অনিকেশ দাশগুপ্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনিকেশ দাশগুপ্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

অনিকেশ দাশগুপ্ত

               





ডাহুক ও নীল অতৃপ্তি 

সারা পৃথিবীর দস্তানা উড়ে যাচ্ছে মহাকাশময়
পেন্ডুলামের দিকে চেয়ে ধীর নক্ষত্রেরা এবার পাড়ি দিল
গোড়ালির নিচে এমন পূর্ব সময় 
আর ক্রমশই সাদা অতিনাটকীয়তায়
প্রদীপের কালদর্শী ছায়ার ভিতে তুমি দাঁড়িয়ে
এক হাত খোলা ঋজু জানলা , বাদামি বিদ্যুতে
রংচঙে পাথরের ওপর দিয়ে নদী বদলের ভঙ্গিমা
এসে পড়ে এই সান্ধ্য ক্যাফেটেরিয়ায়
রুমাল আর ঘামের বাৎসল্যে একাকী এরোপ্লেনগুলি
মহৎ শিরা ছিঁড়ে দেয় মুহুর্মুহু 
অগণন দৃশ্যের ফাঁদ উদ্যানের অগভীর নীল পারে
রেশমের ক্ষুদ্র ঝাঁপি তুলে নিঃসীম পড়ে থাকে


ফিল্ম

চৌকোণ স্বপ্নের বাইরে গিয়ে পড়ছে অভিজাত মাথা
রূপচর্চিত আলো এখনই প্রবেশ করবে ওখানে

মৃত্যুর বুননে ফেঁপে ওঠা গাঢ় বাতিগুলি 
তোমরা তাক ক’রে আছ,
যেন প্রতিটি মুঠোর ভেতর যৌনকাতর জোনাকি 

হলুদ কাচের ওপারে স্বীকারোক্তির মঞ্চ 
মুহূর্তে বিদ্যুতে 
নভোচর আদালতে মেলে ধরে তার
                                                  দণ্ডাজ্ঞার পৃষ্ঠাখানি

জিভ কেটে নেওয়া শরীরমণ্ডলে অন্তত একবার
স্পষ্ট ক’রে ধরা অনন্তের ছলনাময় প্যারাসোল





শাশ্বত

কোনও নীলচে গলির হর্ষে সহসা ঢুকে পড়েছি
জ্বলন্ত সূর্য আর শ্রাবণ-কুহক কাটিয়ে 
গলিত প্রাচীন অন্ধকার
গাল টিপে দেয় প্রতিটি মুগ্ধ বয়সের 

কা’র ডাকে পেছন ফিরে তাকিয়েছি
অনুতপ্ত ডক বয়ে চলেছে কা’র নীরব স্ব-হনন 
পাইস হোটেলের জমকালো সাইনবোর্ড থেকে 
ফিরে আসে প্রত্যুষ-ট্রেনের হতচকিত আলো 

শাশ্বত সমর্পণে তীব্র হয়ে ওঠা নিবিষ্ট চন্দ্রাতপ
আর এই অশ্রুত ভূমি খোঁজে সেই উদাসীন প্রেমিকার কোল
পৃথিবীর গলিত অন্ধকারে যা ভেসে বেড়ানো এক অনির্দেশ  


শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অনিকেশ দাশগুপ্ত

                                       





খোঁজ


বিষণ্ণ ফুঁ হয়ে উড়ছে সিঁড়িতলার অন্ধকার
রোগীর মাথার ছাপোষা জলপট্টি খুঁজে মরে 
বিশপের নির্জীব চাউনি

মোমবাতি পলক, ছিন্নভিন্ন তাসের খোসা ক্রমে
আরো মত্ততার দিকে ছুটে গেছে বাইসন শিঙায় ভর ক’রে

যে ডাকগুলি গম্ভীর ট্রাকের ঝিল্লি বিছিয়ে দেয়
সাজসজ্জার পথঘাটে

প্রাচীন বেশ্যাগলি থেকে ভেসে আসে ধ্রুপদ ত্রিকোণ
আতরের যোনি চিড়ে ছায়ালুব্ধ এক জাতকের মস্তকে
চতুর্মুখ চেরিফুল অশ্রু ঝরায় 

যেকোনো নামের সারাংশে মশগুল হয়ে ফিরে আসে
চন্দ্রাতপের পিঠে এই আমার খুঁজে পাওয়া অব্যক্ত নকশা
 
  


বলাকা


হাওয়ায় খুলেছে বুক ঐ যে দূরের মেয়ে
সাদা নামহীন ফুলের মতো ডুকরে ওঠা তরঙ্গ 
আর ভাতের মৃদু ছায়া দুলেছে দিনভর

বৃষ্টি ভাসিয়ে দিলে তারপর আমরাও কি ফিরে এসেছি
মাটি গলে যাওয়া সেসব নিঃসীম শামুকে

বার্লি খেতের পাশ দিয়ে সহসালব্ধ সরণি তার আদুর বুক
ছুঁয়ে হতচকিত দুপুরে মেলে ধরেছে ও’পাড়ার আঁশটে চিবুকটুকু 

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকের টিফিন বাক্স থেকে রোদ-ছোঁয়া সমাপ্তি
এসে তার বাহুমূলে রাজকীয় স্রোত খেলায় 
গা থেকে ঝরে মেঠো হাঁস এবং ধাপে-ধাপে উচ্ছ্বসিত হয়
নীল জংলার আহার

নদীপারের উন্মনা সাইকেল সারাটাবেলা
কুরে খায় আঁকাবাঁকা জলের চাউনিকে  



ভস্ম


শোনা যায় দূর দেশী নাবিকেরা 
তাদের সবুজ উচ্ছ্বল চোখে বহন 
ক’রে চলে টলটলে তাঁবুর অপটু নেপথ্য

যেমন ছায়া হয়ে ওঠে ফার্ণের ঝোপ অস্তরং আলোয়
আর টিলার বাঁকে মানানসই সংখ্যাগুলি ঘাসে,আঙুলে জড়িয়ে
নিয়ে উঠে আসে ভাঙাচোরা কোনো পক্ষীরাজ

হৈমন্তিক স্তন, ঠায় ন্যুব্জ হয়ে থাকা পিঠে, অকস্মাৎ যেভাবে
এলোমেলো হয় আর কাঁধে সূর্যের দূর গম্বুজ ফেটে পড়ে

সাদা ক্রাচের বিষাদ ভেঙে-ভেঙে স্থির অন্ধকারে  
একদিন ঠিক সেভাবেই, এসে দাঁড়াব আমরা 


চিত্রঋণ - ঈষা চৌধুরী
 

শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১

অনিকেশ দাশগুপ্ত

                   






সমাধি
 

ছড়ানো তাসের নামগুলি উচ্চারণ করতে-করতে
শেষমেশ তোমার অন্ধ-নাবিক চোখ 
দ্বিতীয়বার স্ফুরিত হবে

কন্ঠস্বর,দাঁড় টানার অদ্ভুত নীল নেপথ্যে
গেয়ে ওঠা সেই নৌকো-গান আর

রুপালি বাঁকের অশ্রু নিয়ে একঝাঁক স্লেজ যেন
মিশে যাচ্ছে দূরে,আরো দূরের তুষার-অরণ্যে,

নরম কবোষ্ণ জলে কার্নিভাল ও ক্যানারি পাখির
ঝলমলে মুহূর্তরা এভাবেই ডাকে

উনুন থেকে সদ্য নামানো রুটির গোল অন্ধকার
আরো বহুদিন বয়ে বেড়াব আমরা

আর টুপি খুলে নিরুদ্দেশে উড়িয়ে দেওয়া হবে 
                      স্মৃতির নভোচরটিকে






চিঠি

 
শেষ রাতে ঘুমের গায়ে সাদা আলোর ছিটে 
চোখ ধাঁধিয়ে দেয়,দরজার ছটপটানির অপার সীমানায়
মুষড়ে পড়ে সময়-পাখি, 
শৈশবকে উদ্ধার ক’রে বয়ে আনে এই যুদ্ধপ্রান্তরে

অক্ষরহীন নিঃশ্বাসে কে যেন চমকে ওঠে 
আমারই হারানো চটি পায়ে ব্যারিকেডের ওপার থেকে
কারা যে নিরন্তর ছুঁড়ে দেয় অন্ধকার!

চূড়ান্ত নগ্নতার মসলিন চৌকাঠ জেগে আছে
যেন অভিঘাত,যেন বেকুব শুদ্ধ বাতাস –
ফালা-ফালা করছে অক্ষয় আসমানী পর্দা  

ব্যস্ততার অমোঘ ভোল পাল্টে স্থিতি ও নিঃশ্বাসের
এক জন্মে সন্ধ্যার ঠোঙা উড়ে আসে
ধ্বংসের চিঠির মতন দূরে পড়ে থাকে তার বার্তা
 




আলাপ


ঘুরে-ফিরে আসে আমাদের বায়স-যৌবন
দৃষ্টি ও তুণীরের পরিকল্পনা –
শিকারের প্রত্যক্ষ দর্শন থেকে 
অভিজাত শিকড়ে ঢাকে অপূর্ণ চাঁদটিকে

কেমন সাদামাটা ব্যথায় পাশ ফিরে দীর্ঘ সুতোর মতন
আমারই আঙুলে দেখেছি পুতুল-নাচের সাযুজ্য 

ভারি হয়ে নেমে আসে ঘুমে তারপর
তর্কের আঠা ও দু’কশের বোবা নিরুদ্দেশ অভিভাবকেরা
 


রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

অনিকেশ দাশগুপ্ত


 


দৌড়


বিক্ষিপ্ত কথোপকথনগুলি চলেছিল দিনভর
বাইরে তখন নৌকোর ছায়া, আরও কত কী প্রস্তুতি 

শান্তিকামী বক ক্রোশ-ক্রোশ দূরের অস্পষ্ট  আকাশরেখায়
ঘর ভরতি বিদ্যুৎ আলো তখন হলুদ মায়াটিপ,
পুরনো কাগজের ঢিবি থেকে বিফল শার্সিভাঙা অনায়তন;
কনুই অবধি এই পাটভাঙা বর্ষা চলেছিল

সারাটা শৈশবে অনুমানে আমাদের পাশেই ছিল
এমন ঝলমলে সাইকেল এবং সমবেদনা,
গাঢ় চিবুকের যেন কত-কত প্রতিধ্বনি সুদূর ঘরে হারাত

আমাদের গাল টিপে ধরেছিল  সেসব বিশুদ্ধ পাখিরা 
এখনও বৃষ্টি হয় তারা কাগজের নৌকো মুখে ক’রে 

  

ছেলেবেলার বৃষ্টি


মাটির ওপরে ওই যে একমুষ্টি শ্যাওলা ঘর
কোন গভীর খুঁড়ে আকাশবর্তী হয় বিপন্ন শামুক সেখানে
যেন পেছন ফিরলেই চুরি ক’রে নেবে অবিন্যস্ত শ্রম 

একলা কুসুম ছেলেবেলার 
দীর্ঘ উঁচানো কন্ঠস্বর নেমে যেত
জল-জল নৌকোঘরে বাতিল কৌটোর ভেতরে
ডিম ফোটাবার গন্ধে

বিষণ্ণ পিঁপড়েরা মুখে-মুখে বয়ে নিয়ে যেত শালিক-সুখ 
পরিহারের হলুদ বর্ণ 
নরম সবুজ রোঁয়ায় ভ’রে উঠত আমর্ম; 

দু’হাতে মুঠো ক’রে আমাদের চোখ-চোখের ছায়ায়
গাঢ় মাটির মণ্ড বৃষ্টির সহস্র ধরনে গ’লে পড়ত

জমকালো পৃথিবীর ছাউনি ছিন্ন পাতার আবৃন্ত কান্নায়
সুদূর রান্নাঘরের করুণ চুড়ির শব্দ সহসা উঁকি দিলে
চৌকাঠ-বারান্দা-আঙিনা 
বড় ছায়াময় মনে হ’ত সারাবেলা


সান্ত্বনা

দু’পাঁচ কথা শিখে সরে গেছে এক আকাশ চাঁদ
সূক্ষ্ম ও পরিপূর্ণ একটা রাত্রির গন্ধে

সুদূর খিলানের মতো আকাশের 
সমবেত স্মৃতি শুধু
অমৃত-বয়ান ,পাখির নির্লিপ্ত প্লবতা

এখানে একমাত্র বিকেল,
অন্যান্য আলোর চেতনায়
আমরা হাত রেখেছি একে অপরের পিঠে















সন্ধান

জনতা জাহাজের দিকে আমি 
ঝাঁপ দিয়েছি বিবশ
বোমারু হৃদয়ে 

নির্জন পলাতক দুপুর আর নিটোল সসার নিয়ে 
নীরবতার জল আমার পা টেনে ধরেছে

দিগন্ত, যেন দুরাশার মতো ফুঁড়ে ওঠে 
তামাম সমুদ্রে
প্রতিবার বেঁচে থাকার জন্য স্বরমন্থন –

নিখিল থুতু গড়িয়ে নেমেছে রঙের মূর্ছনায়
এ সমস্ত নিষিক্ত ফলে অবারিত মৃত্যুর মতন





রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অনিকেশ দাশগুপ্ত

                              


সৃজনের এই সংখ্যার কবি অনিকেশ দাশগুপ্ত।জন্ম ১২ ই অক্টোবর ১৯৮৭৷কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণীবিদ্যায় স্নাতকোত্তর।বর্তমানে মালদা জেলায় সরকার পোষিত বিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞান শিক্ষক।  পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন ওয়েবম্যাগ ও লিটিল ম্যাগেনিয়মিত লেখালিখি করেন৷ তার 
কয়েকটি কবিতা পড়া যাক 


 


পুরুষরাত্রি


খয়েরি রক্তের কথা,নক্ষত্রের মিহিন গোলাপ...

কুঁকড়ে ওঠা গাঁজাখোর পিঠ-পল্লীপ্রান্তে কুমকুম জল

এরপরও বিকেল ফুরোয় না - 

অগ্নিকুণ্ড ঘিরে চঞ্চু নেমে আসে, খুবলে নেয় ফিনকি অগ্নি

নরম ডিমের পরিমিত হলুদ পুঁছে দালানে ফিরে আসে যুবতী

ঐখানে ভরসন্ধ্যে,পোষা স্তনের গল্প বলে 

তিনসত্যি ডোমবন আর রহস্য ছেঁকে নেয় আমাদের

পরিপুষ্ট আঁচে মাংস,আদ্যাশক্তি, কস্তুরী রস গড়িয়ে নামে

ধূ ধূ নিশীথে অর্ধস্ফুট সুড়ঙ্গে ঘুমজড়ানো মৃগয়া

উজাগর ঝকঝকে শাটার, শূলে উঠে, খিলখিল হাসে

ছায়াদের কেউ ধরতে নামে না

ধারাগৃহে সিঁদুরফোটা রাত ফুরোয় না...











আঁকশিঘর



লোহার পাতে জড়িয়ে থাকা সরীসৃপ

গিঁট খুলে খুলে যে সিঁড়িঘর মন্ত্রতাপ জানে

কেরোসিন বাতির আগে - পরে যে সবুজ কিম্বা লাল

এক কামরার সেই ঘরগুলোয় বিষম লুকোচুরি আর

খিলানের তিন কব্জা এঁটে চুরি দেখা চোখ

ভরপুর ফলের পতন শব্দে হাহাকার ঘুম

কাহার নিয়ে গেছে তাদের ঝকঝকে প্রিয় পালকি

ত্রিশঙ্কু উপত্যকায় – যেখানে হাপর টেনে ক্ষয়াটে মাছ

ওড়ে,চামড়ার অনেক গভীরে গড়ে আঁকশিঘর...













বাষ্পীয় মৃত্যুর অনুকরণ



১। 


হাইড্রাঞ্জিয়ার ওপারে তফাৎ রেখে সাদা নৌকা পাড়ি দিচ্ছে

গাঢ় জলের দেশে, যেখানে মানুষকে ঘিরে মানুষেরা বড় হয়

সাঁকোর ওপর টলছে ক্রিমসন গোল আলো আর ভেতর ভেতর

ক্রমাগত বেড়ে উঠেছে বিষম দৌত্য 

চূড়ান্ত চুম্বনগুলি যখন এঁকে দিচ্ছিলে প্রবাসী প্রেমিকার ওষ্ঠে

ব্রদেল থেকে প্রেমের ক্কাথ হাতে ঘূর্ণিপথ দিয়ে জ্যোৎস্নার উষ্ণ

উদ্গিরণ দেখে ফেলেছিল পথকুকুরের দল

নৈসর্গিক হাওয়ায় পুরনো বাস্তু আরও স্পষ্ট করে রেখেছে

ম্যাজেন্টা কাঁচ,যার ওইপারে ,হ্যাঁ ,বিস্তর আত্মহন্তারক 

বনৌষধী নিয়ে বৃহৎ এস্টেটে নিছক পদরোপণ করেছে 

ক্যাফের ঘনিষ্ঠ টেরেসে উত্তাপ বিনিময়ের শেষরাতে

দলিল দস্তাবেজগুলি ভ’রে উঠেছিল তেমনই পিছল সম্মোহে...
















২|


তারপর কটিবন্ধ কখন যেন প্রতীক হয়ে ওঠে

রৌদ্রের নীচে চেকার্ড টেবিলে পরওয়ারদিগার রেখে গেছে

তাঁর অলংকৃত মঞ্জুষা... চিনে নাও

মায়াবন থেকে অভ্র ছেঁচে তোলা উজ্জ্বল তুষার

বৃন্ততটে ঝরে পড়ে 

জাহাজের শেষ কার্নিভ্যালের মতন

যুক্ত ভ্রুয়ের পর ওই আহ্লাদিত চক্ষু 

ফেনিল মদ ঢেলে দেয় কলিচুন ও মাটির নানান স্তরে

কফিনে ফিরে আসে ময়নাতদন্তের তর্জমা...














রেল গল্প

১.

লাল ঝকঝকে পতাকার মিথ ছিল

রুমাল নড়ে ওঠে অন্যান্য টেরেসে

যেন বিপজ্জনক কথা শোনার এই সময়

সাধু থেকে ঈশ্বর সরিয়ে দিতে 

এক পরম পবিত্র

অর্গল খুলে নিতে হয়

খুনের আগে ও পরে ত্রস্ত ছুরি

উপেক্ষা করতে হয়

ধর্মাবতার, যূপকাষ্ঠে এই স্নেহপ্রবণ মাথা –

তেলচিটে সিঁদুর আর আগুনের ফ্ল্যাশ ।

বিষণ্ণ হলুদ পেঁচা প্রত্যেক বিকেলে

সময় বুঝতে পারে 

সকালের সূর্য কোথাও ছিল না তখন 

ট্রামগাড়িতে পুতুল মেনে নেওয়া

গল্প গড়িয়ে যায়...

  



২.

আর হলুদ পেঁচার সমবেদনায়

নোনা হাওয়া বুঝে নেয় এই উপকূল শহর

ঘোর-লাগা সাঁতারে একে অপরের নিঃশ্বাস ছুঁয়ে 

গম্বুজ রশ্মি পড়ে চোখ - চোখের খানিক নীচে

ধাতব শব্দ অনুসরণের উদ্দেশ্যে এই বৈদ্যুতিক চোঙ

ড্রেসিং রুমের আলোয় বাজিমাত থাকবে

আলোড়িত হ্যারিকেন হাতে কেবিনের দোতলা

থেকে নোঙর দানের কথা বলে উঠবে কেউ...


 



৩.

সিঁদুর আলোয় রেলের ট্র্যাকগুলি এগোয় পিছোয়

লোহার গন্ধে লাফিয়ে ওঠে কেবিন

আমাদের শূন্যতা থেকেই লাল পতাকার ড্রাফ্ট...

হাতের পেছনে অনেক মুখ ঢেকে একের পর এক

মেইল ট্রেন ধাতব গড়িমসি নিয়ে চলে ।

গাঢ় ব্রিজের মানচিত্র - যারা জানলা দেখছে

তাদের জন্য - সিঁড়ি থেকে টেলিফোন ঘর অবধি

রেলিঙের চারপাশে তিনরকম সাবধানতায় 

আমাদের চলাচল...



একঘন্টার অপেক্ষা


উজ্জ্বল কোট গায়ে তুমি এই বিভেদকে অস্বীকার করতে পারো

যখন প্রিয় বস্তুদের রং দুলে উঠছে সান্ধ্য আলোয় 

আর আকাশ থেকে খসে পড়ছে খয়েরি খয়েরি পাথর

তোমার হাতের মুঠোয় তখন যেকোন প্রিয় বর্ণহীন  হাত...

এটুকুই তো রং

                            যা আঘাতের মতন তোমায় সতর্ক করবে

এটুকুই সেই চিহ্ন  -  যা সিংহের মতন,

                     তোমার ওই চওড়া কাঁধে ভাগ বসাতে চাইবে !

আবার ক্লান্ত হয়ে পড়বে একটা কালো কাচের গাড়ি 

আর ততোধিক কালো উজ্জ্বল স্যুট তোমায় মূল্যায়িত করবে...


ছিদ্রাল বাড়িটির বিষয়ে হতবাক হ’তে হ’তে 

আধপোড়া একটা পিয়ানো  জায়গা করে নিচ্ছে তখন 

আধডোবা একটা হাত, অনুতপ্ত হয়ে জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে

এবং এই কালো কাচের গাড়িতেও ... কারো ফেরার কথা ছিল না...











বিচারকক্ষ


ঘরভর্তি লোক তীব্র উচ্ছ্বাসে তাকিয়ে ফেলছে

ঘোড়ার প্রতীয়মান অংশগুলিতে ...

মুখে নানারকম ধ্বনিসহ বাজি রাখছে ওরা

ঘোড়ার উচ্ছ্বাস বিষয়ে

ঘোড়ার ফুঁসে ওঠা নাসায়

টর্চ জ্বেলে বাতাসের ধার পরীক্ষা করছে কেউ কেউ

সূর্যের তীক্ষ্ণতা নিয়ে ওদের কোনও বক্তব্য নেই

সূর্যের নীচে শিহরিত হ’তে হ’তে ওরা

ঘোড়ার স্বীকারোক্তি নিয়ে অনুতপ্ত হচ্ছে ...



















উৎসর্গ


মায়াজন্ম ছেড়ে লাল পাথুরে রাস্তায় বিস্তর দিন

তামাটে যুবতীরা অভ্যর্থনায় ভরিয়ে তোলে গ্রীষ্মসকাল

তুলট ফল মুখে গুঁজে রেখে গেছে কেউ

বিজাতীয় শিশির ওষ্ঠে গেঁজে ওঠে 

করপুটে তুলে ধরি লুন্ঠিত পদ্মবীজ, কৃষ্ণ নক্ষত্র

এসব তোমার উদ্দেশ্যে,হে মৃদু ত্বকের দেশ !

রাণীর গরিমায় তোমরা প্রভাতফেরি দেখে 

রণক্লান্ত পাঞ্জা রাখো এ ক্লীবতায়

সর্পিল চলনে আরও মুগ্ধ ,আরও অগাধ প্রশস্তি

তোমার সম্মুখে - গির্জাঘর ছেড়ে এ মায়াজন্ম 

চিত্রকর ফুটিয়ে তোলে হলুদ রঙের অতিব্যবহারে

 যেন এক নিঃসীম খোলা জানলা 

রাখা আছে তোমার পাশে

যেন এক বিস্তৃত শোভাযাত্রা সেজে উঠছে 

তোমারই উদ্দেশ্যে ...