রত্না দত্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রত্না দত্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

রত্না দত্ত

                   


 বই - আমাদের পরমাত্মীয়

বই মানুষের চিরন্তন বিশ্বস্ত সঙ্গী।বই মানুষের জীবনকে করে তোলে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক।মানুষের সুঅভ্যাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট হল বই পড়া এবং অন্যকে বই পড়ার উৎসাহ প্রদান করা।কেননা, বইপড়ার মাধ্যমে মানুষের মনে আসে আনন্দ - বেদনার কাব্যিক,দার্শনিক সত্যবোধ।
     শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের সহচর হিসেবে বই পূর্বপরিচিত।বই মানুষকে হাসতে শেখায়,কাঁদতে শেখায়,নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগায়।শত শত কাগজের মাঝে সীমাহীন জ্ঞানকে মুষ্টিবদ্ধ করে রাখে।এই বই দুরন্ত শিশুকে যেমন আনন্দের খোরাক জোগায় তেমনি মাঝবয়সী,প্রবীণ ও নবীনদের
আত্মতৃপ্তির স্বাদ আহরণের সুযোগ দেয়। বিস্তীর্ণ পৃথিবীর দুর্লভ সব কার্যসিদ্ধির ইতিহাস লিপিবদ্ধ থাকে বইএর পাতায় পাতায়।সেইসব কালজয়ী কাহিনী স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে বইএর পাতার প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে।সঙ্গীহীন বালকটিও অজান্তে বইকে সঙ্গী করে নেয়।প্রতিটি মানুষের কাছে নতুন বইএর মানে নতুন কিছু আবিষ্কার।তবে কৃত্রিমতার বিষাক্ত ছোবল জ্ঞানের আধার বইকেও রেহাই দেয়নি।ধ্বংসাত্মক জ্ঞান সম্বলিত বই মানুষের স্বাভাবিক চিত্তকে বিষিয়ে তোলে।বই যেমন অন্ধকার জীবনকে আলোকিত করে তেমনি আলোকিত জীবনকেও অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলতে পারে। তা সম্পূর্ণভাবে বই ও পাঠকের উপর নির্ভর করে।পাঠককে সচেতনতার সাথে বইএর মর্ম বা গুরুত্ব উপলব্ধি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। তা না হলে সেটা ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
     বই হল জ্ঞানের আধার।মানুষের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু বই।বইএর পাতার কালো অক্ষরগুলিতে সঞ্চিত হয়ে আছে মানবজাতির হাজার বছরের জ্ঞানপ্রবাহ।জ্ঞানের ধারক হিসেবে বই অতীত ও বর্তমানের সংযোগ সেতু।
বই পড়া হল একটি নির্মল আনন্দের উৎস।বইপ্রেমী মানুষ মাত্রই বই পড়ার আনন্দ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।মানুষ যুগে যুগে বই পড়ার মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছে,নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার জগৎকে বিস্তৃত ও প্রসারিত করেছে।মনের প্রসারতার জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই।প্রাত্যহিক জীবনের দুঃখ - দুর্দশা,ক্লান্তি - হতাশা মানুষের মনকে যখন বিষিয়ে তোলে তখন বই পড়ার মাধ্যমেই পাওয়া যেতে পারে অপার্থিব আনন্দ।মনীষীদের জীবনীপাঠে তাঁদের বইপড়ার অভ্যাস ও মানস গঠনে এর প্রভাব সম্পর্কে আমরা অবগত হই। বিপুলা এই পৃথিবীকে জানার জন্য আমাদেরকে বইএর দ্বারস্থ হতে হবে।জ্ঞান - বিজ্ঞানের বিচিত্র শাখায় মানুষের ধ্যানধারণার যে প্রতিফলন ঘটেছে তা স্থান পেয়েছে বই এর পাতায়।ছোটবেলায় সমস্ত শিশুদের হাতেই দেখা যায় সেই বিশ্ববিখ্যাত ' সহজপাঠ ' ও ' বর্ণপরিচয় '। যার হাত ধরেই আমাদের সকলের শিক্ষার হাতেখড়ি।তাই যে বই হোক না কেন তাকে অস্বীকার করে আমাদের শিক্ষার পথকে প্রশস্ত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।পরবর্তী ক্ষেত্রে সাহিত্যের রস আস্বাদন,বিজ্ঞানের বৈচিত্রময় জগতে অবাধ বিচরণ কিংবা ইতিহাস,দর্শন তথা জ্ঞানের যেকোন শাখায় বিচরণের একমাত্র বাহন হল বইপড়া।তবে পড়ার জন্য বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।পাঠকের রুচি ও মানসিক পরিপক্কতার আলোকে বই নির্বাচন করতে হবে।শুধু নিজে বই পড়লেই হবে না আমার পাশের লোকটিকেও বই পড়ার জন্য অনুপ্রেরণা দিতে হবে।তার জন্য যেকোনো জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বা অন্য কোনো পার্টিতে উপহারস্বরূপ তার পছন্দের ভালো কোনো সাহিত্যিকের বা ভালো কোনো কবির লেখা ভালো বই দেওয়া যেতেই পারে।
একটি ভালো বই পাঠকমনের সর্বোচ্চ উৎকর্ষসাধন করতে পারে।অন্যদিকে একটি বাজে বই পাঠকের মনকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে। সুনির্বাচিত বই পাঠ আনন্দ লাভের পাশাপাশি নিঃসঙ্গতা ঘোচানোর এক শ্রেষ্ঠ উপায়।বই পড়ার মাধ্যমে ঘরে বসেই আমরা বিশ্বের বিখ্যাত ও শ্রেষ্ঠ মনীষীদের সান্নিধ্য পেতে পারি,পরিচিত হতে পারি তাদের চিন্তা,চেতনার সঙ্গে।নশ্বর এই পৃথিবীতে অপার্থিব আনন্দ কেবল বই পড়াতেই পাওয়া যায়।
বই পড়া হল শ্রেষ্ঠ ও অত্যন্ত উপাদেয় একটি শখ।অতীত ঐতিহ্য,নানা চিন্তার অনুশীলন ও বিচিত্র ভাবধারার সাথে আমরা পরিচিত হই।বিচিত্র ধরণের বইএর মাধ্যমেই মানুষ নিজেকে চেনে,নিজেকে জানে,বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জন করে।সেইসব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ ব্যক্তিজীবন তথা সমাজ ও জাতীয় জীবনকে উন্নত করে,সমৃদ্ধ করে।প্রত্যেককে বই পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করুন।আজ ইন্টারনেটের যুগে,ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপ এর যুগে বই এর গুরুত্ব তলানিতে এসে ঠেকেছে।তাকে আবার জাগিয়ে তুলুন,একে অপরকে বই উপহার দিন।বই একটি অন্যতম উপহার সামগ্রীও হতে পারে। যার মাধ্যমে একে অপরকে বইপড়ার অনুপ্রেরণা দেওয়া যায়।বইপড়ার মাধ্যমে সার্বিক মনের দিগন্ত উন্মোচিত ও প্রসারিত হয়,উদার ও মহৎ হয়।যাবতীয় অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার ঝেড়ে ফেলে আমরা প্রত্যেকে বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রগতিশীল হতে পারি কেবলমাত্র ভালো বইএর সংস্পর্শে এসে।একারণে,পড়ার জন্য ভালো বই, আনন্দদায়ক বই আমাদেরকে বেছে নিতে হবে।তাই আমাদেরকে পাঠাগারে যেতে হবে।না থাকলে সমবেত প্রচেষ্টা চালিয়ে পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে।বিশেষ করে আমাদের দেশ, জাতি ও সত্তাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের বই অবশ্যই আমাদেরকে পড়তে হবে ও অন্যকে পড়াতে হবে।
বই পড়লে আমাদের মনে জাগ্রত হবে মানবিক চেতনা,দেশপ্রেম,মহৎ জীবন ভাবনা,সত্য - সুন্দরের সাধনা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি, সময়ানুশীলন ও অধ্যবসায়ের সুদৃঢ় মানসিকতা যা সুন্দর জীবন গঠনে,সমাজ গঠনে ও দেশ গঠনে উজ্জীবিত করে।তাই স্বশিক্ষা অর্জনে বা নিজেকে ও অন্যকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বই পড়ার গুরুত্ব অপরিসীম।বই আমাদেরকে শোকে স্বান্তনা,দুঃখে দুঃখজয়ের ব্রত ও পরাজয়ে বা ব্যর্থতায় সহিষ্ণুতার দীক্ষা দেয়।নির্মল ও অকৃত্রিম আনন্দ লাভের অন্যতম হাতিয়ার হল বই।
ছোটবেলা থেকেই যদি একটি শিশুকে বিভিন্ন ধরণের কমিকসের বই,ঈশপের কাহিনীর বই,জাতক জাতিকাদের গলপকথার বই,হস্যকৌতুকের বই,বিভিন্ন ধরণের গল্প ও ছড়ার বই  এর সঙ্গে পরিচয় করানো যায় তাহলে আস্তে আস্তে সেই শিশুটির মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ ও মানসিকতা গড়ে উঠবে।পারিপার্শ্বিক ও বাহ্যিক জ্ঞানের বিকাশ ঘটানো সম্ভব হয়।ছোটো থেকেই তাকে মুঠোফোনের স্বপ্ন না দেখিয়ে একটি সুন্দর বউ যদি তার হাতে তুলে দেওয়া যায় তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্ম সুস্থ,সুন্দর পরিবেশে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারবে।তাই ছোট বড় থেকে শুরু করে আবাল - বৃদ্ধ - বনিতা সবাই আমরা অধিক পরিমাণে বই পাঠে আগ্রহী হব যা দিতে পরে এক সুন্দর ও সুস্থ ভবিষ্যত।



   

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

রত্না দত্ত

                         



              
সর্ব শক্তিময়ী নারী


" নারীদের ক্ষমতায়নই উন্নয়নের সব থেকে বেশি কার্যকরী হাতিয়ার ........"
নারীরা অর্জন করতে পারেনি এমন বিশেষ কিছু অবশিষ্ট নেই - তা সে পরম্পরাগত ভূমিকায় হকবা আধুনিক রূপে।মাতৃরূপে তারা অনাদিকাল থেকে দুনিয়ার ভাবী নাগরিকদের অথবা ভাবী প্রজন্মদের গর্ভে ধারণ করে,জন্ম দিয়ে,লালন - পালন করে আসছেন।কন্যা, সহদরা ও স্ত্রী ও মায়ের ভূমিকায় তারা পুরুষকে নানাভাবে সমর্থন জুগিয়েছেন,সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।আরও আধুনিক রূপে তাদের শিক্ষাবিদ,ব্যবস্থাপক,রাজনৈতিক নেত্রী,প্রভৃতির ভূমিকায় দেখা যায়।সাম্প্রতিককালে লিঙ্গ বৈষম্যের প্রাচীর ভেঙ্গে তারা বিভিন্ন দুঃসাহসিক কাজের ভাগীদার হতে এগিয়ে এসেছেন।
পর্বতারোহী,বিমানচালক,ডাক্তার,নার্স, ব্যাঙ্ক কর্মী,ট্যাক্সিচালক,বাসচালক,অটোচালক এমনকি সশস্ত্র বাহিনীতে যুদ্ধংদেহী রূপেও তাদের দেখা যায়।
অবশ্যই শুরু থেকেই পরিস্থিতি এমন অনুকূল ছিল না।প্রাচীনকালে পুরুষের পরিচয় ছাড়া কোনও নারীর অস্তিত্বকে গণ্যই করা হত না - সে শুধু কন্যা,স্ত্রী বা মা।তার অস্তিত্বকে সবসময় নিয়ন্ত্রণ করত তার জীবনের
' পুরুষরা ',পিতা - পতি - পুত্র।সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার বা সুযোগ ছিল না।
জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে মহিলা ও কন্যাসন্তান।এরা শুধুমাত্র ভারতে কেন,অধিকাংশ দেশেই বৈষম্যের বলি। মেয়েদের ওপর চলে জোরজুলুম - হিংসা।তারা কোণঠাসা ও ক্ষমতাহীন।ভাবাদর্শ,সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বিষয় আশয়ের লাগামটা পুরুষের হাতেই বেশি থাকে।এটা এই সমাজব্যবস্থারই একটি অঙ্গ।জোরজবরদস্তি বা বলপ্রয়োগের হুমকি এককথায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে মেয়েদের দাবিয়ে রাখা হয়।সর্বত্র না হলেও,ভারতের বহু জায়গায় ভয়ভীতি,দায়দায়িত্ব, বাধাবিঘ্নকে সাথী করে সারাটা জীবন কাটাতে হয় মেয়েদের
বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হওয়ার পাশাপাশি ঘরকন্না,বাচ্চাকাচ্চাদের দেখাশোনা ইত্যাদি দায়দায়িত্ব সহ বাড়ির ও বাইরের হরেকরকম কাজের ঝক্কি - ঝামেলা তাদেরই সামলাতে হয়।ভয়ভীতি,আশঙ্কা,
উদ্বেগ মেয়েদের জীবনে নিত্যসঙ্গী।এই ভয়ের শুরু ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে থেকেই।কন্যাসন্তান আছে এই কথা জানা মাত্রই মাতৃগর্ভেই ভ্রূণহত্যা - যতি পড়ে যায় জীবনে।জন্মের পরও থাকে বিষ খাইয়ে তথা অবহেলা করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা।বেঁচে থাকলেও অযত্ন,অপুষ্টি তথা চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা। যৌন নির্যাতনও মেয়েদের তটস্থ করে রাখে।অশালীনভাবে গায়ে হাত দেওয়া থেকে শুরু করে ধর্ষণের ভয়। কড়া আইন পাসের পরেও নৃশংস গণ ধর্ষণের ঘটনা ক্রমশঃ বেড়েই চলেছে। পদে পদে বিপন্ন মেয়েরা।বিয়ের পর সঙ্গ না পাওয়া, বনিবনার অভাব,সামাজিক ও দৈহিক অত্যাচারের আতঙ্ক।কোনকিছুতেই যেন রেহাই নেই।আতঙ্কের নাগপাশে যেন জড়িয়ে আছে তারা।
স্বদেশের সামাজিক অবস্থার বিচারে নারীর স্বাধিকার ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বোধের পক্ষে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাই নির্দ্বিধায় বলতে পেরেছিলেন যে,
' আমাদের পুরুষশাসিত,পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পুরুষেরা বাইরের সমস্ত আমােদপ্রমোদে লিপ্ত রয়েছে আর মেয়েরা তাদের নিজস্ব সম্পত্তি,একটা পোষা প্রাণীর মতো,অন্তঃপুরের দেওয়ালে শৃঙ্খলে বাঁধা আছে।"
অবশ্য রবীন্দ্র সময়ের সেই বাস্তবতা আজ অনেকাংশেই বদলে গেছে।তবুও নারীদের বড় একটি অংশকে শুধুমাত্র গৃহকর্মের চাকাতে বেঁধে রাখার পক্ষে পুরুষের সংখ্যা মোটেও কম নয়। তা সত্ত্বেও নারীরা তাদের আপসশক্তি  ও বেশ কিছু সাংগঠনিক সহযোগিতায় প্রতিনিয়তই এগিয়ে চলেছে।এখন অনেক ক্ষেত্রেই নারীর উপস্থিতি চোখে পড়ছে।তাদের নেতৃত্ব,সৃজনশীলতা ও কঠোর পরিশ্রম দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।রাজনীতি,সমাজ ও সংস্কৃতির নানা আঙিনায় সফল নারীর সংখ্যা এখন আর হাতে গোনার পর্যায়ে নেই।
আজ নারীরা তাদের মনোবল, শক্তি,অদম্য সাহস আর কঠিন পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে এগিয়ে এসেছে।তারা আর পিছিয়ে নেই।তাদের কর্মযজ্ঞের কারণেই আজ দেশ সাফল্যের শিখরে পৌঁছতে পেরেছে।
সেই আদিকাল থেকে আজ অবধি পৃথিবীতে সকল শক্তির উৎস কিন্তু নারী .......কিন্তু নারী জাতি এমনই এক জাতি যাকে নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে সেই কথার শেষ কোথায় হবে কেউই তা জানে না।পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের চরিত্রই  নাকি বেজায় জটিল।প্রথমে মেয়ে,তারপরে বৌ,তারপরে মা।বিভিন্ন চরিত্রে একজন নারী সাবলীলভাবে অভিনয় করে যায়........ তারপরেও তাকে শুনতে হয় নারী হয়ে জন্মানো মহাপাপের।
ভগবানকে শুধু একটাই জিজ্ঞাসা নারীরা কি পশুদের থেকেও অধম?কেন এত কষ্ট তাদের জিবনে?সইতে হয় সতীদাহ প্রথার জ্বালা,বিধবাদের হাজার নিয়ম পালন,তবুও আজ রাণী রাসমণি,রামমোহন,বিবেকানন্দ ও বিদ্যাসাগর ছিলেন বলে মেয়েদের জীবনে এসেছে নতুন ভোর,নতুন সূর্য,নতুন আলো......বন্ধ হয়েছে অনেক কষ্টদায়ক বিধান।বিধবা বিবাহ চালু হয়েছে,বাল্য বিবাহ বন্ধ হয়েছে, মেয়েদের প্রতি অন্যায়,অনাচার অনেকাংশে লাঘব হয়েছে। মেয়েরা আজ শিক্ষার দরজায় পা রেখেছে,পড়াশোনা করছে,চাকরিও করছে, সংসারও সামলাচ্ছে, দরকারে নিজের স্বামীর পাশেও দাঁড়াচ্ছে... শাড়ির পাশাপাশি এসেছে চুড়িদার, জিন্স,টপ যা এখন মেয়েদের পরিধান।তবে সৃজনশীলতা বজায় রেখে।অবশ্য অনেকেই এই উন্নতির অপব্যবহার করছে।শহরের পাশাপাশি গ্রামেও শুরু হয়েছে বিভিন্ন স্বনির্ভর প্রকল্প।গ্রামের মেয়েরা,বউরা অবসর সময়কে কাজে লাগাচ্ছে বিভিন্ন কাজে।বাড়ছে রোজগার,নিজের পায়ের তলার মাটি আজ শক্ত হচ্ছে - মেয়েরা আজকে দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশায় নিজেদেরকে সামিল করেছে।দেশের জন্য স্বর্ণপদক এনে দিয়েছে।তবে এবার সমাজ কি বলবে - নারীরা ছলনাময়ী,চরিত্রহীন,অপয়া নাকি যুগে যুগে যেমন দুর্গা অসুর বধ করেছিল, বেহুলা যেমন যমের দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনেছিল স্বামীর প্রাণ তেমনভাবেই নারীরা আজও সর্বশক্তিমানই আছে।নারীকে অপমান,অবহেলা আজ তারা সহ্য করবে না।তারা আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে,মুখোশ খুলে দিয়েছে বহু মুখোশধারী শয়তানদের,ধর্ষণকারীদের নিজেরাই শাস্তি দিচ্ছে,বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হচ্ছে তারা।তাই বলি,
নারী জাতি শান্ত জাতি,মায়ের জাতে গড়া,
নারী সৃষ্টি,নারী ধ্বংস, নারীই হল সকল শক্তির উৎস।

                           
 

               


সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

রত্না দত্ত

                   



এক পশলা বৃষ্টি

( ১ ) 

গোধূলির হাতছানিতে আজ
সুমধুর দখিনা বাতাসের দোলা,
আকাশের বুকে বজ্রমাণিকের আনাগোনায়
মেঘমল্লারের সুরে ভুবনভোলা।
এক পশলা বৃষ্টি এসে হঠাৎ
ভেজালো মনের গহন আঙিনা,
এনেছে সাথে পরম সঙ্গী করে 
শীতল হাওয়ার মনমাতানো দখিনা।
এই বৃষ্টিতে যদি মন নাই ভেজে
তবে তার অঝোরে ঝরে যাওয়াই বৃথা,
আমি জানি আর মেঘ জানে
মনের সকল চুপকথা।
                   
                            ______

( ২ ) সিক্ত হব বৃষ্টিধারায়

জমাট কালো মেঘের পুঞ্জীভূত ভারে
বিস্তৃত আকাশ গর্ভবতীর যুগল,
নরম তুলতুলে আঙ্গুলের টোকায়
ঝরঝর অমৃতধারা বইবে
তোমার কাজলটানা চোখ দুটো
হয়ে উঠবে বৃষ্টিস্নাত ও সজল।
শহরের কোলাহল ও ব্যস্ততায় কষাই মন 
হয়ে যাক না এক পশলা বৃষ্টি,
তোমার অঝোর ধারায় ভিজবো আজ
বৃষ্টিস্নাত হয়ে আকাশের কোলে
নিভৃতে মাথা রেখে শয়ন করব,
নয়নাভিরাম বিস্তৃত সবুজ বক্ষযুগলে
বহুদিনের আকাঙ্ক্ষিত হৃদয় সিক্ত হবে
মেতে উঠব সোঁদা মাটির গন্ধে।

                             ________

( ৩ ) কামনার ধারা

তপ্ত,রুক্ষ মাটি রয়েছে অপেক্ষায়
বুক ফাটা এক গলা তৃষ্ণা নিয়ে,
হঠাৎই অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি ধারায়
মাটির বুক যাবে ভিজিয়ে দিয়ে।
রুক্ষ,শুষ্ক বৃক্ষরাশি আজ তৃষ্ণার্ত
বুক ফাটছে জলের লাগি,
হে বৃষ্টি, তোমার বর্ষণ ধারার তরে
গোটা বিশ্ব আজ অনুরাগী।
বৃষ্টি,তুমি এসে ভিজিয়ে দেবে
আমার আকুল মন অঝোর ধারে
আমার অশ্রুজল ধুইয়ে দেবে
কেউ যেন না বুঝতে পারে।
বুকের কষ্ট ঘুচিয়ে আমি
উঠব আবার প্রাণবন্ত হয়ে,
মাত্র একপশলা বৃষ্টিই
এক নতুন ধরিত্রীর সৃষ্টি করে।
পৃথিবীকে করে চিরহরিৎ,চিরসবুজ
রুক্ষ,শুষ্ক মাটিকে করে সতেজ
তোমার অঝোর ধারাতে,সবাই
মনে প্রাণে সজীবতা পায় খুঁজে।

                              ________

( ৪ ) ভেজা মরসুম


হঠাৎই  গুরুগম্ভীর মেঘের তর্জনে গর্জনে
ঘুম ভাঙা চোখে তাকাই আলগোছে,
এগিয়ে গিয়ে খড়খড়ি তুলে
দেখি জানলার কাছে শার্সিতে
জলফোঁটা দাগ লেগে আছে।
কানফাটা বজ্রনিনাদে ভেঙে যায় ঘুম
চোখ খুলি মাঝরাতে,ভেজা মরসুম।
সারা প্রকৃতি ঘুমিয়ে আছে
ভিজে গেছে রাস্তাঘাট,ঘরবাড়ি,
সিক্ততায় পরিপূর্ণ শহরতলির জনবসতি
সূর্যের সাথে ওদের যে আজ আড়ি।
উড়ে যাও মেঘ দূর বহুদূর
কান পেতে শুনি তাই মেঘমল্লার সুর,
চোখ কচলিয়ে সব ভাবি এলোমেলো
ভোরের বৃষ্টি এসে হঠাৎই আমায় ভেজালো।
আজ আমার মন নিভৃতে,গোপনে
ছুটি চেয়েছে আলগোছে,
হব আজ আমি বৃষ্টিস্নাত নারী
সংসারের রোজনামচা দেব মুছে।

                              _______

( ৫ ) বৃষ্টিধারার তরে


অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে ভিজে খুশিতে মন ভরে
হিয়ার মাঝে মধুর সুরে মন আনচান করে,
খুশির জোয়ারে প্রকৃতি ভাসে নতুন আবেশ নিয়ে
কাঁপন ধরে সবুজ বনে  বৃষ্টির পরশ পেয়ে।
এক পশলা বৃষ্টি এসে ঘোচায় তপ্ত হাওয়া
চাতক পাখি গাছে বসে মেটায় মনের চাওয়া,
শীতল বাতাস ছুটে এল সোঁদা গন্ধ ভরে
তপ্ত ধরা শান্তি পেল বৃষ্টি ধারার তরে।
কারণে অকারণে সম্পর্কের দাবদাহে
অযথাই করি মনভূমির কঠিন কর্ষণ,
মান - অভিমানের অবুঝ টানাপোড়েনে
সুখশান্তি ফিরিয়ে দেয় অকাল বর্ষণ।

                              ______

( ৬ ) ক্ষণিকের তরে

বৃষ্টির সুমধুর পরশ এসে
কত কিছুই যে কহে হেসে,
ঝর ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে
অতিবর্ষণের অঝোর ধারায় সেজে
শীতলতায় ভাসাইলে যে মোরে।
কত কথা হয় মনের গহনে
নিভৃতে,শয়নে,স্বপনে ও একান্তমনে
টুপটাপ ছন্দ লয় বীণার তানে,
প্রেম তরঙ্গ সুধার নেশার ঘোরে
মাতি আমি ক্ষণিকের তরে।
নেচে ওঠে অঙ্গ আমার নৃত্যেরই তালে তালে
নূপুরখানি বেজে যায় রুমঝুম রুমঝুম,
উড়িয়ে দিলেম আঁচলখানি আকাশ পানে
ভিজলো আমার শিহরিত তনুমন।

                             ______