শানু চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শানু চৌধুরী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

শানু চৌধুরী

                  



১.

মীড় খুলে

বাতাস থেকে ডেকে আনছে

কে কার হাত?

কেকা ধ্বনি থেকে তুলে আনা ধ্বংসস্তূপের

কূটনীতি ঘিরে পাহারা দিই রোগগ্রস্ত শরৎ

আর রক্তে রক্তে দেখি পদ্মের প্রহেলিকা

যেখানে  মায়া না ভরে উঠলেও

আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে শৌখিন দানা


২.

অপরাধপ্রবণ হওয়ার আগে

সমস্ত যন্ত্রণার ওষুধ খেয়ে ফেলেছ তুমি

একটা অসাড় ঘড়ি

হাত থেকে খুলে যেতে যেতে

জন্ম নিলো গাছেদের সাথে কথা বলে

এসব সময় তুমি দেখেছ রক্তের বাতাস

ও নাড়ির স্পন্দন

আর বরফে ঢেকে যাওয়া মেয়েদের পোশাকে আঁকা

উজ্জ্বল পাইন পাতার বায়ো-মিমিক্রি


রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

শানু চৌধুরী

 



হেরা মলাই


১.

আমাকেও সেদিন ঘর ছাড়তে হবে। যেদিন বুকে উড়ে আসবে পারাবত। জানি, তাদের দিকে

সমস্ত জোশ ও জাগরণ খুইয়ে দিতে হবে আমায়। এই ঊনত্রিশে দাঁড়িয়ে ভাবি, আমি কেন

এত দোষ করেছি? কেন আড়াল করতে পারিনি  বুকের অনুতাপ। নারী থেকে এযাবৎ

যেটুকু ছিনিয়ে নিয়েছিলাম নিজস্ব কৌতুক। তাতে হয়েছি আমি বদ। আমি বিশাল কাঙাল,

যে দোষের আগে ফুটিয়ে তুলেছিল ছড়িয়ে থাকা গোলাপের শব। আমি কষ্ট পাই। স্রোতে

ভিজে যাওয়া জুতোয় হেঁটে এসে বাবার কাছে বলি, তুমি কেমন আছো? আজকাল নিথর হয়ে

থাকি, যে দোষ আমার নয় তার ভার নিতে নিতে... আর তখন এই সংসার আমাকে কেঁপে

কেঁপে বলে , তুমি সেই হেরা মলাই।

২.

আজকাল কোনো নেশা নেই। মেয়ে মানুষের থেকে দূরে দাঁড়িয়ে আমার চিবুক। যে সব

মূহুর্তে আমি কেঁদেছিলাম,তাঁদের জানলা ভেঙে এসেছিল আমার কাঁধে, একমাত্র মা। মা

বলেছিল আমার বাচ্চা বাবু পরিবারের নাম রেখো। আজকাল চুপচাপ বসে থাকি। পাহাড়ে

ঘুরে ঘুরে সাইকোর মতো বাঁচি। কখন কোথায় কে বদনাম করে দিতে চায়, সে তো সীমূম

হাওয়া! পাহাড়ের মতো নয়। জানি না কিছুই। তবু বলি শানু তুই নিজের জন্য লেখ। কবিতা

লিখে তুই খেতে পাবি না। তবু তুই লেখ। বাঁচার মতো লেখ। সম্মানের মতো লেখ। যেখানে

নিজেকে ছিঁড়তে পেরে নিজের পাড়া ছেড়ে বেরোবি তুই।

৩.

একা দাঁড়িয়ে মানুষ। যে জানলা কোনোদিন বোঝেনি পৃথিবীর ফুটিফাটা।সেই জানালার

গরাদে আজকাল আঠারো হাজারের জুতো ঝুলিয়ে রাখি। বিঁধে আসে বল্লম ছায়া ও ছবির

আকারে। মানুষের চেতনায় রুখে যায় তার সামান্য আভাস। তবু উঠোনে শব্দ হলে, বুঝতে

পারি আমার আর্থিক স্থিতির প্রগতি। কেঁপে ওঠে বীভৎস খবরের কাগজে মোড়া ওক

গাছের কৌটোটি...তবু কেন মনের ভিতর টিমটিম করে আহুতি? আমার দামি কাপড়ের

ছায়ায় জ্বলে ওঠে কার অবয়ব? এ পৃথিবী জানে না! একটা ফাঁক থেকে ছড়িয়ে যায়

আরেক ফাঁক। এই যেন তৈরি হওয়া ভাষার উন্মাদ ফুটে যাচ্ছে মাঠে। আর ঝরে পড়ছে

একক কথা বলার অভিজ্ঞতা। তবু ভাল আছি আজকাল। কারণ সুখে আছে মা,বাবা।

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০

শানু চৌধুরী



" সৃজন" ব্লগজিনের এই সপ্তাহের শানু চৌধুরী ৷ জন্ম ১৯৯২ সালের জানুয়ারী। ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতক। শানুর লেখালেখি শুরু ২০১৫ সাল নাগাদ। এখনও পর্যন্ত একটি কবিতার বই ‘আলো ও আত্মহত্যা’, প্রকাশিত হয়েছে ২০১৯ সালে। কবিতার পাশাপাশি গদ্য ও প্রবন্ধ লেখায় পারদর্শী৷ পড়া যাক তার কিছু কবিতা।




১.
রঙ থেকে বেরিয়ে গেলে আরেকটা রঙ হয়
যে রঙের আগে সময়ের স্পৃহা লেগে যায়

আমি সময় দেখি অতল থেকে মাংসের দাগে
জ্বালের আকাশে কাঁচাতেল ও গন্ধের শিখা

এত নাবিক হল, সমুদ্র তবু টোপ বুঝলো না
আঙুল ক্ষয়ে যেতে যেতে পায়ের রেখা

নুনের মতো দামী হয়েছে কি কোনোদিন?

বীজ ঝরে যাওয়ার আগে যন্ত্র থেকে যে শব্দ হয়
আমাদের ঢাল বরাবর বরাদ্দের চাষ হয়নি তা এযাবৎ

২.
চাবি খুলে নেওয়ার আগে পড়ে গেছে শিশির
বিষন্ন হেলের খোলস ছাড়ার আগে একবুক
দিয়ে দেখি ইন্দ্রপতন!

এভাবেই উচ্চতার আগে দ্বিধার নিকটে
উড়ে এসে বসে জ্যান্ত মধু-র ইউলিসিস

যার শবে রাখা আছে একদানা ঋতুর সেতার

৩.
বিকেলের আগে হিপোক্রেসি করেছে
আমাদের নিতান্ত চা বাগান
অতএব একটা আফিমের সরল বীজে
আমাদের ক্ষয়ে যাওয়ার কথা ছিল

আমি দেখেছি চড়ুইভাতির সাথে
চড়াইয়ের সম্পর্ক নেই
শুধু খাবারের দানা ঘাসে ঢুকে গেলে
পদাতিক হয় সামান্য ঈশ্বর!


৪.
দুধ দোয়ার আগে পৃথিবী থেকে চাবুক হল একটানা হিম
যে পাতার আগে মিহিন বসেছিল তার রুক্ষতা
অনায়াসে মেলে দিল প্যাগান ও প্রার্থনার নিরাকার লিঙ্গগুলি

তবুও শ্রমের কাছে নগর ছিল
পেরেকের কাছে ছিল ভাষাবোধ
           তুলসীপাতা ওষুধ হওয়ার আগে
বর্ণময় লাল শালুতে ঢাকা হয় আমাদের গ্রন্থসভা

৫.
ফোটন বুঝতে গিয়ে দেখি চরিত্র বদলে যায়
যে দেখায় বসে আছে নিকট ইন্দ্রিয়
তাকে দেখে কি অবাক হবো না?

যে পায়ের আগে ঘুম লেগে থাকে
তার চাকায় নদীভাগের দাগ
এই কোয়ান্টাম অথবা হাইপোথিসিস
                   হাস্যরোলের আগে খুঁজে নেয়
জ্যামিতির আকারে মাপসই জুতো

যেখানে আমাদের সমুদ্রগুলি সিন্থেটিক হয়ে গেলে
পাথর আর প্রতিমার ফারাক থাকে না

৬.

রোদের গোড়ায় বৃষ্টি পড়ছে আর স্বাস্থ্যগুলো
ভেঙে যাচ্ছে পেয়ালা বরাবর
যে দৌড়গুলোতে বুক ফুলে গেছিল আমাদের
তাকে আজকাল প্রশিক্ষণ বলে ডাকো

   মারা যাওয়ায় ল্যাটিন দর্শন থাকে
        যেখানে
কাচের শিশুরা আজ অবধি ছাত্র হলো না আমার
অথচ গাছের নাম জানতে চেয়ে
গতজন্ম মাপতে চেয়েছি বারবার

৭.
মুঠোর ভিতর স্তন্যপায়ীর রূপক
আমি ছাড়িয়ে এসেছি মেধাহীন জলে
এভাবে বাচ্চাদের দেখতে দেখতে
মেহফুজ গল্প লিখে ফেলে ঈশ্বরের হাতে

উন্মাদ হয়ে কেউ ঝাঁট দেয় সকালের উঠোন
আর খাটাল থেকে শুনি শ্লেষভরা দুধের আওয়াজ

কীভাবে ঘোরালে নিলাম?
এসব ভেবে দেখি বিস্ময় আর জিজ্ঞাসায়
আটকে আছে মোষের তেল মাখানো দেহ

আর অস্থিরভাবে কারও পেটের ভিতর
ধরে যাচ্ছে
বিষাক্ত রেডিওর গান.

৮.
খালকে কাজে লাগিয়ে জমে যাচ্ছে
খালের
মা
এভাবে ঋতু থেকে দূরে দাঁড়িয়ে
বিভ্রম হয় শালিখের ডানা
শা
দা

জল খেতে গিয়ে যাদের ভিজে গেছে ডানা
তাঁদের রক্তে দেখি
কবিতার ঝাঁঝ বয়ে নিয়ে যেতে
পারেনি সন্ত্রাস

৯.
হাসি টপকে যাওয়ার আগে
অভিশাপ নিয়ে খেলেছিল হীরের ছাদ

আমার ভুলে আমি যেভাবে মনীষা
সেভাবে পাথর হল না

ভালবাসছি ঈর্ষা দিয়ে
কবিতা লিখতে
লালসা দিয়ে নয়

এভাবে ভাতের হাঁড়িতে
চাপা পড়ে যায়
সভ্যতার অধিক হ্যাঁচড়
১০.
রুচি থেকে বিরতি নিলে
নিজেকে টাটকা লাগে না কখনও
এভাবে আঁশফলের বাগানে
ছেঁয়ে থাকে পোকার কাচ

আমি দেখেছি
ওরা ফিরে যায় আগুন থেকে
চোখের শান্তিকে রেহেলে বসিয়ে

ঝুনো হয়ে যাওয়াকে কি পুরনো বলা যায়?
জুন থেকে গড়িয়ে এসে ধাক্কা মারে আকাঙ্ক্ষার ব্যথা

এভাবে শতাব্দী ও সুচারু গাছ
সংক্রামক কোণে বসে থাকে
ঝরঝরে নাভিকে ধুয়ে নেয় স্যালোর জলে
এভাবেও মহৎ হয় অশ্বের বেদ
যেখানে বৃষ্টি আটকে দিয়েছিল রোদের কুঠার