জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৮

জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি



ফিরে গেছে রোদ

প্রতিটি রাতের শেষেই ভোর থাকে
যেভাবে প্রতিটি ভোরেই শেষ হয় রাত
ব‍্যাপারটা খুবই সোজা
                   কিন্তু অতটাও সহজ নয়

জটিলতা শুরু হয় ঠিক তখনই, যখন
রাত ফুরালেও আঁধার কাটে না

যেমন ফুল ফুটলেই কিন্তু বসন্ত আসে না








শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৮

জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি


সহজিয়া বিষ

গোপনে জেনেছি শোক, তবু গোপন রেখো না
হয়তো উদ্বেল। তবু বিষাদ মেখো না
                               খুলে দাও দক্ষিণের স্তব

এসব ঠোঁটে, পাখিরাও চিনে নেবে অন্ধকার

ছুঁয়ে দেখো, এখনো প্রকাশ‍্য উঠোনে
কিলবিল। জারজ সন্তান
আক্ষেপ করো না। এ দোষ আমার নয়
এসব বাসিঘুমে হয়তো সকাল আসে না
এসব উপোসী হুলে হয়তো নদী জাগে না

যা কিছু আমার নয়,
তা জেনো কোনো অচেনা তরণি
মুছে দিও সবটুকু, গোপন অরণি

বশীভূত মহড়ায় মৃত হতে হতে। তোমার
টুংটাং শরীরে গেঁজে উঠুক সহজিয়া

মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১৮

জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি



পৃথিবীতে আঁধার নামলে


পৃথিবীতে আঁধার নামলে এসো করি ঘুমের আয়োজন
চোখ খুলো না, ও চোখ কাপড় দিয়ে ঢাকো
ঠোঁট খুলো না, ও ঠোঁটে তর্জনী নামিয়ে রাখো

আমাদের গলিত উপহারে আজ ঘর সাজাবো

এ ঘরে দেওয়াল নেই
এ ঘরের মেঝে নেই
এই ঘরের ছাদটিও শেষ বৈশাখে গেছে উড়ে

তুমি শুধু জানলা জুড়ে পর্দা টাঙিয়ে রেখো





শনিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৮

জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি

ন‍্যাংটা বাতাস

কিছুটা রাতপোশাকে। চরম অনাসৃষ্টি
কাছে এসো বা মেঘ হয়ে
এখানে রাত ফুরালে সূর্য উঠবে না

ওরা তাদের কষ্ট বানায়
চিৎকারে। শীৎকারে
রাস্তা শেষ হলে। রাস্তা শেষ হয়না
হাত খালি। খালি পা

ওরা পেট ভর্তি করে গিলে খায় ন‍্যাংটা বাতাস



রংচটা সিঁদুর চুলে

বিরক্তিতে ভ্রু ভেঙে, সেটাই যথেষ্ট নয়
প্রয়োজন নেই অতটা দূরে পৌঁছানো

আমি নিষেধ করবনা

আলো জ্বালাও, কেউ আসুক
স্পষ্ট। কাছাকাছি
কোথাও কিছু ভিজে যাক
রংচটা সিঁদুর চুলে



শনিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৮

জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি


মূর্খ কাগজে আমি নারী লিখলাম

খোঁড়াখুঁড়ি। ঘোরাঘুরি
মৃদু কোলাহল। মেঘলা দিন
আঁচলে মুখ মুছলে
                    দুপুর
একটি গোপন খেলা

অতঃপর
মূর্খ কাগজে আমি নারী লিখলাম





সেসব খালবিলে বৃষ্টি হতে নেই

বিশ্বাস করি আসন্ন আকাশ’ও
ভরে যাবে ভিক্ষার থালার মতো
ভাগাড়ে ফুল ফুটবে বা উড়ন্ত কাক

যতটুকু পারো
                    বুক থেকে সিঁড়ি
সেসব খালবিলে বৃষ্টি হতে নেই



ধানরঙা শরীর ভেঙে

আমাদের দূরত্বের মাঝে
হাত বাড়িয়েছে সন্ধি
সবটুকু উষ্ণতার ভিতর
হেঁটে গেলে কোনদিন
ধানরঙা শরীর ভেঙে
                       বি-রতি

নতুন অতিথির আগমনে





দূরবর্তী ছায়াপথে প্রথম ফুল
হাতের তালুতে কী অকারণ ভালোলাগা
বিজ্ঞাপনে। প্রতিসরণে। প্রতিক্রিয়ায়
লিপিবদ্ধ নিখোঁজ টেলিস্কোপ

দূরবর্তী ছায়াপথে প্রথম ফুল
        কেন্দ্র ছুঁয়ে জেগে থাকে
                গভীর থেকে গভীরতর ঘুমে



রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭

জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি


অ্যাই, তুই রাজা আমি রাণী


শুনুন, একটা গল্প বলি তাহলে
                              ছোট্ট গল্প
চিপস্ চিবোতে চিবোতে
                         স্মার্টফোনে খুটখুট
বা টিভিতে চোখ রেখেই দিব্বি শুনে
                        নিতে পারেন গল্পটা

গল্পটি একটি মেয়ের
ছেলেরা এতোক্ষণে কান পাতলো
মহিলামহল নাক কুঁচকাবেন না
কারণ গল্পে একটি ছেলেও আছে

গল্পটা শুরু হচ্ছে আজ
                         থেকে ২০ বছর আগে
আমাদেরই আশেপাশে কোনো এক গ্রামে
পাশাপাশি ঘর
জানলায়-বারান্দায় কোলাকুলি
হুটোপুটি দৌড়ঝাঁপ
                   মিছিমিছি কানামাছি
কখন যে তারা পুতুল পুতুল
খেলতে খেলতে হাতে হাত রেখে
                 হয়ে গেলো রাজা-রাণী
ইতিহাস তার খবর রাখেনি

তারপর যা হয়......
গোপনে গোপন গোপনীয়তায় পাড়ি




যুদ্ধটা এখনো....
জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি

বাঁশবাগান আর পানা পুকুরটাকে
                           জড়িয়ে ধরে
যে হিলহিলে রাস্তাটা চলে গেছে
হুক খোলা মাঠে
ওখানেই বাস করতো
     আমার হারিয়ে যাওয়া
                               ‘ছুটুবেলা’

জলঢোঁড়া, এবড়োখেবড়ো ঘাট,
কচুবন আর কলমিলতাকে ইল্লি কেটে
উড়ে যেতো পক্ষীরাজ
                                একলা দুপুরে

ঠিক মাঠের মাঝে এসেই
                        চিঁ......হিঁ......
                             গা শিরশিরে ভয়
পটপট করে ভেঙে ফেলতাম কিছু
                               ভেরেন্ডার ডাল
স-পা-ৎ........স-পা-ৎ....
                          যুদ্ধটা এ-খ-নো.....