে জানান দেয় সে।

শুধু ফাঁকা আওয়াজ হয় বন্দুকের


আমি আরো বেশি করে ভালোবেসে ফেলি



(৫)

বেশ কিছুদিন পর

গড়গড় করে গাড়ি এলো;

পেট্রোলের গন্ধে 

কিছুক্ষণের জন্য অচৈতন্য...


তারপর, সামনে শুধুই বালি


টেবিলে বসে ডায়েরি খুলে দেখলাম

পাতাগুলোয় শ্যাওলা। ঘন। সবুজ।


ধানক্ষেত

অঙ্কুশ ভৌমিক


(১)

কালোজলের দীঘিটা পেরোতে পারলেই

                    অনেকটা সবুজ দেখা যায়

কবিতার ঝুলি ফুরোলে

তারপর, ধানক্ষেত আসে


সবুজ শিষের উপর

চোখ বোলাই।

বড্ড সুখ হয়


পাশ থেকে তাড়া আসে,

জল আসবে। ছায়ায় চল


(২)

একটা মেঘের কতখানি সাহস

নদী ছাড়িয়ে এপারে এসে গেল

একা!


আমিও হুঙ্কার করলাম,

পূবদিকের হওয়া আমার পাশে দাঁড়ালো।

শিষগুলো ঘাড় এলিয়ে একবার আমার দিকে

                                    একবার মেঘের


তারপর, আমার পরাজয়

              আমার শান্তি


(৩)

সেদিন জ্বর এসেছিল

তাই, জানালাই সম্বল


একটু ঠাট্টা তামাশা হলো

একটু পাগলামো

একটু বকাবকি


তারপর যা হয়,

থার্মোমিটার, জলপট্টি, প্যারাসিটামল

জ্বর কমল

রোদও


(৪)

রাস্তার ধারে থুতু ফেলে

এগোলাম সবুজের জন্য


চোখ ধাঁধিয়ে গেল নিমেষে

শান্ত, সোনালী আলো

ভয় পেলাম


মাঠের মাঝে

মৃত্যুর রঙ সোনালী


(৫)

মৃত্যু আমি দেখিনি,

দেখেছি

মৃত্যুর শেষটা


সর্পিল আলপথের উপর

বড্ড রোদ লাগছে এখন

পূবদিকের হওয়াটাও বেমামান


পাশ থেকে তাড়া আসে

বড্ড গরম। ছায়ায় চল

সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২০

জয়ীতা ব্যানার্জী

                

তারাদের সার্কাসে আলো জ্বলে



মনখারাপের দিনে বৃষ্টিকে অন্ধের ফেরিওয়ালা মনে হয়
অন্ধ কেবল ওই স্বরটুকু চেনে। বোঝে
নক্ষত্রের পসরা সাজিয়ে ভাঙাচোরা সাঁকোটি পেরোলে

মেঘের ভিতর থেকে তার-ই দুয়েকটি ঝরে কি পড়ে না
মাটির উপর তাঁরা গাছ হয়, অন্ধ জেনেছে
আর সবচেয়ে কোমলটিকে 'মা' বলে ডাকে


তুমি সোনার কাঠির মতো। জ্বরের ঘোরেই বুঝি
কত কথা বলা হয়ে উঠলো না এবার-ও তোমাকে

দূরে তারাদের সার্কাসে আলো জ্বলে। সারারাত
এত আলো তবু কেন
তোমার হাতের ছায়া পড়ে না কপালে


তেরছা রোদ এসে ভরে দিচ্ছে শব্দছক। পেরে যাওয়া শব্দগুলিতে টিক দিতে দিতে বড় হয়ে উঠছে চাঁপাডালের ছায়াটি। আর সামান্য বড় হতেই উল-কাকু এসে দাঁড়ালেন। ঝরঝরে সাইকেল বোঝাই উলে আসল মানুষটিই ঢাকা পড়ে গেছেন যেন। মা-কাকিমারা পছন্দের রং বাছছেন। পুরনো রঙের সঙ্গে মিলিয়ে মিলিয়ে নতুন রং খুঁজছেন। তিনি টান মেরে বার করে আনছেন চকচকে শীতের ওম। হাতের কায়দায় ছুঁড়ে দিচ্ছেন শূন্যে! তারা নেমে আসতে আসতে সোজা-উল্টোয় কী সুন্দর সেজে উঠছে বাগান। রিনরিনে চুড়ির শব্দ কেড়ে বাবা বলে উঠছেন মায়ের হাতে না কি জাদু আছে। আমি তাকিয়ে আছি আকাশের দিকে। মায়ের হাসির শব্দ ভেসে আসছে।


নামতার সুর যতখানি একঘেয়ে ঠিক ততখানিই মধুর। দুলে দুলে নামতা পড়ার অভ্যেসে মা এসে গরম দুধের গ্লাস রেখে যান। শীতের বিছানা জড়িয়ে ধরে আরও কিছুটা সকাল পেরিয়ে যাওয়া যায়। বন্ধ জানালার ফাঁক গলে সোহাগী রোদ ছুঁয়ে নিচ্ছি, নেব -- ভাবতে ভাবতেই মায়ের আঁচলের গন্ধ দূরে সরে যেতে থাকে। দুহাতে মুখ গুঁজে চেনা ঘ্রাণ হাতড়ে বেড়াই, রোজ। সবার মতো আমার আর বড় হওয়া হয় না, বাড়ির সবার আগে ঘুম ভেঙে ওঠা হয় না, গুছিয়ে কাজ শেখা হয় না আমার। দিন জিতে যাওয়া বন্ধুটি যেন, অনেকটা এগিয়ে গিয়ে পেছন ফিরে ভেংচি কাটছে।


পরমান্ন সাজিয়েছি। এসো সুখ পাত পেড়ে বোসো
তোমাকে একটি দিন আদরে খাওয়াই। আঁচলের
আলতো পরশে মুছি ছিটেফোঁটা নুনের দেমাক

তোমাকে দেখতে সুখ অবিকল মায়ের মতই

------------



রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

পিয়ালী বসু ঘোষ

                          


বাঁধ_ভেঙে_যায় 

-------------------------

নদীর সাথে তখন চূড়ান্ত সঙ্গম তার 
তবু,ছেলেখেলাগুলো ফুরিয়ে গেছে আচমকা 
সূর্যকে সাথে নিয়েই আস্ত একটা জীবনও 
জলের তোড়ে পেটে গেছে ডাইনির 

বন্যার জল নেমে গিয়ে 
বাঁধ মেরামতি করছে অসফল আত্মহত্যাকারী 
ডাকিনি হাওয়া এসে হাতছানি দিচ্ছে 
আবারও নদীর বুকে যাবার নেশায় 
টুকরো হয়ে যাচ্ছে নিজের ভিতরের মানুষটা 

নীরবতা ভেঙে যাচ্ছে কাছিমের পায়ে পায়ে 
নিঃশব্দে সময় নিয়ে খেলছে ঘড়ি 
ভিতরে বোবা হয়ে আছেন ঈশ্বর 
নিজের হাতে  বাঁধ মেরামত করছে ধ্বংসকামী লোকটা 
যদিও জানে, 
আগামী বর্ষায় আবার নদী  গিলে নেবে সবটা  |






#বৃষ্টি_মুখর_পদ্য 

________________

সারাদিন বনে জঙ্গলে উড়ে বেড়ায় ধুলো।অন্ধ ফকির হারিয়ে যাওয়া গোধূলী খোঁজে কিম্বা বুনো ফুল ।কুয়াশায় মেতে ওঠে প্রকৃতি কথার নিঃশব্দ প্রেক্ষিত ।এসব কিছুতেই আমার অধিকার নেই তবু নিয়ামক মেটান জিভের স্বাদ ।আমি কাঁচা হাতে বুনি লাল রঙের কার্পেট ।ছড়িয়ে যায় উলের লাছি ।নির্মোহ মায়া বাদামি ঠোঁটের খাঁচা খুলে উড়ে গিয়ে বসে অন্যমনস্কতার আত্মপরিচয়ে ।খেয়াল হয় আচমকাই কোলঘেঁষে বেড়ালছানাটা নেমে গেছে কখন !কলঘরে জল পড়ে যাচ্ছে বৃষ্টিমুখর পদ্য ।

দুপুর গড়ায় ।চেনা সময় শব্দে ধরা দেয়না ।গরম মশলার গন্ধে বহু তাপ্পি দেওয়া শোক উঁকিঝুঁকি দেয়।মুখোশ চিনে ফেলার অসুখ হলে হাতানিয়া দোয়ানিয়ায় ভেসে যায় সধবা সুখ।স্বপ্নে আসে এসব।ঘুমের ভিতরে খুলে রাখি চোখ ।বিছানায় নেমে আসে জিরানো ছায়া,শিমুল তুলো আর সেতুবিচ্ছেদের শব্দ ।

আসি আসি করে নিঃস্ব ডাক আসে।দেখি সে ফিরে এসেছে বর্ষাবলয় অতিক্রম করে আরক্ত বিকেলে ।আমি চিনতে পারছিনা তাকে।বড্ড মেদহীন সে।জীর্ণ পাতার জালকের মতো তার শরীরেও অসংখ্য নদীপথ ।"এতো নদী তুমি বয়ে বেড়াচ্ছ কি করে" ভাপের মত উড়ে যায় ছদ্ম আলো ।ততক্ষণে সন্ধ্যা নামে।নিষ্পলক অন্ধকারে ভিজে যায় ঈশ্বরের বিচার ,ঝাপসা হয় ওপারের সেতু।

 

রঞ্জনা বসু


কবিতা -- মা


শিউলি শিশিরে আগমনী গানে 
হাসি, আলো নিয়ে উমা আসে ঘরে 
খুশির দোলায় দোলা ।
আঁধার মাটিতে উৎসব দ্বারে 
প্রাণের প্রদীপ জ্বালা ।

জন্মদাত্রী মা যে আমার 
আলপনা আঁকে সুখে, 
দুই মায়ের ই মুখটি দেখি 
নয়ন দুটি মেলে ।

স্নেহের আঁচলে মুখ রেখে দেখি 
জড়িয়ে রয়েছে মা, 
আঘাত পেয়ে কাতর হলেই 
আগলে রেখেছে মা ।

শব্দে , স্পর্শে, চুলের গন্ধে 
ছড়িয়ে রয়েছে মা, 
ভালোবাসার একটি সিঁড়ি 
সামনে ধরেছে মা ।

এগিয়ে যাচ্ছি ধাপে ধাপে 
যখন আকাশ ছুঁতে, 
মাটির ওপর বসে মা যে 
পথ টি চেয়ে আছে ।

দেখতে পাইনি সব 
ব্যস্ত আমি , সময় দিচ্ছি সবাইকে 
মায়ের জন্য সময় বড়ো কম
মা, তখন ঠাকুর ঘরে বসে 
প্রার্থনা করে বাছাদের ভাল হোক ।

শ্রীলেখা মুখার্জ্জী



(১)
বাঁধ ভেঙে দাও
—————-
সদ্য শীতে, লেপ কম্বল রোদে দেওয়া
কতটা নিপুণ, পরিপাটি হয়

মা তুমি জানো এই কারুকাজ
পশমের গোলার মতো নিজে কে ফুরিয়ে
সংসারে নক্শা তোলার কৌশল

পঞ্চব্যঞ্জনে পরিতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে
ভাতঘুমে নিঃঝুম রান্নাঘর ,
কালিমাখা দেয়াল সাক্ষী ,তোমার দুমুঠো ভাতের
পরিশ্রান্ত গল্প… অভিযোগহীন আজও

মানিয়ে নেওয়ার সংবিধান তুমি গুলে খেয়েছো মা !

তোমার ইছামতী শুকিয়ে গেলো
সংসারের বিধানে… সবকিছু যে তোমায় মানায় না

আর কতোদিন মা !
কতোদিন নিজস্ব ভালো লাগাগুলোর
ফসিল বানিয়ে রাখবে…

এখন পড়ন্তবেলায় ছিনিয়ে নাও তোমার নিজস্বতা

মা নিয়ে নাও তোমার একবুক ইছামতী
যা এতদিন আটকে রেখেছে সংসার… নিষেধের বাঁধে
,
২)

আদরের আশ্রয়
———————
খুচরো থাকতো বাঁধা আঁচলের খুঁটে
খরচ বাঁচিয়ে কিছু সংসারী গল্প
হাতপাতা আবদার নিত চেটেপুটে
যদিও চাহিদা ছিল নিতান্তই অল্প

অভাবের ছায়া তুমি রাখতে আড়ালে
গিলে নিতে কৌশলে না পাবার দুঃখ
লক্ষ্মীর ঝাঁপি জানে তুমি হাত বাড়ালে
ছোঁয়াচে  সে মোহরের ,বোধটাই সুক্ষ্ম

তোমার পোষ্য ছিল ,জিন না আলাদিন
চুরমুর হজমির আনা পয়সারা !
ম্যাজিক লাঠিতে তুমি করতে রঙীন
সম্বল কি ছিল ! শৈশবটুকু ছাড়া !

হাক্লান্ত ঘরে ফিরে আদরের আশ্রয়
সে উপচানো গন্ধের  মা মা সুখটান
পোড়োবাড়ি ধ্বংসের স্তুপ আজ ভয়
হেরো রাত খোঁজে ঘুমপাড়ানির গান

৩)
পরমান্ন
———
বসন্ত এলেই আমি পায়েসের গন্ধ পাই

জানলায় মা এসে দাঁড়ায়…

আয়ুরেখা , শেষ সীমার দিকে
এগিয়ে যায় কিছু টা ,
দমকা হাওয়ায় কাঁপতে থাকে প্রদীপের শিখা

মা আসবে বলে,
ঘষে মেজে চকচকে করি পেতলের পিলসুজ ;

আকাশে ফাগুনী পূর্ণিমার চাঁদ উঠলে,
মা আসে…
হাতের বাটিতে সাদা পরমান্ন

চাঁদের আলো পিছলে যায়

কেঁপে ওঠা প্রদীপের শিখা
আঁচলে আড়াল করে মা…

আমি শৈশবের ফানুসে ভেসে ভেসে
আবদারের আশ্রয়ের চৌকাঠ পেরোই

পায়েসের গন্ধ নিই বুকভরে…


রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়


এই সংখ্যার কবি তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়I জন্ম- ১/০৯/১৯৯৬। ২০১৯  প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হয়েছেন। ২০১৫ থেকে সক্রিয়ভাবে লেখালিখির সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের নানা ছোটোপত্রিকায় লেখালেখি করেন। ২০১৮ তে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রথম বই 'ঘুম দাও ঈশ্বর', পেয়েছেন 'সোনাঝুরি কবি সম্মান-২০১৯'।তার ১০টি কবিতা পড়া যাক।

১) সুখের আগে নাইবা 'অ' লিখলাম
------  
কবি ফিরে এসে লিখলেন,
বুকে এখন পয়েনসেটিয়া গাছের নিবিড় চলাচল!  
এদিন ওদিক দোলাচ্ছে মাথা!
ওখান থেকে কয়েকটি পাতা রেখে যাব ডায়েরিতে
 কারণ
উপহারকে কখনো শেষ বলতে নেই...

অথচ চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, 
তাঁর হৃৎপিন্ডে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে।         

২) অমোঘ
----- 
স্বপ্নে,
আমাকে বিদায় বলে
অতঃপর, তারাটি মিলিয়ে গেল!
 সাবধানে হেঁটে গিয়ে জানলাম,
সে আমার কপালের টিপ ছিল এককালে।

কোনো চুম্বনবিহীন সঙ্গমের পর,
তাকে রেখে এসেছিলাম প্রেমিকের স্নানঘরের আয়নায়। 


৩)  আংশিক
------ 
নদীতে পাথর ছুঁড়ে দেখেছি,
সে কখনো চিৎকার করেনি!
 শব্দ করে বুঝিয়েছে,
  স্নিগ্ধ হাসি!    
একেকদিন ভাল বিক্রির পর
যে হাসি দেখা যায়
ক্লান্ত ফেরিওয়ালার ঠোঁটে।   

৪) সেমিকোলন 
---- 
সন্ধের দিকে পা বাড়ালে 
সকাল অভিমান করে না!
কিন্তু
তোমার দিকে পা বাড়াতেই এক নারী
সহসা এগিয়ে এল কাছে...
মুখে তার অজস্র দাগ!   
যেন বালিকা জীবনের ভেতর
 ধরে রেখেছে বার্ধক্য কুসুম!

পরিচয় জিজ্ঞাসা করতেই আকাশবাণী হল,
এই আমার ছায়া,
জন্ম থেকে সঙ্গে সঙ্গে আছে।    


৫) ভিক্ষা শেষ হলে
----
আমার গর্ভ শূন্য করে
 যে সন্তানটিকে নিয়ে গেলে
সে একদিন দস্যু হবে!
 তরবারি দিয়ে অসহ্য অক্ষর ছিঁড়ে
 সন্তান আমার,
তোমাদের চোখের মণির মধ্যে চেপে ধরবে হাঁটু! 

অন্ধ তোমরা,
 হাত তুলে বিলাপ করতে করতে বলবে -
'পারে,
 নিশ্চিত, 
একটি কবিতা করতালি ছেড়ে 
মঞ্চের পিছন দিকে অন্ধকার আলোয় 
বিমর্ষ মানুষের বুকে গেঁথে যেতে পারে।'





(সিরিজ)

সর্পদংশনে 
----- 

(১) 
বিষ উগড়ে দিচ্ছে মুখ। 
সে মুখে চুম্বন কতখানি অপেক্ষার বিষয়
তা  নিয়ে কাটাছেঁড়া করছে ছটফটে তরুণ।
তরুণের ঠোঁট 
এর আগে আরও বেশি বিষ পানে খ্যাত... 

(২) 
নারীর স্তনের মত আকাশে
ধবধবে বক উড়ে যায়।
শ্যাওলা ধরা দেওয়ালের পাশে 
আস্তে আস্তে ক্ষীণ হয়ে যাওয়া মিলনদৃশ্য 
বুঝে নিচ্ছেন পরিচালক,
যিনি কিনা সাহিত্যে কাঁচা!  



(৩)
লিপি আঁকড়ে থাকে সাপ
সাপের গতি বাড়ে ফেনিল সমুদ্রে।
সমুদ্রে ঝিনুক কুড়াতে গিয়ে তাই
হারিয়ে গিয়েছিল মেয়েটি
মা...  

(৪)
ঘড়ায় মোহর ভরা আছে।
ঘরে আছে কৃষকের লাঙল। 
লাঙলের ফলা থেকে জন্ম নেবে কর্ষিত সীতা এবং মানসকন্যারা।
অথচ মনের কোনো লিঙ্গ নেই,
নেই যোনিমুখ। 

(৫)   
সর্পকাব্য পড়, 
ফিরে পাবে হারানো প্রেমিক।
প্রেমিক ভুলিয়ে দেবে দুঃখ,তাপ,জরা। 
কান্নায় মিশে যাবে একা একা খেলার দুপুর।

সর্পকাব্য পড় সন্তর্পণে!
দংশন স্থানে রেখে দেখ আঙুল!
ইতিহাস জানে সাপে আর অগ্নি গহ্বরে
কতখানি ভাব,ভালবাসা!       


তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়
যোগাযোগ -৯০৬৪৭৫৯৯২৭  


রবিবার, ২১ জুন, ২০২০

শুভম চক্রবর্তী


এই সপ্তাহের  কবি শুভম চক্রবর্তী ৷তার  লেখালেখির সূত্রপাত ২০১০ সাল নাগাদ অর্থাৎ প্রথম দশকের কবি বলা যায়৷ বাণিজ্যিক-অবাণিজ্যিক নানান পত্রিকায় নিয়মিত তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। এখনো পর্যন্ত তিনটি কাব্যগ্রন্থ আছে - শব্দের বিহ্বল ডানা (২০১৭), শরীরপরব (২০১৮),  আয়াত (২০১৯)। 
কবি ২০১৭ সালে পেয়েছেন 'উতল হাওয়া সাহিত্য সম্মাননা', ২০১৯-এ 'শরীরপরব' কাব্যগ্রন্থের জন্য মাসিক কবিতাপত্র পত্রিকার পক্ষ থেকে 'কবি জয়দেব বসু পুরস্কার'। 
সম্পাদিত পত্রিকা - 'কর্ষণ', 'অনপেক্ষ'।       




অনুচ্চারিত
-------------------



বাইরে ভীষণ বৃষ্টি আর ঝড়
শব্দ করে দরজা খুলছে, বন্ধ হচ্ছে
মেঘ ডাকার রেশ লেগে থাকছে সারা আকাশে
বৃষ্টি ধোয়া বিদ্যুৎ-এর আলোয় আলোকিত সব
এরকম মুহূর্তই তোমার দিকে নিয়ে যায়
স্মৃতি-বিস্মৃতির পরম্পরা টপকে, আদুল হয়ে,
মাছ ধরছে ছেলেরা, পথেই
স্মৃতির মধ্যে ঢুকে যাওয়া এইসব গ্রামজীবনের খণ্ড চিত্র 
পেট ফোলা ব্যাঙ, লুকোনো সাপ, গুরুতর বিদ্যুৎচমক, ছায়া ও অন্ধকারও ঢুকে পড়ে
পুকুরের পাড় ভেঙে জল ঢুকে যায় গ্রামে
পুকুরের পাড় ওঠা দিয়ে জন্মতারিখ নির্ধারণ হওয়া আশি নব্বই বছরের প্রাচীন গ্রামছবির সঙ্গে তোমার স্মৃতি সংযুক্ত হয়ে গেল
খণ্ড খণ্ড জগৎছবি মেশালাম কিঞ্চিৎ  শুশ্রূষা সহযোগে 
এবার আমরা আরশিনগরের দিকে চলে যাব
দুদিনের হোটেলবাস, পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া, অনাথ আশ্রমে থাকা কিছু দিন
আমাদের মধ্যে আর আলাদা আলাদা ভাবে উচ্চারিত হবে না কখনও
বাইরে ভীষণ বৃষ্টি আর ঝড়, বিদ্যুৎ চমক
কী যেন ধুয়ে, মুছে এক করে দিল


মৃত্যুকে যেমন দেখায় 
---------------------------------

বর্ণ ও বর্ণহীনতার ছড়িয়ে পড়া, অভিযাত্রা এমনই
যেন সকাল থেকে মা ডেকে তুলছে আর কেউ উঠছে না
যেন ভোরের পাখি ডাকা ডাকা আকাশ কবলিত তোমার স্নিগ্ধ মুখ, বিনুনির ওম পৃথিবীর নৈরাজ্য-পীড়িত এলাকার দিকে উড়ে গেল
আর তাকেই আঁকড়ে ধরতে চেয়ে কেউ একটা ছুটে গেল ভেতরের দিকে
সেখানে ছোটেনি কেউ, কেউ আর স্থির হয়ে নেই
ইতস্তত হাওয়ায় কাঁপছে বর্ণদীপখানি
সে আলো সারা গায়ে মেখে ঘুমিয়ে রয়েছে একটি পাগল, প্রশান্ত ঘুমের দেশে, এত জবাফুল




তারারাত্রি
-----------------



তারারাত্রির আকাশে ছড়িয়ে দিলাম মদ, ছড়িয়ে দিলাম মাংসকুচি
রক্তাভ আবেদন ছড়িয়ে পড়লো নিভৃত সর্বাঙ্গে
খুব উট উট পেল আমার
গাভিন কামদুঘার মৌনব্রত পেল
রাত্রি রঙিন খানকির মতো আবেদনময়ী এবং স্থূল
এইসব মেদ, মাংস, পচুই মদের সান্দ্র কুহক ভাসমান হয়ে রইলো আকাশে


মাকড়সার জালের ধারণায় সংকীর্ণ প্যাঁচপয়জারময় আকাশের দিকে তাকালাম
ধোঁয়া তার জাগতিক পাথেয় শুষে মহাজাগতিক কুয়াশায় বুঁদ
ধীরে, মোটা গ্যাদগেদে মেঘে, সিঁদুরমাখানো মথ ঠ্যাং উলটে পেচ্ছাপ করছে
তাকে মানবী অবয়ব দাও
দিগন্তে, লাট খেতে খেতে, ঘুড়িবিপন্নতায়, অস্থির প্রশ্নচিহ্নে, দানবীয় ধর্ষকাম তার চরিতার্থ হবেই
এই নিগূঢ় দ্যোতনাটুকু
সংকীর্ণ প্যাঁচালো মশারিতে ঝালর, আকাশধারণা 


ফিরে এলাম
সঙ্গী কিছু অনুচ্চারিত কথার খুচরো
গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে রয়ে গেল ভেতরে
আর আমি
কাশবন সাঁতরানো দামাল বাচ্চা
সাদা পিষে পিষে পেশি স্ফীত করে তুললাম
স্মৃতি, পলেস্তারা গুঁড়ো 
এতো ঝরে
হাত তুলে তুলে তাকে নাগাল পাব না 

           
 নড়বড়ে হাওয়ায় মৃত্যু-মুহূর্তের যে অনিশ্চয়তা দোলা দিচ্ছে, আমরা তারই পথিক
গাঢ় অন্ধকার রাতে
বিজ্জলতা মাখানো শরীরে
উলোটপালোট গ্রীবায় 
একে অপরের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে
অনিঃশেষ খুবলে খুবলে নিচ্ছি আলো, জাদুপরত



দিনলিপি
-------------- 

চাঁদ খুব ঘোলাটে, নারকেল গাছের ফাঁক দিয়ে এইমাত্র দেখলাম
পর্দাহীন জানলার ফাঁক দিয়ে  বিছানার দুলে ওঠা দেখলাম
বাকিটা সঙ্গম, ঝগড়াঝাটি বা শিশুর দুলে ওঠা  ভাবনারা এসে পূর্ণ করে দিল
চাঁদ খুব ঘোলাটে, বাদামি রঙের ধুলোর আস্তরণ সারাগায়ে
দূরে, ব্যালকনিতে, ঝুকে কেউ ফুলগাছে জল দিচ্ছে
ঘন অন্ধকার জল
এই দৃশ্যকে মনে রেখে কালকের দিনটা শুরু করব।


 সর্পিলাকার বিপন্নতা  ১
----------------------------------

শুভম চক্রবর্তীকে নিয়ে শুভম চক্রবর্তীর সংশয় গেল না ! 
ছ'হাতের কাছাকাছি একটা সাপ বারবার পায়ের পাতায় ছোবল 
কিন্তু গিলছে না...
অন্ধকারের যাবতীয় ইন্তিবিন্তি ঘেঁটে যাদের সর্পিলাকার বিপন্নতা একটু লম্বা হয়েছে 
তাদের পাশ সড়সড়িয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে হাওয়া 
এই পাতা এই বৃত্তাকার উপবৃত্তাকার আলোছায়া 
এই দাবানল গোছের কিছু সোঁদা অবসাদ 
তাকে লাট খাওয়াচ্ছে আকাশে কিন্তু হচ্ছে না ভোকাট্টা
কত কত নৌকো চলে গেল
জাহাজও নোঙর ফেলছে
পথিমধ্যে দেহাতী খালাসিরা আঙুল বাড়িয়ে দেখাচ্ছে
দ্যাখ ব্যাটাকে, সমুদ্র চেনে না
দ্যাখ ব্যাটাকে, অকুল ছপাছপ গায়েই মাখেনি
সে শেষতম মৃত ছিল, হয়তো
শেষতম জীবিত 
হয়তোর আগুন ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে কোত্থাও পৌঁছায়নি সে, এখনও
সংশয় গেল না !



সর্পিলাকার  বিপন্নতা  ২
------------------------------------

সামনেই একজন ঘুমন্ত মানুষ 
রোঁয়া রোঁয়া শরীর মেলে শুয়ে আছে
ভোরবেলাকার স্বল্প আলোয় তার শ্বাসের ওঠানামা হাড়সর্বস্ব দুলিয়ে দুলিয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে অন্ধকারকে আরও গাঢ় করে তুলছে
সামনেই একজন ঘুমন্ত মানুষ 
হাঁ-ক্লান্ত বিকেল শেষে, রাতে, ঘুম জমাট বেঁধেছে দেরি করে
সারারাত সে অনিদ্রার সঙ্গে খেলেছে 
খেলেছে পাশে খুলে রাখা এলোমেলো পোশাক নিয়ে 
কোনো শরীর ছিল না
অন্ধকার লাল আলোর টানেল 
একটার পর একটা পেরিয়ে পেরিয়ে যাওয়া
ঝাঁপিয়ে 
গড়াগড়ি 
অন্তর্গত অন্ধকার   ছায়া  খোলাজানালা    ইশারাহীনতা
সামনেই একজন ঘুমন্ত মানুষ 
গৎ এখনও পড়েনি
পড়লেই আবার ঠেলে ঠেলে পৌঁছনো
কোথায় কোথায়
লোমশ ভুঁড়ি কুৎসিত কদাকার চা করে দেব সকালে
আমরা বিকেল হচ্ছি না সকাল
সকাল হচ্ছি না বিকেল
তার সিঁধেল পাঁয়তারা পাশে ছড়িয়ে রাখা ছতিচ্ছন্ন জামা ও কাপড় 
মনস্তাত্ত্বিক  চোরা বাঁক 
অন্ধকারকে গাঢ় করে তুলছে
ঝিঁঝি রব আরে গ্রামেই থাকে
তার যাবতীয় ভঙ্গিমা সৃষ্টি পেঁয়াজি সে খুলবে খুলবে করে খোলেনি 
বিছানায় ভুঁই-এ মজা পুকুর চলে এলো
ব্যাঙের কোকরকোকর আর অন্তহীন ঝিঁঝিরব
বলাৎকার 
জ্যোৎস্নারাত
মা গো 
সামনেই একজন ঘুমন্ত মানুষ, ঘুমোবে কখন 
না ঘুমোলে আমি যে ভিতর নিয়ে জাগতে পারছিনা !


সর্পিলাকার বিপন্নতা  ৩ 
------------------------------

পায়ু ও অণ্ডকোষের মাঝামাঝি যে স্থান সেখানে আমার সব রোমহর্ষ স্থির হয়ে ছিল
তুমি তুমুল জাগাতে...
জিভ দিয়ে, জিঘাংসা দিয়ে
ঘেঁটে তুলতে থিতিয়ে যাওয়া ওয়াক
সব সাপ হয়ে যেত, বড় সাপ সাপ হয়ে যেত সব
তারপর কত যে উল্টেপাল্টে আর সোজা করে নিয়ে
গতানুগতিকতার পুটকি মারতাম 
আজ তুমি নেই স্থিরবৎ জলের সপসপে
বুড়ি, কোমল মনের ভালো মাগি
কুণ্ডলিনী ফেটে যাক ফেটে যাক যা কিছু কঠিন