শর্মিলা ঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শর্মিলা ঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

শর্মিলা ঘোষ

 




সম্পর্কের উষ্ণায়ন


বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো বাড়ছে সম্পর্কের তাপমাত্রা ,
শৈশবের নিরেট নির্ভেজাল সম্পর্ক কাঁচের ঘরের মতো ভেঙে গেছে,
হ্যাঙারে টাঙানো ব্যথা আমরা ঝেড়ে পুছে গুছিয়ে রাখছি মনের আলমারিতে,
আমাদের ভেতরের রক্ত ক্ষরণ লুকিয়ে রাখছি গ্ল্যামারাস প্রোফাইল পিকচারের চমকে,
প্রকৃতির গভীর অসুখের মতো দূরত্বের অসুখ পিছনে ফেলে লং ড্রাইভে ছুটে চলেছি.......
এর শেষ কোথায় আধুনিক বিশ্ব জানেনা,
সুখের ওপর জি এস টি বসিয়ে মূল্যায়ন করছি সময়ের।
মায়া শব্দটা ডিকশনারি থেকে মুছে দেবার চেষ্টায় একে অপরকে অতিক্রম করে চলেছি .........

শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

শর্মিলা ঘোষ

        




অণুগল্প

একটি অবিশ্বাসের জন্ম 


বুকের ভেতরটা কফি কাপের মতো উষ্ণ, ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভেসে যাচ্ছে চোখ।নীলা বসে আছে সমুদ্র শুষে নেবে বলে।তার এলোমেলো চুল ঝাউপাতার মতো দোলা খাচ্ছে।অমলেশ ছবি তুলতেই ব্যস্ত, সুন্দরী স্ত্রীর দিকে লক্ষ্য তার বরাবরই কম।ইংরেজির প্রফেসর অমলেশ, আর নীলার একটা বুটিক আছে গড়িয়াহাট থেকে একটু এগিয়ে গিয়ে ।
রাকেশ একটু দূরেই ডাব কিনছে, সে চেঁচিয়ে ডাকলো , কি রে অমলেশ ডাব খাবি তো! অমলেশ হাত নাড়লো।রাকেশ দুটো ডাব নিয়ে নীলার পাশে এসে বসলো। নীলা আজ রাতেই কাজটা সেরে ফেলো , কোনো ঝক্কি ঝামেলা হবে না , খুব সহজেই হার্ট অ্যাটাক বলে চালিয়ে দেওয়া যাবে , তারপর তুমি আমি আর অসীম সমুদ্র....... জলোচ্ছাস । নীলা আবার উদাসী অমলেশের দিকে তাকালো.......অমলেশের সাথে তার কলেজ থেকে প্রেম ছিল আর রাকেশ সেই কলেজ থেকেই তার পিছনে পড়েছিল।অমলেশের উদাসীনতা তাকে রাকেশের দিকে কিছুটা ঠেললেও সে অমলেশকে ঠকাতে চায়নি।অমলেশেকে নীলা সন্তান দিতে পারবে না জেনেও অমলেশ কোনোদিন কোনো অনুতাপ করেনি, অন্তত নীলার কোনোদিন তা মনে  হয়নি।
অমলেশ আসছে ঝাঁকড়া একমাথা চুল এলোমেলো হয়ে আছে, রাকেশের দিকে তাকিয়ে বলে , যা তিনকাপ চা নিয়ে আয়! সঙ্গে বিস্কুট আনিস।
রাকেশ চা নিয়ে আসছে, নীলার মুখটা ফ্যাকাশে আর চোখটা ঝপসা হতে থাকে।
রাকেশ চায়ের ভাঁড় গুলো তুলে দেয় ওদের হাতে;
সমুদ্র যেন ক্রমশ উত্তাল হচ্ছে, আর একটু পর জল ওদের পায়ের পাতা ছোঁবে।আকাশের রঙ এখন ঘন নীল, মনে হয় কে যেন অন্তরের সব অভিযোগ ঢেলে দিয়েছে আকাশের গায়ে।
অমলেশ বিস্কুটে কামড় দিয়ে চায়ে চুমুক দেবে বলে সবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ....... নীলা এক ঝটকায় ফেলে দেয় ভাঁড়।
অমলেশের বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নীলা, কাঁদতে থাকে, অমলেশ স্থির, অবিচল।রাকেশ ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে , এগোচ্ছে সমুদ্রের দিকে............



রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

শর্মিলা ঘোষ

                




বাতিল ঈশ্বর//শর্মিলা ঘোষ

একমুঠো নীল আকাশ হাতে ধরে শরতের গান গাইছি  মহা সমারোহে,
শয়তানের চোখ থেকে  বাঁচতে একতারা নিয়ে মেতে উঠছি মিঠে বাউল সুরে,বেলোয়ারি চুড়ির শব্দও ছন্দে বাঁধা স্বরলিপি;


ধানখেত  থেকে ঊষর শুষ্ক মরুতেও ফোটে বেনজির রক্ত পলাশ 
ধ্রুবতারা নেমে আসে স্টেশনে ব্রীজে গরিবের জলন্ত উনুনে
বিজ্ঞাপনের ক্রাইসিস ছিল ব্যাক্তিগত সরীসৃপ জীবনে
আঠালো পথ চলতে চলতেই লাভামুখে  আটকে পড়ে কাঠের শরীর;

অনেক অনেক পথ হাঁটা হলো যন্ত্রণার  রুটম্যাপ ধরে
সৃজনী সমাজ জুড়ে শারদীয়া  যাপন , তাতে প্রেম লেখা  হলুদ অক্ষরে
গিলোটিন  নেমে আসছে ,বাতিল  ঈশ্বর,  শুকনো পাতায় লেখা  হচ্ছে ক্ষুধিত পাষাণ।


 



রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

শর্মিলা ঘোষ

 


গুচ্ছ কবিতা

শিরোনাম-বৃষ্টির রিংটোন//শর্মিলা ঘোষ

মেঘের চিঠিতে ওলোটপালট হয়ে যায় ঋতু, আঙুল ছুঁয়ে অধোর ধারা,মন কেমনের গল্পে আমি সে ও সখা, আশমানী কবুতর

শার্সি ভিজে যাচ্ছে জলে,আবছা হচ্ছে অন্তর,
আলগোছে মুছে যাওয়া শরীর
পুরোনো মোবাইলের রিংটোন,
কার্ণিশে শেওলার পিচ্ছিল


বর্ষা নামলেই জলোচ্ছ্বাস
কফির কাপে তুফান, বাউল কথা ডিরেক্টরির পাতায়,
মনখুঁজে নেয় লিভিং রুমের গল্প,
কেউ আঁকছে জলছবি


জল মাপছে রাতের গভীরতা
স্বপ্নের বাইপাসে পেশমেকার
হাঁটুজলে ডুবে যাচ্ছে মন
অশরীরী বৃষ্টি তবু চলবে সারাজীবন,
তরঙ্গ জুড়ে প্রেমের অবগাহন

আষাঢ় শ্রাবণ দুলছে পেন্ডুলামের মতো,সময় ছুঁয়েছে মেঘ বালিকার মন
এবার বৃষ্টি রোমকূপের সেচন
অন্তমিলে মেঘ বাদলের আলাপন,
ট্রাফিক সিগন্যালে ভেজা ইচ্ছেরা দাঁড়িয়ে..........



শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

শর্মিলা ঘোষ


পরিযায়ী //


মেঘের ওপর বিষ জমেছে 
মানচিত্র ঘিরে বিষাদ, যা কিছু অসমাপ্ত ছিল রাতের আঁধারে হারিয়ে গেছে ছায়াপথ ধরে, 
নক্ষত্ররাজি মিটমিট করে লকডাউনের দিনলিপি লেখে রাতের গভীরে, 
এমনি করে পোশাক বদল করে শরীর একলা হয়ে ;



অবসন্ন বিকেলে মাধবীলতারা 
দুলে যায় ইমন কিংবা আশাবরী রাগে, 
সূর্য পাটে গেলেও সেই তো ফাঁকা ব্যলকনি হা-হুতাশ করে, 
ওপারে হ্যামলিনের বাঁশী আর এপারে লক্ষ্মণরেখা ;



যদি কখনও ইতিহাস লেখা হয় লিখো পরিযায়ী মানুষের কথা, যাদের ভাষা ছিল জঠরেই মৃত, 
এই বিষন্ন সময়ে মুছে ফেলো নোনতা চোখের পানি ,
যা কিছু শুন্য তার ওপরেই লেখো বুনো উল্লাস, 
শাষকের টার্গেট এখন স্থির অবিচল।


Copyright শর্মিলা ঘোষ 
14/04/20

মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

শর্মিলা ঘোষ


প্রথম কবিতা 

 বীজপত্র // 

তুমি শিখিয়ে দিয়েছিলে কিভাবে পৌষের শীতেও  হলুদ উরুর স্পর্শ থেকে দূরে যাওয়া যায়, মুছে ফেলা যায় চুম্বন চিহ্ন, অভিযোগের বীজপত্র ইতস্ততঃ এলোমেলো ছড়ানো রয়েছে ইচ্ছের বাগানে, সেখানে চুলে বিলি কেটে দেয় কিন্নরপুরুষ, প্রিয়তম দাগ যতটা গভীরে ছিল তা মিশে গেছে শীর্ণ শরীরে,বেঁচে থাকার দায় কিছুতো ছিল যার জন্য ষড়ঋতু জুড়ে এতো আয়োজন।





দ্বিতীয় কবিতা 


 উত্তরে হাওয়া //শর্মিলা ঘোষ 

গমের দানার রঙে বেদনার রঙ সেজে উঠছে শীতের উৎসবে মাতবে বলে, কোনো শহুরে উত্তরের হাওয়া প্রেয়সীর শরীরে লেপটে থাকে পশমের মতো,সন্ধের আলো শার্সির রঙিন কাঁচে স্বপ্ন বোনে, উলকাঁটা জীবনে একঘর সোজা একঘর উল্টোর ফাঁদে দিনলিপি লেখা  হয় নীল অক্ষরে,অ্যালেন পার্কের ভিড় ঠেলে দৌড়ে আসছে একদল ভিখিরি,একদল অর্ধ উলঙ্গ শিশু, ওরাই বাস্তব এখন চাঁদের কপালে ;




তৃতীয় কবিতা 


 নবান্ন //শর্মিলা ঘোষ 


কতটা ক্লান্তিকর এবারের নবান্ন উৎসব, মেঠো ইঁদুরের বুক চিরে নেমে আসে ধূসর বেদনা, অন্নদাতার রক্তে সবুজ ঘাসে আসে অলক্ত রঙ, এমনি করে নবান্নের বীজ বোনে যারা বুকের ভিতর ,তাদের অবহেলার জীবন শুকনো পাতার মতো ফিকে, 
কালশিটৈর দাগের মতো কালো তাদের ত্বক, ফাটা তাদের গোড়ালি অথবা ঠোঁট, 
সমাজতন্ত্রের অলীখ স্বপ্ন চাষীর ঘরে বাসা বাঁধে, আর বিষের বোঝা নিয়ে গঙ্গার বুকে পলি জমে অবিরাম।



Copyright  শর্মিলা ঘোষ 

19/12/19

শনিবার, ২২ জুন, ২০১৯

শর্মিলা ঘোষ


প্রথম কবিতা 

মায়াজল 

প্রতিটি নীরবতা আসলে গোপন কলরব ,
শূন্যতার কোনো ভাষা হয় না বলেই অজস্র অক্ষর বুনে চলে নিজের ভেতর,
কতটা ত্যাগে নিষ্পেষিত হয় সকল সৃজন তার হিসাব মেলে না, 
আসলে কবিতা শুধু শূন্যতার উদযাপন, বেশ কিছু রিক্ত মায়া ঘা মারতে থাকে মগজে ও হৃদয়ে, 
মগজ হেরে যায় সব সময় হৃদয়ের মায়াজলে, 
ভেসে যায় প্রতিটা বুদ্ধির সামিয়ানা, 
একটা চাপা আর্তনাদ ফুটে ওঠে কবিতার আশ্রয়ে।




দ্বিতীয় কবিতা 

উজান


উজানের স্রোতে অনেকটা চলে এসে ফেরাটাই কঠিন ,
দিনলিপি কি রোজ বদল করা যায়! 
বিশ্বাসের বুকে হাত রেখে জোয়ার ভাটা সময় এলোমেলো জাহাজের মাস্তুল আঁকড়ে ধরা! 
চাইলেই পরিবর্তন করা যায় না দিগন্তের বৃত্তাকার রেখা 
নীল গাঢ় শপথের সুর বিস্তার মন কে আচ্ছন্ন করে রাখে 
ঐ শূন্যে আজান দিলে সন্ধ্যাবাতি আরো উজ্জ্বল হয় ,
শক্ত করে বেঁধে রাখা সময় সহস্রবার উজানেই ভেসে যেতে চায়;







বৈরাগী নক্ষত্র 

মেঘ চাঁদ জল সমান্তরালে এলে বুকের ভেতরে বৃষ্টি নামে
এক মহাসমুদ্র পান করে আমি নুড়ি পাথরের শিল্প রচনা করি, 
সেখানে অসংখ্য পাতাবাহার আর ফুলের সমারোহে বিনি সুতোর ধাগা বাঁধে বৈরাগী নক্ষত্র, 
আমি মিলন পিয়াসী জন্ম জন্মান্তর জুড়ে জেগে থাকি অর্ধনারীশ্বর রূপের আশায়।